বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 85 টি।
বিচ্ছিন্ন অক্ষর গুলো আসলে কি??
40:1 নং আয়াহ : হা মীম [15:1, 31:1-2]।
কুরআন কার পক্ষ হতে নাযিল করা হয়েছে??
40:2 নং আয়াহ : কিতাবটি (কুরআন) নাযিল করা হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে [10:37, 32:2], যিনি মহা শক্তিশালী ও মহা জ্ঞানী।
আল্লাহর কিছু গুণ ও বৈশিষ্ট্য।
40:3 নং আয়াহ : যিনি পাপ ক্ষমাকারী [39:53], তাওবা কবুলকারী [110:3, 4:18], শাস্তি দানে কঠোর [5:98], কেনন তিনি শক্তি সামর্থ্যের অধিকারী [18:39]। তিনি ছাড়া কোনও ঈশ্বর/ উপাস্য নেই [21:22, 23:91]। তার দিকেই ফিরে যেতে হবে [69:16-17]।
ইসলাম বিদ্বেষীদের দেশ বিদেশে ভ্রমণের ভবিষ্যৎ বাণী।
40:4 নং আয়াহ : যারা সত্য অস্বীকারকারী তারা ছাড়া আল্লাহর আয়াত [18:56] সমূহকে (মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য) কেউ বিতর্ক করে না [29:47, 29:49]। আর আপনাকে যেন ভ্রান্তিতে না ফেলে (১) দেয় দেশ বিদেশে তাদের বিচরণ [3:196, 9:55 ও 85]।
১) মানে কি! মানে- “এটা ভেবে নেবেন না যে, তারা দেশ বিদেশে ভ্রমণ করতে পারছে, সুতরাং তারা সঠিক ও সফল। এবং আপনার উপর নিষেধাজ্ঞা, এ কারণে আপনি ভুল ও বিফল”।
প্রত্যেক নাবী রাসূলকে গ্ৰেফতারের চেষ্টা করা হয়েছিল।
40:5 নং আয়াহ : তাদের পূর্বে নূহের জাতিও অস্বীকার করেছিল এবং পরবর্তী দল গুলোও। প্রত্যেক উম্মাত অভিসন্ধি করেছিল তাদের রাসূলকে গ্ৰেফতার/ বন্দী করার (১)। তারা বাত্বিল/ অযৌক্তিক ভাবে বিতর্ক করার জন্য মত্ত ছিল যেন তা দ্বারা সত্যকে (আল্লাহর বাণী ও নাবীদের রিসালাতকে) হারিয়ে দিতে পারে [17:81]। অতঃপর আমি তাদের ধরেছিলাম (২)। এতএব দেখুন কেমন ছিল আমার শাস্তি [40:22, 13:32]।
১) নাবী (সা) কে মাদীনাহ থেকে বহুবার গ্ৰেফতার করার চেষ্টা করা হয়েছিল। মাক্কী জীবনে তাকে প্রায় 3 বছর বয়কটের জীবন কাটাতে হয়। বলা ভালো, তা কারারুদ্ধ বা জেল খাটার মতোই।
২) এটা আরবি বাকরীতি, প্রবাদ। যার অর্থ- ব্যবস্থা গ্ৰহণ করলাম বা শাস্তি দিলাম। এখানে ধরা বলতে, হাত দিয়ে ধরা নয় (73:16)।
সত্য অস্বীকার করার পরিণতি।
40:6 নং আয়াহ : এভাবে তাদের জন্য আপনার রব/ প্রভুর বাণী সত্য হবে- “যারা কুফরী/ সত্য অস্বীকার কারী, নিশ্চয়ই তারা আগুনের বাসিন্দা” [2:39]।
মানুষের জন্য ফেরেস্তারা ‛বিভিন্ন দুয়া’ করেন।
40:7 নং আয়াহ : যারা আরশ/ সিংহাসন সৃষ্টি করবে [69:17] ও তাঁর চারপাশে যারা আছে, তারা তাদের রব/ প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা করে প্রশংসা সহ [42:5], তারা তাঁর প্রতি অনুগত। আর তারা ক্ষমা প্রার্থনা করে তাদের জন্য, যারা সত্য স্বীকার করে। বলে- “হে আমাদের রব/ প্রভু, আপনি সমস্ত কিছুকে ঘিরে [29:54] রেখেছেন আপনার রহমত/ দয়া ও ইলম/ জ্ঞান দ্বারা [2:19, 85:20]। তাদেরকে ক্ষমা করে দিন, যারা তাওবা করে, যারা আপনার পথের [92:12] অনুসরণ করে। আর তাদেরকে বাঁচান জাহান্নামের শাস্তি হতে।
‛পরিবার সহ’ জান্নাতে রাখার জন্য ফেরেস্তাদের দুয়া।
40:8 নং আয়াহ : হে আমাদের রব/ প্রভু, তাদেরকে সুদীর্ঘকাল স্থায়ী জান্নাত সমূহে প্রবেশ করাবেন। যার ওয়াদা আপনি তাদের সঙ্গে করেছেন [2:25]। আর যারা সৎকর্ম করেছে, তাদের বাপ দাদাদের, তার সঙ্গী/ সঙ্গীনিদের, তাদের বংশধরদের [13:23]। নিশ্চয়ই আপনি মহা শক্তিশালী ও মহা বিজ্ঞানী।
# শুধু জান্নাতে নয়, আত্মার জগতেও পরিবার সহ থাকা যাবে। 52:21 এ চলে যান।
জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য ফেরেস্তাদের দুয়া।
40:9 নং আয়াহ : আর আপনি তাদের খারাপ পরিণতি হতে বাঁচিয়ে নিন। আর যাকে খারাপ পরিণতি হতো বাঁচাবেন [3:185], তাহলে অবশ্যই তাকে রহমত (দয়া) করবেন। এবং ওটাই তো মহা সাফল্য” [6:16, 9:72]।
কাফিররা নিজেদের উপর অসন্তুষ্ট হবে, তখন বলা হবে…।
40:10 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই যারা কুফরী/ সত্য অস্বীকার করেছিল, (বিচারের দিবসে) তাদের ডেকে বলা হবে- “আজ তোমাদের নিজেদের উপর (তোমাদের) যতটা অসন্তোষ [67:10] হচ্ছে, তোমাদের তুলনায় আল্লাহ অধিক অসন্তুষ্ট হতেন [39:7]। (এজন্য যে) যখন তোমাদেরকে ইমানের দিকে ডাকা হোত,তখন তোমরা তা অস্বীকার করতে” [6:30, 32:12]।
■ মানুষ দুবার প্রাণহীন ছিল ■ কাফিররা যে ভাবে ক্ষমা চাইবে।
40:11 নং আয়াহ : তারা বলবে- “হে আমাদের রব/ প্রভু, আপনি আমাদের শরীরকে দুবার প্রাণহীন রেখেছিলেন, দুবার শরীরে প্রাণ [2:28] সংযোজন করেছেন (১)। এখন আমরা আমাদের সমস্ত পাপ [67:11, 26:97] স্বীকার [89:23] করছি, এখন কি পরিত্রাণের [22:22, 32:20] কোনও পথ [23:107] আছে”??
১) অর্থাৎ তারা বলতে চাইবে- “শরীরকে দুবার প্রাণহীন রেখেছেন, দুবার শরীরে প্রাণ সংযোজন করেছেন, তৃতীয় বার প্রাণহীন করতেও পারবেন। আবারও আমাদের শরীরকে প্রাণহীন করে দিন”। দেখে আসুন 25:13-14 আয়াত।
# অনেকেই এই আয়াহ কি বলছে, তা বুঝতে না পারার কারণে দ্বিতীয় জন্মের কথা বলে থাকেন। যদিও পুনর্জন্ম নেই। দলিল! আছে, 37:58-59 এ যান।
নাস্তিক কিন্তু মূর্তিপূজক, তাদের যা বলা হবে।
40:12 নং আয়াহ : (বলা হবে) তোমাদের ঐ অবস্থা এজন্য যে, যখন তোমাদেরকে আল্লাহর একত্বের (তাওহীদের) দিকে ডাকা হোত, তখন তোমরা অস্বীকার করতে। যখন তার সঙ্গে অন্য কাউকে শরিক করা হোত, তখন তোমরা তা স্বীকার/ বিশ্বাস করতে [23:108-110]। অথচ আল্লাহর নির্দেশনা মেনে নেওয়া উচিৎ ছিল, যিনি তুলনাহীন উচ্চ ও তুলনাহীন শ্রেষ্ঠ” [17:111]।
বহু রিযিক/ জীবন উপকরণ মহাকাশ থেকে এসেছে।
40:13 নং আয়াহ : তিনিই (আল্লাহ), যিনি তোমাদেরকে তার পক্ষ থেকে আয়াত (প্রমাণ/ নিদর্শন) সমূহ দিচ্ছেন। তিনিই তোমাদের জন্য মহাকাশ থেকে রিযিক/ জীবন উপকরণ গুলো (১) নামিয়েছেন। যারা (আল্লাহ) অভিমুখী, তারা ছাড়া (এ থেকে) অন্য কেউ শিক্ষা নেবে না।
১) লোহা পৃথিবীতে ছিল না, মহাকাশ থেকে এসেছে [57:25]। পানি পৃথিবীতে ছিল না, ধূমকেতুর মাধ্যমে মহাকাশ থেকে এসেছে [29:63]। জীব পৃথিবীতে ছিল না, মহাকাশ থেকে ধূমকেতুর মাধ্যমেই এসেছে [39:6]।
আল্লাহকে আল্লাহর মনোনীত পদ্ধতিতে ডাকতে হবে।
40:14 নং আয়াহ : সুতরাং তোমরা বিশুদ্ধ ভাবে তাকে ডাক, তার মনোনীত দীন [3:19, 3:85] অনুসরণের [39:14] মাধ্যমে। যদিও কাফির/ সত্য অস্বীকারকারীরা তা পছন্দ করে না [9:32]।
আল্লাহ যাকে ইচ্ছা, তাকে নবুওয়াত দিয়ে থাকেন।
40:15 নং আয়াহ : তিনি উচ্চ মর্যাদা সমূহের অধিকারী ও আরশের অধিপতি। তিনি তার বান্দাদের মধ্যে [14:11] যার কাছে চান [10:2, 22:75], তার কাছে রূহ (জিবরীল) কে যাওয়ার নির্দেশ [16:2, 62:4] দেন, যেন তিনি (নাবী/ রাসূল) সাক্ষাতের দিন সম্পর্কে (মানুষ ও জিন উভয়কে) সতর্ক করেন [40:18, 44:3]।
বারযাখ থেকে ‛আত্মারা’ প্রকাশ/ মুক্তি পাবে।
40:16 নং আয়াহ : সেদিন তারা (মানব ও জিন) প্রকাশ [23:100] পাবে [69:68, 70:43]। সেদিন আল্লাহর কাছে তাদের কোনও কিছুই গোপন থাকবে না [। (জিজ্ঞাসা করা হবে) “আজ রাজত্ব কার [1:3, 6:73]”?? (সবাই বলবে) “আল্লাহর, যিনি পরম একক ও পরম অপ্রতিরোধ্য” [13:16, 14:48]।
বিচার দিবসে ‛শুধু কর্মের প্রতিদান’ পাওয়া যাবে।
40:17 নং আয়াহ : (বলা হবে) আজ প্রতিদান দেওয়া হবে প্রত্যেকটি সত্ত্বাকে, যা সে অর্জন করছে। আজ কারোর সঙ্গে অবিচার [21:47, 45:28] করা হবে না [36:54, 37:39]। নিশ্চয়ই আল্লাহ হিসাব [2:202, 3:19] গ্ৰহণে দ্রুত [3:199]।
যাদের ‛বন্ধু ও সুপারিশ’ থাকবে না।
40:18 নং আয়াহ : আর সেই দিন সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক [14:44, 40:15] করে দিন, যা আসবেই। তখন দুঃখ কষ্টে হৃৎপিণ্ড গুলো তাদের কন্ঠ সমূহে চলে আসবে (১)। অত্যাচারকারীদের কোনও অন্তরঙ্গ (বন্ধু) থাকবে না [43:67]। আর না তাদের জন্য কোনও শাফায়াতকারীর কথা মেনে [7:53, 26:100] নেওয়া হবে [10:18, 39:43]
১) এটা আরবি বাক রীতি, প্রচলিত কথা, প্রবাদ। যার অর্থ- তাদের মুখ দিয়ে কিছুই বের হবে না। যেমন, মানুষ অনেক দুঃখে কষ্টে কথা বলতে পারেন না। হোসেন কুরানীর মা যখন মারা গিয়েছিলেন, তখন হোসেন কুরানী কিছুক্ষণ কাঁদার পর আর কাঁদতে পারছিলেন না।
‛রেটিনা স্ক্যানিং লক’ এর ভবিষ্যৎ বাণী।
40:19 নং আয়াহ : তিনি জানেন- চোখের সাহায্যে যা গোপন রাখা হয়/ হবে। আর মস্তিষ্ক সমূহ যা গোপন রাখে।
# এখানে “রেটিনা স্ক্যানিং লক” এর মাধ্যমে যা গোপন করা হয়, সেই সম্পর্কে কথা বলা হচ্ছে। প্রশ্ন হবে- আঙুল ছাপের ব্যাপারে কোথায় কথা বলা হয়েছে?? 75:4 এ যান, যান ঘুরে আসুন।
চোখ ও মস্তিষ্কের তথ্য চুরির ভবিষ্যৎ বাণী।
ভিন্ন অনুবাদ, 40:19 আয়াহ : তিনি জানেন- চোখ থেকে যা (তথ্য) চুরি করা হয়/ হবে। আর মস্তিষ্ক সমূহ থেকে যা চুরি করা হয়/ হবে।
# প্রশ্ন হবে- চোখের তথ্য চুরি, এটা বুঝলাম। বর্তমানে তা দেখাও যাচ্ছে। কিন্তু মস্তিষ্কের তথ্য চুরি বলতে কি?? বলছি। এলন মাস্কের কোম্পানি ‛নিউরা লিঙ্ক’ একটা প্রোজেক্টে কাজ করছে। তা হল- মস্তিষ্কে তথ্য ইন্সটল করাও যাবে, তথ্য বের করাও যাবে, এমনকি কপি করাও যাবে। এখানে সেই সম্পর্কে কথা বলা হচ্ছে। এই প্রযুক্তির নাম- ‛BCT বা ব্রেন চিপ টেকনোলজি’।
বিচার দিবসে ‛সবার’ বিচার করবেন ‛শুধু আল্লাহ’।
40:20 নং আয়াহ : আর আল্লাহ বিচার করবেন নিঁখুত/ যথাযথ ভাবে। তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে ডাকে [16:86, 19:82], তারা (সেদিন) ‛কোনও কিছুই বিচার’ [1:3, 6:73] করতে পারবে [40:74, 16:87] না (১)। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত কিছু শোনেন ও সমস্ত কিছু দেখেন।
১) এমন কথা বলা হল কেন- “অন্যান্য উপাস্যরা কোনও কিছুই বিচার করতে পারবে না”?? কারণ, বাইবেলে বলা হয়েছে- “পিতা/ ঈশ্বর নিজে কারোর বিচার করবেন না, বরং ঈশ্বর মানুষের বিচারের দায়িত্ব দিয়েছেন পুত্র/ যিশুকে” (Jhon, 5:22 ও Acts, 17:31) । এটা যিশু/ ঈশা (আ) কে বড় করার অপচেষ্টা মাত্র। এখানে আল্লাহ খৃষ্টানদের সেই দাবি খণ্ডন করে দিয়েছেন। ঈশা (আ) বিচার তো দূরের কথা, তিনি নিজেই থাকবেন বিচারের আওতায় (5:116-117)। আরও দেখুন 5:109 ও 7:6 আয়াত দুটি। যেদিন ঈশা (আ) বিচার তো দূরের কথা, তিনি খৃষ্টানদের ইবাদত অস্বীকার করবেন ও খৃষ্টানদের বিরোধী হবেন (19:82)। এই তথ্য বাইবেলেও রয়েছে ভিন্ন ভাবে Matthew তে, 7:22-23 এ।
আমাদের পূর্বে উন্নত ও শক্তিশালী সভ্যতা ছিল।
40:21 নং আয়াহ : তারা কি পৃথিবীর ভিতরে কখনও প্রবেশ (১) করে নি?? তাহলে দেখতে পেত যে, যারা তাদের পূর্বে ছিল তাদের পরিণতি কি হয়েছিল! তারা পৃথিবীতে প্রযুক্তি ও কীর্তিতে তাদের চেয়ে [19:74, 30:9] উন্নত/ শক্তিশালী ছিল [40:82]। আল্লাহ তাদেরকে ধরলেন (২) তাদের পাপ সমূহের কারণে। আর আল্লাহর থেকে তাদেরকে বাঁচাবার কেউ ছিল না [40:33, 15:84]।
১) এটা প্রচলিত কথা, আরবি বাক রীতি, প্রবাদ। যার অর্থ- তারা কি মাটি খুঁড়ে দেখে নি??
২) এটা প্রচলিত কথা, আরবি বাক রীতি, প্রবাদ। যার অর্থ- আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দিলেন। দেখতে পারেন 73:16 আয়াহ।
উন্নত ও শক্তিশালী সভ্যতা গুলো ধ্বংস হয়েছিল কেন??
40:22 নং আয়াহ : ওটা এজন্য যে, তাদের কাছে রাসূলগণ আসতেন সুস্পষ্ট প্রমাণ সমূহ নিয়ে। কিন্তু তারা (তাদেরকে) অস্বীকার করত [40:83]। অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে ধরলেন (১)। নিশ্চয়ই তিনি শক্তিশালী ও শাস্তিদানে কঠোর।
১) এটা প্রচলিত কথা, আরবি বাক রীতি, প্রবাদ। যার অর্থ- আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দিলেন। দেখতে পারেন 73:16 আয়াহ।
মূসা (আ) কাদের কাছে/ জন্য প্রেরণ করা হয়েছিল??
40:23 নং আয়াহ : আর আমরা মূসাকে পাঠিয়েছিলাম সুস্পষ্ট প্রমাণ/ নিদর্শন [17:101] সমূহ সহ।
40:24 নং আয়াহ : ফিরআউন, হামান [7:103] ও কারূনের কাছে [28:76]। তারা বলল- “(মূসা) জাদুকর [51:52] ও মিথ্যাবাদী” [35:4, 38:4]।
মূসা (আ) ইসলাম প্রচারে ফিরআউনের প্রথম প্রতিক্রিয়া।
40:25 নং আয়াহ : অতঃপর পরে যখন (মূসা) আমাদের নিকট হতে সত্য সহ তাদের কাছে এলেন, তারা বলল- “যারা হয়েছে আমানু/ সত্য গ্ৰহণকারী, তাদের পুত্র সন্তানদেরকে হত্যা কর, কন্য সন্তানদের জীবিত ছেড়ে দাও” [2:49, 7:127]। আর কাফির/ সত্য অস্বীকারকারীদের কাইদা (ষড়যন্ত্র/ কৌশল) ভ্রান্তি ছাড়া [7:99, 52:42] অন্য কিছুই নয় [13:14, 40:50]।
দ্বিতীয়: ফিরআউন মূসা (আ) কে হত্যা করতে চাইল।
40:26 নং আয়াহ : তবে ফিরআউন বলল- “আমাকে ছেড়ে দাও, আমি মূসাকে হত্যা করি। সে তার রব/ প্রভুকে যত পারে ডাকুক। নিশ্চিতই আমি ভয় করছি যে, সে তোমাদের দীন (ধর্ম/ শাসন ব্যবস্থা) বদলে দেবে। অথবা আরদ্ব (দেশে/ সম্রাজ্যে) ফাসাদ (সন্ত্রাস/ বিশৃঙ্খলা) সৃষ্টি করবে” (১)।
১) ফিরআউন নিজে নিজের দেশে ও অন্যের সন্ত্রাস সৃষ্টি করে বেড়াত (89:11-12)। কিন্তু তবুও ফিরআউন এখানে মূসা (আ) কে ‛সন্ত্রাস সৃষ্টি করবে’, এই অভিযোগে হত্যা করতে চাইছে। কি অদ্ভুত ব্যাপার! অবাক হওয়ার কিছুই নেই। এই নিয়ম আজও চলছে যে, মুসলিমকে সন্ত্রাসী অভিযোগে গ্ৰেফতার করা হয় প্রমাণ ছাড়াই, তারপর 10 বছর, 20-25 বছর জেল খাটার পর নিরাপরাধ প্রমাণিত হয়।
মূসা (আ) কে ‛সন্ত্রাসী’ বলায়, তাঁর জবাব।
40:27 নং আয়াহ : আর মূসা বলল- “আমি (সন্ত্রাস সৃষ্টি করা হতে) আশ্রয় চাই আমার ও তোমাদের প্রভুর কাছে, এমন প্রত্যেক ব্যক্তি হতে, যে/ যারা অহংকারী ও অস্বীকার করে হিসাব [88:26] দিবসকে” [14:41, 38:26]।
মূসা (আ) কে বাঁচালেন ফিরআউনের মূমীন আত্মীয়।
40:28 নং আয়াহ : তবে তখন ফিরআউনের সম্প্রদায়/ বংশের একজন মূমীন/ সত্য স্বীকারকারী [28:20] যে নিজের ইমান/ সত্য গ্ৰহণের বিষয়টি গোপন রেখেছিল, তিনি বললেন- “তোমরা কি এমন একজনকে হত্যা করতে চাইছ, যে বলে : আমার রব/ প্রভু আল্লাহ (১) এবং অবশ্যই তিনি তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে প্রমাণ সহ এসেছেন?? যদি তিনি মিথ্যাবাদী হন, তার দায় তাঁর উপর। আর যদি তিনি সত্যবাদী হন, তাহলে তোমাদের উপর কিছু (শাস্তি) তো আপতিত হবে, যার ভয় তিনি দেখাচ্ছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ এমন কাউকে পথ দেখান না, যে মুসরিফ/ বিশৃঙ্খল ও কাজ্জাব/ মহা মিথ্যাবাদী (২)।
১) এমন একটি হুবহু ঘটনা নাবী (সা) এর সঙ্গেও ঘটে। তখন আবুবকর বলেন- “তোমরা কি এমন একজনকে হত্যা করতে চাইছ, যে বলে : আমার রব/ প্রভু আল্লাহ এবং অবশ্যই তিনি তোমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে প্রমাণ সহ এসেছেন”?? এটা বুখারীর 3678 নং হাদীশ।
২) এখানে ফিরআউন মূসা (আ) কে সন্ত্রাসী ও মিথ্যাবাদী বলেছিল। এখানে ফিরআউনকে তার বংশের একজন মূমীন জবাব দিচ্ছেন যে, “নিশ্চয়ই আল্লাহ এমন কাউকে পথ দেখান না, যে মুসরিফ/ বিশৃঙ্খল ও কাজ্জাব/ মহা মিথ্যাবাদী”। সুতরাং মূসা (আ) না মুসরিফ/ বিশৃঙ্খল ও কাজ্জাব/ মহা মিথ্যাবাদী।
ঐ মূমীনের প্রশ্ন, ফিরআউনের নিজেকে পথপ্রদর্শক দাবি।
40:29 নং আয়াহ : হে আমার কাওম/ জাতি, আজ এই আরদ্ব (দেশে/ ভূখণ্ডে) তোমাদেরই শাসন, তোমরাই বিজয়ী। কিন্তু যদি আমাদের উপর আল্লাহর শাস্তি আসে, তখন কে আমাদেরকে বাঁচাবে”?? ফিরআউন বলল- “যা আমি ভালো বলে বিশ্বাস করি, তা ছাড়া তোমাদেরকে আমার ভিন্ন কোনও মতামত দিচ্ছি না। আর (তা এই) আমি সঠিক ছাড়া কোনও পথে তোমাদেরকে পরিচালিত করছি না” [11:97]।
ঐ মূমীন ফিরআউন বংশকে উদাহরণ দিচ্ছেন।
40:30 নং আয়াহ : তখন বললেন, যে ইমান/ সত্য গ্ৰহণ করেছিল- “হে আমার কাওম/ জাতি, নিশ্চয়ই আমি ভয় করছি, তোমাদের উপর অতীতের আহযাব (দল/ জাতি) গুলোর মতো শাস্তির দিনের।
