হোসেন কুরানী’র অলৌকিক জীবন।

FB IMG 1736338138714 2

হোসেন কুরানী’র জীবনে তৃতীয় অলৌকিক‌ ঘটনা।

হোসেন কুরানী’র বিষ পানের কথা শুনে হোসেন কুরানী’র পিতা মুম্বাই থেকে বাড়িতে আসেন। তখন হোসেন কুরানী মাতাপিতার সঙ্গে নানার বাড়িতে/ লক্ষণ পুরেই থাকতেন। হোসেন কুরানী’র পিতা প্রতিদিন বিকালে হোসেন কুরানী‌কে দাদুর বাড়িতে নিয়ে আসতেন এবং সন্ধ্যায় ফিরে পড়তেন।

   এমনই একদিনে হোসেন কুরানীকে নিয়ে তার পিতা ফিরছেন। তখন অবশ্য গ্ৰামে বিদ্যুৎ ছিল না। লক্ষণ পুর বাজার হয়ে লক্ষণ পুর গ্ৰামে আসতে হোত। গ্ৰামে আসতে 2-4 টা বড় বড় পুকুরের পাশ দিতে আসতে হোত। সেদিন হোসেন কুরানী’র পিতা সাইকেলে করে হোসেন কুরানীকে নিয়ে ফিরছিলেন।

   সেদিন‌ও সন্ধ্যা/ সামান্য রাত হয়েছিল। আবার শীতকাল ছিল। অসাবধানতাবশত হোসেন কুরানী’র পিতা হোসেন কুরানীকে নিয়ে সাইকেল সহ পুকুরে পড়ে যান। কুরানী’র পিতা তো বড়, তার সেরকম কিছু‌ই হয় নি। লুঙ্গি ও জামা খানিকটা ছিঁড়ে গিয়েছিল।

   কিন্তু হোসেন কুরানী সাইকেলের নিয়ে চাপা পড়ে যান। এমনকি সাইকেলের ভরে হোসেন কুরানী পাঁকে পুতে যান।কুরানী’র পিতা পড়ার পর উঠে পড়লেও, সাইকেল তুলে ফেললেও হোসেন কুরানী‌কে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। প্রায় 3-4 মিনিট ওভাবেই কে়টে, তারপর হোসেন কুরানী কে খুঁজে পান।

   পাওয়ার পর হোসেন কুরানী’র পিতা খুবই খুশি হন, কিন্তু সমস্যা হল- হোসেন কুরানী’র নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। হোসেন কুরানী শ্বাস নিচ্ছিলেন না। তার উপর প্রচণ্ড শীত ছিল। শিশু হোসেন কুরানী শীতে পুরো গুটিয়ে গেছেন এবং শরীর শীতল হয়ে গেছে।

   হোসেন কুরানী’ পিতাও তখন শীতে কাঁপছিল। কাঁপতে কাঁপতে হোসেন কুরানী‌কে নিয়ে দৌড়ে দৌড়ে বাড়ি ফেরেন এই ভেবে যে, “মনে হয় মারা গেছে”। বাড়িতে আসার পর হোসেন কুরানী‌কে দেখে কান্নার রোল পড়ে যায়। বাড়ির সবাইও ভাবছিলেন যে, “মনে হয় মারা গেছে”।

   ততক্ষণে প্রায় 7-8 মিনিট হয়ে গেছে। সবাই কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে দৌড়ে লক্ষণ পুর বাজারে ডাক্তার অরবিন্দ চক্রবর্তীর কাছে নিয়ে যান, ততক্ষণে প্রায় 10 মিনিট হয়ে গেছে। ডাক্তার দেখে বলেন- “এটা সেই বাচ্ছাটাই তো, যে বিষ খেয়েছিল?? কি হয়েছে এর?? শরীর তো পুরো ঠাণ্ডা হয়ে গেছে”। বাড়ির লোকজন বলেন- “পুকুরে ডুবে গিয়েছিল”। তারপর বাকি ঘটনা‌ও বলেন।

   ডাক্তার পেটে চাপ দিয়ে পেট থেকে পানি করেন। সঙ্গে CPR দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে কোনও কাজ‌ই হলো না। ডাক্তার বলেন- “আর কিছু করার নেই, তোমরা অনেক দেরি করে ফেলেছো, পুকুর থেকে তুলে সরাসরি এখানে আনলে হয়ত কিছু করা যেত”।

   তারপর! তারপর আবার কি! তারপর আল্লাহর সাহায্য আসতে বাকি আছে। সবাই কাঁদতে কাঁদতে হোসেন কুরানীকে নিয়ে বাড়িতে ফিরবেন। হোসেন কুরানী‌কে কাঁধে তুলতেই হোসেন কুরানী শ্বাস নেওয়া শুরু করে। সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তার শরীর গরম থাকার ইনজেকশন দেন। বলেন- “মোটা মোটা গরম কাপড়ে ঢেকে ফেলো, কোনও ভাবেই যেন শীত যেন না লাগে। আর এই ওষুধ গুলো খাওয়াও”।

   ডাক্তার বলেন- আমি আমার জীবনে এমন ঘটনা কোনও দিন দেখি নি যে, “একটা ছোট্ট বাচ্ছা এভাবে 2 বার মৃত্যুর পর জীবিত হয়েছে। নিশ্চয়ই এই বাচ্ছাকে ভগবান বাঁচাচ্ছেন। এই বাচ্ছার মধ্যে কোনও বড় কল‍্যাণ লুকিয়ে আছে। এই বাচ্ছা জীবনে এমন কিছু করবে, যা কেউ কখনও করতে পারবে না। এ জন্য‌ই ভগবান 2 বার মৃত্যুর পর তাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন”।

   তখন বাড়ির লোকজন বলেন- “ডাক্তার বাবু 2 বার নয়, 3 বার। আরও একবার আমাদের ঘরের ভিতরে রয়ে গিয়েছিল এবং গোটা বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমাদের বাচ্ছার কিছুই হয় নি”। ডাক্তার বলেন- “তোমরা কি মালেক ডাক্তারের ঘর পুড়ে যাওয়া‌র কথা বলছো”?? সবাই বলেন- “হ‍্যাঁ”। ডাক্তার বলেন- “আমি নিশ্চিত এই বাচ্চা কোনও সাধারণ বাচ্চা নয়। “তোমরা এর যথেষ্ট পরিমাণ যত্ন করো”।

   এমনিতেই হোসেন কুরানী তাদের আদরের সন্তান ছিলেন, তার উপর আরও বেশি বেশি আদর যত্ন পেতে শুরু করেন। হোসেন কুরানী’র মা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত হোসেন কুরানীকে খাইয়ে তার‌পর নিজে খেতেন। যখন হোসেন কুরানী’র মা সাবেরা বেগম মারা যান, তখন সবাই হোসেন কুরানী’র জন্য কাঁদছিলেন যে, “এবার হোসেন‌কে কে খাইয়ে দেবে”!

   এভাবেই হোসেন কুরানী’র গোটা জীবন‌ই অলৌকিক ঘটনায় পরিপূর্ণ। হোসেন কুরানী’র অনুরোধে সমস্ত ঘটনা উল্লেখ করলাম না। কারণ, হোসেন কুরানী মনে করেন- “এভাবে নিজেকে বড় দেখানো হচ্ছে”। ওহ! মহানতা একেই বলে।

5/5 - (1 vote)
শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন