৮০ নং সূরাহ | সূরাহ আবাসা | Surah no 80 | Surah Abasa |

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। 

অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।

নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 42 টি।

নাবী (সা) এর মানবিক ভুল।

80:1 নং আয়াহ : তিনি (মুহাম্মাদ) বিরক্ত হলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন।

# নাবী (সা) বলেছেন- “প্রতিটা মানুষ ভুল করে, উত্তম হলো সে, যে ভুল সংশোধন করে” (ইবনু মাজাহ, হাদীশ 4251)। এ ছাড়াও তিনি বলেছেন- “আমি তোমাদের মতোই মানুষ। তোমরা যেমন ভুল করো, আমিও করি। আমার ভুল হলে তোমরা ধরিয়ে দেবে” (বুখারী, হাদীশ 401)।

   আর তিনি এতটাই সর্বদাই সতর্ক থাকতেন যে, তার দ্বারা কোনও ভুল না হয়ে যায়। আর তিনি সর্বদা মনে করতেন যে, আমার হয়তো ভুল হচ্ছে। তাই তিনি প্রতিদিন 70 থেকে 100 বার ক্ষমা প্রার্থনা করতেন (বুখারী, হাদীশ 6307 এবং আবু দাউদ, হাদীশ 1515)। যদিও তার নাবী হ‌ওয়ার আগের ও পরের সমস্ত ভুলত্রুটি আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন (48:2)।

দৃষ্টিহীন মানুষের‌ গুরুত্ব‌ দৃষ্টিবানের চেয়ে একটু‌ও কম নয়।

80:2 নং আয়াহ : কারণ, তার কাছে এসেছে এক দৃষ্টিহীন ১ ব‍্যক্তি।

১ কিন্তু কে ছিলেন সেই দৃষ্টিহীন ব‍্যক্তি?? তিনি আর অন্য কেউ নন, বিখ্যাত সাহাবা আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতূম (রা)।

# আজও আমরা দৃষ্টিহীন মানুষ‌কে কোনও গুরুত্ব দিই না। যদিও একজন দৃষ্টিহীন ও দৃষ্টি সম্পন্ন মানুষের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। নাবী (সা) তাকে গুরুত্ব‌হীন ভেবে ছিলেন। কিন্তু আল্লাহ একজন দৃষ্টিহীনের পক্ষ নিয়ে এই সূরাহ নাযিল করলেন এবং নাবী (সা) কে যথেষ্ট কঠোর ভাবে ধমক দিয়েছিলেন (80:11)।

নাবী (সা) নিজ হতে গায়েব জানতেন না।

80:3 নং আয়াহ : আপনি কিভাবে জানবেন যে, তিনি হয়ত পরিশুদ্ধ/ সংশোধন হতেন!

80:4 নং আয়াহ : অথবা যিকির/ বিধান গ্ৰহণ করতেন।  ফলতঃ যিকির/ বিধান তার জন্য উপকারী হোত!

# তবে আল্লাহ নাবী (সা) কে গায়েব জানিয়ে ছিলেন (4:113)। আর আল্লাহ শুধু নাবী (সা) কে নন, সমস্ত নাবী রাসূলদেরকে গায়েবের জ্ঞান প্রদান করে ছিলেন (72:26-28)।

80:5 নং আয়াহ : কিন্তু যে (কুরআন [87:11] সম্পর্কে সম্পূর্ণ)  উদাসীন,

80:6 নং আয়াহ : অথচ আপনি তার [87:10] প্রতি মনোযোগ দিচ্ছেন!!

নাবী (সা) দায়িত্ব সুস্পষ্ট ভাবে প্রচার করা।

80:7 নং আয়াহ : অথচ সে যদি নিজেকে সংশোধন না করে, তার দায়িত্ব [5:92, 5:99] আপনার [2:119] নয়।

আল্লাহ নাবী (সা) কে তিরস্কার করলেন।

80:8 নং আয়াহ : অন‍্যদিকে যে (আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতূম) আপনার কাছে ছুটে আসে,

80:9 নং আয়াহ : সে (আল্লাহ/ পরবর্তী জীবনকে) ভয় করে।

80:10 নং আয়াহ : অথচ তার প্রতি আপনি মনোযোগ দিলেন না!!

নাবী (সা) কে আল্লাহর কঠোর নির্দেশ।

80:11 নং আয়াহ : দ্বিতীয়‌বার এমনটা [93:10] করবেন না, নিশ্চয়ই তা (কুরআন) একটি যিকির/ বিধান।

কুরআন গ্ৰহণে জোরজবরদস্তি নেই।

80:12 নং আয়াহ : এত‌এব যে চায়, সে তা (কুরআন) গ্ৰহণ [18:29, 76:3, 64:2, 2:256] করুক।

কুরআন কখনও অলিখিত ছিল না।

80:13 নং আয়াহ : যা লিপিবদ্ধ করা [52:2-3] হচ্ছে সাহিফা/ পৃষ্ঠা সমূহে, যা সম্মানিত/ মর্যাদা [56:77] সম্পন্ন।

কুরআন উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন ও পবিত্র।

80:14 নং আয়াহ : (সম্পূর্ণ কুরআন) উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ও পবিত্র [98:2]।

কুরআন লিপিবদ্ধ করত ওহী লেখকরা।

80:15 নং আয়াহ : যা রয়েছে (মনোনীত ওহী) লেখকদের হাতে/ দায়িত্বে।

ওহী লেখকদের সম্পর্কে আল্লাহর সাক্ষ‍্য।

80:16 নং আয়াহ : যারা [68:1] উচ্চ সম্মানিত ও সততাসম্পন্ন।

# অনেকেই ওহী লেখকদের উপর বিভিন্ন অপবাদ দিয়ে থাকেন কিন্তু তাদের সম্মান ও সততা সম্পর্কে আল্লাহ সাক্ষ‍্য প্রদান করেছেন। মনে রাখা দরকার- সাক্ষী হিসাবে আল্লাহ যথেষ্ট (13:43)।

কুরআন অস্বীকার কারী ধ্বংস হবে।

80:17 নং আয়াহ : (পরবর্তী জীবনে) ধ্বংস হবে সেই মানুষ, যে তা (কুরআন) অস্বীকার করে।

# তবে ইহজীবনে কুরআন অস্বীকার করার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে। দেখুন- 18:29, 76:3, 64:2 আয়াত। এছাড়াও দেখতে পারেন 80:12 আয়াহ।

যৌন বিজ্ঞান সম্পর্কিত জ্ঞান অর্জনে উৎসাহ প্রদান।

80:18 নং আয়াহ : (সে অস্বীকার করার আগে ভেবে দেখুক) তাকে কি [86:5-7] থেকে সৃষ্টি [76:2] করা হয়েছে??

মানুষ বিকশিত হয় নির্ধারিত জিন (Gene) অনুযায়ি।

80:19 নং আয়াহ : তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে শুক্রাণু থেকে, অতঃপর নির্ধারিত জিন (Gene) অনুযায়ি দৈহিক গঠন শুরু করেন।

# এখানে শুধু শুক্রাণু‌র কথা বলা হলো কেন?? ডিম্বাণু‌র কথা বলা হলো না কেন?? উত্তর সহজ- শুক্রাণুর X ও Y ক্রোমোজোম‌ই ঠিক করে সন্তান নারী হবে, নাকি পুরুষ। তারপর সন্তানের দৈহিক গঠন প্রক্রিয়া শুধু হয়। বিস্তারিত তথ্য রয়েছে 53:45-46 আয়াতে। আর জাইগোট সম্পর্কে 76:2 এ কথা বলা হয়েছে।

আল্লাহ মানুষ‌কে পথ দেখান।

80:20 নং আয়াহ : অতঃপর তিনি (যাকে পথ দেখিয়ে) তার পথ সহজ [13:7, 92:12, 64:2] করে দিয়েছেন।

মৃত্যুর পর আত্মা কোথায় যায়??

80:21 নং আয়াহ : তারপর তাকে মৃত্যু দেন, অতঃপর তাকে কবর/ গুপ্ত জগতে [23:100] পাঠান।

80:22 নং আয়াহ : তারপর যখন তিনি চাইবেন [42:29], তখন আবার তাকে পুনরায় [69:16-17, 81:7, 82:4, 84:1-5] জীবিত করবেন।

মানুষ‌কে আল্লাহর বিশেষ নির্দেশ।

80:23 নং আয়াহ : কখনও নয়, তিনি তাকে যে আদেশ [39:56] করেছেন [4:82], তা এখনও সে পালন করে নি।