40:31 নং আয়াহ : উদাহরণ স্বরূপ নূহের কাওম/ জাতির [11:36-47] কর্মপন্থার জন্য যে শাস্তি [23:23-29] এসেছিল। আদ ও সামূদ জাতির উপর [69:4-7], যারা ছিল তাদের (নূহের জাতির) পর [14:9]। আর আল্লাহ তাঁর বান্দাদের উপর জুলুম (অবিচার/ অত্যাচার) করতে চান না/ করেন না [11:44, 50:29]।
ফিরআউন বংশের কঠিন পরিণতির ভবিষ্যৎ বাণী।
40:32 নং আয়াহ : সুতরাং হে আমার কাওম/ জাতি, নিশ্চয়ই আমি ভয় করছি তোমাদের উপর আর্তনাদকারী দিবসে শাস্তির।
40:33 নং আয়াহ : যেদিন তোমরা পিছনে পালিয়ে যেতে চাইবে কিন্তু আল্লাহর থেকে রক্ষাকারী কাউকে [40:21, 15:84] পাবে না [26:63-66]। আর আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন (১), অতঃপর তার কোনও হাদী/ পথপ্রদর্শক থাকে না/ থাকবে (২) না [2:26, 18:18]।
১) আল্লাহ কি কাউকে পথভ্রষ্ট করতে পারেন! আর যদি আল্লাহ কাউকে পথভ্রষ্ট করেন, তার দায় কার! আল্লাহর নাকি ঐ মানুষের, যাকে পথভ্রষ্ট করা হয়েছে?? উত্তর সহজ। কি রকম! আল্লাহ কোনও মূমীনকে পথভ্রষ্ট করেন না (2:143)। তাহলে কাকে পথভ্রষ্ট করেন?? পরের আয়াহ তের শেষাংশে উত্তর রয়েছে।
২) এখানে ঐ মূমীন ব্যক্তিটি ফিরআউনকে উদেশ্য করে এ কথা বললেন।
আল্লাহ নিজ থেকে যাকে যাকে বিভ্রান্ত করেন।
40:34 নং আয়াহ : আর অবশ্যই এর পূর্বে ইউসুফ তোমাদের কাছে এসেছিল বাইয়ীনাত (সুস্পষ্ট প্রমাণ/ নিদর্শন) সমূহ সহ। কিন্তু তখন তোমরা ছিলে শাক্ক/ সন্দেহের মধ্যে, যা নিয়ে তিনি এসেছিলেন সেই সম্পর্কে। এমনকি যখন তিনি হালাক/ ‛পুরোপুরি শেষ’ হয়ে গেলেন (১), তখন তোমরা বলেছিলে : আল্লাহ কখনও আর কাউকে রাসূল হিসাবে পাঠাবেন না! এভাবেই আল্লাহ তাকে বিভ্রান্ত করেন, যে মুসরিফ/ উগ্ৰ ও মুরতাব/ ইচ্ছাকৃত ভাবে সংশয়ী (২)।
১) ‛পুরোপুরি শেষ’ বলতে কি?? অর্থাৎ শুধু মৃত্যুই হয় নি, তার সঙ্গে তার দেহ মাটিতে গেছে। প্রশ্ন হবে- নাবীদের দেহ মাটি খায় না, এমন হাদীশ আছে। হ্যাঁ আছে। কিন্তু হাদীশটি দ্বাইফ/ জয়ীফ। কোথায় পাব?? 39:30 এ যান, দেওয়া আছে ওখানে।
২) আল্লাহ নিজে বিভ্রান্ত করলে, এখানে তাদের দোষটা কোথায়?? 40:33 এর টিকা দেখে নিন।
কুরআন সম্পর্কে ‛বিতর্ক’ করতে হবে ‛শক্তিশালী প্রমাণ’ দ্বারা।
40:35 নং আয়াহ : যারা নিজেদের কাছে আসা কোনও শক্তিশালী প্রমাণ ছাড়াই [18:56, 40:4] আল্লাহর আয়াত সমূহ সম্পর্কে তর্কাতর্কি/ বিতর্ক করে [40:56, 22:3], এটা আল্লাহ কাছে ঘৃণ্য বিষয় ও সত্য স্বীকার করা মানুষদের কাছেও [16:125]। এভাবেই আল্লাহ মোহর মেরে দেন এমন প্রত্যেকের মস্তিষ্কে, যারা মুতাকাব্বির/ অহংকারী ও জাব্বার/ কঠোর” (১)।
১) আল্লাহ নিজ থেকে কারোর মস্তিষ্কে মোহর মেরে দিলে, এখানে ঐ ব্যক্তির দোষ কোথায়?? কার কার মোহর মারেন, সেটা ওখানেই উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি কোনও মূমীনের মস্তিষ্কে মোহর মারেন না। 40:33 এর টিকা দেখে নিন। এছাড়াও দেখুন 16:106-109 আয়াত।
‛হামান’কে ‛গিজা পিরামিড’ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হল।
40:36 নং আয়াহ : তখন ফিরআউন বলল- “হে হামান, আমার জন্য নির্মাণ কর ‛সুউচ্চ স্থাপনা/ পিরামিড’। যাতে আমি পৌঁছাতে পারি ‛পথ সমূহে’।
# হামান কে?? ‛ফিরআউন ও হামান’ এর সম্পর্ক কি?? এর কোনও ঐতিহাসিক প্রমাণ আছে?? নাকি হামান কোনও কাল্পনিক চরিত্রের নাম?? উত্তর দেব, তবে লেখাটা একটু বড় হবে। পৃথিবীতে একটি দেশ রয়েছে, নাম অষ্ট্রিয়া (অষ্ট্রেলিয়া নয়), তার রাজধানীর নাম ভিয়েনা। এই ভিয়েনায় ‛হফ’ নামের একটি মিউজিয়ামে প্রাচীন মিসরের স্মৃতিস্তম্ভ রয়েছে। যেখানে ‛হামান’ নামের এক ব্যক্তির উল্লেখ রয়েছে। যিনি প্রাচীন মিশরের সম্রাট/ ফিরআউনের রাজমিস্ত্রিদের প্রধান ছিলেন বা সরকারের নির্মাণ বিভাগের প্রধান ছিলেন। বিশ্বাস হচ্ছে না! গুগলে গিয়ে ‛Hof Museum’ Vienna, in Haman লিখে সার্চ করে দেখে নিন।
অবাক করা বিষয়- আজ থেকে মাত্র 200 বছর আগে ফ্রান্সের Jean-François Champollion নামের ইতিহাসবিদ মিশরের প্রাচীন ভাষার পাঠোদ্ধার করেন। তার আগে মিশরীয় লিপি পড়া সম্ভব ছিল না। আর বাইবেলে মূসা (আ) এর প্রসঙ্গে ‛হামান’ নামের কোনও ব্যক্তির নামোল্লেখ হয় নি। এখন কুরআন যদি নাবী (সা) বাইবেল থেকে চুরি করতেন, তাহলে ফিরআউন ও মূসা (আ) এর প্রসঙ্গে ‛হামান’নামের কোনও ব্যক্তির নামোল্লেখ হোত না। আর নাবী (সা) এর যুগে মিশরীয় লিপির পাঠোদ্ধারও হয় নি। দ্বিতীয়ত, এই নাম আরবীয় নামও নয়। তাহলে নাবী (সা) এই নাম জানলেন কিভাবে??
‛গিজা পিরামিড’ তৈরির উদ্দেশ্য কি ছিল??
40:37 নং আয়াহ : সামাওয়াত/ মহাকাশের বিভিন্ন স্তরে থাকা পথ সমূহে [51:7, 15:14-15]। অতঃপর যেন আমি মূসার ইলাহা/ ঈশ্বরকে দেখতে পাই [28:38]। যদিও আমি নিশ্চিত যে, সে মিথ্যাবাদী”। আর এভাবেই ফিরআউনের কাছে তার ফালতু আমল/ কর্মকে শোভনীয় করা হয়েছিল এবং তাকে সঠিক পথ থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। আর ফিরআউনের ষড়যন্ত্র তার জন্য ধ্বংস ছাড়া ভিন্ন কিছু আনে নি।
# পিরামিড সমূহ তৈরির আসল/ মূল উদেশ্য কি ছিল, তা নিয়ে মতভেদ প্রচুর। কেউই শতভাগ নিশ্চিত ও সমস্ত কাউন্টার প্রশ্নের উত্তর সহ বলতে পারবেন না যে, অমুক উদ্দেশ্য পিরামিড গুলো তৈরি করা হয়েছিল। তবে, কুরআন ইঙ্গিত করছে- পিরামিড গুলো মহাকাশ গবেষণার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। এজন্য শুধু মিশরে নয়, তৈরি হয়েছিল সেই সময়ে অবস্থিত পৃথিবীর বিভিন্ন সভ্যতায়। তাই ফিরআউন সবচেয়ে বড় পিরামিড তৈরির নির্দেশ দিচ্ছে। প্রশ্ন হবে- পৃথিবীর আন্যান্য দেশে কিভাবে পিরামিড পৌঁছাল?? উত্তর রয়েছে 89:10-11 তে। যান, ঘুরে আসুন।
# গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- “আজ থেকে 4-5 হাজার বছর আগে এমন বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে ভরপুর পিরামিড তৈরি করা হয়েছিল কিভাবে, যখন মিশর মরুভূমিতে পূর্ণ?? সেখানে এত উন্নত সভ্যতা তৈরি হল কিভাবে?? উত্তর নেই, এমন নয়। কুরআনেই উত্তর আছে। কোথায়?? 53:51 তে।
একজন সাধারণ মূমীনও ‛অনুসরণ যোগ্য’।
40:38 নং আয়াহ : তখন বললেন, যে ইমান/ গ্ৰহণ করেছিলেন- “হে আমার কাওম/ জাতি, তোমরা আমার অনুসরণ কর, আমি তোমাদেরকে সঠিক পথ দেখাব (১)।
১) ফিরআউনের 40:29 এ করা দাবির বিরুদ্ধে সেই মূমীন মানুষটি একথা বললেন। এজন্য যে, ফিরআউন নিজেই তো ভুল পথে চলছে, সে কিভাবে সঠিক পথ দেখাতে পারে!
পরকালের ঘরই আসল বসবাসের স্থান।
40:39 নং আয়াহ : হে আমার কাওম/ জাতি, ইহজীবন মূলত (অস্থায়ী) ভোগের সামগ্রী, তবে নিশ্চয়ই পরবর্তী জীবনের ঘরই (আসল) বসবাসের [57:20] স্থান [42:36, 43:35]।
আমলে, প্রতিদানে নারী ও পুরুষে ‛ভেদ’ নেই।
40:40 নং আয়াহ : যে করবে অসৎ আমল/ কর্ম, তাকে তার সমপরিমাণ-ই জাজা/ প্রতিদান [6:160] দেওয়া হবে। তবে যে সৎ আমল/ কর্ম করবে, সে হোক পুরুষ বা হোক নারীদের মধ্যে কেউ, যদি সে মূমীন/ সত্য স্বীকারকারী হয়ে থাকে, তাহলে তারাই জান্নাতে দাখিল/ প্রবেশ করবে [4:124, 16:97]। তাদেরকে সেখানে রিযিক দেওয়া হবে হিসাব ছাড়া/ বে-হিসেব [41:8, 48:25]।
# শুধু আমলে, প্রতিদানে নয়। এমনিতেও নারী ও পুরুষ একে অপরের সমান (3:195)।
গাইরুল্লাহর দিকে দাওয়াতের কোনও দলিল নেই।
40:41 নং আয়াহ : হে আমার কাওম/ জাতি, তোমরা আমার সঙ্গে কেমন আচরণ করছ?? আমি তোমাদেরকে ডাকছি নাজাত/ মুক্তির দিকে, তোমরা আমাক ডাকছ জাহান্নামের দিকে!
40:42 নং আয়াহ : তোমরা আমাকে আমাকে ডাকছ, যেন আমি অস্বীকার করি আল্লাহকে, যেন তাঁর সঙ্গে শরিক [59:16] করি! অথচ সেই সম্পর্কে আমি পূর্ববর্তী (কিতাব থেকে) কোনও ইলম/ জ্ঞান [3:151] লাভ করি নি [6:81, 7:33]। তবে আমি তোমাদেরকে ডাকছি আল আযীয/ মহা শক্তিশালী ও আল গাফফার/ মহা ক্ষমাশীলের দিকে।
40:43 নং আয়াহ : এতে কোনও সন্দেহ নেই যে, তোমরা আমাকে যার দিকে ডাকছ, তার দিকে না ইহজীবনে, আর না পরবর্তী জীবনে কোনও দাওয়াত/ ডাকের দলিল আছে। তবে এটা (সত্য) যে, আমাদের ফিরে যেতে হবে আল্লাহর দিকে। আর এও (সত্য) যে, মুসরিফ/ উগ্ৰরা [28:83, 31:19] হবে [26:151-152] আগুনের [2:39, 2:81] বাসিন্দা।
ফিরআউন সম্প্রদায়কে ঐ মূমীনের ‛চ্যালেঞ্জ’।
40:44 নং আয়াহ : তবে আমি তোমাদেরকে যা বলেছি, শীঘ্রই তোমরা তা ভাবতে বাধ্য হবে। আর আমার প্রতি নির্দেশ [2:208, 39:12] মুতাবিক আমি আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করেছি। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি দৃষ্টি [3:15, 84:20] রাখেন”।
ফিরআউন সম্প্রদায়ের পরিণতি।
40:45 নং আয়াহ : অতঃপর আল্লাহ তাকে ক্ষতি থেকে বাঁচালেন, তারা যে মাক্কার/ ষড়যন্ত্র করেছিল [7:99, 42:42], তা থেকে [3:54]। তবে ফিরআউনের সম্প্রদায়কে ঘিরে ধরল নিকৃষ্ট শাস্তি [7:133-136]।
ফিরআউনের কবরের আযাব, কবরের আযাবের দলিল।
40:46 নং আয়াহ : আগুনের উপর তাদেরকে পেশ করা হয় সকাল ও সন্ধ্যায়। তারপর যেদিন কিয়ামত ঘটবে, সেদিন (বলা হবে) “ফিরআউনের সম্প্রদায়কে দাখিল/ প্রবেশ করাও [11:98] আরও কঠিন আযাব/ শাস্তিতে [9:101]
# কবর বলতে, মাটির কবর! না, আমলে বারযাখের কথা বলা হচ্ছে, যে সম্পর্কে কথা বলা হয়েছে 23:99-100 তে। অর্থাৎ প্রথমে কবরে/ আলমে বারযাখে শাস্তি হবে, শাস্তি শেষে তারা ঘুমের অবস্থায় (36:52) থাকবে, তারপর কিয়ামতে দিন আত্মারা আলমে বারযাখ থেকে মুক্তি পাবে (40:16)।
দুর্বল জাহান্নামীরা সবলদের প্রশ্ন করবে।
40:47 নং আয়াহ : আর যখন তারা আগুনের মধ্যে তর্কাতর্কি করবে, তখন (ইহজীবনের) দুর্বলরা তাদেরকে বলবে, যারা ছিল অহংকারকারী- “নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের অনুসারী [33:67] ছিলাম, এখন কি তোমরা আমাদের কাজে [7:38] আসবে! আগুনের (শাস্তি) কিছুটা কমাতে পারবে [37:28]??
সবল জাহান্নামীদের উত্তর।
40:48 নং আয়াহ : যারা ছিল অহংকারী, তারা বলবে- “নিশ্চয়ই আমরা সবাই রয়েছি [37:29-32] একই অবস্থায়”। নিশ্চয়ই আল্লাহ, অবশ্যই তিনি মিমাংসা/ বিচার করে দিয়েছেন তার বান্দাদের মধ্যে।
জাহান্নামীরা জাহান্নামের রক্ষীদের দুয়া করতে বলবে।
40:49 নং আয়াহ : তখন যারা আগুনের মধ্যে থাকবে, তারা জাহান্নামের রক্ষীদের [43:77, 74:30] বলবে- “তোমরা তোমাদের রব/ প্রভুর কাছে দুয়া কর, যেন কমপক্ষে এক দিনের আযাব/ শাস্তি কমিয়ে দেন”।
জাহান্নামের রক্ষীরা জাহান্নামীদের যে প্রশ্ন করবেন।
40:50 নং আয়াহ : তারা বলবে- “তোমাদের কাছে কি তোমাদের রাসূলরা [43:78, 67:8] সুস্পষ্ট প্রমাণ/ নিদর্শন [28:65] সহ আসে [6:130, 39:59] নি”?? তারা বলবে- “হ্যাঁ, অবশ্যই” [28:66, 67:9]। তারা (রক্ষীরা) বলবে- “তোমরাই দুয়া কর, যদিও কাফির/ সত্য অস্বীকারকারীদের দুয়া ভ্রান্তি ছাড়া কিছুই নয়” [13:14, 40:25]।
সাধারণ মূমীনরাও আল্লাহর পক্ষ থেকে ‛সাহায্য’ পাবে।
40:51 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমরা আমাদের রাসূলদেরকে সাহায্য করব এবং যারা ইহজীবনে সত্য স্বীকার করেছে (তাদেরকেও)। সেদিনও, যেদিন শহীদরা দাঁড়াবে [39:69, 4:69]।
# মানে, শুধু শহীদরা নয়, সাহায্য পাবে সাধারণ মূমীনও। যারা ইমান এনেছিল/ সত্য স্বীকার করেছিল।
বিচার দিবসে যাদের অযুহাত উপাকারে আসবে না।
40:52 নং আয়াহ : সেদিন জালিমদের অযুহাত তাদের উপকারে [16:84, 77:36] আসবে না, তাদের জন্য থাকবে লানত/ কঠোরতা এবং নিকৃষ্ট দার/ ঘর [3:162, 13:18]।
মূসা (আ) কে তাওরাত দেওয়া হয়েছিল।
40:53 নং আয়াহ : আর অবশ্যই আমরা মূসাকে দিয়েছি পথনির্দেশ [6:154] এবং আমরা বানী ইসরাঈল করেছিলাম কিতাবের/ তাওরাতের [62:5] উত্তরাধীকারী [2:122, 45:16]।
তাওরাতে ছিল পথনির্দেশ ও বিধান।
40:54 নং আয়াহ : (তাতে) হুদা/ পথনির্দেশ ও যিকির/ বিধান [5:44, 7:154] ছিল, বোধ বুদ্ধির অধিকারীদের জন্য।
নাবী (সা) এর মানবিক ভুলত্রুটি হোত।
40:55 নং আয়াহ : সুতরাং আপনি স্ববর/ ধৈর্য্য ধারণ করুন এবং নিজের ভুলত্রুটির জন্য ইসতিগফার করুন/ ক্ষমা চান [47:19, 48:2] আপনার রব/ প্রভুর তাসবীহ/ পবিত্র বর্ণনা ও হামদ/ প্রশংসা [110:3] সহ, সন্ধ্যা সমূহে এবং সকাল সমূহে।
প্রমাণ ছাড়া তর্কাতর্কি/ বিতর্ককারী অহংকারী।
40:56 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই যারা নিজেদের কাছে আসা/ থাকা কোনও শক্তিশালী প্রমাণ ছাড়াই [18:56] আল্লাহর আয়াত সমূহ সম্পর্কে তর্কাতর্কি/ বিতর্ক করে [22:8, 31:20], তাদের মস্তিষ্ক সমূহে অহংকার ছাড়া ভিন্ন কিছু নেই এবং তারা (তাদের গন্তব্যে) পৌঁছাতে পারবে না (মানে, তাদের উদ্দেশ্য পূরণ হবে না)। সুতরাং আল্লাহর কাছে আশ্রয় চান। নিশ্চয়ই তিনি সমস্ত কিছু শোনেন ও সমস্ত কিছুই দেখেন [17:1, 40:20]।
কিয়ামত ও পুনরুত্থানের পক্ষে খুবই সুন্দর যুক্তি।
40:57 নং আয়াহ : অবশ্যই মানব জাতিকে পুনরায় সৃষ্টি করার চেয়ে পুনরায় মহাবিশ্ব সৃষ্টি করা (১) অনেক বড়/ কঠিন কাজ [79:27, 69:16-17]। কিন্তু মানুষ জাতির মধ্যে অনেকেই তা জানে [17:51, 36:79] না।
১) মানে কি?? মানেটা খুব সহজ। বিজ্ঞানীরা প্রায় 100 % নিশ্চিত যে, ‛বিগ ক্রাঞ্চ’ ঘটবে। এও নিশ্চিত যে, দ্বিতীয় ‛বিগ ব্যাঙ’ ঘটবে। কিন্তু তারা মানুষের পুনরুত্থান স্বীকার করে না। কত আজব বিষয়টি! কেননা, মানুষ জাতিকে পুনরায় সৃষ্টির তুলনায় পুনরায় মহাবিশ্ব সৃষ্টি করা অনেক কঠিন। অথচ তা বিজ্ঞানীরা স্বীকার করেন।
40:58 নং আয়াহ : এজন্য সমান নয় অন্ধ ও দৃষ্টিবান। সমান নয় সত্য স্বীকার করে সৎ কর্মকারী ও নিকৃষ্ট কর্মকারী। তবে তোমরা খুব কম সংখ্যকই জ্ঞান অর্জন করে থাক।
40:59 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই সেই ক্ষণ/ কিয়ামত অবশ্যই আসবে [21:104], তাতে কোনও সন্দেহ [69:16-17] নেই। কিন্তু মানুষ জাতির মধ্যে অনেকেই সত্য স্বীকার করতে চায় না [11:17, 6:125]
আল্লাহকে ডাকলে ‛সাড়া’ দেন, ওয়াসীলা প্রয়োজন নেই।
40:60 নং আয়াহ : আর শোন, তোমাদের রব/ প্রভু বলেন- “তোমরা আমাকে ডাক [14:39], তোমাদের ডাকে সাড়া [14:40] দেব [2:186, 11:61]। নিশ্চয়ই যারা অহংকারে আমার ইবাদত (১) থেকে বিমুখ, অবশ্যই তারা অপমানিত হয়ে জাহান্নামে দাখিল/ প্রবেশ করবে।
১) নাবী (সা) বলেছেন- “দুয়াই হল ইবাদত” (তিরমিযী, হাদীশ 3247)। সুতরাং দুয়া করতে হবে। আর শুধু আল্লাহর কাছে করতে হবে, অন্যের কাছে নয়, অন্যের ওয়াসীলা/ মাধ্যমেও নয়। তা শিরক (39:3, 17:57)। তবে 53:24 ও 53:39 দেখতে ভুলবেন না।
রাত ও দিন আল্লাহর ‛বিশেষ অনুগ্রহ’।
40:61 নং আয়াহ : আল্লাহ তোমাদের জন্য নিয়ে আসেন লাইল/ রাত [28:71], যেন তোমরা তাতে প্রশান্তি [78:9-10] পাও। আর নাহার/ দিনকে [28:72] করেছি আলোময়/ দেখার জন্য উপযুক্ত [28:73]। নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষ জাতির জন্য অনুগ্রহশীল [2:143, 2:243]। কিন্তু তবুও মানুষ জাতির মধ্যে বেশিরভাগই শাকুর/ কৃতজ্ঞ [100:6] নয়।
# কেমন অনুগ্রহ?? এর জন্য আপনাকে একটু কষ্ট করে 3:190 ও তার টিকা দেখে আসতে হবে। যান যান, দেখে আসুন। দ্বিতীয় প্রশ্ন- দিন আলোময়, এর অর্থ কি?? এর মধ্যে আবার কেমন নিদর্শন/ অনুগ্রহ আছে?? বুঝতে পারেন নি! আলো ছাড়া সালোকসংশ্লেষ ঘটবে! আর না ঘটলে আমরা কি খেয়ে থাকব! পশুদের মাংস খাব। কিন্তু পশুরা কি খাবে! যাইহোক, সালোকসংশ্লেষ সম্পর্কে জানতে 81:18 থেকে ঘুরে আসুন।
আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহা/ ঈশ্বর নেই।
40:62 নং আয়াহ : উনিই আল্লাহ, তিনি তোমাদের রব/ প্রভু [40:65]। তিনি ছাড়া [47:19] কোনও [16:20-21] ইলাহা/ ঈশ্বর নেই [21:22, 23:91]। তাহলে (এগুলো বুঝে/ না বুঝে) তারা কোথায় ফিরে [29:61] যাচ্ছে!
40:63 নং আয়াহ : এভাবেই তাদেরকে ঘুরিয়ে রাখা হয়েছিল [40:33-34], যারা আল্লাহর আয়াত সমূহ প্রত্যাখ্যান করেছিল [27:14]।
কোন কারণে মানুষের আকৃতি মানুষের মতো??
40:64 নং আয়াহ : আল্লাহ (তিনিই), যিনি আরদ্ব (গ্ৰহ/ উপগ্রহ) গুলো বানিয়েছেন তোমাদের শাসনের [31:20, 45:13] জন্য। আর সামায়া/ মহাবিশ্ব ভ্রমণ হবে কোনও উঁচু বিল্ডিং ভ্রমণের [12:105, 55:33] মতো। (সেই মুতাবিক) তিনি তোমাদেরকে আকৃতি দিয়েছেন [64:3, 82:8], অতঃপর আহসানা সূরত/ উত্তম বৈশিষ্ট্য [2:138] দিয়েছেন, আর দিয়েছেন সমস্ত ত্বাইয়িবাতি/ উপকারী রিযিক [51:22-23]। উনিই আল্লাহ, তোমাদের রব/ প্রতিপালক। সুতরাং আল্লাহ তাবারাকা/ বরকতময়, তিনি আলামীন/ মহাবিশ্ব সমূহের [1:1] রব/ প্রতিপালক [40:65]।
আল্লাহ ছাড়া কোনও ঈশ্বর, কিন্তু কেন??
40:65 নং আয়াহ : তিনি চিরঞ্জীব [16:20], (এজন্য) তিনি ছাড়া কোনও ইলাহা/ ঈশ্বর নেই [2:255, 3:2]। সুতরাং তাকেই ডাক খালিস্ব/ বিশুদ্ধ ভাবে তাঁর দীন/ নিয়ম কানুন মেনে [39:11, 39:14]। (ঈশ্বর/ উপাস্য হিসেবে) সমস্ত হামদ/ প্রশংসা আল্লাহর জন্য, কেননা তিনি আলামীন/ মহাবিশ্ব সমূহের [1:1] রব/ প্রতিপালক [40:64]।
মুসলিম অর্থ- আত্মসমর্পণ করা, কিন্তু কার কাছে??
40:66 নং আয়াহ : বলুন- “তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে ডাক, আমাকে নিষেধ করা হয়েছে তাদেরকে ডাকতে। (কেন ডাকব) যখন আমার রব/ প্রভুর পক্ষ আমার কাছে সুস্পষ্ট নিদর্শন/ প্রমাণ এসেছে! আর আমকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, আমি যেন [39:12] আত্মসমর্পণ করি আলামীন/ মহাবিশ্ব সমূহের রব/ প্রতিপালকের [1:1] কাছে” [40:64-65]।
ভ্রুণ থেকে যেভাবে ‛ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র’ অঙ্গ তৈরি হয়।
40:67 নং আয়াহ : তিনিই (আল্লাহ), যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন (১) তুরাব/ গ্ৰহের উপাদান দিয়ে [3:59]। তারপর নুত্বফাহ (শুক্রাণু/ ডিম্বাণু) দিয়ে [76:2], তারপর আলাকাহ [96:2] থেকে, তারপর তা থেকে তোমাদের কিছু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঙ্গ বের করেন (২)। তারপর তোমরা যেন পৌঁছে যাও শক্তিশালী অবস্থায়/ যৌবনে। তারপর তোমরা যেন হও শায়খ (বৃদ্ধ/ বৃদ্ধা), আর তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ তার আগেই মৃত্যুবরণ করে। এই সব কিছু ঘটে নিদিষ্ট কালের জন্য। যাতে মস্তিষ্কের ব্যবহার কর।
১) তোমাদেরকে বলতে! মানুষের কথা বলা হচ্ছে। মানে, প্রথম মানুষের বা আদমের কথা বলা হচ্ছে।
২) কিছু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঙ্গ বলতে! যেমন ধরুন, হৃৎপিণ্ড ও মস্তিষ্কের প্রাথমিক গঠন শুরু হয়। আর এগুলো অতি ক্ষুদ্রই থাকে। এগুলো জাইগোট থেকে 8 সপ্তাহের মধ্যেই হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে ভ্রুণ বলা হয়। তারপর 8 সপ্তাহ পর থেকে তাকে ভ্রুণ (Embryo) না বলে ফিটাস (Fetus) বলা হয়।
আল্লাহ শুধুমাত্র ‛হও’ বলে কোনও কিছু ঘটিয়ে দেন।
40:68 নং আয়াহ : তিনিই (আল্লাহ), যিনি তোমাদেরকে জীবন দিয়েছেন, তিনিই মৃত্যু ঘটান। অতঃপর তিনি যখন কোনও কিছু করতে ইচ্ছা করেন, তখন মূলত তাঁকে বলতে হয়- “কুন/ হও”, ফায়াকূন/ অতঃপর তা হতে শুরু হয়ে যায় [2:117]।
কুরআন সম্পর্কে কাফিরদের তর্কবিতর্ক, আল্লাহর উদেশ্য!
40:69 নং আয়াহ : আপনি কি তাদেরকে দেখেন নি, যারা তর্কবিতর্ক [18:54] করে আল্লাহর আয়াত সম্পর্কে?? (তাহলে দেখুন) তাদেরকে কিভাবে ফিরিয়ে [40:62-63] রাখা [40:35, 40:56] হচ্ছে!
কুরআন ও হাদীশ মানতে হবে।
40:70 নং আয়াহ : যারা অস্বীকার করে কিতাব এবং সেই বিষয়, যা সহ রাসূলগণকে (১) আমরা প্রেরণ করেছিলাম, তা (অস্বীকার করে)। শীঘ্রই তারা (এর পরিণতি) জানতে পারবে।
১) কিতাব বলতে ধরে নিলাম, কুরআন। কিন্তু কিতাব ছাড়া রাসূলগণ আর ‛অন্য কি নিয়ে’ আসেন?? বলুন, বলুন বলুন। উত্তরটা রয়েছে 42:17 তে। তবে রয়েছে 57:25 এও।
কুরআন ও হাদীশ অস্বীকারের পরিণতি।
40:71 নং আয়াহ : যখন তাদের গলায় বেড়ি ও শিকল পরিয়ে [14:49-59, 69:32] দেওয়া হবে, তাদেরকে টেনে [54:48] নিয়ে যাওয়া হবে [76:4],
40:72 নং আয়াহ : প্লাজমার মধ্যে [38:57]। তারপর তাদেরকে আগুনে দগ্ধ করা হবে [23:104, 4:56]।
মুশরিকদেরকে আল্লাহর ‛কঠিন’ প্রশ্ন।
40:73 নং আয়াহ : তারপর তাদেরকে বলা হবে- “তারা কোথায় [7:37, 28:62], যাদেরকে (আল্লাহর সঙ্গে) শরিক [6:22] করতে [26:92-93],
মুশরিকরা মিথ্যা বলা শুরু করবে।
40:74 নং আয়াহ : আল্লাহকে বাদ দিয়ে”। তারা বলবে- “তারা আমাদের থেকে উধাও [28:64] হয়ে গিয়েছে [7:53, 46:28]। বরং সত্য হল : আমরা ইতিপূর্বে কখনও কোনও কিছুকেই ডাকতাম না” [6:23, 40:84]। এভাবেই আল্লাহ কাফির/ সত্য অস্বীকারকারীদের বিভ্রান্ত করেন [2:26, 2:99]।
মুশরিকদের অবস্থা শোচনীয় হবে, কিন্তু কেন??
40 :75 নং আয়াহ : (বলা হবে) “তোমাদের অবস্থা এ জন্য এমন যে, তোমরা গ্ৰহে/ গ্ৰহ সমূহে অসত্য/ মিথ্যা নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলে। এ জন্যও যে, তোমরা বিচার বুদ্ধি বিসর্জন দিয়ে অহংকারে অন্ধ সেজে ছিলে।
40:76 নং আয়াহ : (সুতরাং) দরজা দিয়ে জাহান্নামে প্রবেশ কর, তাতে সুদীর্ঘকাল থাকবে। এতএব কতই না নিকৃষ্ট মুতাকাব্বির/ অহংকারীকারীদের [1629, 39:72] বাসস্থান [39:60]।
মিরাজ যাত্রা ঘটবে, তার ভবিষ্যৎ বাণী।
40:77 নং আয়াহ : সুতরাং আপনি ধৈর্য্য ধারণ করুন, আল্লাহর ওয়াদা/ প্রতিশ্রুতি সত্য। হয় আমরা তাদেরকে যে ওয়াদা/ প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তার কিছুটা আপনাকে (পৃথিবীতে) দেখিয়ে দেব। নয়ত আমরা আপনাকে তুলে [43:42] এনে (দেখিয়ে দেব)। তবে তাদেরকে আমাদের দিকে ফিরিয়ে [69:16-17] আনা হবে।
সমস্ত নাবী রাসূল সম্পর্কে তথ্য কুরআন ও হাদীশে নেই।
40:78 নং আয়াহ : আর অবশ্যই আমরা আপনার পূর্বে বহু রাসূলকে প্রেরণ করেছি। তাদের মধ্যে কিছু বর্ণনা আপনাকে দেওয়া হয়েছে, অনেকের বর্ণনা আপনাকে দিই নি [4:164। তবে কোনও রাসূলের দ্বারা এটা সম্ভব ছিল না যে, তারা আল্লাহর অনুমতি ছাড়া নিদর্শন নিয়ে [13:38] আসবে। অতঃপর যখন আল্লাহর নির্দেশ আসল, তখন ন্যায়পূর্ণ ভাবে মিমাংসা করে দেওয়া হয়েছিল। তবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বাত্বিল/ মিথ্যার আশ্রয়ীরা।
চতুস্পদ জন্তু গুলোকে অস্তিত্বে আনা হয়েছে।
40:79 নং আয়াহ : আল্লাহই তোমাদের জন্যে অস্তিত্বে এনেছেন চতুস্পদ পশু গুলো [24:45], যেন তোমরা তার মধ্যে কিছুতে আরোহণ করতে পার। তার মধ্যে কিছু খেতেও পার।
# কিভাবে অস্তিত্বে আনা হল?? বিবর্তনের মাধ্যমে, 24:45 এর রেফারেন্স দেখেছেন, 21:30, 32:7 ও 41:10 দেখে এলে বুঝে যাবেন। বিবর্তন কি ইসলাম সমর্থন করে?? আল্লাহর একটা নামই বিবর্তনকারী। সত্যি! সত্যি সত্যি সত্যি, দেখুন 59:24 দেখে আসুন।
মহাকাশে চতুস্পদ জন্তু/ কুকুর পৌঁছনোর ভবিষ্যৎ বাণী।
40:80 নং আয়াহ : তোমাদের জন্য তাতে (চতুস্পদ জন্তুতে) রয়েছে বহু উপকারিতা। আর যেন তার (চতুস্পদ জন্তুর) সাহায্যে তোমরা তোমাদের মস্তিষ্কের ভিতরের চাহিদা (১) মেটাতে পার। আর তার (চতুস্পদ জন্তুর) সাহায্যে তোমরা পৌঁছাতে পার কক্ষপথে।
১) মস্তিষ্কের ভিতরের কোন চাহিদার কথা বলা হচ্ছে?? প্রশ্নের উত্তর রে ভাই। এটা বুঝে নেওয়া এতটাও কঠিন ছিল না। আল্লাহ শুধু একটু সাহিত্যিক ভাষার ব্যবহার করেছেন, এই যা!
# 1957 তে মহাকাশে প্রথমবার কোনও জীবকে পাঠান হয়েছিল, তা ছিল চতুস্পদ জীব, কুকুর। যার নাম ছিল লাইকা। তারপর 1961 তে মানুষ হিসাবে প্রথমবার মহাকাশে যান, তিনি ইউরি গ্যাগারিন।
মহাকাশে মানুষ সফল, এটা আল্লাহর কৌশল ও নিদর্শন।
40:81 নং আয়াহ : যেন তিনি তোমাদেরকে দেখাতে পারেন তার আয়াত/ নিদর্শন সমূহ [12:105, 41:53]। সুতরাং তোমরা আল্লাহর কোন কোন আয়াত/ নিদর্শন ইনকার/ অস্বীকার [55:33-34] করবে [15:14-15]??
পূর্বে উন্নত ও শক্তিশালী সভ্যতা ছিল।
40:82 নং আয়াহ : তারা কি পৃথিবীর ভিতরে (১) প্রবেশ করে দেখে নি?? তাহলে তারা দেখতে পেত, যারা ছিল তাদের পূর্বে, তাদের পরিণতি কি হয়েছিল?? তারা পৃথিবীতে ছিল তাদের চেয়ে সংখ্যায় বেশি। প্রযুক্তি ও কীর্তিতে তারা ছিল উন্নত/ শক্তিশালী [19:74, 30:9]। কিন্তু তা সত্বেও তারা যা অর্জন করেছিল, তা তাদের কাজে আসে নি [15:84]।
১) এটা আরবি বাক রীতি, প্রবাদ। এর অর্থ- “তারা কি মাটি খুঁড়ে দেখি নি”??
রাসূলদের ব্যঙ্গ করাকে মানুষ ‛জ্ঞানের বিষয়’ ভাবে।
40:83 নং আয়াহ : অতঃপর যখন রাসূলরা তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ সহ আসলেন, তখন তারা উন্মাদনায় মেতে রইল, যা ছিল তাদের জ্ঞান ভিত্তিক (১) বিষয়। পরবর্তীতে তাদেরকে ঘিরে [6:10, 11:8] ফেলল সেই বিষয়টি, যাকে তারা [45:33, 46:26] ব্যঙ্গ বিদ্রুপ [16:34] করছিল [35:43, 39:48]।
১) উন্মাদনাকে তারা তাদের জ্ঞানের বহিঃপ্রকাশ বলে ভাবে। যেমন ফ্রান্সে নাবী (সা) ব্যঙ্গ করে কার্টুন তৈরি করা হয়েছিল, বারবার হয়ও। এটাকে নাম দিয়েছে বাক স্বাধীনতা। তারা ভাবে- “আমরা বুদ্ধিজীবী”। যদিও এমন বুদ্ধিজীবী ছিল আদ ও সামূদ জাতিও (29:38)।
শাস্তি দেখার পর ‛ইমান’ আনা কাজে আসবে না।
40:84 নং আয়াহ : অতঃপর যখন তারা শাস্তি দেখল, তখন বলল- “এক/ অদ্বিতীয় আল্লাহকে স্বীকার করলাম এবং অস্বীকার করলাম সেই সমস্ত বিষয়কে, যাদেরকে আমরা তাঁর সঙ্গে শরিক করতাম [40:74, 6:23]।
40:85 নং আয়াহ : অতঃপর আমাদের শাস্তি দেখার পর তাদের সত্য স্বীকার করা তাদের উপকারে আসে নি। এটা আল্লাহর সুন্নাত/ রীতি, অবশ্যই তা তাঁর বান্দাদের মধ্যে অতীত কাল থেকে চলে আসছে [15:4-5, 22:48]। তবে এমন অবস্থায় কাফির/ সত্য অস্বীকারকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হল।