বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 21 টি।
পৃথিবী সূর্যকে আড়াল করে দেয়।
92:1 নং আয়াহ : শপথ রাতের, যখন (পৃথিবী) তাকে (সূর্যকে) আড়াল [38:32, 78:10] করে (১) দেয়।
১) পৃথিবী ঘূর্ণনের (91:6) জন্যে পৃথিবীর একদিক সূর্যের বিপরীতে চলে যায়, ফলতঃ সূর্য পৃথিবীর আড়ালে চলে যায়। অর্থাৎ পৃথিবী সূর্যকে আড়াল করে দেয়, ফলতঃ রাত হয়।
পৃথিবী দিন প্রকাশ করে।
92:2 নং আয়াহ : শপথ দিনের, যখন (পৃথিবী) তাকে প্রকাশ (১) করে।
১) পৃথিবী দিনকে প্রকাশ করে?? হ্যাঁ, পৃথিবীর ঘূর্ণনের (91:6) জন্যেই আমরা দিনের আলো সূর্য থেকে আসতে দেখি। নয়ত সৌরজগতে দিন ও রাত বলে কিছু হয় না।
পজিটিভ ও নেগেটিভ চার্জ।
92:3 নং আয়াহ : শপথ তার, যিনি পজিটিভ ও নেগেটিভ (চার্জ) সৃষ্টি (১) করেছেন।
১) যদি মানব পৃথিবীর ইতিহাসের কথা বলি, তাহলে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হল- পজিটিভ ও নেগেটিভ চার্জের আবিষ্কার। এই আবিষ্কারের উপর নির্ভর করেই বর্তমানের প্রায় সমস্ত কিছু আবিষ্কার সম্ভব হয়েছে।
# যাইহোক, যদি কণা ও কণা বিজ্ঞান সম্পর্কে জানতে ইচ্ছা হয়, তাহলে দেখুন 10:61 ও 34:3 আয়াত। অবশ্য সাব এটোমিক কণাদের সম্পর্কেও বিস্তারিত জানতে পারবেন।
প্রত্যেককে ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে গবেষণার নির্দেশ।
92:4 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই তোমাদের গবেষণার বিষয় বস্তু ভিন্ন ভিন্ন (১) হওয়া উচিৎ।
১) এই নিয়মে মুসলিমরা নাবী (সা) এর মৃত্যুর 800 বছর পর পর্যন্ত চলেছিল। এজন্য তখন প্রতিটা মুসলিম বাড়ি থেকে একজন করে বিজ্ঞানী বের হোত। আর তখন বিজ্ঞানী বলতে মুসলীমদেরই ধরা হোত। তখন ইউরোপ তথা পশ্চিমা বিশ্ব ছিল গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত।
গবেষণার জন্য খরচ করার নির্দেশ।
92:5 নং আয়াহ : সুতরাং যে (গবেষণার জন্য) অর্থ খরচ করল এবং তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন (১) করল,
১) নাবী (সা) মৃত্যুর প্রায় 800 বছর পর পর্যন্ত মুসলিমরা গবেষণার জন্য খরচ করত এবং মুসলিম শাসকগণ অপকর্ম থেকে দূরত্ব বজায় রাখত। বলা হোত- পবিত্রতার অপর নাম “মুসলিম শাসক”। তখন ইউরোপের তথা পশ্চিমা বিশ্বের খৃষ্টান শাসকদের আচরণ ছিল লজ্জা জনক! আর শুধু আয়েস আরাম!
