১০৮ নং সূরাহ | সূরাহ কাওশার | Surah no 108 | Surah Kawshar |

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। 

অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।

নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 3 টি।

মক্কা বিজয়ের ভবিষ্যৎ বাণী।

108:1 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমরা আপনাকে কাওশার/ মহাবিজয় ১ দান করবো [48:21]।

১ এই সূরাহটি নাযিলের একটি পেক্ষাপট রয়েছে। পেক্ষাপট‌ টি জানলে আয়াত গুলো সহ সূরাহটিকে বুঝতে সুবিধা হবে। পেক্ষাপট টি হলো- নাবী (সা) ইসলাম প্রচার শুরু করেছেন বেশ কয়েক বছর হলো। গুটি কয়েক মানুষ গোপনে ইসলাম গ্ৰহণ করেছেন। অন্য দিকে মক্কার মানুষ‌জন সহ নাবী (সা) এর আত্মীয় স্বজন‌ও তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে চলেছেন। এর‌ই মাঝে নাবী (সা) লালন পালন‌কারী ও রক্ষনাবেক্ষন‌কারী চাচা আবু ত্বালিব মারা যান। তার সঙ্গে সঙ্গে নাবী (সা) সর্বাবস্থায় যিনি মানসিক শক্তি জোগান‌ দিতেন, সেই স্ত্রী খাদীজা (রা) মারা যান। এর মধ্যেই আবার মিরাজ যাত্রা সম্পন্ন হয়ে যায়। যা বেশিরভাগ মানুষ‌ই অবিশ্বাস ও অস্বীকার করেন। এমনকি নাবী (সা) কে সারাক্ষণ উল্টোপাল্টা প্রশ্ন করতেন এবং নাবী (সা) কে তারা অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। যাইহোক, ইসলাম প্রচারের কারণে নাবী (সা) কে সামাজিক Boycott পর্যন্ত করা হয়েছে। এ কারণে নাবী (সা) এর ব‍্যাবসা-বাণিজ্যের অবস্থা‌ও খুব খারাপ। এ কারণে নাবী (সা) এর আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। এমনকি সংসার চালাতে‌ও সমস্যা হচ্ছে। এর‌ই মাঝে আবার বেশ কিছুদিন ওয়াহী আসা বন্ধ হয়ে যায় (93:3)। তার উপর আবার নাবী (সা) এর 2-1 একটা পুত্র জন্মের পর মারা যান। এমতাবস্থায় মক্কার মানুষ‌জন বলতে শুরু করল- “মুহাম্মাদ অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে। তার প্রচারিত ইসলাম‌ও শেষ হয়ে যাবে। তার সমর্থনে মাত্র কয়েক‌জন মানুষ‌ই রয়েছে। তার তো আবার কোনও পুত্র সন্তান‌ও নেই। সুতরাং মুহাম্মাদ তো নির্বংশ”। এ প্রসঙ্গে দেখুন 52:30, 39:30 আয়াত।

   এই পরিস্থিতিতে নাবী (সা) মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন। এমনকি বেশ কয়েক‌বার আত্মহত্যা পর্যন্ত করতে গিয়েছিলেন। তবে, যতবার তিনি আত্মহত্যা করতে গিয়ে ছিলেন, ততবার‌ই জিবরীল (আ) তাকে বাধা দেন এবং সান্ত্বনা দিতেন এই বলে- “হে মুহাম্মাদ, নিঃসন্দেহে আপনি আল্লাহর রাসূল”(বুখারী, হাদীশ 6982)। জিবরীল (আ) এর কথায় তিনি শান্ত হয়ে ফিরে আসতেন। পবিত্র কুরআনেও এর সমর্থনে আয়াহ রয়েছে (18:6)। বহুবার মানুষ‌কে বোঝানো সত্ত্বেও যখন কেউ ইসলাম গ্ৰহণ  করতেন না, তখন নাবী (সা) মনে মনে রেগে যেতেন এবং বিরক্ত‌ও হতেন। তখন আল্লাহ ঘোষণা করলেন-“আপনি তো তাদের উপর জোরজবরদস্তিকারী নন”(88:22)। এমতাবস্থায় নাবী (সা) কি করবেন, কি করবেন না- কিছুই খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তখন আল্লাহ নাবী (সা) কে সান্ত্বনা দিয়ে এই সূরাহ নাযিল করেন।

# অন‍্যদিকে এই আয়াহ একটি ভবিষ্যৎ বাণীও। যা এই সূরাহ ও এই আয়াহ নাযিলের 8-10 বছরের পূরণ হয়ে যায়। এই ভবিষ্যৎ বাণী প্রমাণ করে যে, পবিত্র কুরআন সত্য (41:53)।

নামাজ ও কুরবানী শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য।

108:2 নং আয়াহ : সুতরাং আপনি আপনার প্রভুর জন্য‌ই স্বালাত/ নামাজ আদায় করুন ও তার জন্যই পশু [22:36-37] কুরবানী [6:162] করুন।

নাবী (সা) এর পূর্বে‌ও এবং তার যুগেও নামাজ এবং কুরবানী‌র প্রচলন ছিল (8:35 ও 22:34)। কিন্তু তা তারা তাতে শিরক করতো। অর্থাৎ তা শুধুমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে করত না, অন‍্যান‍্য দেব-দেবীদের উদেশ্যে‌ও করত। তাই নাবী (সা) কে শুধুমাত্র আল্লাহর উদেশ্যে নামাজ ও কুরবানীর নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

নাবী (সা) এর শত্রুদের জন্য ভবিষ্যৎ বাণী।

108:3 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আপনার শত্রু‌‌ই মূলত পরাজিত ও ক্ষমতা‌হীন ১ হবে।

১ এই ভবিষ্যৎ বাণী এই সূরাহ ও এই আয়াহ নাযিলের 8-10 বছরের মধ্যে পূর্ণ হয়ে যায়। যা এই সূরাহ ও এই আয়াহ নাযিলের 8-10 বছরের পূরণ হয়ে যায়। এই ভবিষ্যৎ বাণী প্রমাণ করে যে, পবিত্র কুরআন সত্য (41:53)।

3/5 - (2 votes)
শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন