বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 5 টি।
একত্রে কুরআন নাযিল হয় কদর রাতে।
97:1 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমরা তা (কুরআন) নাযিল (১) করেছি [44:3] কদর/ মর্যাদাপূর্ণ রাতে [2:285]।
১) এখানে আল্লাহর পক্ষ থেকে নাবী (সা) এর কাছে যে ধীরে ধীরে 22-23 বছর ধরে কুরআন নাযিল করা হয়েছিল, সেই সম্পর্কে কথা বলা হচ্ছে না। আসলে পবিত্র কুরআন দুবার নাযিল হয়েছিল। A) মৌলিক গ্ৰন্থ/ লৌহে মাহফুজ/ সুরক্ষিত গ্ৰন্থ থেকে সৌরজগতের কোনও স্থানে কুরআনকে একত্রিত ভাবে নাযিল করা হয় (44:4, 56:77, 85:22)। যতদিন কুরআন সৌর জগতে ছিল, ততদিন সেখানে জিনদের যাতায়াত নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয় (72:8-9)। B) দ্বিতীয় বার পবিত্র সৌরজগত থেকে ধীরে ধীরে নাবী (সা) এর কাছে প্রয়োজন মুতাবিক জিবরীল (আ) পৌঁছে দিতে থাকেন (2:97, 26:193-194]। যাইহোক, এখানে প্রথমবার নাযিলের কথা বলা হচ্ছে, দ্বিতীয় বাবের কথা নয়।
নাবী (সা) কদর রাত সম্পর্কে জানতেন না।
97:2 নং আয়াহ : আপনি কি জানেন- কাদর/ মর্যাদাপূর্ণ রাতটি (১) আসলে কি??
১) কেন জানতেন না?? তিনি তো নাবী/ রাসূল ছিলেন! উত্তর রয়েছে 42:52 ও 29:48 এ।
কদর রাতের গুরুত্ব কতটা??
97:3 নং আয়াহ : কদর/ মর্যাদাপূর্ণ রাতটি হাজার মাসের (১) চেয়েও উত্তম [44:4]।
১) এটা কোন রাত?? আল্লাহ কুরআনে কোনও তারিখ বলেন নি। হাদীশ থেকেও নিদিষ্ট কোনও তারিখ পাই না। বলা হয় যে, রামাদ্বানের 21-29 এর বেজোড় রাত গুলোর একটি (বুখারী, হাদীশ 2017)। তাই 21-29 এর মধ্যে 5 টি রাতেই ইবাদত করা হয়। এমনটা কেন?? কারণ, নাবী (সা) কে তারিখ জানান হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা ভুলে যান (বুখারী, হাদীশ 2018 ও 2023)।
তাহলে উপায় কি?? নিদিষ্ট তারিখ জানার উপায় নেই। আমাদেরকে দ্বিধাদ্বন্দ্ব নিয়েই ইবাদত করতে হবে। কিন্তু এখানে একটা বড় সমস্যা আছে। সেটা কি?? আল্লাহ দ্বিধাদ্বন্দ্ব নিয়ে ইবাদত করাকে কুরআনে ব্যঙ্গ করেছেন। কোথায়! 22:11 থেকে ঘুরে আসুন। তাহলে এখন কি করব?? কদর রাতে ইবাদত করব না?? যদি কদর রাতে ইবাদত থাকত, তাহলে তার নিদিষ্ট তারিখ আল্লাহ বলে দিতেন, কমপক্ষে নাবী (সা) বলে যেতেন। তিনি তার উম্মাতকে দ্বিধাদ্বন্দ্বের উপর ছেড়ে যেতেন না, যেখানে আল্লাহ দ্বিধাদ্বন্দ্বের ইবাবতকে ব্যঙ্গ করেছেন। এছাড়াও আল্লাহ আমাদের জন্য সহজ চান, কঠিন চান না (2:185, 5:6)।
নাবী (সা) নিজেও একই কথা বলেছেন- “দীন সহজ, তাকে কঠিন কর না। তাতে মানুষ বিরক্ত হবে” (বুখারী, হাদীশ 39 ও 69)। তাই কদর রাতের ইবাদত বলতে কিছুই নেই। যা আছে, তা মানুষের বানান ইবাদত। তাই কখনই আল্লাহ ও নাবী (সা) মাত্র 1 রাতকে 5 রাতে পরিণত করতে পারেন না। এটা আল্লাহ ও নাবী (সা) নীতির বিরুদ্ধে যাচ্ছে।
প্রশ্ন হবে- কদরের রাত পাওয়ার জন্যেই তো ইতেকাফ, আর ইতেকাফ সম্পর্কে কুরআনে আয়াত রয়েছে! এ বিষয়ে কি বলবেন?? না, কদরের রাত পাওয়ার জন্য ইতেকাফ নয়। কেননা, কুরআন নাযিলের আগে থেকেই আরবের মানুষরা রামাদ্বান মাসে ইতেকাফ করত। কদর রাতের সঙ্গে ইতেকাফের কোনও সম্পর্ক নেই। প্রমাণ! আছে, দেখুন- উমার (রা) জাহেলী যুগে ইতেকাফের মানত করেছিলেন (বুখারী, হাদীশ 2043)। এছাড়াও নাবী (সা) কখনও কখনও 20 দিনের জন্য ইতেকাফ করেছেন (বুখারী, হাদীশ 2044)। 10 দিন হলে ধরেও নিতাম যে, কদর রাতের জন্য। কিন্তু 20 দিন কেন??
কদর রাতে জিবরীল (আ) সহ ফেরেস্তারা অবতীর্ণ হয়।
97:4 নং আয়াহ : তাতে (ঐ রাতে) ফেরেস্তারা ও রূহ (জিবরীল) তাদের প্রভুর অনুমতি [19:64] নিয়ে অবতীর্ণ হন (১)। তা [6:38] হতে প্রতিটা বিষয়ের নির্দেশনা [44:5] নিয়ে।
১) কিন্তু তারা অবতীর্ণ হন কেন?? ছোট করে বললে হবে- মহাবিশ্ব গুলোর জন্য বিভিন্ন বিষয় নির্ধারণ করা হয়, সেই সমস্ত বিষয় লাগু করতে। দেখতে পারেন 44:4 আয়াহ।
কদর রাত, শান্তির রাত।
97:5 নং আয়াহ : সেই রাতে শান্তি বিরাজমান থাকে ফজর পর্যন্ত।