বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 77 টি।
যাদের ‛পাপকে পূণ্যে’ রূপান্তরিত করা হবে।
25:70 নং আয়াহ : তবে যে তাওবা করে, সত্য স্বীকার করবে ও সৎকর্ম করে, (তিনি) তাদের পাপ গুলোকে পূণ্যতে রূপান্তরিত করে দেবেন। কেননা, আল্লাহ হলেন গাফূর/ ক্ষমাশীল ও রাহীম/ সীমাহীন করুণাময়।
আল্লাহর দিকে ফিরে আসা কাকে বলে??
25:71 নং আয়াহ : যে তাওবা/ প্রায়শ্চিত্ত করে ও আমলে স্বলিহা/ সৎকর্ম করে, সে নিশ্চয়ই আল্লাহর দিকে পূর্ণ ভাবে ফিরে এল।
‛অর্থহীন কর্মকাণ্ডে’ যোগ না দেওয়ার নির্দেশ।
25:72 নং আয়াহ : এবং (ওরা তো তারাই) যারা মিথ্যা সাক্ষ্য (১) দেয় [2:283, 16:105] না এবং অর্থহীন কর্মকাণ্ডকে অতিক্রম করে, তখন ভদ্রতার সঙ্গে পাশ কাটিয়ে চলে যায়।
১) একবার নাবী (সা) কে কবীরা গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল, তিনি বললেন- ‘‘আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা, পিতা মাতার অবাধ্য হওয়া, কাউকে হত্যা করা ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া” (বুখারী, 2653)।
কুরআনের অন্ধ অনুসরণ করা নিষিদ্ধ।
25:73 নং আয়াহ : এবং (ওরা তো তারাই) যাদের কাছে তাদের রাব/ প্রভুর আয়াত সমূহ উল্লেখ করলেও অন্ধ ও বধিরের মতো মেনে নেয় না (বরং যুক্তি ও বিজ্ঞান দ্বারা যাচাই করে)।
নারীরাও মাসজিদ ও দেশের ‛ইমাম’ হতে পারে।
25:74 নং আয়াহ : আর (ওরা তো তারাই) যারা বলে- “হে আমাদের রব/ প্রভু, আমাদেরকে এমন সঙ্গী/ সঙ্গীনি ও সন্তান সন্ততি দিন, যারা হবে আমাদের চোখের শীতলতা। আর আমাদেরকে বানিয়ে দিন মুত্তাকী (অপকর্ম থেকে দূরত্ব অবলম্বনকারী) দের ইমাম (১)।
১) নারীর প্রার্থনা- “হে আমাদের রাব, আমাদেরকে এমন সঙ্গী/ স্বামী এবং সন্তান সন্ততি দিন, যারা হবে আমাদের চোখের শীতলতা। আমাদেরকে বানিয়ে দিন মুত্তাকী (অপকর্ম থেকে দূরত্ব অবলম্বনকারী) দের ইমাম”। তাই নারীরাও হতে পারে ‛ইমাম’। শুধু মাসজিদের ইমাম নয়, কোনও দেশ/ জাতির ইমামও হতে পারে।
তাহলে ঐ হাদীশটার কি হবে, যেখানে নারীদের নেতৃত্বের উপর প্রশ্ন তোলা হয়েছে?? কিছুই হবে না, এই বিষয়ে 2 টি হাদীশ রয়েছে- ১) তিরমিযীর 2266 নং হাদীশ, যেখানে বলা হয়েছে- “ আর যখন তোমাদের মধ্যেকার খারাপ লোক তোমাদের শাসক হবে, তোমাদের ধনীরা কৃপণ হবে এবং তোমাদের কার্যাবলী তোমাদের নারীদের ওপর ন্যস্ত করা হবে, তখন ভূতলই (কবরই) ভূপৃষ্ঠের তুলনায় তোমাদের জন্য উত্তম হবে”। দুঃখের বিষয় হল- হাদীশটি সুস্পষ্ট দ্বাইফ। দারুস সালাম (সৌদি) সহ সমস্ত মুহাদ্দিসগণ তা দ্বাইফ বলেছেন। যেমন আলবানী (রহি), আলী যাঈ (রহি) ও আরনাউত (রহি)।
২) বুখারীর 4425, এই তো?? তবে এরও উত্তর রয়েছে। কি উত্তর আছে?? যা আপনাকে অবাক করে। আসলে হয়েছিল- নাবী (সা) কিসরা (তৎকালীন পারস্য বা ইরানের সম্রাট) কে চিঠি দ্বারা ইসলামের দাওয়াত দেন। কিসরা সেই ঠিক পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছিঁড়ে টুকরা টুকরা করে ফেলেন। এই খবর নাবী (সা) এর কাছে পৌঁছালে তিনি বলেন- “শীঘ্রই আল্লাহ তাদেরকে ভেঙে টুকরা টুকরা করে ফেলা হবে” (বুখারী, হাদীশ 64 ও 7264)।
এর কিছুদিন পরই তার (কিসরা’র) পুত্র তাকে হত্যা করে সিংহাসন দখল করে। তারপর সেও গুপ্ত হত্যার শিকার হয়। তখন পারস্য বা তৎকালীন ইরানের জনগণ কিসারার কন্যাকে নিজেদের শাসন ভার দেয়। এই খবর নাবী (সা) এর কাছে পৌঁছালে তিনি বলেন- “ঐ জাতি, কখনও সফল হবে না, যারা তাদের শাসনভার তুলে দেয় একজন নারীর হাতে” (বুখারী, হাদীশ 4425)।
বুঝলেন, নাকি কিছু বলব?? এটা নাবী (সা) এর ঘোষণা নয়, এটা ছিল পারস্য বা তৎকালীন ইরানের প্রতি বদদুয়া যে, “তারা যাই করুক, তারা সফল হবে না, তাদের সম্রাজ্য টুকরা টুকরা হবেই”। এই হচ্ছে, বুখারীর 4425 নং হাদীশের পেক্ষাপট। আর নাবী (সা) এর মৃত্যুর পর সেটাই হয়েছিল। পারস্য বা তৎকালীন ইরান মুসলিমদের দখলে আসে। আর দখলে আসবে, এই ভবিষ্যৎ বাণী ছিল নাবী (সা) এর। যা আছে মুসনাদ আহমাদে, 19381 নং হাদীশে।
জান্নাতে বহুতল বিশিষ্ট প্রাসাদের উচ্চ কক্ষে স্থান লাভ।
25:75 নং আয়াহ : তারাই (প্রতিদান/ পুরষ্কার) হিসাবে (জান্নাতে) পাবে- বহুতল প্রাসাদের [39:20] উচ্চ কক্ষ [29:58, 34:37] ঐ কারণে যে, তারা স্বাবর/ ধৈর্য্য ধারণ) করেছিল। তারা তাতে পাবে অভিনন্দন [39:73] ও সালাম [10:10, 33:44]।
25:76 নং আয়াহ : তাতে (জান্নাতে) তারা সুদীর্ঘ কাল থাকবে। তা কতই না উত্তম মুশতাকাররাহ/ আরামগাহ ও কতই না উত্তম মুকাম/ অবাসস্থল।
আল্লাহর প্রার্থনা না করলে, তিনি মরে যাবেন না।
25:77 নং আয়াহ : বলুন-“যদি তোমরা আমার রব/ প্রভুর কাছে [2:186, 40:60] দুয়া/ প্রার্থনা না [7:194, 46:5] কর, তাতে তাঁর কিছুই আসে যায় না [14:8, 64:6]। কিন্তু অবশ্যই তোমরা তাঁকে অস্বীকার করেছ, সুতরাং এখন (আযাব/ শাস্তি) অনিবার্য ভাবে আসবে।