আল্লাহর মতো কোনও কিছুই নেই।
42:11 নং আয়াহ : তিনিই মহাবিশ্ব ও পৃথিবীকে উপযোগী করেছেন। তিনিই তোমাদের জন্য তোমাদের নিজেদের মধ্য হতে সঙ্গী/ সঙ্গীনি সৃষ্টি করেছেন। গৃহপালিত পশুদের সৃষ্টি করেছেন নারী পুরুষে। আর এভাবেই তোমাদের বংশের বিস্তার হয়। তার মতো কোনও কিছুই নেই [112:4, 6:103]। আর তিনি সমস্ত কিছুই শোনেন ও সমস্ত কিছুই দেখেন।
# কিন্তু আল্লাহর মতো কোনও কিছু নেই কেন?? কারণ তিনি সৃষ্টি/ সৃষ্ট নন। যেমন ধরুন- আমি মানুষ, আমি সৃষ্টি হয়েছি/ সৃষ্ট। আমি অনেকটা শিম্পাঞ্জি ও গোরিলার মতো। সামান্য একটু বানর ও হনুমানের মতোও। তাই না?? কারণ আমরা সৃষ্টি হয়েছি/ সৃষ্ট। গরু মহিষের মতো, মহিষ গরুর মতো। তাই না?? কারণ উভয়েই সৃষ্টি হয়েছে/ সৃষ্ট। অন্যদিকে আল্লাহ তো সৃষ্টি হন নি/ তিনি সৃষ্ট নন, তাই তিনি কোনও কিছুর মতো নন। যদি তিনি সৃষ্টি হতেন, তাহলে তিনিও কোনও কিছুর মতো হতেন।
# আল্লাহ সৃষ্টি নন/ সৃষ্ট নন। তিনি অসৃষ্টি/ অসৃষ্ট। আমরা মহাবিশ্বে যা কিছু দেখি, তা মহাবিশ্বের 5% মাত্র। আর যা কিছু দেখি না, তা হল মহাবিশ্বের 95% মতো। যেমন ডার্ক ম্যটার ও ডার্ক এনার্জি। আর এই যা দেখি ও দেখি না, তা সবই সৃষ্টি/ সৃষ্ট। সুতরাং বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এর বিপরীত কিছু থাকা প্রয়োজন। আর তিনিই হলেন আল্লাহ।
বুঝতে পারেন নি হয়ত। ইলেকট্রনের বিপরীত কণা পজিট্রন রয়েছে। প্রোটনের বিপরীতে এন্টি প্রোটন রয়েছে। ম্যাটারের বিপরীতে এন্টি ম্যাটার রয়েছে। ইউনিভার্সের বিপরীতে এন্টি ইউনিভার্স রয়েছে। তার মানে সৃষ্টির বিপরীতে কোনও কিছু থাকাটা জরুরি। আর তিনিই আল্লাহ, তিনি অসৃষ্টি/ অসৃষ্ট। আর যেহেতু তিনি অসৃষ্টি/ অসৃষ্ট, তাই তিনি কোনও কিছুর মতো নন। বিস্তারিত 16:20 আয়াহ ও তার টিকা দেখুন।
# প্রশ্ন হবে- আল্লাহকে দেখতে পাই না কেন?? যিনি অসৃষ্টি/ অসৃষ্ট, যিনি সৃষ্টি/ সৃষ্ট নন, তাকে দেখবেন কিভাবে?? যদি তিনি সৃষ্টি/ সৃষ্ট না হতেন, তাহলে তাকে অবশ্যই দেখতে পেতেন। এই জন্যই 6:103 এ বলা হয়েছে- “কোনও দৃষ্টিই তাকে ছুঁতে পারে না”।