
হোসেন কুরানী’র ছোট ভাই হাসান কুরানী।
হোসেন কুরানী তার ছোট হাসানকে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মতো যথেষ্ট ভালোবাসতেন। যখন হোসেন কুরানী’র পিতা সংসার খরচ দেওয়া বন্ধ করে দেয়, তখন হাসান কুরানী খুবই ছোট, তখন 10-12 বছরের ছেলে। কিন্তু হোসেন কুরানী’র ইচ্ছা ছিল- “আমি একাই খাটবো/ কাজকর্ম করবো, পরিবারের কাউকে কাজ করতে না হয়”। কিন্তু আবার অন্য দিকে হোসেন কুরানী’র ইচ্ছা ছিল- “আমাদেরকে ধনী হতে হবে”।
সেই জন্য হোসেন কুরানী যখন অটো চালানো শুরু করেন, তখন তিনি তার ভাই হাসান কুরানীকে দিল্লিতে মামাতো বোনের কাছে ‛জুয়েলারি পাথর সেটিং’ কাজে দিয়ে দেন। যাতে প্রতিদিন 20-30 টাকা হয়েও খরচ বাঁচে এবং তা বিনিয়োগ করা যায়। তা’ই করা হল।
হাসান 2013 এর মাঝামাঝিতে দিল্লি চলে যান। এভাবেই চলতে থাকে 2015 চলে আসে। এখন হোসেন কুরানী যথেষ্ট ধনসম্পদের মালিক হয়েছেন। হোসেন কুরানী অটো চালানোও ছেড়ে দিয়েছেন। তারপর পর থেকেই হোসেন কুরানী চাইতেন- “হাসান যেন বাড়ি ফিরে পরিবারের সঙ্গে থাকা শুরু করে”।
কিন্তু হাসান আসতে চাইতেন না। হাসান মনে করতেন যে, “মামাতো বোন আমাকে অনেক ভালোবাসে”। কিন্তু হোসেন কুরানী বারবার বলতেন- “ওরা তোকে শোষণ করছে, তোকে মাসিক বেতন ছাড়া কাজ করিয়ে নিচ্ছে”। অথচ তুই যা কাজ করিস, সেই হিসাবে তোর কমপক্ষে ₹ 10- 12 হাজার টাকা বেতন হওয়ার কথা”।
কিন্তু তবুও হাসান বাড়িতে থাকতে চাইতেন না। দিল্লিতেই থাকতেন। তখন অবশ্য হাসানের বয়স ছিল 15-16 বছর মতো। এভাবে আরও কয়েক বছর কাটে, 2018 তে হাসানের বেতন ধরা হয় ₹ 5 হাজার টাকা। যা খুবই কম। হওয়া উচিৎ ছিল- কমপক্ষে ₹ 15-18 হাজার টাকা। হোসেন কুরানী তখনও বলছেন- “বাড়িতে চলে আয়, ঐ কাজ করার দরকার নেই। দরকার হলে গ্ৰামে কাজ কর, অথবা অন্য জায়গায় কাজ কর”। কিন্তু হাসান ওখানেই থাকেন।
চলে আসে 2020, হাসানের বেতন হয় ₹ 6 হাজার টাকা। যা খুবই কম। হওয়া উচিৎ ছিল- কমপক্ষে ₹ 20 হাজার টাকা। তারপর 2022 আসে, হাসান বেতন বাড়াতে বলেন। বেতন বেড়ে হয় ₹ 7 হাজার টাকা। তারপর হাসানও বুঝতে পারেন যে, বেতন খুবই কম। এখন কমপক্ষে ₹ 22-25 হাজার টাকা বেতন হওয়া উচিৎ।
তারপর হাসান ওখান থেকে কাজ ছেড়ে রাজস্থানে কাজ করা শুরু করেন। এরই মধ্যে আলোমারা কুরানী একজনকে ভালোবাসে বিয়ে করে নেন। হোসেন কুরানী ফ্ল্যাটে একা হয়ে যান। হাসান কুরানী সমস্ত কাজ ছেড়ে হোসেন কুরানী’র সঙ্গে ফ্ল্যাটে থাকা শুরু করেন।

এখন (2025) হাসান কুরানী হোসেন কুরানী’র সঙ্গে ফ্ল্যাটে থাকেন, হোসেন কুরানী’র ব্যাবসায় সহযোগিতা করেন। কেয়ারটেকার ও বিজনেস ম্যানেজমেন্টের কাজ করেন। সঙ্গে হোসেন কুরানী’র আতরের ব্যাবসাটা সামলাচ্ছেন। এখন অবশ্য আফসোস করেন যে, “জীবনের মূল্যবান সময় দিল্লিতে নষ্ট করে ফেলেছি”।