বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাদীনাহ, আয়াত : 73 টি।
কাফির ও মুনাফিকদের কাছে ‛নত না হওয়ার’ নির্দেশ।
33:1 নং আয়াহ : হে সম্মানিত নাবী, আল্লাহর জন্য তাকওয়া (অপ্রয়োজনীয় কর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন করুন [33:32, 33:55]। কাফির/ মাদীনাহ সনদ অস্বীকারকারী [48:29] ইহুদী ও মুনাফিক/ যাকাত অস্বীকারকারী মুসলিমদের কাছে নত [33:41, 33:48] হবেন [66:9] না। নিশ্চয়ই আল্লাহ আলীম/ জ্ঞানী ও হাকীম/ বিজ্ঞানী।
# এখানে প্রসঙ্গ হল- মাদীনাহর ইহুদী ও কিছু মুসলিমের। এরা এমন মুসলিম যে, এরা যাকাত দিতে চাইত না। এরা মুনাফিক নামে পরিচিত (তবে এদের অন্য বৈশিষ্ট্যও ছিল)। আর ইহুদীরা মাদীনাহ সনদ অস্বীকার করে (59:2 দেখুন) এবং ‛জিযিয়া’ দিতে চাইত না। অথচ ইহুদীরা মাদীনাহ রাষ্ট্রের গঠন ও সংবিধানে সাক্ষরকারী। কিন্তু তবুও তারা রাষ্ট্রের সুরক্ষায় জিযিয়া দিতে অনিচ্ছুক ছিল, আর না রাষ্ট্রের পক্ষে যুদ্ধ করত, বরং তারা রাষ্ট্রের শত্রুদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ছিল। তাই মাদীনাহর ইহুদী ও কিছু মুসলিমের মধ্যে গোপন সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, তারা রাষ্ট্র বিরোধী কর্মে লিপ্ত ছিল। এই সম্পর্কে কথা বলা হয়েছে 59:11 তে। আর ইহুদীরা যখন যে কোনও মূল্যে হোক, ট্যাক্স দিতে অস্বীকার করে, তখন তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়, 9:29 দেখুন।
নাবী (সা) কে ‛ওহী’ অনুসরণের নির্দেশ।
33:2 নং আয়াহ : অনুসরণ করুন তার, যা আপনার রব/ প্রভুর পক্ষ থেকে ওহী/ বার্তা প্রেরণ [7:3, 10:15] করা করা হয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই সমস্ত বিষয়ের জ্ঞান রাখেন, যে সমস্ত আমল/ কর্ম তোমরা যা করছো।
নির্ভরতা আল্লাহ উপর, উদ্ধার অবশ্যই করবেন।
33:3 নং আয়াহ : সুতরাং আল্লাহর উপর তায়াক্কুল/ নির্ভর করুন [65:3]। আর ওয়াকীল/ উদ্ধারকারী হিসাবে আল্লাহ যথেষ্ট [33:48, 3:173]।
স্ত্রী কখনও মা নয়, পালিত পুত্রও নিজের পুত্র নয়।
33:4 নং আয়াহ : আল্লাহ কাউকে দুটি মস্তিষ্ক দেন নি। আর না তোমাদের মধ্যে সেই স্ত্রীদেরকে তোমাদের মা বানিয়েছেন, যাদের সঙ্গে জ্বিহার [58:2-4] করা হয়েছে। আর না তিনি মুখে ডাকা পুত্রদেরকে তোমাদের পুত্র বানিয়েছেন। ওটা শুধু তোমাদের মুখের কথা, যা তোমরা বলে থাক। আল্লাহ সত্য বলেন এবং তিনিই পথ [76:3, 92:12] দেখান।
পিতৃ পরিচয় জানা না গেলে, যা করণীয়।
33:5 নং আয়াহ : তোমরা তাদেরকে তাদের পিতার সঙ্গে যুক্ত করে ডাকবে, ওটাই আল্লাহর কাছে অধিক ন্যায়পূর্ণ। কিন্তু যদি তোমরা তাদের আসল পিতৃ পরিচয় না জান, তাহলে তারা দীনের ভিত্তিতে তোমাদের ভাই [49:10) ও বন্ধু [9:72]। আর সেই বিষয়ে তোমাদের কোনও পাপ হবে না, যে বিষয়ে তোমরা (না জেনে) ভুল ত্রুটি করে ফেলেছ। কিন্তু যদি ইচ্ছাকৃতভাবে মস্তিষ্কের সংকল্প সহ কর (তাহলে পাপ হবে)। আর আল্লাহ গাফূর/ ক্ষমাশীল ও রাহীম/ করুণাময়।
# একটি হাদীশ- “কেউ যদি ব্যক্তি নিজ পিতাকে ছেড়ে অন্য কাউকে নিজ পিতা হিসেবে পরিচয় দেয়, অথচ সে জানে যে, এ ব্যক্তি তার পিতা নয়, তা হলে জান্নাত তার উপর হারাম হয়ে যাবে’’। (বুখারী, হাদীশ 4326)।
মূমীন ও নাবী, আনসার ও মুহাজির, বন্ধুত্ব প্রসঙ্গ।
33:6 নং আয়াহ : তাদের নিজেদের চেয়ে নাবীই তাদের অধিক (১) ওলী (কাছের মানুষ/ ঘনিষ্ঠ) এবং তাঁর স্ত্রীগণ তাদের (মূমীনদের) মা [33:53]। আল্লাহর কিতাব অনুযায়ি- মূমীনরা (আনসার/ মাদীনাহর মুসলিম) ও মুহাজিররা (মাক্কাহ থেকে আগত মুসলিম) অধিক ঘনিষ্ঠ [49:10] ‛গর্ভ সম্পর্কিত’ আত্মীয়দের থেকেও। এছাড়াও তোমরা তোমাদের আউলিয়া/ বন্ধুদের [43:67, 25:28] সঙ্গেও উত্তম আচার আচরণ [70:10, 69:35] বজায় রাখবে (২)। ওটা লিখিত রয়েছে কিতাবে মাসতূরে/ লৌহে মাহফুজ্বে।
১) হাদীশ- “তোমাদের কোনও ব্যক্তি মূমিন হতে পারে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, তার সন্তানসন্ততি ও সমস্ত মানুষের চাইতে বেশী প্রিয় হই” (বুখারী, হাদীশ 14)।
২) হাদীশ- “মানুষ তার বন্ধুর দীন/ রীতিনীতির অনুসারী হয় থাকে। সুতরাং তোমাদের প্রত্যেকেই যেন লক্ষ্য করে যে, সে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে” (আবুদাউদ, হাদীশ 4833)। ভিন্ন হাদীশ- “ভালো বন্ধুর উদাহরণ হল- আতর বিক্রেতার মতো, হয়ত তুমি তার আতর কিনবে অথবা না কিনলেও তুমি তার সুগন্ধি অবশ্যই পাবে” (বুখারী, হাদীশ 2101]।
প্রত্যেক নাবীর থেকে আল্লাহ অঙ্গীকার নিয়েছেন।
33:7 নং আয়াহ : আর (শুনুন সেই সময়ের কথা), যখন আমরা নাবীদের থেকে [3:81] এবং আপনার থেকে অঙ্গীকার [5:67] নিয়েছিলাম- নূহের থেকে, ইবরাহীম, মূসা ও ঈশা ইবনে মারইয়ামের থেকে। আমরা তাদের থেকে দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়েছিলাম [7:6, 42:13]।
সেই অঙ্গীকার সম্পর্কে আল্লাহ জিজ্ঞাসাও করবেন।
33:8 নং আয়াহ : যেন তিনি সত্যবাদীদেরকে তাঁদের সত্যবাদীতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারেন এবং কাফিরদের জন্য প্রস্তুত করে রাখবেন আযাবান আলীম/ কষ্টদায়ক শাস্তি।
# আসলে নাবী (সা) এটা আগেই জেনে যান যে, যায়েদ ও যাইনাব বিনতে জাহশ (রা) বিয়ে ভেঙে যাবে এবং নাবী (সা) কে তাঁর পালক পুত্রের ত্বালাক প্রাপ্তা স্ত্রীকে বিবাহ করতে হবে। নাবী (সা) সেই থেকে অপমানের ভয়ে ইসলাম প্রচার শিথিল করে দেন। উক্ত 33:7-8 সেই প্রসঙ্গে নাযিল হয়। বিস্তারিত 33:37 এ রয়েছে।
খন্দক যুদ্ধে আল্লাহ যে ‛দুটি অনুগ্রহ’ করেছিলেন।
33:9 নং আয়াহ : হে সম্মানিত আমানূ/ সত্য গ্ৰহণ করা মানুষ, আল্লাহর নিয়ামত/ অনুগ্রহ স্মরণ কর, যা তিনি তোমাদের উপর করেছেন, যখন শত্রু বাহীনি তোমাদের কাছে এসেছিল। তখন আমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রবল বেগে বাতাস (১) ও বাহিনী (২) পাঠিয়েছিলাম, যা তোমরা দেখতে পাও নি। আর আল্লাহ সেই সম্পর্কে দৃষ্টি রাখেন, যে সমস্ত আমল/ কর্ম তোমরা করছ।
১) নাবী (সা) বলেছেন- “আমাকে পূর্বের হাওয়া দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে। আর আদ জাতিকে পশ্চিমা হাওয়া দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে” (বুখারী, হাদীশ 3205)।
২) এখানে ‛বাহিনী’ বলতে ফেরেস্তাদের কথা বলা হয়েছে। এর আগেও বদর যুদ্ধে আল্লাহ ফেরেস্তা নামিয়ে মুসলিম বাহিনীকে সাহায্য করেছেন। দেখুন 3:124 ও 8:9 আয়াত সমূহ।
কুরাইজ্বা, কুরাইশ ও গাত্বফান গোত্রের মাদীনাহ আক্রমণ।
33:10 নং আয়াহ : যখন তারা তোমাদের বিরুদ্ধে উঁচু এলাকা ও নিঁচু এলাকা (১) থেকে এসেছিল। তখন তোমাদের চোখ সমূহ বিস্ফোরিত হয়েছিল (২) এবং তোমাদের কলব/ হৃতপৃণ্ড সমূহ পৌঁছেছিল তোমাদের কণ্ঠসমূহে (৩)। আর তখন তোমরা আল্লাহ সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করছিলে।
১) উঁচু এলাকা বলতে, বানূ কুরাইজ্বা গোত্রকে বোঝান হয়েছে। আর নিঁচু এলাকা বলতে, কুরাইশ ও গাত্বফান গোত্রের কথা বলা হয়েছে (ইবনে হিশাম, মিনা বুক হাউস, পৃষ্ঠা 665, বাংলাদেশ)।
২) ‛চোখ সমূহ বিস্ফোরিত’ বলতে কি?? এগুলো আরবি বাক রীতি/ প্রবাদ। যার অর্থ- কোনও লক্ষ্য উদ্দেশ্য খুঁজে না পাওয়া।
৩) ‛হৃতপৃণ্ড সমূহ পৌঁছেছিল তোমাদের কণ্ঠসমূহে’ বলতে কি?? এগুলো আরবি বাক রীতি/ প্রবাদ। যার অর্থ- মুখ থেকে কথা বের হচ্ছিল না।
# কী হয়েছিল, কেন আক্রমণ হল?? 59:2 ও 33:1 থেকে খানিকটা দেখে আসুন, আমি এখানে তারপর থেকে আলোচনা করব। বানু নাদ্বীর/ নাযীর গোত্র মাদীনাহ সনদ অস্বীকার করে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গিয়ে শত্রুদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে মাদীনাহ রাষ্ট্র ধ্বংস করার চেষ্টা করে, নাবী (সা) কে হত্যার পরিকল্পনাও করে। এই অপরাধে তাদেরকে মাদীনাহ হতে বিতাড়িত করা হয়। তারা মাদীনাহ থেকে বের হয়ে ‛খাইবার’ নামক স্থানে চলে যায়।
অন্য দিকে কুরাইশরা উহুদ যুদ্ধে জয়লাভ করে, তাদের মনোবল তখন খুবই উচ্চ। তারা ভাবে এই সুযোগে মাদীনাহ আক্রমণ করে ইসলাম ও মুসলিমদের চিরতরে ধ্বংস করে দেব। এদিকে বানু নাদ্বীর গোত্র মাদীনাহ থেকে বিতাড়িত হয়ে বদলা নেওয়ার জন্য উঠেপড়ে লাগে। শুরু হয় কাজ। বানু নাদ্বীর ও বানু ওয়াইল গোত্রের কয়েক জন, যেমন সালাম ইবনে আবুল হুকাইক (এর ডাক নাম ছিল আবু রাফে, যা আবু রাফে হত্যাকাণ্ড নামে পরিচিতি লাভ করে, বুখারীর 4039-4040 এ রয়েছে) মাদীনাহ থেকে বের হয়ে মাদীনাহ রাষ্ট্রের শত্রুদের একত্রিত করতে শুরু করে। এই জন্য আবু রাফে সহ বেশ কয়েকজন মাক্কাহ সফর করে, যুদ্ধের জন্য কুরাইশদেরকে উদ্ধুদ্ধ করে। ফলে সুত্রপাত হয় খন্দক যুদ্ধের। আর এই যুদ্ধে বানু কুরাইজ্বা গোত্র মাদীনাহর ভিতর থেকে কুরাইশ ও বানু গাত্বফান গোত্র কে সাহায্যের আশ্বাস দেয়। অতঃপর তারা মিলিত ভাবে মাদীনাহ আক্রমণ করে (ইবনে হিশাম, পৃষ্ঠা 643, মিনা বুক হাউস, বাংলাদেশ)। প্রশ্ন হবে- যুদ্ধের ফলাফল কী হয়েছিল?? 33:26-27 দেখুন।
খন্দক/ আহযাব যুদ্ধে মূমীনদের অবস্থা যেমন হয়েছিল।
33:11 নং আয়াহ : তখনই ছিল কঠিন মূমীনদের পরীক্ষা। আর প্রকম্পিত হয়েছিল, মারাত্মক কম্পনে প্রকম্পিত হয়েছিল।
মুনাফিকদের দু-দল যা বলছিল, করছিল।
33:12 নং আয়াহ : আর (শুনুন সেই সময়ের কথা), যখন মুনাফিকরা ও যাদের মস্তিষ্কে রোগ রয়েছে, তারা বলেছিল- “আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের ওয়াদা আমাদের জন্য প্রতারণা/ মিথ্যা ছাড়া ভিন্ন কিছু নয়” [47:29]।
মাদীনাহর পূর্ব নাম ছিল- ইয়াশরিব।
33:13 নং আয়াহ : আর (শুনুন সেই সময়ের কথা), যখন তাদের মধ্যে একদল বলেছিল- “হে ইয়াশরিব (১) বাসী, এখানে তোমাদের দাঁড়াবার জায়গা নয়, সুতরাং তোমরা ফিরে চলো”। তাদের মধ্যে অন্য দল নাবীর থেকে অব্যহতি চেয়ে বলেছিল- “আমাদের ঘর সমূহ অসুরক্ষিত”। অথচ তা (তাদের ঘর সমূহ) অসুরক্ষিত ছিল না। তারা শুধু ফারার/ পালিয়ে যেতে চাইছিল।
১) ‛ইয়াশরিব’ হল মাদীনাহর পূর্ব নাম। ইয়াশরিব শব্দের অর্থ ছিল- কুলক্ষণ। তাই নাবী (সা) এর নাম বদলে নাম রাখেন ‛মাদীনাহ তুন নাবী’ (নাবীর শহর)। ছোট করে বলা হয়- মাদীনাহ বা শহর। এটা ছিল নাবী (সা) এর চিরাচরিত অভ্যাস। খারাপ অর্থ যুক্ত নাম শুনলে, দেখলে তিনি নাম বদলে দিতেন (তিরমিযী, হাদীশ 2839)।
মুনাফিকরা যা করত, যদিও সেই সুযোগ হয় নি।
33:14 নং আয়াহ : আর যদি তারা তাদের (মূমীনদের) উপর দিয়ে তার (মাদীনাহর) চারিদিক দিয়ে প্রবেশ করতে পারত এবং তাদেরকে বিদ্রোহের জন্য আহ্ববান করত, তাহলে তারা তা করত। আর না তারা তার জন্য বিলম্ব করত।
মুনাফিকদের দু-দল ‛খন্দক যুদ্ধ’ থেকে পলায়ন করেছিল।
33:15 নং আয়াহ : যদিও অবশ্যই তারা এর পূর্বে আল্লাহ কে আল্লাহর সঙ্গে ওয়াদা/ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল যে, তারা (যুদ্ধক্ষেত্র) থেকে পিঠসমূহ ফিরিয়ে [8:15-16] চলে আসবে না। তবে অবশ্যই তারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত ওয়াদা/ প্রতিশ্রুতি বিষয়ে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে [17:34]।
মুনাফিকদেরকে ‛যে জবাব’ আল্লাহ দিতে বললেন।
33:16 নং আয়াহ : বলুন- “তোমরা যদি তোমাদের মৃত্যু বা হত্যা হতে ফারার/ পলায়ন করতে চাও, তাহলে তোমাদের ফারার/ পলায়ন তোমাদের কখনও উপকার করবে না [4:78, 62:8]। তবে তোমরা (জীবনকে) সামান্য কিছুদিন উপভোগ করতে পারবে, এ ছাড়া কিছুই নয়”।
33:17 নং আয়াহ : বলুন- “কে তোমাদেরকে আল্লাহ হতে রক্ষা করবে, যদি তিনি তোমাদের ক্ষতি [48:11] করতে ইরাদা/ ইচ্ছা রাখেন?? অথবা তিনি যদি রহমত/ অনুগ্রহ করতে [6:17, 10:107] চান (কে তা আঁটকাতে পারবে)?? আর তারা না আল্লাহ ছাড়া কোনও ওলী/ অভিভাবক পাবে , আর না পাবে নাসির/ সাহায্যকারী” [2:107, 29:22]।
মুনাফিকরা মূমীন/ মুসলিমদের ‛মৃত্যু ভয়’ দেখাচ্ছিল।
33:18 নং আয়াহ : অবশ্যই আল্লাহ জানেন তোমাদের মধ্যে যারা বাধাদানকারী [7:45, 11:19]। আর কারা তাদের ভাইদের [47:32] উদেশ্যে বলে- “চলে এস আমাদের সঙ্গে” [2:154-155, 3:168-169]। যদিও তাদের মধ্যে সামান্য কয়েকজনই (১) যুদ্ধ করতে এসেছিল।
১) এরা এসেছিল এই ভেবে যে, যদি মুসলিমরা জয়লাভ করে, তাহলে গণিমত লাভ (48:15) করব, আর যদি মুসলিমরা হেরে যায়, তাহলে শত্রুদের দলে যোগ দেব, মাদীনাহ থেকে ইসলাম ও মুসলিমদের উচ্ছেদ করে দেব। উল্লেখ রয়েছে 33:14 তে।
মুনাফিকরা মূমীন/ মুসলিমদের সম্পর্কে খারাপ ধারণা রাখত।
33:19 নং আয়াহ : তারা তোমাদের ব্যাপারে সংকীর্ণতা/ খারাপ ধারণা রাখে। অতঃপর যখন তাদের কাছে আসে খওফ (ভয়/ বিপদ), তখন আপনি দেখবেন- “তারা আপনার দিকে তাকাচ্ছে মৃত্যু ভয় [4:77, 47:20] নিয়ে ও তাদের চোখ গুলোয় ছেয়ে গেছে অবসতা [9:86, 9:90]। অতঃপর যখন চলে যায় খওফ (ভয়/ বিপদ), তখন তারা আপনাদের সঙ্গে মিলিত হয় লোভ লালসা পূরণ করার জন্য ‛মিষ্টি লিসান/ ভাষা’ নিয়ে [48:15]। তারা মূমীন নয়। আল্লাহ তাদের আমল/ সৎকর্ম সমূহ ধ্বংস করে দেবেন [47:9, 47:32]। আর ওটা আল্লাহর জন্য খুবই সহজ।
মাদীনাহকে যেভাবে রক্ষা করা হয়েছিল, তা ছিল অন্যন্য।
33:20 নং আয়াহ : তারা ভাবছে- “আহযাব/ শত্রু গোত্র গুলো চলে যায় নি” (১)। এবং (সত্য জানার পর) ভাববে- “যদি আবার আহযাব/ শত্রু গোত্র গুলো ফিরে আসে, যদি তারা সেখানে বসে আরব (মরুবাসী) দেরকে তোমাদের সংবাদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে পারত”! আর যদি তারা তোমাদের মধ্যে থাকত, তবুও তারা অতি অল্পই যুদ্ধ করত।
১) মানে, এখানে বলা হচ্ছে- “মুনাফিকরা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে চলে যাওয়ার পর মুসলিমরা বিজয় লাভ করে। তখন মুনাফিকরা যা ভাবছিল, আল্লাহ এখানে সেটা তুলে ধরেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হবে- কিভাবে মাদীনাহকে রক্ষা করা হয়েছিল এমন মহা সংকট থেকে?? মুসলিমরা পরিকল্পনা করে যে, কুরাইশ বাহিনীকে মাদীনাহতে ঢুকতে দেওয়া হবে। এজন্য পরিখা/ খাল খনন শুরু করা হল। প্রায় 3 হাজার মুসলিম, যাতে ছিল আনসার ও মুহাজির (33:6, 49:10) কঠোর পরিশ্রম করে প্রায় 1 সপ্তাহের মধ্যে পরিখা/ খাল খননের কাজ শেষ করলেন। খনন শেষ হতে না হতেই কুরাইশরা 10 হাজার বাহিনী মাদীনার উপকণ্ঠে এসে উপস্থিত হল, তাদের মধ্যে 600 ঘোড়া ও উট ছিল। কিন্তু তারা মদিনা রক্ষার অভিনব কৌশল দেখে তারা হতভম্ব হয়ে গেল।
কিন্তু প্রশ্ন হবে- পরিখা/ খাল খননের মতো এমন কঠিন সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হয়েছিল?? কারণ, 3 দিকে পাহাড় ও খেজুর বাগান দ্বারা ঘেরা ছিল মাদীনাহ, যা প্রাকৃতিক ভাবে সুরক্ষিত দূর্গের মত ছিল। শুধু উত্তর দিকেই খোলা ছিল। যে দিক দিয়ে কুরাইশরা আক্রমণ করতে পারত। নাবী (সা) সিদ্ধান্ত নেন “এখানে পরিখা/ খাল খনন করা হবে”। যা লম্বায় ছিল 7500 ফুট, চওড়া 14 ফুট এবং গভীরতা 15 ফুট। প্রতি 10 জন মুসলিমকে 60 ফুট খননের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। এতে কুরাইশ বাহিনী যুদ্ধ করা তো দূরের কথা, মাদীনাহতে ঢুকতেই পারে নি। ঢুকলে তবে তো যুদ্ধ!