খাদ্য নিয়ে গবেষণা‌র নির্দেশ।

80:24 নং আয়াহ : সুতরাং মানুষ তার খাদ্য [47:12] নিয়ে গবেষণা করুক।

পানির তরল অবস্থা আল্লাহর বিশেষ দয়া।

80:25 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমরা পানি‌কে (দয়া স্বরূপ) তরল অবস্থায় [67:30, 23:18] রেখেছি।

# “পানি তো তরল‌ই, এটা আবার আলাদা করে উল্লেখ করার কি আছে”?? বিজ্ঞান সম্পর্কে সামান্য জ্ঞান অর্জন করলেই বুঝতে পারতেন। আসলে পানির সংকেত H2O, তাই না?? অথচ পানির মায়ের পেটের ভাই H2S (হাউড্রোজেন সালফার) গ‍্যাস। বৈশিষ্ট্য অনুযায়ি পানিও তরল না হয়ে গ‍্যাস হ‌ওয়ার কথা ছিল। আল্লাহ এখানে সেই বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

ভূগর্ভস্থ পানির উৎস।

80:26 নং আয়াহ : তারপর আমরা ভূ-ত্বকের সুক্ষ্মাতি সুক্ষ্ম ছিদ্র দ্বারা পানি শোষণের [56:68-69] ব‍্যবস্থা করি।

ভূগর্ভস্থ পানির গুরুত্ব।

80:27 নং আয়াহ : অতঃপর তাতে (পানি শোষণ করা ভূমি‌তে) শস্য উৎপন্ন করে থাকি।

80:28 নং আয়াহ : এবং (আরও উৎপন্ন করি) আঙ্গুর ও (বিভিন্ন ধরণের) শাক সবজি। [M > 78:15]

80:29 নং আয়াহ : এবং (আরও উৎপন্ন করি) যাইতূন/ জলপাই ও খেঁজুর।

80:30 নং আয়াহ : এবং (আরও সৃষ্টি করি) গাছপালায় ভরা [78:16] ঘন জঙ্গল [36:80]।

80:31 নং আয়াহ : এবং (আরও উৎপন্ন করি বিভিন্ন ধরণের) ফল ও ঘাস/ তৃণলতা।

80:32 নং আয়াহ : তোমাদের ও তোমাদের পশু গুলোর ভোগ‍্য সামগ্রী হিসাবে।

প্রথম শিংগা ধ্বনি।

80:33 নং আয়াহ : অতঃপর যখন আসবে কান [27:87] ফাটানো শব্দ।

প্রথম শিংগা ধ্বনী শুনে মানুষ তার ভাইকে ছেড়ে পালিয়ে যাবে।

80:34 নং আয়াহ : সেই দিবসে মানুষ পালাবে তার ভাইকে [80:37] ছেড়ে।

মাতাপিতাকে ছেড়ে পালিয়ে যাবে।

80:35 নং আয়াহ : (মানুষ পালাবে) তার মাতা ও পিতাকে [80:37] ছেড়ে।

স্বামী/ স্ত্রী ও সন্তানদের ছেড়ে পালিয়ে যাবে।

80:36 নং আয়াহ : (মানুষ পালাবে) তার সঙ্গী/ সঙ্গীনিকে ছেড়ে, সন্তান‌দের [80:37] ছেড়ে।

সবাই নিজেকে নিয়ে ব‍্যস্ত থাকবে।

80:37 নং আয়াহ : তাদের মধ্যে প্রতেকেই সেই দিবসে নিজেকে নিয়ে ব‍্যস্ত [81:4] হয়ে পড়বে।

পুনরুত্থান দিবসে পূণ‍্যবানদের অবস্থা কেমন হবে??

80:38 নং আয়াহ : তবে সেদিন (অনেক) মুখমণ্ডল উজ্বলতায় ভরে [57:12, 3:106] যাবে,

80:39 নং আয়াহ : হাঁসি ও খুশিতে ভরে যাবে।

পুনরুত্থান দিবসে পাপী ও কাফিরদের অবস্থা কেমন হবে??

80:40 নং আয়াহ : কিন্তু সেদিন তার (সত্য অস্বীকার‌কারী ও পাপীর) মুখমণ্ডল হবে ধূলি মলিনতায় [3:106] ভরা।

80:41 নং আয়াহ : তাকে আচ্ছাদিত [57:13] করে ফেলবে গাঢ় অন্ধকার।
80:42 নং আয়াহ : ওরা তারাই, যারা ইহজীবনে ছিল সত্য অস্বীকার‌কারী ও পাপী।

3.7/5 - (3 votes)
শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন