বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 3 টি।
■ সময় কি?? ■ সময়ের গুরুত্ব।
103:1 নং আয়াহ : সময়ের শপথ ১।
১ প্রশ্ন হবে- আল্লাহ সময়ের শপথ করলছন কেন?? উত্তরটা রয়েছে একটি হাদীশে, যা হাদীশ এ কুদসি। আল্লাহ বলেছেন-“আদম সন্তান সময়কে গালাগালি করে, অথচ আমিই সময়” (বুখারী, হাদীশ 6181)। অর্থাৎ এই আয়াতে আল্লাহ সময়ের শপথ করে নিজেরই শপথ করেছেন। এটা আমাদের ভাষায় বলা হয়- “ঘুরিয়ে কান ধরা”। বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন- “যেদিন সময়কে বোঝা সম্ভব হবে, সেদিন ঈশ্বরকে বোঝা সম্ভব হবে”। অথচ তারা জানেন না যে, সময়ই আল্লাহ।
# তবে এই শপথের দ্বিতীয় উদেশ্য হল- মানুষকে সময় সম্পর্কে সচেতন করা। আরবীয় রীতিতে কোনও কিছুর শপথ করা হয় তার গুরুত্ব বোঝাতে/ দৃষ্টি আকর্ষণ করতে।এখানেও এই দুই উদেশ্যে শপথ করা হয়েছে। প্রথম উদেশ্য, মানুষ যেন সময় সম্পর্কে গবেষণা করে (38:29)। দ্বিতীয় উদেশ্য, মানুষ যেন সময়ের গুরুত্ব বোঝে এবং সময় নষ্ট না করে। যায় সময়ের গুরুত্ব বোঝে না এবং সময় নষ্ট করে, তারা ক্ষতিগ্রস্ত। যা পরের আয়াহতে বলা হয়েছে।
মানবজাতির মধ্যে করা ক্ষতিগ্রস্ত??
103:2 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই মানবজাতি রয়েছে ক্ষতির ১ মধ্যে।
১ প্রশ্ন হবে- সমগ্র মানবজাতি?? না। শুধুমাত্র তারা, যারা সময়ের গুরুত্ব বোঝে না এবং সময় নষ্ট করে।
কারা ক্ষতিগ্রস্ত নয়??
103:3 নং আয়াহ : তবে তারা নয়, যারা ইমান আনে এবং ভালো কাজকর্ম করে [98:7], একে অপরকে সত্যের উপর অটল থাকার জন্য মোটিভেট করে [2:214, 3:139, 37:173] এবং একে অপরকে ধৈর্য্য ধারণের [8:46, 31:17, 2:156] জন্য মোটিভেট করে।
# আসলে মোটিভেট জরুরি। কারণ সত্যের উপর চলতে চলতে বহু ক্ষেত্রেই আমরা বিপদের সম্মুখীন হই, তখন মনে হয়- “দূর, এই পথেই আর থাকব না”। আর এভাবেই বহু মূমীন/ মুসলীম নাস্তিকতার দিকে এগিয়ে যায়/ যাচ্ছে। এই সময় সত্যের উপর অটল থাকার ও ধৈর্য্য ধারণের জন্য মোটিভেট করা জরুরি হয়ে যায়। এ জন্য এই দুই ক্ষেত্রে ‛মোটিভেট করা’ ফরজ করা হয়েছে। আর এই সূরাহ নাযিলের প্রসঙ্গ সেটাই। যখন মক্কায় মূমীন/ মুসলীমদের উপর সীমাহীন অত্যাচার চলত, যখন তাদের দীনের উপর থাকা কষ্টকর হয়ে উঠছিল, তখন এই সূরাহ নাযিল করা হয়। বলা হয়- “তাদেরকে মোটিভেট কর”।