গবেষণা লব্ধ সত্যকে মেনে নেওয়ার নির্দেশ।
92:6 নং আয়াহ : এবং (গবেষণা লব্ধ) সত্যকে উত্তম রূপে মেনে (১) নিল,
১) তখন মুসলিম সমাজে গোঁড়ামি ও কুসংস্কার প্রবেশ করে নি। তখন গবেষণা লব্ধ সত্য মুসলিম সমাজ অনায়াসে মেনে নিত। কল্পনা করুন- 12 শতকে মুসলীম বিজ্ঞানী আল ঈদরীশী প্রথমবার পৃথিবীর ‛গোল ম্যাপ’ তৈরি করেন, গ্লোব তৈরি করেন। আর মুসলিম সমাজ তা মেনে নেয়। কিন্তু পৃথিবী গোল- আজকের মুসলিম সমাজ তা মানতে চায় না। তারা মনে করে- পৃথিবী চ্যাপ্টা। অথচ পবিত্র কুরআন বলে- “পৃথিবী উট পাখির ডিমের মতো গোল”। এমনকি ‛পৃথিবী গোল’ মর্মে হাদীশও রয়েছে। বিশ্বাস হচ্ছে না তো?? 79:30 এ যান।
আল্লাহ কাকে উন্নতির জন্য সহজ পথ দেখান??
92:7 নং আয়াহ : তবেই আমরা তাকে (উন্নতির জন্য) খুব সহজ পথ [17:9, 34:6] দেখাব (১)।
১) তাই তো তখন মুসলিমরা ছিল উন্নতির চরম শিখরে। তখন মুসলিমরা ছিল অর্ধেক পৃথিবীর শাসক ছিল। তখন যত কিছু নিত্যনতুন আবিষ্কার হোত, তা মুসলিমদের হাত দিয়েই হোত।
গবেষণার জন্য খরচ না করে নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করা হারাম।
92:8 নং আয়াহ : আর যে (গবেষণার জন্য) খরচ করল না এবং নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ (১) মনে করল,
১) গত প্রায় 500 বছরে মুসলিমরা গবেষণার পিছনে খরচ করা বন্ধ করে দিয়েছিল। আর পশ্চিমা বিশ্ব গবেষণার জন্য খরচ করা শুরু করেছিল। আর তার রেজাল্ট আপনার সামনে!
গবেষণার ফল অস্বীকার করা হারাম।
92:9 নং আয়াহ : এবং (গবেষণা লব্ধ) উত্তম বিষয়কে মেনে নিতে অস্বীকার (১) করল,
১) এমনকি বর্তমানের মুসলিম সমাজ গবেষণা লব্ধ উত্তম বিষয়কে মেনে নিতেও অস্বীকার করে। আজও বহু মুসলিম ‛চাঁদে যাওয়ার’ ঘটনাকে বিশ্বাস করতে পারেন না। তাদের মতে- “এই বিশ্বাস নাকি কুরআন বিরোধী”। অথচ চাঁদে মানুষ অবতরণের ভবিষ্যৎ বাণী রয়েছে 84:18-19 তে।
আল্লাহ কার জীবন যাপনের পথ কঠিন করে দেবেন??
92:10 নং আয়াহ : ফলতঃ আমরা তার জীবন যাপনের পথ কঠিন (১) করে দেব।
১) চারিদিকে চোখ তুলে তাকালেই আজ দেখতে পাওয়া যায় যে, বর্তমানে মুসলিম হিসাবে জীবন যাপন করা কতটা কঠিন হয়ে পড়েছে! শুধুমাত্র মুসলিম হওয়ার জন্য মুসলিমরা গোটা বিশ্বে অপমানিত হচ্ছে।
অধঃপতনে ধনসম্পদ অর্থহীন।
92:11 নং আয়াহ : এবং তখন তার ধনসম্পদ কোনও কাজেই আসবে না, যখন তার অধঃপতন (১) হবে।
১) আজ মুসলিম দেশ গুলোর কাছে তেল বিক্রি করা প্রচুর ধনসম্পদ রয়েছে। কিন্তু বিশ্বে তাদের কোনও গুরুত্ব নেই। তারা গুরুত্বহীন রাষ্ট্র। তাদের কথায়/ দাবিতে পশ্চিমা বিশ্বের দেশ গুলো কর্ণপাত পর্যন্ত করে না। এমনকি 57 টা মুসলিম দেশের সংগঠন OIC এর কোনও গুরুত্ব নেই। সত্য হল- পশ্চিমা বিশ্বের একটা সাধারণ ক্লাব গুলোর গুরুত্ব মুসলিম দেশ গুলোর চেয়ে বেশি। এটাই সবচেয়ে বেশি ভাবার। কিন্তু ভাবার সময় আছে কার!
