বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল: মাক্কাহ, আয়াত : 25 টি।
মহাবিশ্ব সংকোচিত হবে।
84:1 নং আয়াহ : যখন মহাবিশ্ব সংকোচিত [69:16, 21:107] হবে।
# মহাবিশ্ব ছিল একটি বিন্দু। তারপর বিগব্যাঙ। এর পরে মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হতে শুরু হল (51:47)। এখনও তা সম্প্রসারিত হচ্ছে (81:15)। কিন্তু কোনও একদিন মহাবিশ্ব সংকোচিত হবে (21:104, 69:16)। মহাবিশ্ব যখন সম্প্রসারিত হচ্ছিল, তখন তার মাধ্যমে আল্লাহ জীবজন্তুদের ছড়িয়ে দিয়েছিলেন (42:29)। তারপর যখন সংকোচন হবে, তখন সমস্ত জীবজন্তুদের তিনি একত্রিত করবেন সংকোচিত/ একত্রিত মহাবিশ্বের উপর। তার উপরেই বিচার দিবস অনুষ্ঠিত হবে (84:4, 69:17)। ঐ সংকোচিত/ একত্রিত ভূমির অভিকর্ষ বল হবে মারাত্মক (74:26-28)।
পদার্থে ‛ধর্ম/ আইন’ আল্লাহর সৃষ্ট।
84:2 নং আয়াহ : কেননা, সে (মহাবিশ্ব) তার প্রভুর নির্দেশ পালন করবে এবং এটাই [84:5] তার জন্য নির্ধারিত আইন [7:55, 25:2]।
বিচার দিবস কোথায় অনুষ্ঠিত হবে??
84:3 নং আয়াহ : আর তখন (সংকোচিত/ একত্রিত) পৃণ্ডকে সম্প্রসারিত করে দেওয়া হবে।
# মহাবিশ্ব সংকোচিত হলে সমস্ত গ্যালাক্সি গুলো একটা পৃণ্ড তৈরি করবে। এই সংকোচিত/ একত্রিত পৃণ্ডের উপরেই বিচার দিবস অনুষ্ঠিত হবে (69:16-17)।
পুনরুত্থান কিভাবে হবে??
84:4 নং আয়াহ : তার মধ্যে যত (মানুষ ও জিনের যত শারীরিক পদার্থ মিশে আছে) সব কিছু বাইরে নিক্ষেপ করবে [81:7, 82:4], আর তা দায়মুক্ত হবে ।
# তারপর ঐ শারীরিক পদার্থ দ্বারা শরীর গঠিত হবে। তারপর ঐ শরীরের সঙ্গে রূহ/ আত্মা যুক্ত হবে (23:99, 40:16)। তারপর কি হবে?? 54:7-8 দেখে নিন।
পদার্থে ধর্ম/ আইন আল্লাহর সৃষ্ট।
84:5 নং আয়াহ : কেননা, সে (সংকোচিত মহাবিশ্ব) তার প্রভুর নির্দেশ পালন করবে এবং এটাই [84:2] তার জন্য নির্ধারিত আইন [7:55, 25:2]।
আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ ঘটবে।
84:6 নং আয়াহ : হে সম্মানিত মানুষ, নিশ্চয়ই তুমি তোমার প্রভুর (বিধি নিষেধ মেনে চলার জন্য) আপ্রাণ চেষ্টা করছ। অতঃপর (সংকোচিত/ একত্রিত মহাবিশ্বের উপর) তার সাক্ষাৎ [33:44, 83:15] পাবে, আর এটা ঘটবেই।
# একটি হাদীশ- “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ পছন্দ করে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ পছন্দ করে না, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন না। তখন আয়িশাহ (রাঃ) অথবা তাঁর অন্য কোন স্ত্রী বললেন- আমরাও তো মৃত্যুকে পছন্দ করি না। নাবী (সা) বললেন- ব্যাপারটা এমন নয়। আসলে, যখন মূমিনের মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তার সম্মানিত হবার সুসংবাদ শোনানো হয়। তখন তার সম্মানের সুসংবাদের চেয়ে তার নিকট অধিক পছন্দনীয় কিছু হতে পারে না। কাজেই সে তখন আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ করাকেই ভালবাসে, আর আল্লাহও তার সাক্ষাৎ ভালবাসেন”(বুখারী, 6507)।
ডানপন্থী কে??
