বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত 55 টি।
চাঁদ দূরে সরে যাচ্ছে, সৌরজগত ধ্বংস হবে।
54:1 নং আয়াহ : সেই ক্ষণ (সৌরজগতের ধ্বংস) খুবই কাছে। কারণ চাঁদ দূরে সরে [75:8-9] যাচ্ছে।
# চাঁদ প্রতিবছর পৃথিবী থেকে 1.5 ইঞ্চি করে দূরে সরে যাচ্ছে। সুদূর ভবিষ্যতে চাঁদ সূর্যের উপর পাতিত হবে এবং এই কারণেই সৌরজগৎ ধ্বংস হবে। প্রশ্ন হবে- তখন মানুষ কোথায় যাবে?? এ প্রশ্নের উত্তর রয়েছে 51:22-23 আয়াতে।
# এখন প্রশ্ন হবে- এটা (54:1) তো চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার আয়াহ, আপনি উল্টোপাল্টা অর্থ করছেন। আর এর সপক্ষে বহু সাহাবা (রা) থেকে বর্ণিত হাদীশ রয়েছে”। হ্যাঁ, জানি হাদীশ গুলো। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, ইবনে উমার, ইবনে আব্বাস, আনাস ও জুবাঈর ইবনে মুত্বইম থেকে বর্ণিত হাদীশ রয়েছে। এত হাদীশ আছে, কিন্তু 2 টি সমস্যাও আছে। একটির সামাধান হতে পারে, দ্বিতীয়টার সমাধান নেই।
কেমন! দাঁড়ান, বলছি। প্রথম সমস্যা : আনাস ইবনে মালিক (রা) এর জন্ম মাদীনাহতে (610 খিঃ), সুতরাং তাঁর বর্ণিত গ্ৰহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি শুনে বর্ণনা করেছেন, তিনি চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার সময় তিনি নাবী (সা) এর আশেপাশে ছিলেন না এবং তাঁর বয়সও তখন মাত্র 7 বছর। তাঁর বর্ণিত হাদীশ বুখারীতে রয়েছে 3868 তে। আর তিরমিযীর 3286 তে বলা হয়েছে- “চাঁদ একবার নয়, দুইবার দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল”। কিন্তু একবার হোক কিংবা দুইবার, তার হাদীশ গ্ৰহণ যোগ্য নয়।
আর রইল ইবনে আব্বাস (রা) এর কথা। তাঁর জন্ম 619 এ, হিজরত হয় 622 এ। মানে, হিজরতের 3 বছর আগে। চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয় 617 তে। মানে, তাঁর জন্ম হয় উক্ত চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার পর। সুতরাং তাঁর বর্ণিত হাদীশ গ্ৰহণযোগ্য হতে পারে না। তবে তাঁর বর্ণিত হাদীশ রয়েছে বুখারীর 3870 এ।
এবার ইবনে উমার (রা) এর হাদীশ প্রসঙ্গে একটু কথা বলা যাক। তাঁর বর্ণিত হাদীশ বুখারীতে রয়েছে 3871 এ। তাঁর জন্ম হয় 612 তে, চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয় 617 তে। মানে, চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার সময় তাঁর বয়স মাত্র 5 বছর। যদিও তার জন্ম মাক্কাতেই, তবুও কী তাঁর হাদীশ গ্ৰহণযোগ্য, যখন তাঁর বয়স মাত্র 5 বছর?? আমার মতে, তা গ্ৰহণযোগ্য হতে পারে না। তবুও তর্কের খাতিরে গ্ৰহণযোগ্য মানলাম।
প্রশ্ন হবে- বাকি দু জন সাহাবা (রা) গণ তো প্রাপ্ত বয়স্ক ছিল! হ্যাঁ, ছিল। ইবনে মাসউদ (রা) এর জন্ম 594 এ, চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার সময় তাঁর বয়স 23 বছর। যাইহোক, তাঁর বর্ণিত হাদীশ রয়েছে বুখারীর 3969 তে। আর রইর জুবাঈর ইবনে মুত্বইম (রা) এর বিষয়টা, তাই তো! তাঁর জন্য 580 তে, চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার সময় তাঁর বয়স 37 বছর। তাঁর বর্ণিত হাদীশ রয়েছে তিরমিযীর 3289 এ।
প্রথম সমস্যা : 3 জন সাহাবা (রা) এর হাদীশ বা সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয় এবং তার কারণ রয়েছে। কিন্তু এর সমাধানে রয়েছে ইবনে মাসউদ (রা) ও ইবনে জুবাঈর (রা)। আমি আগেই বলেছিলাম- “প্রথম সমস্যার সমাধান আছে, দ্বিতীয় সমস্যার সমাধান নেই”। প্রশ্ন হবে- দ্বিতীয় সমস্যাটা কি?? গুরুতর। কেমন!
প্রতিটা হাদীশ বলছে- “চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়ে পৃথিবীতে পড়ে গিয়েছিল”। কিন্তু চাঁদ পুনরায় জোড়া লাগার কোনও হাদীশ নেই। তাহলে বর্তমানে আকাশে চাঁদ দেখতে পাচ্ছি কিভাবে?? নাকি যে চাঁদ বর্তমানে রয়েছে, সেই চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয় নি?? তাহলে কি ভিন্ন চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হয়েছিল??
হতে পারে! হ্যাঁ হতেই পারে। আরবিতে ‛কামার’ শব্দের একাধিক অর্থ হয়- চাঁদ, উপগ্রহ বা কৃত্রিম উপগ্রহ, যে কোনও মহাজাগতিক বস্তু যা, পৃথিবীর কাছাকাছি আছে। আবার চাঁদের জোৎস্নাকেও আরবিতে ‛কামার’ বলা হয়। হাদীশে যে কামার দ্বিখণ্ডিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে, তা বর্তমান চাঁদ নয়। পৃথিবীর কাছাকাছি থাকা কোনও মহাজাগতিক বস্তু দ্বিখণ্ডিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাই বলা হয়েছে- “দ্বিখণ্ডিত হয়ে হেরা পাহাড়ের দুদিকে পড়ল”। শুধু পড়ার কথা বলছে, পুনরায় জোড়া লাগার কথা নয়। তারমানে, এখানে বর্তমান কামার বা চাঁদের কথা বলা হচ্ছে না।
এই দাবির কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে?? আছে। আপনাকে গুগলে যেতে হবে। গিয়ে লিখতে হবে- শুধু “Quasi moons”, বাকিটা পড়ে নেবেন। ছোট করে বলি- বেশ কিছু গ্ৰহাণু রয়েছে, যারা পৃথিবীর একেবারে কাছাকাছি, পৃথিবীর কক্ষপথে থেকে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। দেখে মনে হয় যেন, তারা পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছে। তাই আরবিতে এদেরকেও “কামার বা চাঁদ” বলা হয়। হাদীশে এমন চাঁদের কথাই বলা হয়েছে। তাই জোড়া লাগার কথা বলা হয় নি। কেননা, জোড়া প্রয়োজন ছিল না। যদি বর্তমান চাঁদের কথা হাদীশে বলা হোত, তাহলে অবশ্যই জোড়া লাগার কথাও থাকত। নয়ত, চাঁদ আজকে থাকতই না, বরং অস্তিত্বহীন হয়ে যেত।
শেষ কথা, আমি কি 54:1 এর অনুবাদ ভুল করেছি?? না, ভুল করি নি। চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত হওয়াকে আরবিতে বলা হয়- ‛শাক্কাল কামার’। গুগলে গিয়ে ‛চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত’ শব্দটা লিখুন। উইকিপিডিয়া পেজ আসবে। সেখানে ‛শাক্কাল কামার’ শব্দটা আরবিতে পাবেন। ওখান থেকে শাক্কা শব্দটা কপি করে গুগলে দিয়ে লিখুন- Meaning in english, তারপর রেজাল্ট। বলা থাকবে- “বিভিন্ন অর্থ হতে পারে। … তবে আরবি বাগধারায় হয় Overcoming difficulties (Breaking through paths)”। এর অর্থ- “বাধা অতিক্রম করা বা পথ ভেঙে/ ছেড়ে বেরিয়ে আসা”। সুতরাং আমার অনুবাদে ভুল নেই, আমার অনুবাদ সম্পূর্ণ সঠিক এবং বিজ্ঞানসম্মতও।
কুরআন জাদুবিদ্যার ফল নয়।
54:2 নং আয়াহ : কিন্তু তারা (এই রকম বিজ্ঞান বিষয়ক) আয়াত সমূহ দেখেও মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে- “এ সব চিরাচরিত [54:5, 69:42] জাদু”।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো কোনও কাজে আসে না।
54:3 নং আয়াহ : তারা (সত্য/ কুরআন) অস্বীকার করেছে এবং নিজেদের খেয়াল খুশির অনুসরণ করছে। (এতে চিন্তিত হবেন না) প্রত্যেকটা ঘটনাই নিদিষ্ট গতিতে/ নিদিষ্ট পরিণতিতে [17:11, 21:37] পৌঁছাবে।
কুরআন শুধু বিজ্ঞানের বই নয়, ইতিহাসও।
54:4 নং আয়াহ : আর নিশ্চয়ই তাদের কাছে এসেছে (অতীত জাতি গুলোর) ঐতিহাসিক তথ্য, যাতে রয়েছে (তাদের জন্য) সতর্কবাণী।
কুরআন বিজ্ঞান দ্বারা পরিপূর্ণ।
54:5 নং আয়াহ : এটা (কুরআন) বিজ্ঞান [36:2, 38:88] দ্বারা পরিপূর্ণ। কিন্তু এর সতর্তবাণী তাদের কোনও কাজে আসে নি।
নাবী (সা) কে বিশেষ নির্দেশ।
54:6 নং আয়াহ : সুতরাং (তারা মুখ ফেরালে) আপনিও তাদের থেকে মুখ [18:6, 26:3] ফিরিয়ে [16:35 ও 82] নিন। যেদিন এক আহ্বানকারী এক অপছন্দনীয় বিষয়ের (পুনরুত্থানের) দিকে আহ্বান [50:41] করবে,
# আহ্বানকারী বলতে এখানে ইসরাফীল (আ) এর কথা বলা হচ্ছে। বিস্তারিত জানতে 50:41 এর টিকা দেখে নিন।
কাফিরদেরকে পঙ্গপালের তুলনা।
54:7 নং আয়াহ : সেদিন তাদের দৃষ্টি থাকবে [70:44] অবনত। এবং তারা ‛একত্রিত মহাবিশ্ব’ [84:1-5] থেকে বের হয়ে আসবে [70:43]। (দেখে মনে হবে) যেন বিক্ষিপ্ত পঙ্গপাল।
বিচার দিবসের ভয়াবহতা দেখে কাফিররা যা বলবে।
54:8 নং আয়াহ : তারা আহ্বানকারীর দিকে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে দৌড়াবে [70:43] এবং সত্য অস্বীকারকারীরা বলবে- “এ তো খুবই কঠিন [84:11] দিন”।
নূহ (আ) কে রজম করার ধমকি দেওয়া হয়েছিল।
54:9 নং আয়াহ : এভাবেই তাদের পূর্বে নূহের জাতি সত্য অস্বীকার করে ছিল, তারা আমাদের বান্দা (নূহ) সম্পর্কে বলেছিল- “এ তো পাগল” [51:52]। আর তাকে (পাথর [26:116] মেরে হত্যার) ধমকি দিয়েছিল ।
নূহ (আ) এর হার স্বীকার ও প্রার্থনা।
54:10 নং আয়াহ : অবশেষে তিনি তার প্রভুকে ডেকে বললেন- “নিশ্চিত ভাবে আমি হেরে গেছি, এখন আপনিই সাহায্য [71:5-28] করুন”।
বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন স্তর হতে বৃষ্টি হয়।
54:11 নং আয়াহ : অতঃপর আমরা বায়ুমন্ডলের স্তর গুলোকে ভারি/ খুলে করে দিলাম এবং প্রবল বর্ষণ করলাম।
# প্রথমে ভাবা হোত- “শুধু ট্রপোস্ফিয়ার (Troposphere) থেকে বৃষ্টি হয়”। কিন্তু এখন আমরা জানি- মেসোস্ফিয়ার (Mesosphere) থেকেও মাঝে মধ্যে বৃষ্টি হয়।
54:12 নং আয়াহ : এবং আমরা ভূমি হতে বের করলাম প্রস্রবণ সমূহ। অতঃপর সমস্ত পানি মিলে গেল এক নির্দেশ মুতাবিক।
নূহ (আ) ভাসমান শহরে আরোহণ করলেন।
54:13 নং আয়াহ : আর আমরা তাকে (নূহকে) আরোহণ করালাম [11:41-44] কাঠ ও পেরেকের [11:37- 40] তৈরি ভাসমান শহরে/ নৌকায় [69:11]।
নূহ (আ) কে ইহজীবনে প্রতিদান দেওয়া হল।
54:14 নং আয়াহ : যা আমাদের চোখের সামনে (অর্থাৎ তত্বাবধানে) চলতে লাগলো। (এই) প্রতিদান তার (নূহের) জন্য, যাকে অস্বীকার করা হয়েছিল।
নূহ (আ) এর নৌকার ধ্বংসাবশেষের খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা।
54:15 নং আয়াহ : আর অবশ্যই আমরা তাকে (নৌকাকে) ছেড়ে দিয়েছি একটি নিদর্শন [69:11-12] হিসাবে [41:53]। এতএব (নৌকার ধ্বংসাবশেষের চিহ্ন থেকে) শিক্ষা নেওয়ার কেউ আছে কি??
# পবিত্র কুরআন মুতাবিক- নূহ (আ) এর নৌকা জূদী (11:44) নামক স্থানে এসে থামে। আজও ঐ স্থানের নাম জূদী। যা বর্তমানে তুরস্কের আরারাত পর্বতমালার অংশ। 1959 সালে প্রথম ইলহান দুরুপিনার সর্বপ্রথম আবিষ্কার ও ঘোষণা করেন যে, তিনি নূহ (আ) এর নৌকার ধ্বংসাবশেষের চিহ্ন খুঁজে পেয়েছেন আরারাত পর্বতের জূদী নামক স্থানে।
ঐ স্থানের নাম রাখা হয় ঐ ব্যক্তির নামে “দুরু পিনার সাইট” (Durupinar site)। তবে, সেই সময়ের বহু বিজ্ঞানীরা জানান যে, “তা কোনও নৌকার ধ্বংসাবশেষের চিহ্ন নয়। বরং তা পর্বতের প্রাকৃতিক ভাঁজ। যা দেখতে নৌকার ধ্বংসাবশেষের চিহ্নের মতো”।
যদিও 2008 সালে চিনের হংকং এর একটি গবেষক দল জূদী নামক স্থান থেকে একটি কাঠের টুকরো ও লোহার খন্ড পায়। পরীক্ষার পর জানা যায়- “এই কঠের বয়স প্রায় 5500 বছর মতো। যাই হোক, 2021 সালে 3D scaning এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, তা সত্যিই নৌকার ধ্বংসাবশেষের চিহ্ন, তা কোনও প্রাকৃতিক ভূমিরুপ নয়।
# বলে রাখা ভালো যে, নূহ (আ) এবং তার তৈরি নৌকার উল্লেখ রয়েছে বাইবেলেও। কিন্তু পবিত্র কুরআন দাবি করছে- “নৌকার ধ্বংসাবশেষের চিহ্ন পাওয়া যাবে”। এমন দাবি বাইবেলে নেই। পবিত্র কুরআনের ভবিষ্যৎ বাণী মিলে যাওয়া কি পবিত্র কুরআনের সত্যতা (41:53) ঘোষণা করছে না??
নাবী (সা) কে জিজ্ঞাসা করার মাধ্যমে কাফিরদেরকে ব্যঙ্গ করা।
54:16 নং আয়াহ : এতএব এখন (বলুন) কেমন ছিল (তাদের জন্য) আমার শাস্তি ও সতর্কবাণী??
কুরআন বোঝা/ তা হতে জ্ঞান অর্জন করা খুবই সহজ।
54:17 নং আয়াহ : আর অবশ্যই আমরা এই কুরআনকে বোঝার জন্য/ জ্ঞান অর্জনের সহজ [2:185, 5:6] করে দিয়েছি। সুতরাং তা থেকে জ্ঞান অর্জন করার কেউ আছে কি??
আদ জাতি হূদ (আ) কে অস্বীকার করলো।
54:18 নং আয়াহ : আদ জাতিও সত্য অস্বীকার করেছিল। এতএব (বলুন, তাদের প্রতি) কেমন ছিল আমার শাস্তি ও সতর্ক বাণী??
আদ জাতির প্রতি হিমশীতল ঝড় প্রেরিত হয়েছিল।
54:19 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমরা তাদের উপর প্রেরণ করেছি অবিরাম ভাবে (এক সপ্তাহ ধরে) প্রবল ঝড় [69:6-8]। এমন দিনে, যে দিনটি ছিল তাদের জন্য খুবই অকল্যাণকর [41:16]।
আদ জাতির পরিণতি কেমন হয়েছিল??
54:20 নং আয়াহ : সেখানকার মানুষকে এমন ভাবে ধ্বংস করেছিল, যেন উৎপাটিত খেঁজুর গাছের কান্ড সমূহ।
নাবী (সা) কে জিজ্ঞাসা করার মাধ্যমে কাফিরদেরকে ব্যঙ্গ করা।
54:21 নং আয়াহ : এতএব এখন (বলুন) কেমন ছিল (তাদের জন্য) আমার শাস্তি ও সতর্কবাণী??
কুরআন বোঝা/ তা হতে জ্ঞান অর্জন করা খুবই সহজ।
54:22 নং আয়াহ : আর অবশ্যই আমরা এই কুরআনকে বোঝার জন্য/ জ্ঞান অর্জনের সহজ [2:185, 5:6] করে দিয়েছি। সুতরাং তা থেকে জ্ঞান অর্জন করার কেউ আছে কি??
স্বালিহ (আ) কে সামূদ জাতি অস্বীকার করলো।
54:23 নং আয়াহ : সামূদ জাতি সতর্তকারীদের অস্বীকার করেছিল।
# “কিন্তু সামূদ জাতি তো সমস্ত সতর্তকারীদের অস্বীকার করে নি, শুধুমাত্র স্বালিহ (আ) কে অস্বীকার করেছিল। এটা কি ব্যাকারণগত ভুল নয়”?? প্রশ্নের উত্তর রয়েছে 73:15 এর টিকায়।
অস্বীকার করার কারণ কি ছিল??
54:24 নং আয়াহ : তারা বলেছিল- “আমরা কি আমাদের মধ্যেকার একজন মানুষের অনুসরণ [17:95, 14:11] করবো! তাহলে নিশ্চয়ই আমরা পথভ্রষ্ট হয়ে পড়বো এবং পাগল গণ্য হবো।
স্বালিহ (আ) এর উপর অপবাদ।
54:25 নং আয়াহ : আমাদের মধ্যে তার উপরই জীবন বিধান নাযিল হল?? সে (স্বালিহ) তো মিথ্যাবাদী ও অভিনয়কারী” [11:62]।
আল্লাহ স্বালিহ (আ) কে আশ্বাস দিলেন।
54:26 নং আয়াহ : (স্বালিহ’কে বলা হল) আগামীকালই তারা জানতে পারবে- কে মিথ্যাবাদী এবং কে অভিনয়কারী!!
সামূদ জাতির কাছে উটনি পাঠানো হল।
54:27 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমরা তাদের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ পাঠাবো এক উটনি [11:64]। এতএব আপনি তাদের প্রতি লক্ষ্য রাখুন এবং ধৈর্য্য ধরুন।
উটনিকে পান পান করানোর বিধান জারি করা হয়েছিল।
54:28 নং আয়াহ : (হে স্বালিহ) তাদেরকে জানিয়ে দিন যে, পানি পান করানোর জন্য তাদের মধ্যে পালা করে দেওয়া হয়েছে। সবাই যেন পালাক্রমে উপস্থিত হয়।
সামূদ জাতি উটনিকে হত্যা করলো।
54:29 নং আয়াহ : অতঃপর তারা তাদের এক সঙ্গীকে ডাকলো। সে উটনিকে ধরলো এবং হত্যা [11:65] করে ফেললো।
নাবী (সা) কে জিজ্ঞাসা করার মাধ্যমে কাফিরদেরকে ব্যঙ্গ করা।
54:30 নং আয়াহ : এতএব এখন (বলুন) কেমন ছিল (তাদের জন্য) আমার শাস্তি ও সতর্কবাণী??
সামূদ জাতি কিভাবে ধ্বংস হয়ে ছিল??
54:31 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমরা তাদের উপর প্রেরণ করলাম একটি মাত্র (গ্ৰহাণু পতনের) তীব্র ও বিকট আওয়াজ। ফলে তারা হয়ে গেল খোঁয়াড় প্রস্তুতকারীর খড়কুটোর [7:78, 11:67] মতো।
কুরআন বোঝা/ তা হতে জ্ঞান অর্জন করা খুবই সহজ।
54:32 নং আয়াহ : আর অবশ্যই আমরা এই কুরআনকে বোঝার জন্য/ জ্ঞান অর্জনের সহজ [2:185, 5:6] করে দিয়েছি। সুতরাং তা থেকে জ্ঞান অর্জন করার কেউ আছে কি??
লূত (আ) কে জাতি তার জাতি অস্বীকার করলো।
54:33 নং আয়াহ : লূতের জাতি সতর্তকারীদের অস্বীকার করেছিল।
# “কিন্তু লূতের জাতি তো সমস্ত সতর্তকারীদের অস্বীকার করে নি, শুধুমাত্র লূত (আ) কে অস্বীকার করেছিল। এটা কি ব্যাকারণগত ভুল নয়”?? প্রশ্নের উত্তর রয়েছে 73:15 এর টিকায়।
লূত (আ) এর জাতি কিভাবে ধ্বংস হয়েছিল??
54:34 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমরা তাদের উপর ঝোড়ো বাতাসের সঙ্গে গ্ৰহাণু বর্ষণ করেছি [7:84, 11:82]। তবে লূতের পরিবারকে [7:83, 15:60, 27:57, 29:32] আমরা রক্ষা করেছিলাম শেষ রাতে।
কৃতজ্ঞরাই নিয়ামত পেতে পারে।
54:35 নং আয়াহ : এভাবেই আমরা আমাদের পক্ষ হতে নিয়ামত প্রদান করি। তার প্রতি, যে কৃতজ্ঞ [14:7]। হয়।
54:36 নং আয়াহ : তবে অবশ্যই (এর পূর্বে) তিনি (লূত) তাদেরকে আমাদের ধরা ১ সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। কিন্তু তারা সতর্ক বাণী সম্পর্কে সন্দেহ করেছিল।
১ ‛ধরা’ বলতে- হাত দিয়ে ধরা নয়। এটা আরবি বাক রীতি। যার অর্থ- শাস্তি।
লূত (আ) এর জাতিকে কেন ধ্বংস করা হয়েছিল??
54:37 নং আয়াহ : এবং তারা (লূতের জাতি) তার কাছে তার পুরুষ মেহমানদের (সঙ্গে যৌনকর্ম করার জন্য দাবি) করলো [11:78-79, 29:33], তখন আমরা তাদের দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিলাম। (বলা হলো) এখন তোমরা উপভোগ করো আমার শাস্তি ও সতর্ক বাণীর স্বাদ।
54:38 নং আয়াহ : আর তাদের উপর বিরামহীন ভাবে শাস্তি আপতিত হল [11:82, 7:84] শেষ রাতে।
আল্লাহ লূত (আ) এর জাতিকে ব্যঙ্গ করলেন।
54:39 নং আয়াহ : (বলা হলো) এখন তোমরা উপভোগ করো আমার শাস্তি ও সতর্ক বাণীর স্বাদ নাও।
কুরআন বোঝা/ তা হতে জ্ঞান অর্জন করা খুবই সহজ।
54:40 নং আয়াহ : আর অবশ্যই আমরা এই কুরআনকে বোঝার জন্য/ জ্ঞান অর্জনের সহজ [2:185, 5:6] করে দিয়েছি। সুতরাং তা থেকে জ্ঞান অর্জন করার কেউ আছে কি??
মূসা ও হারূন (আ) কে পাঠানো হয়েছিল।
54:41 নং আয়াহ : অবশ্যই ফিরআউনের সম্প্রদায়ের কাছে সতর্ককারীরা [20:43] এসেছিল।
ফিরআউন সমস্ত নিদর্শন অস্বীকার করেছিল।
54:42 নং আয়াহ : তারা আমাদের সমস্ত নিদর্শন [17:101] গুলোকে অস্বীকার করেছিল। এ জন্য তাদেরকে ধরলাম। তাকে ধরার জন্য আমরা শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান ছিলাম।
# ‛ধরলাম’ বলতে- হাত দিয়ে ধরা নয়। এটা আরবি বাক রীতি। যার অর্থ- শাস্তি দিলাম।
আল্লাহ সেই সময়ের মাক্কাহর কাফিরদেরকে প্রশ্ন করলেন??
54:43 নং আয়াহ : তোমাদের সময়ের কাফিররা কি তাদের (পূর্বের ধ্বংস হওয়া জাতিদের) চেয়ে শক্তিশালী?? নাকি তোমাদের জন্য ক্ষমার [2:80, 2:94, 3:24] প্রতিশ্রুতি আছে পূর্বের কিতাব সমূহে??
আল্লাহ তাদেরকে ব্যঙ্গ করে নাবী (সা) কে প্রশ্ন করছেন।
54:44 নং আয়াহ : নাকি তারা বলে- “আমরা সংঙ্ঘবদ্ধ বিজয়ী দল” [41:15]??
মাক্কা বিজয়ের ভবিষ্যৎ বাণী।
54:45 নং আয়াহ : খুব শীঘ্রই এই সংঙ্ঘবদ্ধ দলটি পরাজিত [61:13, 90:2] হবে এবং মুখ লুকাবে [72:24]।
বোঝা পড়ার জন্য উত্তম জায়গা হল- বিচার দিবস।
54:46 নং আয়াহ : বরং তাদের সঙ্গে বোঝা পড়ার উত্তম সময় হল- বিচার দিবস। আর বিচার দিবস [25:26] হল- খুবই ভয়াবহ ও তিক্ততায় ভরা [54:48]।
54:47 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই অপরাধীরা ভ্রষ্টতা ও মানসিক রোগাক্রান্ত/ পাগলামির মধ্যে।
বিচার দিবসে কাফিরদের পরিণতি।
54:48 নং আয়াহ : সেদিন আগুন (জাহান্নাম) তাদের মুখ গুলোকে [26:94] টেনে নিতে চাইবে। (বিচার দিবসে তাদেরকে বলা হবে [17:97] আপাতত) সাকার/ একত্রিত ভূমির [74:26, 74:42] স্বাদ গ্রহণ করো।
সমস্ত বিষয়/ বস্তু নিদিষ্ট ও নির্ধারিতপরিমাপে সৃষ্ট।
54:49 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমরা সমস্ত বিষয়/ বস্তু নিদিষ্ট ও নির্ধারিত পরিমাপে সৃষ্টি করেছি।
ভিন্ন অনুবাদ : নিশ্চয়ই আমরা সমস্ত পদার্থকে নিদিষ্ট আইন/ গুনাগুন [25:2, 7:54] সহ সৃষ্টি করেছি।
আল্লাহর নির্দেশ প্রায় শূন্য সময়ে কাজ শুরু করে।
54:50 নং আয়াহ : আর আমাদের নির্দেশ তো ‛সময় না লাগার মতো সময়ে’ সম্পন্ন [2:117] হয়।
54:51 নং আয়াহ : অবশ্যই আমরা তোমাদের মতো বহু দলকে [54:45) ধ্বংস করেছি। এতএব এ থেকে শিক্ষা নেওয়ার কেউ আছে কি??
উম্মুল কিতাবে ছোট ও বড় সমস্ত কিছুই পূর্ব লিখিত রয়েছে।
54:52 নং আয়াহ : তারা যে সমস্ত (ইসলাম বিরোধী) কর্ম করছে, তা পূর্বেই কিতাবে [34:3, 57:22] লিখিত রয়েছে।
54:53 নং আয়াহ : আর তাতে ছোট ও বড় সমস্ত কিছুই লিপিবদ্ধ [22:70, 27:75] রয়েছে।
মুত্তাকীরা কোথায় থাকবে??
54:54 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই মুত্তাকী (অপকর্ম থেকে দুরত্ব অবলম্বন কারী) রা থাকবে জান্নাত সমূহে, যা নদদনীতে [47:15] পরিপূর্ণ।
যোগ্যতার ভিত্তিতে জান্নাত পাওয়া যাবে।
54:55 নং আয়াহ : তাতে স্থান হবে যোগ্যতা (আমল) অনুযায়ি। তাদের স্থান হবে সমস্ত কিছুর মালিক ও সমস্ত কিছুর উপর ক্ষমতাবানের কাছে।