বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 5 টি।
হস্তি বাহিনীর উদাহরণ।
105:1 নং আয়াহ : আপনি কি দেখেন নি ১ যে, আপনার প্রভু ‛হস্তি বাহিনীর’ সঙ্গে কেমন ২ ব্যবহার করেছিলেন??
১ এটা আরবি বাক রীতি। যার অর্থ- আপনি কি জানেন না?? এখানে ‛দেখেন নি’ বলতে চোখ দিয়ে দেখা নয়।
২ এখানে আল্লাহ হস্তি বাহিনীর উদাহরণ এনেছেন কেন?? বিস্তারিত জানতে দেখুন 105:5 আয়াহ ও তার টিকা দেখুন।
আল্লাহ যড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেন।
105:2 নং আয়াহ : তিনি কি তাদের ষড়যন্ত্রকে [3:54, 52:42] ব্যর্থ করে দেন নি??
কাবা রক্ষায় ফেরেস্তারা ঝাঁকে ঝাঁকে এসেছিল।
105:3 নং আয়াহ : আর তিনি তাদের ওপর পাঠিয়েছিলেন ঝাঁকে ঝাঁকে ১ উড়ন্ত বস্তু/ ফেরেস্তা ২।
১ অনেকেই মনে করেন- ‘আবাবীল’ এক ধরণের পাখি। কিন্তু তা সত্য নয়। আববীল কথার অর্থ হল- ঝাঁকে ঝাঁকে/ ঝাঁকের পর ঝাঁক।
২ ‛ত্বাইর’ এর সাধারণ অর্থ- পাখি। তবে যে কোনও উড়ন্ত বস্তুই ত্বাইর। এ জন্য এরপ্লেনকেও ত্বাইর বলা হয়। আমরা ত্বাইর অর্থ ফেরেস্তা করেছি। কারণ ফেরেস্তাও উড়তে পারে (35:1)।
ফেরেস্তাদের দ্বারা জ্বলন্ত উল্কাপিন্ড নিক্ষেপ।
105:4 নং আয়াহ : (তারা) তাদের উপর পাথর/ গ্ৰহাণুর সমূহকে [17:68, 67:17] জ্বলন্ত উল্কাপিন্ড ১ হিসাবে নিক্ষেপ করেছিল [6:61, 66:6]।
১ আকারে খুব বড় ছিল না, ছিল কাঁকরের মতো। শরীরের যেখানে স্পর্শ হচ্ছিল, সেখান থেকে মাংস খসে পড়ে যাচ্ছিল। আর জ্বলন্ত উল্কাপিন্ড শরীর স্পর্শ করলে সেটাই হওয়ার কথা।
হস্তি বাহিনীর পরিণতি।
105:5 নং আয়াহ : অতঃপর তিনি তাদের (হস্তি বাহিনীর) অবস্থা করে দেন পশুর চিবান ঘাসের ১ মতো।
১ অর্থাৎ পশু ঘাস চিবিয়ে ফেললে যেমন দেখায়, তাদের শরীর থেকে মাংস খসে যাওয়ার পর ঠিক তেমন দেখাচ্ছিল।
# প্রশ্ন হবে- হস্তি বাহিনী কেন কাবা আক্রমণ করেছিল?? চলুন, বিস্তারিত বলি- আসলে নাবী (সা) মক্কায় যখন ইসলাম প্রচার শুরু করেন, তখন থেকেই বিভিন্ন সমস্যায় জড়িয়ে যেতে থাকেন। এমনকি মাঝে মধ্যে নাবী (সা) এর মনোবল ভেঙে যেত এবং তিনি নিরাপত্তা হীনতায় ভুগতেন। এ সম্পর্কে আমরা বেশ কিছু সূরাতে আলোচনা করেছি, যেমন- 108:3 নং আয়াহর টিকায়। এও দেখিয়েছি যে, আল্লাহ ঐ সমস্ত সূরা’তে নাবী (সা) কে বিভিন্ন ভাবে সান্ত্বনা দিয়েছেন, মোটিভেট করতেন, প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ও পথ দেখিয়েছেন। তার মধ্যে এই সূরাহটিও অন্যতম। যেখানে আল্লাহ নাবী (সা) হস্তি বাহিনীর প্রসঙ্গ তুলে সান্ত্বনা দিচ্ছেন যে, যেভাবে আল্লাহ কাবা ঘরকে রক্ষা করেছেন হস্তি বাহিনীকে ধ্বংস করে, ঠিক তেমনই আল্লাহ নাবী (সা) কেও রক্ষা করতে পারেন নাবী (সা) এর শত্রুদের ধ্বংস করে। যেভাবে হস্তি বাহিনীর ষড়যন্ত্রকে ব্যর্থ করে দিয়েছেন (105:2), ঠিক সেভাবেই আল্লাহ নাবী (সা) এর শত্রুদের ষড়যন্ত্রকে ব্যর্থ করে দিতে পারেন। আর শুধুমাত্র পারেন নয়, করেও ছিলেন। যা বলা হয়েছে 47:1 এ।
# এখন প্রশ্ন হবে- ‛হস্তি বাহিনী’ বলতে কাদেরকে বোঝান হয়েছে?? উত্তর আমরা প্রায় সকলেই জানি। হাবশার সম্রাটের পক্ষ থেকে ইয়ামেনে আবরাহা গর্ভনর নিযুক্ত ছিল। সে ‛সানা’তে একটি খুব বড় গির্জা নির্মাণ করাল। আর চেষ্টা করল, যাতে লোকেরা কাবা ঘর ত্যাগ করে ইবাদত ও হাজ-উমরাহর জন্য এখানে আসে। কারণ, কাবা ছিল ধার্মিক পর্যটনের কেন্দ্র। যা থেকে মক্কার অধিবাসীরা মোটা অংকের অর্থ উপার্জন করত (106:4 আয়াহ ও তার টিকা দেখুন)। সে এই ধার্মিক পর্যটনকে তার দেশে সিফ্ট করতে চাইছিল। কিন্তু মাক্কাবাসী তথা অন্যান্য আরব গোত্রের জন্য তা অপছন্দনীয় ছিল। অতএব তাদের মধ্যে একজন আবরাহার নির্মাণকৃত উপাসনালয়ে পায়খানা করে নোংরা করে দিল। আমরা সূরাহ কুরাইশ থেকে জেনেছি যে, কুরাইশরা ইয়ামেনে ব্যাবসায়িক সফর করত। যাইহোক, পায়খানা করার খবর আবরাহার নিকট পৌঁছায়। যার প্রতিক্রিয়ায় সে কাবা ঘরকে ধ্বংস করার দৃঢ়সংকল্প করে নিল। সে বহু সংখ্যক সৈন্যসহ মাক্কা আক্রমণ করার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করল। কিছু হাতীও তাদের সাথে ছিল। মাক্কার নিকট পৌঁছে সৈন্যরা মাক্কার নেতা নাবী (সা) এর দাদুর উটগুলি দখল করে নিল। এ ব্যাপারে আব্দুল মুত্তালিব আবরাহাকে বললেন-“আমার উটসমূহকে ফিরিয়ে দিন, যা আপনার সৈন্যরা ধরে রেখেছে”। তখন আবরাহা বলল- “এখন আমরা তোমাদের কাবা ধ্বংস করতে এসেছি, আর তুমি শুধুমাত্র উট ছেড়ে দেওয়ার দাবী করছ”?? তিনি বললেন- “উটগুলি আমার। তাই আমি সেগুলি রক্ষা করতে চাই। আর বাকী থাকল কাবা ঘরের ব্যাপার, যাকে আপনি ধ্বংস করতে এসেছেন, সেটা হল আপনার ও আল্লাহর ব্যাপার। কাবা আল্লাহর ঘর। তিনিই হলেন তার রক্ষাকারী”। অতঃপর যখন এই সৈন্যদল (মিনার কাছে) ‘মুহাসসার’ উপত্যকার নিকট পৌঁছাল, তখন আল্লাহ ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ন্ত বস্তু/ ফেরেস্তা পাঠালেন। তার পরবর্তী তথ্য 105:4-5 এ রয়েছে। এভাবেই আল্লাহ কাবা ঘরকে রক্ষা করেন, যা 106:4 এ বলা হয়েছে।