পথ দেখানোর দায়িত্ব আল্লাহর।
92:12 নং আয়াহ : নিঃসন্দেহে পথ দেখান [1:5, 80:20] আমাদের দায়িত্ব [76:3, 90:10]।
বিচার দিবসের একচ্ছত্র অধিপতি আল্লাহ।
92:13 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমাদেরই অধিকারে রয়েছে পরবর্তী জীবন ও বিচার দিবসের মালিকানা [1:3, 6:73, 82:19]।
আল্লাহ কেন মানুষদেরকে সতর্ক করেন??
92:14 নং আয়াহ : এতএব (সে জন্যই) আমি তোমাদেরকে সতর্ক [4:165, 5:19] করছি [44:3] জলন্ত আগুন [17:15] সম্পর্কে।
জাহান্নামে প্রবেশকারী নিতান্তই বোকা।
92:15 নং আয়াহ : (এত সতর্ক করার পরও) তাতে নিতান্তই বোকা (১) ছাড়া কেউ প্রবেশ করবে না!
১) এই সতর্ক বাণীকে বোকা ছাড়া কেউ অগ্ৰায্য করতে পারে না। কারণ পুনরুত্থান ও বিচার (69:16-17, 84:1-5), জান্নাত ও জাহান্নাম (21:104) সবেরই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে। সুতরাং এই গুলোকে এখন আর অবৈজ্ঞানিক বলা বোকামি ছাড়া অন্য নয়।
বোকার বৈশিষ্ট্য সত্য অস্বীকার ও মুখ ফিরিয়ে নেওয়া।
92:16 নং আয়াহ : যে (সত্য) অস্বীকার করল এবং (সত্য হতে) মুখ ফিরিয়ে নিল (18:57)।
তাকওয়া অবলম্বনকারী জাহান্নাম থেকে দূরে থাকবে।
92:17 নং আয়াহ : আর তা (জাহান্নাম) হতে দূরে রাখা হবে তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন কারীকে।
দান করতে হয় আত্মশুদ্ধি জন্য।
92:18 নং আয়াহ : যে আত্মশুদ্ধির জন্য নিজ ধনসম্পদ দান করে,
অনুগ্রহের প্রতিদান হিসাবে দান নয়, দান শুধু আল্লাহর জন্য।
92:19 নং আয়াহ : (সে দান করে) তার উপর কারোর অনুগ্রহের (১) প্রতিদান হিসাবে নয়।
১) অর্থাৎ সে এই জন্য দান করছে না যে, দান গ্ৰহীতা তাকে পূর্বে কোনও ভাবে অনুগ্রহ করেছিল। বরং সে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান করছে।
দান হবে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।
92:20 নং আয়াহ : সে (দান করে) শুধু তার মহান প্রভুর মুখমণ্ডল/ সন্তুষ্টি পাওয়ার আশায়।
আল্লাহর সন্তুষ্টির চেষ্টায় আল্লাহ সন্তুষ্ট হন।
92:21 নং আয়াহ : আর অবশ্যই তিনি তার প্রতি সন্তুষ্ট (১) হবেন।
১) একটি হাদীশ- “যে আল্লাহর মুখমণ্ডল/ সন্তুষ্টি পাওয়ার কোনও সাদকা/ দান করল এবং এটা যদি তার জীবনের শেষ কাজ হয়। তাহলে অবশ্যই এর মাধ্যমে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে” (তারগীর, হাদীশ 985)।