84:7 নং আয়াহ : অতঃপর যার ‛আমলনামা’ [50:17-18, 82:10-12,] ডান হাতে [56:27-40] দেওয়া হবে।
ডানপন্থীর হিসাব নিকাশ সহজ করে দেওয়া হবে।
84:8 নং আয়াহ : তারই হিসাব নিকাশ সহজ করে দেওয়া হবে।
ডানপন্থীর পরিণতি।
84:9 নং আয়াহ : এবং সে তার পরিবার পরিজনের কাছে খুবই হাঁসি খুশি অবস্থায় ফিরে [13:23-24] যাবে।
# যদি তার পরিবার পরিজনও আমলনামা ডান হাতে পায়, তাহলেই। নয়ত এমনটা হবে না।
বামপন্থী কে??
84:10 নং আয়াহ : কিন্তু যার ‛আমলনামা’ [50:17-18, 82:10-12] বাম হাতে [56:41-48] দেওয়া হবে,
বামপন্থীর হিসাব নিকাশ খুবই কঠিন হবে।
84:11 নং আয়াহ : অতঃপর সে ধ্বংস/ মৃত্যু কামনা [14:17, 25:14] করতে থাকবে [4:42]।
বামপন্থীর পরিণতি।
84:12 নং আয়াহ : আর সে প্রবেশ করবে জ্বলন্ত/ শিখাযুক্ত আগুনে।
ইসলাম বিমুখতার পরিণতি।
84:13 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই সে (ইহজীবনে) তার পরিবার পরিজন নিয়ে (ইসলাম বিমুখ হয়ে) আনন্দে আত্মহারা [83:31-32] হয়ে থাকত।
পরবর্তী জীবনকে অবহেলার পরিণতি।
84:14 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই সে মনে করেছিল তাকে কখনও (আল্লাহর কাছে) ফিরে [45:24] যেতে হবে [23:37, 64:7] না।
# অথচ তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যেই তো মহাবিশ্বের সংকোচন ঘটবে (10:4, 21:104)।
আল্লাহ প্রত্যেকের উপর দৃষ্টি রাখেন।
84:15 নং আয়াহ : হ্যাঁ (তাকে ফিরতেই হবে), নিশ্চয়ই তার প্রভু তার উপর সর্বক্ষণ দৃষ্টি [3:15] রাখেন।
আলোর লাল বর্ণের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি।
84:16 নং আয়াহ : কখনও (দৃষ্টি সরিয়ে নেন) না, আমি শপথ করছি আলোর লাল বর্ণের।
# আলোর লাল বর্ণের শপথ কেন করা হল?? বিজ্ঞান জানলে উত্তর সহজ- আরবি বাক রীতিতে শপথ করা হয় গুরুত্ব বোঝানোর জন্য। এখানে আলোর লাল বর্ণের শপথের কারণ হল- আলোর লাল বর্ণের গুরুত্ব বোঝানো হচ্ছে। আর আলোর লাল বর্ণের গুরুত্ব হল- তার তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি। এখানে যে তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের কথা বলা হচ্ছে, তা পরবর্তী আয়াহ দেখলেই সুস্পষ্ট হয়ে যায়।
যাইহোক, বলে রাখা ভাল- আলোর লাল বর্ণের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে বলেই বায়ুমন্ডলীও কণার কারণে তা ভেঙে যায় না। এই কারণেই সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ে আকাশ বর্ণের হয়ে যায়। কেননা, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময়ে সূর্য আমাদের থেকে বেশি দূরত্বে অবস্থান করে। আর আলোর অন্যান্য বর্ণ গুলো দূরত্বের কারণে ভেঙে যায় কিন্তু লাল বর্ণ ভেঙে যায় না, সেই জন্যই আমাদের চোখে লাল বর্ণ পৌছায়।
এও বলে রাখা ভাল যে, এ জন্যই বিপদ সংকেতের জন্য লাল বর্ণ ব্যবহার করা হয়। যাতে তা দূরত্ব অতিক্রম করলেও ভেঙে না যায় এবং দূরত্ব অতিক্রম করে দর্শকের চোখে পৌঁছাতে পারে।
কালো রঙ/ বর্ণ আলো ও তাপ শোষণকারী।
84:17 নং আয়াহ : এবং শপথ কালো রঙের/ বর্ণের, তাতে যা কিছু (আলো ও তাপ) শোষিত হয়।
# এই জন্যই তো কালো রঙের পোষাক পরলে গরম বেশি অনুভূত হয়। কারণ, তা আলো ও তাপ শোষণকারী।
# কালোর বিপরীত সাদা। কালো রঙ/ বর্ণ যা করে, সাদা ঠিক তাই বিপরীত কাজ করে। এই জন্যই নাবী বলেছেন- “তোমরা সাদা কাপড় পরিধান করো এবং তা দিয়ে তোমাদের মৃতদের কাফন পরাও। কেননা তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর”(আবু দাউদ, হাদীশ 3878)।
# সাদা রঙ কতটা কল্যাণকর, আজ বিজ্ঞানে তা প্রমাণিত। আর এই জন্যই ডাক্তারদের পোষাক সাদা রঙের হয়ে থাকে। যাতে গরমের কারণ তিনি বিরক্তবোধ না করেন। উপরন্ত সাদা পোশাক আলোর প্রতিফলন ঘটিয়ে তাপমাত্রা কম রাখে।
চাঁদে মানুষ অবতরণের ভবিষ্যৎ বাণী।
84:18 নং আয়াহ : শপথ চাঁদের, যখন তাতে (মানুষ) অবতরণ করবে।
# পবিত্র কুরআনের এই ভবিষ্যৎ বাণী পূর্ণ হয় 1969 সালে। আমেরিকার তিন জন মহাকাশচারীর মধ্যে দু জন মহাকাশচারীর চাঁদে অবতরণের মাধ্যমে।
চাঁদে আরোহণ সম্ভব হয়/ হবে ধাপে ধাপে।
84:19 নং আয়াহ : অবশ্যই তোমরা (চাঁদে) আরোহণ করবে ধাপে ধাপে।
# ধাপে ধাপে এজন্য বলা হচ্ছে যে, প্রথম বারেই চাঁদে মানুষ পাঠানো সম্ভব নয়/ হয় নি। মানুষ পাঠানোর আগে বহুবার চাঁদে মিশন পাঠাতে হয়, মিশন ল্যান্ড করতে হয়, আবার তাকে ফিরিয়ে আনতে হয়। তবেই মানুষ পাঠানো সম্ভব হয়/ হয়েছে।
আল্লাহর অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ভাবার মতো প্রশ্ন।
84:20 নং আয়াহ : যাইহোক (এমন বৈজ্ঞানিক তথ্য সমূহ জানার পরও) তাদের কি হল যে, তারা সত্য স্বীকার [21:30] করছে না [2:6-7, 6:109]??
কুরআনের জন্য আল্লাহর কৃতজ্ঞতা স্বীকার।
84:21 নং আয়াহ : আর যখন তাদের কাছে কুরআন তিলাওয়াত করা হয়, তখন তারা সিজদা করছে [69:50] না কেন??
❤️ সিজদাহর আয়াহ ❤️
# অর্থাৎ সিজদাহর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছে না কেন?? বা বিনয় প্রকাশ করেছে না কেন??
বিচার করে কুরআন অস্বীকার করা উচিৎ।
84:22 নং আয়াহ : উপরন্তু তারা (বিচার বিবেচনা [8:22, 67:10] না করেই) অবিশ্বাস করছে এবং মিথ্যা অভিযোগ [38:29, 47:24] করছে!
আল্লাহ মস্তিষ্কের সমস্ত চিন্তা ভাবনা সম্পর্কে জানেন।
84:23 নং আয়াহ : আথচ আল্লাহ ভালই জানেন সেই বিষয়ে, যা তারা পোষণ [50:16] করে
সত্য অস্বীকারকারীদের জন্য সুসংবাদ।
84:24 নং আয়াহ : সুতরাং তাদেরকে কষ্টদায়ক শাস্তির সুসংবাদ [9:3, 9:36] দিন।
নিরবচ্ছিন্ন প্রতিদান থাকবে কাদের জন্য??
85:25 নং আয়াহ : কিন্তু যারা ইমান/ সত্য গ্ৰহণ করে এবং সৎকর্ম করে, তাদের জন্য থাকবে নিরবচ্ছিন্ন প্রতিদান [41:8, 95:6]।