৭৯ নং সূরাহ | সূরাহ নাযিয়াত | Surah no 79 | Surah Naziat |

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। 

অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।

নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 46 টি।

ব্ল্যাকহোলে‌র মহাকর্ষ বল মারাত্মক।

79:1 নং আয়াহ : শপথ তাদের (ব্ল্যাকহোল সমূহের), যে গুলো মারাত্মক (মহাকর্ষ বল দ্বারা) আকর্ষণ করে।

ব্ল্যাকহোল ধীরে ধীরে সমস্ত কিছু গ্ৰাস করে নেয়।

79:2 নং আয়াহ : শপথ তাদের (ব্ল্যাকহোল সমূহের), যে গুলো ধীরে ধীরে গ্ৰাস [56:75] করে নেয়।

ব্ল্যাকহোল গুলো মহাশূন্যে ভাসমান।

79:3 নং আয়াহ : শপথ তাদের (ব্ল্যাকহোল সমূহের), যে গুলো (মহাশূন্যে) ভাসমান [35:41]।

ব্ল্যাকহোল গুলো মহাশূন্যে দ্রুত গতিতে ঘুরছে।

79:4 নং আয়াহ : শপথ তাদের (ব্ল্যাকহোল সমূহের), যে গুলো দ্রুত গতিতে [36:40] ঘূর্ণনশীল।

ব্ল্যাকহোল গুলো‌ও আল্লাহর নিয়মে‌র অধীন।

79:5 নং আয়াহ : শপথ তাদের (ব্ল্যাকহোল সমূহের), যে গুলো (আল্লাহর সৃষ্ট) নিয়মের [7:55, 12:40] অধীন।

# অর্থাৎ ব্ল্যাকহোল গুলো‌ যত‌ই শক্তিশালী হোক না কেন, আল্লাহর নিয়মের অধীন।

মহাবিশ্বের সম্প্রসারণ একদিন থামবে।

79:6 নং আয়াহ : সেদিন (মহাবিশ্বের) সম্প্রসারণ থেমে [69:16, 21:104] যাবে।

মহাবিশ্বের সংকোচন ঘটবে।

79:7 নং আয়াহ : তাকে অনুসরণ করে শুরু হবে (মহাবিশ্বের) সংকোচন [84:1-5]।

বিচার দিবসে অপরাধীদের অবস্থা।

79:8 নং আয়াহ : সেদিন ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত হবে ও হৃৎপিণ্ড সমূহের গতি বৃদ্ধি পাবে।

79:9 নং আয়াহ : দৃষ্টি সমূহ (লজ্জায়) অবনমিত [68:43, 70:44, 88:2] অবস্থায় থাকবে।

সংশয়বাদী/ নাস্তিকী কথাবার্তা ও চিন্তা ভাবনা।

79:10 নং আয়াহ : তারা বলে- “সত্যিই আমরা কি (মৃত্যুর পর) আবার পূর্ব অবস্থায় (জীবিত অবস্থায়) ফিরে যাব,

79:11 নং আয়াহ : যখন আমাদের হাড় গুলো চূর্ণবিচূর্ণ [17:49, 37:16-18] হয়ে যাবে”??

79:12 নং আয়াহ : তারা বলে- “(যদি তাই হয়) তাহলে পূর্ব অবস্থায় ফিরে যাওয়া [17:50, 36:79] তো মারাত্মক ক্ষতিকর”!

পুনরুত্থান একটি নির্দেশ মাত্র।

79:13 নং আয়াহ : অতঃপর নিশ্চিত‌ই তা (পুনরুত্থান) একটি নির্দেশ [37:19, 2:117, 64:7] মাত্র।

পুনরুত্থান হবে একত্রিত ভূমি‌র উপর।

79:14 নং আয়াহ : অতঃপর তখ‌নই তারা (বিচারের জন্য) একত্রিত ভূমি‌র উপর [69:16-17, 70:43] হাজির হবে। 

নাবী (সা) কে আল্লাহ‌র প্রশ্ন।

79:15 নং আয়াহ : (হে নাবী) আপনার কাছে কি মূসার হাদীশ/ তথ্য [20:9] এসেছে??

# প্রশ্ন হবে- “আল্লাহ কি জানতেন না যে, নাবী (সা) এর কাছে মূসা (আ) সম্পর্কে বর্ণনা এসেছে কিনা”?? উত্তর সহজ- জানতেন। তাহলে জিজ্ঞাসা করছেন কেন?? এটা আরবি বাক রীতি। পবিত্র কুরআনে‌র সর্বত্র‌ই এই রীতি দেখা যাবে।

আল্লাহ মূসা (আ) কে ডাকলেন।

79:16 নং আয়াহ : যখন তাকে তার প্রভু ডেকে ছিলেন পবিত্র তুয়া [20:12] উপত্যকা‌য়।

মূসা (আ) কে আল্লাহর নির্দেশ।

79:17 নং আয়াহ : (আল্লাহ বলেছিলেন) ফির‌আউনের এর কাছে যান, নিশ্চয়ই সে সীমালঙ্ঘন [20:24, 20:43, 28:4] করেছে।

মূসা (আ) ফির‌আউনকে কি বলেছিলেন??

79:18 নং আয়াহ : অতঃপর তাকে বলুন- “তুমি কি নিজেকে সংশোধন করতে চাও??

79:19 নং আয়াহ : (এও বলুন) আমি তোমাকে তোমার প্রভুর দিকে যাওয়ার পথ দেখাবো, অতঃপর তাকে ভয় করো”।

মূসা (আ) ফির‌আউন‌কে বড় নিদর্শন দেখালো।

79:20 নং আয়াহ : অতঃপর তিনি/ মূসা তাকে একটি বড় নিদর্শন [7:107, 26:32] দেখালো।

নিদর্শনের প্রতি ফির‌আউনের প্রতিক্রিয়া।

79:21 নং আয়াহ : কিন্তু সে/ ফির‌আউন (নিদর্শনটিকে) মিথ্যা ভাবলো এবং (মূসার প্রস্তাব‌কে) অমান্য করলো।

ফির‌আউন মূসাকে জবাব দিতে চাইলো।

79:22 নং আয়াহ : তারপর সে (ফির‌আওন) পিছনে ফিরে (মূসার নিদর্শন গুলোর) জবাব দেওয়ার 7:111-112, 10:79, 20:58, 26:36-37] চেষ্টা‌য় লেগে গেল।

ফির‌আউন জনসভা আয়োজিত করলো।

79:23 নং আয়াহ : অতঃপর সে মানুষদেরকে সমবেত করলো এবং ঘোষণা করলো-

ফির‌আউন নিজেকে ‛প্রতিপালক’ দাবি করল।

79:24 নং আয়াহ : এবং বললো- “আমি‌ই তোমাদের সর্বোচ্চ রব/ প্রতিপালক” [26:29, 28:38]।

আল্লাহ ফির‌আউন‌কে শাস্তি দিলেন।

79:25 নং আয়াহ : অবশেষে আল্লাহ তাকে প্রথম ও শেষ বারের [2:50, 7:136, 8:54, 10:90, 17:103, 21:77, 25:37, 26:66, 29:40, 43:55] মতো ধরলেন ১।

১ এটা আরবি বাক রীতি। যার অর্থ- শাস্তি দিলেন। এখানে ‛ধরলেন’ বলতে হাত দিয়ে ধরা নয়।

ফির‌আউনের ঘটনায় রয়েছে শিক্ষনীয় বিষয়।

79:26 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই ঐ ঘটনায় রয়েছে শিক্ষা। তার জন্য, যে ভয় করে।

মানব জাতিকে আল্লাহর প্রশ্ন।

79:27 নং আয়াহ : তোমাদের‌কে সৃষ্টি করা কঠিন, নাকি [40:57] মহাবিশ্ব?? অথচ তিনি তা বানিয়েছেন ১।

১ তাহলে তোমাদের সৃষ্টি করা তো খুব‌ই সহজ। তোমরা তা মেনে নিতে পারছো না কেন??

