বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 8 টি।
ইউরোপে শিল্প বিপ্লবের ভবিষ্যৎ বাণী।
102:1 নং আয়াহ : ধনসম্পদ অর্জনের অন্ধ/ কট্টর প্রতিযোগিতা ১ তোমাদেরকে পাগল [104:2] বানিয়ে দেবে।
১ অনেক নাস্তিক/ ইসলাম বিদ্বেষীই বলে থাকেন- “মানব ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হল- ইউরোপের শিল্প বিপ্লব। অথচ এই পৃথিবীর কোনও ধর্মগ্রন্থ এই সম্পর্কে কথা বলে নি। এটাই প্রমাণ বহন করছে যে, এই ধর্মগ্রন্থ গুলো বর্তমান যুগের জন্য অপ্রাসঙ্গিক”।
তাদের জানা উচিৎ যে, এই আয়াহ এবং সম্পূর্ণ এই সূরাহটি ইউরোপের শিল্প বিপ্লবের প্রতি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত করছে। কেননা, ধনসম্পদ অর্জনের অন্ধ/ কট্টর প্রতিযোগিতাই শিল্প বিপ্লব ঘটিয়েছিল এবং শিল্প বিপ্লবের পর এই প্রতিযোগিতা পাগলামিতে পরিণত হয়েছে।
সমস্ত প্রতিযোগিতার দৌড় কবর পর্যন্ত।
102:2 নং আয়াহ : যতক্ষণ না পর্যন্ত তোমরা পৌঁছাবে কবরে/ গুপ্ত জগতে [23:100]।
অন্ধ/ কট্টর পুঁজিবাদ কেন হারাম??
102:3 নং আয়াহ : কখনও উচিৎ ১ নয়, খুব শীঘ্রই তোমরা জানতে ২ পারবে।
১ এভাবে আল্লাহর নিয়ামত সমূহ/ প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস করে ধনসম্পদ অর্জনের অন্ধ/ কট্টর প্রতিযোগিতা করা উচিৎ নয়। কারণ তা গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর কারণ হবে (1025-7)।
২ অর্থাৎ খুব শীঘ্রই তোমরা অন্ধ/ কট্টর পুঁজিবাদের পরিণতি সম্পর্কে জানতে পারবে।
অন্ধ/ কট্টর পুঁজিবাদ কেন এত মারাত্মক পর্যায়ের হারাম??
102:4 নং আয়াহ : আবারও বলছি- কখনও ১ উচিৎ নয়, খুব শীঘ্রই তোমরা জানতে ২ পারবে।
১ এভাবে আল্লাহর নিয়ামত সমূহ/ প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস করে ধনসম্পদ অর্জনের অন্ধ/ কট্টর প্রতিযোগিতা করা উচিৎ নয়। কারণ তা গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর কারণ হবে (1025-7)।
২ হ্যাঁ, আমরা জানতে পেরেছি ইউরোপের অন্ধ/ কট্টর শিল্প বিপ্লব প্রাকৃতিক সম্পদের যথেচ্ছা ব্যবহার ও অপব্যবহার শুরু করে। বিশেষ করে কয়লার ব্যবহার, গাছ কাটা ও তার ব্যবহার। আর এর সঙ্গে জ্বালানি তেলের ব্যবহার, যথেচ্ছা ব্যবহার, অপব্যবহার তো আছেই। তারপর শিল্প বিপ্লবকে কেন্দ্র করে আর্থিক প্রতিযোগিতা শুরু হয়। পরবর্তীতে তা অন্যত্রে ছড়িয়ে পড়ে। যেমন আমেরিকাতে। আর তারা তো আবার ইউরোপের চেয়ে বেশি প্রাকৃতিক সম্পদের যথেচ্ছা ব্যবহার ও অপব্যবহার শুরু করে। বিশেষ করে কয়লার ব্যবহার, গাছ কাটা এবং তার ব্যবহার (74:35-37)। পরবর্তীতে এই প্রতিযোগিতা গোটা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে।
ফলতঃ বায়ুমন্ডলে কার্বন ডাই অক্সাইড সহ গ্ৰিন হাউস গ্যাস গুলো বৃদ্ধি পেতে থাকে (55:35, 44:10-11)। ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং আজও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়েই চলেছে (30:41)। আবার পৃথিবীতে জমে থাকা বরফের ভান্ডারও গলতে শুরু করেছে। ফলতঃ মহাসাগর ও সাগর গুলোর পানির স্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তার ফলে দ্বীপ রাষ্ট্রগুলো ডুবতে চলেছে। সঙ্গে আবার উপকূলীয় অঞ্চল গুলোও। ফলতঃ পৃথিবীর স্থলভাগ কমে যাবে (13:41) এবং জনঘনত্ব বৃদ্ধি পাবে। ফলে খাদ্যের ঘাটতি দেখা দেবে। ফল স্বরূপ মানুষ ও অন্যান্য জীবজন্তু না খেতে পেয়ে মরতে থাকবে। তখন তারা ধনীদের উপর আক্রমণ করবে। ধনীরা প্রশাসন ব্যবহার করে গরিবদের গনহত্যা করবে। কল্পনা করুন, কি শোচনীয় ও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হবে! এছাড়াও গরমের কারণে গণমৃত্যু তো আছেই।
প্রশ্ন হবে- এর সমাধান কি?? সমাধান কয়েকটি- A) প্রয়োজনের বেশি গ্ৰিন হাউস গ্যাস সমূহ বায়ুমন্ডল থেকে শোষণ করে নিতে হবে (56:71-72, 36:80)। B) প্রচুর পরিমাণে গাছপালা লাগাতে হবে (74:37)। C) পৃথিবীর মতো অন্য কোনও গ্ৰহের সন্ধান করতে হবে। যেমন কুরআন বলে রেখেছে (51:22-23)। যাইহোক, বলে রাখা ভাল- এমনিতেই পৃথিবী একদিন তার বাসিন্দাদের চাহিদা পূরণ করতে পারবে না, তখন পৃথিবীর মতো অন্য কোনও গ্ৰহের সন্ধান করতেই হবে। কারণ, পৃথিবীর জীবন ধারণের ক্ষমতা নিদিষ্ট এবং সীমিত (2:36, 7:24)।
গ্লোবাল ওয়ার্মিং সম্পর্কে সাবধান বাণী।
102:5 নং আয়াহ : সাবধান থেক ১। যদি তোমরা প্রতিষ্ঠিত জ্ঞান দ্বারা জেনে ২ নিতে!
১ ধনসম্পদ অর্জনের অন্ধ/ কট্টর প্রতিযোগিতায় পাগল হয়ে যেও না। নয়ত গ্লোবাল ওয়ার্মিং ঘটবে (44:10-11, 55:35) এবং তার ফলে নিজেদেরই ক্ষতি হবে (2:195)।
# আল্লাহ 1500 বছর আগেই আমাদেরকে সাবধান করে দিয়েছেন কিন্তু আমরা আজও প্রাকৃতিক সম্পদের যথেচ্ছা ব্যবহার ও অপব্যবহার করে চলেছি। তা রাষ্ট্রীয় ভাবেও হচ্ছে, ব্যক্তিগত ভাবেও।
২ তাহলে পৃথিবীর যে পরিমাণ ক্ষতি তোমরা করেছ, তা করতে না।
প্রাকৃতিক সম্পদের লাগামহীন ব্যবহারের পরিণতি।
102:6 নং আয়াহ : অবশ্যই তোমরা (পৃথিবীকে) জাহান্নামে পরিণত হতে দেখবে।
পৃথিবীর করুণ পরিণতি হবে, আর তা দেখতে হবে।
102:7 নং আয়াহ : আবারও বলছি- অবশ্যই নিজ চোখ দ্বারা তা দেখবে।
প্রাকৃতিক সম্পদের সীমাহীন শোষণের জন্য জবাবদিহি।
102:8 নং আয়াহ : তারপর সেদিন অবশ্যই তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে নিয়ামাত সমূহ ১ সম্পর্কে।
১ অর্থাৎ নিজ/ নিজেদের স্বার্থে যে নিয়ামত সমূহ/ প্রাকৃতিক সম্পদ তোমরা ধ্বংস করেছ, সেই সম্পর্কে তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে।
# মনে রাখা দরকার প্রাকৃতিক সম্পদের সীমাহীন শোষণের জন্যই আজ তৃতীয় বিশ্বের দেশ গুলোতে এত দারিদ্রতা। এই দারিদ্রতা প্রাকৃতিক নয়, কৃত্রিম। কারণ তৃতীয় বিশ্বের দেশ গুলো প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ। কিন্তু উন্নত দেশ গুলো বিভিন্ন কায়দা কৌশল ও নিয়মকানুন দেখিয়ে তাদের লুটেপুটে খাচ্ছে। আজ গোটা পৃথিবীতে দারিদ্রতার জন্য দায়ি এই উন্নত দেশ গুলো। এই জন্যেই তো অন্ধ/ কট্টর পুঁজিবাদ ইসলামে হারাম।
ছোট ছোট সুরাগুলো যদি আপনার এপস্ থেকে কেউ মুখস্থ করতে চায় তাহলে পারবেনা…
কারন কোন উচ্চারন নেই বাংলায় অথবা আরবিতে……নামাজে লাগে…
সন্মভব হলে উচ্চার দিয়েন plz.