লেখকের কথা।
আমি লেখক নই, তাই আমার কথাও নেই। আমি বিপ্লবী, তাই আমার কথায় ও লেখায় বিদ্রোহের ভাব থাকে, যা অনেকের কাছে অপছন্দনীয়। বোরখাকেই ইসলাম মনে করা হয়, অথচ ইসলামের সঙ্গে বোরখার কোনও সম্পর্ক নেই, একটুও নেই, বিন্দুমাত্র নেই। বরং ইসলামের অবস্থান বোরখার বিরুদ্ধে। এই ছোট বইয়ে এই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা থাকবে। যা থেকে আপনি সমৃদ্ধ হতে পারবেন বলে আশা করছি। বই থেকে বেশিরভাগ/ সবাই আহত হবেন, কষ্ট পাবেন, এজন্য আগে থেকেই ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
তবে কাউকে আঘাত দেওয়া, কষ্ট দেওয়া আমার উদ্দেশ্য নয়। উদেশ্য একটাই, বোরখাকে হাতিয়ার করেই সবচেয়ে বেশি ইসলামের বদনাম করা হয়। তাদের থেকে তাদের ঐ হাতিয়ারটা কেড়ে নিতে চাইছি। দ্বিতীয় আরেকটি উদ্দেশ্য রয়েছে, তা হল- ‛আসল ইসলাম’ কেমন, তা আপনাকে জানা। মানে! যে ইসলামটা আমরা পালন করি, যে ইসলাম আমাদের কাছে সম্মানিত আলেমগণ পরিবেশন করেছেন, ওটা আল্লাহর প্রেরিত ও নাবী (সা) এর রেখে যাওয়া ইসলাম নয়। ওটা তাদের ‛তৈরি করা ইসলাম’, ‛নকল ইসলাম’, সেটা আপনাকে বুঝিয়ে দেওয়া।
তাছাড়া আরও একটি বিষয়, কুরআনের আয়াত বিকৃত করে, হাদীশ বিকৃত করে আমাদের সম্মানিত আলেমগণ মুসলিম নারীদের গৃহবন্দি করার চেষ্টা অতিতে করেছেন, এখনও করে চলেছেন। অথচ তা আল্লাহর প্রেরিত ও নাবী (সা) এর রেখে যাওয়া ইসলাম নয়। ওটা তাদের ‛তৈরি করা ইসলাম’, ‛নকল ইসলাম’, সেটাও আপনাকে বুঝিয়ে দেওয়া।
বিপ্লবী, হোসেন কুরানী আল হিন্দী।
পুরুষরা নারীদের মালিক নয়।
খুব বিখ্যাত আয়াহ, শুধু সঠিক অনুবাদ না থাকার জন্য নজরে আসে না। আল্লাহ বলেছেন- “তোমাদের জন্য হালাল/ বৈধ নয় ‛নারীদের মালিক’ সেজে বসে থাকা” (কুরআন, 4:19)। সুতরাং নারীকে বোরখা নামক বস্তায় ভরে রাখার দায়িত্ব আপনাকে দিল কে??
নারীরা পুরুষদের সমান।
ইসলামের সাধারণ নীতি হল- নারী পুরুষ একে অপরের সমান। আল্লাহ বলেছেন- “নারী হোক বা পুরুষ, তারা একে অপরের সমান” (3:195)। নাবী (সা) বলেছেন- “যদি কেউ কন্যাদের উপর পুত্রদের প্রাধান্য না দেয়, সে জান্নাতী” (মুস্তাদারাক হাকিম, 7348)। ইমাম যাহাবী বলেছেন- হাদীশটি সহীহ।
পুরুষদের উপর নারীর শ্রেষ্ঠত্ব।
তবে কুরআনের একটি জায়গায় একজন নারীকে সমস্ত পুরুষদের থেকে বেশি মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। কোথায়, এমন আয়াহ কোথায় আছে! কুরআনেই আছে। কুরআনের 3:36 এ আল্লাহ মারইয়াম (আ) এর প্রসঙ্গে বলেছেন- “পুরুষরা মোটেও এই কন্যার সমান নয়”।
নারীরা আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া আমানত।
নারীরা আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া আমানত। নাবী (সা) বলেছেন- “তোমরা নারীদের বিষয়ে আল্লাহকে ভয় কর। তোমরা তাদেরকে আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া আমানাত হিসেবে গ্রহণ করেছ”(মুসলিম, হাদীশ 1218 এর 1)।
নাবী (সা) নারীদের কল্যাণের ওসিয়ত করেছেন।
এখানেই শেষ নয়, নাবী (সা) এখানে শেষ করেন নি, তিনি মৃত্যুর পূর্বে আরও বলেছেন- “আমি তোমাদেরকে নারীদের কল্যাণের ওসিয়ত করে যাচ্ছি” (বুখারী, হাদীশ 3331)। মানুষ মৃত্যুর পূর্বে কত কী ওসিয়ত করে, কিন্তু নাবী (সা) নারীদের কল্যাণের ওসিয়ত করেছেন।
নাবী (সা) নারীদের অধিকার রক্ষা করার সতর্কবাণী গিয়েছেন।
নাবী (সা) বলেছেন- “হে আল্লাহ, আপনি সাক্ষী থাকুন : আমি আমার উম্মাহকে সতর্ক করেছি, কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছি যে, তারা ইয়াতীম শিশু ও নারীদের অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট ও সচেতন থাকবে” (নাসাঈ কুবরা, হাদীশ 9105)। হাদীশটি আরও রয়েছে ইবনু মাজাহ এর 3678 এ, মুসনাদ আহমাদের 9666 তে, ইবনু হিব্বানের 5565 তে, সহীহ জামে 2447 এও।
এবার মজার কথা বলি- আমরা নারীদের সমস্ত অধিকার কেড়ে তাদের বস্তাবন্দি ও ঘরবন্দি করে ফেললাম। আর এই মহান কাজটা করে আমরা নিজেদেরকে নাবী (সা) এর অনুসারী ও গর্বিত মুসলিম হিসাবে দাবি করি, সঙ্গে আবার ধার্মিক ও জান্নাতী মনে করি। আর এমন মহান (??) কাজটা করে আমরা নাবী (সা) এর ওসিয়ত পালন করছি।