৫২ নং সূরাহ | সূরাহ তূর | Surah no 52 | Surah Tur |

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। 

অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।

নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 49 টি।

তূরের শপথ কেন??

52:1 নং আয়াহ : শপথ তূরের [95:2]।

# আরবি ভাষায় কোনও বস্তুর শপথ করা হয়, তার গুরুত্ব বোঝানোর জন্য। এখানে তূরের গুরুত্ব বোঝাতে তূরের শপথ করা হয়েছে। আসলে বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্র হবে এই তূর পর্বতের এলাকা। যা বর্তমানে অবৈধ ইসরায়েল রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত। লক্ষণীয় বিষয় হল- আজও বিশ্ব রাজনীতি‌কে প্রভাবিত করে এই তূর পর্বত এলাকা।

কুরআন কখনও অলিখিত ছিল না।

52:2 নং আয়াহ : শপথ লিখিত থাকা [80:13] কিতাব/ কুরআনের।

কুরআন সবার জন্য।

52:3 নং আয়াহ : যা কাগজ/ চামড়া/ হাড়/ গাছের ছালের উপর লিখিত হচ্ছে, যা সবার [80:12] জন্য উন্মুক্ত [81:27]।

ফেরেস্তাদের মাসজিদ।

52:4 নং আয়াহ : শপথ (ফেরেস্তাদের মাসজিদ) বাইতুল মামূরের।

# এই সম্পর্কে বুখারীর 3207 নং এ মিরাজ সম্পর্কিত একটি হাদীশ রয়েছে। যেখানে বাইতুল মামূর সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য রয়েছে। গিয়ে একবার দেখে আসতে পারেন। ব‍্যাপারটা বুঝতে সুবিধা হবে।

বায়ুমণ্ডলের উচ্চতা দশ হাজার কিমি।

52:5 নং আয়াহ : শপথ সুউচ্চ ছাদ/ বায়ুমণ্ডলের [88:18, 21:32]।

প্রশান্ত মহাসাগর আগ্নেয়গিরি দ্বারা ঘেরা।

52:6 নং আয়াহ : শপথ আগুন/ আগ্নেয় গিরি দ্বারা ঘেরা সুবৃহৎ (প্রশান্ত) মহাসাগরের।

# বিজ্ঞান/ ভূগোলের ভাষায় বলা হয়- Pacific Ring of Fire (প্রশান্ত মহাসাগরীয় অগ্নিবলয়)।

ভিন্ন অনুবাদ : শপথ আগুন/ ম‍্যাগমার নিচে থাকা সুবৃহৎ মহা সাগরের।

# এই মাত্র কিছু দিন আগেই বিজ্ঞানীরা এ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন যে, পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে 650 কিমি গভীরে মহা সাগর রয়েছে। যার পানির পরিমাণ পৃথিবী পৃষ্ঠের থেকে কয়েকগুণ বেশি। চাইলে গুগলে গিয়ে সার্চ করে দেখে আসুন।

সৌরজগৎ ধ্বংস হবে, তাকে আঁটকানো সম্ভব নয়।

52:7 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আপনার প্রভুর শাস্তি অবশ্যই আসবে [75:8-9, 79:8]।

52:8 নং আয়াহ : যাকে প্রতিরোধ‌ করার ক্ষমতা কারোর হবে না [56:1-2]।

সূর্যের বিস্ফোরণে গ‍্যালাক্সির অবস্থা।

52:9 নং আয়াহ : সেদিন (সূর্যের বিস্ফোরণের জন্য) গোটা গ‍্যালাক্সিতে তরঙ্গ ঢেউ সৃষ্টি হবে, যা (গ‍্যালাক্সিকে) প্রকম্পিত করবে।

পাহাড় পর্বত গুলো দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।

52:10 নং আয়াহ : আর (সেই সময়ের লক্ষণ হল) পাহাড় পর্বত গুলো দ্রুত বৃদ্ধি‌ [81:3, 27:88] ঘটবে।

প্রমাণিত সত্য অস্বীকারের পরিণতি ও বৈশিষ্ট্য।

52:11 নং আয়াহ : সুতরাং সেদিন ধ্বংস হবে (এই সত্য গুলো) অস্বীকার কারীরা [83:10, 77:15]।

কুযুক্তি প্রদানের খেলা চলছে।

52:12 নং আয়াহ : যারা কুযুক্তি প্রদানের [50:25, 14:3] খেলায় মেতে [52:42] রয়েছে।

তাদেরকে ধাক্কা জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।

52:13 নং আয়াহ : সেদিন তাদের‌কে ধাক্কা দিতে দিতে জাহান্নামের আগুনের দিকে [50:24] নিয়ে যাওয়া হবে।

তাদেরকে যা বলা হবে।

52:14 নং আয়াহ : (তাদের‌কে বলা হবে) এই সেই আগুন, যাকে তোমরা মিথ্যা ভাবতে/ অস্বীকার [39:24, 55:43] করতে [22:22, 29:55]।

তাদের আর যা যা বলা হবে।

52:15 নং আয়াহ : (বলা হবে) এটা কি জাদু?? তোমরা কি দেখতে পাচ্ছ না (তা সত্য, নাকি মিথ্যা)??

52:16 নং আয়াহ : (বলা হবে) তাতে প্রবেশ করো। এখন ধৈর্য্য ধারণ কর, আর ধৈর্য্য ধারণ না কর, সব‌ই তোমাদের জন্য সমান। মূলত আজ তোমাদের‌কে প্রতিদান দেওয়া হবে সেই কর্মের, যা তোমরা করে এসেছো।

সেদিন মুত্তাকী‌রা কোথায় থাকবে??

52:17 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই মুক্তাকী (অপকর্ম থেকে দূরত্ব অবলম্বনকারী) রা থাকবে জান্নাতে ও নিয়ামত/ অনুগ্রহের মধ্যে [51:15]।

আল্লাহ মুত্তাকীদের রক্ষা করবেন।

52:18 নং আয়াহ : তাদের প্রভু তাদের‌কে যা দেবেন, তারা তা সানন্দে উপভোগ করবে [51:16, 50:35]। এবং তাদের প্রভু তাদের‌কে জাহান্নামের শাস্তি হতে [52:27] রক্ষা করবেন।

মুত্তাকীদের কি বলা হবে??

52:19 নং আয়াহ : (তাদের‌কে বলা হবে) তোমরা খাও এবং পান করো। যে কর্ম তোমরা করেছিলে/ করে এসেছো, তার বিনিময়ে।

হুর নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য।

52:20 নং আয়াহ : মুত্তাকীরা সারিবদ্ধভাবে আসন সমূহের উপর হেলান [55:76] দিয়ে বসবে। এবং আমরা তাদের‌ সঙ্গী/ সঙ্গীনি বানিয়ে দেব সুন্দর চোখ ওয়ালা হুরদের [55:56, 55:72] সঙ্গে।

মূমীনরা আত্মার জগতেও পরিবার হিসাবে থাকবে।

52:21 নং আয়াহ : আর (তার আগে) যারা সত্য স্বীকার করেছিল এবং তাদের সন্তান‌ সন্ততিরা সত্য স্বীকার প্রসঙ্গে তাদের অনুসরণ করেছিল, (বারযাখে/ রূহের জগতে) তাদের‌ সঙ্গে আমরা তাদের সন্তান সন্ততিদেরকে মিলিয়ে দেব [13:23, 40:8]। এবং তাদের কর্ম হতে কোনও কিছুই কমিয়ে দেওয়া হবে না [31:33]। প্রত‍্যেকেই নিজ কর্মের জন্য দায়ি হবে [74:38]।

জান্নাতীদের মাছ-মাংস‌ সহ মন যা চাইবে, তা’ই দেওয়া হবে।

52:22 নং আয়াহ : আর (পরবর্তীতে) বাড়তি হিসাবে তাদেরকে দেব ফলমূল [2:25, 69:23, 56:33], মাছ মাংস [16:14, 56:31] এবং তা, তাদের মন যা চাইবে/ পছন্দ [16:31, 50:35] করবে।

জান্নাতে ফালতু কথা বার্তা ও পাপকর্ম কেউ করবে না।

52:23 নং আয়াহ : তারা একে অপরের সঙ্গে পানপাত্র বিনিময় করবে। সেখানে কোনও ফালতু কথা বার্তা হবে না [56:25, 78:25, 19:62, 15:47, 7:43]। হবে না কোন‌ও পাপকর্ম।

গিলমান আসলে কে/ কারা??

52:24 নং আয়াহ : তাদের সেবার জন্য তাদের আশেপাশে ঘুরতে থাকবে গিলমান/ সন্তানরা [56:17, 76:19]। তাদের (সৌন্দর্য্য দেখে মনে হবে) যেন সুরক্ষিত মুক্তা।

# গিলমান/ সন্তান‌রা বলতে! তারা কারা, কাদের সন্তান‌ তারা?? 56:17 তে যান, বিস্তারিত তথ্য রয়েছে ওখানে। তবে, অনেক ইসলাম বিদ্বেষী‌রা বলেন- “জান্নাতে শিশুকাম করার ব‍্যবহৃত হবে গিলমান‌রা”। আসলে এমন মন্তব্য করা মূর্খ‌তা, অথচ 56:17:17-18 পড়লেই বোঝা সম্ভব যে, গিলমানদের কাজ কি! কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা মিথ্যাচারে রত।

জান্নাতে ইহজীবনে‌র আলোচনা হবে।

52:25 নং আয়াহ : তারা সামনা সামনি বসে একে অপরকে (ইহজীবন সম্পর্কে) জিজ্ঞাসা করবে।

52:26 নং আয়াহ : তারা বলবে- “নিশ্চয়ই আমরা পূর্বে (জাহান্নামের) ভয়ের মধ্যে জীবন যাপন করতাম।

52:27 নং আয়াহ : অতঃপর আল্লাহ আমাদের‌কে রক্ষা করেছেন (জাহান্নামের) দগ্ধকারী শাস্তি [52:18] হতে।

52:28 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই পূর্বে (ইহজীবনে) শুধুমাত্র তাকেই ডাকতাম [40:60, 10:106, 72:28]। আর নিশ্চয়ই তিনি মহা কৃপাময় ও মহা করুণাময়”।

নাবী (সা) জ‍্যোতিষী ও পাগল ছিলেন না।

52:29 নং আয়াহ : সুতরাং আপনি সংবিধান/ কুরআন প্রচার করতে থাকুন [5:67, 88:21-22]। আপনার প্রভুর নিয়ামত/ অনুগ্রহে না আপনি জ‍্যোতিষী [69:42], আর না আপনি পাগল [51:52]।

# জ‍্যোতিষ শাস্ত্র 100 শতাংশ মিথ্যা। এমন কি জ‍্যোতিষীর কাছে যাওয়াও হারাম, এর চর্চা‌ও হারাম। বিস্তারিত জানতে 5:90 আয়াহ ও তার টিকা দেখুন।

নাবী (সা) এর মৃত্যু কামনা, মৃত্যুর জন্য কাফেরদের অপেক্ষা।

52:30 নং আয়াহ : তারা কি এটা বলে- “সে (মুহাম্মাদ) একজন কবি [36:69, 69:41]। আমরা তার মৃত্যুর অপেক্ষায় আছি”??

কাফির‌দেরকে অসাধারণ বিনয়ী জবাব।

52:31 নং আয়াহ : আপনি বলুন- “তোমরা (আমার মৃত্যুর জন্য) অপেক্ষা করতে থাকো, আমিও তোমাদের সঙ্গে অপেক্ষা করছি” [10:102]।

কারোর ‛মৃত্যু কামনা’ করা ইসলাম বিরোধী।

52:32 নং আয়াহ : আচ্ছা তাদের বিবেক কি তাদের‌কে (এই ধরণের) কথা বলার নির্দেশ দেয়, নাকি তারা সীমালঙ্ঘন‌কারী/ উগ্র সম্প্রদায়??

নাবী (সা) নিজ ইচ্ছা‌য় নয়, হাদীশ বলতেন আল্লাহর ইচ্ছায়

52:33 নং আয়াহ : নাকি তারা এটা বলে যে, সে (মুহাম্মাদ নিজ ইচ্ছা‌য়) তা/ হাদীশ রচনা [93:11, 53:3-5] করেছে?? না, তা নয় বরং তারা সত্য স্বীকার করতে চায় না (তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য)।

নাবী (সা) এর হাদীশের মতো হাদীশ তৈরির চ‍্যালেঞ্জ।

52:34 নং আয়াহ : তাহলে তারাও তৈরি করে নিয়ে আসুক তার/ মুহাম্মাদের (হাদীশের) মতো হাদীশ। যদি তারা হয়ে থাকে সত‍্যবাদী।

# প্রশ্ন হবে- “কি রকম হাদীশ তৈরি করতে হবে”?? নিচে একটা হাদীশ দিলাম, দেখুন- “আল্লাহ প্রত্যেক আদম সন্তানকেই 360 টি অস্থিসন্ধি বিশিষ্ট করে সৃষ্টি করেছেন”(মুসলিম, হাদীশ 1007/1)‌। মানুষের অস্থিসন্ধি 360 টি, এটা বিজ্ঞান জেনেছে 50-60 বছর আগে। অথচ নাবী এটা বলেছেন 1500 বছর আগে। অবিশ্বাস্য মনে হলে গুগলে গিয়ে সার্চ করে নিন। যাইহোক, এই রকম একটি হাদীশ তৈরি করুন।

নাস্তিকদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

52:35 নং আয়াহ : নাকি তারা সৃষ্টি হয়েছে বহিঃপ্রভাব/ বহিঃশক্তি ছাড়াই?? নাকি তারা নিজেরাই নিজেদের‌কে সৃষ্টি করেছে??

মহাবিশ্ব কি নাস্তিক‌রা সৃষ্টি করেছে??

52:36 নং আয়াহ : নাকি তারা মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছে?? না, তা নয় বরং তারা ইয়াকীন/ স্বীকার করতে চায় না (তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য)।

নাস্তিক‌রা ‛আল্লাহ সম্পর্কিত’ জ্ঞান প্রসঙ্গে নিজেদেরকে ‛যেমন দেখান’!

52:37 নং আয়াহ : নাকি তাদের কাছে কি আপনার প্রভুর জ্ঞান ভাণ্ডার আছে [20:98, 40:7] ?? নাকি তারা তার (আল্লাহর জ্ঞানের) নিয়ন্ত্রক [20:110, 65:12, 4:126]??

52:38 নং আয়াহ : নাকি তাদের কাছে কোনও সুরক্ষিত/ গোপন স্থান আছে যে, তারা সেখানে (আল্লাহ সম্পর্কিত তথ্য [22:8, 31:20] আল্লাহর থেকে) শুনে নেয় [53:35]?? তাহলে নিয়ে আসুক তাদের মধ্যে কোনও শ্রোতা‌কে সুস্পষ্ট প্রমাণ সহ।

কন‍্যাকে অপছন্দ করা নিন্দনীয়।

52:39 নং আয়াহ : তারা কি তার (আল্লাহর) জন্য নির্ধারণ করে কন‍্যা সন্তান, আর তাদের (নিজেদের) জন্য পুত্র [53:21-22] সন্তান??

নাবী (সা) ইসলাম প্রচারের বিনিময়ে পারিশ্রমিক চাইতেন না।

52:40 নং আয়াহ : আপনি কি তাদের থেকে (ইসলাম প্রচারের) পারিশ্রমিক [51:57-58, 25:57, 38:86] চাইছেন যে, তারা সে জন্য (আপনাকে) বোঝা মনে করছে??

52:41 নং আয়াহ : নাকি তাদের কাছে আছে অদৃশ্যের জ্ঞান [72:25:26], যা তারা ব‌ই [74:52] আকারে লিখেছে??

ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্র তাদের‌ই বিরুদ্ধে যাবে।

52:42 নং আয়াহ : নাকি তারা চাইছে কোনও ষড়যন্ত্র করতে [7:99]?? তাহলে (জেনে রাখুন) যারা সত্য অপছন্দ করে, তারাই (তাদের) ষড়যন্ত্রের [3:54, 8:30] শিকার [43:79, 10:21] হবে (১)।

১) হাদীশ- “যদি ব‍্যক্তি কোনও বিষয়/ বস্তু দ্বারা অন‍্যের ক্ষতি করতে চাইবে, আল্লাহ সেই বিষয়/ বস্তু দ্বারা তার‌ই ক্ষতি করে দেবেন” (তিরমিযী, হাদীশ 1940 এবং আবুদাউদ, হাদীশ 3635)।

আল্লাহ‌র কোনও শরিক নেই।

52:43 নং আয়াহ : তাদের কাছে কি আল্লাহ ছাড়া অন্য ঈশ্বর/ উপাস‍্য আছে [37:35, 47:19, 23:91]?? আল্লাহ তা হতে পবিত্র, যাকে তারা (তার সঙ্গে) শরিক [18:26] করে।

গ্ৰহাণুরা কক্ষচ‍্যুত হয়।

52:44 নং আয়াহ : এবং যদি তারা দেখে সৌরজগতের কোনও গ্ৰহাণু (শাস্তি স্বরূপ) কক্ষচ‍্যুত হয়ে (তাদের উপর) পড়ছে [82:2, 349], তবুও বলবে- “এ তো জমাট বাঁধা মেঘ”।

ইসলাম গ্ৰহণ ‛না’ করার স্বাধীনতা।

52:45 নং আয়াহ : এত‌এব তাদের‌কে ছেড়ে দিন। যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা সাক্ষাৎ পায় সেই দিনের [18:29, 88:81-22, 2:256], যেদিন তাদের‌কে শাস্তির মধ্যে নিক্ষেপ করা হবে।

# অনেক ইসলাম বিদ্বেষী বলেন- “অমুসলিম‌দেরকে জোর করে ইসলাম গ্ৰহণ করান‌ই ইসলামী শিক্ষা”। এই আয়াহ তাদের জন্য যোগ্য জবাব। ইসলামী রাষ্ট্রে অমুসলিম থাকা কোনও অপরাধ নয়, এর জন্য পৃথিবীতে কোনও শাস্তি নেই। “তাদেরকে কিয়ামত পর্যন্ত সময়ের জন্য” ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে।

   নাবী (সা) বলেছেন- “মানুষের উপর অত্যাচার করবে না। নির্যাতিতার বদদুয়া থেকে বেঁচে থাকো। যদিও সে অমুসলিম হয়। কেননা, নির্যাতিতার দুয়া এবং আল্লাহর মাঝে কোনও পর্দা থাকে না” (মুসনাদে আহমাদ, হাদীশ 12549)। অমুসলিম‌দের রাষ্ট্রীয় অধিকার হনন, তাদের সম্পত্তি ছিনিয়ে নেওয়া, তাদের উপর ট‍্যাক্সের বোঝা চাপিয়ে দেওয়াও হারাম (আবু দাউদ, হাদীশ 3052)। এই ছাড়াও অমুসলিম হত্যা করলে চিরদিনের জন্য জান্নাত হারাম হয়ে যাবে (বুখারী, হাদীশ 3166)।

ষড়যন্ত্র করা মূলত মূর্খতা।

52:46 নং আয়াহ : সেদিন তাদের ষড়যন্ত্র (তাদের) কোনও কাজে আসবে, একটু‌ও নয়। আর না তাদের‌কে সাহায্য করা হবে।

কবরের শাস্তির দলিল।

52:47 নং আয়াহ : আর নিশ্চয়ই জ্বালিম/ সীমালঙ্ঘন‌ কারীদের জন্য থাকবে (জাহান্নামের) শাস্তি, ঐ ছাড়া‌ও থাকবে আরও শাস্তি (কবরের [9:101] শাস্তি)। কিন্তু তাদের বেশিরভাগ‌ই জানে না।

ঘুম থেকে ওঠার পর যা বলতে হবে।

52:48 নং আয়াহ : এবং আপনার প্রভুর সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ধৈর্য্য ধারণ করুন [17:80]। আপনি আমাদের চোখের সামনেই আছেন। যখন আপনি (ঘুম থেকে) উঠবেন, তখন আপনার প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা করুন প্রশংসা সহ।

# এই নির্দেশনা মুতাবিক নাবী (সা) ঘুম থেকে উঠেই বলতেন- “আলহামদুলিল্লাহি ল্লাযি আহয়ানা বাদা মা আমাতানা, ওয়া ইলাইহি ন্নুশূর”। অর্থাৎ “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যার দয়ায় আমরা মৃত্যুর পর জেগে উঠলাম। এবং তার দিকেই ফিরে যেতে হবে” (বুখারী, কিতাবুদ দুয়া, হাদীশ 6324)।

ঈশা ও ফজর স্বালাত।

52:49 নং আয়াহ : আর আপনি রাত্রি‌তে (ঈশাতে) তার পবিত্রতা বর্ণনা [24:58] করুন এবং তখন তখনও, যখন নক্ষত্র গুলো (ফজরের সময়ে) অদৃশ্য হতে [11:114] শুরু হয়।

5/5 - (1 vote)
শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন