বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাদীনাহ, আয়াত : 14 টি।
সমস্ত কিছুই আল্লাহ পবিত্রতা ঘোষণা করে।
61:1 নং আয়াহ : মহাবিশ্বে যা কিছু রয়েছে, সেই সমস্ত কিছুই তার পবিত্রতা ঘোষণা করে। কেননা, তিনি হলেন মহা শক্তিশালী ও মহা বিজ্ঞানী।
কথায় ও কাজে মিল রাখার নির্দেশনা।
61:2 নং আয়াহ : হে সত্য স্বীকার করা সম্মানিত মানুষজন, তোমরা এমন কথা কেন বলো, যা নিজেরা করো না??
কথায় ও কাজে মিল না থাকার পরিণতি জাহান্নাম।
61:3 নং আয়াহ : এটা আল্লাহর কাছে অত্যান্ত ক্রোধের বিষয় যে, ‛তোমরা যা বলে থাকো, তা নিজেরা করো না’ [2:44]।
কেমন ভাবে যুদ্ধ করতে হবে??
61:4 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে ভালোবাসেন, যারা তার পথে এমন ভাবে সারিবদ্ধ হয়ে যুদ্ধ [2:190] করে, যেন সুদৃঢ় প্রাচীর।
আল্লাহ ফাসিক কাওমকে পথ দেখান ন।
61:5 নং আয়াহ : আর (শুনুন সেই সময়ের কথা) যখন মূসা তার কাওম/ জাতি কে বললো- “হে আমার কাওম/ জাতি, তোমরা কেন আমাকে কষ্ট দাও?? অথচ তোমরা জানো যে, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূল”। অতঃপর তারা বাঁকা পথ অবলম্বন করলো। আল্লাহ তাদের মস্তিষ্ক সমূহের (চিন্তা ভাবনাকে) বাঁকা করে দিলেন [2:26]। এবং আল্লাহ ফাসিক/ পাপাচারী কাওম/ জাতিকে পথ দেখান না।
নিউ টেস্টামেন্টে নাবী (সা) এর ভবিষ্যৎ বাণী ছিল/ আছে।
61:6 নং আয়াহ : এবং (শুনুন সেই সময়ের কথা) যখন ঈশা ইবনু মারইয়াম বলেছিলেন- “হে বানী ইসরাঈল, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূল। আমার পূর্বে আসা তাওরাতের সত্যায়নকারী এবং আমার পরে একজন রাসূলের সুসংবাদদাতা। তার নাম হবে- আহমাদ ১। অতঃপর যখন তাদের (বানী ইসরাঈলের) কাছে তিনি (আহমাদ/ মুহাম্মাদ) আসলেন সুস্পষ্ট প্রমাণ সমূহ নিয়ে, তখন তারা বললো- এগুলো তো সুস্পষ্ট জাদু!
১ মুহাম্মাদ (সা) এর দ্বিতীয় নাম আহমাদ। একটি হাদীশ দেখুন- “আমি মুহাম্মাদ (প্রশংসিত), আমি আহমাদ (প্রশংসাকারী), আমি আল-মাহী (বিলুপ্তকারী) এমন লোক যে, আমার মাধ্যমে কুফুরকে নিঃশেষ করা হবে। আমি আল-হাশির (একত্রকারী) এমন ব্যক্তি যে, আমার পেছনে লোকেদের একত্রিত করা হবে। আমি আল-আকিব (সর্বশেষ) আর আল-আকীব, ঐ লোক যার পর আর কোন নবী নেই” (মুসলিম, হাদীশ 2354 a ও b)।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- ইনজীল বা প্রচলিত বাইবেলে কি এই ভবিষ্যৎ বাণী রয়েছে?? A) না থাকলেও পবিত্র কুরআন ভুল- তা প্রমাণ হয় না। কেননা, বাইবেল বিকৃত। B) হ্যাঁ, বাইবেলে এই ভবিষ্যৎ বাণী আজও রয়েছে।
কোথায় রয়েছে?? Jhon এর 16:7 এ চলুন। যেখানে যিশু (আ) বলছেন- “Nevertheless I tell you the truth; It is expedient for you that I go away: for if I go not away, the Comforter will not come unto you; but if I depart, I will send him unto you”(KJV)।
আরও দেখুন- “Nevertheless I tell you the truth. It is to your advantage that I go away; for if I do not go away, the Helper will not come to you; but if I depart, I will send Him to you”(NKJV)।
আরও দেখুন- “But very truly I tell you, it is for your good that I am going away. Unless I go away, the Advocate will not come to you; but if I go, I will send him to you”(NIV)। আর NRSV এও Advocate করা হয়েছে।
আরও দেখুন- “Nevertheless, I am telling you the truth. It is for your benefit that I go away, because if I don’t go away the Counselor will not come to you. If I go, I will send Him to you”(HCSV)
কিন্তু Comforter বলুন, Helper বলুন, Advocate বলুন বা Counselor, এর গ্ৰিক শব্দ হল- “Parakletos”। একটি ইংরেজি বাইবেলেও তা রয়েছে- “But I tell you the truth: it is expedient to you that I go: for if I go not, the Paraclete will not come to you; but if I go, I will send him to you” (Douay-Rheims Bible)।
কিন্তু প্রশ্ন হল- ‛Parakletos’ শব্দের অর্থ কি?? এই শব্দের অর্থ হল- প্রশংসাকারী। প্রশ্ন হবে- প্রশংসাকারী শব্দের সঙ্গে ‛আহমাদ’ নামক রাসূলের ভবিষ্যৎ বাণীর সম্পর্ক কোথায়?? আছে, আরবি ‛আহমাদ’ শব্দের অর্থ হল- ‛প্রশংসাকারী’। অর্থাৎ গ্ৰিক Parakletos শব্দটি আরবি আহমাদ শব্দের প্রতিশব্দ।
সুতরাং কুরআন ঠিকই বলেছে যে, ঈশা (আ) আহমাদ নামক রাসূলের ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন। আর তা বাইবেলে আজও ঠিক তেমনই ভাবে রয়েছে, যেমন ছিল। যদিও ইংরেজি অনুবাদে Parakletos শব্দের ভিন্ন ভিন্ন অর্থ করা হয়েছে।
আল্লাহ জ্বালিম কাওমকে পথ দেখান ন।
61:7 নং আয়াহ : আর তার চেয়ে বড় জ্বালিম আর কে আছে, যে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা রচনা করে [দেখুন 10:69, 2:78], অথচ তাকে ডাকা হয় ইসলামের দিকে?? আল্লাহ জ্বালিম/ অত্যাচারী কাওম/ জাতিকে পথ দেখান না।
ইসলাম পূর্ণতার ভবিষ্যৎ বাণী।
61:8 নং আয়াহ : তারা চায় আল্লাহর নূর (ইসলাম) কে তাদের মুখের ফুঁ দ্বারা নিভিয়ে দিতে। কিন্তু আল্লাহ তার নূর (ইসলাম) কে পূর্ণতা দান করবেন। যদিও সত্য অস্বীকার কারীরা তা অপছন্দ করে [9:32]।
ইসলামের বিজয়ের ভবিষ্যৎ বাণী।
61:9 নং আয়াহ : তিনিই (আল্লাহ), যিনি তার রাসূলকে পথ নির্দেশনা (কুরআন) সহ সত্য দীন দিয়ে পাঠিয়েছেন। যেন সমস্ত দীন (ধর্ম ও মতাদর্শের) উপর বিজয়ী করেন। যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে [9:33]।
কষ্টদায়ক শাস্তি থেকে মুক্তির চুক্তি।
61:10 নং আয়াহ : হে সত্য স্বীকার করা সম্মানিত মানুষজন, আমি কি তোমাদেরকে এমন চুক্তির সন্ধান দেব, যা তোমাদেরকে কষ্টদায়ক শাস্তি থেকে মুক্তি দেবে??
জিহাদের জন্য ধনসম্পদ ও নিজেকে নিয়োগ করা।
61:11 নং আয়াহ : তোমরা স্বীকার কর আল্লাহরকে ও তার রাসূলকে। আর আল্লাহর পথে জিহাদ/ প্রচেষ্টা করো ধনসম্পদ দ্বারা ও নিজেদেরকে নিয়োগের দ্বারা। ওটাই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বুঝতে!
আল্লাহর ক্ষমা ও জান্নাত পাওয়ার উপায়।
61:12 নং আয়াহ : (এর বদলে) তিনি ক্ষমা করে দিবেন তোমাদের পাপ সমূহকে এবং তোমাদেরকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে [3:133, 57:21]। যাতে নিয়ন্ত্রাধীন ভাবে প্রবাহিত হতে থাকবে নদনদী সমূহ। আর (তোমাদের জন্য জান্নাতে থাকবে) অনন্তকাল স্থায়ী পবিত্র বাসগৃহ সমূহ [39:20]। ওটাই মহা সাফল্য।
মাক্কাহ বিজয়ের ভবিষ্যৎ বাণী।
61:13 নং আয়াহ : আর অন্য আরেকটিও (তিনি তোমাদের কে দিবেন) যা তোমরা পছন্দ করো। (আর তা হল) আল্লাহর পক্ষ থেকে সাহায্য ও আসন্ন বিজয় [110:1-2]। আর (আপনি) মূমীনদেরকে সুসংবাদ দিন।
ঈশা (আ) এর আসল অনুসারীদের পরিণতি।
61:14 নং আয়াহ : হে সত্য স্বীকার করা সম্মানিত মানুষজন, তোমরা আল্লাহর পথে (নাবীর) সাহায্যকারী হও [22:40, 47:7]। যেমন ঈশা ইবনু মারইয়াম হাওয়ারীদের ১ উদেশ্যে বলেছিলেন- “আল্লাহর পথে কে আমার সাহায্যকারী হবে”?? তখন হাওয়ারীরা বলেছিল- “আমরা আল্লাহর পথে (আপনার) সাহায্যকারী”। অতঃপর বানী ইসরাঈলের মধ্যে একদল সত্য স্বীকার করলো, একদল সত্য অস্বীকার করলো। অতঃপর যারা সত্য স্বীকার করেছিল, তাদেরকে আমরা তাদের শত্রুদের উপর সাহায্য করলাম। অতঃপর তারা বিজয়ী হল ২।
১ এখানে আরবি মূল শব্দ হূর, যার অর্থ- সাদা পোশাক পরিহিত। আমরা হূর বলতে শুধু নারীদের কল্পনা করি। কিন্তু হূর অর্থ হল- সাদা পোষাক পরিহিত/ পরিহিতা। ঈশা (আ) এর সঙ্গীরা সাদা পোষাক পরতেন, তাই তাদেরকে এখানে ‘হূর/ হাওয়ারী’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে।
২ “তারা বিজয়ী হল”- কিন্তু কিভাবে?? আসলে ঈশা (আ) এর আসল অনুসারীরা পরবর্তীতে ঈশা (আ) এর ভবিষ্যৎ বাণী অনুযায়ি মুহাম্মাদ (সা) কে মেনে নিয়েছিলেন। সুতরাং এখন মুহাম্মাদ (সা) এর বিজয়ই মূলতঃ তাদের বিজয়।