বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 6 টি।
ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের আহ্বান।
109:1 নং আয়াহ : বলুন- “হে অমুসলীমগণ ,
# আহ্বান করে লাভ কি?? উত্তর সহজ- একজন হিন্দু/ অমুসলীম ইসলাম সম্পর্কে জানে না, সে ভিন্ন সোর্স থেকে ইসলাম সম্পর্কে ভুল তথ্য জেনে ইসলাম বিদ্বেষী হয়ে উঠতে পারে। আর বিপরীত ঘটনাও ঘটতে পারে। হয়ত কোনও মুসলীম হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে না জেনে ভিন্ন সোর্স থেকে হিন্দু ধর্ম সম্পর্কে জেনে হিন্দু ধর্ম বিদ্বেষী হয়ে উঠতে পারে। এক্ষেত্রে সর্বোত্তম হল একে অপরকে আহ্বান করে নিজের ধর্ম ও অবস্থান সম্পর্কে জানিয়ে দেওয়া। এতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এড়িয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি গড়ে উঠতে পারে
নিজের অবস্থান পরিষ্কার করা।
109:2 নং আয়াহ : আমি তার ইবাদত করি না, যার ইবাদত তোমরা কর।
আল্লাহর ইবাদত না করার স্বাধীনতা।
109:3 নং আয়াহ : আর না তোমরা তার ইবাদত [109:5] কর, যার ইবাদত আমি করি।
মূর্তি পূজা না করার অঙ্গীকার।
109:4 নং আয়াহ : আর না আমি তার ইবাদত করব, যার ইবাদত তোমরা করে থাক/ করে আসছ।
# আসলে নাবী (সা) কে বিভিন্ন ভাবে আল্লাহর ইবাদত ছেড়ে তাদের দেবদেবীদের পূজা করার জন্য বিভিন্ন ভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। সেই প্রসঙ্গেই এই আয়াহর মাধ্যমে নাবী (সা) উক্ত বক্তব্য পেশ করতে বলা হয়।
আল্লাহর ইবাদত না করার স্বাধীনতা।
109:5 নং আয়াহ : আর না তোমরা তার ইবাদত কর, যার ইবাদত আমি করি।
# অর্থাৎ তোমরাও তো আল্লাহর ইবাদত করছ না, কিন্তু আমি তো তোমাদের চাপ দিচ্ছি না। তাহলে আমার উপর চাপ দেওয়া হচ্ছে কেন?? অর্থাৎ আমাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তোমাদের উপর চাপ না দেওয়ার (88:21-22, 50:45, 10:99)।
ইসলামী রাষ্ট্রে নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা।
109:6 নং আয়াহ : তোমাদের দীন/ ধর্ম তোমাদের জন্য (তোমরা তা পালন কর), আমার দীন/ ধর্ম আমার জন্য (আমাকে তা পালন করতে দাও)।
# কারণ দীন/ ধর্মের ব্যাপারে কারোর উপর কোনও জোরজবরদস্তি ইসলামে হারাম (2:256)। এই মর্মে আরও কিছু আয়াত (6:135, 11:93, 11:121, 39:39) রয়েছে।
ভিন্ন অনুবাদ : তোমাদের কর্মফল তোমাদের জন্য [28:55, 42:15], আমার কর্মফল আমার জন্য [10:41]।