বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 60 টি।
হোয়াইট হোল বস্তু স্থানান্তর করে।
51:1 নং আয়াহ : শপথ স্থানান্তর কারী (হোয়াইট হোল) সমূহের, যারা (বস্তু) স্থানান্তর করে।
ব্ল্যাকহোল বস্তু হরণ করে।
51:2 নং আয়াহ : অতঃপর শপথ বস্তু হরণকারী (ব্ল্যাকহোল) সমূহের [56:75, 79:1-5]।
হোয়াইট হোল দ্বারা সহজে অন্যত্রে/ অন্য মহাবিশ্বে যাওয়া সম্ভব।
51:3 নং আয়াহ : অতঃপর শপথ যাত্রীদের, যারা খুবই তিব্র গতিতে সহজে (হোয়াইট হোল দ্বারা) বাহিত [51:7] হয়।
ব্ল্যাকহোল ও হোয়াইট হোল একে অপরের বিপরীত।
51:4 নং আয়াহ : অতঃপর শপথ একে অপরের বিপরীত কর্ম/ দায়িত্ব পালন কারীদের।
# প্রশ্ন হবে- “ব্ল্যাকহোল ও হোয়াইট হোল আমাদের প্রতি কোন দায়িত্ব পালন করে”?? আল্লাহ মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন মানবজাতির অনুগত ও কল্যাণের জন্য (31:20, 45:13)। সুতরাং ব্ল্যাকহোল ও হোয়াইট হোল দেরকে হয়ত ভবিষ্যতে মানুষ ব্যবহার করতে পারবে। এর সমর্থনে আয়াহ রয়েছে 16:12 তে। বলা হচ্ছে- “তারই নির্দেশ মুতাবিক নক্ষত্র সমূহ তোমাদের অনুগত ও কল্যাণে নিয়োজিত হবে”। আর ব্ল্যাকহোল ও হোয়াইট হোল নক্ষত্র ছাড়া কিছুই নয়। সুতরাং ব্ল্যাকহোল ও হোয়াইট হোলও মানুষের জন্য অনুগত ও কল্যাণকর হবে।
কিয়ামত/ মহাবিশ্বের সংকোচন হবেই।
51:5 নং আয়াহ : প্রকৃতপক্ষে যে ওয়াদা [21:104] দেওয়া হচ্ছে, তা অবশ্যই [77:7] সত্য [69:16-17]।
কর্মফল দিবস অনুষ্ঠিত হবেই।
51:6 নং আয়াহ : এবং নিশ্চয়ই বিচার দিবস অনুষ্ঠিত [69:16-17, 84:1-5] হবেই।
মহাবিশ্ব মহাজাগতিক সুড়ঙ্গে পরিপূর্ণ।
51:7 নং আয়াহ : শপথ মহাবিশ্বের, যা মহাজাগতিক সুড়ঙ্গ [51:3] দ্বারা পরিপূর্ণ।
ভিন্ন অনুবাদ, 51:7 আয়াহ : শপথ মহাবিশ্বের, যা মহাকর্ষীয় ঢেউ/ তরঙ্গ সৃষ্টিকারী বস্তুতে পরিপূর্ণ।
ভিন্ন অনুবাদ, 51:7 আয়াহ : শপথ মহাবিশ্বের/ মহাকাশের, যা ভিন্ন ভিন্ন পথ দ্বারা/ ভিন্ন ভিন্ন কক্ষপথ দ্বারা পরিপূর্ণ।
ভিন্ন অনুবাদ, 51:7 আয়াহ : শপথ মহাবিশ্বের, যা নিঁখুত ভাবে ডিজাইন করা হয়েছে।
ভিন্ন অনুবাদ, 51:7 আয়াহ : শপথ মহাবিশ্বের, যা মূলত জাল দ্বারা বুনন করা।
কুরআন সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ।
51:8 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই তোমরা (কুরআন সম্পর্কে) ভিন্ন ভিন্ন কথা বলে থাকো/ মত পোষণ করে থাকো।
# ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণের কারণ কি?? কুরআন বিজ্ঞানয় (36:2), কুরআন বিজ্ঞানে পরিপূর্ণ (54:5)। কিন্তু আমাদের বিজ্ঞানে দখল শূণ্য। এজন্য ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করি বা ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করতে বাধ্য হই।
মানুষ কুরআন বিমুখ কেন হয়??
51:9 নং আয়াহ : যে সত্য গ্ৰহণ করতে নারাজ, সেই’ই তা (কুরআন) হতে বিমুখ।
অনুমানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্ৰহণ নিষিদ্ধ।
51:10 নং আয়াহ : অনুমানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্ৰহণ কারীরা ধ্বংস হবে।
# অর্থাৎ “অনেকেই আগে থেকে অনুমান/ ধারণা করে নেন যে, পবিত্র কুরআন তো মানুষের লেখা”। আর এই অনুমান তার পরবর্তী জীবনে তাকে ধ্বংস করবে। যদিও শুরুর 7 টা আয়াত প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট যে, পবিত্র কুরআন মানুষের লেখা হতেই পারে না। কিন্তু তবুও মানুষ অনুমান করেন! এখানে সেটাই বলা হচ্ছে।
মানুষ কুরআন সম্পর্কে উদাসীন কেন??
51:11 নং আয়াহ : যারা গোঁড়ামি/ কুসংস্কারে ডুবে রয়েছে, তারাই (কুরআন সম্পর্কে) উদাসীন।
বিচার দিবস কবে/ কখন অনুষ্ঠিত হবে??
51:12 নং আয়াহ : তারা জিজ্ঞাসা করছে যে, বিচার দিবস কখন [32:28] অনুষ্ঠিত হবে??
51:13 নং আয়াহ : যে দিন তাদেরকে মারাত্মক উতপ্ত পৃণ্ডের উপর একত্রিত [69:16-17] করা হবে।
সেদিন সত্য অস্বীকারকারীদের যা বলা হবে।
51:14 নং আয়াহ : (বলা হবে) “তোমরা তোমাদের কষ্টের/ বিপর্যয়ের স্বাদ গ্রহণ করতে থাকো। এটা তো সেই বিষয়, যা তোমরা তাড়াতাড়ি [51:59] চাইছিলে [52:14, 67:27]”।
সেদিন মুত্তাকীরা কোথায় থাকবে??
51:15 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই সেদিন মুত্তাকী (অপকর্ম থেকে দূরত্ব অবলম্বনকারী) রা থাকবে জান্নাত সমূহে ও ঝর্ণাধারা গুলোর আশেপাশে।
জান্নাতীরা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হবে।
51:16 নং আয়াহ : সেদিন তাদের প্রভু তাদেরকে যা দেবেন, তারা তা সানন্দে গ্রহণ করবে [43:70, 98:8]। নিশ্চয়ই তারা তার (বিচার দিবসের) পূর্বে ছিল সৎকর্মশীল।
রাতে কতটা ঘুমানো উচিৎ??
51:17 নং আয়াহ : তারা রাতের (12 ঘন্টার মধ্যে) কিছু অংশেই [73:2-4] ঘুমাতো [32:16]।
তাহাজ্জুদ ও ফজরের গুরুত্ব।
51:18 নং আয়াহ : এবং রাতের শেষ প্রহরে/ অংশে তারা ক্ষমা প্রার্থনা করতো।
# নাবী (সা) আমাদের হিসাবে রাত 3 টার সময় উঠে দুই দুই করে 8 রাকাত তাহাজ্জুদ আদায় করতেন। শেষে এক রাকাত বিতর আদায় করে ডানকাতে সামান্য আরাম করতেন/ ঘুমাতেন। তারপর মুয়াজ্জিন ফজরের আযান দিলে ছোট্ট করে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে মাসজিদে পৌঁছে যেতেন (মুসলিম, হাদীশ 736/2)।
ধনীর ধনসম্পদে যাদের অধিকার রয়েছে।
51:19 নং আয়াহ : তাদের ধনসম্পদে অধিকার ছিল প্রার্থী ও বঞ্চিতদের [79:24-25]।
পৃথিবীতেও আল্লাহর অস্তিত্বের প্রমাণ রয়েছে।
51:20 নং আয়াহ : পৃথিবীতেও রয়েছে (তার অস্তিত্বের) প্রমাণ/ নিদর্শন, দৃঢ়ভাবে সত্য গ্ৰহণকারীদের জন্য [41:53]।
‘গড জিন’ আবিষ্কার এবং ‛গড জিন’ চোখে দেখার ভবিষ্যৎ বাণী।
51:21 নং আয়াহ : এবং তোমাদের নিজেদের ভিতরেও [41:53]। তবুও কি তোমরা তা দেখবে ১ না [75:14]??
# প্রশ্ন হবে- আমাদের শরীরে আল্লাহর অস্তিত্বের পক্ষে কি প্রমাণ আছে?? উত্তর সহজ- ‘গড জিন’। গত 100 বছরের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার হল এই জিন। বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন যে, এই জিনের কারণেই মানব শিশু ঈশ্বর সম্পর্কে কোনও কিছু না জানা সত্ত্বেও ধীরে ধীরে ঈশ্বরে বিশ্বাসী হয়ে ওঠে। এছাড়াও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা তেও তা উঠে আসে যে, ঈশ্বরে বিশ্বাস প্রাকৃতিক। অবাক করা ব্যাপার এটাই যে, কুরআন 1500 আগে ‘গড জিন’ সম্পর্কে তথ্য প্রদান করে রেখেছিল। এই সম্পর্কে বিজ্ঞানী ডিন হ্যামারের লেখা God gene নামক বইটি পড়তে পারেন।
১ “তবুও কি তোমরা তা দেখবে না” বলে মূলত এটা বলা হচ্ছে যে, গড জিন (God gene) একদিন মানুষ নিজের চোখে দেখতে পাবে।
পৃথিবী নয়, মহাবিশ্বে রয়েছে আমাদের ভবিষ্যৎ জীবন যাপন।
51:22 নং আয়াহ : মহাবিশ্বে রয়েছে তোমাদের ভবিষ্যৎ [2:36, 7:24, 75:8-9] জীবন যাপন, তোমাদেরকে তার ওয়াদা করা হল।
ভিন্ন অনুবাদ : মহাকাশে হবে তোমাদের জীবন যাপনের ব্যবস্থা, তোমাদেরকে তার ওয়াদা করা হল।
# এখানে সম্ভবত স্পেস স্টেশনের কথা বলা হচ্ছে, যেখানে রয়েছে মানুষের জীবন যাপনের ব্যবস্থা।
মানুষের মহাবিশ্ব বিজয়/ মহাকাশে বসবাস কতটা সত্য??
51:23 নং আয়াহ : আর শপথ মহাবিশ্বের প্রতিপালকের। নিশ্চয়ই তা (সেই ওয়াদা) সত্য। তেমন সত্য, যেমন তোমরা কথা বলছো- এটা সত্য।
নাবী (সা) ইবরাহীম (আ) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা।
51:24 নং আয়াহ : আপনার কাছে কি ইবরাহীমের মেহমানদের হাদীশ/ তথ্য পৌঁছেছে, যারা ছিল খুবই সম্মানিত।
# প্রশ্ন হবে- “ইবরাহীমের মেহমানদের হাদীশ পৌঁছেছে, নাকি পৌঁছায় নি, তা কি আল্লাহ জানতেন না”?? অবশ্যই জানতেন। কিন্তু পবিত্র কুরআন আরবি ভাষায় নাযিল হয়েছে। এভাবে জিজ্ঞাসা করার মাধ্যমে বক্তব্য শুরু করা আরবি বাকরীতি। এখানে সেটাই দেখা গেল।
ফেরেস্তারা ইবরাহীম (আ) এর বাড়িতে প্রবেশ করলেন।
51:25 নং আয়াহ : যখন তারা তার বাড়িতে প্রবেশ করলো, তখন বলল- “সালাম”। সেও (ইবরাহীম) বলল- “সালাম”। (তখন ইবরাহীমের মনে হল) এরা অপরিচিত সম্প্রদায়ের মানুষ।
# উভয় পক্ষ কি শুধু ‛সালাম’ শব্দটা বলেছিল, নাকি দুই পক্ষই ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে ‛সালাম’ দিয়েছিল?? শুধুমাত্র ‛সালাম’ শব্দটা উচ্চারণের মাধ্যমেই কি ‛সালাম’ দেওয়া যায়?? অনেকেই শুধুমাত্র বলেন- ‛সালাম’। এভাবে কি সালাম দেওয়া যায়?? উত্তর রয়েছে 56:26 এর টিকায়। গিয়ে দেখে আসুন।
ইবরাহীম (আ) মেহমানদের জন্য বাছুরের মাংস কষা নিয়ে এলেন।
51:26 নং আয়াহ : অতঃপর সে (ইবরাহীম) চলে গেল তার স্ত্রীর কাছে। অতঃপর নিয়ে এলো একটি মোটাতাজা বাছুর।
# সেই যুগে বাড়িতে মেহমান এলে গরুর বাছুরের ‛মাংস কষা’ রান্না করা ছিল ঐতিহ্য। এমনকি ভারতেও তা’ই করা হোত। এজন্য মেহমানকে ভারতে বলা হোত- গোঘ্ন। গোঘ্ন বলতে?? ‛গো শাবক ভোজনকারী’।
51:27 নং আয়াহ : অতঃপর তাদের (মেহমানদের) কাছে আনলো। (খেতে না দেখে) বললো- “আপনারা খাচ্ছেন না কেন” [11:69]??
ইবরাহীম (আ) ভয় পেলেন, ইসহাক (আ) এর সুসংবাদ পেলেন।
51:28 নং আয়াহ : ফলে তিনি মনে মনে তাদেরকে নিয়ে ভয় পেলেন। তারা বলল- “ভয় করবেন না” [11:70]। এবং তারা তাকে (ইবরাহীমকে) একটি জ্ঞানী পুত্র সন্তানের (ইসহাকের) সু সংবাদ দিলেন।
পুত্রের খবর শুনে ইবরাহীম (আ) এর প্রথম স্ত্রী চমকে উঠলেন।
51:29 নং আয়াহ : তখন তার (প্রথম) স্ত্রী সামনে এলো চিৎকার করতে করতে, গাল চাপড়াতে চাপড়াতে। এবং (নিজেকে উদ্দেশ্য করে) বললো- “এই বন্ধা বৃদ্ধার সন্তান হবে”!
# এখানে পুত্রের সুসংবাদ পেয়ে ইবরাহীম (আ) এর স্ত্রী যে ধরণের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন, এই ধরণের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন যাকারিয়া (আ)। দেখে আসুন 19:8 আয়াহ।
51:30 নং আয়াহ : তারা বলল- “এমনই হবে, এটা বলেছেন আপনার প্রভু” [19:9, 3:47]। নিশ্চয়ই তিনি মহা বিজ্ঞানী ও মহা জ্ঞানী।
ইবরাহীম (আ) ফেরেস্তাদেরকে ‛রাসূল’ বলে সম্বোধন করলেন।
51:31 নং আয়াহ : (ইবরাহীম) বলল- “হে আল্লাহর রাসূল গণ, আপনাদের (এখানে আসার) উদ্দেশ্য কি”??
ফেরেস্তারা লূত (আ) এর জাতির প্রতি প্রেরিত হয়েছিলেন।
51:32 নং আয়াহ : তারা বলল- “নিশ্চয়ই আমরা প্রেরিত হয়েছি একটি অপরাধী (লূতের) সম্প্রদায়ের প্রতি”।
গ্ৰহাণু্রা মূলত গ্ৰহদের মতোই।
51:33 নং আয়াহ : যেন তাদের উপর গ্ৰহ সদৃশ পাথর [11:82, 15:73-74] বর্ষণ করি,
# ‛গ্ৰহ সদৃশ পাথর’ বলতে?? গ্ৰহাণু। পবিত্র কুরআন গ্ৰহাণু দেরকে গ্ৰহ সদৃশ পাথর বলেছে। যা আধুনিক বিজ্ঞান মেনে নিয়েছে। কেননা, গ্ৰহাণু সৃষ্টি যেভাবে হয়ে, গ্ৰহ/ পৃথিবীর সৃষ্টি সেভাবেই হয়/ হয়েছে। নামটা লক্ষ্য করুন- গ্ৰহ + অনু = গ্ৰহাণু।
অর্থাৎ গ্ৰহের মতোই কিন্তু ছোট। পবিত্র কুরআন 1500 বছর আগেই তা ঘোষণা করে রেখেছিল। আবার অনেকে এও বলেন যে, কোটি কোটি গ্ৰহাণু মিলেই পৃথিবীর মতো গ্ৰহ তৈরি করেছে। আবার গ্ৰহের সঙ্গে গ্ৰহাণুদের অন্যতম মিল হল- গ্ৰহ যেমন সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে, তেমনই গ্ৰহাণুও সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘোরে। যাইহোক না কেন, পবিত্র কুরআন যা বলে রেখেছিল, তা বিজ্ঞান মেনে নিয়েছে।
উগ্ৰতা অবলম্বন হারাম/ নিষিদ্ধ।
51:34 নং আয়াহ : যা সীমালঙ্ঘনকারী/ উগ্ৰদের জন্য [19:72] আপনার প্রভুর কাছে নিদিষ্ট হয়ে [28:83] আছে।
মূমীনদেরকে/ লূত (আ) এর পরিবারকে আল্লাহ উদ্ধার করলেন।
51:35 নং আয়াহ : অতঃপর তাদের মধ্যে যারা মূমীন ছিল, সেখান থেকে তাদেরকে (পাথর বর্ষণ করার আগেই) বের করে [10:103] আনলাম [11:81]।
51:36 নং আয়াহ : এতএব সেখানে পেয়েছি মাত্র একটি বাড়ি, যা [29:32-33] মুসলিমদের (লূতের)।
# এখানে লূত (আ) এর পরিবারকে মূমীনও বলা হয়েছে এবং মুসলিমও বলা হয়েছে। এজন্য অনেকেই বলেন- “মূমীন ও মুসলিমের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই”। সাধারণ ভাবে পার্থক্য নেই। তবে, সুক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। যা 3:102 ও 49:14 আয়াতের টিকায় আলোচনা করেছি।
প্রশ্ন হবে- কিসের ভিত্তিতে বলছি যে, সুক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে! পার্থক্য না থাকলে দুই ভিন্ন শব্দের ব্যবহার করার কোনও যৌক্তিকতা থাকতো না। মনে রাখা উচিৎ আল্লাহ পাগল নন। পার্থক্য আছে বলেই আল্লাহ ভিন্ন শব্দের ব্যবহার করেছেন।
51:37 নং আয়াহ : অতঃপর আমরা সেখানে রেখেছি একটি নিদর্শন। তাদের জন্য, যারা যন্ত্রণাদায়ক আযাব’কে ভয় করে।
মূসা (আ) কে ফিরআউনের কাছে প্রেরণ করা হল।
51:38 নং আয়াহ : আর (তোমাদের জন্য শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে) মূসার কাহিনীতে। যখন তাকে (১) আমরা প্রেরণ করে ছিলাম ফিরআউনের কাছে সুস্পষ্ট ও শক্তিশালী প্রমাণ সহ।
১) কিন্তু শুধুমাত্র মূসা (আ) কে নয়, তার সঙ্গে হারূন (আ) কেও তো প্রেরণ (26:16) করা হয়েছিল! তাহলে এখানে শুধু মূসা (আ) এর কথা বলা হল কেন?? মূসা (আ) ও হারূন (আ) এর উদেশ্য ছিল একই। তাই এখানে উভয়কে একজন গণ্য করা হয়েছে। এটা কোনও ব্যাকারণগত ভুল নয়, পরস্পর বিরোধী তথও নয়। এটা পবিত্র কুরআনের সৌন্দর্য্য। পবিত্র কুরআনে এই বিষয়টি একবার নয়, বহু স্থানে দেখা যাবে। যেমন 73:15 তে, 20:63, 26:27 তে।
ফিরআউন মূসা (আ) কে ‛জাদুকর ও পাগল’ বলল।
51:39 নং আয়াহ : অতঃপর সে (ফিরআউন) ক্ষমতার অহংকারে তার মন্ত্রীমন্ডল (মূসার) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এবং বলেছিল- “এ তো একজন জাদুকর ও পাগল” [26:27, 51:52]।
# এখানেও মূসা এবং হারুন (আ) কে একজন গণ্য করা হয়েছে। এটা কোনও ব্যাকারণগত ভুল নয়, বরং পবিত্র কুরআনের সৌন্দর্য্য। কিভাবে?? 51:38 ও 26:27 দেখুন। ওখানে এ সম্পর্কে বিস্তারিত কথা বলা হয়েছে।
ফিরআউন ও সৈন্যদেরকে পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া হল।
51:40 নং আয়াহ : অবশেষে তাকে ও তার সৈন্যদের ধরলাম। অতঃপর তাদের পানিতে [10:90-91] নিক্ষেপ করলাম। আর সে (তার কর্মের জন্য) ছিল [89:10-13] ঘৃণার পাত্র [44:29, 28:4]।
# ‛ধরলাম’ বলতে- হাত দিয়ে ধরা নয়, এটা আরবি বাক রীতি। ‛ধরলাম’ বলতে- শাস্তি দিলাম।
আদ জাতির ধ্বংস।
51:41 নং আয়াহ : এবং (শিক্ষণীয় বিষয়) রয়েছে আদ (জাতির) কাহিনীতে। যখন আমরা তাদের বিরুদ্ধে পাঠিয়েছিলাম অকল্যাণকর তথা বিধ্বংসী [69:7-8] বায়ু।
51:42 নং আয়াহ : সে বায়ু কোনও কিছুই ছাড়ে নি, যার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল, তাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে ছিল।
সামূদ জাতির ধ্বংস।
51:43 নং আয়াহ : আর (শিক্ষণীয় বিষয়) রয়েছে সামূদ (জাতির) কাহিনীতে। যখন তাদেরকে বলা হয়েছিল- “তোমরা ভোগ করে নাও একটি নিদিষ্ট সময় [11:65] পর্যন্ত”।
গ্ৰহাণু পতন দ্বারা সামূদ জাতি ধ্বংস হয়।
51:44 নং আয়াহ : অতঃপর তারা তাদের প্রভুর আদেশ অমান্য করলো [7:73-78,11:61-68]। এ কারণে তাদেরকে ধরলো প্রচন্ড গতিতে আগমনকারী বিপদ (গ্ৰহাণু পতন)। এবং তারা তা দেখেছিল।
51:45 নং আয়াহ : অতঃপর না তারা পেরেছিল উঠে/ ঘুরে দাঁড়াতে, আর না পেরেছিল (বিপদ) প্রতিরোধ করতে।
নূহ (আ) এর জাতির ধ্বংস।
51:46 নং আয়াহ : এবং ইতিপূর্বে নূহের (সম্প্রদায়কে ধ্বংস [11:25-48] করেছি), নিশ্চয়ই তারা ছিল ফাসিক (সত্য বিরোধী)।
■ মহাবিশ্ব এনার্জি থেকে সৃষ্ট। ■ মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে।
51:47 নং আয়াহ : আর আমরা মহাবিশ্বকে সৃষ্টি করেছি নিজ ইয়াদা (শক্তি/ এনার্জি) দ্বারা [18:39, 67:1]। এবং আমরাই তার সম্প্রসারণ [81:15] করে চলেছি।
■ ভূত্বক খুবই পাতলা। ■ পৃথিবীর প্লেট গুলো গতিশীল।
51:48 নং আয়াহ : এবং আমরা পৃথিবীর ক্রাষ্ট/ ভূত্বককে (মেন্টেলের এর উপর) বিছিয়ে দিয়েছি [88:20]। এতএব আমরা কতই উত্তম (প্লেট) সঞ্চালনকারী [78 :6-7, 13:3-4]।
■ সমস্ত কিছু এনার্জি থেকে সৃষ্ট। ■ প্যারালাল ও এ্যান্টি ইউনিভার্সি।
51:49 নং আয়াহ : আর তা (শক্তি/ এনার্জি) হতে আমরা সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছি, জোড়া ও প্রতিজোড়া সমূহ [1:1]। যাতে তোমরা তা নিয়ে গবেষণা কর্ম চালাতে পারো।
# এখানে ‛জোড়া’ বলতে- মহাবিশ্বের জোড়া বা প্যারালাল ইউনিভার্স। এই সম্পর্কে আয়াত রয়েছে 17:99 ও 36:81 তে। আর ‘প্রতিজোড়া’ বলতে- এ্যান্টি ইউনিভার্স। এ্যান্টি ইউনিভার্স অন্য কিছু নয়, তা মূলত জান্নাত।
নাবী (সা) এর অন্যতম দায়িত্ব ও পরিচয়।
51:50 নং আয়াহ : এতএব তোমরা দৌড়াও আল্লাহর দিকে [3:133, 57:21]। নিশ্চয়ই আমি (মুহাম্মাদ) তোমাদের জন্য তার পক্ষ থেকে প্রেরিত সুস্পষ্ট সতর্ককারী [53:56]।
51:51 নং আয়াহ : এবং তোমরা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কিছু কে ঈশ্বর/ উপাস্য [31:13, 4:48, 4:116] বানাবে না। নিশ্চয়ই আমি (মুহাম্মাদ) তোমাদের জন্য তার পক্ষ থেকে প্রেরিত সুস্পষ্ট সতর্ককারী মাত্র [53:56]।
প্রত্যেক নাবী রাসূলকে পাগল/ জাদুকর বলা হয়েছে।
51:52 নং আয়াহ : এভাবে (আপনার) পূর্বে যাদের কাছেই রাসুল এসেছে, তারা তাকে বলত- “সে একজন জাদুকর বা পাগল” [51:39]।
সীমালঙ্ঘনকারী/ সীমাহীন উগ্ৰরাই ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করে।
51:53 নং আয়াহ : তারা কি একে অপরের সঙ্গে (রাসূল দেরকে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করার) চুক্তি করে নিয়েছে [43:7]?? না, বরং তারা সীমাহীন উগ্ৰ জাতি [19:72]।
প্রচার করাই ছিল দায়িত্ব, অস্বীকারের দায় নাবী (সা) এর নয়।
51:54 নং আয়াহ : আপনি তাদের উপেক্ষা করুন [73:10, 54:6], (তাদের জাহান্নামী হওয়ার জন্য) আপনি তিরস্কৃত/ দায়ি [16:35, 2:119, 39:19] হবেন না [88:21-22]।
কুরআন প্রচারের নির্দেশ। কুরআন মূমীনদের জন্য উপকারী।
51:55 নং আয়াহ : আর সংবিধান (কুরআন) প্রচার করতেই থাকুন [88:21-22], নিশ্চয়ই সংবিধান মূমীনদের জীবন যাত্রার জন্য উপকারী।
জিন ও মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য।
52:56 নং আয়াহ : কেননা, আমি জিন ও মানুষ শুধুমাত্র আমার ইবাদাতের [20:14, 53:62] জন্য সৃষ্টি করেছি (অন্যের ইবাদত করার জন্য নয়)।
# “তাহলে কি ফেরেস্তাদেরকে আল্লাহ তার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেন নি”?? হ্যাঁ, কিন্তু ফেরেস্তাদের কোনও ইচ্ছা শক্তি নেই, তারা আল্লাহর ইবাদত করতে বাধ্য। আর তারা ইবাদত তথা পবিত্রতা বর্ণনা ও প্রশংসার মধ্যেই দিন রাত কাটান (21:19-20)। তারা আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করতে পারেন না (66:6)। এ জন্য তারা ভুল ত্রুটিও করেন না (6:61)। এজন্য এখানে তাদের কথা বলা হয় নি। কিন্তু মানুষ ও জিন স্বাধীন চিন্তা ভাবনা করতে পারে [18:29, 64:4, 76:3) । তাই এখানে আল্লাহ তাদেরকে তাদের সৃষ্টির উদ্দেশ্য বলে দিলেন।
নাবী (সা) কে বিশেষ ঘোষণার নির্দেশ।
51:57 নং আয়াহ : আমি তাদের কাছে রিযিক/ জীবন উপকরণ [25:57, 52:40, 38:86] চাই না। আর না এটাও চাই যে, তারা আমাকে খাওয়াবে।
51:58 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আল্লাহই হলেন আমার রিযিক/ জীবন উপকরণ দাতা। যিনি শক্তিশালী ও ক্ষমতাধর [22:74, 39:67]।
যতটা অত্যাচার, ততটাই শাস্তি।
51:59 নং আয়াহ : এতএব নিশ্চয়ই যারা (দীন প্রচারের জন্য) অত্যাচার করেছে, তাদের জন্য রয়েছে ঠিক তেমনই শাস্তি [42:41-42, 16:126]। তাদের সঙ্গী সাথী সহযোগীরাও (শাস্তির যোগ্য)। সুতরাং তারা যেন আমার কাছে (শাস্তির জন্য) তাড়াহুড়া না [17:11, 54:3] করে (কারণ, তা তো তারা পাবেই)।
সত্য অস্বীকারকারীরা কবে ধ্বংস কামনা করবে??
51:60 নং আয়াহ : এতএব সেদিন ধ্বংস কামনা করবে সত্য অস্বীকারকারীরা [77:15, 83:10]। (সেই দিনে) যে দিনের ওয়াদা [84:1-5, 69:16-17, 78:40] তাদের করা হয়েছে।
অসাধারণ অনুবাদ