লেখকের কথা।
আমি লেখক নই, তাই আমার কথাও নেই। আমি বিপ্লবী, তাই আমার কথায় ও লেখায় বিদ্রোহের ভাব থাকে, যা অনেকের কাছে অপছন্দনীয়। বোরখাকেই ইসলাম মনে করা হয়, অথচ ইসলামের সঙ্গে বোরখার কোনও সম্পর্ক নেই, একটুও নেই, বিন্দুমাত্র নেই। বরং ইসলামের অবস্থান বোরখার বিরুদ্ধে। এই ছোট বইয়ে এই সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা থাকবে। যা থেকে আপনি সমৃদ্ধ হতে পারবেন বলে আশা করছি। বই থেকে বেশিরভাগ/ সবাই আহত হবেন, কষ্ট পাবেন, এজন্য আগে থেকেই ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
তবে কাউকে আঘাত দেওয়া, কষ্ট দেওয়া আমার উদ্দেশ্য নয়। উদেশ্য একটাই, বোরখাকে হাতিয়ার করেই সবচেয়ে বেশি ইসলামের বদনাম করা হয়। তাদের থেকে তাদের ঐ হাতিয়ারটা কেড়ে নিতে চাইছি। দ্বিতীয় আরেকটি উদ্দেশ্য রয়েছে, তা হল- ‛আসল ইসলাম’ কেমন, তা আপনাকে জানা। মানে! যে ইসলামটা আমরা পালন করি, যে ইসলাম আমাদের কাছে সম্মানিত আলেমগণ পরিবেশন করেছেন, ওটা আল্লাহর প্রেরিত ও নাবী (সা) এর রেখে যাওয়া ইসলাম নয়। ওটা তাদের ‛তৈরি করা ইসলাম’, ‛নকল ইসলাম’, সেটা আপনাকে বুঝিয়ে দেওয়া।
তাছাড়া আরও একটি বিষয়, কুরআনের আয়াত বিকৃত করে, হাদীশ বিকৃত করে আমাদের সম্মানিত আলেমগণ মুসলিম নারীদের গৃহবন্দি করার চেষ্টা অতিতে করেছেন, এখনও করে চলেছেন। অথচ তা আল্লাহর প্রেরিত ও নাবী (সা) এর রেখে যাওয়া ইসলাম নয়। ওটা তাদের ‛তৈরি করা ইসলাম’, ‛নকল ইসলাম’, সেটাও আপনাকে বুঝিয়ে দেওয়া।
বিপ্লবী, হোসেন কুরানী আল হিন্দী।
পুরুষরা নারীদের মালিক নয়।
খুব বিখ্যাত আয়াহ, শুধু সঠিক অনুবাদ না থাকার জন্য নজরে আসে না। আল্লাহ বলেছেন- “তোমাদের জন্য হালাল/ বৈধ নয় ‛নারীদের মালিক’ সেজে বসে থাকা” (কুরআন, 4:19)। সুতরাং নারীকে বোরখা নামক বস্তায় ভরে রাখার দায়িত্ব আপনাকে দিল কে??
নারীরা পুরুষদের সমান।
ইসলামের সাধারণ নীতি হল- নারী পুরুষ একে অপরের সমান। আল্লাহ বলেছেন- “নারী হোক বা পুরুষ, তারা একে অপরের সমান” (3:195)। নাবী (সা) বলেছেন- “যদি কেউ কন্যাদের উপর পুত্রদের প্রাধান্য না দেয়, সে জান্নাতী” (মুস্তাদারাক হাকিম, 7348)। উক্ত বক্তব্যটি আবুদাউদ এর 5146 এও রয়েছে। ইমাম যাহাবী বলেছেন- হাদীশটি সহীহ। মানে, কন্যার উপর পুত্রকে প্রাধান্য দিলে, সে জাহান্নামী।
আরও একটি সুন্দর হাদীশ, যার প্রেমে পড়তে বাধ্য হবেন আশা করছি। আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (সা) এর কাছে এক ব্যক্তি বসে ছিলেন। এমন সময় তার পুত্র সেখানে এল, তিনি তাকে চুমু খেলেন এবং নিজের কোলে বসালেন। এরপর তার কন্যা সেখানে এল, তিনি তাকে নিজের পাশে বসালেন। তখন তাকে (নাবী) বললেন : তুমি কেন তাদের উভয়ের সঙ্গে সমান আচরণ করলে না (সিলসিলা সহীহাহ, হাদীশ 3098)??
পুরুষদের উপর নারীর শ্রেষ্ঠত্ব।
তবে কুরআনের একটি জায়গায় একজন নারীকে সমস্ত পুরুষদের থেকে বেশি মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। কোথায়, এমন আয়াহ কোথায় আছে! কুরআনেই আছে। কুরআনের 3:36 এ আল্লাহ মারইয়াম (আ) এর প্রসঙ্গে বলেছেন- “পুরুষরা মোটেও এই কন্যার সমান নয়”।
এখানে শেষ নয়, এছাড়াও নাবী (সা) বলেছেন- “তোমরা তোমাদের সন্তানদের মধ্যে উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে সমতা বজায় রাখবে। তবে যদি আমি (পুত্র বা কন্যার মধ্যে) কাউকে অগ্রাধিকার দিতাম, তবে কন্যাদেরকে প্রাধান্য দিতাম” (মুসনাদ হারিশ, হাদীশ 454)। ইবনু হাজার আসকালানী (রহি) হাদীশটিকে সহীহ বলেছেন।
নারীরা আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া আমানত।
নারীরা আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া আমানত। নাবী (সা) বলেছেন- “তোমরা নারীদের বিষয়ে আল্লাহকে ভয় কর। তোমরা তাদেরকে আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া আমানাত হিসেবে গ্রহণ করেছ”(মুসলিম, হাদীশ 1218 এর 1)।
নাবী (সা) নারীদের কল্যাণের ওসিয়ত করেছেন।
এখানেই শেষ নয়, নাবী (সা) এখানে শেষ করেন নি, তিনি মৃত্যুর পূর্বে আরও বলেছেন- “আমি তোমাদেরকে নারীদের কল্যাণের ওসিয়ত করে যাচ্ছি” (বুখারী, হাদীশ 3331)। মানুষ মৃত্যুর পূর্বে কত কী ওসিয়ত করে, কিন্তু নাবী (সা) নারীদের কল্যাণের ওসিয়ত করেছেন।
নাবী (সা) দ্বারা নারীদের অধিকার রক্ষার সতর্কবাণী।
নাবী (সা) বলেছেন- “হে আল্লাহ, আপনি সাক্ষী থাকুন : আমি আমার উম্মাহকে সতর্ক করেছি, কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছি যে, তারা ইয়াতীম শিশু ও নারীদের অধিকার রক্ষায় সচেষ্ট ও সচেতন থাকবে” (নাসাঈ কুবরা, হাদীশ 9105)। হাদীশটি আরও রয়েছে ইবনু মাজাহ এর 3678 এ, মুসনাদ আহমাদের 9666 তে, ইবনু হিব্বানের 5565 তে, সহীহ জামে 2447 এও।
এবার মজার কথা বলি- আমরা নারীদের সমস্ত অধিকার কেড়ে তাদের গৃহবন্দি ও বস্তাবন্দি করে ফেললাম। আর এই মহান কাজটা করে আমরা নিজেদেরকে নাবী (সা) এর অনুসারী ও গর্বিত মুসলিম হিসাবে দাবি করি, সঙ্গে আবার ধার্মিক ও জান্নাতী মনে করি। আর এমন মহান (??) কাজটা করে আমরা নাবী (সা) এর ওসিয়ত পালন করছি।
নারীরা পিতার জন্য জান্নাতের কারণ।
নাবী (সা) বলেছেন- “যদি কারোর 3 কন্যা সন্তান থাকে এবং সে তাদেরকে উত্তম ভাবে লালন পালন করে, উত্তম পোষাক, উত্তম খাদ্য ও উত্তম শিক্ষা দেয়, তাহলে ঐ কন্যা সন্তান গুলো বিচার দিবসে তাকে (পিতাকে) জাহান্নামী হতে দেবে না” (আদাবুল মুফরাদ, হাদীশ 76)। এছাড়াও হাদীশটি রয়েছে ইবনু মাজাহ এর 3669 এ, ইবনু হিব্বান এর 446 এ। হাদীশটি বিস্তারিত ভাবে রয়েছে মুসনাদ আহমাদ এর 8425, 14247, 17403 এ, আবুদাউদ এর 2203 এ, ত্বাবারানী আওসাত এর 4860 এ এবং আদাবুল মুফরাদ এর 78 এ। শেষে বলি- উত্তম পোশাক দিতে বলা হয়েছে, বোরখা নয়। মানে, বস্তাবন্দি করা নয়।
গৃহবন্দির দলিল, বিশ্লেষণ ও খণ্ডণ।
এভাবে নাকি বলা হয়েছে- “হে নারীরা, তোমরা তোমাদের ঘরের ভিতরে অবস্থান কর” (কুরআন, 33:33)। সত্যিই এই বক্তব্য কুরআনে আছে?? না, নেই। তাহলে আমাদের আলেমগণ কোথায় থেকে এমন আয়াহ নিয়ে এলেন?? কুরআন থেকেই জোগাড় করেছেন, শুধু বিকৃত করেছেন। কিভাবে?? সব বলব, সঙ্গে থাকুন, পুরোটা পড়ুন।
আসলে নাবী (সা) এর স্ত্রীদের জন্য একথা বলা হয়েছে। কি বলা হয়েছে?? বলা হয়েছে- “ওয়া কারনা ফী বুয়ুতিকুন্না”। অর্থাৎ- “তোমরা তোমাদের ঘরের ভিতরে অবস্থান কর”। আলেমগণ শুধু আয়াহটির আগে “হে নারীরা” নিজেদের পক্ষ থেকে জুড়ে দেন। এই আরকি! মানে, আমাদের আলেমগণ “হে নারীরা” জুড়ে ইহুদি ও খৃষ্টানদের মতো কাজ করেছেন।
বলা হয়েছে- “যারা ইহুদী, তারা কিতাবের কালিমা/ শব্দ গুলোর স্থান পরিবর্তন করে দিত” (4:46, 5:13, 5:41)। আলেমগণ অন্যদেরকে ইহুদী ও খৃষ্টানদের ‛দালাল’ বলে ফতোয়া দেন, অথচ নিজেরা এভাবে কুরআনের আয়াহতে নিজেদের পক্ষ থেকে শব্দ জুড়ে দেন। বিষয়টি হাস্যকর।
যাইহোক, প্রশ্ন হবে- কুরআনের 33:33 এ বলা হয়েছে : “তোমরা তোমাদের ঘরের ভিতরে অবস্থান কর”। এখানে “তোমরা” টা কারা?? 33:32 এ পরিষ্কার ভাবে বলা হয়েছে- “ইয়া নিসায়ান নাবী”। অর্থাৎ ”হে নাবীর স্ত্রীগণ”। তারপর আরও বলা হয়েছে- অমুক অমুক কর না, অমুক অমুক কর না, ইত্যাদি। তারপর 33:33 এ বলা হয়েছে- “তোমরা তোমাদের ঘরের ভিতরে অবস্থান কর”।
নাবী (সা) এর স্ত্রীদের ঘরের ভিতরে থাকতে বলা হয়েছে। কিন্তু কেন?? তৎকালীন 2 টি কারণ ছিল- ১) নাবী (সা) এর স্ত্রীদের উপর মুনাফিকরা কোনও অপবাদ দেওয়ার সুযোগ না পায়। যেমন, আইশাহ (রা) এর উপর অপবাদ দেওয়া হয়েছিল যে, “তিনি অন্য একজনের সঙ্গে প্রেম ও শারীরিক সম্পর্ক করেছেন”। ২) নাবী (সা) নাবী হওয়ার পাশাপাশি ‛রাষ্ট্রপতি ও মিলিটারি চিপ’ ছিলেন, তাই তার স্ত্রীগণ আর 5 জনের মতো কোনও সাধারণ নারী ছিলেন না। তারা রাষ্ট্রপতি ও সেনা মিলিটারি চিপ এর স্ত্রী। তাদের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে হোত।
এটা অবশ্য ওখানেই বলা আছে- “তোমরা অন্য নারীদের মতো নও” (কুরআন, 33:32)। এখন এই হুকুম কি অন্য নারীদের উপর প্রযোজ্য, নাকি নয়- এটা এখন আপনিও বলতে পারবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। বলুন, পারবেন তো?? আমার পাঠকদের উপর ভরসা আছে যে, অবশ্যই পারবেন।
তাহলে ঐ হাদীশ গুলোর কি হবে, যেখানে নারীদেরকে একা সফর করতে নিষেধ করা হয়েছে?? এরও উত্তর রয়েছে। কি?? প্রথমে হাদীশ গুলো দেখি- ১) “কোনও নারী যেন কোনও মাহরাম ছাড়া সফর না করে” (বুখারী, হাদীশ 3006)। ২) যে নারী আল্লাহ এবং আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, তার পক্ষে কোনও মাহরাম পুরুষকে সঙ্গে না নিয়ে 1 দিন ও 1 রাতের পথ সফর করা হালাল/ বৈধ নয়” (বুখারী, হাদীশ 1088)। ৩) নাবী (সা) কোনও মাহরাম ছাড়া কোনঐ মহিলাকে 2 দিনের পথ সফর করতে তিনি নিষেধ করেছেন (মুসলিম, 827 এর 2)। ৪) কোনও নারী যেন সঙ্গে কোনও মাহরাম পুরুষ ছাড়া 3 দিনের দূরত্বের পথ সফর না করে” (মুসলিম, হাদীশ 1338 এর 1)।
এবার উত্তর, তাই তো?? উত্তর সহজ- ১) আসলে নাবী (সা) এর মাদানী জীবনের প্রথম 1 বছর বাদ দিয়ে এবং শেষের 2 বছর বাদ দিয়ে মাঝের 6 বছর যুদ্ধে যুদ্ধে কেটেছে। এই যুদ্ধ চলছিল বাইরের শত্রু ছিল মাক্কাহর মুশরিকদের সঙ্গে, ভিতরের শত্রু ইহুদীদের সঙ্গে। এমন পরিস্থিতিতে যদি কোনও মুসলিম নারী শত্রুদের হাতে বন্দি হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে তারা মুসলিম পক্ষকে ব্ল্যাকমেল করতে পারত, তাই এই ধরণের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। ২) এছাড়াও তখনকার নিয়ম ছিল- শত্রু পক্ষের নারীদের বন্দি করে দাসীতে পরিণত করা। মানে, তাদেরকে একা বের হতে নিষেধ করা হয়েছিল তাদেল সুরক্ষার স্বার্থে, নিরাপত্তার স্বার্থে।
ভাল করে লক্ষ্য করুন- প্রথমে আদেশ দেওয়া হয়েছিল যে, নারী একা বাইরে বের না হয়। উপরিউক্ত প্রথম হাদীশটি। তারপর পরিস্থিতি যেভাবে উন্নত হয়, সে ভাবে নিয়মে শিথিলতা দেওয়া হয় যে, 1 দিন ও 1 রাতের দূরত্বে যেতে চাইলে মাহরাম লাগবে।। তারপর পরিস্থিতি আরও উন্নত হয়, নিয়মেও শিথিলতা দেওয়া হয় যে, 2 দিনের দূরত্বে যেতে চাইলে মাহরাম লাগবে। তারপর পরিস্থিতি আরও উন্নত হয়, নিয়মেও শিথিলতা দেওয়া হয় যে, 3 দিনের দূরত্বে যেতে চাইলে মাহরাম লাগবে।
তারপর যখন পরিস্থিতি পুরোপুরি মুসলিমদের নিয়ন্ত্রণে আসে, তখন নাবী (সা) একজন সাহাবা আদী (রা) কে বলেন- “তুমি যদি দীর্ঘজীবী হও, তাহলে দেখবে : একজন নারী একা উটে চড়ে ইরাকের ‘হীরা’ হতে কাবা তাওয়াফ করে যাবে এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করবে না”। আমি মনে মনে বলতে লাগলাম : তায়ী গোত্রের (ইরানের) ডাকাতগুলো কোথায় থাকবে, যারা বিপর্যয়ের আগুনে দেশকে জ্বালিয়ে দিচ্ছে! তিনি বললেন : তুমি যদি দীর্ঘজীবী হও, তাহলে নিশ্চয়ই দেখতে পাবে যে, তোমরা কিসরার (পারস্য বা তৎকালীন ইরানের) ধনভান্ডার দখল করেছ” (বুখারী, হাদীশ 3595)।
এছাড়াও হাদীশটি আরও বিস্তারিত ভাবে রয়েছে মুসনাদ আহমাদের 19381 তে, আরও একটি বিস্তারিত রয়েছে ইবনু হিব্বানের 6679 তে, ত্বাবারানী আওসাত্ব এর 6620 তে, দারাকুত্বনী এর 2439 ও 2463 তে, এছাড়াও আরও বহু হাদীশের গ্ৰন্থে উক্ত হাদীশটি রয়েছে। তাও আমাদের আলেমগণের চোখে পড়ল না।
নারী কি ঘরের ‛বাইরে’ চাকরি/ ব্যাবসা করতে পারবে??
