বিবাহ, ত্বালাক ও হালালা।

লেখকের কথা।

আমি লেখক ন‌ই, আলেম ন‌ই, বক্তা‌ও ন‌ই, আমি বিপ্লবী। তাই লেখক হিসাবে আমার কথাও নেই। একজন অতি সাধারণ মুসলিম মাত্র, ছাত্র মাত্র। বর্তমানে ইসলাম ও মুসলিম‌দের প্রতি অমুসলিম‌দের চরম ঘৃণা রয়েছে। যদিও এই ঘৃণা প্রাকৃতিক নয়, বরং কৃত্রিম। অবশ্যই এতে সন্দেহ নেই যে, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা ঘৃণা। যাতে এই ঘৃণা‌কে ভোটে পরিবর্তন করে ক্ষমতা ভোগ করা যায়।

সেই পরিস্থিতি‌তে দাঁড়িয়ে ‛বিবাহ, ত্বালাক ও হালালা’কে হাতিয়ার করে সমাজে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় মুসলিম‌দের কে খুব সহজে ট্রোল করা হচ্ছে। বলা এভাবে- “3 বার কবুল বললে বিবাহ, 3 বার ত্বালাক বলদে ডিভোর্স, কিন্তু হালালা সারা রাত”! সোশ্যাল মিডিয়ায় মুসলিম নারীদের কে ‛হালালা’ প্রসঙ্গে মারাত্মক আক্রমণ করা হচ্ছে। অন্য বিষয় হল- হালালা’কে কেন্দ্র করে তথাকথিত প্রগতিশীল মুসলিম মেয়েদের ব্রেন ওয়াশ করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে।

আর তা 1-2 টা নয়, পশ্চিমবঙ্গের কথা বললে- প্রতিমাসে হাজার হাজার মুসলিম মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্মান্তরিত করা হচ্ছে। এমনকি এটা সাংগঠনিক ভাবে চলছে। শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, বরং গোটা ভারতের অবস্থা এক‌ই। এমনকি স্লোগান দেওয়া হয় যে, “বেটি বাঁচাও, মুসলিম বাহু লে আও” (The Indian express, 1 Des, 2017 ও Navbharat Times, 29 Des, 2014)। এমনকি পুরস্কার ঘোষণা করা হয় যে, “যদি পুরুষ কোনও মুসলিম মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্মান্তরিত করতে পারে, তাহলে তাকে ‛এত’ টাকা দেওয়া হবে” (হিন্দি AajTak, 15 Feb, 2015)। এমনকি গুগলে গিয়ে লিখুন- “Muslim larki se”। তারপর আপনাকে গুগল অপশন দেবে ঠিক এভাবে- “Muslim larki se shadi kaise kare”??। এর মানে কি! এরমানে, মানুষ এভাবে গুগলে সার্চ করে এবং করছে।

এমন পরিস্থিতিতে সম্মানিত আলেমদের ব‍্যাপক ভূমিকা থাকা উচিৎ ছিল। কিন্তু দুঃখজনক ভাবে বলতে হচ্ছে, তারা পুরোপুরি নিষ্ক্রিয়। ‛ধর্মব‍্যাবসা’ এখন যেন তাদের আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব হয়ে গেছে। এখন 1 ঘণ্টা বক্তব্য রেখে, কে কত টাকা নেয়, সেই কম্পিটিশন চলছে। কেউ 50 হাজার, তো কেউ 60 হাজার, তো কেউ 1 লাখ। অথচ আল্লাহ বলেছেন- “বলুন : আমি (মুহাম্মাদ) তোমাদের থেকে কোনও ধরণের পারিশ্রমিক চাই না। কেননা, আমি ভণ্ড ন‌ই” (কুরআন, 38:86)। আবার অন‍্যত্রে বলা হয়েছে- “আমার (মুহাম্মাদের) পারিশ্রমিক আমার রবের কাছে রয়েছে” (কুরআন, 34:47)। অন্য দিকে- যারা পারিশ্রমিক চান/ নেন, তাদেরকে অনুসরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে (কুরআন, 36:21)।

তাই একজন অতি সাধারণ মুসলিম হয়েও কলম ধরার কাজটা আমি করলাম। এখানে প্রশ্ন হবে, হ‌ওয়া উচিৎ যে, “আপনার একাডেমি‌ক শিক্ষা উচ্চমাধ্যমিক মাত্র, তাও ইংরেজি‌তে ফেল করেছেন। আবার মাদ্রাসার মুখ আপনি দেখেন নি। আপনি কি যোগ্য”?? না, আমি যোগ্য ন‌ই, একেবারেই যোগ্য ন‌ই। তবে যদি অযোগ্য হতাম, তাহলে ব‌ইটা অন্য কেউ লিখত। আর দ্বিতীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়- যারা যোগ্য, তারা নিষ্ক্রিয় কেন?? তারা কোথায়??

বিপ্লবী, হোসেন কুরানী।

নারী সম্পর্কে ইসলাম যা বলেছে।

নারীরা আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া আমানত। নাবী (সা) বলেছেন- “তোমরা নারীদের বিষয়ে আল্লাহকে ভয় কর। তোমরা তাদেরকে আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া আমানাত হিসেবে গ্রহণ করেছ”(মুসলিম, হাদীশ 1218 এর 1)। এই ছাড়াও বলা হয়েছে- “সুতরাং আমি তোমাদের‌কে নারীদের কল‍্যাণের ওসিয়ত করে যাচ্ছি” (বুখারী, হাদীশ 3331)।

5/5 - (1 vote)
শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন