বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 11 টি।
পৃথিবীতে শক্তির উৎস হল সূর্যালোক।
93:1 নং আয়াহ : শপথ সূর্যালোকের, যা শক্তি [78:11 ও 13] প্রদান [91:1] করে।
রাত কেন হয়??
93:2 নং আয়াহ : শপথ রাতের, যখন তা (সূর্য) আড়াল [78:10] হয়ে যায়।
# রাত মানে সূর্যাস্ত নয়/ সূর্যের ডুবে যাওয়া নয়, শুধুমাত্র সূর্যের আড়াল হয়ে যাওযাই হল- রাত।
আল্লাহ নাবী (সা) একা ছেড়ে দেন নি।
93:3 নং আয়াহ : না আপনার প্রভু আপনাকে পরিত্যাগ [9:40] করেছেন, আর না আপনার উপর অসন্তুষ্ট ১ হয়েছেন।
১ কিন্তু হঠাৎ এ কথা বলা হল কেন?? উত্তর জানতে আপনাকে যেতে হবে 108:1 এর টিকায় তে। সেখানে নাবী (সা) এর কঠিন পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। যাইহোক, তখন নাবী (সা) এর উপর যতগুলো আপদ বিপদ এসেছিল, তার মধ্যে একটা হল- ‛ওহী আসা’ কিছু দিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। তখন নাবী (সা) কে তারা কটাক্ষ করে বলত- “মুহাম্মাদ এর উপর তার প্রভু অসন্তুষ্ট হয়েছেন এবং মুহাম্মাদকে পরিত্যাগ করেছেন, তার থেকে নাবুওয়াত কেড়ে নেওয়া নিয়েছেন”।
এই ধরণের কথায় নাবী (সা) ভেঙে পড়েন। এখানে সেই পেক্ষিতেই আল্লাহ নাবী (সা) কে সান্ত্বনা সহ ঘোষণা করলেন- “না আপনার প্রভু আপনাকে পরিত্যাগ করেছেন, আর না আপনার উপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন” (93:3)।
মদীনা জীবন সম্পর্কে ভবিষ্যৎ বাণী।
93:4 নং আয়াহ : আর অবশ্যই আপনার পরবর্তী জীবন (মদীনাহর জীবন) পূর্ববর্তী জীবনের (মক্কাহ জীবনের) তুলনায় উত্তম ১ হবে।
১ এখানে আল্লাহ নাবী (সা) কে সান্ত্বনা দিচ্ছেন। কিন্তু কেন?? উত্তরটা জানতে আপনাকে একবার 198:1 এর টিকায় যেতে হবে।
# এই ভবিষ্যৎ বাণী কিছু দিনের মধ্যেই সত্যে পরিণত হয়। আর এভাবেই নাবী (সা) সম্পর্কিত ভবিষ্যৎ বাণী গুলো সত্যে পরিণত হওয়ার মাধ্যমে প্রমাণ হয়ে যায়- ইসলাম সত্য।
মদীনায় ইসলাম প্রতিষ্ঠার ভবিষ্যৎ বাণী।
93:5 নং আয়াহ : আর নিশ্চিত ভাবে অতি শীঘ্রই আপনার প্রভু আপনাকে (মদীনা নামক রাষ্ট্র) দান করবেন [17:80]। ফলতঃ আপনি সন্তুষ্ট হয়ে যাবেন।
# মদীনা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভবিষ্যৎ বাণী কিছু সময়ের মধ্যেই সত্যে পরিণত হয়। এই ভবিষ্যৎ বাণী সত্যে পরিণত হওয়ার মাধ্যমে প্রমাণ হয়- ইসলাম সত্য।
আল্লাহ নাবী (সা) নিজের কাছে আশ্রয় দিয়েছিলেন।
93:6 নং আয়াহ : (এর প্রমাণ হল) তিনি কি আপনাকে ইয়াতীম ১ পান নি?? অতঃপর তিনি আপনাকে (তার নিজের কাছে) আশ্রয় দিয়েছেন [18:27]।
১ অর্থাৎ যিনি আপনাকে ইয়াতীম অবস্থায় পেয়ে নিজের কাছে আশ্রয় দিয়েছেন, তিনি কিভাবে আপনাকে মাঝ পথে ছেড়ে দেবেন! অবশ্যই তিনি আপনাকে নিদিষ্ট পরিণতিতে পৌঁছে দেবেন (93:5)।
আল্লাহ নাবী (সা) কে পথ দেখিয়েছিলেন।
93:7 নং আয়াহ : আর তিনি কি আপনাকে দিশাহীন ১ পান নি?? অতঃপর তিনি আপনাকে পথ দেখালেন।
১ নাবী (সা) তার নবুওয়াতের কিছু সময় পূর্বে সঠিক পথ খুঁজতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। এ জন্য তিনি ঘর বড়ি ও সমাজ থেকে বহু দূরে হিরা গুহায় চলে যেতেন। গিয়ে সেখানে সারাদিন কাটিয়ে দিতেন, এমনকি মাঝে মধ্যে রাতও কাটিয়েদিতেন। এই অবস্থায় মাঝে মধ্যে খাদীজাহ (রা) নাবী (সা) এর কাছে খাবার পৌঁছে দিতেন। যাইহোক, যখন তিনি একেবারে পেরেশান হয়ে পড়লেও, তখন তার কাছে জিবরীল (আ) কে আল্লাহ পাঠালেন। এবং তার কাছে ওহী করলেন, ওখানেই নাযিল হয়েছিল পবিত্র কুরআনের প্রথম 5 টি আয়াত। যা 96:1-5 আয়াত।
আল্লাহ এখানে নাবী (সা) কে সেই কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, যিনি আপনাকে দিশা দিয়েছেন, দিশা দিয়ে এতদূর নিয়ে এসেছেন, তিনি কিভাবে আপনাকে মাঝ পথে ছেড়ে দেবেন না! অবশ্যই আপনাকে নিদিষ্ট পরিণতিতে পৌঁছে দেবেন (93:5)।
মক্কাহ জীবনে নাবী (সা) স্বনির্ভর ছিলেন।
93:8 নং আয়াহ : আর তিনি কি আপনাকে পরনির্ভর পান ১ নি?? অতঃপর তিনি আপনাকে স্বনির্ভর করেছেন।
১ নাবী (সা) মায়ের গর্ভে থাকা থাকাকালীন তার পিতা আব্দুল্লাহ মারা যান। তার মা আমীনাহ সহ তিনি নিজেও দাদুর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তার 5 বছর বয়সে তার মা মারা যান। তিনি পুরোপুরি দাদুর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে যখন তার বয়স 7 বছর, তখন তার দাদুও মারা যান। তখন তিনি চাচা আবু তালীবের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে তিনি অন্যের ছাগল চরিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। তার পরবর্তীতে তিনি ব্যাবসা শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে তিনি ধনী হতে শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি মক্কার বিভিন্ন ব্যাবসায়ীদের সঙ্গে শরিক হয়ে ব্যাবসা করেন এবং সফল হোন। ইতিমধ্যেই তার সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে মক্কা জুড়ে।
পরবর্তীতে তার কাছে মক্কাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ধনী নারী খাদীজাহ (রা) নাবী (সা) কে ব্যাবসায় শরিক হয়ে ব্যাবসা করার আহ্বান করেন। পরবর্তীতে নাবী (সা) এবং খাদীজাহ (রা) উভয়ই লাভবান হন। নাবী (সা) এর সততায় মুগ্ধ হয়ে খাদীজাহ (রা) নাবী (সা) কে বিবাহের প্রস্তাব দেন। নাবী (সা) এর চাচা আবু তালীবের অভিভাবকত্বে বিবাহ হয়।
এভাবেও নাবী (সা) হাতে খাদীজাহ (রা) এর ধনসম্পদ আসে। যদিও নাবী (সা) সমস্ত ধনসম্পদ দান করে দেন। নিজে ব্যাবসা করেই আগের মতো রোজগার করতে থাকেন। যদিও তা হতেও তিনি বড় অঙ্কের অর্থ দান করতে থাকেন। আল্লাহ এখানে নাবী (সা) কে সেই কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, যিনি আপনাকে পরনির্ভর থেকে স্বনির্ভর করেছেন, তিনি আপনাকে মাঝ পথে ছেড়ে দেবেন না। অবশ্যই আপনাকে নিদিষ্ট পরিণতিতে পৌঁছে দেবেন (93:5)।
অনাথদের প্রতি কঠোরতা হারাম।
93:9 নং আয়াহ : (আপনি নিজে ইয়াতীম/ অনাথ) সুতরাং ইয়াতীম/ অনাথের প্রতি কঠোর [107:2] হবেন না।
প্রশ্ন করার/ তথ্য জানার অধিকার।
93:10 নং আয়াহ : আর প্রশ্নকারীর [16:43, 21:7] উপর বিরক্ত [801-12] হবেন না।
# অর্থাৎ প্রশ্ন করা তো মানুষের অধিকার। আপনি আল্লাহর রাসূল, উত্তর দেওয়া/ জানিয়ে দেওয়া তো আপনার দায়িত্ব। আর নাবী (সা) কে তার দায়িত্ব আল্লাহ বারবার পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করে মনে করিয়ে দিয়েছেন। বিস্তারিত এই জানতে (3:20, 5:92, 5:99, 13:40, 16:35, 1682, 24:54, 29:18, 36:17, 42:48 ও 64:12) আয়াত গুলো দেখুন।
নাবী (সা) কে হাদীশ বর্ণনা করার নির্দেশ।
93:11 নং আয়াহ : আর আপনার প্রভুর অনুগ্রহ আপনার সঙ্গে রয়েছে। আপনি হাদীশ সমূহ বর্ণনা ১ করতে থাকুন।
১ হাদীশ অস্বীকারকারীরা বলেন- আল্লাহ কি নাবী (সা) কুরআনের বাইরে হাদীশ বর্ণনা করতে বলেছেন?? এই আয়াহ তাদের জন্য যোগ্য জবাব।
এখানে কোন হাদিসের কথা বলা হয়েছে? প্রচলিত বিভিন্ন ক্যাটাগরির হাদিস! নাকি কোরআনের হাদিস?
কারণ আল্লাহ অবতীর্ণ করিয়াছেন উত্তম হাদিসের কিতাব। (৩৯:২৩)
আর আল্লাহর চেয়ে অধিক সত্যবাদী হাদীস আর কার হতে পারে? (৪:৮৭)
ভুল বেখ্যা করেন কেনো?
হাদিস শব্দের অর্থ “বর্ণনা” করা।
আর আপনার প্রভুর অনুগ্রহ বর্ণনা করুন।
বোখারী মুসলিমের হাদিস নয়।
ভুল বেখ্যা করেন কেনো?
হাদিস শব্দের অর্থ “বর্ণনা” করা।
আর আপনার প্রভুর অনুগ্রহ বর্ণনা করুন।
বোখারী মুসলিমের হাদিস নয়।