তারপর?? কুরাইশ বাহিনী আসে, তবে মাদীনাহর ভিতরে ঢুকতেই পারে নি। তারা প্রায় 1 মাস মাদীনাহ অবরোধ করে প্রায়। যত দিন এগোচ্ছে তাদের মনোবল তত কমছে। আবার খাদ্যের সংকট দেখা দিতে শুরু করে। কারণ 10 হাজার মানুষের খাদ্যের জোগান দেওয়া খুব কঠিন। তার উপর ছিল মারাত্মক শীত। তার উপর আল্লাহর সাহায্য। মারাত্মক ঝড় আসে, যা শীতের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। কুরাইশ বাহিনী ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। যুদ্ধ না করেই মুসলিম বাহিনী বিজয় লাভ করে। তারপর কী হল?? 33:26 দেখুন।
যার জন্য নাবী (সা) এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।
33:21 নং আয়াহ : অবশ্যই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ। তার জন্য, যে আশা রাখে আল্লাহ ও শেষ (বিচারের) দিনে এবং আল্লাহর যিকির/ বিধান অধিক পরিমাণে পালন করে।
মূমীনরা মুনাফিকদের বিপরীত বৈশিষ্ট্যর অধিকারী।
33:22 নং আয়াহ : আর যখন মূমীনরা দেখল, শত্রুদের আহযাব (দল/ গোত্র গুলো)। তখন তারা বলল- “এটাই তো ওয়াদা/ প্রতিশ্রুতি ছিল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের [29:1, 47:31]। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সত্যই [2:155] বলেছিলেন। তবে তাদের যাদা/ বৃদ্ধি হল- ইমান/ বিশ্বাস ও তাসলীমা/ আনুগত্য।
# মূমীনরা মুনাফিকদের বিপরীত বৈশিষ্ট্যর অধিকারী, এটা বুঝতে 33:12 থেকে ঘুরে আসুন।
‛শহীদ হওয়ার জন্য অপেক্ষা’ মূমীনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
33:23 নং আয়াহ : মূমীনদের মধ্যে কিছু আল্লাহর সঙ্গে যে ওয়াদা/ প্রতিশ্রুতি ছিল, তা সত্য প্রমাণ করে দেখিয়েছে [8:15]। তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাদের সিদ্ধান্তে ব্রত ছিল (না পালিয়ে শহীদ হয়েছে)। আর কেউ কেউ (শহীদ হওয়ার) অপেক্ষায় আছে [3:170, 4:74]। আর না তারা সংকল্প পরিবর্তন করেছে, সামান্য পরিবর্তনও নয়।
# হাদীশ- “কোনও বান্দা মৃত্যু বরণ করে, আল্লাহর কাছে তার প্রতিদান রয়েছে, তারপর তাকে ইহজীবনের সমস্ত কিছু দিয়ে দিলেও ইহজীবনে ফিরে আসতে আগ্রহী হবে না। তবে শহীদের বিষয়টি ভিন্ন। শহীদ ফিরে আসতে চাইবে, সে এজন্য ফিরে আসতে চাইবে, যেন সে আবারও শহীদ হতে পারে” (বুখারী, হাদীশ 2795)।
33:24 নং আয়াহ : যেন আল্লাহ স্বাদিক/ সত্যবাদীদের তাদের সত্যবাদীতার জন্য জাযা/ প্রতিদান দিতে পারেন। আর মুনাফিক (যাকাত অস্বীকার ও যুদ্ধক্ষেত্র হতে পলায়নকারী) দের চাইলে শাস্তি দিতে বা ক্ষমা করতে পারেন [9:80, 63:6]। নিশ্চয়ই আল্লাহ গাফূর/ ক্ষমাশীল, রাহীম/ করুণাময়।
বানু কুরাইজ্বা গোত্র তাদের ষড়যন্ত্রে বিফল হল।
33:25 নং আয়াহ : আর আল্লাহ কাফির/ মাদীনাহ সনদ অস্বীকারকারীদের ইহুদীদের ক্রুদ্ধ অবস্থায় ফিরে যেতে বাধ্য (১) করলেন, তারা কোনও কল্যাণই লাভ করতে পারল না। মূমীনদের জন্য যুদ্ধে আল্লাহ যথেষ্ট [4:45, 65:3]। কেননা, আল্লাহ শক্তির উৎস [67:1], শক্তিশালী।
১) আসলে মাদীনাহর ভিতরের ইহুদী বানু কুরাইজ্বা গোত্র মাক্কাহর কুরাইশ বাহিনীকে সাহায্যের জন্য তৈরি হয়েছিল, প্রতিশ্রুতিবদ্ধও ছিল। কিন্তু কুরাইশ বাহিনী তো মাদীনাহতে ঢুকতেই পারে নি (33:9 ও 33:20 এর টিকা দেখুন)। তাই বানু কুরাইজ্বা গোত্র কুরাইশ বাহিনীতে এসে যোগ দিতেই পারে নি। এখানে সেটাই বলা হচ্ছে।
বানু কুরাইজ্বা হত্যাকাণ্ড ও তার কারণ।
33:26 নং আয়াহ : আহলে কিতাব/ ইহুদীদের মধ্যে যারা তাদের (মাক্কাহর মুশরিকদের) কে সাহায্য করেছিল, তিনি (আল্লাহ) তাদেরকে নামালেন তাদের দূর্গ সমূহ হতে এবং তিনি (আল্লাহ) তাদের মস্তিষ্কে ভীতি সঞ্চার (১) করলেন। তাদের মধ্যে একটি ফিরকা/ দলকে তোমরা হত্যা করেছ, অপর ফিরকা/ দলকে তোমরা বন্দী করেছ।
১) এটা ইসলাম বিদ্বেষীদের সবচেয়ে পছন্দের বিষয়, যা দিয়ে তারা ইসলামকে মানুষের চোখে খারাপ দেখাতে পারে। কি হয়েছিল?? চলুন বলি, একটু মনোযোগ দিন। প্রথমে 33:1 ও 33:10 দেখে আসুন, আমি তারপর থেকে বলব। মাদীনাহ 70-72 টি ইহুদী গোত্র মুসলিমদের সঙ্গে মিলে মাদীনাহ রাষ্ট্রের গঠন ও সংবিধান তৈরিতে সহমত হয়ে সংবিধান মেনে চলার জন্য সংবিধানে সাক্ষর করে। কিন্তু তারা সংবিধান অস্বীকার করে, শত্রুপক্ষকে সাহায্য করে। এদের মধ্যে বানু কুরাইজ্বাও ছিল।
এই অপরাধের বিচার জরুরি ছিল। কেননা, এটা সুস্পষ্ট দেশদ্রোহী ছিল। যদিও নাবী (সা) শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে চান নি, তারা যে সংবিধান অস্বীকার করেছে, সেটা নাবী (সা) নিশ্চিত করে তবেই তাদের বিচার চেয়েছেন। ইবনে হিশামে বিষয়টি এভাবে এসেছে- “বানু কুরাইজ্বার সংবিধান অস্বীকারের সত্যতা জানতে নাবী (সা) সাদ ইবনে মুয়ায (রা) এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলকে বানু কুরাইজ্বা গোত্রের কাছে পাঠান। তারা সত্য জানতে চাইলে, বানু কুরাইজ্বার নেতা কাব ইবনে আসাদ বলে : রাসূল আবার কে! ঐ মুহাম্মাদের সঙ্গে আমাদের কোনও সন্ধি নেই (পৃষ্ঠা 648, মিনা বুক হাউস, বাংলাদেশ)।
তারপর?? নাবী (সা) তাদের বিচার চাইছিলেন, সম্ভবত তাদেরকে নির্বাসন দিতে চাইছিলেন। কেননা, ইতিপূর্বে দুই ইহুদী গোত্রকে সংবিধান অস্বীকার ও দেশদ্রোহীতার জন্য নির্বাসনই দেওয়া হয়েছিল (59:3 ও 59:15 এর টিকা দেখুন)। কিন্তু বানু কুরাইজ্বা গোত্রের সবাই তাদের দুর্গ গুলোর ভিতরে অবস্থান নেয়। অন্যদিকে নাবী (সা) দুর্গ গুলো অবরোধ করেন প্রায় 25 দিন। বুখারীর 4117-4118 হাদীশ দেখে আসতে পারেন।
অবশেষে তারা চরম সংকটের মধ্যে পড়ে এবং দুর্গ থেকে বের হওয়ার জন্য রাজি হয়। নাবী (সা) বিচার করতে চাইলে তারা নাবী (সা) এর বিচার অস্বীকার করে। তারা প্রস্তাব দেয়- “সাদ ইবনে মুয়ায যদি বিচার করে, তাহলে আমরা মেনে নেব”। সাদ ইবনে মুয়ায (রা) খন্দক যুদ্ধে কুরাইশ দের তীরের আঘাতে আহত হয়েছিলেন। তিনি মাসজিদে নববীতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর কাছে খবর পাঠান হল যে, বানু কুরাইজ্বা তাদের অপরাধের জন্য তাঁর বিচার চায়।
সাদ (রা) গেলেন। যাওয়ার পর তিনি নাবী (সা) এবং বানু কুরাইজ্বা গোত্রের সবাইকে উদেশ্য করে বললেন- “দুই পক্ষ কী আমার রায় মেনে নেবে”?? বলা হল- অবশ্যই। তারপর সাদ (রা) ইবনে মুয়ায রায় ঘোষণা করলেন- “ বানু কুরাইজ্বা গোত্রের প্রাপ্ত বয়স্ক সমস্ত পুরুষদেরকে হত্যা করা হবে এবং তাদের নারীদেরকে মুসলিমরা শ্রমিক হিসাবে ব্যবহার করবে। তখন রাসূল বললেন : তাদের ব্যাপারে ‛তোমার মত’ সম্পূর্ণ ‛আল্লাহ মতের অনুরূপ’ হয়েছে। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের সংখ্যা 400 ছিল” (তিরমিযী, হাদীশ 1582)।
মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের সংখ্যা কত ছিল, তা নিয়ে ইবনে হিশামে বিস্তর মতভেদ রয়েছে। বলা হয়েছে- 600 থেকে 900 মতো। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ তিরমিযীর হাদীশ ইবনে হিশামের বর্ণনার শক্তিশালী বর্ণনা হিসাবে গণ্য করেছেন। প্রশ্ন হবে- নাবী (সা) কেন বললেন যে, “বানু কুরাইজ্বা গোত্রের যে বিচার করা হয়েছে, তা আল্লাহর বিচারের অনুরূপ”?? কারণ, তাদের বিচার হয়েছিল তাওরাত/ বাইবেল মুতাবিক। বাইবেলে এই শাস্তিই উল্লেখ রয়েছে। কোথায়?? Deuteronomy, 20:13-14 ও Numbers, 31:7-10 এ। এজন্য নাবী বলেছেন- “সাদের বিচার আল্লাহর বিচারের অনুরূপ”।
একটা প্রশ্ন- বানু কুরাইজ্বা গোত্র কুরাইশদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ছিল, এর প্রমাণ কোথায়?? আর কেন তারা কুরাইশদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ছিল?? আর তারা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল, এর প্রমাণ কোথায়?? চলুন, এই 3 টি বিষয়ে প্রমাণ দিই। A) তারা কুরাইশদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ছিল, এর প্রমাণ রয়েছে ইবনে হিশামের 658 পৃষ্ঠাতে। B) কারণ একটাই ইহুদীরা রাষ্ট্রকে সাহায্য করত না, এর বদলে জিজিয়াও দিত না। যখন ইহুদী গোত্র বানু নাদ্বীর শত্রুদের সঙ্গে হাত মেলায়, যে অপরাধে তাদেরকে মাদীনাহ হতে বিতাড়িত করা হয়, তখন বানু কুরাইজ্বা গোত্র চাপে পড়ে জিযিয়া দিতে সম্মত হয় (আবুদাউদ, 3004)। তারা সুযোগ খুঁজছিল। যখন মাদীনাহ রাষ্ট্রের শত্রুরা শক্তিশালী বাহিনী তৈরি করে, তাদের সামনে মাদীনাহ রাষ্ট্র দুর্বল হয়ে পড়ে, ঠিক তখনই ইহুদীরা জিযিয়া থেকে বাঁচার উপায় হিসাবে এই সুযোগটা ছাড়তে রাজি ছিল না। তারা মাদীনাহ সনদ অস্বীকার করে রাষ্ট্রের শত্রুদের সঙ্গে হাত মেলায়। C) মুসলিমদের নিঃশেষ করে ফেলার জন্য তারা 1500 তরবারী, 2 হাজার বর্শা, যুদ্ধে ব্যবহারোপযোগী 300 লৌহবর্ম এবং 500 প্রতিরক্ষা ঢাল সংগ্রহ করে রেখেছিল। পরবর্তীতে সেগুলো মুসলিমদের অধিকারে আসে (সীরাত উন নাবী, ড. সাল্লাবী, খণ্ড 3, পৃষ্ঠা 65, কালান্তর প্রকাশনী, বাংলাদেশ)।
বানু কুরাইজ্বার গণিমত, মুসলিম সম্রাজ্য বিস্তারের ভবিষ্যৎ বাণী।
33:27 নং আয়াহ : তিনি তোমাদেরকে ওয়ারিশ বানালেন তাদের জমিজমা, তাদের বাড়িঘর ও তাদের ধনসম্পদের (১)। আর দেশ/ দেশ সমূহের মালিক করে দেবেন, যেখানে তোমরা এখন পা রাখার সাহস কর না। কেননা, আল্লাহ হলেন সমস্ত কিছুর উপর কাদীর/ ক্ষমতাবান।
১) আমি আর এখানে বিস্তারিত লিখছি না। বিস্তারিত রয়েছে বুখারীর 4122 নং হাদীশে। আরও দেখতে দেখতে পারেন ইবনে হিশামের 664 পৃষ্ঠা।
নারীদের/ নাবী (সা) এর স্ত্রীদের ‛ডিভোর্স দেওয়ার’ অধিকার।
33:28 নং আয়াহ : হে সম্মানিত নাবী, আপনার স্ত্রীদের বলুন- “যদি তোমরা চাও : ইহজীবন ও সেই মুতাবিক চাকচিক্যতা, তাহলে আমি তোমাদেরকে রাখার জন্য অপারগ, সৌজন্যতা রেখে/ মর্যাদাপূর্ণ ভাবে তোমাদেরকে ছেড়ে দিতে বাধ্য (১)।
১) বাধ্য মানে কি?? বাধ্য মানে, বাধ্য। বুঝিয়ে বলি, যদি কোনও বিবাহিত মুসলিম নারী যদি এতটুকু বলে- “আমি তোমার সঙ্গে থাকব না/ সংসার করব না”। তাহলেই ঐ ‛নারী মুক্ত’। অর্থাৎ পুরুষ যদি ত্বালাক দিতে চায়, তার প্রসেস খুবই কঠিন ও লম্বা। কিন্তু নারী যদি স্বামীর সঙ্গে থাকতে/ সংসার করতে না চায়, তাহলেই ডিভোর্স। আর পুরুষ কী ভাবে ত্বালাক দেবে, তা রয়েছে 65:1 এ।
দলিল! দেব, এবার একটা ঘটনা শোনাই- নাবী (সা) এর যুগে বারীরাহ (রা) নামের একজন নারী ছিল। তার স্বামী ছিল মুগীশ। তারা দুজনেই দাস ছিলেন, তারা দাসদাসী থাকা অবস্থাতেই তাদের বিবাহ হয়। কিন্তু আইশাহ (রা) বারীরাহ (রা) তার মালিকের থেকে কিনে মুক্ত করে দেন। মুক্ত হওয়ার সঙ্গেই বারীরাহ (রা) তার স্বামীর সঙ্গে থাকা বা না থাকার স্বাধীনতা পান (দাসী অবস্থায় এই স্বাধীনতা থাকে না)। স্বাধীনতা পেয়েই বারীরাহ (রা) তার স্বামী মুগীশ (রা) এর সঙ্গে থাকতে অপছন্দ করলেন। এতেই ডিভোর্স হয়ে গেল (বুখারী, হাদীশ 5281-5283)।
দলিল হিসাবে এতটুকু যথেষ্ট। তবে আর খানিকটা উল্লেখ করি। বারীরাহ (রা) মুগীশ (রা) কে ডিভোর্স দেয়। মুগীশ (রা) এর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। মুগীশ (রা) বারীরাহ (রা) কে ছাড়তে নারাজ। মাদীনাহর অলিগলিতবে মুগীশ (রা) বারীরাহ (রা) এর পিছনে পিছনে ঘুরছে ও কাঁদছে। তাঁর ছোখের পানিতে তাঁর দাড়ি ভিজে গেছে। দাড়ি বেয়ে বেয়ে পানি পড়ছে। ঘটনাটা দেখে নাবী (সা) এর খুব মায়া হল। তখন নাবী বারীরাহ (রা) কে ডেকে বললেন- “তুমি মুগীস (রা) এর সঙ্গে সংসার করতে পারতে তো”?? তখন বারীরাহ (রা) বললেন- “এটা কি আপনার আদেশ?? তা হলে তা মানতে আমি বাধ্য”। নাবী (সা) বললেন- “না, তা শুধু সুপারিশ”। বারীরাহ (রা) বললেন- “আমার কাছে মুগীশ (রা) অপ্রয়োজনীয়”।
এখানে শিক্ষনীয় বিষয়- একজন মুসলিম নারীর থেকে ডিভোর্স দেওয়ার অধিকার কোনও ভাবে কেড়ে নেওয়া যাবে না। নাবী (সা) নিজেও মুসলিম নারীর ডিভোর্স দেওয়ার অধিকারের মাঝখানে আসেন নি। কিন্তু আমরা এই অধিকার নারীর থেকে কেড়ে নিয়েছি…।
নারীদের/ নাবী (সা) স্ত্রীদের মহা প্রতিদান পাওয়ার উপায়।
33:29 নং আয়াহ : আর যদি তোমরা চাও আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও আখিরাতের দার/ পরবর্তী জীবনের ঘর, তাহলে আল্লাহ তার জন্য প্রস্তুত করে রাখবেন আজরান আজ্বীম/ মহা প্রতিদান [4:74, 4:95], তোমাদের মধ্যে যে মুহসিনাত/ সৎকর্মশীলা হবে, (তার জন্য)”।
নাবী (সা) এর স্ত্রীদের দ্বিগুণ পুরষ্কার/ শাস্তি ঘোষণা।
33:30 নং আয়াহ : (হে) নাবীর স্ত্রীগণ, যদি তোমাদের মধ্যে কেউ করে বসে সুস্পষ্ট আপত্তিজনক কর্ম করে, তাহলে সেই জন্য তাকে দ্বিগুণ শাস্তি দেওয়া হবে। আর ওটা আল্লাহর জন্য খুবই সহজ।
# আমরাও কি দ্বিগুণ শাস্তি পেতে পারি?? অবশ্যই পতে পারি, দেখুন 7:38 ও 33:68 আয়াত।
33:31 নং আয়াহ : তবে তোমাদের মধ্যে যে কেউ মান্য করবে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে এবং সৎকর্ম করবে, তাহলে তাকে দেওয়া হবে দ্বিগুণ আজরা (পুরষ্কার/ প্রতিদান) এবং তার জন্য থাকবে সম্মানজনক রিযিক/ জীবিকা।
# সাধারণ মূমীন মুসলিমরা দ্বিগুণ প্রতিদান/ পুরষ্কার পাবে না?? পাবে, 4:40 দেখুন।
নাবী (সা) এর স্ত্রীদের জন্য ‛বিশেষ’ নির্দেশ নির্দেশনা।
33:32 নং আয়াহ : (হে) নাবীর স্ত্রীগণ, তোমরা সাধারণ নারীদের মতো নও। কেননা, তোমরা তাকওয়া (অপ্রয়োজনীয় কর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বনকারী [33:1, 33:55]। সুতরাং আপনারা অপ্রয়োজনীয় কথা বলবেন না। তাহলে অন্যরা ভুল শিক্ষা পাবে, যাদের মস্তিষ্কে রোগ রয়েছে। তোমরা শুধু মারূফ (উচিৎ/ ন্যায় সঙ্গত) কথাই বলবে।
33:33 নং আয়াহ : আর আপনারা আপনাদের ঘর সমূহের ভিতরে অবস্থান (১) করবে এবং জাহেলিয়াতিল ঊলা/ পূর্বে মূর্খতা বশত যেভাবে নিজেদের উচ্চ দেখাতেন, সেভাবে উচ্চ দেখাবেন না [52:32, 4:49]। স্বালাত/ আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা করুন, যাকাত/ সংশোধিত রূপ [91:9, 87:14] উপহার দিন। মূলত আল্লাহ এটাই চান যে, তোমাদের অর্থাৎ ‛আহলে বাইত’দের (২) থেকে যাবতীয় রিজসা/ খারাপ গুণ দূর করতে ও তোমাদেরকে পরিপূর্ণ ত্বাহিরা/ দোষত্রুটিহীন করতে ।
১) অনেকেই এই অংশটুকু দেখিয়ে মুসলিম নারীদের ঘরে বন্দী থাকার ফতোয়া দেন। কিন্তু এখানে পরিষ্কার ভাবে বলা হচ্ছে- “এই বিধান শুধু নাবী (সা) এর স্ত্রীদের জন্য”। আর এই বিধান দেওয়ার অন্যতম কারণ ছিল, যাতে কেউ নাবী (সা) এর স্ত্রীদের উপর কোনও অপবাদ দিতে না পারে। যেমন আইশাহ (রা) এর উপর অপবাদ দেওয়া হয়েছিল (24:10-16, 24:23)। আর এই উদ্দেশ্যও ছিল যে, নাবী (সা) এর স্ত্রীদেরকে শত্রু পক্ষের কেউ বন্দী করে মুসলিম পক্ষকে দুর্বল করতে না পারে।
অনেকে আবার ঐ হাদীশ গুলো তুলে নিয়ে এসে মুসলিম নারীদের ‛একা/ মাহরাম ছাড়া’ বাইরে বের হওয়াকে হারাম ঘোষণা করে দেন, যেখানে নারীদেরকে “1 দিন, 2 দিন, 3 দিন, কোথাও একা/ মাহরাম ছাড়া সফর করতেই নিষেধ করা হয়েছে” (বুখারী, 1862) আর এর পিছনেও কারণ ছিল- মুসলিম নারীদেরকে শত্রু পক্ষের কেউ বন্দী করে মুসলিম পক্ষকে দুর্বল করতে না পারে। তবে মুসলিম নারী একাই বাইরে যেতে পারবে, শুধু দেশ নয়, বিদেশেও যেতে পারবে, হাদীশ রয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে- “একদিন মুসলিম সম্রাজ্য এতটা সুরক্ষিত হয়ে যাবে যে, ইরাক থেকেও মুসলিম নারী ‛একা’ হজ করতে আসবে এবং সে আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করবে না” (বুখারী, হাদীশ 3595)। তারমানে, একা/ মাহরাম ছাড়া মুসলিম নারীদের ভ্রমণকে নিষেধ করার কারণ ছিল নারীদের সুরক্ষা। তাই যখন সুরক্ষা ছিল না, তখন নিষেধ করা হয়েছিল, সুরক্ষিত হওয়ার পর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।
২) আহলে বাইত কারা?? আলী, ফাতিমা, হাসান ও হুসাইন (রা)- এটা ভুল। আহলে বাইত শব্দের অর্থ হল- ঘরের বাসিন্দা। আর আলী, ফাতিমা, হাসান ও হুসাইন (রা) গণ নাবী (সা) এর ঘরের বাসিন্দা ছিলেন না। নাবী (সা) এর ঘরের বাসিন্দা ছিলেন তার স্ত্রীগণ, এখানে তাদেরই ‛আহলে বাইত’ বলা হয়েছে। আর কুরআনের অন্যত্রেও স্ত্রীকেই ‛আহলে বাইত’ বলা হয়েছে। কোথায়?? 11:73 এ।
ইসলামী বিধানের উৎস দুটি, কুরআন ও হাদীশ।
33:34 নং আয়াহ : আর বিধান গ্ৰহণ কর আল্লাহর আয়াত গুলো থেকে, যা তোমাদের ঘর গুলোতে তিলাওয়াত করা হয় এবং হিকমা (১) থেকেও [2:231, 40:70]। নিশ্চয়ই আল্লাহ সুক্ষ্মদর্শী ও সমস্ত বিষয়ের জ্ঞান রাখেন [22:63, 31:16]।
১) ইসলামী বিধানের উৎস দুটি, তা- কুরআন ও হাদীশ। এখানে হিকমা বলতে, হাদীশের কথাই বলা হয়েছে। নাবী রাসূলদের কাছে শুধু কিতাব নাযিল হয় নি (57:25 ও 42:17)। দাবি করা হয়- “হাদীশ তো পরে লেখা”। এর খণ্ডন রয়েছে 46:4 তে। এমনকি নাবী (সা) এর কাছেও শুধু কিতাব/ কুরআন নাযিল হয় নি (4:113)।
ইসলামে নারী ও পুরুষ একে অপরের সমান।
33:35 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই মুসলিম পুরুষরা ও মুসলিমা নারীরা, মূমীন পুরুষরা ও মূমীনা নারীরা, অনুগত পুরুষরা ও অনুগতা নারীরা, সত্যবাদী পুরুষরা ও সত্যবাদীনি নারীরা, ধৈর্য্যশীল পুরুষ ও ধৈর্য্যশীলা নারীরা, নম্র পুরুষরা ও নম্র নারীরা, দানশীল পুরুষরা ও দানশীলা নারীরা, রোজা পালনকারী পুরুষ ও রোজা পালনকারী নারীরা, যৌনাঙ্গের হেফাজতকারী পুরুষরা ও যৌনাঙ্গের হেফাজতকারীনি নারীরা, আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণকারী পুরুষরা ও স্মরণকারীনি নারীরা, আল্লাহ তাদের জন্য প্রস্তুত করে রাখবেন মাগফিরাত/ ক্ষমা ও আজরান আজ্বীম/ মহা প্রতিদান [4:40, 7:74]।
# সুবিধার জন্য অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু রেফারেন্স নং দিয়ে রাখলাম, চেক করতে পারেন- 4:124, 16:97, 40:40 আয়াত, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আয়াহ 3:195, যা আপনাকে অবাক করবে।
ইসলামে মূমীন নারী/ পুরুষের স্বাধীনতা কতটুকু??
33:36 নং আয়াহ : আর কোনও মূমীন পুরুষ, মূমীনা নারীর এই স্বাধীন [4:65] অধিকার থাকে না, যখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল [49:1, 24:63] কাজী হয়ে তাদের জন্য বিচার [8:21, 24:51] করে দেন। আর যে অমান্য করবে, সে সুস্পষ্ট পথভ্রষ্ট বলে গণ্য হবে [39:33]।
# মানে, যতক্ষণ আপনি আল্লাহ বা রাসূলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে না যাচ্ছেন, ততক্ষণ আপনি স্বাধীন। যেমন ধরুন, আমি কুরআনের তাফসীর/ ব্যাখ্যা করছি, যতটা ব্যাখ্যা আল্লাহ ও রাসূল দিয়েছেন, ততটা হুবহু রাখতে হবে। তবে হ্যাঁ, এর বাইরে আমি স্বাধীন। তবে কুরআনের Basic Structure এর বিরুদ্ধে গেলে, বিষয়টি ভিন্ন। তখন আমাকে থামতে হবে।
পালিত পুত্রের ডিভোর্সী স্ত্রীকে বিবাহ, বিতর্ক ও বিরাম।
33:37 নং আয়াহ : আর যখন আপনি তাকে বলেছিলেন, যাকে আল্লাহ নিয়ামত/ অনুগ্রহ করেছেন এবং আপনি নিয়ামত/ অনুগ্রহ (১) করেছেন- “তুমি তোমার স্ত্রীকে (২) বিবাহ বন্ধনে রাখ এবং আল্লাহর জন্য তাকওয়া (অপচিন্তা হতে দূরত্ব) অবলম্বন কর”। অথচ আপনি আপনার সত্ত্বার মধ্যে গোপন রেখে ছিলেন তা, যা আল্লাহ (আগেই আপনাকে) জানিয়ে দিয়ে ছিলেন (৩)। এজন্য যে, আপনি মানুষকে ভয় করছিলেন, অথচ উচিৎ যে, আপনি তাঁকে (আল্লাহকে) ভয় করবেন। অতঃপর যখন ‛যায়েদ’ সিদ্ধান্ত নিলেন তার (স্ত্রীর সঙ্গে) প্রয়োজন শেষ করলেন, তখন আমরা আপনার সঙ্গে তার বিয়ে (৪) দিলাম। তা এজন্য, যেন মূমীনদের কোনও সংশয়/ বিঘ্ন না থাকে ‛পালিত পুত্ররা তাদের স্ত্রীর সঙ্গে প্রয়োজন শেষ করলে, তাদের বিবাহ করায়’। আর আল্লাহর সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে বাধ্য।
১) যাকে বলতে, কাকে! যায়েদ (রা), এখানে তাঁর নামও রয়েছে। তিনি একমাত্র সাহাবা, কুরআনে যার নাম রয়েছে। অনুগ্রহ বলতে! যায়েদ (রা) ছিলেন নাবী (সা) এর প্রথম স্ত্রী খাদীজা (রা) এর দাস। নাবী (সা) খাদীজা (রা) কে খাদীজা (রা) এর প্রস্তাবে বিবাহ করেন। খাদীজা (রা) কে নাবী (সা) 20 টি তরুণ উট মোহরানা দেন। সেই সময়ের অন্যতম ধনী ও ব্যবসায়ী মহিলা ছিলেন খাদীজা (রা)। খাদীজা (রা) নাবী (সা) কে বিবাহ করার আগে 3 বার বিবাহ জীবনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। খাদীজা (রা) এর ভাইপো/ ভাগ্নে যায়েদ (রা) কে উকাজ বাজার থেকে কিনে খাদীজা (রা) কে উপহার দেন (ইবনে হিশাম, পৃষ্ঠা 122, বাংলাদেশ, মিনা বুক হাউস)।
নাবী (সা) যায়েদ (রা) ইবনে হারেশাকে মুক্ত করে দেন, কিন্তু নিজের কাছে রেখে দেন। একদিন যায়েদ (রা) পিতা ও চাচারা খবর পান, যায়েদ মাক্কহতে আছেন। তারা তাকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য মাক্কহতে আসেন। তারা নাবী (সা) কে প্রস্তাব দেন- “আপনি যত সম্পদ চান নিন, আমাদের পুত্র আমাদেরকে ফিরিয়ে দিন”।
নাবী (সা) যায়েদ (রা) কে বলেন- “তুমি চাইলে তোমার পিতা ও চাচাদের কাছে ফিরে যাও, আমার কোনও আপত্তি নেই”। যায়েদ (রা) বলেন- “আমি আপনাকে পছন্দ করলাম, পিতা ও চাচাদের সঙ্গে যেতে চাই না”। তাঁর উত্তর শুনে তাঁর পিতা বলেন- “তুমি স্বাধীন জীবন বাদ দিয়ে গোলামী পছন্দ করলে”?? যায়েদ (রা) বলেন- “আমি তাঁর (মুহাম্মাদের) মধ্যে এমন সৌন্দর্য্য দেখেছি যে, তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে গ্ৰহণ করা আমার জন্য সম্ভব নয়” (সিরাতুন নাবী, ড. সাল্লাবী, খণ্ড 1, পৃষ্ঠা 163, কালান্তর প্রকাশনী, বাংলাদেশ)। 33:37 এ নাবী (সা) এর এই অনুগ্রহের কথা আল্লাহ উল্লেখ করেছেন, যা তিনি যায়েদ (রা) এর উপর করেছিলেন। আর আল্লাহ কোন অনুগ্রহ করেছেন! যায়েদ (রা) দাসদাসীদের মধ্যে প্রথম ইসলাম গ্ৰহণ করেছেন- এটাই আল্লাহর অনুগ্রহ।
২) নাবী (সা) যয়েদ (রা) কে দাস হিসাবে পান, পরে মুক্ত করে দেন। তাকে পুত্র বলেও ঘোষণা করেন। এগুলো সব নাবুয়তের আগের ঘটনা। পরে নাবী (সা) নাবুওয়াত পান, মাক্কহতে 13 বছর কষ্টের সঙ্গে কাটিয়ে মাদীনাহতে চলে আসেন, সঙ্গে চলে আসেন মাক্কাহর বহু মুসলিম। তাদের মধ্যে অন্যতম হল- যাইনাব বিনতে জাহাশ (রা) এর পরিবার। যদিও তারা সরাসরি মাক্কাহ থেকে নয়, বরং ইথিওপিয়া থেকে মাদীনাহতে আসেন। এর আগে তারা হিজরত করেন ইথিওপিয়াতে।
যাইনাব বিনতে জাহাশ (রা) নাবী (সা) এর ফুফুর কন্যা। মাদীনাহতে আসার 3 বছর পর নাবী (সা) তাঁর পালিত পুত্র যায়েদ (রা) এর সঙ্গে বিয়ে দিতে চান যাইনাব বিনতে জাহাশ (রা) এর। কিন্তু যাইনাব বিনতে জাহাশ (রা) সহ তার গোটা পরিবার এই বিয়ের বিপক্ষে অবস্থান নেয় ও তাদের আপত্তিও জানায়। কারণ হিসাবে তারা বলেন- “যায়েদ (রা) তাঁর পূর্ব জীবনে দাস ছিল। তাই একজন দাসকে কোনও সম্মানিত বংশের কন্যা কিভাবে বিয়ে করতে পারে”। একই বক্তব্য ছিল যাইনাব বিনতে জাহাশ (রা) এর।
তাদের এই বক্তব্যের পেক্ষিতে নাযিল হয় 33:36 আয়াহ। বলা হয়- “আর কোনও মূমীন পুরুষ, মূমীনা নারীর এই স্বাধীন অধিকার থাকে না যে, ‘যখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কাজী হয়ে তাদের জন্য বিচার করে দেন’। আর যে অমান্য করবে, সে সুস্পষ্ট পথভ্রষ্ট বলে গণ্য হবে”। তখন যাইনাব বিনতে জাহাশ (রা) এবং তার পরিবার বিয়েতে অনিচ্ছা সত্ত্বেও রাজি হোন, কিন্তু অখুশি মনে। তাই তাদের সংসারে প্রতিনিয়ত অশান্তি হোত। এদিকে যাইনাব বিনতে জাহাশ (রা) যায়েদ (রা) খোঁটা দিতেন এবং নিজ শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করতেন (আর রাহীকুর মাখতুম, পৃষ্ঠা 229-230, সোলেমানিয়া বুক হাউস, বাংলাদেশ)
যায়েদ (রা) ত্বালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, নাবী (সা) কে বহুবার জানান যে, “আমি সংসার করতে চাই না”। কিন্তু নাবী (সা) তাকে বলেন- “তুমি তোমার স্ত্রীকে (২) বিবাহ বন্ধনে রাখ এবং আল্লাহর জন্য তাকওয়া (অপচিন্তা হতে দূরত্ব) অবলম্বন কর” (33:37)। এখানে নাবী (সা) ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল করছিলেন। কারণ, তিনি আল্লাহর সিদ্ধান্ত জানতে পেরেছিলেন যে, “যাইনাব বিনতে জাহাশ (রা) এর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হবে” (৩ নং টিকা)। তাই নাবী চাইছিলেন, যায়েদ (রা) এর ত্বালাক ‛না হয়’। কেননা, যায়েদ ত্বালাক হলেই এর দোষটা গিয়ে পড়বে নাবী (সা) এর। ফল স্বরূপ যাইনাব বিনতে জাহাশ (রা) এর পরিবার চাইবে যে, “আপনার জন্য ত্বালাক হয়েছে, এখন আমাদের ত্বালাক প্রাপ্ত মেয়েকে কে বিয়ে করবে! সুতরাং এই অপমানের ঘাটতি আপনি পূরণ করুন। তা এই যে, আপনি যাইনাবকে বিয়ে করে মূমীনদের মা বা ‛উম্মুল মূমীনীন’ করে নিন”।
কিন্তু নাবী বিয়ে করবেন কীভাবে! লোকজন তাঁর চরিত্র নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন অপবাদ দেবে, ভিন্ন ভিন্ন কথা বলবে! লোকে বলবে- “নাবী তাঁর পালিত পুত্রের ত্বালাক প্রাপ্তা স্ত্রী কে বিবাহ করেছেন”। তাই নাবী (সা) ভয় পাচ্ছিলেন। যা 33:37 তেই উল্লেখ রয়েছে। তাই নাবী (সা) চাইছিলেন এই বিয়ে যেন না হয়। কিন্তু 33:37 এর শেষে সুস্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে- “আল্লাহর সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে বাধ্য”।
কেন যাইনাব বিনতে জাহাশ (রা) এর সঙ্গে নাবী (সা) এর বিয়ে জরুরি ছিল?? হ্যাঁ জরুরি ছিল, A) যাইনাব বিনতে জাহাশ (রা) এর মান সম্মানের ক্ষতিপূরণ। আর হয়েছিল তাই-ই। যাইনাব বিনতে জাহাশ (রা) এই বিয়ের জন্য আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠেছিলেন। তিনি সব সময় নাবী (সা) এর অন্য স্ত্রীদের বলতেন- “তোমাদের বিয়ে দিয়েছে তোমাদের পরিবার। অন্যদিকে আমার বিয়ে দিয়েছেন আল্লাহ, সিদ্ধান্ত হয়েছে আসমানে” (বুখারী, হাদীশ 7420 ও 7421)।
B) পালক পুত্র, আসলে পুত্র নয়। এটা বোঝাতে এই বিয়ে ছিল জরুরি। প্রশ্ন হবে- এটা না হলেও তো ক্ষতি ছিল না! ক্ষতি ছিল না, তবে জরুরি ছিল শরিয়তের জন্য। কেন?? প্রথমত, 5 কে 5 বলতে হবে, 6 নয়। দ্বিতীয়ত, ইসলাম শুধু ধর্ম নয়, জীবন যাপন পদ্ধতি। সেখানে সমস্ত বিষয় থাকবে। অর্থাৎ ‛সিভিল ল’ সুস্পষ্ট থাকতে হবে। উদাহরণ দিই!
যেমন ধরুন, আপনার স্ত্রী ধর্ষিতা হয়েছেন 4 জনের দ্বারা। এখন গর্ভে সন্তান। সন্তান জন্ম নিল, সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে আপনার স্ত্রী মারা গিয়েছেন। সন্তান কার দায়িত্বে থাকবে?? সমাধান কি?? ইসলামে এর সমাধান রয়েছে। নাবী (সা) বলেছেন- “বিছানা যার, সন্তান তার”। মানে, দায়িত্ব পাবেন আপনি। অর্থাৎ আপনার দায়িত্বে ঐ সন্তান লালিত পালিত হবে। আর ধর্ষকদের একটাই শাস্তি, তা হল- মৃত্যুদণ্ড (বুখারী, 6749 ও 5:33)। বিধান সুস্পষ্ট।
এখানে একটা প্রশ্ন হবে- “ঐ সন্তানের দায়িত্ব আমি নিতে যাব কেন”?? আপনার জন্ম ভারত উপমহাদেশে, তাই এখানে সন্তানকে বোঝা মনে করা হয়। পৃথিবীর বহু দেশে সন্তানকে ধনসম্পদ, দেশের ও মানবজাতির ভবিষ্যৎ মনে করা হয়। যেমন, জাপানে ও রাশিয়াতে, অন্য বহু দেশেও। সেখানে সন্তান নেওয়ার জন্য সরকার বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা সহ পুরষ্কার ঘোষণা করছে। যদি বুখারীর 6749 টা দেখেন, দেখতে পাবেন- সন্তান পাওয়ার জন্য দুজন কীভাবে ঝগড়া করছে!
একই ভাবে যদি আপনার স্ত্রী “পরকীয়া করে গর্ভধারণ” করে ও সন্তান জন্মায়, সন্তান কে পাবে- এর উত্তরও হল আপনি। কারণ, বিছানা আপনার। কিছু দিন আগে প্রিয় দেশ ভারতের সুপ্রিমকোর্টও একই রায় দেন (3 Feb, 2025 এ) যে, স্ত্রী পরকীয়া করে সন্তান লাভ করলেও দায়িত্ব স্বামীর। প্রশ্ন হবে- স্ত্রী যে ধোকা দিল, পরকীয়া করল, তার শাস্তি কোথায়?? ভারতীয় সুপ্রিমকোর্ট পরকীয়াকে অপরাধ না মনে করলেও ইসলামে তা জঘন্য অপরাধ। পরকীয়ার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। নাবী (সা) বলেছেন- “বিছানা যার, সন্তান তার। তবে পরকীয়াকারীর করার শাস্তি হল রজম/ পাথর” (বুখারী, হাদীশ 6818)।
মানে, সমস্ত বিধান সুস্পষ্ট ও যৌক্তিক। যদিও সুপ্রিমকোর্ট এখানে শুধু সন্তানের সঙ্গে ন্যায় করল, কিন্তু স্বামীর সঙ্গে অন্যায় করল। কিন্তু ইসলাম করেছে পরিপূর্ণ ন্যায় বিচার। এভাবেই প্রতিটা বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা সুস্পষ্ট, পালক পুত্র আসল পুত্র নয় এবং তার ত্বালাক প্রাপ্ত স্ত্রী বিবাহ যোগ্য। এটা সুস্পষ্ট জরুরি ছিল।
৩) যাইনাব বিনতে জাহাশ (রা) এর সঙ্গে নাবী (সা) এর বিয়ে হবে- এটা যায়েদ ও যাইনাব বিনতে জাহাশ (রা) এর ত্বালাক হওয়ার আগেই জানতে পেরেছিলেন। এ জন্য নাবী (সা) চাইছিলেন- “কোনও ভাবে যেন যায়েদ ও যাইনাব বিনতে জাহাশ (রা) এর বিবাহ টিকে যায়, তাহলে যাইনাব ও আমার বিয়ে হবে না এবং আমি ভিন্ন ভিন্ন ভাবে বদনাম হওয়া থেকে বেঁচে যাব”।
৪) যায়েদ (রা) এর সঙ্গে যাইনাব বিনতে জাহাশ (রা) এর ত্বালাক হয়, যাইনাব বিনতে জাহাশ (রা) এর ইদ্দত শেষ হয়, নাবী (সা) আল্লাহর সিদ্ধান্ত মুতাবিক যাইনাব বিনতে জাহাশ (রা) এর কাছে বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। প্রস্তাব পাঠান যায়েদ (রা) এর মাধ্যমেই। ঘটনাটি বর্ণিত হয়েছে মুসলিমের 1428/2 এ। গিয়ে পড়ে নিন। লিখতে হলে অনেক কষ্ট তো হবেই, হাদীশটা বড় হওয়ার জন্য তাফসীরের উপর প্রভাব পড়বে।
বৈধ কাজ করায় কাউকে ভয় করা উচিৎ নয়।
33:38 নং আয়াহ : সেই বিষয়ে নাবীর জন্য কোনও বাধা নেই, যা আল্লাহ তাঁর জন্য ফারাদ্ব/ ফরজ করেছেন। পূর্ব/ অতীত হতেই তা চলে আসা আল্লাহর সুন্নাত/ নীতিমালা। আর আল্লাহর সিদ্ধান্ত নির্ধারিত নিয়মের ভিত্তিতে ঘটতে বাধ্য।
তাবলীগকারী শুধু আল্লাহকে ভয় করবে, অন্যকে নয়।
33:39 নং আয়াহ : যারা রিসালাত [5:67] তাবলীগ/ প্রচার করে, তারা তাঁকে ভয় করে এবং আল্লাহকে ছাড়া আর কোনও কাউকে ভয় করে না। আর আল্লাহ হিসাব গ্ৰহণের জন্য কাফি/ যথেষ্ট।
নাবী (সা) শেষ নাবী, তবে তিনি শেষ রাসূল নন।
33:40 নং আয়াহ : মুহাম্মাদ তোমাদের মধ্যে কোনও রিজাল/ প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষের পিতা নন। তিনি আল্লাহর রাসূল ও নাবীদের মধ্যে শেষ নাবী (১)। আর আল্লাহ প্রত্যেকটা বিষয়ে জ্ঞান রাখেন।
১) নাবী মুহাম্মাদ (সা) ছিলেন শেষ নাবী, যা হাদীশেও বলা হয়েছে (মিশকাত, হাদীশ 5406)। তবে নাবী (সা) শেষ রাসূল নন। দ্বিতীয়ত, আর রাসূল আসবে না, এমন কোনও আয়াহ বা হাদীশ নেই। রাসূল আসতেই থাকবে, নয়ত 17:15 মিথ্যা হয়ে যাবে।
তবে, তারা কেউই ‛নাবী গোছের’ রাসূল নন। তাদের কাছে নতুন কোনও বিধান আসবে না। তারা সবাই কুরআন ও হাদীশই প্রচার করবেন। তারা শুধু আল্লাহ ও নাবী (সা) বার্তা পৌঁছে দেবেন মানুষের কাছে। আর বার্তা প্রচারকারীকে আরবি ভাষায় ‛রাসূল’ই বলা হয়। তবে এরা কেউই আল্লাহর মনোনীত নয়, যেমন নাবী রাসূলরা আল্লাহর মনোনীত হন (22:75)।
যতটা বেশি সম্ভব, ততটা ইসলাম মেনে চলতে হবে।
33:41 নং আয়াহ : হে আমানু/ সত্য গ্ৰহণ করা সম্মানিত মানুষজন, তোমরা আল্লাহর যিকির/ বিধান মেনে চলতে থাক। যত বেশি সম্ভব, তত বেশি যিকির/ বিধান মেনে চলতে থাক [2:208, 13:28]।
33:42 নং আয়াহ : আর তাঁর তাসবীহ/ পবিত্রতা ঘোষণা করতে থাক সকাল ও সন্ধ্যায় [50:39-40]।
আল্লাহ ও ফেরেস্তারা মূমীনদের কল্যাণ কামনা করেন।
33:43 নং আয়াহ : তিনিই (আল্লাহ) যিনি তোমাদের স্বালাত/ কল্যাণ কামনা করেন, সঙ্গে তাঁর মালাইকা/ ফেরেস্তারাও [33:56]। যেন তিনি তোমাদের বের করে আনেন অন্ধকার [57:9] থেকে আলোতে [2:257, 14:1]। আর তিনি সত্য স্বীকারকারীদের প্রতি করুণাময়।
বিচার দিবসে আল্লাহর সাক্ষাৎ, সালাম হবে অভিবাদন।
33:44 নং আয়াহ : সেদিন তাদের অভিবাদন হবে ‛সালাম’ [56:26, 36:58], যেদিন তারা তাদের প্রভুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে [84:6, 83:15]। আর তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন সম্মানজনক আজরা/ প্রতিদান [36:11, 57:18]।
১) শুধুই কি এই শব্দটি উচ্চারণ করা হবে যে, ‛সালাম’, নাকি আসসালামু আলাইকুম বলা হবে?? আসসালামু আলাইকুম বলা হবে। উক্ত আয়াতে কি বলা হবে, তা বলা হয়েছে। কিভাবে বলা হবে, তা বলা হয় নি। বিস্তারিত তথ্য রয়েছে 56:26 এ।
নাবী (সা) এর পাঁচটি গুণ ও বৈশিষ্ট্য।
33:45 নং আয়াহ : হে সম্মানিত নাবী, নিশ্চয়ই আমরা আপনাকে পাঠিয়েছি শহীদ [3:144], সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসাবে [25:56]।
33:46 নং আয়াহ : আল্লাহর দিকে। তারঁই অনুমতিতে দাই-ঈ/ আহ্বানকারী হিসাবে। এছাড়াও সিরাজ/ প্রদীপ এবং মুনীর/ আলো প্রতিফলনকারী হিসাবে।
# নাবী (সা) এর নিজস্ব জ্ঞান বুদ্ধি বিচার বিবেচনা ছিল, তাঁকে এখানে সিরাজ/ প্রদীপ বলা হয়েছে। অন্যদিকে তিনি ছিলেন নূর/ মুনীর। কারণ, তিনি কুরআন নামক প্রদীপের আলোর প্রতিফলন কারী। এই সম্পর্কে হাদীশে বলা রয়েছে- “তার চরিত্র ছিল কুরআন” (মুসলীম, হাদীশ 746)।
মূমীনদের সুসংবাদ, তাদের পুরষ্কার।
33:47 নং আয়াহ : সুসংবাদ দিন তাদেরকে, যারা মূমীন/ সত্য স্বীকার করা মানুষ। (তা এই) যে, তাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে থাকবে ‛ফাদ্বলান কাবীর’/ বিরাট অনুগ্রহ [32:17]।
এজন্য নাবী (সা) নির্যাতনের প্রতিশোধ নেন নি।
33:48 নং আয়াহ : কাফির/ মাদীনাহ সনদ অস্বীকার কারী ইহুদী ও মুনাফিক/ যাকাত অস্বীকারকারী মুসলিমদের কথা মেনে নেবেন না [59:2, 59:11]। তাদের নির্যাতনকে [41:34, 23:96] উপেক্ষা করুন [15:85, 45:14], আল্লাহর উপর নির্ভর করুন [65:3]। কেননা ওয়াকীল/ উদ্ধারকারী হিসাবে আল্লাহ যথেষ্ট [33:3, 3:173]।
স্পর্শ করার পূর্বে ত্বালাক, তার বিধান ও সৌজন্যতা।
33:49 নং আয়াহ : হে সম্মানিত আমানূ/ সত্য গ্ৰহণ করা মানুষজন, যখন তোমরা মূমীন নারীদেরকে বিবাহ কর, তখন যদি তাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বেই ত্বালাক দিতে হয়, সেক্ষেত্রে তাদের কোনও ইদ্দত নেই। যা সাধারণত তোমরা গণনা করে থাক [65:1]। তবে, তাদেরকে বিদায় দেওয়ার সময় ‛ভোগ সামগ্রী’ [2:236-237] দিও, উত্তম পন্থা/ সৌজন্যতা [65:2, 2:231] বজায় রেখে বিদায় দিও।
যাদেরকে বিবাহ করা নাবীর জন্য বৈধ ছিল।
33:50 নং আয়াহ : হে সম্মানিত নাবী, আমরা আপনার হালাল/ বৈধ করেছি আপনার স্ত্রীদেরকে, যাদের আপনি মোহর দিয়েছেন। এছাড়াও যারা আপনার ডান হাতের অধীনে রয়েছেন/ দাসী, যাদেরকে আল্লাহ আপনার জন্য যুদ্ধ হতে [47:4] এনেছেন [4:3, 4:25]। আপনার আম্মি/ কাকার কান্যাদের, আম্মা/ পিসির কন্যাদের, খালি/ মামার কন্যাদের, খালা/ মাসির কন্যাদের, যারা আপনার সঙ্গে হিজরত করে এসেছে। এসব বাদ দিয়েও যারা নাবীর কাছে নিজেকে নিবেদন করে, যদি নাবী ইরাদা করে, তাদেরকে নিকাহ/ বিবাহ করতে পারবেন। এটা খালিস্ব/ বিশেষ ভাবে শুধু আপনার জন্য [33:52], অন্য মূমীনদের জন্য। অবশ্যই আমরা জানি, যা আমরা তাদের স্ত্রীদের ও ডান হাতের অধীনস্থ/ দাসীদের ব্যাপারে ফারাদ্ব/ বিধি সম্মত করেছি [4:3]। যেন আপনাকে (নির্দেশনার ক্ষেত্রে) কোনও হারাজ/ সমস্যায় পড়তে না হয়। আর আল্লাহ হলেন গাফূর/ ক্ষমাশীল [39:53] ও রাহীম/ করুণাময় [1:2]।
স্ত্রীদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা যুদ্ধ/ অভিযানে নিয়ে যাওয়া।
33:51 নং আয়াহ : আপনি তাদের (স্ত্রীদের) মধ্যে যাকে চান, তাকে দূরবর্তী স্থানে নিয়ে যেতে পারেন। যাকে চাইবেন, তাকে নিকটবর্তী স্থানে করতে পারেন। এছাড়াও দূরবর্তী স্থানে নিয়ে যাওয়া কাউকে নিকটবর্তী স্থানে নিয়ে যেতে পারবেন। এতে কোনও পাপ নেই। ওটা তাদের (স্ত্রী দের) চক্ষু শীতলতার কারণ হবে এবং তারা দুঃখও পাবে না। এছাড়াও আপনি তাদেরকে যা দিয়েছেন, তাতে তারা সন্তুষ্ট থাকবে। আল্লাহ জানেন যা তোমাদের মস্তিষ্ক সমূহের ভিতরে আছে। কেমন আল্লাহ আলীম/ জ্ঞানী ও হালীম/ সহনশীল।
# আসলে নাবী (সা) কোনও যুদ্ধ/ অভিযানে স্ত্রীদের মধ্যে কাকে নিয়ে যাবেন, সেই স্ত্রীদের মধ্যে লটারি করতেন। এ বিষয়ে হাদীশ রয়েছে (বুখারী, হাদীশ 5211)। এখানে বলা হচ্ছে- “লটারির প্রয়োজন নেই, নাবী তাঁর ইচ্ছা মতো যে কাউকে নিয়ে যেতে পারবেন”।
নাবী (সা) এর বহুবিবাহের ‛কারণ’ কি ছিল??
33:52 নং আয়াহ : এর বাইরে [33:50] হালাল/ বৈধ নয় আপনার জন্য অন্য কোনও নারী, যদিও তাদের হুসন/ কল্যাণকর অবস্থান আপনার কাছে ‛সুবিধাজনক’ (১) হোক। তবে আপনার ডান হাতের অধীনস্থ/ দাসীদের বিষয়টি ভিন্ন। আর আল্লাহ সমস্ত কিছুর উপর রাকীব/ সর্বদা সজাগতার দৃষ্টিবান।
১) নাবী (সা) সব মিলিয়ে 13 টি বিবাহ করেছেন, এ নিয়ে ইসলাম বিদ্বেষীরা ইসলামের প্রতি বিদ্বেষ ছড়িয়ে থাকেন। উক্ত আয়াতে আল্লাহ পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, নাবী (সা) যাদেরকে বিবাহ করেছেন, তারা সবাই কল্যাণকর রাজনৈতিক অবস্থানের অধিকারী ছিলেন। তাই তিনি বিবাহ গুলো করেছেন। আবার এখানে নিষেধ করা হচ্ছে যে, “এর বাইরে অন্য কোনও নারীকে বিবাহ করা বৈধ নয়, যদিও তাদের কল্যাণকর অবস্থান আপনার কাছে (রাজনৈতিক) সুবিধাজনক হোক”।
কিছু উদাহরণ দিই! উদাহরণ দেব, তবে তার আগে স্বামী বিবেকানন্দ এই সম্পর্কে কী বলেছেন, তা একবার আপনাকে শোনাতে চাই-“পরবর্তী জীবনে মহাম্মদ অনেক পত্নী গ্ৰহণ করেন। মহাপুরুষেরা প্রত্যেকে 200 পত্নী গ্ৰহণ করিতে পারেন। আপনাদের মতো দৈত্যকে 1 পত্নী গ্ৰহণ করিতেও আমি অনুমতি দেব না। মহাপুরুষদের চরিত্র রহস্যাবৃত। তাহাদের কর্মধারা দুর্জ্ঞেয়” (স্বামী বিবেকানন্দের বাণী ও রচনা, খণ্ড 8, পৃষ্ঠা 229, উদ্ভোধন কার্যালয়)।
A/ 1) নাবী (সা) 25 বছর বয়সে 40 বছরের খাদীজা বিনতু খুওয়াইলিদ (রা) কে বিবাহ করেন (সীরাতুন নাবী, ড. সাল্লাবী, খণ্ড 1, পৃষ্ঠা 121, বাংলাদেশ, কালান্তর প্রকাশনী)। যদিও এর পূর্বে খাদীজা (রা) এর 2 টি বিবাহ হয়েছিল। তবে এই বিবাহ ছিল সাধারণ বিবাহ। এই বিবাহের পিছনে নাবী (সা) এর কোনও রাজনৈতিক ব্যাপার ছিল না। বিবাহটা ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। এ জন্য যে, ইসলামের উপর এই বিবাহের প্রভাব ছিল ব্যপক। হ্যাঁ এটা সত্য যে, নাবী (সা) যখন ইসলাম প্রচার শুরু করেন, তখন খাদীজা (রা) এর প্রভাবে মাক্কাহবাসী/ কুরাইশরা নাবী (সা) কে হত্যা করার সাহস পান নি। তবে এতে শুধু খাদীজা (রা) এর প্রভাব ছিল না, প্রভাব ছিল কুরাইশ বংশের ও নাবী (সা) এর চাচা আবু ত্বালিবেরও।
যদিও কেউ কেউ বলেন- “নাবী তাকে ধনসম্পদের জন্য বিবাহ করে ছিলেন”। উত্তরে বলব- নাবী (সা) দরিদ্র ছিলেন না। যথেষ্ট ধনবান ছিলেন। কেননা, খাদীজা (রা) কে 20 টি উট প্রদান করেছিলেন মোহর হিসাবে (সীরাতুর রাসূল, আসাদুল্লাহ গালীব, পৃষ্ঠা 76)। এত উট প্রদান করা ছেলেখেলা ছিল না। ভেবে দেখুন- যদি কেউ মোহর হিসাবে 20 টি উট প্রদান করতে পারে, তাহলে তার কাছে কত ধনসম্পদ ছিল!
মানে, খাদীজাহ (রা) কে বিবাহের আগে নাবী (সা) যখন 5-7 বছরের ছিলেন, তখন নাবী (সা) বসে খান নি, খেটে খেয়েছেন। তখন তিনি মাক্কাহর ধনীদের পশুচারণ করে উপার্জন করতেন (বুখারী, হাদীশ 2262)। তাহলে বিবাহের পর তিনি স্ত্রীর টাকায় বসে খাবেন, এটা ভাবা পাগলামি। তারপর যখন নাবী (সা) বড় হলেন, যুবক হলেন, তখন নিজ বংশের সবার মতো ব্যাবসা শুরু করলেন (106:1-2 দ্রঃ)। তাই তিনি মারাত্মক লেভেলের ধনী না হলেও সাধারণ ধনী ছিলেন। যেমন- আমি ধনী কিন্তু মুকেশ আম্বানির মতো নয়।
আর রইল খাদীজা (রা) ধনসম্পদ, নাবী (সা) খাদীজা (রা) কে বিবাহের আগে ও পরে ব্যাবসা করেই জীবিকা নির্বাহ করতেন (আবুদাউদ, হাদীশ 4836)। তবে শুধু জীবিকা নির্বাহ নয়, মাক্কাহর দরিদ্র, অসহায়, অসুস্থ, দাস মুক্তিতে ও মাক্কাহর 13 বছরে দরিদ্র মুসলিমদের সাহায্যের জন্য নিজ ধনসম্পদ থেকে বে-হিসাব খরচ করতেন।
এর প্রমাণ! আছে, খাদীজাহ (রা) এর নিজস্ব বক্তব্য রয়েছে। প্রথমবার ওহী পেয়ে নাবী (সা) খুব ভয় পেয়ে বললেন- “আমি নিজেকে নিয়ে ভয় পাচ্ছি”। তখন খাদীজাহ (রা) নাবী (সা) কে এভাবে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন- “আল্লাহর কসম, কখনই নয়। আল্লাহ আপনাকে কখনও লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সদাচরণ করেন, অসহায় দুস্থদের দায়িত্ব বহন করেন, নিঃস্বকে সহযোগিতা করেন, মেহমানের আপ্যায়ন করেন এবং হক পথের দুর্দশাগ্রস্তকে সাহায্য করেন” (বুখারী, হাদীশ 3)।
প্রশ্ন হবে- খাদীজাহ (রা) এর ধনসম্পদের কিছুও কী নাবী (সা) ভোগ করেন নি?? করেছেন। কবে?? যখন নাবী (সা) কে পুরোপুরি বয়কট করা হয়, এমনকি ঘরবাড়ি ছেড়ে তাকে পাহাড়ে বসবাস করতে বাধ্য করা হয়, তখন তিনি আর ব্যাবসা করতে পারেন নি। তখন তিনি খাদীজাহ (রা) এর ধনসম্পদ ব্যবহার করেছেন। এর প্রমাণ আছে?? আছে (আহমাদ, হাদীশ 24864)। দ্বিতীয়ত, খাদিজা (রা) কে নাবী (সা) বিবাহের প্রস্তাব দেন নি, খাদিজা (রা) নাবী (সা) কে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিলেন তাঁর বান্ধবী নাফীসা বিনতু মুনাব্বিহ’র মাধ্যমে।
যদিও মাক্কাহর বহু পুরুষ খাদীজাহ (রা) কে বিবাহের প্রস্তাব দেন, খাদীজাহ (রা) তৃতীয় বিয়েতে রাজি হচ্ছিলেন না। কারণ, সবাই তাঁর ধনসম্পদের জন্য তাঁকে বিবাহ করতে চাইছিলেন, এটা তিনি জানতেন। পরে তিনি নাবী (সা) এর সন্ধান পান, যার চরিত্রে সামান্যটুকু দাগ ছিল না। খাদীজাহ (রা) নাবী (সা) কে লভ্যাংশে মালিকানার ভিত্তিতে ব্যাবসার প্রস্তাব দেন। নাবী (সা) তাঁর থেকে মূলধন নিয়ে সিরিয়া সফর করেন। মারাত্মক ধরণের মুনাফা অর্জন করে মাক্কাহয় ফিরে আসেন। খাদীজাহ (রা) তাঁর দাস মাইসারাহ’কে নাবী (সা) এর সহযোগিতার জন্য পাঠিয়েছিলেন। খাদীজাহ (রা) এর দাস এসে নাবী (সা) যে সততা ও লোভহীনতার বর্ণনা দেন, তা শুনেই খাদীজাহ (রা) মুগ্ধ হয়ে যান।
এছাড়াও সিরিয়ায় একজন খৃষ্টান পণ্ডিতের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়, তখন নাবী (সা) ঘুমিয়ে ছিলেন। ঐ পণ্ডিত বলেন- “এই ব্যক্তি কে”?? মাইসারাহ বলেন- “কাবার কাছে বাড়ি, একজন কুরাইশ ব্যবসায়ী”। শুনে ঐ পণ্ডিত বলেন- “লক্ষণ দেখে মনে হচ্ছে, ইনি ভবিষ্যতে নাবী হতে চলেছেন”। এছাড়াও পথিমধ্যে নাবী (সা) কে 2 জন ফেরেস্তা সারাক্ষণ ছায়া দিতেন, তা নাবী (সা) খেয়াল করেন নি। কিন্তু মাইসারাহ লক্ষ্য করতেন। মাইসারাহ এই সমস্ত কিছু খাদীজাহ (রা) এর কাছে বর্ণনা করেন। খাদীজাহ (রা) একটুও দেরি না করে নাবী (সা) এর কাছে বিবাহের প্রস্তাব পাঠান (ইবনে হিশাম, পৃষ্ঠা 121-122, মিনা বুক হাউস, বাংলাদেশ)।
এখানে উল্লেখযোগ্য, নাবী (সা) এর সমস্ত সন্তান খাদীজাহ (রা) এর। মানে 2 পুত্র ও 4 কন্যা। ব্যতিক্রম শুধু ইব্রাহীম (রা), তিনি নাবী (সা) এর অন্যতম স্ত্রী মারীয়াহ (রা) এর গর্ভজাত (66:1 এর টিকা দ্রঃ)। যাইহোক, যে কারণে আল্লাহ খাদীজাহ (রা) এর সঙ্গে নাবী (সা) এর বিবাহ নির্ধারণ করেছিলেন, সে গুলো খুব ছোট্ট করে উল্লেখ করলাম।
শেষে একটা হাদীশ- “আয়িশাহ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন : আমি খাদীজাহ ব্যতীত নাবী সহধর্মিণীদের মধ্যে আর কারোর প্রতি হিংসা করি নি, অথচ আমার সঙ্গে (স্ত্রী হিসাবে) তাঁর সাক্ষাৎ ঘটেনি। তিনি বলেন : রাসূল (সা) যখন ছাগল যাবেহ করতেন, তখন বলতেন : এর মাংস খাদীজাহর বান্ধবীদের পাঠিয়ে দাও। একদা আমি তাকে রাগিয়ে দিলাম ও বললাম : খাদীজাহকে এতই ভালবাসেন? রাসূল (সা) তখন বললেন : তাঁর ভালবাসা আমার মনে গেঁথে দেওয়া হয়েছে” (মুসলিম, হাদীশ 2435/2)।
আইশাহ (রা) বলেছেন- “নাবী (সা) যখনই খাদীজাহর আলোচনা করতেন, তখন তাঁর খুব প্রশংসা করতেন। একদিন আমার মনে খুব হিংসা হল, জিদ আসল, তখন আমি বললাম : আপনি কী এত বেশি করে সেই দাঁতহীন লাল মাড়ির নারীর আলোচনা করতে থাকেন, যার বদলে আল্লাহ আপনাকে তার চেয়ে উত্তম স্ত্রীরা দিয়েছেন?? তখন নাবী (সা) বললেন : আল্লাহর কসম! আল্লাহ আমাকে তাঁর বদলে তাঁর চেয়ে উত্তম কোনও স্ত্রী দেন নি। তিনি (খাদীজাহ) আমার উপর তখন ঈমান এনেছিল, যখন মানুষ আমাকে অস্বীকার করছিল। মানুষ যখন আমাকে মিথ্যা বলেছিল, তখন সে আমার সত্যতা স্বীকার করেছিল। যখন মানুষ আমাকে সম্পদ থেকে বঞ্চিত করেছিল, তখন তিনি তাঁর সম্পদ দিয়ে আমার প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছিল। আর আল্লাহ আমাকে তাঁর থেকে সন্তান দান করেছেন, যখন আমার অন্য স্ত্রীদের থেকে আমার কোনও সন্তান হয়নি” (আহমাদ, হাদীশ 24864)।
B/ 2) খাদীজাহ (রা) এর মৃত্যু হয় নবুওয়াতের 10 বছরে।নাবী (সা) সংসার অচল। নাবী (সা) এর বয়স তখন 50 বছর প্রায়, 6-8 বছরের 2-3 টি সন্তান। সন্তানরা খিদের জ্বালায় কান্নাকাটি করছে, তাঁদের শিক্ষাদীক্ষা ও আদর যত্ন এসব কিছুই হচ্ছে না। নাবী (সা) ইসলাম প্রচারেও মনোযোগ দিতে পারছেন না। পরিস্থিতি ভালো নয়, কঠিন ও গুরুতর। ওদিকে ইসলাম প্রচার করতে হবে, নির্দেশনা রয়েছে 5:67 তে। আবার রয়েছে 5:109 ও 7:6 এর মতো গুরুত্বপূর্ণ আয়াত।
সমস্ত কিছু বিবেচনা করে খাওলা বিনতু হাকীম নাবী (সা) কে বললেন- “হে আল্লাহর রাসূল, আপনার অবস্থা দেখে দুঃখ হচ্ছে, বিবাহ করুন”। নাবী (সা) বললেন- “পাত্রী কোথায় পাব”?? বলা হল- “পাত্রী আছে, কুমারী ও বিধবা উভয়ই আছে”। কুমারী হিসাবে আইশাহ (রা) এবং বিধবা হিসাবে সাওদা (রা) এর কথা বলা হয়। নাবী (সা) উভয়কে বিবাহের জন্য রাজি হন, বিবাহ হয়। কিছু তথ্য দিই, সাওদা (রা) কে নাবী যখন বিবাহ করেন, তখন তাঁর বয়স কত ছিল জানেন?? 50 বছর। তখন নাবী (সা) এরও বয়স 50 ছিল।
যদি নাবী (সা) যৌনতা পাগল হতেন, তাহলে 50 বছরের বুড়িকে কমপক্ষে বিবাহ করতেন না (আহমাদ, হাদীশ 2923, 25759)। নাবী (সা) এর মৃত্যু হয় হিজরী 10 এ, ঐ বছরই সাওদা (রা) এরও মৃত্যু হয়। যদিও নাবী (সা) এর মৃত্যুর পরই সাওদা (রা) মৃত্যু হবে, এটা নাবী (সা) এর ভবিষ্যৎ বাণী ছিল (বুখারী, হাদীশ 1420)। সাওদা (রা) এর পুরো নাম ছিল- সাওদা বিনতু যাময়া। নাবী (সা) এই বিবাহের পিছনেও কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না, ছিল সামাজিক এবং ধর্মীয় উদ্দেশ্য। তবে এর পরের বিবাহ গুলোর পিছনে অবশ্যই ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্য।
C/ 3) নাবী (সা) সবচেয়ে বিতর্কিত বিবাহ। তবে ইসলাম বিদ্বেষীদের পছন্দের বিষয় আইশাহ বিনতু আবুবকর (রা) এর বিবাহ। বিবাহের সময় আইশাহ (রা) এর বয়স কত ছিল। হাদীশে 6 বছরে বিবাহ, 9 বছর থেকে সংসার মর্মে তথ্য রয়েছে। আবার 7 বছরে বিবাহ, 9 বছর থেকে সংসার মর্মেও তথ্য রয়েছে। আবার ইবনে হিশামে 10 বছরে সংসার শুরুর তথ্যও রয়েছে। আবার 6 এ বিবাহ, 9 এ সংসার মর্মে বর্ণিত হাদীশকে চ্যালেঞ্জ করার মতো হাদীশও রয়েছে। আবার এমন হাদীশও রয়েছে, যা বলছে- বিবাহ হয়েছিল 16 বছরে, সংসার শুরু হয় 19 বছরে।
6 এ বিবাহ, 9 সংসার (দ্র মুসলিম, হাদীশ 1422/4)। 7 এ বিবাহ, 9 এ সংসার (মুসলিম, হাদীশ 1422/3)। 6 ও 9 এর হাদীশ বুখারীতেও (3896 এ) রয়েছে। আমি তা আর উল্লেখ করলাম না। মুসলিমের হাদীশ 2 টি একারণে নিয়ে এলাম যে, এক হাদীশ অন্য হাদীশের বিরুদ্ধে যাচ্ছে, তবুও ঠিক কোন কারণে হাদীশ 2 টি সহীহ ট্যাগ পেল, তা আজ পর্যন্ত আমি বুঝলাম না। হাদীশ সহীহ হওয়ার শর্ত হল- “কোনও সহীহ হাদীশ অন্য সহীহ হাদীশের বিরুদ্ধে যাবে না”। পরস্পর বিরোধী হাদীশকে ‛শায’ বলা হয়, যা ‛জাল হাদীশ’ হওয়ার জন্য যথেষ্ট। এজন্য আইশাহ (রা) এর বয়স আমরা উপরিউক্ত হাদীশ গুলো থেকে গ্ৰহণ করছি না। তাহলে??
এমন হাদীশ রয়েছে, যা দ্বারা এটা সহজেই প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট যে, আইশাহ (রা) এর বিবাহ হয়েছিল, 16 বছর বয়সে, সংসার শুরু হয় 19 বছরে। সেই হাদীশ তো দেখাবই, তার আগে দেখাই যে, 15 বছরের কম বয়সীরা অপ্রাপ্ত বয়স্ক। এমন হাদীশ আছে?? আছে, দেখুন বুখারীর 2664 নং হাদীশ, বলা হচ্ছে- “15 বছরের আগে সন্তান নাবালক/ নাবালিকা থাকে”। মানে, 15 বছরের আগ পর্যন্ত কোনও পুরুষ/ নারী বিবাহযোগ্য নয়। তাহলে নাবী (সা) কিভাবে 6 বছরের বালিকাকে বিবাহ করতে পারেন??
অন্য হাদীশে আইশাহ (রা) নিজের সাক্ষী দিয়ে বলছেন- “54:46 আয়াহ নাযিল হয় মাক্কাহতে (হিজরতের 5 বছর আগে) তখন তাঁর ঋতুস্রাব শুরু হয়ে গেছে, যদিও তখন আমি খেলাধুলা করতাম” (বুখারী, হাদীশ 4876)। এখানে আইশাহ (রা) নিজের জন্য বলছেন- “ওয়া ইন্নী লাজারীয়াতুন আলআবু”। আরবি ‛জারীয়াহ’ শব্দ দিয়ে এমন নারীকে বোঝায়, যাদের ঋতুস্রাব শুরু হয়ে গেছে। আর ‛সিবীয়াহ’ দ্বারা এমন নারীকে বোঝায়, যাদের ঋতুস্রাব শুরু এখনও হয় নি। তারমানে, 54:46 নাযিলের সময় আইশাহ (রা) ঋতুবতী হতে শুরু হয়েছেন। আর সূরাহ কামার নাযিল হয় হিজরতের 5 বছর আগে। এর মানে কী??
এখন হিজরতের 5 বছর আগে আইশাহ (রা) এর বয়স ‛সবচেয়ে কম’ কত হতে পারে?? অনুমান করুন। করুন, করুন। সবচেয়ে কম 11-12 বছর ধরে নিচ্ছি! আপনি কত ধরতে চাইবেন! নাকি 12-13 ধরব?? 12-13 ধরলে হিজরতের সময় বয়স হবে 17-18 বছর। হিজরতের 2 বছর আগে বিবাহ (মানে 15-16), হিজরতের 1 বছর পর সংসার (মানে 18-19)। এর তথ্য রয়েছে বুখারীর 3896 এ। যাইহোক, এখন হিসাব ঠিকঠাক করলাম?? ভুল হয় নি তো?? আমি এভাবে আরও 10-12 টা হাদীশ নিয়ে আসতে পারব। তাতে শুধু লেখার আকার বৃদ্ধি পাবে। যা আমি চাইছি না। এটা প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট যে, নাবী (সা) আইশাহ (রা) কে 6 বছরে বিবাহ করে 9 বছরে সংসার শুরু করেন নি। তবে জানিয়ে রাখব, 13 টি স্ত্রীর মধ্যে আইশাহ (রা) একমাত্র স্ত্রী, যিনি কুমারী (যদিও অন্যের বাগদত্তা ছিলেন)। অন্য স্ত্রীগণ 1-3 বার পর্যন্ত স্বামী হারা হয়েছিলেন।
বিবাহের কারণ- আল্লাহর ইচ্ছা (বুখারী 3895)। কিন্তু প্রশ্ন হবে- আল্লাহ এমন ইচ্ছা করলেন কেন?? এর পিছনে খুব গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কারণ রয়েছে, যা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্রদের জানার কথা। যাকে Marriage diplomacy বলা হয়। এই বিবাহের মাধ্যমে আবুবকর (রা) নাবী (সা) এর বন্ধু ও সহযোগী হওয়ার পাশাপাশি, শ্বশুরও হয়ে উঠলেন। যা তাকে আরও বিশ্বস্ত ও অনুগত করে করে তুলেছিল।
আরও প্রশ্ন হবে- আল্লাহর ইচ্ছা কেন, এর দ্বিতীয় কারণ কি?? কারণ আছে। আমরা নাবী (সা) সম্পর্কে যত তথ্য পাই, তার মধ্যে বেশিরভাগই তথ্যই পাই আইশাহ (রা) এর থেকে। বিশেষ করে নাবী (সা) এর ঘরোয়া জীবন, যৌন জীবন ও আধ্যাত্মিক জীবন সম্পর্কে। এছাড়াও আইশাহ (রা) ছিলেন সাহাবাদের জন্য মুফতী। সাহাবাগণ সমস্যায় পড়লে সমাধানের জন্য যেতেন আইশাহ (রা) এর কাছেই।
আরেকটা তথ্য দিই- নাবী (সা) আইশাহ (রা) কে বিবাহের আগে আইশাহ (রা) বাগদত্তা ছিলেন। মানে, অন্য পুরুষের সঙ্গে তাঁর বিবাহ ঠিক হয়ে ছিল। যদিও ঐ পুরুষ আইশাহ (রা) কে বিবাহ করতে অস্বীকার করে (আহমাদ 25759)। সেই যুগে বাগদত্তা নারীর বিবাহ ভেঙে যাওয়াকে অপয়া/ অক্যাণকর মনে করা হোত। আজও হিন্দু সমাজে এই রীতি বজায় আছে। নাবী (সা) আইশাহ (রা) কে বিবাহ করে এই কুসংস্কার ভেঙে দিয়েছেন। আর এটাও আইশাহ (রা) কে বিবাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটা কারণ ছিল। যাইহোক, মাক্কাহতে নাবী (সা) 3 টি বিবাহ করেছিলেন।
D/ 4) নাবী (সা) রাজনৈতিক সুবিধা অর্জন করতে যেমন Marriage diplomacy মাথায় রেখে আইশাহ (রা) কে বিবাহ করেন, তেমনই হাফসা বিনতু উমার (রা) কে একই কারণে নাবী (সা) বিবাহ করেন। তবে হাফসা (রা) কুমারী ছিলেন না, তিনি 22 বছরের বিধবা ছিলেন। তাঁর প্রথম স্বামী ছিলেন খুনাইস ইবনু হুযাইফাহ (রা)। তিনি নাবী (সা) এর সঙ্গে মাদীনাহতে হিজরত করেন, পরে তাঁর মৃত্যু হয়। যাইহোক, নাবী (সা) এর সঙ্গে হাফসা (রা) এর বিবাহ কীভাবে হয়, এই মর্মে সুন্দর একটি হাদীশ রয়েছে বুখারীর 4005 এ। পড়ে আসুন, আমি এখানে আলাদা ভাবে আর উল্লেখ করছি না।
E/ 5) যাইনাব বিনতু খুযাইমাহ (রা)। তাঁর উপাধি ছিল ‛উম্মুল মাসাকীন’ বা গরীবদের মা। তাঁর প্রথম ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনু জাহাশ (রা)। তিনি উহুদ যুদ্ধে শহীদ হন। তারপর তাঁর বিবাহ হয় তুফায়িল ইবনু হারিস (রা) এর সঙ্গে, তারপর বিচ্ছেদ হয়। তাঁর বয়স হয়েছিল 30 বছর। মতান্তরে 60 বছর। তিনি দান করতে খুব ভালোবাসতেন। একদিন তাঁর কাছে 3-4 টে রুটি করার মতো আটা ছিল। কিন্তু দরজায় এক না খেতে পাওয়া ব্যক্তি আসেন। তিনি ঐ টুকু আটাও দান করে দেন। এই ভাবে তিনি নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিলেন।
বলা হয়- “তিঁনি তারপর 3-4 দিন শুকিয়ে ছিলেন”। এটা জেনে নাবী (সা) তাঁকে বিবাহের প্রস্তাব দেন এবং 400 দিরহাম মোহর দিয়ে নাবী (সা) তাঁকে বিবাহ করেন। মাত্র 7-8 মাস, মতান্তরে 3 মাস সংসার করার পর তিঁনি নাবী (সা) এর জীবিত থাকাকালীন সাধারণ ভাবে মারা যান। এজন্য অনেকেই বলেন- “নাবী (সা) এর সঙ্গে তাঁর যখন বিবাহ হয়েছিল, তখন তাঁর বয়স 30 ছিল না, ছিল 60 বছর”। আমার কাছেও এই মতটি গ্ৰহণযোগ্য মনে হয়। এই হিসাবে তিঁনি 61 বছর বয়সে মারা যান।
যখন বলা হয় : নাবী (সা) কামুক ছিলেন, তখন বলি- 40 বছরের খাদীজাহ (রা) 50 বছর বয়সী সাওদা (রা), 60 বছরের যাইনাব (রা), 56 বছরের উম্মে সালমা (রা) কে কেন বিবাহ করেছিলেন?? তিঁনি কি 16-18 বছরের কুমারী নারীদের বিবাহ করতে পারতেন না?? মাক্কাহর মুশরিকরা নাবী (সা) কে প্রস্তাব দিয়েছিলেন- “ইসলাম প্রচার বন্ধ করে দাও, আমার তোমাকে মাক্কাহর নেতা হিসেবে মেনে নেব, আরবের সমস্ত সুন্দরী নারীদের নিয়ে আসব, তোমার সঙ্গে বিবাহ দেব”।
নাবী (সা) সেই প্রস্তাব মেনে নিতে পারতেন তো, যদি কামুক হতেন?? প্রশ্ন হবে- যাইনাব (রা) বিবাহের রাজনৈতিক কারণ কী ছিল?? ছিল। আমীর ইবনু সাসাহ বা বনু আমীর গোত্রের নেতা ছিল আমীর ইবনু তুফায়িল। নাবী (সা) এই বিবাহের মাধ্যমে আমীর ইবনু তুফায়িল সহ বনু আমীর গোত্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করতে চেয়ে ছিলেন। এরা সেই গোত্র, যারা ‛বীর এ মাউনা’ ঘটিয়ে 70 জন সাহাবা (রা) হত্যা করেছিলেন। আসলে যাইনাব (রা) ঐ গোত্রের পুত্রবধূ ছিলেন।
F/ 6) উম্মু সালমাহ/ সালামাহ (রা), এটা কুনিয়াত নাম। তাঁর মেয়ের নাম সালমাহ/ সালামাহ, তাই তাঁকে উম্মু সালমা/ সালামাহ বলা হোত, যার অর্থ ‛সালমার মা’। আসল নাম ছিল- হিন্দ বিনতু আবু উমাইয়াহ। নাবী (সা) যখন তাঁকে বিবাহ করেন, নাবী (সা) এবং উম্মে সালমা (রা) উভয়ের বয়স 56 বছর। তাঁর আগের স্বামী হলেন, আব্দুল্লাহ ইবনু আব্দুল আসাদ (রা)। কুনিয়াত ছিল, আবু সালামাহ (রা), যার অর্থ- সালামাহর পিতা। তিনি উহুদ যুদ্ধে প্রথমে আহত হন, পরে শহীদ হন। তাঁর স্বামীর মৃত্যুর পর আবুবকর ও উমার (রা) তাঁকে বিবাহের প্রস্তাব দেন, কিন্তু তিঁনি সম্মত হন নি। অবশ্য এর কারণ ছিল।
আসলে উম্মু সালামাহ (রা) এর স্বামী যখন মারা যাচ্ছেন, তখন তাঁকে উদেশ্য করে নাবী (সা) এর একটি হাদীশ শোনালেন যে, নাবী বলেছেন- “বিপদ এলে বলতে হবে : নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর, আমাদেরকে অবশ্যই তাঁর দিকে ফিরে যেতে হবে। হে আল্লাহ, আপনার নিকট আমি আমার বিপদের প্রতিদান চাই। অতএব আপনি আমাকে এর প্রতিদান দিন, এর বিনিময়ে উত্তম কিছু দান করুন” (তিরমিযী, হাদীশ 3511)। সালমা (রা) সেই দুয়া করলেন। তাই আবুবকর ও উমার (রা) তাঁকে বিবাহের প্রস্তাব দিলেও গ্ৰহণ করেন নি, তিঁনি এরচেয়ে উত্তম কিছু আশা করছিলেন।
তারপর থেকে সর্বক্ষণ উম্মু সালামাহ (রা) ঐ দুয়া পড়তে থাকলেন এবং ভাবতেন- “আবু সালামাহ মহান মানুষ ছিলেন, তাঁর চেয়ে উত্তম কে হতে পারে”?? তারপর নাবী (সা) তাঁকে বিবাহের প্রস্তাব দেন”। এরপর উম্মু সালামাহ (রা) বলতেন- “আমার দুয়ার জন্যেই আমি রাসূল (সা) কে পেয়েছি”। এরপর আমি আর উল্লেখ করছি না। নিজে মুসলিমের 918 তে বর্ণিত 3 টি হাদীশ পড়ে আসুন। উম্মু সালামাহ (রা) প্রায় 110 বছর বেঁচে ছিলেন, 570-680 পর্যন্ত। তিঁনি নাবী (সা) স্ত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে শেষে মৃত্যু বরণ করেন। তাঁর বিশেষত্ব হল- ‛জঙ্গে জামাল’ এর যুদ্ধে আইশাহ (রা) এর বিপক্ষে আলী (রা) পক্ষে অবস্থান নেন। তাঁর পুত্র উমার ইবনে আবু সালামাহ (রা) কে আলী (রা) এর পক্ষে আইশাহ (রা) এর বিপক্ষে যুদ্ধের জন্য পাঠিয়েছিলেন।
G/ 7) যাইনাব বিনতু জাহাশ (রা) নাবী (সা) এর অন্যতম একজন স্ত্রী। আমি এখানে নতুন করে আর কিছু লিখছি না। যাইনাব বিনতু জাহাশ (রা) এর সঙ্গে নাবী (সা) এর বিবাহের পেক্ষাপট 33:37 এ উল্লেখ করেছি, গিয়ে দেখে আসুন। শুধু এতটুকু বলি- যাইনাব বিনতু জাহাশ (রা) এর আসল নাম ছিল- বাররাহ। নাবী (সা) ঐ নাম বদলে নাম রাখেন- যাইনাব (আল আদাবুল মুফরাদ, হাদীশ 821)।
H/ 8) জুওয়াইরিয়াহ বিনতু আল হারিশ (রা) নাবী (সা) এর একজন স্ত্রী। তিনি বনু মুস্বত্বালিক গোত্র প্রধানের কন্যা। এই গোত্র মাদীনাহর উপর আক্রমণ করে চিরতরে মুসলিমদের শেষ করে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল। ইতি পূর্বে কুরাইশদের সঙ্গে মিলে মুসলিমদের সঙ্গে যুদ্ধ করে ছিল। আবারও প্রস্তুত হচ্ছিল, প্রস্তুতি প্রায় শেষ। নাবী (সা) এর কাছে খবর পৌঁছায়। নাবী (সা) উক্ত খবরটি নিশ্চিত করার জন্য একজন সাহাবা (রা) কে গোয়েন্দা করে পাঠান। নাম, ‛বুরাঈদাহ আল হুসাইব আল আসলামী’। তিনি খবরটি নিশ্চিত করেন। তিনি বললেন- “বনু মুস্বত্বালিক অস্ত্রশস্ত্র ক্রয় করে রাসূলের বিরুদ্ধে অভিযানের জন্য প্রস্তুত হয়েছে, তাদের অগ্রবর্তী বাহিনী সামনে অগ্রসরও হয়েছে”।
মুসলিম বাহিনীর সঙ্গে তাদের যুদ্ধ হয়, তারা হেরে যায়, মুসলিম বাহিনীর হাতে বন্দী হয়। তাদের মধ্যে যতজন মারা যায়, তার মধ্যে জুওয়াইরিয়া (রা) এর আগের স্বামীও মারা যায়। আবার তিনি মুসলিম বাহিনীর হাতে বন্দী হন। তারপরের ঘটনা রয়েছে আবুদাউদের 3931 তে। এখানে রয়েছে তাকে বিবাহ করার পিছনে নাবী (সা) এর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও। যাইহোক, তার আসল নাম ছিল- বাররাহ, নাবী (সা) তা পরিবর্তন করে নতুন নাম রাখেন- জুওয়াইরিয়াহ (মুসলিম, হাদীশ 2140)।
I/ 9) রামলাহ বিনতু আবু সুফইয়ান (রা), তার কন্যার নাম- হাবীবাহ। তার কুনিয়াত ছিল- উম্মু হাবীবাহ (রা) বা হাবীবাহর মা। তার আগের স্বামী- উবাইদুল্লাহ ইবনু জাহাশ, সে ছিল যাইনাব বিনতু জাহাশ (রা) এর দাদা (7 নং স্ত্রী প্রসঙ্গ দেখুন)। তারা স্বামী স্ত্রী উভয়ে ইসলাম গ্ৰহণ করে, মাক্কাহর মুশরিকদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে তারা উভয়ে অ্যবিসিনিয়া (বর্তমান ইথিওপিয়া) তে হিজরত করেন, ওখানে তার স্বামী খৃষ্টান ধর্ম গ্ৰহণ করে এবং তাকে খৃষ্টান ধর্ম গ্ৰহণের জন্য চাপ দেওয়া হয়, তবে তিনি ইসলামের উপর থাকা পছন্দ করে ছিলেন। পরে মাদীনাহতে ফিরে আসেন, নাবী (সা) তাকে বিবাহ করেন।
এখানে এই বিবাহের পিছনেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। তা কী উল্লেখ করব, নাকি জানেন?? বলতে হবে! উম্মু হাবীবাহ (রা) এর পিতা কে ছিলেন?? আবু সুফইয়ান। তিনি মাক্কাহর মুশরিকদের অন্যতম শীর্ষ ও প্রভাবশালী নেতা, নাবী (সা) এর প্রধান শত্রু। নাবী (সা) এর বিরুদ্ধে বহু যুদ্ধে তিনি নেতৃত্ব দেন। তার কন্যাকে বিবাহ করায় মাক্কাহর মুশরিকদের সঙ্গে মিথ্যা শত্রুতা ধীরে ধীরে শেষ হয়। এই বিবাহ মাক্কাহ বিজয়ের পটভূমি তৈরি করে। তবে আবু সুফইয়ান অবশ্য ইসলাম গ্ৰহণ করেন। তাই এখন তার নাম এভাবে লিখলাম- আবু সুফইয়ান (রা)।
J/ 10) নাবী (সা) এর আন্যতম কজন স্ত্রী স্বাফইয়া বিনতু হুইয়াই (রা)। একজন ইহুদী কন্যা, খাইবারে অবস্থিত বনু নাদ্বীর ও বনু কুরাইজ্বার নেত্রী। তার পিতা- হুইয়াই ইবনু আখত্বাব, স্বামী- কিনানাহ ইবনু রাবঈ, এর পিতা- আবুল হুকাইক, যে আবু রাফই নামেই পরিচিত। এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- তিনি কিভাবে নাবী (সা) এর অন্যতম সম্মানিতা স্ত্রী হলেন?? বুখারীর 371 নং হাদীশটি পড়ে নিন।
‛খাইবার’ যুদ্ধের কারণ কী ছিল?? আসলে খাইবার হয়ে ওঠে মাদীনাহর শত্রুদের আস্তানা। ইতিপূর্বে দেশদ্রোহিতার অপরাধে বনু কাইনুকা গোত্র ও বনু নাদ্বীর গোত্র মাদীনাহ থেকে বিতাড়িত (বিস্তারিত জানতে দেখুন 59:2 ও 59:15 আয়াত) হয়, খাইবারে আশ্রয় নেয়। উক্ত দুই ইহুদী গোত্র খুবই ধনী ছিল। তারা খাইবারে পৌঁছায় বটে, মাদীনাহর বিরুদ্ধে চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র বন্ধ করে নি। যেহেতু তারা খুবই ধনী ছিল, সেহেতু তারা নিজেদেরকে খাইবারে নেতা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করে।
তারাই মাক্কাহর মুশরিক গোত্র গুলো এবং মাদীনাহর বনু কুরাইজ্বা গোত্রকে উস্কানি ও ধনসম্পদ দিয়ে খন্দক যুদ্ধ ঘটায় (ইবনে হিশাম, পৃষ্ঠা 643, মিনা বুক হাউস এবং সিরাতুন নবী, খণ্ড 3, পৃষ্ঠা 175-176, ড. মুহাম্মাদ সাল্লাবী, কালান্তর প্রকাশনী, বাংলাদেশ )। যুদ্ধে মাক্কাহর মুশরিক গোত্র গুলো মারাত্মক ভাবে পরাজিত হয়, যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে প্রাণ বাঁচায়। এদিকে মাক্কাহর মুশরিকদের সহযোগিতা করার জন্য দেশদ্রোহীতা করে ফেঁসে যায় বনু কুরাইজ্বা গোত্র। তাদের নিজেদের মনোনীত ব্যক্তির বিচারে ‛বনু কুরাইজ্বা হত্যাকাণ্ড’ ঘটে। বিস্তারিত তথ্য রয়েছে 33:10 ও 33:26-27 তে।
এরমধ্যে ঘটে বহু ঘটনা, তারমধ্যে মাক্কাহর মুশরিকদের সঙ্গে হুদাইবিয়াহর সন্ধিও ঘটে। কিন্তু ইহুদীরা চুপ থাকে নি, তারা চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করতে থাকে। যদিও তাদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযান বা যুদ্ধের ইচ্ছা নাবী (সা) এর ছিল না। তাই নাবী (সা) শুধুমাত্র রাষ্ট্রের শত্রুদের টার্গেট করে হত্যা করেন, যেন অভিযান বা যুদ্ধ এড়াতে পারেন। যেমন ‛আবু রাফই হত্যাকাণ্ড’। এই ‛আবু রাফই’ ছিল স্বাফইয়া (রা) এর শ্বশুর। কিন্তু যখন নাবী (সা) জানলেন যে, “খন্দক যুদ্ধের পটভূমি রচিত হয়েছিল খাইবারের নেতাদের দ্বারা, তখন বাধ্য হয়ে নাবী (সা) খাইবার এবং খাইবারের নেতাদের দুর্গ গুলোর উপর আক্রমণ করেন।
ফল! যা হবার, তাই হয়, মুসলিম বাহিনী জয়ী হয়। যুদ্ধে স্বাফইয়া বিনতু হুইয়াই এর স্বামী কিনানাহ ইবনু রাবঈ মারা যান। অন্যান্য বন্দীদের মধ্যে স্বাফইয়া বিনতু হুইয়াই বন্দী হন। তারপর বন্দীনিদের বন্টন শুরু হয়। হাদীশে তা এভাবে রয়েছে- “দিহইয়াহ এসে বললেন : হে আল্লাহর নাবী, আমাকে একটি দাসী দিন (তখন দাসদাসী ব্যবস্থা হারাম হয় নি, দেখুন 47:4 আয়াহ)। তখন তিনি স্বাফইয়া’কে দিলেন। তখন এক ব্যক্তি নাবী (সা) এর নিকট এসে বলল : হে আল্লাহর নাবী, বনু কুরাইজ্বা ও বনু নাদ্বীরের অন্যতম নেত্রী স্বাফইয়া’কে আপনি দিহইয়াহ’কে দিচ্ছেন! তিনি তো একমাত্র আপনারই যোগ্য। তখন তিনি বললেন : দিহইয়াহ’কে স্বাফইয়া সহ ডেকে আন। তিনি স্বাফইয়া সহ উপস্থিত হলেন। যখন নাবী (সা) স্বাফইয়া’কে দেখলেন, তখন (দিহইয়াহ’কে) বললেন : তুমি বন্দীনিদের হতে অন্য একটি দাসী দেখে নাও। রাবী বলেন : নাবী (সা) স্বাফইয়া’কে দাসীত্ব হতে মুক্ত করে দিলেন এবং তাকে বিয়ে করলেন” (বুখারী, হাদীশ 371)।
বিবাহের উদ্দেশ্য আর নিশ্চয়ই বলতে হবে না! ইহুদীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করা। আর সেটাই হয়েছিল। এই বিবাহের জন্য খাইবারের ইহুদীরা মাদীনাহ রাষ্ট্রের অনুগত হয়ে যায়, মাদীনাহর সঙ্গে তাদের শত্রুতা চিরতরে শেষ হয়ে যায়। তারা তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত হয়। এর সঙ্গে খাইবারের ইহুদীদের মধ্যে অনেকেই ইসলাম গ্ৰহণ করেন। যদি নাবী (সা) এর উদ্দেশ্য হোত যৌনতা, তাহলে প্রথমত, তিনি তাকে বিবাহ না করে দাসী হিসাবেই রাখতে পারতেন। আর তখন তা বৈধও ছিল। দ্বিতীয়ত, নাবী (সা) তাকে চিনতেন না। তার রাজনৈতিক অবস্থানের কথা শুনে তাকে বিবাহ করেন। আর হাদীশে তা সুস্পষ্ট।
K/ 11) মাইমূনা বিনতু আল হারিশ (রা) ছিলেন নাবী (সা) এর একজন স্ত্রী। তিনি ছিলেন নাবী (সা) এর চাচা আব্বাস ইবনু আব্দুল মুত্ত্বালিব (রা) এর স্ত্রীর বোন। এর মানে, শালিকা। অর্থাৎ তিনি বিখ্যাত সাহাবা ও হাদীশ বর্ণনায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী ইবনু আব্বাস (রা) এর খালা/ মাসী। মাইমূনা (রা) বিধবা ছিলেন। তিনি তার বোনের স্বামীকে, মানে আব্বাস ইবনু আব্দুল মুত্ত্বালিব (রা) কে বলেন- “আমি নাবী (সা) কে বিবাহ করতে চাই”। নাবী (সা) সুযোগটা হাতছাড়া করতে চান নি। তিনি রাজি হন। আব্বাস ইবনু আব্দুল মুত্ত্বালিব (রা) বিবাহের ব্যবস্থা করেন (নাসাঈ, হাদীশ 3273)। তখন নাবী (সা) এর বয়স 60, তার 36 বছর, আর তখন চলছে সপ্তম হিজরী।
এবার মূল প্রশ্ন- “নাবী (সা) কেন তাকে বিবাহ করেন”?? কারণ তার পুরো নাম- মাইমূনা বিনতু আল হারিশ আল হিলালীয়াহ (রা)। শুধু নামের জন্য বিবাহ করেন! আপনি বুঝতে পারেন নি। তিনি ছিলেন মাক্কাহর বিখ্যাত হিলালী গোত্রের কন্যা, তার গোত্র ছিল কট্টর ইসলাম বিরোধী ও নাবী (সা) এর শত্রু। মাদীনাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ গ্ৰহণ কারী গোত্র। আর এজন্য নাবী (সা) তাকে বিবাহ করেন, এই বিবাহের জন্য হিলালী গোত্রের সঙ্গে শত্রুতা মিত্রতায় পরিণত হয়। যা পরবর্তীতে মাক্কাহ বিজয়ের ভিত্তি তৈরি করে।
L/ 12) নাবী (সা) এর আরেকজন স্ত্রী ছিলেন রাইহানা বিনতু যাইদ (রা)। তিনি বনু নাদ্বীর গোত্রের ইহুদী নারী। তার বিবাহ হয় বনু কুরাইজ্বা গোত্রে। বনু কুরাইজ্বার যুদ্ধে তার স্বামীর মৃত্যু হয়, তিনি বন্দী হন। শুনেছি বিস্তারিত তথ্য রয়েছে 88:22 এর টিকায়।
M/ 13) নাবী (সা) এর আরেকজন স্ত্রী ছিলেন মারইয়া আল কিবত্বীয়াহ (রা)। তাকে নাবী (সা) দাসী হিসাবে মিশরের শাসকের থেকে উপহার পেয়েছিলেন। নাবী (সা) তাকে দাসীত্ব হতে মুক্তি দেন ও বিবাহ করেন। তার থেকে নাবী (সা) এর একজন সন্তান জন্মেছিল। তার নাম ছিল- ইবরাহীম (রা)। যদিও তিনি শিশু অবস্থাতেই মারা যান। বিস্তারিত তথ্য রয়েছে 66:1 এর টিকায়।
নাবী ও তাঁর স্ত্রীদের প্রাইভেসির খেয়াল রাখার নির্দেশ।
33:53 নং আয়াহ : হে আমানূ/ ইমান আনা সম্মানিত মানুষজন, তোমাদেরকে অনুমতি দেওয়া না হলে, খাবার প্রস্তুত হওয়ার আগে নাবীর গৃহে প্রবেশ কর না। দাওয়াত/ আমন্ত্রণ দেওয়া হলে প্রবেশ কর, খাওয়া শেষে চলে যেও। হাদীশ/ কথাবার্তায় মেতে উঠবে না। নিশ্চয়ই ওটা নাবীর জন্য কষ্টকর, তিনি তোমাদেরকে বলতে সংকোচবোধ করেন। তবে আল্লাহ সত্য বলতে সংকোচ করেন না। আর যখন তোমরা তাদের (নাবীর স্ত্রীদের) থেকে কোনও দ্রব্য সামগ্রী চাইবে, তখন (তাদের) হিজাব/ প্রাইভেসি বজায় রেখে চাইবে (১)। তা তোমাদের মস্তিষ্কের জন্য ও তাদের মস্তিষ্কের জন্য ত্বাহির/ শান্তির জন্য জরুরি [33:33 টিকা দ্রঃ]। তোমাদের জন্য সঙ্গত নয় যে, তোমরা আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেবে। উচিৎ নয় যে, তোমরা তাঁর (মৃত্যুর) পর তাঁর স্ত্রীদেরকে নিকাহ/ বিবাহ করবে [33:6]। নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তা মহা অপরাধ (২)।
১) “যদি কোনও ব্যক্তি অনুমতি ছাড়া তোমার ঘরে উঁকি মারে, আর তখন তুমি তার প্রতি পাথর ছুঁড়ে তার চোখ নষ্ট করে দাও, এতে তোমার কোনও অপরাধ/ পাপ হবে না” (বুখারী, হাদীশ 6902)। প্রাইভেসি ইসলামে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এছাড়াও এর আগের দুটি হাদীশও খুব গুরুত্বপূর্ণ।
২) অপরাধের যৌক্তিকতা কোথায়?? অবশ্যই যৌক্তিকতা আছে। A) নাবী (সা) এর স্ত্রীদের মাধ্যমে আমাদের কাছে যে হাদীশ গুলো পৌঁছেছে, সেগুলো পৌঁছাত না। B) নাবী (সা) এর মৃত্যুর পর তার স্ত্রীরা মুসলিম বিশ্বের মুফতি হয়ে উঠেছিলেন। কঠিন কঠিন সমস্যায় পড়ে খলিফাগণ/ সাহাবাগণ তাঁদের কাছে যেতেন সমাধানের জন্য, আর তাঁরা সমাধান দিতেন। তাঁদের বিবাহ হয়ে গেলে, তা সম্ভব হোত না। ফলত মুসলিম উম্মাহ দিশেহারা/ ছিন্নভিন্ন হয়ে যেত। C) তাঁদের বিবাহ হলে আমরা ইসলামের যৌনতা সম্পর্কিত আইন/ বিধিনিষেধ গুলো পেতাম না।
D) যদি তাঁরা বিবাহ করতেন, তবে তাঁদের সন্তান সন্ততিও হোত। তাঁদের সন্তানরা নিজের ‛নাবী পুত্র/ কন্যা’ দাবিও করতে পারত। এ কারণেই নাবী (সা) কোনও পুত্রকেও আল্লাহ জীবিত রাখেন নি। তাঁরা শিশু অবস্থায়তেই মারা গেছেন। E) যদি নাবী (সা) এর স্ত্রীদের বিবাহ অনুমোদিত থাকত, তাহলে তা পূণ্যের কাজ বলে বিবেচিত করা হোত। কারণ তাঁরা সাধারণ নারী নয়, নাবী (সা) এর স্ত্রী। এই কারণে সাহাবারা তাঁদের স্বামী হওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করতে পিছপা হোত না। ফলে বিশৃঙ্খলা সহ একে অপরকে হত্যা করতেও পিছপা হোত না। F) তাঁদেরকে বিবাহ করা খুবই গৌরবের বিষয় হোত, সমস্ত সাহাবারা এই প্রতিযোগিতায় নামতেন। ফলে তৈরি হোত E এর মতো অবস্থা। G) এছাড়াও নাবী (সা) এর স্ত্রীরাও ‛নাবীর স্ত্রী’ হওয়ার জন্য যে সম্মান ও মর্যাদা পেতেন, তা নষ্ট হয়ে তাঁরা ‛সাধারণ নারী’ হয়ে যেতেন। হারিয়ে ফেলতেন ‛উম্মুল মূমীনীন/ মূমীনদের মা’ এর মতো আল্লাহ প্রদত্ত ‛খেতাব’।
33:54 নং আয়াহ : তোমরা যা কিছু প্রকাশ কর কিংবা গোপন কর [2:284, 16:19], তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেকটা বিষয়ে আলীম/ জ্ঞানী [2:29, 2:115]।
নাবীর স্ত্রীদের প্রাইভেসিতে যারা যারা শিথিলতা পেত।
33:55 নং আয়াহ : তাদের (নাবীর স্ত্রীদের) জন্য কোনও সমস্যা নেই তাদের পিতাদের ক্ষেত্রে, পুত্রদের ক্ষেত্রে, ভাইদের, ভাইদের পুত্র (ভাইপো) দের ক্ষেত্রে, বোনদের পুত্র (বোনপো) দের ক্ষেত্রে, অন্য নারীদের ক্ষেত্রে, তাদের ডান হাতের অধীনস্থ/ দাস-দাসীদের ক্ষেত্রে প্রাইভেসি শিথিল করলে [24:58-59, 24:61]। আর আপনারা (নাবীর স্ত্রীরা) আল্লাহর জন্য তাকওয়া (অপ্রয়োজনীয় কথা ও কাজ থেকে দূরত্ব) অবলম্বন করুন [33:1, 33:32]। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত কিছুর উপর শাহীদ/ সাক্ষী [4:33, 22:17]।
নাবী (সা) এর উপর দরুদ ও সালাম পাঠ করার নির্দেশ।
33:56 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তার ফেরেস্তারা নাবীর জন্য স্বালাত/ কল্যাণ কামনা [33:43] করেন (১)। সুতরাং হে সত্য স্বীকার করা সম্মানিত মানুষজন, তোমরা তার উপর স্বালাত/ দরুদ পড় এবং সালাম প্রেরণ করতে থাক।
১) আমরা আল্লাহর থেকে চাই, আল্লাহ কার থেকে চান?? একটু ভুল বুঝেছেন। চাওয়া এবং কামনা- দুটি ভিন্ন শব্দ, এদের অর্থও ভিন্ন। চাওয়া মানে- প্রার্থনা। কামনা মানে- ইচ্ছা। যেমন, এখন নাস্তিক ভাবেন- “আমি ধনী হব এবং একটা সুন্দরী নারীকে বিবাহ করব”। এটা কামনা, এটা তার ইচ্ছা। তিনি তা কারোর/ আল্লাহর থেকে চাইছেন না, তিনি কামনা করেন। মানে, এটা তার ইচ্ছা। আল্লাহ ও ফেরেস্তারা কামনা করেন। তারমানে, এই নয় যে, কারোর থেকে চাইছেন।
# দুটি প্রশ্ন- A) দরুদ তো আমরা জানি কিন্তু সালাম প্রেরণ বলতে আসলে কি?? “আসসলামু আলাইকা ইয়া আইয়ুহান নাবী”- এটাই সালাম প্রেরণ। বুঝতে পারছেন না?? এটা আত্তাহিয়াতুর অংশ, মনে পড়েছে?? B) নাবী (সা) কি আত্তাহিয়াতু ও দরুদ পড়েছেন?? হ্যাঁ, পড়েছেন। কোথায় পাব?? মুসলিম, হাদীশ 580/2 ও ইবনে মাজাহ, হাদীশ 1191 এ।
আল্লাহ ও তার রাসূলের প্রতি অপবাদের শাস্তি।
33:57 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই যারা কষ্ট দেয় (১) আল্লাহ ও তার রাসূলকে [58:5], তাদের জন্য তিনি লানত/ শাস্তি ঘোষণা দিয়েছেন, (তারা তা পাবে) ইহজীবনে ও পরবর্তী জীবনে [4:14, 8:13]। আর তিনি তাদের জন্য প্রস্তুত করে রাখবেন অপমাজনক আযাব/ শাস্তি।
১) আল্লাহকে কষ্ট দেওয়া যায়! আসলে এটা আরবি বাক রীতি, প্রবাদ জাতীয় কথা। যার অর্থ- অপবাদ দেওয়া। প্রমাণের জন্য দেখুন 33:69 আয়াহ। মানে, নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ তার রাসূলের উপর অপবাদ দেয়…। দেখুন 48:6 আয়াহ।
মূমীন নারী ও পুরুষের উপর অপবাদের শাস্তি।
33:58 নং আয়াহ : আর যারা কষ্ট দেয় মূমীন/ সত্য স্বীকারকারী পুরুষ ও মূমীন/ সত্য স্বীকারকারী নারীদেরকে কোনও অর্জন/ অপরাধ ছাড়াই [24:11-13], তাহলে অবশ্যই তারা বহন করবে অপবাদের ও সুস্পষ্ট পাপের বোঝা।
ছাতির উপর ‛বাড়তি কাপড়/ ওড়না’ দেওয়া।
33:59 নং আয়াহ : হে সম্মানিত নাবী, আপনার স্ত্রীদের, কন্যাদের ও মূমীন/ সত্য স্বীকারকারী নারীদেরকে বলুন- “তারা যেন তাদের (ছাতির) উপর তাদের জিলবাব/ ওড়নার কিছু অংশ (১) টেনে নেয়”। ওটা তাদের পরিচয় পাওয়ার (২) অধিক নিকটবর্তী। ফলে তাদেরকে কষ্ট দেওয়া হবে না (৩)। আর আল্লাহ গাফূর/ ক্ষমাশীল ও রাহীম/ করুণাময়।
১) অর্থাৎ মাথা ঢাকার জিলবাব/ ওড়নার কিছু অংশ তাদের ছাতির উপর টেনে নেয়। মাথা ঢাকা কি জরুরি?? না। তবে সেই যুগে মাথা ঢাকা হোত, নয়ত চুলের ভিতরে বালি ঢুকে যেত। তাই তারা মাথা ঢাকতেন, মাথা ঢাকার কাপড়ের কিছু অংশ ছাতির উপর টেনে নিতে বলা হয়েছে। মানে, এখানে নির্দেশ শুধু ‛ছাতির উপর বাড়তি’ ওড়না দেওয়া।
২) মুখমণ্ডল ঢাকা যাবে না। ঢাকলে তাদেরকে আর চেনা যাবে না, যা সরাসরি 49:13 বিরোধী। যেখানে পরিষ্কার ভাবে আল্লাহ বলেছেন- “যেন তোমরা একে অপরকে চিনতে পার”।
৩) ‛কষ্ট দেওয়া হবে না’ বলতে কি?? সেই যুগে অসতী ও যৌন পেশাদার নারীরা ছাতির উপর ওড়না ব্যবহার করত না। তাই এখানে মূমীন নারীদের ছাতির উপর ওড়না দিতে বলা হচ্ছে। যাতে তাদেরকে সহজে চেনা যায় যে, এরা অসতী ও যৌন পেশাদার নারী নয়। আর যেন মূমীন নারীদেরকে কেউ যৌন পেশাদার ভেবে কেউ বিরক্ত না করে।
তবে তারমানে, এই নয় যে, বোরখা, হিজাব ও নিকাব। এক সময়ে ও এখনও ’খৃষ্টান নান’রা বোরখা পরত/ এখনও পরে। সুতরাং বোরখা হিজাব ও নিকাব ইসলামী পোষাক নয়। এগুলো খৃষ্টান ধর্মীয় পোষাক। চাইলে গুগলে গিয়ে ‛খৃষ্টান নান’ লিখে সার্চ দিয়ে দেখে নিন।
যে অপরাধ গুলোর শাস্তি বিতাড়িত/ হত্যা।
33:60 নং আয়াহ : মুনাফিক (১), যাদের মস্তিষ্কে সমূহে রোগ আছে (২) ও মাদীনাহর প্রোপাগান্ডাকারী (৩) যদি বিরত না হয়, (যদি তারা এভাবেই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুজব রটাতে থাকে) তাহলে আমরা আপনাকে (নাবীকে) তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতা প্রদান করব। তারপর তারা আপনার প্রতিবেশী হয়ে তাতে (মদীনায়) অল্প কিছু সময়ই থাকতে পারবে,
১) এরা মুসলিম কিন্তু ইসলামের কিছু স্বীকার, কিছু অস্বীকার করে। যেমন, তারা যাকাত/ ট্যাক্স দিতে অস্বীকার করত (33:1)।
২) এরা গোপনে ইসলাম অস্বীকারকারী। মুসলিমদের যুদ্ধে যেত লাভ দেখতে পেলে, লাভ না দেখলে ফিরে আসত। মাঝে মধ্যে মুসলিমদের সঙ্গে মুসলিমদের মতো। অমুসলিমদের সঙ্গে তাদের মতো। এমনকি ইসলাম বিরোধী কাজেও যুক্ত থাকত (2:10, 33:12)। আধুনিক পরিভাষায় বললে হবে ‛দেশদ্রোহী সৈনিক’।
৩) এরা কারা?? মুসলিমই ছিল, খানিকটা মুনাফিক গোছের। এরা প্রমাণ ছাড়া ‛প্রোপাগান্ডা’ চালিয়ে সত্যকে মিথ্যা, মিথ্যাকে সত্য প্রমাণ করতে চাইত। যেমন, তারা আইশাহ (রা) এর নামে প্রোপাগান্ডা (24:11-13) চালিয়ে ছিল। মানে, 2014 পর থেকে ভারতীয় মিডিয়া (সবাই নয়) যা করে চলেছে।
33:61 নং আয়াহ : অভিশপ্ত হয়ে। তাদেরকে যেখানেই পাওয়া যাবে, ধরা হবে এবং তাদেরকে হত্যা করা হবে।
আল্লাহর সুন্নাত/ রীতি অপরিবর্তনীয়।
33:62 নং আয়াহ : এটাই আল্লাহর সুন্নাত/ রীতি, যারা অতীত হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও ছিল (এই রীতি)। আর আপনি আল্লাহর সুন্নাত/ রীতিতে কোনও পরিবর্তন পাবেন না।
কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করায় নাবী (সা) এর জবাব।
33:63 নং আয়াহ : মানুষরা কি আপনাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে?? বলুন- “এই সম্পর্কিত জ্ঞান আল্লাহর কাছেই রয়েছে” [20:15, 7:187-188]। আপনি (নাবী) কিভাবে জানবেন, হয়ত কিয়ামত [43:61, 43:85] নিকটে!
‛মাদীনাহ সনদ’ অস্বীকারকারীদের পরকালীন শাস্তি।
33:64 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফির (মাদীনাহ সনদ [33:1] অস্বীকারকারীদের) লনত/ শাস্তি ঘোষনা করেন। আর (তা এই) তাদের জন্য প্রস্তুত করে রাখবেন জলন্ত আগুন।
33:65 নং আয়াহ : তারা তাতে থাকবে অনন্তকাল। তারা না পাবে ওলী/ অভিভাবক [41:31], আর না পাবে সাহায্যকারী [4:45]।
আল্লাহ ও রাসূলের অনুসরণ না করার আফসোস।
33:66 নং আয়াহ : যেদিন তাদের মুখমণ্ডলকে আগুনে ওলটপালট করা হবে, তারা বলবে- “হায়! যদি আমরা অনুসরণ করতাম আল্লাহর, অনুসরণ [4:59, 47:33] করতাম রাসূলের” [25:27, 67:10]।
সাধারণ মানুষকে ‛দুই ধরনের মানুষ’ পথভ্রষ্ট করে।
33:67 নং আয়াহ : আর আরও বলবে- “হে আমাদের রব/ প্রভু, নিশ্চয়ই আমরা অনুসরণ করেছি আমাদের নেতাদের ও প্রধান/ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের [40:47, 37:28]। সুতরাং তারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট [34:31, 37:28] করেছিল [34:33]।
সাধারণ পথভ্রষ্টরা ‛নেতা ও বিশিষ্টদের’ জন্য শাস্তি চাইবে।
33:68 নং আয়াহ : হে আমাদের প্রভু, তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দিন। আর তাদেরকে বড় লানত/ শাস্তি দ্বারা লানত/ শাস্তি (১) দিন [7:38]।
১) তবে সাধারণ মানুষরা আল্লাহর কাছে আরও একটি বিশেষ আবেদন করবে, তা এখানে নেই। তা রয়েছে 41:29 এ। যান, দেখে আসুন।
# এখানে নেতা ও বিশিষ্টরা জবাবে কী বলবে, তা এখানে উল্লেখ নেই। তবে, 37:29-32 ও 34:32 এ উল্লেখ রয়েছে। যান, দেখে আসুন। বেশ মজা লাগবে।
মূসা (আ) এর উপর ‛শারীরিক ত্রুটির’ অপবাদ।
33:69 নং আয়াহ : হে সম্মানিত আমানূ/ সত্য গ্ৰহণ করা মানুষজন, তোমরা হইও না তাদের মতো, যারা কষ্ট [33:57] দিয়েছিল মূসাকে। অতঃপর আল্লাহ তাকে নির্দোষ প্রমাণ করলেন (১)। যা তারা বলেছিল, সেই সম্পর্কে। আর তিনি (মূসা) ছিলেন আল্লাহর কাছে দোষহীন।
১) ঘটনাটা কি?? ঘটনাটা রয়েছে বুখারীর 278 ও 3404 নং হাদীশে। গিয়ে দেখে নিন।
‛তাকওয়া ও ন্যায্য কথা’র প্রতিদান ও সাফল্য।
33:70 নং আয়াহ : হে ইমান/ সত্য গ্ৰহণ করা সম্মানিত মানুষজন, আল্লাহর জন্য তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন কর [39:33] এবং উচিৎ/ ন্যায্য কথা বল।
33:71 নং আয়াহ : তিনি সংশোধন করবেন তোমাদের আমল/ কর্ম সমূহকে [25:70], ক্ষমা করবেন তোমাদের যুনূব/ পাপ সমূহকে। আর যে অনুসরণ করল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের [62:2], সে অবশ্যই সফল [91:9, 87:14] হল। যদিও ওটাই মহা সাফল্য।
মানুষ অকল্পনীয় মর্যাদার যোগ্য।
33:72 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমরা আর্জ (পেশ/ প্রস্তাব) করেছিলাম সামাওয়াত/ মহাবিশ্ব সমূহ, আরদ্ব/ গ্ৰহ উপগ্রহ সমূহ ও জিবাল/ পর্বতমালা গুলোর কাছে যে, এই আমানত (আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব) বহন করে। কিন্তু তারা ভয় পেল, অপারগতা প্রকাশ করল। তবে মানুষ তা [2:30, 35:39] বহন করার যোগ্য [6:165, 27:62]। তবে নিশ্চিতরূপে সে জালিম/ অবিচারী ও জাহিল/ মূর্খ (১)।
১) অর্থাৎ মানুষ আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব না করে সৃষ্টির প্রতি অন্যায় ও অবিচার করে বেড়াচ্ছে, কেননা মানুষ মূর্খ। অথচ তার মর্যাদা সমস্ত মহাবিশ্ব গুলোর চেয়েও অনেক বেশি।
মূমীনরা ক্ষমা পাবেন, কিন্তু কেন??
33:73 নং আয়াহ : (এ দায়িত্ব না পালনের) জন্য আল্লাহ আযাব/ শাস্তি দেবেন মুনাফিক পুরুষদেরকে ও মুনাফিক নারীদেরকছ, মুশরিক পুরুষদেরকে ও মুশরিক নারীদেরকে [84:6]। আর (দায়িত্ব পালনের জন্য) ক্ষমা করবেন মূমীন পুরুষদের ও মূমীন নারীদের (১)। আল্লাহ হলেন গাফূর/ ক্ষমাশীল, রাহীম/ করুণাময়।
১) বর্তমানের মূমীন পুরুষ ও নারীরা এ পালন তো দূরের কথা, এই দায়িত্ব সম্পর্কে জানেও না, তারা কি ক্ষমা পাবে?? সহজ উত্তর- না।