বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাদীনাহ, আয়াত : 18 টি।
সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আল্লাহ ও তার রাসূলের ঊর্ধ্বে যাওয়া নিষিদ্ধ।
49:1 নং আয়াহ : হে সত্য স্বীকার করা সম্মানিত মানুষজন, তোমরা আল্লাহ ও তার রাসূলের অগ্ৰগামী [4:65, 33:36] হয়ো না [24:51, 8:21]। আল্লাহর জন্য তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ শ্রবণকারী ও জ্ঞানী।
# অর্থাৎ “আল্লাহ ও তার রাসূলের সিদ্ধান্তকে পাশ কাটিয়ে চলে যেও না”। মানে- মূমীনদের কাছে আল্লাহ ও তার রাসূলের গুরুত্ব সর্বোচ্চ। এই সম্পর্কে হাদীশ রয়েছে। নাবী (সা) বলেছেন- “আল্লাহর শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ। তোমাদের মধ্যে কেউ প্রকৃত মূমীন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা ও সন্তানাদির চেয়ে অধিক ভালবাসার পাত্র হই”(বুখারী, হাদীশ 14)। এছাড়াও দেখতে পারেন 3:31 আয়াহ।
রাসূলের উপর কন্ঠস্বর উঁচু করা ও তার পরিণতি।
49:2 নং আয়াহ : হে সত্য স্বীকার করা সম্মানিত মানুষজন, তোমরা তোমাদের কন্ঠস্বরকে রাসূলের কন্ঠস্বরের চেয়ে উঁচু করো না। তোমরা তার সঙ্গে কথা বলার সময় উচ্চ শব্দে কথা বলো না, যেমন তোমরা পরস্পরের ক্ষেত্রে উচ্চ শব্দে [24:63] কথা বলো [48:9]। এমনটা না হয় যে, তোমাদের আমল/ কর্ম সমূহ নষ্ট [47:33] হয়ে যাবে, কিন্তু বুঝতেও পারবে না।
রাসূলের কাছে কন্ঠস্বর নিঁচু করা ও তার পরিণতি।
49:3 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর রাসূলের কাছে নিচু শব্দ বজায় রাখে, তাদের মস্তিষ্ক গুলোতে তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন করার জন্য আল্লাহ তাদের কে বাছাই করেছেন। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও বিরাট পুরষ্কার।
বাড়ির বাইরে থেকে ‛নাম ধরে’ চেল্লানো ‛মস্তিষ্ক হীনের কাজ’।
49:4 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই যারা আপনাকে আপনার বাড়ির বাইরে থেকে (উচ্চ আওয়াজে) ডাকাডাকি করে, তাদের বেশিরভাগই আকাল/ মস্তিষ্ক হীন।
# তাহলে কাউকে ডাকার বিধান কি?? দরজা ঠুকবেন বা বেল বাজাবেন। বাড়ি থেকে কেউ সাড়া দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তারপরের নিয়মনীতি 24:27-29 এ বলা হয়েছে।
49:5 নং আয়াহ : যদি এমন হতো যে, আপনি তাদের কাছে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসা পর্যন্ত তারা ধৈর্য্যধারণ করতো, তাহলে তাদের জন্যেই তা উত্তম হতো। আর আল্লাহ তো ক্ষমাশীল ও করুণাময়।
ফ্যাক্ট চেক বা খবরের সত্যতা যাচাই করার নির্দেশ।
49:6 নং আয়াহ : হে সত্য স্বীকার করা সম্মানিত মানুষজন, যদি কোনও ফাসিক/ অবিশ্বাস যোগ্য (ব্যক্তি/ প্রতিষ্ঠান) কোনও খবর নিয়ে আসে, তা পরীক্ষা করে নিও। এমন না হয়, যেন (সত্য) না জানার কারণে তোমরা কোনও জাতি/ সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে ফেলো। তাহলে তোমাদেরকে তার জন্য অনুতপ্ত/ লজ্জিত হতে হবে।
মূমীনদের প্রিয় ও অপ্রিয় বিষয়টি আসলে কি??
49:7 নং আয়াহ : তোমরা জেনে রাখো যে, তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রাসূল আছেন। তিনি যদি তোমাদের বেশিরভাগ কথা/ দাবি মেনে নেন, তাহলে তোমরাই কষ্ট পাবে/ সমস্যায় পড়বে। কিন্তু আল্লাহ তোমাদের কাছে প্রিয় করে দিয়েছেন সত্যের স্বীকারোক্তিকে এবং তা তোমাদের মস্তিষ্কে বদ্ধমূল দিয়েছেন। আর অপ্রিয় করে দিয়েছেন সত্য অস্বীকার, পাপ ও বিধানের অবাধ্যতা। তারাই সঠিক পথ অবলম্বনকারী।
49:8 নং আয়াহ : যা (তোমাদের প্রতি) আল্লাহর অনুগ্রহ ও নিয়ামত। আর আল্লাহ জ্ঞানী ও বিজ্ঞানী।
দুই মুসলিম দল/ গোষ্ঠী/ দেশের মধ্যে যুদ্ধ হলে করণীয়।
49:9 নং আয়াহ : মূমীনদের মধ্যে দুই দল/ গোষ্ঠী/ দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তখন উভয়ের মধ্যে মিমাংসা সহ সংশোধন করে দেবে। যদি তাদের মধ্যে একটি দল/ গোষ্ঠী/ দেশ সীমালঙ্ঘন/ উগ্ৰতা অবলম্বন করে, তাহলে তোমরা তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো। যতক্ষণ না তারা আল্লাহর নির্দেশের দিকে ফিরে আসে। যদি ফিরে আসে উভয়ের মধ্যে মিমাংসা সহ সংশোধন করে দেবে ন্যায় পরায়ন ও সমতা যুক্ত বিচারের মাধ্যমে। আর স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার প্রতিষ্ঠা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবিচার কারীদের ভালোবাসেন।
মূমীনরা একে অপরের ভাই, তাদের মধ্যে মিমাংসা করতেই হবে।
49:10 নং আয়াহ : মূলত মূমীনরা একে অপরের ভাই [33:5, 3:103]। (এতএব অশান্তি সৃষ্টি হলে) তোমরা তোমাদের দুই ভাইয়ের মধ্যে মিমাংসা করে দেবে। তোমরা আল্লাহর জন্য তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন কর, যাতে তোমাদের উপর দয়া করা হয়।
# একটি হাদীশ- “এক মুসলিমের সঙ্গে অন্য মুসলিমের 3 দিনের বেশি কথাবার্তা বন্ধ রাখা হারাম”(মুসলিম, হাদীশ 2559/1)। নাবী (সা) আরও বলেছেন- “দয়া, ভালোবাসা ও সহানুভূতিতে মূমীনরা একটি দেহের মতো। দেহের একটি অংশ রোগে আক্রান্ত হলে অন্যান্য অংশও তাতে অংশ নেয় এবং কষ্ট পায়” (বুখারী, হাদীশ 6011)।
নাবী (সা) আরও বলেছেন- “তোমরা একে অপরকে হিংসা করো না, একে অপরের সঙ্গে ধোকাবাজি করো না, একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করো না, একে অপরের ক্ষতি করার উদ্দেশে অগোচরে শত্রুতা করো না এবং একে অন্যের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর ক্রয়-বিক্রয়ের চেষ্টা করবে না। তোমরা আল্লাহর বান্দা হিসেবে ভাই ভাই হয়ে থাকো। এক মুসলিম অপর মুসলিমের ভাই। সে তার উপর অত্যাচার করবে না, তাকে অপদস্ত করবে না এবং হেয় প্রতিপন্ন করবে না” (মুসলিম, হাদীশ 2564/1)।
নিম্নলিখিত কর্মগুলো সামাজিক অত্যাচার।
49:11 নং আয়াহ : হে সত্য স্বীকার করা সম্মানিত মানুষজন, কোনও পুরুষ যেন অন্য কোনও পুরুষকে উপহাস/ ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ না করে। হতে পারে যাকে উপহাস/ ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ করা হচ্ছে, সে তাদের চেয়ে উত্তম। আর নারীরাও অন্য নারীদের (উপহাস/ ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ না করে)। হতে পারে যাকে উপহাস/ ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ করা হচ্ছে, সে তাদের চেয়ে উত্তম। এবং একে অপরকে দোষারোপ করবে না। আর একে অপরকে অপমান জনক উপনামে ডাকবে না। সত্য স্বীকার করার পর কাউকে অপমান জনক নামে ডাকা পাপকর্ম। যারা এরকম কর্ম হতে তাওবা না করবে, তারাই অত্যাচারী।
# পবিত্র কুরআন এখানে উপহাস/ ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ করা, একে অপরকে দোষারোপ করা, অপমান জনক উপনামে ডাকাকে ‛মানুষের উপর অত্যাচার করা’ হিসাবে গণ্য করেছে।
# তবে কর্ম অনুযায়ি নাম, গুণগত নাম হতে পারে। যেমন আবু হুরাইরা (রা) এর আসল নাম আব্দুর রাহমান ইবনু সাখার আদ দোসি, সংক্ষেপে আব্দুর রাহমান (রা)। তিনি বেড়ালকে খুব ভালোবাসতেন। আরবিতে বেড়ালকে বলা হয়- হুরাইরা। এজন্য তাকে নাবী (সা) বলতেন- আবু হুরায়রা। অর্থাৎ বেড়ালের পিতা।
প্রশ্ন হবে- “আবু জাহিলের আসল নাম ছিল- আমর ইবনে হিশাম। তার উপাধি ছিল- আবুল হাকাম, অর্থাৎ জ্ঞানের পিতা/ বিজ্ঞানের পিতা। কিন্তু নাবী (সা) তাকে আবু জাহিল/ মূর্খতার পিতা বলতেন কেন”?? A) আল্লাহ মূমীনকে অপমান জনক উপনামে ডাকতে নিষেধ করেছেন। B) সে ইসলাম প্রসঙ্গে ‛জ্ঞানের পিতার’ ভূমিকা পালন করে নি। সে মূর্খের মতো ভূমিকা পালন করছিল, তাই নাবী (সা) তাকে আবু জাহিল বলেছিলেন। C) তাকে এই নামকরণ করা হয় মাক্কাহতে, আর এই আয়াহ নাযিল হয় মাদীনাহতে। যদি এই আয়াহ আগে নাযিল হোত, তাহলে আমরা মনে করি যে, তাকে নাবী (সা) আবু জাহিল বলতেন না।
অত্যাধিক অনুমান, অপরের দোষ খোঁজা ও পরনিন্দা হারাম।
49:12 নং আয়াহ : হে সত্য স্বীকার করা সম্মানিত মানুষজন, অত্যাধিক ধারণা করা হতে দূরে থাকো। নিশ্চয়ই কিছু অনুমান পাপ/ পাপের কারণ হয় [51:10]। এবং একে অপরের দোষ খুঁজে বেড়িও না। আর পর নিন্দা করা হতে দূরে থাকো [104:1]। তোমরা তোমাদের মৃত ভাইয়ের মাংস খেতে পছন্দ করবে! বরং তোমরা ঘৃণাই করবে। আল্লাহর জন্য তাকওয়া (অপকর্ম হতে দূরত্ব) অবলম্বন করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবা গ্ৰহণ কারী ও সীমাহীন করুণাময়।
■ বোরখা/ মুখ ঢাকা নিষিদ্ধ। ■ উত্তম ও অধমের মানদণ্ড।
49:13 নং আয়াহ : হে সম্মানিত মানুষজাতি, নিশ্চয়ই আমরা তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে। এবং তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন দেশ প্রদেশ ও গোত্রে। যেন তোমরা একে অপরকে চিনতে হতে পারো/ একে অপরের পরিচয় পাও। তবে আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে উত্তম হলো সেই ব্যক্তি, যে তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ জ্ঞানী ও সমস্ত বিষয়ের জ্ঞান রাখেন।
# “যেন তোমরা একে অপরকে চিনতে পারো/ একে অপরের পরিচয় পাও”- এখন যদি কোনও নারী মুখমণ্ডল ঢেকে ফেলেন, তার পরিচয় পাওয়া যাবে না/ তাকে চিনতে পারা সম্ভব হবে না। তাই মুখ ঢাকা নিষিদ্ধ।
# একটি হাদীশ- “হে মানুষ জাতি, তোমাদের হতে আল্লাহ মূর্খতার যুগের দম্ভ ও অহংকার এবং পূর্বপুরুষদের বংশীয় গৌরবগাথা বাতিল করেছেন। এখন মানুষ জাতি 2 ভাগে বিভক্ত। A) একদল মানুষ সৎ, তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব অবলম্বনকারী), এজন্য আল্লাহর নিকট প্রিয় ও সম্মানিত। অন্য দল পাপী, অপকর্মকারী, এজন্য আল্লাহর নিকট অত্যন্ত নিকৃষ্ট/ ঘৃণিত। নয়তো প্রতিটা মানুষ আদমের সন্তান। আর আদমকে সৃষ্টি করা হয়েছে গ্ৰহের উপাদান থেকে”(তিরমিযী, হাদীশ 3270)।
এখানে হিন্দু ধর্মগ্রন্থ থেকে একটি উদ্ধৃতি করতে চাইব। আর তা হল- হিন্দু ধর্মে চারটি মানুষ 4 টি ভাগে বিভক্ত। ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শুদ্র। এর মধ্যে ব্রাহ্মণরা নিজেদেরকে ঈশ্বরের ‛বিশুদ্ধ/ উচ্চতম’ সৃষ্টি ভাবে। কারণ, তারা নাকি ব্রহ্মার মুখ থেকে সৃষ্টি হয়েছে, ক্ষত্রিয়রা ব্রহ্মার বাহু থেকে সৃষ্টি হয়েছে, বৈশ্যরা ব্রহ্মার উরু থেকে এবং শুদ্ররা ব্রহ্মার পা থেকে (ঋকবেদ, 10:90:12)। তবে, পবিত্র কুরআন বলে- “বিশুদ্ধ/ উচ্চতর হওয়ার মানদণ্ড হল- অপকর্ম হতে দূরে থাকা”। এছাড়াও দেখুন- 53:32 আয়াহ।
এছাড়াও নাবী (সা) বলেছেন- “হে মানুষ জাতি, নিশ্চয়ই তোমাদের প্রভু একজন। তোমাদের আদি পিতাও একই। সুতরাং না আরবের মানুষ অনারব মানুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, আর না অনারব মানুষ আরবের মানুষের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। কালো রঙের মানুষের উপর সাদা রঙের মানুষের কোনও শ্রেষ্ঠত্ব নেই, আর না সাদা রঙের মানুষের উপর উপর কালো রঙের মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। তবে আল্লাহর নিকট সম্মানিত সে, যে তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন করে” (সিলসিলা সহীহাহ, হাদীশ 2700)।
আরেকটি হাদীস উল্লেখ করে ব্যাখ্যা শেষ করতে চাইব। নাবী (সা) বলেছেন- “আল্লাহ দেখবেন না তোমাদের দেহের আকার আকৃতি ও সৌন্দর্য্য, দেখবেন না তোমাদের মধ্যে কার ধনসম্পদ বেশি। দেখবেন শুধু তোমাদের চিন্তাভাবনা ও কর্ম”(মুসলিম, হাদীশ 2564/3)।
ইমান ও ইমানের শাখা প্রশাখা।
49:14 নং আয়াহ : আরববাসীরা বলে- “আমরা সত্য স্বীকার করে ফেলেছি”। বলুন- “তোমরা এখনও পরিপূর্ণ মূমীন নও (কারণ ইমানের শাখা অনেক)। বরং বলো- আমরা (আল্লাহর) অনুগত হয়েছি। এখনও তোমাদের মস্তিষ্ক সমূহ পরিপূর্ণ ভাবে সত্য স্বীকার করতে পারে নি। তবে যদি তোমরা অনুসরণ করো আল্লাহর ও তার রাসূলের, তাহলে তিনি তোমাদের (ইসলাম গ্ৰহণের পূর্বেকার) আমল/ কর্ম সমূহের প্রতিদান একটুও কম করবেন না [25:70]। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও করুণাময়।
# একটি হাদীশে নাবী (সা) বলেছেন- “ইমানের শাখা 70 এর বেশি”(মুসলিম, হাদীশ 35/1)। অন্য হাদীশে বলেছেন- “ইমানের সবচেয়ে বড় শাখা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, সবচেয়ে ছোট শাখা রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করা” (মুসলিম, হাদীশ 35/2)।
# মুসলিম সমাজে একটা বিতর্ক সৃষ্টি হয় 49:14 ও 3:102 নিয়ে। শুধু বিতর্ক বলা ভুল হবে, সৃষ্টি হয় কনফিউশনের। আসলে তা না তো বিতর্ক, না কনফিউশন। আরবি শব্দ গুলোর অর্থের প্রয়োগ করলেই সমস্যা শেষ। তবে যা হয়, তা হল- আসলে কেউ মনে করেন যে, “মূমীন ও মুসলিমের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই”। এ সম্পর্কে আমরা কথা বলেছি 51:36 এর টিকায়।
কেউ মনে করেন যে, “3:102 এ মূমীনকে মুসলিম হতে বলা হয়েছে”। কেউ মনে করেন যে, “49:14 তে মুসলিমকে মূমীন হতে বলা হয়েছে”। আমাদের অনুবাদ পড়ুন, দেখুন সমস্যা চোখে পড়বে না। আমরা শুধু আরবি শব্দ গুলোর বাংলা অনুবাদ করে দিয়েছি।
অথচ হাঁসির কথা হল- 3:102 এ মূমীন শব্দই নেই। আর 49:14 মুসলিম শব্দ নেই। তাহলে কি বলা হয়েছে ওখানে?? ওখানে ‛আমানু’কে মুসলিম হতে বলা হয়েছে। এখন এই আমানু কে?? যে ‛লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে। আর আমানু হওয়ার অর্থই হল- মূমীন ও মুসলিম হওয়ার সুত্রপাত।
3:102 এ আমানুকে ‛মুসলিম’ হতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ যে ‛লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে, তাকে ‛মুসলিম’ হতে বলা হচ্ছে। অর্থাৎ ইসলামের নিয়মনীতি পরিপূর্ণ পালন করে পরিপূর্ণ মুসলিম হতে বলা হচ্ছে (2:208)। ইসলামের নিয়মনীতি যে যতটা পালন করবে, সে ততটা মুসলিম। আর সর্বোত্তম মুসলিম নাবী (সা)। হোসেন কুরানীও পরিপূর্ণ মুসলিম হওয়ার চেষ্টা করেন। চেষ্টা করেন সর্বোত্তম মুসলিম নাবী (সা) সর্বাত্মক অনুসরণের (33:21)।
আর 49:14 তে বলা হচ্ছে- তোমরা শুধু অনুগত হয়েছো। অর্থাৎ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছো। এখনও পরিপূর্ণ মূমীন হও নি। কেননা, ইমানের শাখা 70 টি। এই 70 টি শাখা পূরণ করলে পরিপূর্ণ মূমীন হতে পারবে। তোমাদের মস্তিষ্ক সমূহ এখনও পরিপূর্ণ ভাবে সত্য স্বীকার করতে পারে নি। অর্থাৎ ইমানের 70 টি শাখা এখনও পূরণ হয় নি।
প্রকৃত মূমীন কারা??
49:15 নং আয়াহ : প্রকৃতপক্ষে মূমীন তারা, যারা ইমান এনেছে ও তার রাসূলের উপর। অতঃপর (আল্লাহর পথে চলতে) ভয়ে ভীত হয় নি, (ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য) প্রচেষ্টা করে তাদের ধনসম্পদ দিয়ে ও তাদের শ্রম দিয়ে। তারাই সত্যবাদী [9:119]।
# ‛তারাই সত্যবাদী’ বলতে?? অনেকেই নিজেকে মূমীন দাবি করতে পারে, কিন্তু সত্যবাদী বা “প্রকৃতপক্ষে মূমীন তারা, যারা ইমান এনেছে ও তার রাসূলের উপর। অতঃপর (আল্লাহর পথে চলতে) ভয়ে ভীত হয় নি, (ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য) প্রচেষ্টা করে তাদের ধনসম্পদ দিয়ে ও তাদের শ্রম দিয়ে”।
বিদআত তৈরি করার অর্থ- আল্লাহকে দীন শেখানো।
49:16 নং আয়াহ : তোমরা কি (নিজেদের মতো নতুন নতুন আমল তৈরি করে) আল্লাহকে দীন শেখাচ্ছো [10:32]। অথচ আল্লাহ জানেন মহাবিশ্বে যা রয়েছে মহাবিশ্বে ও যা রয়েছে পৃথিবীতে। [2:117]। আর প্রতিটা বিষয়ই আল্লাহর জ্ঞানের আওতায় রয়েছে।
ইসলাম গ্ৰহণ নিজ কল্যাণের জন্য, কারোর উপর দয়া করা নয়।
49:17 নং আয়াহ : তারা (এমন ভাব দেখায়) যেন ইসলাম গ্ৰহণ করে আপনার উপর দয়া করেছে। বলুন- তোমাদের ইসলাম গ্ৰহণ আমার উপর দয়া [45:15] নয়। বরং আল্লাহ তোমাদের উপর দয়া করেছেন তোমাদেরকে সত্য স্বীকারের পথ দেখিয়ে [17:15, 13:17, 42:13]। যদি হয়ে থাকো সত্যবাদী (তাহলে স্বীকার করো)।
মহাবিশ্বের অদৃশ্য পদার্থ সম্পর্কে আল্লাহ জানেন।
49:18 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আল্লাহ জানেন মহাবিশ্বের অদৃশ পদার্থ সম্পর্কে [69:38-39]। আর আল্লাহ দেখছেন সেই সমস্ত আমল/ কর্ম, যা তোমরা করছো [84:15]।
Downloaded the 89betapp the other day, and it’s not a bad little app for a quick flutter. Runs smoothly and easy to place bets. Give it a whirl! 89betapp