■ মহাবিশ্বের অকল্পনীয় বড়। ■  মহাবিশ্ব আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে।

79:28 নং আয়াহ : তিনি তাকে (সম্প্রসারণের [51:47, 81:15] মাধ্যমে) অকল্পনীয় বড় আকৃতি দিয়েছেন। কিন্তু তিনি তা নিয়ন্ত্রণে [79:6-7, 21:104, 69:16-17] রাখেন।

মহাবিশ্ব সৃষ্টির পূর্বে মহাশূন্য আলোহীন ছিল।

79:29 নং আয়াহ : আলোহীন অবস্থা বিরাজিত ছিল এবং (মহাবিশ্ব সৃষ্টির মাধ্যমে) বের করেছেন আলো/ ফোটন।

পৃথিবীর আকৃতি কেমন??

79:30 নং আয়াহ : অতঃপর তিনি পৃথিবী‌কে উটপাখির ডিমের মতো আকৃতি [39:5] প্রদান করলেন (১)।

# গুগলে গিয়ে প্রথমে উটপাখির ডিমের ছবি দেখুন এবং ছবিটা ডাউনলোড করুন। তারপর গুগলে Original earth image লিখে সার্চ করুন এবং ছবিটা ডাউনলোড করে নিন। তারপর উটপাখির ডিমটাকে Rotate করে শুইয়ে দিন। তারপর পৃথিবীর ছবির সঙ্গে মিলিয়ে নিন। পবিত্র কুরআন যা বলছে, তা কতটা সত্য!

১) হাদীশেও পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে কথা বলা হয়েছে। বলা হয়েছে- “কিয়ামতের দিন পৃথিবীর অবস্থা হবে ‛বেলা রুটির’ মতো আকৃতি” (বুখারী, হাদীশ 6520)। এখন বলুন- বেলার আগে রুটির অবস্থা কেমন থাকে! বেলার আগে রুটি খামির হিসাবে গোল অবস্থায় থাকে, তারপর কাঠের উপর রেখে হাতের ভর দিয়ে উপর নিচে হালকা চ‍্যাপ্টা বানিয়ে নেওয়া হয়। মানে, গোল কিন্তু পেট টা ফোলা। তাই না?? যদি পৃথিবীর আসল ছবি দেখেন, তাহলে দেখতে পাবেন- পৃথিবীর গোল কিন্তু পেট বা ভূমধ‍্যরেখা একটু ফোলা। পুরো রুটি বেলনি দিয়ে বেলার আগে যে অবস্থায় থাকে।

পৃথিবী থেকেই পানি ও আগুন বের হয়।

79:31 নং আয়াহ : তিনি তা (পৃথিবী) হতে বের করেন পানি এবং আগুন/ ম‍্যাগমা [99:2]।

পাহাড় পর্বতের গভীর মূল থাকে।

79:32 নং আয়াহ : তিনি পাহাড় পর্বত গুলোকে গভীর মূল [78:7] সহ সৃষ্টি করেছেন।

# এজন্যই পাহাড় পর্বতীয় ক্রাষ্ট/ ভূত্বক 75-80 কিমি মোটা হয়ে থাকে, যেখানে গড় 15-35 কিমি। সমুদ্র তলের গড় তো আরও কম 4-11 কিমি।

পর্বত পর্বত দ্বারা জীবিকার সৃষ্টি।

79:33 নং আয়াহ : তোমাদের এবং তোমাদের পশুগুলো‌র জন্য জীবিকা নির্বাহ ১ করার জন্য।

১ কিভাবে?? উত্তর সহজ- পর্বত ও পর্বত মানেই সেখান থেকে নদ নদী সৃষ্টি হবে। যদি শুধুমাত্র গঙ্গা নদীর কথাই বলি, তাহলে আমরা দেখতে পাবো- কোটি কোটি মানুষ জীবিকা অর্জন করছে। শুধুমাত্র মাছ ধরা নয়, পারাপার করা (নদী পথ, ব্রিজ টোল), পরিবহন ব‍্যবস্থা ও পরিবহন শিল্প (যেখান থেকে জাহাজ নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত লক্ষ লক্ষ মানুষ কাজ পায়), নদী পর্যাটন সহ অন‍্যান‍্য।

   এছাড়াও পাহাড় পর্বতের সঙ্গে যুক্ত পর্যাটন তো আছেই। আর নদ নদী মানেই ভূগর্ভস্থ জলের অভাব পূরণ। আর তা হলেই সবুজতা। আর সবুজতা মানেই পশু পাখি‌দের জীবিকা নির্বাহ।

মহাবিপদ নিয়ে আসবে মহাপ্রলয়।

79:34 নং আয়াহ : অতঃপর যখন আসবে মহাবিপদ, যা আনবে মহাপ্রলয়।

বিচার দিবসে ইহজীবনে‌র স্মরণ।

79:35 নং আয়াহ : সেই দিবসে মানুষ যা যা (কর্ম) প্রচেষ্টা করেছিল, তা স্মরণ [89:23] করবে।

জাহান্নাম‌কে প্রকাশ করা হবে।

79:36 নং আয়াহ : জাহান্নামকে প্রকাশ করা হবে। তার জন্য, যে (ইহজীবনে) তা দেখতে [52:14] চাইতো।

উগ্ৰতার পরিণতি জাহান্নাম।

79:37 নং আয়াহ : অতঃপর যে উগ্ৰতা [19:72] অবলম্বন  করেছিল।

ইহজীবনকে অগ্ৰাধীকার দেওয়া বোকামি।

79:38 নং আয়াহ : আর যে ইহজীবনকে অগ্ৰাধীকার  [2:200] দিয়েছিল [87:17]।

ইহজীবনকে অগ্ৰাধীকার দেওয়া‌র পরিণতি।

79:39 নং আয়াহ : এত‌এব জাহান্নাম‌ই হবে [17:18] তার যোগ্য ঠিকানা/ বাসস্থান।

জান্নাত যার যথাযোগ্য ঠিকানা/ বাসস্থান।

79:40 নং আয়াহ : অপরদিকে যে তার প্রভুর সামনে দাঁড়াতে ভয় করবে এবং নিজেকে বিরত রাখবে মস্তিষ্কের খারাপ কামনা বাসনা থেকে,

79:41 নং আয়াহ : তার যথাযোগ্য ঠিকানা/ বাসস্থান হবে- জান্নাত।

নাবী (সা) কিয়ামতের দিনক্ষণ সম্পর্কে জানতেন না।

79:42 নং আয়াহ : তারা কি আপনাকে কিয়ামাত জিজ্ঞাসা করছে যে, কবে তা ঘটবে??

79:43 নং আয়াহ : তা বলে দেওয়ার জ্ঞান কি [7:187-188] আপনার আছে??

# অর্থাৎ তা বলে দেওয়ার জ্ঞান কি আপনার আছে যে, তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করছে!

কিয়ামতের জ্ঞান আল্লাহর কাছেই।

79:44 নং আয়াহ : তার চূড়ান্ত/ নিঁখুত জ্ঞান তো আল্লাহর [20:15] কাছেই।

নাবী (সা) এর মূল দায়িত্ব।

79:45 নং আয়াহ : নিশ্চিত‌ই আপনি শুধুমাত্র একজন সতর্ককারী [88:21-22]। তার জন্য, যে ভয় [87:10, 98:8]  করে।

সময়ের আপেক্ষিকতা সত্য।

79:46 নং আয়াহ : যেদিন তারা তা (কিয়ামত) দেখবে, সেদিন (সময়ের গতি এমন হবে যে) তাদের মনে হবে- তারা (ইহজীবনে) অবস্থান করেছিল মাত্র এক সকাল বা এক সন্ধ্যা পর্যন্ত [20:102-104]।

# এই সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে যতগুলো আয়াত রয়েছে, সমস্ত আয়াত গুলো একত্রিত করে বিস্তারিত তথ্য/ আলোচনা করেছি 30:55 এর টিকায়। যান, গিয়ে একবার দেখে আসুন।

5/5 - (1 vote)
শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন