বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 77 টি।
শক্তি পদার্থে পরিণত হতে পারে।
25:23 নং আয়াহ : আর আমরা অগ্ৰসর হব, যে আমল/ কর্ম (শক্তি) তারা করেছে তার প্রতি। অতঃপর আমরা তা (তাদের কর্মকে) পরিণত করব পদার্থে [51:58]।
জান্নাতীদের ঠিকানা ও অবাসস্থল কেমন হবে??
25:24 নং আয়াহ : সেদিন জান্নাতের বাসিন্দাদের উত্তম মুশতাকাররাহ/ ঠিকানা ও উৎকৃষ্ট মুকাম/ অবাসস্থল [25:66, 25:76] হবে।
মহাবিশ্ব সংকোচিত হবে আলোর গতিতে।
25:25 নং আয়াহ : আর সেদিন সামায়া/ মহাবিশ্বকে সংকোচিত করা হবে আলোর গতিতে (১) এবং ফেরেস্তারা [69:16-17] ক্রমাগত উপস্থিত [78:37-38] হবে।
১) মানে, মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে আলোর চেয়ে বেশি গতিতে। কিন্তু এটা কি সম্ভব?? হ্যাঁ, সম্ভব। কারণ, মহাবিশ্বে আলোর চেয়ে বেশি গতি অর্জন সম্ভব নয়, তবে মহাবিশ্ব আলোর চেয়ে বেশি গতিতে চলছে/ চলতে পারে। দেখুন কুরআনের 51:47 ও 81:15 আয়াত। উক্ত 25:25 বলছে- “সম্প্রসারণ আলোর চেয়ে বেশি গতিতে হলেও সংকোচন হবে আলোর গতিতে।
কাফিরদের জন্য বিচার দিবস খুবই কঠিন হবে।
25:26 নং আয়াহ : সেদিন প্রকৃত কর্তৃত্ব হবে রহমান/ দয়াময়ের [6:73, 82:19]এবং সেই দিনটি কাফির/ সত্য অস্বীকারকারীদের জন্য [4:42, 78:40] কঠিন হবে [74:9-10]।
ভুল মানুষের বন্ধুত্ব, পরে আপসোস ও জাহান্নাম।
25:27 নং আয়াহ : আর সেদিন জালিম/ সীমালঙ্ঘন কারীরা নিজের দুই হাত কামড়াতে কামড়াতে বলবে- “হায়, যদি রাসূলের পথ [33:66, 67:10] ধরতাম”!
25:28 নং আয়াহ : হায়, হায়, যদি অমুককে খালীল/ বন্ধু [37:56-57] হিসাবে [69:35, 70:10] না গ্ৰহণ [43:67, 44:41-42] করতাম!
খারাপ বন্ধু মাদকতার সমান।
25:29 নং আয়াহ : অবশ্যই সে আমাকে যিকির/ বিধান (কুরআন) হতে বিভ্রান্ত করেছে [33:67-68]। এরপরও সে আমার কাছে [2:167] ছিল (অথচ তাকে আমার থেকে দূর করে দেওয়া উচিৎ ছিল)। নিশ্চয়ই শাইত্বান (খারাপ বন্ধু) মানুষের জন্য মাদকতার সমান।
মুসলিম সমাজের বিরুদ্ধে নাবী (সা) এর অভিযোগ।
25:30 নং আয়াহ : রাসূল (বিচার দিবসে) বলবেন- “হে আমার রব/ প্রভু, নিশ্চয়ই আমার কাওম/ জাতি (১) এই কুরআনকে মাহজুর (অব্যবহৃত/ গুরুত্বহীন) হিসাবে গ্ৰহণ করেছিল” [86:13-14]।
১) আজকের মুসলিম সমাজ কুরআনকে ভুত তাড়াবার বই হিসেবে দেখে। মনে করা হয়- কুরআন ঘরে থাকলে ভুত আসবে না। এটাই নাকি কুরআনের অউকাত। আর এর জন্য দায়ী আলেমগণ। অথচ কুরআনের প্রতিটা আয়াহ নিয়ে গবেষণার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কুরআনের 38:29 47:24 তে। এই ছাড়াও আরও কথা বলা হয়েছে 80:23 এ।
মহেঞ্জোদোরো ও অন্যান্য সভ্যতা।
25:38 নং আয়াহ : আর (ধ্বংস করেছি) আদ, সামূদ ও কূয়া কেন্দ্রিক (মহেঞ্জোদোরো) সভ্যতার অধিবাসীদের [50:12] সহ তৎকালীন বহু সভ্যতা (যেমন ক্রিট সভ্যতা, মিশরীয় সভ্যতা, মেসোপটেমিয়া ইত্যাদি) কে।
25:39 নং আয়াহ : এবং উদাহরণের জন্য আমরা বহু জাতির বর্ণনা দিয়েছি, প্রত্যেককে আমরা ধ্বংস করার মতো করে ধ্বংস করেছি (19:98, 21:95]।
ধ্বংসপ্রাপ্ত সভ্যতার উপর দিয়ে যাতায়াত।
25:40 নং আয়াহ : আর অবশ্যই তারা যাতায়াত করে সেই সভ্যতার উপর [32:26] দিয়ে, যার উপর নিকৃষ্টতম বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছিল। তবে কি তারা দেখে না?? হ্যাঁ (দেখে) বরং তারা উত্থান/ পুনরুত্থানের আশা [45:14] করে না।
নাবী (সা) কে রাসূল হিসাবে যেভাবে ব্যঙ্গ করা হোত।
25:41 নং আয়াহ : আর তারা যখন আপনাকে দেখে, তখন তারা আপনাকে ব্যঙ্গ বিদ্রুপের পাত্র ছাড়া ভিন্ন কিছু হিসাবে গ্ৰহণ করে [21:36, 73:10] না। এবং বলে- “এই ব্যক্তি কি সে, যাকে আল্লাহ রাসূল [28:68, 62:4] হিসাবে পাঠিয়েছেন [17:94-17:95]??
নাবী (সা) কে মুশরিকরা ভয় পেত, তাই যা বলত।
25:42 নং আয়াহ : সে আমাদেরকে আমাদের ইলাহা/ দেব দেবী গুলো থেকে দূরে সরিয়ে [14:10, 34:43] দেওয়ার উপক্রম [7:70, 11:62] করেছিল, যদি না আমরা তাদের (দেব দেবীদের) উপর টিকে থাকতাম”। শীঘ্রই তারা আযাব/ শাস্তি দেখবে, তখন জানতে পারবে- কে বিভ্রান্তির [19:75, 54:26] গভীরে ছিল।
নাস্তিকদের স্বাধীনতা।
25:43 নং আয়াহ : আপনি কি দেখেছেন তাকে, যে তার ইচ্ছা গুলোকেই ‛ইলাহা/ ঈশ্বর হিসেবে’ [15:3, 52:45] মেনে নিয়েছে [18:6, 45:23]?? আপনি কি তবুও তার ওয়াকীল/ তদারককারী [74:11, 2:119] হবেন [17:54]??
25:44 নং আয়াহ : আপনি কি ভাবেন- তাদের মধ্যে বেশিরভাগ শোনে ও বোঝে [67:10]?? তারা চতুষ্পদ আনয়াম/ পশু ছাড়া ভিন্ন কিছু নয়। বরং তারা অধিক পথভ্রষ্ট [7:179, 82:22]।
সূর্য পৃথিবীর চালক।
25:45 নং আয়াহ : আপনি দেখেন নি আপনার রব/ প্রভু কিভাবে ছায়াকে গতিশীল করেছেন?? যদি তিনি চাইতেন, তাহলে তাকে স্থির রাখতে পারতেন। তারপর (জেনে রাখুন) আমরা সূর্যকে করেছি তার (পৃথিবীর) চালক [36:38]।
সূর্যের ‛হোয়াইট ড্রাফটে’ পরিণত হবে।
25:46 নং আয়াহ : তারপর আমরা তাকে (সূর্যকে) ধীরে ধীরে আমাদের দিক থেকে নির্দেশনা মুতাবিক গুটিয়ে ফেলব [81:1]।
ঘুম শরীরকে মেরামত করে।
25:47 নং আয়াহ : আর তিনিই (আল্লাহ), যিনি তোমাদের জন্য লাঈল/ রাত [91:4]নিয়ে আসেন সেভাবে [38:32, 78:10] যেভাবে পোশাক দ্বারা কোনও কিছু আড়াল করা হয় এবং তিনি ঘুমকে করেছেন মেরামতকারী [78:9] আর নাহার/ দিনকে করেছেন উন্নতি করার মাধ্যম।
আকাশের পানি বিশুদ্ধ হয়ে থাকে।
25:48 নং আয়াহ : আর তিনিই (আল্লাহ), যিনি সুসংবাদ হিসাবে রহমতের আগে [35:9] প্রেরণ করেন বায়ু [7:57, 32:27] এবং আমরা সামায়া/ বায়ুমণ্ডল থেকে নামাই [56:69] বিশুদ্ধ পানি।
25:49 নং আয়াহ : যেন আমরা এর দ্বারা মৃত ভূখণ্ডকে জীবিত করি [43:11, 50:11] এবং আমরা তা পান করাই তাদেরকে, যাদেরকে আমরা সৃষ্টি করেছি। যেমন, জীবজন্তু ও বহু মানুষ।
আল্লাহ কেন বারবার বৃষ্টি বর্ষণের উদাহরণ দেন??
25:50 নং আয়াহ : এবং অবশ্যই আমরা তা (বৃষ্টির উদাহরণ) বারবার (১) পেশ করি, যেন তারা এখান থেকে জ্ঞান অর্জন করতে পারে।
১) বৃষ্টির উদাহরণ বলতে কি! কি জন্য! 25:49 আয়াহর ভিতরে 2 টি নং দেওয়া আছে, ওখানে যান। সব বুঝতে পারবেন।
আল্লাহ চাইলে প্রতিটা এলাকায় নাবী রাসূল আসতেন।
25:51 নং আয়াহ : আর যদি আমরা চাইতাম, তাহলে প্রত্যেক অঞ্চলের [43:31-32] জন্য সতর্ককারী [10:47, 13:7] পাঠাতাম [25:24]।
কুরআন দ্বারা ‛জিহাদ’ করার নির্দেশ, তা শ্রেষ্ঠ জিহাদ।
25:52 নং আয়াহ : সুতরাং কাফির (সত্য অস্বীকার কারী) দের (বানান ধর্মীয় নীতি) অনুসরণ করবেন না (১) এবং আপনি তাদের সঙ্গে এর (কুরআন) দ্বারা জিহাদ করুন, তা বড়/ শ্রেষ্ঠ জিহাদ।
১) এ বিষয়ে হাদীশ- “যে যাদের (ধর্মীয় রীতিনীতি) অনুসরণ করবে, সে তাদের মধ্যে গণ্য হবে” (আবুদাউদ, 4031)।
দুই ধরণের পানি মিলিত হাওয়ার পর যা হয়।
25:53 নং আয়াহ : আর তিনিই (আল্লাহ), যিনি দুই ধরণের পানিকে মিলিত [27:61, 55:19] করেন। একটা সুমিষ্ট ও সহজ পেয় [35:12], অন্যটি লবনাক্ত ও বিস্বাদ যুক্ত। তবে তিনি উভয়ের মাঝে রাখেন বারযাখ/ অন্তরাল [55:20]। যা লুকায়িত ও সুক্ষ্ম।
মানুষের শরীরের প্রায় পুরোটাই পানি।
25:54 নং আয়াহ : আর তিনিই (আল্লাহ), যিনি পানি দ্বারা গঠিত মানুষ (১) সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি স্থাপন করেছেন মাতাপিতা সম্পর্কিত আত্মীয়তা ও বৈবাহিক আত্মীয়তা [4:22-23]। আর আপনার প্রভু তো কাদীর/ ক্ষমতাবান।
১) জীববিদ্যা বলে- “মানুষের শরীরের 70-75 % পানি”। মানে, একটা 100 কেজি ওজনের মানুষের শরীর 70-80 লিটার পানি দ্বারা গঠিত। এখানেই শেষ নয়, মানুষের হাড়ও 30-40 % পানি দ্বারা গঠিত। আর নবজাতক শিশুর শরীর 75-80 % পানি দ্বারা গঠিত।
আল্লাহ ছাড়া অন্য উপাস্যদের অবস্থা।
25:55 নং আয়াহ : কিন্তু তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে এমন বস্তুর ইবাদত/ উপাসনা করে, যারা না তাদের উপকার করতে, না পারে ক্ষতি করতে [21:66, 22:12]। আর কাফির/ সত্য অস্বীকারকারীরা তার নিজ রব/ প্রভুর বিরোধী [8:36, 58:5]।
ইসলাম গ্ৰহণে জোর জবরদস্তি নেই।
25:57 নং আয়াহ : বলুন- “আমি তোমাদের [34:47, 68:46] থেকে কোনও পারিশ্রমিক চাই না [38:86, 51:57-58]। তবে, যে চায় [76:3, 18:29] সে তার রব/ প্রভুর পথ [74:55, 80:11-12] ধরুক” [73:19, 76:29]।
# কিছু গুরুত্বপূর্ণ আয়াত, যা 25:57 তে উল্লেখ নেই, তাই একটু কষ্ট করে দেখে আসবেন। তা হল 88:21-22, 50:45 ও 52:45 আয়াত সমূহ। সবচেয়ে বিখ্যাত আয়াত টা হল 2:256, এছাড়াও 109:6 ও 39:39 দেখুন।
আল্লাহ মরবেন না, তাই তার উপর নির্ভর করতে হবে।
25:58 নং আয়াহ : আর নির্ভর করুন সেই চিরঞ্জীবের উপর [2:255, 3:2], যিনি কখনও মরবেন না [57:3]। তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করুন প্রশংসা সহ। আর তিনি তাঁর ইবাদ/ বান্দাদের পাপ সম্পর্কে [3:15, 84:15] খাবীর/ সমস্ত বিষয়ের জ্ঞান রাখেন [2:115, 40:7]।
তুলনামূলক ধর্মতাত্ত্বিককে আল্লাহ সম্পর্কে প্রশ্ন করা।
25:59 নং আয়াহ : যিনি সৃষ্টি করেছেন মহাবিশ্ব ও পৃথিবী। এবং ছয় টি পর্যায়ে [32:5, 50:38] সৃষ্টি করেছেন যা কিছু আছে উভয়ের মধ্যে। তারপর তিনি আরশের [85:15] উপর সমাসীন হন [11:7, 7:54]। আর-রাহমান/ সীমাহীন দয়াময় (আল্লাহ) সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করুন, যে খাবীর/ সমস্ত (ধর্ম) বিষয়ক জ্ঞান রাখে [16:43, 21:7]।
আল্লাহর ‛রহমান’ নাম নিয়ে নাবী (সা) কে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ।
25:60 নং আয়াহ : যখন তাদেরকে বলা হয়- “রাহমান (দয়াময়) কে সিজদা কর”, তখন তারা বলে- “আর-রাহমান/ সীমাহীন দয়াময় [13:30] আবার কে [7:180, 17:110]?? আমরা কি তাকে সিজদা করব, (যাকে সিজদার) নির্দেশ তুমি দেবে” [21:36, 25:41-42]?? আর এভাবেই তাদের অবাধ্যতা বৃদ্ধি পাচ্ছে [10:33]।
চাঁদের নিজস্ব আলো নেই।
25:61 নং আয়াহ : বরকতময় (তিনি), যিনি মহাশূন্যে সৃষ্টি করেছেন গ্যালাক্সি সমূহ [85:1] এবং অস্তিত্বে এনেছেন প্রদীপ/ আলো প্রদানকারী (সূর্য) ও মূনীর/ আলোর [17:12] প্রতিফলনকারী চাঁদ [10:5, 71:16]।
রাত ও দিন একে অপরের ‛গতিশীল’ শত্রু।
25:62 নং আয়াহ : আর তিনিই লাঈল/ রাত ও নাহার/ দিনকে করে দিয়েছেন [21:33] একে অপরের প্রতি গতিশীল শত্রু হিসাবে [39:5, 78:14]। (এই নিদর্শন) তার জন্য, যে ইরাদা/ ইচ্ছা রাখে জ্ঞান [74:55, 80:12] অর্জনের। অথবা যে ইরাদা/ ইচ্ছা রাখে কৃতজ্ঞতা [3:145, 14:7] প্রকাশের।
চরম বিনয়ী, আল্লাহর বান্দাদের বৈশিষ্ট্য।
25:63 নং আয়াহ : সীমাহীন দয়ালু (আল্লাহর) বান্দা তো তারাই, যারা আরদ্ব (গ্ৰহ উপগ্ৰহ) সমূহে নম্রতার [31:19] সঙ্গে জীবন যাপন করে [28:83]। আর যখন জাহিল/ মূর্খরা তাদেরকে (উত্তেজিত করার জন্য উস্কানিমূলক ভাবে) সম্বোধন করে, তখন তারা [28:55]বলে- “সালাম” (১)।
# আমি এখানে নম্রতা সম্পর্কিত ও উগ্ৰতা বিরোধী বহু হাদীশ আনতে পারি। তাতে তাফসীর শুধু আকারে বড় হযে থাকবে। তাই একটু কষ্ট করে আয়াহর ভিতরে থাকা নং গুলো অবশ্যই দেখে আসবেন।
১) শুধু ‛সালাম’ শব্দটি উচ্চারণ করতে হবে?? গালাগালি দেওয়া মানে, ‛গালাগালি’ শব্দটি উচ্চারণ করা নয়। বরং শুয়োরের বাচ্চা, কুকুরের বাচ্ছা বলে গালাগালি দিতে হয়। তাই না?? তাহলে ‛সালাম’ দেওয়া মানে, সালাম শব্দটি উচ্চারণ করা নয়। তাহলে কি?? একটু কষ্ট করে 56:26 এর টিকা থেকে ঘুরে আসুন।
রাতে নামাজ আদায়ও আল্লাহর বান্দার বৈশিষ্ট্য।
25:64 নং আয়াহ : এবং (আল্লাহর বান্দা তারাই) যারা রাতে [17:79] তাদের রব/ প্রভুর উদ্দেশ্যে সিজদা করে এবং কিয়াম করে [32:16, 39:9]।
# কিয়াম কি?? কিয়াম শব্দের অর্থ- নামাজ আদায়ের দাঁড়ান। যেমন, বলা হয়- কিয়ামুল লাইল, মানে রাতের নামাজ।
জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য দুয়া।
25:65 নং আয়াহ : আর (আল্লাহর বান্দা তারাই) যারা বলে- “হে আমাদের রব/ প্রভু, আমাদের থেকে জাহান্নামের আযাব দূরে (3:185, 3:191-192] রাখবেন”। নিশ্চয়ই তাঁর আযাব/ শাস্তি খুবই অস্বস্তিকর [14:17, 20:74]।
# হাদীশ- “কেউ যদি জান্নাতের জন্য আল্লাহর নিকট 3 বার প্রার্থনা করে, জান্নাত তখন বলে : হে আল্লাহ, তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। আর কেউ 3 বার জাহান্নাম হতে বাঁচার দুয়া করে, জাহান্নাম তখন আল্লাহ নিকট বলে : হে আল্লাহ! তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন” (তিরমিযী, 2572)।
জাহান্নাম নিকৃষ্ট ঠিকানা ও আবাস।
25:66 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই তা নিকৃষ্ট মুশতাকাররাহ/ ঠিকানা ও মুকাম/ অবাসস্থল। [25:24, 98:6]।
অপচয় ও কৃপণতা বিরাট অপরাধ।
25:67 নং আয়াহ : এবং (আল্লাহর বান্দা তারাই) যারা যখন খরচ করে, তখন না অপচয় [17:27] করে, আর না কৃপণতা [3:180] করে। বরং তারা ঐ দুয়ের মাঝে [17:29] অবস্থান নেয়।
# হাদীশ- “তুমি কৃপণতা থেকে নিজেকে বাঁচাও। কারণ কৃপণতা তোমাদের পূর্বের জাতি লোকগুলোকেও ধ্বংস করে দিয়ে ছিল। সেই কৃপণতাই তাদেরকে ‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার রাস্তা দেখাল, তারা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করে দিল। সেই কৃপণতাই তাদের নিজের ধন-সম্পদ ও জিনিসপত্র নিজেদের কাছে গুটিয়ে রাখার নির্দেশ দিল, তারা তেমনই করল। সেই কৃপণতাই তাদের গুনাহের রাস্তা দেখাল, তারা গুনাহ করতে লাগল” (মুসনাদ আহমাদ, 6487)। তা ছোট করে আবুদাউদের 1698 এও রয়েছে।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ অপরাধ ও তার শাস্তি।
25:68 নং আয়াহ : আর (আল্লাহর বান্দা তারাই) যারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য ইলাহা/ ঈশ্বরকে [21:22, 23:91] ডাকে না [7:194, 46:5]। তারা নাফস (প্রাণ/ মানুষ) হত্যা করে না, যা আল্লাহ হারাম/ নিষিদ্ধ করেছেন, তবে যথার্থ কারণ (বিচারকের বিচারের রায়) বিষয়টি ভিন্ন [5:32]। আর যিনা করে না [17:32]। তবে, যে ‛ঐ রকম অন্যায়’ করবে, তার শুধু পাপ অর্জন হবে।
25:69 নং আয়াহ : (এই সবের বদলে) কিয়ামাতের দিন তার আযাব/ শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে [33:30] এবং তার (জাহান্নামের) মধ্যে সুদীর্ঘকাল থাকবে হীন অবস্থায়।
যাদের ‛পাপকে পূণ্যে’ রূপান্তরিত করা হবে।
25:70 নং আয়াহ : তবে যে তাওবা করে, সত্য স্বীকার করবে ও সৎকর্ম করে, (তিনি) তাদের পাপ গুলোকে পূণ্যতে রূপান্তরিত করে দেবেন। কেননা, আল্লাহ হলেন গাফূর/ ক্ষমাশীল ও রাহীম/ সীমাহীন করুণাময়।
আল্লাহর দিকে ফিরে আসা কাকে বলে??
25:71 নং আয়াহ : যে তাওবা/ প্রায়শ্চিত্ত করে ও আমলে স্বলিহা/ সৎকর্ম করে, সে নিশ্চয়ই আল্লাহর দিকে পূর্ণ ভাবে ফিরে এল।
‛অর্থহীন কর্মকাণ্ডে’ যোগ না দেওয়ার নির্দেশ।
25:72 নং আয়াহ : এবং (ওরা তো তারাই) যারা মিথ্যা সাক্ষ্য (১) দেয় [2:283, 16:105] না এবং অর্থহীন কর্মকাণ্ডকে অতিক্রম করে, তখন ভদ্রতার সঙ্গে পাশ কাটিয়ে চলে যায়।
১) একবার নাবী (সা) কে কবীরা গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল, তিনি বললেন- ‘‘আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা, পিতা মাতার অবাধ্য হওয়া, কাউকে হত্যা করা ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া” (বুখারী, 2653)।
কুরআনের অন্ধ অনুসরণ করা নিষিদ্ধ।
25:73 নং আয়াহ : এবং (ওরা তো তারাই) যাদের কাছে তাদের রাব/ প্রভুর আয়াত সমূহ উল্লেখ করলেও অন্ধ ও বধিরের মতো মেনে নেয় না (বরং যুক্তি ও বিজ্ঞান দ্বারা যাচাই করে)।
নারীরাও মাসজিদ ও দেশের ‛ইমাম’ হতে পারে।
25:74 নং আয়াহ : আর (ওরা তো তারাই) যারা বলে- “হে আমাদের রব/ প্রভু, আমাদেরকে এমন সঙ্গী/ সঙ্গীনি ও সন্তান সন্ততি দিন, যারা হবে আমাদের চোখের শীতলতা। আর আমাদেরকে বানিয়ে দিন মুত্তাকী (অপকর্ম থেকে দূরত্ব অবলম্বনকারী) দের ইমাম (১)।
১) নারীর প্রার্থনা- “হে আমাদের রাব, আমাদেরকে এমন সঙ্গী/ স্বামী এবং সন্তান সন্ততি দিন, যারা হবে আমাদের চোখের শীতলতা। আমাদেরকে বানিয়ে দিন মুত্তাকী (অপকর্ম থেকে দূরত্ব অবলম্বনকারী) দের ইমাম”। তাই নারীরাও হতে পারে ‛ইমাম’। শুধু মাসজিদের ইমাম নয়, কোনও দেশ/ জাতির ইমামও হতে পারে।
তাহলে ঐ হাদীশটার কি হবে, যেখানে নারীদের নেতৃত্বের উপর প্রশ্ন তোলা হয়েছে?? কিছুই হবে না, এই বিষয়ে 2 টি হাদীশ রয়েছে- ১) তিরমিযীর 2266 নং হাদীশ, যেখানে বলা হয়েছে- “ আর যখন তোমাদের মধ্যেকার খারাপ লোক তোমাদের শাসক হবে, তোমাদের ধনীরা কৃপণ হবে এবং তোমাদের কার্যাবলী তোমাদের নারীদের ওপর ন্যস্ত করা হবে, তখন ভূতলই (কবরই) ভূপৃষ্ঠের তুলনায় তোমাদের জন্য উত্তম হবে”। দুঃখের বিষয় হল- হাদীশটি সুস্পষ্ট দ্বাইফ। দারুস সালাম (সৌদি) সহ সমস্ত মুহাদ্দিসগণ তা দ্বাইফ বলেছেন। যেমন আলবানী (রহি), আলী যাঈ (রহি) ও আরনাউত (রহি)।
২) বুখারীর 4425, এই তো?? তবে এরও উত্তর রয়েছে। কি উত্তর আছে?? যা আপনাকে অবাক করে। আসলে হয়েছিল- নাবী (সা) কিসরা (তৎকালীন পারস্য বা ইরানের সম্রাট) কে চিঠি দ্বারা ইসলামের দাওয়াত দেন। কিসরা সেই ঠিক পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছিঁড়ে টুকরা টুকরা করে ফেলেন। এই খবর নাবী (সা) এর কাছে পৌঁছালে তিনি বলেন- “শীঘ্রই আল্লাহ তাদেরকে ভেঙে টুকরা টুকরা করে ফেলা হবে” (বুখারী, হাদীশ 64 ও 7264)।
এর কিছুদিন পরই তার (কিসরা’র) পুত্র তাকে হত্যা করে সিংহাসন দখল করে। তারপর সেও গুপ্ত হত্যার শিকার হয়। তখন পারস্য বা তৎকালীন ইরানের জনগণ কিসারার কন্যাকে নিজেদের শাসন ভার দেয়। এই খবর নাবী (সা) এর কাছে পৌঁছালে তিনি বলেন- “ঐ জাতি, কখনও সফল হবে না, যারা তাদের শাসনভার তুলে দেয় একজন নারীর হাতে” (বুখারী, হাদীশ 4425)।
বুঝলেন, নাকি কিছু বলব?? এটা নাবী (সা) এর ঘোষণা নয়, এটা ছিল পারস্য বা তৎকালীন ইরানের প্রতি বদদুয়া যে, “তারা যাই করুক, তারা সফল হবে না, তাদের সম্রাজ্য টুকরা টুকরা হবেই”। এই হচ্ছে, বুখারীর 4425 নং হাদীশের পেক্ষাপট। আর নাবী (সা) এর মৃত্যুর পর সেটাই হয়েছিল। পারস্য বা তৎকালীন ইরান মুসলিমদের দখলে আসে। আর দখলে আসবে, এই ভবিষ্যৎ বাণী ছিল নাবী (সা) এর। যা আছে মুসনাদ আহমাদে, 19381 নং হাদীশে।
জান্নাতে বহুতল বিশিষ্ট প্রাসাদের উচ্চ কক্ষে স্থান লাভ।
25:75 নং আয়াহ : তারাই (প্রতিদান/ পুরষ্কার) হিসাবে (জান্নাতে) পাবে- বহুতল প্রাসাদের [39:20] উচ্চ কক্ষ [29:58, 34:37] ঐ কারণে যে, তারা স্বাবর/ ধৈর্য্য ধারণ) করেছিল। তারা তাতে পাবে অভিনন্দন [39:73] ও সালাম [10:10, 33:44]।
25:76 নং আয়াহ : তাতে (জান্নাতে) তারা সুদীর্ঘ কাল থাকবে। তা কতই না উত্তম মুশতাকাররাহ/ আরামগাহ ও কতই না উত্তম মুকাম/ অবাসস্থল।
আল্লাহর প্রার্থনা না করলে, তিনি মরে যাবেন না।
25:77 নং আয়াহ : বলুন-“যদি তোমরা আমার রব/ প্রভুর কাছে [2:186, 40:60] দুয়া/ প্রার্থনা না [7:194, 46:5] কর, তাতে তাঁর কিছুই আসে যায় না [14:8, 64:6]। কিন্তু অবশ্যই তোমরা তাঁকে অস্বীকার করেছ, সুতরাং এখন (আযাব/ শাস্তি) অনিবার্য ভাবে আসবে।
quhwc8
quhwc8