পারবে। তবে, পারবে না, বলা হয় কেন?? এজন্য বলা হয় যে, “যেহেতু নারীর ঘরের বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ, সুতরাং ঘরের বাইরে গিয়ে চাকরি/ ব্যাবসা করা তো কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ”। এই উত্তরের ভিত্তিটা ভিত্তিহীন, আগেই তা প্রমাণ করেছি। সুতরাং উত্তরটা গোঁড়ামিপূর্ণ উত্তর, তাই তা গ্ৰহণযোগ্য নয়। অবশ্যই নারী বাইরে যেতে পারবে, চাকরি/ ব্যাবসাও করতে পারবে। এখানে নিষেধাজ্ঞা নেই।
এখানে প্রশ্ন হবে- নারী বাইরে বের হতে চাইলে কি কারোর অনুমতি নিতে বাধ্য?? যেমন, পিতা বা স্বামীর?? না, কারোর অনুমতি লাগবে না। দলিল আগেই দিয়েছি- “পুরুষরা নারীদের মালিক নয়” (কুরআন, 4:19)। এখানে নারী স্বাধীন। তবে হ্যাঁ, মনু সংহিতার বিষয়টি এরকম- “নারীকে অবিবাহিতা অবস্থায় পিতা রক্ষা করবে, বিবাহ পরবর্তী সময়ে স্বামী, বৃদ্ধাবস্থায় পুত্র। নারী কখনও স্বাধীন হতে পারে না” (মনু সংহিতা, 9:3)। বক্তব্যটি একটু ভিন্ন ভাবে রয়েছে মনু সংহিতার 4:148 এ।
বলা হচ্ছে- “বাল্যকালে নারী পিতার অধীনে থাকবে, বিবাহিত অবস্থায় স্বামীর অধীনে, আর স্বামীর মৃত্যু হলে পুত্রদের অধীনে। নারী স্বাধীন হওয়ার যোগ্য নয়”। আরও বলা হয়েছে- “নারী বালিকা, যুবতী বা বৃদ্ধা হোক- পিতা, স্বামী ও পুত্রদের অনুমতি ছাড়া স্বাধীনভাবে কোনও কাজ করবে না, এমনকি গৃহের মধ্যেও” (মনু সংহিতা, 5:147)। আরও বলা রয়েছে- “নারী পিতা, স্বামী ও পুত্রদের থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না, হলে পিতা ও পতিকুল উভয় কুলকেই কলঙ্কিত করে” (মনু সংহিতা, 5:149)।
এবার মূল বিষয়ে আসি। ইসলাম অনুযায়ি- ঘরের বাইরে গিয়ে নারী কি চাকরি/ ব্যাবসা করতে পারবে?? অবশ্যই পারবে। কুরআনেই এই উদাহরণ রয়েছে। আপনাকে যেতে হবে কুরআনের 28:23 এ। আর যদি হাদীশের কথা বলি, তাহলে বহু দলিল রয়েছে। যেমন, আসমা বিনতু আবুবকর (রা), যিনি খলিফা আবুবকর (রা) এর মেয়ে ও জুবাইর (রা) এর স্ত্রী। মানে, যিনি আইশাহ (রা) এর বোন ও মুহাম্মাদ (সা) এর শালী। তিনি জমিতে খেঁজুর চাষের কাজ করতে যেতেন এবং পশু পালনের জন্য ঘরের বাইরে ঘাস কাটতে যেতেন। অবাক করা বিষয় হল- তিনি পায়ে হেঁটে মাথায় করে খেঁজুর দানা আনছেন দেখে নাবী (সা) তাঁর উটে তাকে ওটার জন্য বলেছিলেন। কিন্তু ঘরের বাইরে কাজে যেতে নিষেধ করেন নি। (বুখারী, হাদীশ 5224)।
এছাড়াও উম্মু মুবাশশির (রা) আল আনসারী মাদীনাহতে ঘরের বাইরে গিয়ে খেঁজুর চাষ করতেন এবং তা বিক্রি করতেন। এভাবে তিনি অনেক ধনী হয়ে ওঠেন। নাবী (সা) তাকে নিষেধ করেনি, উপরন্তু উৎসাহ দিয়েছেন। হাদীশটি রয়েছে মুসলিমের 1552 এর 2 এ। এছাড়াও জাবির ইবনু আব্দুল্লাহর খালাও খেঁজুর চাষ করে বিক্রি করতেন। অর্থাৎ উভয়ে একই ব্যাবসা করতেন। আর এটাও রয়েছে মুসলিমের 1483 তে।
আরও বলতে পারি, নাবী (সা) এর অন্যতম স্ত্রী যাইনাব বিনতে জাহাশ (রা)। তিনি ব্যাবসা করে নিজের জীবিকা নির্বাহ করতেন ও প্রচুর দান করতেন। যদিও তিনি ভাতা পেতেন, তবুও ব্যাবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এজন্য আইশাহ (রা) তার প্রশংসা করেছেন। এটা রয়েছে মুসলিমের 2442 এর 2 এ।
এছাড়াও হাওলা বিনতু তুওয়াইত দিনে মাদীনাহয় ঘুরে ঘুরে আতর ব্যাবসা করতেন এবং রাতে না ঘুমিয়ে ইবাদত করতেন। তার সম্পর্কে হাদীশ রয়েছে ত্বাবারানী আওসাত্ব এর 5377 এ। যদিও নাবী (সা) তার উদ্দেশ্যে বলেন- “আল্লাহ ততক্ষণ পর্যন্ত আমলের প্রতিদান দেন, যতক্ষণ না বান্দা আমলে বিরক্ত হয়। এরমানে হল- বিরক্ত হওয়া লাগা সত্ত্বেও যে আমল করতে থাকে, তাকে আল্লাহ তার প্রতিদান দেবেন না” (ইবনু হিব্বান, হাদীশ 359)। এভাবে আরও দলিল দেওয়া যাবে।
নারীর ব্যাবসা করার অধিকারের জন্য যুদ্ধ হয়েছিল।
যুদ্ধ হয়েছিল! না, হয় নি, যুদ্ধ করতে হয়েছিল। কে নারীর ব্যাবসা করার অধিকারের জন্য যুদ্ধ করেছিলেন?? এমন মহান কাজ/ কর্ম আমাদের নাবী (সা) ছাড়া আর কেউ কি করতে পারেন?? না, কল্পনাতেও তা কেউ করতে পারে না। এমনটা শুধু করতে পারেন প্রাণপ্রিয় ‛মুহাম্মাদ’ (সা)। নাবী (সা) যুদ্ধ করেছিলেন?? হ্যাঁ, শুনেছেন কখনও?? শোনেন নি, তাই না?? আমার স্মার্ট তাফসীরের 59 নং সূরাহর 15 নং আয়াহ পড়লে জেনে যেতেন। এখন আমি আপনার সেবায়, ওখান থেকে কপি পেষ্ট করছি 59:15 আয়াহ সহ।
“তাদের (বানু নাদ্বীরের) উদাহরণ হল- তাদের পূর্ববর্তী (বানু কাইনুকা) দের মতো। যারা বেশ কিছুদিন/ কিছুকাল আগেই তাদের কুকর্মের স্বাদ পেয়েছে। তাদের জন্য থাকবে কষ্টদায়ক শাস্তি”।
বিষয়টি কি?? গোটা বিষয়টি জানতে আপনাকে গোটা সূরাহটি পড়তে হবে, এখন মূল বিষয়টি বলি। বানু নাদ্বীর গোত্রটি ইহুদী গোত্র। যারা মাদীনাহ রাষ্ট্রের শত্রুদের সঙ্গে হাত মেলায়, আবার তারা মাদীনাহ রাষ্ট্রকে ট্যাক্স দিতেও অস্বীকার করে। মানে, বানু নাদ্বীর গোত্র দেশদ্রোহিতার অপরাধ করে। এ জন্য বানু নাদ্বীর গোত্রকে শাস্তি স্বরূপ নাবী (সা) মাদীনাহ হতে বহিষ্কার করেন।
আসলে বানু নাদ্বীর গোত্রের সঙ্গে যা ঘটেছিল, ইতিপূর্বে তা বানু কাইনুকা গোত্রের সঙ্গেও তাই ঘটেছিল। এই বানু কাইনুকা গোত্রও ইহুদী গোত্র। ইতিহাসটা বলব, শুনুন- মাদীনাহর একজন মুসলিম নারী কিছু পণ্যদ্রব্য নিয়ে বানু কাইনুকা গোত্রের বাজারে বিক্রি করতে যান। সেখানে ঐ মুসলিম নারী এক স্বর্ণকারের দোকানের কাছে বসেন (বানু কাইনুকা গোত্র বণিক ও স্বর্ণের ব্যাবসার জন্য খ্যাতি অর্জন করেছিল)। দোকানের লোকেরা ঐ মুসলিম নারীকে মুখ খুলতে বলেন।
ঐ নারী তা করতে অস্বীকার করেন। অতঃপর স্বর্ণকার ঐ নারীর পরিধানের কাপড়ের একটা কোণা ধরে তার পিঠের সাথে বেঁধে দেয়। ঐ নারী এটা বুঝতে পারেন নি। ফলে ঐ নারী উঠে দাঁড়ালে তার কাপড়ে টান লেগে কাপড় খুলে যায়, তিনি উলঙ্গ হয়ে যান। বাজারের লোকেরা তা দেখে হো হো করে হেসে ওঠেন। ঐ নারী সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার করে ওঠেন।
তখন একজন মুসলিম পুরুষ স্বর্ণকারের ওপর আক্রমণ চালিয়ে তাকে হত্যা করে ফেলেন। স্বর্ণকার ছিলেন- ইহুদী। তাই ইহুদীরাও সংঘবদ্ধ হযে ঐ মুসলিমকে হত্যা করে ফেলেন। তখন ঐ নিহত মুসলিম পরিবার পরিজন মুসলিমদের কাছে বদলার আবেদন জানায়। মুসলিমরা একত্রিত এবং উত্তেজিত হয়ে পড়েন। বনু কাইনুকার সাথে মুসলিমদের দাঙ্গা বেঁধে যায় বা দাঙ্গার পরিস্থিতি তৈরি হয়। তারপর বানু কাইনুকা মুসলিমদের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হয়। কিন্তু নাবী (সা) সাহাবা (রা) দের একটা দল নিয়ে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হন, এগিয়ে যান।
বানু কাইনুকা ভয় পেয়ে যায় এবং গিয়ে তারা দূর্গে আশ্রয় নেয়। তারপর নাবী (সা) তাদেরকে 15 দিন অবরোধ করেন। তখন তারা আত্মসমর্পণ করে। শাস্তি স্বরূপ বানু কাইনুকা গোত্রকেও মাদীনাহ হতে নাবী (সা) বহিষ্কার করেন। আমার তাফসীরে তা বিস্তারিত রয়েছে। তবে যদি মূল ইতিহাস জানতে চান, তাহলে আপনাকে ইবনু হিশাম পড়তে হবে। ইবনু হিশাম তো অনেক বড়! ঠিক আছে, আমি সহজ করে দিচ্ছি। ইবনু হিসামের 517-518 পৃষ্ঠা পড়ুন। প্রকাশনী! মিনা বুক হাউস, বাংলাদেশ।
ভাবার বিষয় হল- নাবী (সা) ঐ মুসলিম নারীর ব্যাবসা করার অধিকার কেড়ে তাকে সুরক্ষার নামে গৃহবন্দি করতে পারতেন। যেমন আমাদের সম্মানিত আলেমগণ করে থাকেন, যেমনটা আমরা করি। কিন্তু তিনি ব্যাবসা করার অধিকার না কেড়ে তার জন্য যুদ্ধ করেছিলেন। এটা পার্থক্য আসল ইসলাম ও আলেমদের তৈরি করা নকল ইসলামের মধ্যে।
নারীর মাসজিদে নামাজ আদায় করা।
প্রশ্ন করা হয়- নারীরা কি মাসজিদে যেতে পারবে?? কিন্তু এই প্রশ্নটাই ভুল। নারী পারবে নয়, মাসজিদেই গিয়ে নামাজ আদায় করবে। এটাই কুরআনের নির্দেশ। সুতরাং প্রশ্নটা এমন হওয়া উচিৎ ছিল যে, নারী কি মাসজিদে না গিয়ে বাড়িতে নামাজ আদায় করতে পারবে?? এখন প্রশ্ন হবে- নারীরা মাসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করবে, এর দলিল কোথায়?? 7:31 এ যান, গিয়ে দেখবেন, আল্লাহ বলেছেন- “হে আদমের পুত্র ও কন্যাগণ, তোমরা যখন প্রতিবার (নামাজের জন্য) মাসজিদে যাবে, তখন সুন্দর পোশাক পরবে”। সুন্দর পোশাক বলতে! যা অশ্লীল নয়।
এই পেক্ষিতে নাবী (সা) বলেছেন- “তোমাদের কারোর ন্ত্রী মসজিদে যেতে চাইলে, তাকে নিষেধ করবে না” (মুসলিম, হাদীশ 442 এর 1)। এ বিষয়ে আরও বলা হয়েছে- “আল্লাহর বান্দীদেরকে আল্লাহর মসজিদে যেতে নিষেধ করবে না” (মুসলিম, হাদীশ 442 এর 3)। আরও বলা হয়েছে- “তোমাদের নারীরা রাত মাসজিদে নামাজ আদায় করতে চাইলেও তাদেরকে বাধা দেবে না” (বুখারী, হাদীশ 865)। প্রশ্ন হবে- তবুও যারা নারীদের মাসজিদে যেতে বাধা দেয়, তাদের সম্পর্কে কিছু বলা হয় নি?? হয়েছে, দেখুন- “আর তার চেয়ে বড় জালিম আর কে আছে, যে আল্লাহর মাসজিদে আল্লাহর নাম উচ্চারণে বাধা দেয়” (কুরআন, 2:114)?? মানে, যারা বাধা দেয়, তারা সীমাহীন হারামী।
একটি হাদীশ দিই, নাবী (সা) বলেন- “আমি অনেক সময় দীর্ঘ করে সালাত আদায়ের ইচ্ছা নিয়ে দাঁড়াই। তারপর (বাড়িতে থাকা) শিশুর কান্না শুনে নামাজ ‛ছোট’ করে দিই। কারণ, শিশুর মাকে কষ্টে ফেলা আমি পছন্দ করি না” (বুখারী, হাদীশ 707)। এই হাদীশ প্রমাণ করে- নাবী (সা) নারীদের ছোট ছোট বাচ্ছা থাকা সত্ত্বেও নারীরা মাসজিদে আসত। কেননা, এটা নারীদের অধিকার। কিন্তু আমরা তাদেরকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত রেখেছি।
এজন্য আজকাল সোস্যাল মিডিয়ায় পোষ্ট দেখতে পাচ্ছি যে, “হে মুসলিম নারী, তোমাদেরকে তো মাসজিদে যেতে দেওয়া হয় না। তাই ইসলাম ত্যাগ কর, হিন্দু ধর্ম গ্রহণ কর এবং মন্দিরে এস। মন্দির তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছে”। যদিও এই বিষয়ে মনু সংহিতা বলে- “নারীদের ধর্মে কোনও অধিকার নেই, ধর্মগ্রন্থে কোনও অধিকার নেই। কেননা, নারীরা মিথ্যা ও অপদার্থ। এটাই হল শাস্ত্রীয় বিধান” (মনু সংহিতা, 9:18)।
ঈদের জামায়াতে নারীদের যাওয়ার নির্দেশ।
নাবী (সা) এর সঙ্গে উহুদ যুদ্ধে অংশ গ্ৰহণ করা একজন নারী সাহাবী উম্মু আত্বীয়াহ (রা) বলেন : “ঈদের দিন আমাদেরকে ঈদগাহে বের হবার আদেশ দেওয়া হোত। এমনকি আমরা কুমারী নারীদের ঘর থেকে বের করতাম, পিরিয়ড হওয়া নারীদেরও বের করতাম (বের হতে না চাইলেও)। তারা পুরুষদের পিছনে থাকত এবং তাদের তাকবীরের সাথে তাকবীর বলত এবং তাদের দুয়ার সঙ্গে দুয়া করত- সেই দিনের বরকত এবং পবিত্রতা তারা আশা করত” (বুখারী, হাদীশ 971)।
সুতরাং ঈদের দিন নারীরা ঈদগাহে যেতে পারে নয়, যেতে হবে। ঈদগাহে যাওয়া ফারাদ্ব/ ফরজ। মানে, ঈদগাহে যেতেই হবে। কিন্তু আমরা নারীদেরকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত রেখেছি। এর জবাবদিহিতা বিচার দিবসে করতে হবে। যদিও এক্ষেত্রে আহলে হাদীশ বা সালাফীরা একটু ভাল। কিন্তু অন্যান্য আলেমগণ হাদীশের সঙ্গে খুব মারাত্মক হারামখুরি করেছে।
পিরিয়ড অবস্থাতেও নারীদের মাসজিদে যাওয়া।
পিরিয়ড অবস্থাতেও ঈদগাহে যাওয়ার হাদীশ তো আগেই উল্লেখ করেছি। এবার মাসজিদে যাওয়ার হাদীশ উল্লেখ করি, দেখুন। আইশাহ (রা) বলেন : একদিন রাসূল (সা) আমাকে বললেন : “মাসজিদ থেকে খুমরা (নামাজ পাটি) নিয়ে এস”। আমি বললাম : আমার তো পিরিয়ড চলছে। তিনি বললেন : “তাতে কি হয়েছে! পিরিয়ড তো তোমার হাতে নেই” (মুসলিম, হাদীশ 298 এর 1 ও 2)।
মানে, নাবী (সা) বলতে চাইলেন- পিরিয়ড অবস্থা তোমার নিজের সৃষ্টি করা নয়, এটা আল্লাহর সৃষ্টি। যদি তা নাপাক হোত, তাহলে আল্লাহ তা সৃষ্টি করতেন না। আর এর পক্ষে অন্য হাদীশ রয়েছে। নাবী (সা) বলেছেন- “মূমীন কখনও নাপাক হয় না” (বুখারী, হাদীশ 283)। কিন্তু অবাক করা বিষয় হল- এই হাদীশ কখনও মুসলিম সমাজে আমাদের সম্মানিত আলেমগণ প্রচার করেন না।
প্রশ্ন হবে- পিরিয়ড অবস্থায় নামাজ পড়া নিষিদ্ধ তো! না, নিষিদ্ধ নয়। মানে! মানে, পিরিয়ড অবস্থাটি নারীদের জন্য কষ্টকর অবস্থা। আল্লাহ বলেছেন- “তারা কি আপনাকে মাহিদ্ব (পিরিয়ড) অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে?? বলুন : তা নারীদের জন্য কষ্টকর অবস্থা” (কুরআন, 2:222)। সেহেতু আল্লাহ এই অবস্থায় রোজা ও নামাজ উভয় হতে মুক্তি দিয়েছেন। তারপর এই অবস্থা শেষে নারীকে বাদ যাওয়া রোজা কাজা আদায় করতে হবে, কিন্তু নামাজের কাজা আদায় করতে হবে না। তা আল্লাহ পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছেন (মুসলিম, হাদীশ 335 এর 1 ও 3)। তবে তিরমিযী এর 787 হাদীশটি দেখে নেবেন।
জুমুয়াহর নামাজে নারী।
বলা হয়- জুম্মার নামাজ নারীদের উপর ফরজ নয়। এই মর্মে হাদীশ আছে। হ্যাঁ, হাদীশ আছে, তা আমি জানিও। ঐ রেফারেন্সও জানি। আবুদাউদ এর 1067 এর কথা বলছেন তো?? আপনি শুধু একটি রেফারেন্স বললেও আমি 10 টা রেফারেন্স দিতে পারব। যেমন ত্বাবারানী কাবির 8206 ও ত্বাবারানী আওসাত্ব 5679, দারাকুত্বনী 1577, মুস্তাদারাক হাকাম 288, বাইহাকী কুবরা 172 ও 183 নং হাদীশ। মনে হয় যথেষ্ট। নাকি আরও রেফারেন্স দেব?? দিই! সহীহ জামে 3111 তে হাদীশটিকে আলবানী (রহি) সহীহ বলেছেন। মুহাদ্দিস আলী যাঈ ও আরনাউত (রহি) প্রমুখ সহীহ বলেছেন।
অন্যদিকে আহলে হাদীশ, সালাফী ও ওহাবী আলেমগণ নারীদের মাসজিদে যাওয়ার পক্ষে থাকলেও ফরজ মনে করেন না, উপরন্তু বলেন- “তোমরা তোমাদের নারীদের মসজিদে যেতে নিষেধ কর না। তবে তাদের ঘরই তাদের জন্য উত্তম” (আবুদাউদ, হাদীশ 567)। এখানে উল্লেখ্য যে, মুহাদ্দিস যুবাঈর আলী যাঈ (রহি) হাদীশটিকে দ্বাইফ বলেছেন।
যাইহোক, তাহলে কি ধরে নেব যে, নারীদের উপর জুম্মার নামাজ ফরজ নয়?? এত তাড়াহুড়ো কেন, আভি হাম জিন্দা হ্যায়! হাদীশ দেখুন- “ঈদের দিন আমাদেরকে ঈদগাহে বের হবার আদেশ দেওয়া হোত। এমনকি আমরা কুমারী নারীদের ঘর থেকে বের করতাম (বের হতে না চাইলেও), এমনকি পিরিয়ড হওয়া নারীদেরও বের করতাম” (বুখারী, হাদীশ 971)।
প্রশ্ন হবে- নারীদের জুম্মার নামাজের কথা হচ্ছে, সেখানে আপনি ঈদের হাদীশ দিচ্ছেন?? হ্যাঁ দিলাম। এখুনি বুঝতে পারবেন। নাবী (সা) বলেছেন- “মুসলিমদের জন্য জুম্মার দিনটি আল্লাহ ঈদের দিন বানিয়েছেন” (ইবনু মাজাহ, হাদীশ 1098)। তাহলে কি বুঝলেন! এটা বুঝলেন- যেমন ঈদের দিন ঈদগাহে নারীদের নিয়ে যাওয়া হোত, তেমনই জুম্মার দিন নারীদের মাসজিদে নিয়ে যেতে হবে। এটাই বুঝলেন তো নাকি??
জানাযাহর নামাজেও মুসলিম নারীরা যাবে।
জানাযাহর নামাজও মূলত নামাজই। দেখুন কুরআনের 9:84 আয়াহ। যাইহোক, নারীরা যদি মাসজিদে গিয়ে পুরুষদের পাশে নামাজ আদায় করতে পারে, তাহলে জানাযাহও আদায় করতে পারবে (পারবে নয়, নারীদের উপস্থিতি পুরুষদের মতোই জরুরি)। এই সম্পর্কে হাদীশ পরবর্তীতে দেওয়া রয়েছে।
মুসলিমের 973 এর 1-3 এ সুস্পষ্ট ভাষায় রয়েছে- “নাবী (সা) এর স্ত্রীগণ মাসজিদে জানাজার নামাজ আদায় করেছেন। হাদীশ- “যখন সাদ ইবনু আবু ওয়াক্কাস (রা) মারা গেলেন, নাবী (সা) এর স্ত্রীগণ তার লাশ মসজিদে নিয়ে আসার জন্য বলে পাঠালেন। যাতে তারাও তার জানাযাহ আদায় করতে পারেন। উপস্থিত লোকেরা তাই করল। তাকে নাবী (সা) এর স্ত্রীগণের ঘরের সামনে রাখা হল এবং তারা তার জানাযাহর নামাজ আদায় করলেন”।
কিন্তু ভিন্ন একটি হাদীশে নিষেধ করা হয়েছে তো! কোন হাদীশ সেটা?? বুখারীর 1278?? আপনি কি ভাবছেন, আমি ঐ হাদীশটা জানি না?? আমার নামটা ভুলে যান কেন! চলুন হাদীশটা দেখি- “উম্মু আত্বিয়াহ (রা) বলেন : আমাদেরকে জানাযাহর অনুসরণ করতে (কবরস্থান পর্যন্ত যেতে) নিষেধ করা হয়েছে, তবে আমাদের উপর সিদ্ধান্ত দেওয়া হয় নি”।
এই হাদীশটা তো?? হাদীশের শেষ অংশেই উত্তর রয়েছে। এটা প্রথম দিকের হাদীশ। কেননা, তখন নারীরা অধিক কান্নাকাটি করতেন। তাই নাবী (সা) নিষেধ করেছিলেন। একটা হাদীশ- “নাবী (সা) বলেছেন : যারা (মৃত ব্যক্তির জন্য শোক প্রকাশে) নিজের গালে মুখে চড় মারে, জামার বক্ষ ছিন্ন করে এবং জাহিলী যুগের মত চিৎকার দেয়, তারা আমাদের দলভুক্ত নয়” (বুখারী, হাদীশ 1294)। এর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। আর তখন নাবী (সা) ঘোষণা করেন- “জানাযার পিছনে কবরস্থান পর্যন্ত যাওয়া এক মুসলিমের উপর অন্য মুসলিমের হক” (বুখারী, হাদীশ 1240)। এই হাদীশটা মনে হয় আপনার জানা ছিল না।
কবরস্থ করাতেও নারীরা যোগ দেবে।
নারীরা যদি কবরস্থানে যেতে পারে, কবরস্থ করা ও মাটি দেওয়ায় অংশ নেবে না কেন! বরং তাদের ‛অংশগ্রহণ না করাটা’ অমানসই। আমরা নারীদের জামায়াত, মাসজিদে যাওয়ার অধিকার, জানাযাহ আদায়ের অধিকার কেড়ে নিয়েছি। এ জন্য বিচার দিবসে আলেমদেরকে জবাবদিহি করতে হবে। পরিত্রাণের উপায় নেই। আর সঠিক সময়ের অপেক্ষা করছি। এর হিসাব আমিও নেব। আমরা শুধু তাদের অধিকার কাড়ি নি, কুরআনের 3:195 আয়াহকে মিথ্যা প্রমাণ করেছি।
ছোট একটা প্রশ্ন- কবরস্থ করাতেও নারীরা যোগ দেবে, এর দলিল কোথায়?? আপনি দলিল ছাড়া তো কথা বলেন না! হ্যাঁ, তাই তো। প্রতিটি বিষয়ের দলিল দিয়েছি, এটার দলিলও দিতে হবে তাহলে। কুরআনের 6:119 খুলে দেখুন, বলা হচ্ছে- “যা হারাম তা বিস্তারিত ভাবে বলে দেওয়া হয়েছে”। হয়ত আল্লাহ বলেছেন, নয়ত নাবী (সা) কে দিয়ে বলিয়েছেন (কুরআন, 7:158)। কবরস্থ করাতে নারীরা যোগ দিতে পারবে না, এমন কথা বল হয় নি, তাই কবরস্থ করাতেও নারীরা যোগ দেবে। যেমন, টেমেটো হারাম নয়, তাই হালাল। যেমন, আম হারাম নয়, তাই হালাল। যেমন, আপেল হারাম নয়, তাই হালাল ইত্যাদি।
কবর যিয়ারতে নারী।
মারাত্মক হাদীশ- “একদিন আইশাহ (রা) কবর যিয়ারত করে কবরস্থান থেকে ফিরছিলেন। আমি তাকে বললাম : হে উম্মুল মূমীনীন, আপনি কোথায় থেকে আসছেন?? তিনি বললেন : আমার ভাই আব্দুর রহমানের কবর থেকে। তখন আমি তাকে বললাম : হে উম্মুল মূমীনীন, রাসূলুল্লাহ (সা) কি কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করেন নি?
তিনি বললেন : হ্যাঁ, তিনি (প্রথমে) যিয়ারত করতে নিষেধ করেছিলেন। আর তিনি তো কুরবানীর গোশত 3 দিনের বেশি খেতে নিষেধ করেছিলেন, অতঃপর (পরে) তা খেতে আদেশ দিলেন। ঐ রকমই তিনি প্রথমে যিয়ারত করলেও পরে আদেশ দিয়েছিলেন” (মুসনাদ আবী ইয়ালা মাউসিলী, হাদীশ 4871)। এছাড়াও নাবী (সা) আইশাহ (রা) কে নিজেই কবর যিয়ারতের দুয়া শিখিয়ে দিয়েছেন (মুসলিম 974 এর 2)।
নারীর মৃতদেহ কবরে নামাবে নারী।
এমনই ইঙ্গিত রয়েছে। উমার (রা) এর যুগে যাইনাব বিনতু জাহাশ (রা) এর মৃত্যু হল। উমার (রা) জানাযা আদায় শেষে নাবী (সা) এর স্ত্রীদের খবর দিলেন যে, তাকে কবরে নামাবে কে?? তারা বললেন- “জীবিত অবস্থায় তার কাছে যারা যেতে পারত” (কানযুল উম্মাল, হাদীশ 37797)। অর্থাৎ তার পিতা, ভাই, স্বামী বা সন্তান ছাড়াও সমস্ত নারীরা।
নারী ইমাম হবে, ইমামতি করবে।
হ্যাঁ হ্যাঁ, সাধারণ নামাজ ও জানাযাহতে নারী নারীদের জামায়াতের ইমাম হতে পারবে তো। এ বিষয়ে হাদীশ রয়েছে আবুদাউদের 592 এ। হা হা হা, ওটা আমিও জানি। এছাড়াও আমি আরও হাদীশ জানি, যা আপনি জানেন না। যেমন, মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক এর 5086 তে বলা হয়েছে- “আইশাহ (রা) নারীদের সঙ্গে নিয়ে ফরজ নামাজের ইমামতি করেছেন”। তা দারাকুত্বনী এর 1507 এও রয়েছে, রয়েছে মুস্তাদারাক হাকাম এর 741/ 736 এও।
এছাড়াও নাবী (সা) এর অন্যতম স্ত্রী “উম্মু সালামাহ (রা) নারীদের সঙ্গে নিয়ে ফরজ নামাজের ইমামতি করেছেন” (বাইহাকী কুবরা, হাদীশ 5357)। যাইহোক, আমার নাম হোসেন কুরানী, তাই আমাকে শেখান মূর্খতা। তবে আমি নারী ইমামের পিছনে পুরুষেরদের জামায়াতের কথা বলছি। কি বলছেন এসব, এটা কি সম্ভব??
সম্ভব। তবে সম্ভব নয় কেন, এটা জানলে আপনি জানতে পারবেন যে, সম্ভব। যদি আপনি আমার স্মার্ট তাফসীরের 25:74 পড়তেন, তাহলে জেনে যেতেন। তবে নারী পুরুষদের ইমাম হতে পারবে না, এটা বলা হয় এই ভিত্তিতে- “ঐ জাতি কখনও সফল হতে পারবে না, যাদের শাসন ভার তুলে দেওয়া হয় একজন নারীর হাতে” (বুখারী, হাদীশ 4425)।
তবে এ কথা নাবী (সা) বলেছিলেন তৎকালীন পারস্য তথা ইরানের নারী শাসকের জন্য, মুসলিম নারীদের জন্য নয়। মুসলিম নারীদের জন্য নয়, এর প্রমাণ আছে?? অবশ্যই আছে। “নৌ বাহিনীতে মুসলিম নারী’ অংশের পরের অংশ “নারীর নেতৃত্ব ও শাসন”। ওখানে আমি বিস্তারিত কথা বলেছি যে, নারী মাসজিদ ও রাষ্ট্রের ইমাম/ নেতা হতে পারবে। একটু কষ্ট করে ঐ অংশটা পড়ে আসুন প্লিজ।
মুয়াজ্জিন ও ইকামত দেবে নারী।
“আনাস (রা) কে জিজ্ঞাসা করতাম যে, নারীদের উপর কি আযান ও ইকামত দেওয়ার বিধান রয়েছে?? তিনি বললেন : না। আর যদি তারা তা করেও, তবে তা শুধুমাত্র আল্লাহর যিকির হিসেবে গণ্য হবে” (মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবাহ, হাদীশ 2337)। মানে, নারীরা আযান ও ইকামত দিতে পারবে।
“এছাড়াও ইবনু উমর (রা) কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, নারীদের উপর কি আযান আছে? তখন তিনি রাগান্বিত হলেন এবং বললেন : আমি কি নারীদেরকে আল্লাহর যিকির করা থেকে নিষেধ করতে পারি” (মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবাহ, হাদীশ 2344)?? মানে, নারীকে আযান দিতে নিষেধ করা যাবে না।
আইশাহ (রা) নারীদেরকে নিয়ে জামায়াত করে নামাজ আদায় করতেন। সেখানে তিনি আযান দিতেন, ইকামত দিতেন এবং ইমামতিও করতেন (মুস্তাদারাক হাকাম, হাদীশ 741, আন্তর্জাতিক নং 736)। এছাড়াও উক্ত বক্তব্য মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবাহ এর 2347 এও রয়েছে। আর প্রমাণ দিতে হবে বলে মনে হয় না।
এখন বলুন, সব দেখে কি বুঝলেন?? আমাদের সম্মানিত আলেম দের এই হাদীশ গুলো কখনও শুনেছেন?? না, শোনেন নি। যান, গিয়ে তাদের গলায় গামছা পাকিয়ে ধরে জিজ্ঞাসা করুন- “1500 বছর পরও এই হাদীশ গুলো কেন তারা গোপন করেছে”??
যাইহোক, নারী কি পুরুষদের জামায়াতের ক্ষেত্রে আযান ও ইকামত দিতে পারবে?? নারী যদি পুরুষদের জামায়াতের ক্ষেত্রে ইমামতি করতে পারে, তাহলে আযান ও ইকামত দিতে পারবে না! অবশ্যই পারবে। মনে রাখা দরকার যে, কুরআন ঘোষণা করেছে- “পুরুষ হোক কিংবা নারী, তারা একে অপরের সমান” (কুরআন, 3:195)।
মুসলিম স্থল বাহিনীতে নারী।
নুসাইবাহ বিনতু কাব, যিনি ইতিহাসে উম্মু আম্মারাহ (রা) নামে চিরজীবী হয়ে রয়েছেন, উহুদ যুদ্ধের দিন তার ভূমিকার প্রশংসা করে নাবী (সা) বলেন- “উহুদ যুদ্ধের দিন আমি ডানে বামে, সামনে পিছনে, যে দিকেই তাকিয়েছি, শুধু নুসাইবাহকে আমার প্রতিরক্ষায় যুদ্ধ করতে দেখেছি” (ত্বাবাকাত ইবনু সাদ, খণ্ড 8, পৃষ্ঠা 414-415, উর্দু, হাফিজ বুক ডিপোট)।
এটা কোনও সাধারণ বক্তব্য নয়, একজন নারীর মাধ্যমে নাবী (সা) উহুদ থেকে বেঁচে ফিরেছিলেন। নাবী (সা) এর বক্তব্যটি তা বলে দেয়। আর আপনি নারীদেরকে গৃহবন্দি করার জন্য ফন্দি করেন। মুসলিম নারীদের অধিকার হরণ করার জন্য বিচার দিবসে আপনাকে কৈফিয়েৎ দিতে হবে। শুধু বিচার দিবসে নয়, সঠিক সময় এলে, এর হিসাব আমিই আলেমদের থেকে অবশ্যই নেব। অপেক্ষা করছি শুধু সঠিক সময়ের, যা আসবেই।
পরে নাবী (সা) ঐ নুসাইবাহ (রা) এর জন্য দুয়া করলেন এভাবে- “হে আল্লাহ, উম্মু আম্মারাহ ও তার পরিবারকে জান্নাতে আমার সঙ্গী করে দিও” (ত্বাবাকাত ইবনু সাদ, খণ্ড 8, পৃষ্ঠা 415, উর্দু, হাফিজ বুক ডিপোট)। নাবী (সা) এর মুগে মুসলিম সেনাবাহিনীতে মুসলিম নারীরা যোগ দিয়েছিলেন। আর আমরা মুসলিম নারীদের ঘরের ভিতরে ঢোকাতে ব্যস্ত।
উহুদ যুদ্ধের কথা শুনেছেন! সেই যুদ্ধে নাবী (সা) আইশাহ (রা) সহ বেশ কিছু নারীদেরকে যুদ্ধে নিয়ে গিয়েছিলেন। যেমন উম্মু সালীত্ব (রা), উম্মু আত্বীয়্যাহ (রা), উম্মু সুলাইম (রা), হামনা বিনতু জাহশ (রা), নাবী (সা) এর ফুফু স্বাফইয়াহ বিনতু আব্দুল মুত্বালিব (রা), নাবী (সা) এর কন্যা ফাতিমাহ (রা), নুসাইবাহ বিনতু কাব (রা) প্রমুখ। নুসাইবাহ বিনতু কাব (রা) সম্পর্কে প্রথমেই কথা বলেছি।
এখানে উম্মু আইমান (রা) এর কথা না বললে, তার প্রতি অন্যায় করা হবে। উহুদ যুদ্ধের প্রথম দিকে মুসলিমরা বিজয়ী হচ্ছিল, পরে মুসলিমরা গণিমতের মাল লুট করার লোভে বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন দিকে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দেয় (কুরআন, 3:152)। এই সুযোগে কুরাইশরা পিছন থেকে আক্রমণ করে, যাদের সেনাপতি ছিল খালিদ বিন ওয়ালিদ।
ফলত নাবী (সা) কে যুদ্ধের ময়দানে ছেড়ে বহু মুসলিম পালিয়ে গিয়েছিলেন এদিক ওদিক, কয়েকজন মাদীনাহতে ফিরে আসে। শুধু সাধারণ মুসলিম/ সাহাবারা নন, উসমান (রা) এর মতো সাহাবাও নাবী (সা) কে ছেড়ে পালিয়েছিলেন (বুখারী, হাদীশ 3699)। যদিও আল্লাহ আয়াত নাযিল করে তাকে/ তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন (কুরআন, 3:155)।
যাইহোক, বহু সাহাবা নাবী (সা) কে যুদ্ধের ময়দানে রেখে মাদীনাহতে পালিয়ে আসছিলেন, তখন উম্মু আইমান (রা) তাদের মুখে ধুলো ছুঁড়ে মারেন এবং রাগে তাদের হাতে চুড়ি তুলে দিয়ে বলেন- “তোমাদের তরবারি গুলো আমাকে দাও, তোমরা চুড়ি পরে বসে থাক”। এরপর তিনি নিজেই যুদ্ধের ময়দানে এগিয়ে যান, বীরাঙ্গনা হয়ে যুদ্ধ করেন, নাবী (সা) এর দিকে আসা তীর নিজ শরীরে নেন। তীরের আঘাতে আহতও হয়েছিলেন।
এমনকি তীরের আঘাতে তিনি মাটিতে পড়ে বিবস্ত্র হয়ে গিয়েছিলেন। যা দেখে শত্রুরা হা হা করে হেসে ওঠে। কেননা, তিনি ছিলেন নাবী (সা) এর পালক মা। এটা দেখে নাবী (সা) মারাত্মক কষ্ট পান। তখন নাবী (সা) সাদ বিন আবু ওয়াক্কাস (রা) কে একটি পালকবিহীন তীর দিয়ে বলেন- “এটা ওর উপরে চালাও”। সাদ (রা) ওটা চালিয়ে দিলে ঐ তীর চালকের গলায় বিদ্ধ হয় ও চিৎ হয়ে পড়ে উলঙ্গ হয়ে যায়। তাতে নাবী (সা) হেসে ওঠেন” (ওয়াকিদী, মাগাজি, খণ্ড 1, পৃষ্ঠা 278) এছাড়াও উম্মু আইমান বহু যুদ্ধে অংশ নেন। যেমন, হুনাইন ও বনু কুরাইজ্বার যুদ্ধে।
উম্মু আইমান (রা) কে ছিলেন?? উম্মু আইমান উসামাহ ইবনু যায়েদ (রা) এর মা ছিলেন। তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আবদুল মুক্তালিবের দাসী ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সা) এর পিতার মৃত্যুর পর আমিনাহর গর্ভ হতে যখন রাসূলুল্লাহ (সা) ভূমিষ্ট হন, তখন উম্মু আইমান (রা) তাকে বড় হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করেন। এরপর তিনি (নাবী) তাকে দাসীত্ব হতে মুক্ত করে দেন।
পরবর্তীতে যাঈদ ইবনু হারিসাহ (রা) তাকে পছন্দ করেন। নাবী (সা) দাঁড়িয়ে থেকে তার বিয়ে দেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (সা) এর মৃত্যুর শোকে রাসূলুল্লাহ (সা) এর 5 মাস পর মারা যান (মুসলিম 1771 এর 1)। নাবী (সা) তাকে মা/ দ্বিতীয় মা/ মায়ের পরের মা বলে ডাকতেন। ইসলামের প্রতি তার প্রেম কেমন ছিল, তা জানতে সহীহ মুসলিমের 2454 নং হাদীশটি অবশ্যই পড়ুন।
উহুদ যুদ্ধে কি হয়েছিল?? যখন মুসলিম বাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়, সুযোগ বুঝে কুরাইশরা নাবী (সা) কে বড়ো পাথর ছুঁড়ে আঘাত করে। তিনি খাদে পড়ে যান, তাঁর দাঁত ভেঙে যায়, নিচের ঠোঁট কেটে যায়, শিরস্ত্রাণের দুটি কড়া মাথায় ঢুকে যায়, গোটা মুখমণ্ডলে আঘাত লাগে এবং পুরো শরীর রক্তাক্ত হয়ে যায় (ইবনু হিশাম, খণ্ড 3, পৃষ্ঠা 64-65, সাবাহ পাবলিকেশন, বাংলাদেশ)। কিন্তু নাবী (সা) প্রাণে বেঁচে যান। যদিও কুরাইশরা তরবারি ও তীর দ্বারা নাবী (সা) কে হত্যা করতে চাইছিল, তখন নাবী (সা) এবং শত্রুদের মাঝখানে ছিলেন নুসাইবাহ বিনতু কাব, মানে উম্মু আম্মারাহ (রা)।
কিছু হাদীশ। “রাসূল (সা) উম্মু সুলাইম ও কিছু আনসারী নারীদেরকে তার সাথে যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ে যেতেন। তারা তৃষ্ণার্তদের পানি পান করাতেন ও আহতদের চিকিৎসা করতেন” (মুসলিম, হাদীশ 1810)।
উম্মু আত্বীয়াহ (রা) বলেন- “আমি আল্লাহর রাসূল (সা) এর সঙ্গে 7 টি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। আমি তাদের শিবিরের পিছনে অবস্থান করতাম, তাদের খাবার তৈরী করতাম, আহতদের চিকিৎসা করতাম ও রোগীদের সেবা/ যত্ন করতাম” (মুসলিম 1812 এর 7)।
রুবাঈ বিনতু মুয়াঈয (রা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন- “আমরা নাবী (সা) এর সঙ্গে যুদ্ধে অংশ নিতাম। আমরা লোকজনকে পানি পান করাতাম, তাদের চিকিৎসা করতাম এবং নিহত ও আহতদের মদীনাহতে নিয়ে যেতাম” (বুখারী, হাদীশ 5679)।
“আনাস (রা) হতে বর্ণিত যে, উহুদের যুদ্ধে সাহাবারা নাবী (সা) এর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেন। আমি দেখলাম : আইশাহ বিনতে আবু বকর ও উম্মু সুলাইম (রা) তাদের আঁচল এতটুকু উঠিয়ে নিয়েছেন যে, আমি তাদের উভয় পায়ের গহনা (নুপুর) দেখছিলাম। তারা উভয়েই মশক পিঠে বয়ে সাহাবাদের মুখে পানি তুলে দিতেন। এরপর আবার ফিরে গিয়ে মশক ভর্তি করে নিয়ে এসে সাহাবাদের মুখে পানি তুলে দিতেন” (বুখারী, হাদীশ 2880)।
“আবু আহমাদ ইবনু জাহাশ (রা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন : আমি উহুদ যুদ্ধের দিন নিজ চোখে হামনাহ বিনতু জাহাশ (নাবীজির শালী) কে দেখেছিলাম যে, তিনি তৃষ্ণার্তদের পানি পান করাচ্ছিলেন ও আহতদের চিকিৎসা করছিলেন” (মাজমাউয যাওয়াইদ, হাদীশ 15424)।
“উমার ইবনু খাত্তাব (রা) বেশ কিছু চাদর মাদীনাহবাসী নারীদের মধ্যে বন্টন করলেন। পরে একটি সুন্দর চাদর অবশিষ্ট রয়ে গেল। তার নিকট উপস্থিত লোকদের মধ্যে একজন বলে উঠলেন : হে আমীরুল মূমিনীন, এ চাদরটা আপনার আলী (রা) এর কন্যা উম্মু কুলসুম (রা) কে দিয়ে দিন। উমর (রা) বললেন : উম্মু সালীত্ব (রা) তার চেয়েও অধিক হকদার। উম্মু সালীত্ব (রা) ছিলেন আনসারী নারী। তিনি রাসূল সা) এর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেছেন। উমর (রা) বললেন : উহুদের দিন এই নারী আমাদের জন্য মশক ভরে পানি এনেছিলেন” (বুখারী, হাদীশ 4071)।
“সাহল ইবনু সাদ সাইদী (রা) হতে বর্ণিত যে, যখন নাবী (সা) এর মাথায় লৌহ শিরস্ত্রাণ চূর্ণ করে দেওয়া হয়েছিল, তাঁর মুখমণ্ডল রক্তাক্ত হয়ে গেল এবং তাঁর রুবায়ী দাঁত ভেঙে গেল, তখন আলী (রা) ঢাল ভর্তি করে পানি দিতে থাকলেন এবং ফাতিমাহ (রা) এসে তাঁর চেহারা থেকে রক্ত ধুয়ে দিতে লাগলেন। ফাতিমাহ (আ) যখন দেখলেন যে, পানি ঢালার পরও অনেক রক্ত ঝরে চলছে, তখন তিনি একটি চাটাই নিয়ে এসে তা পোড়ালেন এবং নাবী (সা)-এর আঘাতের উপর ছাই লাগিয়ে দিলেন। তবেই রক্ত বন্ধ হল” (বুখারী, হাদীশ 5722)।
তবে এখানে অবশ্য আহলে হাদীশ ও সালাফী আলেমগণ বলেন- “না না, এই হাদীশ গুলো পর্দার বিধান নাযিল হওয়ার আগের”। এরা মিথ্যাবাদী, এদেরকে আরবিতে বলা হয়- কাজ্জাব। নুসাইবাহ বিনতু কাব (রা) এর কথা মনে আছে?? আবুবাকর (রা) এর যুগে ইয়ামামাহর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে আঘাত পেয়ে কিছুদিন পর শহীদ হন। আবার উম্মু হারাম (রা) মুয়াবিয়া (রা) এর সময়ে মুসলিম নৌবাহিনীতে যোগ দিয়ে শহীদ হন (বুখারী, হাদীশ 2788)। পরের অংশে এই হাদীশটি আমি উদ্ধৃতি করেছি। দেখে নেবেন। এছাড়াও নাবী (সা) এথ মা উম্মু আইমান বানু কুরাইজা যুদ্ধে অংশ গ্ৰহণ করেছিলেন, এমনকি এই যুদ্ধে আইশাহ (রা) নিজেও উপস্থিত ছিলেন।
মুসলিম নৌ বাহিনীতে নারী।
আল্লাহর রাসূল (সা) উম্মু হারাম বিনতু মিলহান (রা) এর কাছে যাতায়াত করতেন, তিনি আল্লাহর রাসূল (সা) কে খেতে দিতেন। উম্মু হারাম (রাঃ) ছিলেন উবাদা ইবনু সামিত (রা) এর স্ত্রী। একদা আল্লাহর রাসূল (সা) তার ঘরে গেলে তিনি তাকে আহার করান এবং তার মাথার উকুন বাছতে থাকেন। একটা সময় আল্লাহর রাসূল (সা) ঘুমিয়ে পড়েন।
তিনি হাসতে হাসতে ঘুম হতে জাগলেন। উম্মু হারাম (রা) বলেন, আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম : হে আল্লাহর রাসূল, হাসির কারণ কি?? তিনি বললেন- “আমার উম্মতের কিছু ব্যক্তিকে আল্লাহর পথে যুদ্ধরত অবস্থায় আমার সামনে পেশ করা হয়। তারা এ সমুদ্রের মাঝে এমনভাবে আরোহী, যেমন রাজা সিংহাসনের উপর”। অথবা রাসূল (সা) তিনি বলেছেন- “রাজার মতো সিংহাসনে বসে”। এ শব্দ বর্ণনায় ইসহাক (রহি) সন্দেহ করেছেন।
উম্মু হারাম (রা) বলেন , আমি বললাম : হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর নিকট দোয়া করুন, যেন আমাকে তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। আল্লাহর রাসূল (সা) তার জন্য দুয়া করলেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সা) আবারও ঘুমিয়ে পড়েন। অতঃপর হাসতে হাসতে জেগে উঠলেন। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম : হে আল্লাহর রাসূল, এই হাসার কারণ কি?? তিনি বললেন, ‘আমার উম্মতের মধ্যে থেকে আল্লাহর পথে যুদ্ধরত কিছু ব্যক্তিকে আমার সামনে পেশ করা হয়।
পরবর্তী অংশ প্রথম উক্তির মত। উম্মু হারাম (রা) বলেন, আমি বললাম : হে আল্লাহর রাসূল, আপনি আল্লাহর নিকট দুয়া করুন, যেন আমাকে তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। তিনি বললেন : “তুমি তো প্রথম দলের মধ্যেই আছ”। অতঃপর মুয়াবিয়া ইবনু আবু সুফিয়ান (রা) এর সময় উম্মু হারাম (রাঃ) যুদ্ধের উদ্দেশ্যে সামুদ্রিক সফরে যান এবং সমুদ্র থেকে যখন বের হন, তখন তিনি তার সাওয়ারি থেকে ছিটকে পড়েন। আর এতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। (বুখারী, হাদীশ 2788)।
এছাড়াও বুখারীতে হাদীশটি 8-10 বার আছে। তবে বলে রাখতে চাইব যে, উম্মু হারাম (রা) ছিলেন উম্মু সুলাইম (রা) এর বোন ছিলেন। এর সঙ্গে তিনি নাবী (সা) এর দুধ খালা। যিনি আবার আনাস ইবনু মালিক (রা) এর নিজের খালা। আনাস (রা) উম্মু সুলাইম (রা) এর পুত্র। যাইহোক, নাবী (সা) নারীদেরকে শুধু স্থল বাহিনীতে নয়, জল বাহিনীতেও নিয়ে যাওয়ার জন্য মুসলিম বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করেছেন। আর আমরা নারীদেরকে ঘরের ভিতরে ঢোকাতো ব্যস্ত, আবার এটা নাকি ইসলামী রীতি! হা হা হা।
নারীর নেতৃত্ব ও শাসন।
মুসলিম সমাজে প্রচলিত ও প্রচারিত রয়েছে যে, “নারীর নেতৃত্ব ও শাসন হারাম/ বৈধ নয়”। আমাদের সম্মানিত আলেমদের অন্যান্য মিথ্যাচারের মধ্যে এটাও একটি ডাহা মিথ্যা এবং সবচেয়ে বড় মিথ্যাচারের মধ্যে একটি। আমি আমার ‛স্মার্ট তাফসীরে’ 25:74 আয়াহর তাফসীরে এই সম্পর্কে বিস্তারিত কথা বলেছি। এখন ওখান থেকে কপি পেষ্ট করছি।
কুরআনে আল্লাহ বলেছেন- আর (ওরা তো তারাই) যারা বলে- “হে আমাদের রব/ প্রভু, আমাদেরকে এমন সঙ্গী/ সঙ্গীনি এবং সন্তান সন্ততি দিন, যারা হবে আমাদের চোখের শীতলতা। আর আমাদেরকে বানিয়ে দিন মুত্তাকী (অপকর্ম থেকে দূরত্ব অবলম্বনকারী) দের ইমাম।
তাহলে একজন নারীর প্রার্থনা কেমন হবে?? মোটামুটি এমন হবে- “হে আমাদের রব/ প্রভু, আমাদেরকে এমন সঙ্গী/ স্বামী এবং সন্তান সন্ততি দিন, যারা হবে আমাদের চোখের শীতলতা। আমাদেরকে বানিয়ে দিন মুত্তাকী (অপকর্ম থেকে দূরত্ব অবলম্বনকারী) দের ইমাম”। তাই নারীরাও হতে পারে ‛ইমাম’। শুধু মাসজিদের ইমাম নয়, কোনও দেশ/ জাতির ইমামও হতে পারে।
তাহলে ঐ হাদীশটার কি হবে, যেখানে নারীদের নেতৃত্বের উপর প্রশ্ন তোলা হয়েছে?? কিছুই হবে না, এই বিষয়ে 2 টি হাদীশ রয়েছে- ১) তিরমিযীর 2266 নং হাদীশ, যেখানে বলা হয়েছে- “ আর যখন তোমাদের মধ্যেকার খারাপ লোক তোমাদের শাসক হবে, তোমাদের ধনীরা কৃপণ হবে এবং তোমাদের কার্যাবলী তোমাদের নারীদের ওপর ন্যস্ত করা হবে, তখন ভূতলই (কবরই) ভূপৃষ্ঠের তুলনায় তোমাদের জন্য উত্তম হবে”। দুঃখের বিষয় হল- হাদীশটি সুস্পষ্ট দ্বাইফ। দারুস সালাম (সৌদি) সহ সমস্ত মুহাদ্দিসগণ তা দ্বাইফ বলেছেন। যেমন আলবানী (রহি), আলী যাঈ (রহি) ও আরনাউত (রহি)।
২) বুখারীর 4425, এই তো?? তবে এরও উত্তর রয়েছে। কি উত্তর আছে?? যা আপনাকে অবাক করে। আসলে হয়েছিল- নাবী (সা) কিসরা (তৎকালীন পারস্য বা ইরানের সম্রাট) কে চিঠি দ্বারা ইসলামের দাওয়াত দেন। কিসরা সেই ঠিক পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছিঁড়ে টুকরা টুকরা করে ফেলেন। এই খবর নাবী (সা) এর কাছে পৌঁছালে তিনি বলেন- “শীঘ্রই আল্লাহ তাদেরকে ভেঙে টুকরা টুকরা করে ফেলা হবে” (বুখারী, হাদীশ 64 ও 7264)।
এর কিছুদিন পরই তার (কিসরা’র) পুত্র তাকে হত্যা করে সিংহাসন দখল করে। তারপর সেও গুপ্ত হত্যার শিকার হয়। তখন পারস্য বা তৎকালীন ইরানের জনগণ কিসারার কন্যাকে নিজেদের শাসন ভার দেয়। এই খবর নাবী (সা) এর কাছে পৌঁছালে তিনি বলেন- “ঐ জাতি, কখনও সফল হবে না, যারা তাদের শাসনভার তুলে দেয় একজন নারীর হাতে” (বুখারী, হাদীশ 4425)।
বুঝলেন, নাকি কিছু বলব?? এটা নাবী (সা) এর ঘোষণা নয়, এটা ছিল পারস্য বা তৎকালীন ইরানের প্রতি বদদুয়া যে, “তারা যাই করুক, তারা সফল হবে না, তাদের সম্রাজ্য টুকরা টুকরা হবেই”। এই হচ্ছে, বুখারীর 4425 নং হাদীশের পেক্ষাপট। আর নাবী (সা) এর মৃত্যুর পর সেটাই হয়েছিল। পারস্য বা তৎকালীন ইরান মুসলিমদের দখলে আসে। আর দখলে আসবে, এই ভবিষ্যৎ বাণী ছিল নাবী (সা) এর। যা আছে মুসনাদ আহমাদে, 19381 নং হাদীশে।
নারীদের বস্তাবন্দিত্বের দলিল খণ্ডণ।
এই সম্পর্কে বেদে কথা বলা হয়েছে, বাইবেলও কথা বলা হয়েছে। তবে কুরআনে কথা বলা হয় নি। কিন্তু আমাদের সম্মানিত আলেমগণ কুরআনে নারীদের বস্তাবন্দিত্ব করার দলিল পেয়ে যান, যদিও আমি পাই নি। এখন হতে পারে আমি অন্ধ, নয়ত তারা চোখে বেশি দেখেন। দেখা যাক, বেদ ও বাইবেল কি বলে!
বাইবেল বলছে- “স্ত্রীলোক মাথা না ঢেকে প্রার্থনা করে বা ভাববানী বলে, সে তার নিজের মাথার অপমান করে, সে মাথা মোড়ান স্ত্রীলোকের মতো হয়ে পড়ে। স্ত্রীলোক যদি তার মাথা না ঢাকে, তবে তার চুল কেটে ফেলাই উচিৎ৷ কিন্তু চুল কেটে ফেলা বা মাথা নেড়া করা যদি স্ত্রীলোকের পক্ষে লজ্জার বিষয় হয়, তবে সে তার মাথা ঢেকে রাখুক৷ আবার পুরুষ মানুষের মাথা ঢেকে রাখা উচিত নয়, কারণ সে ঈশ্বরের স্বরূপ ও মহিমা প্রতিফলন করে৷ কিন্তু স্ত্রীলোক হল পুরুষের মহিমা। কারণ, স্ত্রীলোক থেকে পুরুষের সৃষ্টি হয় নি, কিন্তু পুরুষ থেকেই স্ত্রীলোক এসেছে৷ স্ত্রীলোকের জন্য পুরুষের সৃষ্টি হয় নি, কিন্তু পুরুষের জন্য স্ত্রীলোকের সৃষ্টি হয়েছিল৷ এই কারণে এবং স্বর্গদূতগণের জন্য অধীনতার চিহ্ন হিসাবে একজন স্ত্রীলোক তার মাথা ঢেকে রাখবে” (1 Corinthians, 11:5-10)।
আরও বলা হয়েছে- “শরীরের অঙ্গ প্রকাশিত হলে ঈশ্বর নারীকে শাস্তি দেবেন, ক্ষমা করবেন না এবং অনুরোধ রাখবেন না” (Book of Isaiah, 47:3)। আর পরপুরুষ দেখে নিজেকে বস্তাবন্দি করার উদাহরণ বাইবেলের Genesis এর 24:65 তেও রয়েছে। এ জন্য গীর্জায় যে সমস্ত খৃষ্টানরা নারীরা থাকে, তারা নিজেদেরকে বস্তাবন্দি করে রাখে। মানে, বোরখা পরে ।
তাদেরকে NUN (নান) বলা হয়। চাইলে গুগলে গিয়ে সার্চ করে দেখে নিন। অবাক করা বিষয় হল- আলেমগণ মুসলিম নারীদের বোরখা পরাতে চায়, আবার কেউ যদি কোর্ট প্যান্ট পরে তাকে কাফের ফতোয়াও দেয়! হা হা হা। আবার হাসি পায় এটাও দেখে- খৃষ্টানরা আবার বোরখার বিরোধিতা করে! হা হা হা।
এবার দেখি, বেদ কি বলে! বেদে একেবারে পরিষ্কার করে নারীকে বলা হয়েছে- “তোমার পাদদ্বয় সংশ্লিষ্ট কর, তোমার অবয়ব (শরীরের গঠন) গোপন কর, যেহেতু তুমি স্তোতা হয়েও স্ত্রী হয়েছ” (ঋকবেদ, 8:33:19, অক্ষয় লাইব্রেরি)। GitHub এর অনুবাদ দেখুন- “Cast down thine eyes and look not up. More closely set thy feet. Let none See what thy garment veils, for thou, a Brahman, hast become a dame (Rik veda, 8:33:19, GitHub)।
বলা হচ্ছে- “দৃষ্টি অবনত কর, উপরের দিকে তাকিও না। পা দুটি আরও কাছাকাছি রাখ। তোমার বসনের আড়ালে যা ঢাকা আছে (মানে, শরীর), তা যেন কেউ না দেখতে পায়। কারণ তুমি একজন ব্রাহ্মণ হয়েও এক নারীতে পরিণত হয়েছ”। হাসির কথা কি আর বলি- তারা আবার বোরখাকে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করে এবং বোরখার বিরোধিতা করে! হাস্যকর, হা হা হা। শেষ কথা, বোরখার বিরোধিতা করার অধিকার আছে শুধু মুসলিমদের, কেননা ইসলামে বোরখা নিষিদ্ধ।
অবাক করা বিষয় হল- আলেমগণও বেদের মতো কথা বলছেন, বেদের মতোই দাবিও করছেন। হা হা হা। আরও অবাক করা বিষয় হল- হিন্দুগণ আবার মুসলিম নারীদের বোরখা পরাকে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করে থাকেন। যা হাস্যকর। হা হা হা।
যাইহোক, আলেমগণ কুরআন থেকে যে দলিল পেশ করে থাকেন, তা হল- “তোমরা তোমাদের ঘরের ভিতরে অবস্থান কর এবং তোমরা জাহেলিয়াতের যুগের মতো নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়িও না” (33:33)। এই তো বোরখা পরার দলিল। হ্যাঁ, হা হা হা। প্রথমত, এই নির্দেশ মুসলিম নারীদের জন্য নয়, এই নির্দেশ নাবী (সা) এর স্ত্রীদের জন্য। এই সম্পর্কে আমরা বংইয়ের প্রথমদিকেই আলোচনা করেছি।
দ্বিতীয়ত, যদি এক মিনিটের জন্য ধরে নিই যে, আয়াহতে বলা হয়েছে- “তোমরা তোমাদের ঘরের ভিতরে অবস্থান কর ও তোমরা জাহেলিয়াতের যুগের মতো নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়িও না”। তারমানে দাড়াচ্ছে, নাবী (সা) এর স্ত্রীগণ নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়াতেন। তারমানে দাঁড়াচ্ছে, নাবী (সা) এর স্ত্রীগণ চরিত্রহীন ছিলেন। ছিঃ ছিঃ ছিঃ, আপনি নাবী (সা) এর স্ত্রীগণ সম্পর্কে এই রকম নোংরা ধারণা রাখেন?? আপনি আহলে হাদীশ নয়, বরং আহলে শুয়োরের বাচ্চা। ছিঃ ছিঃ।
তাহলে কি উক্ত আয়াহর অনুবাদ ভুল?? অবশ্যই ভুল, এ বিষয়ে হোসেন কুরানীর অনুবাদ দেখুন, স্বচ্ছ ধারণা পাবেন- “আর আপনারা আপনাদের ঘর সমূহের ভিতরে অবস্থান করবে এবং পূর্বে মূর্খতা বশত যেভাবে নিজেদের উচ্চ দেখাতেন, সেভাবে উচ্চ দেখাবেন না [52:32, 4:49]। স্বালাত/ আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা করুন, যাকাত/ সংশোধিত রূপ [91:9, 87:14] উপহার দিন। মূলত আল্লাহ এটাই চান যে, তোমাদের অর্থাৎ ‛আহলে বাইত’দের থেকে যাবতীয় রিজসা/ খারাপ গুণ দূর করতে ও তোমাদেরকে পরিপূর্ণ ত্বাহিরা/ দোষত্রুটিহীন করতে” (কুরআন, 33:33)। মানে, প্রথম দলিল ধোপে টিকল না।
এর পরের দলিল দেখুন- “আর যখন তোমরা তাদের থেকে কিছু চাইবে, তখন হিজাব/ পর্দার আড়াল থেকে চাইবে” (কুরআন, 33:53)। হাস্যকর, হা হা হা। আয়াহটি পুরোটা পড়ুন, বুঝতে পারবেন যে, এটা নাবী (সা) এর স্ত্রীদের জন্য বলা হয়েছে, সমস্ত নারীদের জন্য নয়। মানে, এই দলিলও খণ্ডিত হয়ে গেল।
পরের দলিল- “হে নাবী, আপনার স্ত্রীদের, কন্যাদের ও মূমীন নারীদেরকে বলুন যে, তারা যেন তাদের (ছাতির) উপর জিলবাব/ ওড়নার একটা অংশ টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা যাবে এবং তাদেরকে ব্যঙ্গ করা হবে না” (কুরআন, 33:59)। যেমন, বর্তমানে বোরখা পরা মুসলিম নারীদেরকে দেখে অভদ্র অমুসলিম গুলো ‘ভূত ভূত’ করে ব্যঙ্গ করে থাকে। তবে উক্ত আয়াহতে না বলা হয়েছে মুখ ঢাকতে, আর না বলা হয়েছে গোটা শরীর ঢাকতে।
তাহলে কি বলা হয়েছে?? স্পেশাল কিছু নয়, নারী/ পুরুষ উভয়েরই ছাতি ঢাকা থাকবে। শুধু নারীদের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে- “ছাতির উপরে একটা বাড়তি কাপড়/ ওড়না দিতে”। এছাড়া আয়াহতে কিছুই নেই। এও বলা হয়েছে- “এভাবে ওড়না দিলে ব্যঙ্গ করা হবে না, নয়ত ব্যঙ্গ করা হবে”। প্রশ্ন হবে- ওড়নার একটা অংশ টেনে নিতে বলা হয়েছে, এর অর্থ কি?? আসলে সেই যুগের নারীরা মাথা ঢেকে রাখত জিলবাব/ ওড়না দিয়ে। যাতে, বাতাসের সঙ্গে মরুভূমির বালি উড়ে চুলে ঢুকে না যায়
তাদেরকে শুধু এটুকু বলা হচ্ছে- “ঐ জিলবাব/ ওড়নার একটা অংশ ছাতির উপর টেনে নেয়”। তাহলে এখানে মূল নির্দেশটা কি! ছাতির উপর বাড়তি কাপড় (জিলবাব/ ওড়না) দেওয়া। প্রশ্ন হবে- মাথা ঢাকা জরুরি?? ওটা নির্দেশ নয়। নির্দেশ শুধু ছাতির উপর বাড়তি কাপড়, মানে ওড়না দেওয়া। তবে, খুব বেশি হলে বলতে পারি যে, মাথায় কাপড় দেওয়া ভাল। কমপক্ষে চুলে নোংরা কম লাগবে এবং মাথা কম চুলকাবে। মানে, এই দলিলও ধপে টিকল না।
ঠিক আছে, এর পরবর্তী দলিল- “আর মূমিন নারীদেরকে বলুন যে, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে ও তাদের লজ্জাস্থান হিফাযত করে। আর যে সব অঙ্গ সাধারণত খোলা (মুখ, হাত ইত্যাদি) থাকে, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য্য তারা প্রকাশ করবে না। তারা যেন তাদের ওড়না দিয়ে কাঁধ ঢাকা করে রাখে” (কুরআন, 23:31)। এখানে আমি অনুবাদ করেছি কাঁধ, কেউ করেন- ছাতি। ছাতি বলুন বা কাঁদ, এই আয়াহ বোরখা/ বস্তাবন্দির দলিল কিভাবে হল, সেটা তো আমি আজ পর্যন্ত বুঝতে পারলাম না। তবে, কুরআনের 33:59 এ ছাতি এবং 24:31 এ কাঁদ ঢাকতে বলা হয়েছে।
মানে, ছাতি ও কাঁধের উপর জামা তো থাকবে, তা সত্ত্বেও ছাতি ও কাঁধের উপর ওড়না দিতে বলা হয়েছে। আবার ছাতির উপর ওড়না দিতে চাইলে সেটা কাঁধের উপর না দেওয়া ছাড়া উপায় নেই। মানে, ছাতির উপর ওড়না দিতে চাইলে কাঁধের উপর দিতেই হবে। মানে, কুরআনের 33:59 ও 24:31 আয়াতের উপর একত্রে আমল হয়ে যাবে। যাইহোক, এই দলিলও ধোপে টিকল না।
শেষ দলিল- “যে সমস্ত নারীদের যৌবন পেরিয়ে গেছে (বুড়ি হয়ে গেছে) এবং বিবাহের আশা রাখে না, তারা তাদের ওড়না খুলে রাখলেও পাপ হবে না (তাদের জন্য জামা ও পা জামা যথেষ্ট)। তবে হ্যাঁ, এই ওড়না খুলে রাখার উদ্দেশ্য সৌন্দর্য্য প্রদর্শন না হয়” (কুরআন, 24:60)। দেখুন তো- এটা বোরখা/ বস্তাবন্দির দলিল কি না, আমি বুঝতে পারলাম না যে, এটা বোরখা/ বস্তাবন্দির দলিল কিভাবে হয়ে গেল!
হাদীশ থেকে দলিল এনে খণ্ডণ করি- “নারীরা গোপনীয়। অতঃপর যখন নারীরা বাইরে বের হয়, তখন শাইত্বান তাকে উপভোগ করে” (তিরমিযী, হাদীশ 1173)। হাদীশটি ইবনু খুযাইমাহ এর 1685 তে রয়েছে, রয়েছে ইবনু হিব্বান এর 5598 এও। মুহাদ্দিস আলী যাঈ (রহি) উক্ত হাদীশটিকে দ্বাইফ বলেছেন। আরনাউত (রহি) বলেছেন- “সনদে মুনকাতী রয়েছে”। অপরদিকে দারুস সালাম (সৌদি) থেকেও দ্বাইফ বলা হয়েছে।
পরের দলিল- “আয়িশাহ (রা) হতে বর্ণিত। একদা আসমা বিনতঙ আবু বকর (রা) পাতলা কাপড় পরিহিত অবস্থায় আল্লাহর রাসূল (সা) এর নিকট এলে আল্লাহর রাসূল (সা) তার থেকে নিজের মুখ ফিরিয়ে নিয়ে বললেন : হে আসমা, মেয়েরা যখন সাবালিকা হয়, তখন এই দুটি অঙ্গ ছাড়া অন্য কোনও অঙ্গ প্রকাশ করা তার জন্য উচিৎ নয়। এই বলে তিনি তাঁর চেহারা ও দুই হাতের কব্জির দিকে ইশারা করেন” (আবুদাউদ, হাদীশ 4104)। মানে, মুখমণ্ডল ও কব্জি থেকে আঙুল পর্যন্তই খোলা রাখা যাবে।
অবাক করা বিষয় দেখুন- উক্ত হাদীশের নিচে ইমাম আবু দাউদ (রহি) নিজেই বলেন- “এটি মুরসাল হাদিস। খালিদ ইবনু দুরাইক (রহি) আইশাহ (রা) এর সাক্ষাত পাননি। আর সাঈদ ইবনু বাশীরও তেমন শক্তিশালী বর্ণনাকারী নন”। তবুও এই হাদীশ সহীহ! এসব হাস্যকর, হা হা হা। মুহাদ্দিস আলী যাঈ (রহি) বলেছেন- হাদীশটি দ্বাইফ। তবুও নাকি এটা বোরখা/ বস্তাবন্দির দলিল।
এর পরের দলিল- “উম্মু সালামাহ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি নাবী (সা) এর নিকট ছিলাম এবং তাঁর নিকট মাইমূনাহ (রা)-ও ছিলেন। এ সময় আব্দুল্লাহ ইবনু উম্মু মাকতূম (রা) এলেন (যিনি অন্ধ সাহাবা নামে পরিচিত)। ঘটনাটি আমাদের উপর পর্দার হুকুম নাযিলের পরের। তিনি (সা) বললেন : তোমরা তার থেকে আড়ালে চলে যাও। আমরা বললাম : হে আল্লাহর রাসুল, সে কি অন্ধ নয়?? সে তো আমাদের দেখতে ও চিনতে পারছে না।
নাবী (সা) বললেন : হ্যাঁ, সে অন্ধ কিন্তু তোমরা কি তাকে দেখছ না” (আবুদাউদ, হাদীশ 4112)?? মজার কথা হল- আহলে হাদীশ ও সালাফীদের আব্বু আলবানী (রহি) হাদীশটিকে দ্বাইফ বলেছেন। চাইলে HadithBd তে গিয়ে দেখে আসুন। আবার আরনাউত (রহি)-ও হাদীশটিকে দ্বাইফ বলেছেন। মানে, নারীকে যেভাবে হোক বস্তাবন্দি করার জন্য দ্বাইফ হাদীশও মেনে নেওয়া হচ্ছে। হাস্যকর, হা হা হা।
পরবর্তী দলিল- “আব্দুর রহমান ইবনু ‘আওফের উম্মু ওয়ালাদ’ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি উম্মু সালামাহ (রা) কে বললাম : আমি আমার পাজামার কাপড়ের নীচের দিকে লম্বা করে দেই। আবর্জনার স্থান দিয়ে চলাচল করতে হয় (এর বিধান কি)?? তিনি বললেন যে, আল্লাহর রাসুল বলেছেন : পরবর্তী পবিত্র জায়গার মাটি এটাকে পবিত্র করে দেয়” (তিরমিযী, হাদীশ 143)। মানে, কাপড়ে নোংরা লাগছে লাগুক, হা হা হা। অথচ কুরআন বলে- “আপনার পোষাক পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন” (কুরআন, 74:4)।
অপরদিকেকে সেই নাবী নাকি বলেছেন- “কাপড়ে নোংরা লাগছে লাগুক। পরবর্তী পবিত্র জায়গার মাটি এটাকে পবিত্র করে দেয়”। হাস্যকর, হা হা হা। আলবানী (রহি) এর মতে উক্ত হাদীশ সহীহ। হাসব, না কাঁদব, ভেবে পাচ্ছি নি। কিন্তু আরনাউত (রহি) এর উপর আল্লাহ রহম করুন, তিনি মুসনাদ আহমাদের 26488 নং হাদীশের তাহকীকে বলেছেন- উক্ত হাদীশের সনদ দ্বাইফ।
পরের দলিল- “আয়িশাহ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন : আমরা ইহরাম অবস্থায় নাবী (সা) এর সাথে ছিলাম। কোনও কাফেলা আমাদের নিকটবর্তী হলে আমরা নিজেদের মাথার সামনে দিয়ে (মুখমণ্ডলে) কাপড় ঝুলিয়ে দিতাম। তারা আমাদের অতিক্রম করে যাওয়ার পর আবার তা মুখমণ্ডল থেকে তুলে ফেলতাম (ইবনু মাজাহ, 2935)। ইবনু খুযাইমাহ এর 2691 তেও রয়েছে উক্ত হাদীশটি। আলবানী (রহি) হাদীশটিকে দ্বাইফ বলেছেন। অন্য মুহাদ্দিসদের কথা আর আনলাম না। চাইলে Hadithbd তে গিয়ে দেখে আসুন।
পরের দলিল- “আসমাহ বিনতু আবুবকর (রা) বলেন যে, আমরা ইহরাম অবস্থায় পুরুষদের থেকে আমাদের মুখমণ্ডল আবৃত করে রাখতাম, আর তার পূর্বে আমরা চুল আঁচড়িয়ে নিতাম” (ইবনু খুযাইমাহ, হাদীশ 2690)। আসমাহ (রা) দলিল নন, যদি তাতে নাবী (সা) এর যোগ সুত্র না থাকে (সমর্থন না থাকে)। এটা তার ব্যক্তিগত আমল। তার ব্যক্তিগত আমল ইসলামের নির্দেশনা নয়। দ্বিতীয় বিষয়- “ইহরাম অবস্থায় নিকাব/ মুখমণ্ডল ঢাকা নিষিদ্ধ” (বুখারী, হাদীশ 1838)।
পরের দলিল- আইশাহ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি (কাবা) তাওয়াফ করার সময় নিকাব পরিহিতা ছিলেন (মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, 8859)। আন্তর্জাতিক নং 8920 তে রয়েছে। হাদীশটি মুরসাল, এ জন্য তা দ্বাইফ (মাতালিবুল আলীয়াহ, হাদীশ 1501)। আর দ্বিতীয় বিষয় হল- “ইহরাম অবস্থায় নিকাব নিষিদ্ধ” (বুখারী, হাদীশ 1838)।
এর পরের দলিল- “আইশাহ (রা) বর্ণিত, তিনি বলেন যে, মূমীন নারীরা নিজেদেরকে চাদরে ঢেকে ফজরের নামাজের জন্য মাসজিদে উপস্থিত হোত। নামাজ আদায় শেষে ঘরে ফিরে যাওয়ার সময় আঁধারের কারণে কেউ তাদেরকে চিনতে পারত না” (বুখারী, হাদিশ 578)।
প্রথম বিষয়- হাদীশটা যদি বোরখার দলিল হোত, তাহলে ইমাম বুখারী (রহি) তা এখানে আনতেন না, যেটা ফজরের ওয়াক্ত বোঝানোর জন্য এনেছেন। দ্বিতীয় বিষয়- তারা নিজেদের চাঁদরে ঢেকে মাসজিদে আসতেন পর্দা করার জন্য নয়, শীত থেকে নিজেদের বাঁচানোর জন্য। মরুভূমিতে গ্রীষ্মকাল কালেও ভোরে শীত লাগে, শীতেও শীত লাগে এবং মারাত্মক শীত লাগে। তাই তারা চাদর দিয়ে নিজেদেরকে জড়িয়ে রাখত। যেমন আজকের যুগের নারীরাও চাদরে নিজেদেরকে জড়িয়ে রাখেন শীত থেকে বাঁচার জন্য।
পরের দলিল- “নাবী (সা) বলেছেন : হজের ইহরাম বাঁধা নারীগণ মুখে নিকাব এবং হাতে হাত মোজা পরবে না” (বুখারী, হাদীশ 1838)। বলা হয়- এরমানে, তখনকার নারীরা নিকাব ও হাত মোজা পরে থাকত, তাই হজের সময় তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সুতরাং বুখারীর হাদীশ, তাই আপনি (হোসেন কুরানী) দ্বাইফ বলতে পারবেন না। হ্যাঁ দ্বাইফ বলতে পারব না, কিন্তু এর উত্তর আমার কাছে রয়েছে।
আসলে নিকাব পরা হাত মোজা পরা হারাম তো ছিল না। প্রাচীন মেসোপটেমিয়া, গ্রিস ও ইরানে উচ্চবিত্ত নারীদের মধ্যে পর্দা বা মুখ ঢাকার প্রথা প্রচলিত ছিল নাবী (সা) আসার আগে থেকেই। বলতে চাইছি- “বোরখা, হিজাব, নিকাব, হাত মোজা ও পা মোজা পরার নির্দেশ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল দেন নি”। প্রশ্ন হবে- তাহলে আপনি বোরখা পরা নারীদের বস্তাবন্দি বলছেন কেন?? উত্তর সহজ। উপরিউক্ত হাদীশ সূরাহ হুজুরাত নাযিল হওয়ার আগের। মানে! মানে হল- আল্লাহ সূরাহ হুজুরাত নাযিল করে মুখ ঢাকা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে দেন।
আল্লাহ বলেছেন- “আমরা তোমাদেরকে একজন পুরুষ ও নারী থেকে সৃষ্টি করেছি। এরপর তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি দেশ প্রদেশ ও গোত্রে। এজন্য, যেন তোমরা একে অপরকে চিনতে পার” (কুরআন 49:13)। এখানে নোট করুন- “যেন তোমরা একে অপরকে চিনতে পার”। এবার বলুন- বোরখা বা নিকাব পরলে তাকে চিনব কিভাবে?? অথচ চিনতে পারাটা শর্ত। বলে রাখি যে, সূরাহ হুজুরাত নাযিল হয়েছে 630 খিঃ। চাইলে গুগলে সার্চ করে দেখে নিন। মানে, এই দলিলও ধোপে টিকল না।
শেষ দলিল- “ইবনু উমার (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন : আল্লাহর রাসূল (সা) বলেছেন : যে অহংকারের বশীভূত হয়ে তার পরনের কাপড় গোড়ালির নিচ পর্যন্ত ঝুলিয়ে পরে, আল্লাহ কিয়ামত দিবসে তার দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না। তখন উম্মু সালামা (রা) বললেন : মহিলারা তাদের কাপড়ের নিম্ন অংশের বিষয়ে কি করবে?? তিনি বললেন : তারা (গোড়ালি হতে) এক বিঘত পরিমাণ ঝুলিয়ে রাখবে।
তিনি (উম্মু সালামা) বললেন : এতে তো তাদের পা দেখা যাবে। তিনি বললেন : তবে তারা (গোড়ালি থেকে) এক হাত পরিমাণ নিচ পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখবে, কিন্তু এর বেশি করবে না” (তিরমিযী, হাদীশ 1731)। এবার বলুন, এখন আপনি (হোসেন কুরানী) কি বলবেন?? এটা সহীহ হাদীশ এবং সমস্ত মুহাদ্দিসের মতে সহীহ।
হ্যাঁ এটা সহীহ হাদীশ, তবে আমাকে হাসি পাচ্ছে ভাই, হা হা হা। এক কাজ করুন, আপনার বাড়ির কোনও মেয়ের কাপড়ের নিম্ন অংশের ঝুল গোড়ালি থেকে 1 হাত করে দেখুন তো ঐ কাপড়টা পরে আপনার বাড়ির মেয়ে হাঁটতে পারে কিভাবে! দ্বিতীয়ত, কাপড়ের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা থাকে কি! অথচ কাপড় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ আল্লাহ দিয়েছেন কুরআনের 74:4 এ।
এই হাদীশে ( ) এর মধ্যে (গোড়ালি হতে) শব্দটি ঢুকিয়ে গোঁজামিল দেওয়া হয়েছে, তা আমি একটু পরেই দেখাব। আবার এই হাদীশের গোঁজামিলটাকে সঠিক দেখাতে অন্য হাদীশ তৈরি করা হয়েছে। যা তিরমিযী এর 143 এ রয়েছে। যা আমরা অনেক আগেই দ্বাইফ প্রমাণ করেছি। যাইহোক, হাদীশটি আরও কিছু গ্ৰন্থে রয়েছে। যেমন তা রয়েছে মুসনাদ আহমাদ এর 4489 এ এবং নাসাঈ কুবরা এর 9651 তে। যা হয়ত আপনি জানতেন না।
প্রশ্ন হবে- তিরমিযী এর 1731 এ গোঁজামিলটা কি?? ঠিক আছে, শুনুন। মানে দেখুন- “তখন উম্মু সালামা (রা) বললেন : মহিলারা তাদের কাপড়ের নিম্ন অংশের বিষয়ে কি করবে?? তিনি (নাবী) বললেন : তারা (হাঁটু হতে) এক বিঘত পরিমাণ ঝুলিয়ে রাখবে।
তিনি (উম্মু সালামা) বললেন : এতে তো তাদের পা দেখা যাবে। তিনি বললেন : তবে তারা (হাঁটু থেকে) এক হাত পরিমাণ নিচ পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখবে, কিন্তু এর বেশি করবে না” (তিরমিযী, হাদীশ 1731)। বুঝতে বলতে পারলাম?? মনে হয়, পারলাম। তাই না?? প্রশ্ন হবে- তাহলে আমাদের আলেমগণ এভাবে আমাদেরকে বোকা বানিয়েছেন?? আলেমগণ আমাদেরকে বোকা বানান নি, আমরা বোকাই ছিলাম। এর মধ্যে বাইচান্স একজন হোসেন কুরানী হয়ে গেছেন।
আরেকটি কথা, উক্ত হাদীশে ‛গোড়ালি’ শব্দের ব্যবহার হয় নি। বলা হয়েছে- “যে অহংকারের বশীভূত হয়ে তার পরনের কাপড় (মাটি পর্যন্ত) ঝুলিয়ে টেনে টেনে নিয়ে যায়, আল্লাহ কিয়ামত দিবসে তার দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না”। তারপরের বক্তব্যটি শুরু করছেন উম্মু সালামা (রা), তিনি বললেন- “তখন উম্মু সালামা (রা) বললেন : মহিলারা তাদের কাপড়ের নিম্ন অংশের বিষয়ে কি করবে?? তিনি (নাবী) বললেন : তারা (হাঁটু হতে) এক বিঘত পরিমাণ ঝুলিয়ে রাখবে।
তিনি (উম্মু সালামা) বললেন : এতে তো তাদের পা দেখা যাবে। তিনি বললেন : তবে তারা (হাঁটু থেকে) এক হাত পরিমাণ নিচ পর্যন্ত ঝুলিয়ে রাখবে, কিন্তু এর বেশি করবে না”। এই হল সঠিক অনুবাদ ও প্রাসঙ্গিক বক্তব্য সহ অনুবাদ।
আরেকটি বিষয় ভেবে দেখুন, গোড়ালি থেকে এক বিঘত কাপড় ঝুলিয়ে পরলে ‛পা’ কখনই দেখা যাবে না। তাহলে উম্মু সালামা (রা) কেন বললেন যে, তাহলে তো নারীদের পা দেখা যাবে?? কারণ, গোড়ালি শব্দটাকে জোর করে ওখানে ঢোকান হয়েছে, যা মূল হাদীশে নেই। নাবী (সা) মূলত হাঁটু থেকে 1 বিঘত বা 1 হাত ঝোলাতে বলেছিলেন। নয়ত তা কুরআনের 74:4 এর বিরুদ্ধে যাবে।
আতর/ সুগন্ধিও মাখবে মুসলিম নারী।
প্রথমে আলেমদের নিষিদ্ধের দলিলটা দেখি, হাদীশে বলা হয়েছে- “যে নারী সুগন্ধি লাগায় এবং সে পুরুষদের কাছে নিজেকে আকর্ষণীয় করতে চায়, সে ব্যাভিচারীনি” (নাসাঈ, হাদীশ 5126)। হ্যাঁ ঠিক, তা বলা হয়েছে। আর হাদীশটি সহীহও। তবে তা সব নারীদেরকে উদেশ্য করে বলা হয় নি। আর সাধারণ পরিস্থিতির জন্য বলা হয় নি। মানে!
মানে হল- স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রী সর্বোচ্চ 4 মাস 10 দিন শোক পালন করতে পারবে এবং এই সময় কালের মধ্যে ঐ বিধবা স্ত্রী অন্য কোনও পুরুষকে বিবাহ করতে পারবে না (কুরআন, 2:234)। এই 4 মাস 10 দিনের মধ্যে ঐ বিধবা স্ত্রী সুগন্ধি লাগাতেও পারবে না। যদিও লাগায়, তাহলে ঐ বিধবা স্ত্রীকে নাসাঈ এর 5126 এ ব্যভিচারীনি বলা হয়েছে।
প্রমাণ! প্রমাণ দেব রে ভাই, দেব তো। আপনি বুখারী এর 5343 নং হাদীশ দেখে নিন। যেখানে সুস্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে- “ঐ 4 মাস 10 দিন ঐ বিধবা স্ত্রী সুগন্ধি লাগাতে পারবে না”। সঙ্গে এও বলা হয়েছে যে, “যদি এই সময়ের মধ্যে স্ত্রীর ঋতুস্রাব হয় এবং তা থেকে মুক্ত হয়, তখন অবশ্য গোসলের পানিতে সুগন্ধি লাগিয়ে গোসল করতে পারবে”। এর মানে, 4 মাস 10 দিন পর তো আর নিষেধের গল্পই নেই।
তবে আপনাকে জানাই, মুসনাদ আহমাদ এর 27304 নং হাদীশ অবশ্যই দেখুন, আরও পরিষ্কার হবে বিষয়টি। এছাড়াও পুরুষদেরকে বলা হয়েছে- জুমুয়াহর দিন সুগন্ধি লাগিয়ে মাসজিদে আসবে। নিজের আতর না থাকলে বাড়ির মেয়েদের থেকে আতর ধার নিয়েও সুগন্ধি লাগিয়ে মাসজিদে আসতে বলা হয়েছে (মুসলিম, হাদীশ 846 এর 2)। এছাড়াও তা রয়েছে ইবনু খুযাইমাহ এর 1810 এ, আবুদাউদ এর 347 এ। তবুও উক্ত হাদীশ গুলো আলেমগণ গোপন রেখেছেন। ধিক্কার তাদের জন্য, ছিঃ।
আলেমদের অন্য দলিল- “নাবী (সা) বলেছেন : যে নারী নিজের ঘর থেকে সুগন্ধি লাগিয়ে মাসজিদের উদ্দেশ্যে বের হয়, আল্লাহ তার নামাজ কবুল করেন না, যতক্ষণ না সে নিজের ঘরে ফিরে গিয়ে তা এভাবে ধোয়, জানাবাতের ক্ষেত্রে যেভাবে গোসল করা হয়” (আবুদাউদ, হাদীশ 4174)। এই হাদীশ নাসাঈ এর 5127 এও রয়েছে, ইবনু মাজাহ এর 4002 এও রয়েছে। আলবানী (রহি) তা সহীহ বললেও (সহীহুল জামি, হাদীশ 2703 ও সিলসিলা সহীহাহ, হাদীশ 1031)। আরনাউত (রহি) মুসনাদ আহমাদের 7356 নং হাদীশের তহকীকে তা দ্বাইফ বলেছেন। মানে, এই দলিল ধোপে টিকল না।
এর পরবর্তী দলিল- “তোমাদের মধ্যে যে নারী মসজিদে আসতে চায়, সে যেন সুগন্ধির নিকটে না যায়” (নাসাঈ, হাদীশ 5131)। হাদীশ সহীহ, কেউ কেউ বলেছেন হাসান। মোট কথা, বাদ দেওয়া যাবে না। যাইহোক, এর পরের দলিল- “যে নারী সুগন্ধি ব্যবহার করে, সে ইশার নামাজের জন্য মাসজিদে না আসে” (মুসলিম, হাদীশ 443 এর 1 ও 2)। এটাও সহীহ হাদীশ।
তাহলে এখন আপনি (হোসেন কুরানী) এই 2 টি দলিলকে কিভাবে খণ্ডণ করবেন, যা খুব পরিষ্কার ভাবে বলছে- নারীদের সুগন্ধি ব্যবহার বৈধ নয়। প্রথমে বলি, উক্ত 2 টি হাদীশ 2 টি হাদীশ নয়, মূলত তা 1 একটি। এর বর্ণনাকারী 1 জনই। তিনি হলেন- আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা) এর স্ত্রী যাইনাব শাকাফীহ (রা)।
প্রথম ‛মাসজিদে না আসে’ বলতে, ইশার সময় মাসজিদে না আসে। প্রশ্ন হচ্ছে- নাবী (সা) “ইশার নামাজে না আসে” বললেন কেন?? এটা মাদীনাহতে নাবী (সা) এর আসার একেবারেই পরের হাদীশ। তখন যুদ্ধের পরিস্থিতি চলছিল। তাই রাতে নারীদের সুগন্ধি মেখে মাসজিদে আসতে নিষেধ করা হয়েছে। যাতে তাদের সুরক্ষায় সমস্যা সৃষ্টি না হয় (নারীরা নারীসুলভ সুগন্ধি মাখতেন)। তাই তাদেরকে সহজে চেনা যেত যে, এটা নারী।
এভাবে শত্রু পক্ষের দ্বারা মুসলিম নারীদের অপহরণের সম্ভবনা বেড়ে যেত। আর শত্রু শুধু মাক্কাহর মুশরিকরা ছিল না। ছিল মাদীনাহর ভিতরের শত্রু ইহুদী ও মুনাফিক মুসলিমরা। মানে, ঠিক প্রথম দিকে যেমন সুরক্ষার জন্য নারীদেরকে বাড়ি থেকে অনেক দূরে একা যেতে নিষেধ করা হয়েছিল, ঐ রকম। এই সম্পর্কে আমি এই বইয়ের প্রথমদিকে কথা বলেছি।
মুসলিম নারী কপালে টিপও দেবে।
টিপ পরা হারাম, এটা বলা হয় এজন্য যে, টিপ সাধারণত হিন্দু নারীরা ব্যবহার করে। আর হাদীশ রয়েছে- “যে যাদের (মিথ্যা ধর্মীয় রীতি) অনুসরণ করে, তাকে তাদের মধ্যে গণ্য করা হবে” (আবুদাউদ, হাদীশ 4031)। আমি সমস্ত হিন্দু ধর্মের ধর্মগ্রন্থ পড়েছি কিন্তু টিপ হিন্দু ধর্মীয় রীতি, এমনটা পাই নি। হ্যাঁ, তিলকের উল্লেখ রয়েছে। এটা রয়েছে রামায়ণের অরণ্য কাণ্ডের 16:8 এ।
এছাড়াও ভগবান রাম নিজে মাতা সীতার কপালে তিলক লাগিয়ে দিয়েছিলেন, এটা রয়েছে সুন্দর কাণ্ডের 40:5 এ। বলে রাখা দরকার যে, তিলক টিপ নয়। তবে সিঁদুর ধর্মীয় রীতি, এতে সন্দেহ নেই। সিঁদুর, তিলক ও টিপ এক জিনিস নয়। হিন্দু নারীরা সিঁদুর পরেও টিপ ব্যবহার করে থাকেন। মানে, সিঁদুর ধর্মীয় বিষয় হলেও টিপ সৌন্দর্য্যের জন্য। আর সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির সমস্ত বিষয় বৈধ (কুরআন, 7:32)।
মুসলিম নারী হাতে/ পায়ে আলতাও দেবে।
বলা হয়- হিন্দু নারীরা আলতা ব্যবহার করে ও হিন্দুদের দেবীদেরও আলতা দেওয়া হয়, তাই মুসলিম নারীদের আলতা ব্যবহার নিষিদ্ধ। আসলে এটা দলিল নয়। হিন্দুরা তো ভাতও খায়, তাহলে কি ভাত খাওয়া মুসলিমদের জন্য নিষিদ্ধ?? হিন্দু দেবীদের গহনা পরান হয়, তাহলে কি মুসলিম নারীদের গহনা পরা নিষিদ্ধ?? এসব ফালতু যুক্তি প্রদান করে নিজেদের হাসির পাত্র বানাচ্ছেন।
এবার আহলে হাদীশ/ সালাফীদের আব্বু শাইখ ইবনু বায (রহি) বলেছেন- “মহিলাদের দুই হাত ও দুই পা কোনও কিছু দিয়ে রঙিন করা হালাল/ বৈধ” (মাজমূ ফতোয়া ইবনে বায, খণ্ড 29, পৃ 47)। এই ফতোয়ার পিছনে দলিল হল আবুদাউদ এর 4166 নং হাদীশ। যা নাসাঈ কুবরা এর 9311 তে এবং মুসনাদ আহমাদ এর 26258 তেও রয়েছে।
প্রশ্ন হবে- হাদীশে তো মেহেদীর কথা বলা হয়েছে! ঠিকই বলেছেন। তবে, মেহেদী ছাড়া অন্য কোনও ভাবে হাত ও পা রঙিন করা যাবে না, এটা তো বলা হয় নি। মানে, মেহেদী নিদিষ্ট করে দেওয়া হয় নি। এর মানে, নাবী (সা) এর যুগে ওটাই ছিল অপশন, তাই তিনি সেটাই বলেছেন। আর শুধুমাত্র আলতা নয়, অন্য কোনও ক্ষতি বিহীন রঙ দিয়েও হাত পা রঙিন করতে পারেন। যদি আমি আমার বোনের কথা বলি, তাহলে আমার বোন হাত ও পায়ে আলতা দেয়।