৩৫ নং সূরাহ | সূরাহ ফাত্বির | Surah no 35 | Surah Fatir |

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। 

অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।

নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 45 টি।

সিঙ্গুলারিটি থেকে বিকশিত বর্তমানের মহাবিশ্বে।

35:1 নং আয়াহ : সর্বোচ্চ হামদ/ মহিমা কীর্তন আল্লাহর জন্য, যিনি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আকৃতি (সিঙ্গুলারিটি) হতে মহাবিশ্ব‌কে [2:117, 51:47] বিকশিত [81:15-16] করেছেন। তিনিই মালাইকা/ ফেরেস্তাদের‌কে মনোনীত করেছেন রাসূল/ বাণী বাহক (১) হিসাবে [22:75], যারা ডানা বিশিষ্ট। দুটি, তিনটি ও চারটি ডানা বিশিষ্ট। তিনি তাঁর সৃষ্টি‌তে যা চান, তা বৃদ্ধি (২) করে থাকেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত কিছুর উপর ক্ষমতাবান।

১) “ফেরেস্তাগণকে সৃষ্টি করা হয়েছে আলো দ্বারা” (মুসলিম, হাদীশ 2996)। এর বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব?? ইসলামের সঙ্গে অন্য প্রচলিত ধর্ম গুলোর পার্থক্য হল- “ইসলামের প্রতিটা দাবি, নীতি ও নির্দেশনা‌কে যুক্তি ও বিজ্ঞান দ্বারা ব‍্যাখ‍্যা করা যায়”। যেমন ফেরেস্তা‌গণের সৃষ্টি হয়েছিল কবে?? বিগ ব‍্যাঙের ঠিক পর মূহুর্তে যখন ‛ফোটন কণা’ অস্তিত্বে আসে, তখন‌ই। পরের প্রশ্ন- ফেরেস্তা সৃষ্টির ব‍্যাখ‍্যা কি এবং আলো দ্বারা সৃষ্টি করা ও তা দ্বারা তথ্য প্রদান করা কি সম্ভব??

সম্ভব। আমরা নিজেরাও এটা ক‍রতে পারব। পারব নয়, ফেরেস্তা আমরাও তৈরি করে ফেলেছি। শুধুমাত্র মূর্খ‌তার (10:39) জন্য নাস্তিক ইসলাম বিদ্বেষী ভাইগণ তা বুঝতে পারেন নি। রিমোট কিভাবে কাজ করে, তা জানলে ও বুঝলেই ফেরেস্তা‌দের বিষয়টি বোধগম্য হয়ে উঠবে।

আপনার টিভির রিমোটটা হাতে নিন, দেখতে পাবেন যে, রিমোটের সামনের অংশে একটা ছোট্ট বাল্ব আছে। দেখেছেন?? ঐ বাল্বটাকে নিজের মোবাইলের ক‍্যামেরার দিকে রেখে যে কোনও একটি সুইচে চাপ দিন। দেখতে পাবেন- রিমোটের ঐ ছোট্ট বাল্বটা দিয়ে আলোর ঝলক বের হচ্ছে। ওটা Infra ray, তাই খালি চোখে দেখা যায় না। কিন্তু ক‍্যামেরা তা ধরতে পারে।

মানে কি?? মানে হল- আমরা টিভির রিমোটের আলো দ্বারা টিভিকে নির্দেশ দিই, টিভি সেই অনুযায়ি কাজ করে। মানে, আলো তথ্য বহন করতে পারে। বুঝলেন?? এবার টিভির জায়গায় নাবী (সা) কে, রিমোটের জায়গায় জিবরীল (আ) কে, নিজের জায়গায় আল্লাহ‌কে বসিয়ে দিন। দেখতে পাবেন- আল্লাহ ফেরেস্তাদের দ্বারা কিভাবে কাজ করিয়ে নেন।

২) হাদীশ অস্বীকার‌কারীরা শুধু এতটুকু উদ্ধৃতি করেন- “যারা ডানা বিশিষ্ট। দুটি, তিনটি ও চারটি ডানা বিশিষ্ট”। তারপর বলেন- “জিবরীলের 600 টি ডানা, এসব মিথ্যা গল্প কাহিনী”। অথচ পরের আয়াতাংশে পরিষ্কার করে বলা হয়েছে- “তিনি তাঁর সৃষ্টি‌তে যা চান, তা বৃদ্ধি করে থাকেন”। ডানার সংখ্যা 4 এর অধিক হবে, তার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে এখানে। যাইহোক, ডানা সম্পর্কে বুখারীর 3234 ও 4856-4857 দেখে আসতে পারেন।

# গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- ফেরেস্তাদের ডানা’র কাজ কি?? তারা কি উড়ার জন্য ডানা ব‍্যবহার করে?? যদি উত্তর হ‍্যাঁ হয়, তাহলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরে ফেরেস্তা‌রা কিভাবে উড়ত?? ডানা থাকলেই উড়তে হবে, এটা মূর্খ মানুষদের কল্পনা। কমপক্ষে 10 ধরণের পাখির 109-150 প্রজাতি রয়েছে, যারা উড়তে পারে না। সবচেয়ে পরিচিত নাম নাম হল- পেঙ্গুইন ও উটপাখি। বাকিটা জানতে গুগল করে নিন। প্রশ্ন- তাহলে আল্লাহ ফেরেস্তাদের ডানা দিয়েছেন কেন?? হয়ত সৌন্দর্য্যের জন্য, আল্লাহ ভাল জানেন। বলা হয়েছে- “আল্লাহ সৌন্দর্য্য‌পূর্ণ, তিনি সুন্দর কর্মকাণ্ড ভালবাসেন” (মুসলিম, হাদীশ 91 এর 1)।

ওহী প্রেরণ বা বন্ধ করার কেউ নেই, ছিল না।

35:2 নং আয়াহ : আল্লাহ মানবজাতির জন্য তাঁর রহমত/ অনুগ্রহ (ওহী/ কুরআন) শুরু করেছেন, সুতরাং তার প্রতিরোধ‌কারী কেউ নেই। আর যদি তিনি বন্ধ করে দেন, তাহলে তাঁর পরে তা (ওহী) প্রেরণকারী (১) কেউ নেই। কেননা, তিনি মহা শক্তিশালী, মহা বিজ্ঞানী।

১) আসলে নাবী (সা) এর কাছে বেশ কিছুদিন যাবত ওহী আসা বন্ধ হয়ে যায়। এজন্য নাবী (সা) কে অনেকেই ব‍্যঙ্গ বিদ্রুপ শুরু করেন। আয়াহটি সেই পেক্ষিতে, বিস্তারিত জানতে 93:3 এ যান। যান, সুন্দর একটি বিষয় আপনার জন্য ওখানে অপেক্ষা করছে। আর শিখতে পারবেন বহু কিছু।

মহাবিশ্ব/ মহাশূন্য থেকে রোজগারের ভবিষ্যৎ বাণী।

35:3 নং আয়াহ : হে সম্মানিত মানবজাতি, স্মরণ কর আল্লাহর নিয়ামত/ অনুগ্রহ, যা তিনি তোমাদের উপর করে রেখেছেন। আল্লাহ ছাড়া আর কোনও সৃষ্টি‌কর্তা আছে কি, যে সামায়া (মহাবিশ্ব/ মহাশূন্য) হতে ও আরদ্ব (গ্ৰহ/ উপগ্রহ) হতে তোমাদের‌কে রিযিক [51:48] দেয়/ দেবে [51:22]?? তিনি ছাড়া কোনও ইলাহা (ঈশ্বর/ উপাস্য) নেই। তাহলে কিভাবে তাদেরকে (সাধারণ মূর্তি পূজক’কে) বিভ্রান্ত করে (সত্য হতে) দূরে নিয়ে [10:34, 40:62] যাওয়া হচ্ছে??

রাসূলগণ‌ মিথ‍্যাবাদী ও অস্বীকারের শিকার হয়েছিল।

35:4 নং আয়াহ : আর তারা যদি আপনাকে মিথ‍্যাবাদী বলে/ অস্বীকার করে, তাহলে (জেনে রাখুন) আপনার পূর্বে‌র রাসূলদের‌কে মিথ‍্যাবাদী বলেছিল/ অস্বীকার করেছিল [40:24, 38:4]। (জেনে রাখুন) সমস্ত বিষয় আল্লাহর দিকেই [84:1-5] ফিরে যাবে [69:16-17]।

ইসলাম বিদ্বেষী হতে সাবধান থাকার নির্দেশ।

35:5 নং আয়াহ : হে সম্মানিত মানবজাতি, নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা/ প্রতিশ্রুতি মহা সত্য [4:120, 21:104]। সুতরাং ইহজীবনে ধোকা/ মায়ায় পড়ে থেক না [6:32, 57:20]। আর না আল্লাহ সম্পর্কে [82:6] তোমাদেরকে ধোকায় ফেলতে পারে কোনও (ইসলাম) বিদ্বেষী [31:33, 57:14]।

শাইত্বান কেন ডাকে??

35:6 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই শাইত্বান তোমাদের জন্য শত্রু। সুতরাং তাকে শত্রু [4:120] হিসাবে‌ই দেখ [7:22, 20:117]। মূলত সে ডাকে [14:22, 17:64] তার দলকে (১), যেন জলন্ত আগুনের অধিবাসী হয় [15:39-43, 38:85]।

১) কে তার দল?? মানুষ ও জিনদের একটা অংশ। প্রশ্ন হবে- মানুষ‌ও কি শাইত্বান হতে পারে?? হ‍্যাঁ, মানুষ‌ও শাইত্বান হতে পারে। বিশ্বাস হচ্ছে না?? যান, 6:112 দেখে আসুন, বিশ্বাস হয়ে যাবে।

যাদের জন্য ক্ষমা ও মহা প্রতিদান।

35:7 নং আয়াহ : যারা সত্য অস্বীকার করে, তাদের জন্য থাকবে কঠিন আযাব/ শাস্তি। আর যারা আমানূ/ সত্য স্বীকার‌কারী ও আমলে স্বলিহা/ সৎকর্মাকারী, তাদের জন্য থাকবে মাগফিরাত/ ক্ষমা ও আজরুন কাবীর/ মহা প্রতিদান [11:11, 17:9]।

অমুসলিম‌রা তাদের ‛খারাপ’ কাজকে ‛উত্তম’ মনে করে।

35:8 নং আয়াহ : তবে সে কিভাবে (পথ পেতে পারে), যাকে তার খারাপ/ নোংরা কর্ম‌কে [6:132, 16:63] ভাল করে দেখান [13:33, 27:24] হয় এবং সে ‛তা উত্তম’ (১) হিসাবে দেখে [18:104]?? এত‌এব নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে চান, তাকে পথভ্রষ্ট ক‍রতে পারেন [2:26], আবার যাকে চান, তাকে পথ দেখাতেও পারেন [13:27, 42:17]। সুতরাং তাদের জন্য [5:41, 16:127] হাসারাত (আফসোস/ আক্ষেপ) করে আপনার নাফস/জীবন বিসর্জন না [18:6, 26:3-4]  ঘটে! নিশ্চয়ই আল্লাহ জানেন সেই সম্পর্কে, যা (মূর্তি/ বিধান) তারা বানাচ্ছে/ বানিয়েছে।

১) এর‌ মতো একটি বক্তব্য রয়েছে 27:4 এ। যেখানে বলা হয়েছে- “আল্লাহ নিজে তাদের খারাপ কাজকে ভাল হিসাবে দেখান”। তবে কিন্তু বক্তব্য‌টি অসম্পূর্ণ, এর সঙ্গে 19:83 ও 41:25 আয়াত দুটি মিলিয়ে পড়লে বক্তব্য‌টি সম্পূর্ণ হবে।

বাতাস‌ই মূলত ‛জলীয়বাষ্প’কে তুলে নিয়ে আসে।

35:9 নং আয়াহ : আল্লাহ (তিনিই), যিনি বাতাস পাঠান। অতঃপর তা (বাতাস) ‘তুলে’ নিয়ে আসে জলীয়‌বাষ্পকে। অতঃপর তা (জলীয়বাষ্প) আমরা নিয়ে যাই সম্প্রতি মৃত ভূখণ্ডের [32:27] দিকে। এভাবেই আমরা তা (জলীয়বাষ্প) দ্বারা ভূমিকে জীবিত করি তার মৃত্যু‌র পর। আর [69:16-27] এভাবেই (মৃত্যুর পর তোমাদের‌কে) তোলা হবে [84:1-5]।

সমস্ত ধরণের ‛মান ও সম্মান’ আল্লাহর জন্য।

35:10 নং আয়াহ : যে ইজ্জত/ সম্মান চায়, (সে জেনে রাখুক) সমস্ত ইজ্জত/ সম্মান আল্লাহর [3:26, 4:139] জন্য [1:1, 34:1]। কালিমুত্ব ত্বাই’ইব/ ভাল কথা [17:53} ও আমলে স্বলেহা/ সৎকর্ম তার দিকেই উঠে (১) যায় [36:12, 82:5]। তবে যারা নোংরা ষড়যন্ত্রে [16:127, 27:70] লিপ্ত, তাদের জন্য থাকবে কঠিন আযাব/ শাস্তি। আর তাদের ষড়যন্ত্র ব‍্যর্থ হবে [7:99, 52:42]।

১) খারাপ কথা ও খারাপ কাজ‌ও পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে লিখে রাখা হয় [50:16-18, 82:10-12]। কিন্তু ভাল কথা ও কাজের বৈশিষ্ট্য হল- তা সরাসরি আল্লাহর দিকে উঠে যায়। এর মানে, ফেরেস্তা‌গণ নোট তো করেই, তা আল্লাহ নিজেও নোট করেন।

প্রথমবার ‛DNA সেট’ যখন তৈরি হয়।

35:11 নং আয়াহ : আল্লাহ‌ই তোমাদের‌কে সৃষ্টি করেছেন তুরাব/ গ্ৰহের উপাদান থেকে। তারপর সৃষ্টি করেছেন নুত্বফাহ/ শুক্রাণু [76:2] থেকে। তারপর তিনি অস্তিত্বে আনেন তোমাদের জাওযা/ DNA সেট (১)। আর কোনও নারী গর্ভধারণ করে না ও প্রসব করে [31:34, 13:8] না, যা আল্লাহর জানেন না [6:59, 34:3]। আর না কারোর আয়ু বাড়ান হয়, আর না কমান হয়- সব‌ই কিতাবে‌র অন্তর্ভুক্ত [6:38, 27:75]। নিশ্চয়ই আল্লাহ‌র জন্য তা খুবই সহজ [35:17, 64:7]।

১) মানে কি! মূলত নতুন জীবের ক্ষেত্রে শুক্রাণু ও ডিম্বাণু মিলনের ফলে জাইগোট গঠিত হওয়ার সময় প্রথম DNA কাঠামো তৈরি হয়। মানে, পিতা ও মাতার DNA এর সমন্বয়ে সম্পূর্ণ নতুন ও অনন্য একটি DNA সেট/ জোড়া তৈরি হয়।

পানি দু-ধরণের, তবে তাদের কাজ এক‌ই ধরণের।

35:12 নং আয়াহ : আর পানি দু ধরণের, এক রকম নয়। একটা সুমিষ্ট ও সহজ পেয় [55:19], অন‍্যটি লবনাক্ত ও বিস্বাদ যুক্ত [25:53, 55:20]। তবে উভয় পানি থেকেই তোমরা বের করে থাক তাজা মাংস (মাছ) ও অলংকার, যা তোমরা পরে থাক [16:14]। আর তোমরা দেখ- পানি বিদীর্ণ করে জলযান গুলো তার মধ্যে চলছে। যেন তোমরা খোঁজ করতে তার দয়া/ অনুগ্রহ (রোজগার) এবং যেন তাঁর শুকর/ কৃতজ্ঞ হ‌ও।

মহাবিশ্বের সমস্ত ধরণের ‛শক্তির উৎস’ আল্লাহ।

35:13 নং আয়াহ : তিনি রাতকে দিনের সীমায় ঠেকিয়ে রেখেছেন এবং দিনকে ঠেকিয়ে রেখেছেন রাতের সীমায় [39:5, 21:33]। নিয়ন্ত্রণাধীন রেখেছেন সূর্য ও চন্দ্রকে [14:33, 16:12]। প্রত‍্যেকটা বস্তু‌ই নিজ নিজ কক্ষপথে ঘুরতে থাকবে নিদিষ্টকাল পর্যন্ত [21:33, 36:40]। সেই আল্লাহ‌ই তোমাদের রব (প্রভু/ প্রতিপালক)। শক্তির উৎস তিনিই [18:39, 51:58]। তাঁকে বাদ দিয়ে যাদেরকে [7:194, 18:102] ডেকে থাক, তারা খেঁজুরের আঁটির উপর থাকা ‛সাদা পর্দার‌ও’ মালিক নয় [34:22, 35:40]]।

বিচার দিবসে মিথ্যা ঈশ্বর‌গণ ‛ইবাদত’ অস্বীকার করবে।

35:14 নং আয়াহ : যদি তাদের ডাকা হয়, তাহলে তারা শুনতে পায় না। শুনলেও তারা তোমাদের ডাকে সাড়া দিতে পারে না। কিয়ামতের দিন তারা [25:17-18] তোমাদের শরিক করাকে অস্বীকার (১) করবে [16:86, 19:82]। সমস্ত বিষয়ের জ্ঞানী (আল্লাহর) মতো কেউ আপনাকে তথ্য দিতে পারবে না।

১) আবার কুরআনে ঠিক এর বিপরীত তথ‍্য‌ও রয়েছে যে, যেখানে উপাসক নিজেই তার মিথ্যা ঈশ্বর‌কে অস্বীকার করে দেবে। একবার যান 30:13 তে। 41:29 এ বলা হয়েছে- এমনকি তাদের মিথ্যা ঈশ্বর‌কে তারা মারধোর করতে চাইবে। 37:22-23 এ বলা হয়েছে- মিথ্যা ঈশ্বর ও তাদের উপাসক উভয়ে জাহান্নামে যাবে।

আল্লাহ কি কোনও কিছুর অভাব রয়েছে??

35:15 নং আয়াহ : হে সত্য স্বীকার করা সম্মানিত মানুষজন, তোমরা (টিকে থাকার জন্য) আল্লাহর মুখাপেক্ষী। আল্লাহ (টিকে থাকার জন্য) অভাব মুক্ত [2:255, 6:14] ও মহা প্রশংসিত [47:38, 112:2]।

অন‍্যান‍্য গ্ৰহে মানুষের মতো সৃষ্টি রয়েছে।

35:16 নং আয়াহ : তিনি চাইলে করলে তোমাদের স্থলে (অন্য গ্ৰহের) অজানা সৃষ্টি‌কে [5:18, 76:28] নিয়ে আসতে পারেন [42:29, 65:12]।

35:17 নং আয়াহ : আর ওটা আল্লাহর জন্য মোটেও কঠিন কোনও বিষয় নয় [35:11, 64:7]।

# তবে আপনি একবার 34:9 এ যান। ওখানে আপনাকে অবাক করার মতো কিছু অপেক্ষা করছে। তাই যাওয়ার অনুরোধ থাকল।

কেউ কারোর বোঝা বহন করবে না।

35:18 নং আয়াহ : কোনও বোঝা বহনকারী অন‍্যের বোঝা বহন [52:21, 78:38] করবে না [6:164, 53:38। কোনও ভারাক্রান্ত ব‍্যক্তি যদি কাউকে ডাকে (বোঝা বহনের জন্য), তবুও তার বোঝার সামান্য‌টুকু বহন করবে না। যদিও হয় সে নিকট [70:10-14] আত্মীয়/ কাছের মানুষ [80:34-37]। আপনি তাদেরকে সতর্ক করুন, যারা তাদের রব/ প্রভুকে না দেখে ভয় [55:98:8] করে [6:51, 79:44] ও স্বালাত/ আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা করে। আর যে নিজেকে পবিত্র করে/ করতে [87:14, 91:9] পারে, সে মূলত নিজের (চেষ্টার) জন‍্যেই [27:92, 39:41] করে/ করতে পারে [10:108, 17:15]। আর (শেষে) আল্লাহর দিকেই ফিরতে [69:16-17] হবে [84:1-5]।

অন্ধ ও দৃষ্টি সম্পন্নের মধ্যে পার্থক্য কি??

35:19 নং আয়াহ : আর সমান নয় অন্ধ [22:46] ও দৃষ্টি [13:19, 17:72] সম্পন্ন [11:24, 40:58]।

# আপনি‌ই বলুন পার্থক্য কি?? বলতে পারব, এখানে আর বলছি না। তাহলে কোথায় বলবেন?? 35:21 এর টিকায় বলেছি, দেখে আসুন।

বিগব‍্যাঙের আগে মহাশূন্যে ‛অন্ধকার ও শীতলতা’ ছিল। 

35:20 নং আয়াহ : আর না সমান [79:29] অন্ধকার ও আলো।

35:21 নং আয়াহ : সমান নয় শীতলতা ও তাপ।

# উক্ত 2 টি আয়াত দেখে সাধারণ মনে হলেও। মোটেও সাধারণ নয়, অসাধারণ। আসলে মহাশূন্যে অন্ধকার ছিল, তাতে ‛আলো’ সৃষ্টি করতে হয়েছিল। এই মহাশূন্যে শীতলতা ছিল, তাতে ‛তাপ’ সৃষ্টি করতে হয়েছে। এগুলো যে দেখতে পায় না, সে অন্ধ। যে পায়, সে দৃষ্টি সম্পন্ন। কিন্তু প্রশ্ন হবে- তাপ এল কোথায় থেকে?? উত্তর রয়েছে 51:47 এ। 

কবরবাসী শুনতে পায় না।

35:22 নং আয়াহ : আর না সমান জীব ও জড়‌। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা শোনাতে পারেন। কিন্তু আপনি শোনাতে [27:80, 46:5] পারবেন না তাদের‌কে, যারা কবরে (১) চলে গেছে [16:21, 30:52]।

১) তাহলে কবর যিয়ারতের দুয়ায় কেন কবরসাসীকে সালাম দেওয়া হয়?? সালাম দেওয়া মানে তো, তাদের জন্য দুয়া করা। এখানে তাদের শুনতে পাওয়ার মতো কোনও বিষয় নেই। তবে, বলে রাখতে চাইব- কবর যিয়ারতের একাধিক দুয়া রয়েছে, এর মধ্যে সবচেয়ে ছোট দুয়াটি উল্লেখ করছি, যা আমি নিজেও যিয়ারতে গিয়ে পড়ি।

তা হল- “আস সালামু আলাইকুম দারা কাউমিন মূমিনীন, ওয়া ইন্না ইন শায়া আল্লাহ বিকুম লাহিকুন”। যার অর্থ হবে এমন- “আপনাদের উপর আল্লাহর পক্ষ থেকে শান্তি বর্ষিত হোক হে কবরের অধিবাসী মূমীনগণ। আর ইন শায়া আল্লাহ, নিশ্চয়ই শীঘ্রই আমরা আপনাদের সঙ্গে মিলিত হব” (মুসলিম, হাদীশ 249 এর 2)। আবুদাউদের 3237 এ, আহমাদের 8878 এ, ইবনু হিব্বানের 1749 এও রয়েছে হাদীশটি।

যাইহোক, অনেকেই কবরস্থানে গিয়ে কুরআন/ কুরআন থেকে দুয়া পড়ে থাকেন। তা অনুচিৎ। নাবী (সা) কে আইশাহ (রা) যিয়ারতের দুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। নাবী (সা) দুয়া শিখিয়ে দেন। কিন্তু কুরআনের কোনও অংশ নয় (মুসলিম, হাদীশ 974 এর 2)। এছাড়াও সহীহ মুসলিমের 780 হাদীশ‌ও প্রমাণ করে, এমনকি 779 টিও প্রমাণ করে- কবরে কুরআন পাঠ নিষিদ্ধ।

নাবী (সা) ছিলেন একজন সতর্ক‌কারী।

35:23 নং আয়াহ : আপনি একজন নাযির/ সতর্তকারী ছাড়া [80:21-22] অন্য কিছু নন [46:9, 53:56]।

প্রত‍্যেক জাতি গোষ্ঠীতে সতর্ককারী গিয়েছিল।

35:24 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমরা আপনাকে প্রেরণ করেছি সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে [2:213]। এমন কোনও উম্মাত (জাতি/ গোষ্ঠী) গত হয় নি, যাদের কাছে নাযির/ সতর্ককারী যায় নি [10:47, 13:7]।

নাবী রাসূলগণ ‛একটি কিতাব’ নিয়ে আসেন নি।

35:25 নং আয়াহ : যদি তারা আপনাকে মিথ‍্যাবাদী বলে/ অস্বীকার করে, তবে অবশ্যই আপনার পূর্ববর্তীরাও (রাসূলদের‌কে) মিথ্যা‌বাদী বলেছিল/ অস্বীকার করেছি‌ল। তাদের কাছে এসেছিল তাদের রাসূলগণ বাইয়িনাত/ সুস্পষ্ট প্রমাণ সমূহ, যুবূর/ গ্ৰন্থমালা [40:70, 62:2] ও কিতাবিল মুনীর/ আলো প্রতিফলন‌কারী কিতাব [42:17, 57:25] সহ।

35:26 নং আয়াহ : তারপর আমি ধরেছি সত্য অস্বীকার কারীদের ধরেছি (১), অতঃপর (তোমরা দেখো) কেমন ছিল আমার প্রতিক্রিয়া [22:44, 34:45]।

১) ধরেছি বলতে, হাত দিয়ে ধরা নয়। এটা আরবি বাক রীতি, প্রবাদ। ধরেছি বলতে, শাস্তি দেওয়া।

35:27 নং আয়াহ : আপনি কি দেখেন নি যে, আল্লাহ সামায়া/ ট্রপোস্ফিয়ার থেকে বৃষ্টি নামিয়ে [56:59] আনেন?? অতঃপর তা দ্বারা আমরা বিভিন্ন রঙের ফলমূল উৎপন্ন করি। আর পাহাড় পর্বত সমূহের মধ্যে‌ও রয়েছে বিভিন্ন রঙের পথ/ ফল। যেমন, সাদা, লাল ও কুচকুচে কালো [30:22] ইত্যাদি।

মূলত জ্ঞানী‌রাই আল্লাহ‌কে ‛ভয়’ করে।

35:28 নং আয়াহ : এভাবেই মানুষের, জীবজন্তু ও গৃহ পালিত পশুদের মধ্যে বিভিন্ন ধরণের রঙের বৈচিত্র‌তা রয়েছে। তবে মূলত আল্লাহকে তাঁর ইবাদ/ বান্দাদের মধ্যে ভয় [5:83, 17:109] করে উলেমা/ জ্ঞানী‌রা [34:6, 58:11]। নিশ্চয়ই আল্লাহ শক্তিশালী ও ক্ষমাশীল।

যে ব‍্যাবসা‌য় লোকসান নেই, আবার বেশি লাভের গ‍্যারান্টি।।

35:29 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত/ পাঠ [29:45] করে, স্বালাওয়াত/ আল্লাহর বিধান সমূহ প্রতিষ্ঠা করে ও তাদেরকে রিযিক হিসাবে আমরা যা দিয়েছি [8:3, 22:35], তা হতে প্রকাশ‍্যে ও গোপনে দান [2:271-274] করে। তারাই এমন ব‍্যাবসার আশা করতে পারে, যাতে কখনও লোকসান [61:10] হবে না। 

35:30 নং আয়াহ : যেন (আল্লাহ) তাদেরকে পূর্ণমাত্রায় প্রতিদান দেন এবং নিজ ফাদ্বল/ অনুগ্রহে তিনি তাদেরকে আরও বেশি দেন [57:11, 64:17]। নিশ্চয়ই তিনি গাফূর/ ক্ষমাশীল ও শাকূর/ কর্ম স্বীকার‌কারী [35:34, 42:23]।

কুরআন পূর্ববর্তী সমস্ত কিতাব গুলোর সত‍্যায়ণকারী।

35:31 নং আয়াহ : যে কিতাব‌কে আপনার প্রতি ওহী হিসাবে [26:193-194, 53:3-10] পাঠিয়েছেন, তা সত্য [17:107, 34:6] এবং যা তার হাতে থাকা পূর্ববর্তী কিতাবের সত‍্যায়ণকারী [2:91, 2:97]। নিশ্চয়ই আল্লাহ তার ইবাদ/ বান্দাদের সম্পর্কে খাবীর ও বাস্বীর।

আল্লাহ মুসলিম‌দের মনোনীত করেছেন।

35:32 নং আয়াহ : তারপর আমরা তাদেরকে কিতাব টির উত্তরাধিকারী করেছি, যাদেরকে (মুসলিম‌দেরকে) আমরা আমাদের ইবাদ/ বান্দাদের মধ্যে মনোনীত করেছি। অতঃপর তাদের মধ্যে কেউ তার নিজের উপর জালিম/ অবিচারী [38:53], কেউ মধ‍্যমপন্থী ও কেউ কল‍্যাণ মূলক কাজ সমূহে এগিয়ে রয়েছে [3:110] আল্লাহর অনুমতিতে। এটাই ফাদ্বলুল কাবীর/ বিরাট অনুগ্রহ।

জান্নাতীরা সোনার গহনা ও রেশমের পোশাক পরবে।

35:33 নং আয়াহ : (পরকালে তাদের) বসবাসের জন্য থাকবে সুদীর্ঘকাল স্থায়ী জান্নাত, তারা তাতে প্রবেশ করবে। সেখানে তাদেরকে পরান হবে মনি মুক্তা খচিত সোনার বালা (১) এবং সেখানে তাদের পোষাক হবে রেশমের (২)।

(১) 76:21 এ বলা হয়েছে- “রূপার বালা পরান হবে”। যা দেখে মনে হবে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য, আসলে তা নয়। মর্যাদার উপর নির্ভর করবে যে, তাদেরকে কি পরান হবে, সোনা নাকি রূপা! যাইহোক, 22:23 দেখে আসতে পারেন। 

২) এই সম্পর্কে নাবী (সা) বলেছেন- “সোনার গহনা ও রেশম কাপড় আমার উম্মতের মধ্যে পুরুষদের জন্য হারাম করা হয়েছে” (তিরমিযী, হাদীশ 1720 ও ইবনু মাজাহ, হাদীশ 3595)। এছাড়াও দেখতে পারেন বুখারীর 5832-5834 হাদীশ।

জান্নাতীরা যেভাবে আল্লাহর ‛মহীমা কীর্তন’ করবে।

35:34 নং আয়াহ : আর তারা বলবে- “সর্বোচ্চ হামদ/ মহিমা কীর্তন আল্লাহর [1:1, 34:1], যিনি আমাদের সমস্ত চিন্তা/ দুশ্চিন্তা দূর করেছেন [7:44, 39:74]। নিশ্চয়ই আমাদের রব/ প্রতিপালক লা-গাফূর/ সুনিশ্চিত ক্ষমাশীল ও শাকূর/ কর্ম স্বীকার‌কারী [35:30, 42:23]।

জান্নাতে ক্লান্তি ও দুর্বলতা থাকবে না।

35:35 নং আয়াহ : যিনি আমাদের‌কে স্থান দিয়েছেন আরামদায়ক গৃহে (জান্নাতে) তাঁর ফাদ্বল/ অনুগ্রহে। না তাতে আমাদের‌কে স্পর্শ করবে ক্লান্তি [15:48], আর না স্পর্শ করবে দুর্বলতা”।

জাহান্নামী‌রা মরবে না।

35:36 নং আয়াহ : যারা হয়েছে কাফির/ সত্য অস্বীকার কারী, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আগুন (2:39, 5:86]। সেখানে তাদের জন্য মৃত্যুর আদেশ দেওয়া হবে না যে, তারা মরে যাবে [14:17, 87:13]। আর না তাদের আযাব/ শাস্তি হালকা করা হবে [2:162, 3:88]। আর আমরা এভাবেই প্রত‍্যেক কাফির/ সত্য অস্বীকার কারীকে জাযা/ প্রতিদান দিয়ে থাকি [7:44, 83:34-36]”।

# প্রশ্ন হবে- জান্নাতীরা কি মরবে?? না, মরবে না। মানে, পরবর্তী জীবনে মৃত্যু নেই। প্রমাণ! 44:56 দেখুন। একটা দলিল, আর নেই?? আছে, 37:58-59 দেখুন।

জাহান্নামী‌দের আবেদন ও আল্লাহ‌র জবাব।

35:37 নং আয়াহ : আর তারা সেখানে চিৎকার করে বলবে- “হে আমাদের রব/ প্রভু, আমাদের‌কে এখান থেকে বের করুন। এবার আমরা আমলে স্বলিহা/ সৎকর্ম করব, যে আমল/ কর্ম [23:99-100] পূর্বে আমরা করি নি” [40:49, 43:77]। (বলা হবে) “আমরা কি তোমাদের‌কে এতটা আয়ু দিই নি যে, তাতে তোমাদের মধ্যে কেউ জ্ঞান অর্জন করতে চাইলে জ্ঞান অর্জন করতে পারত?? আর তোমাদের কাছে [6:130, 67:8] তো সতর্ক কারীরা [28:65, 43:78] এসেছিল [39:59, 40:50। সুতরাং এখন (শাস্তির) স্বাদ নাও। অতঃপর জালিম/ সীমালঙ্ঘন‌কারীদের কোনও নাসির/ সাহায্যকারী [2:48, 2:123] নেই [2:270]”।

না দেখতে পাওয়া বিষয়/ বস্তু‌ও আল্লাহ জানেন।

35:38 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাবিশ্ব সমূহ ও পৃথিবীর ‛না দেখতে পাওয়া’ বিষয়/ বস্তু সম্পর্কে [2:33, 27:65] জানেন। নিশ্চয়ই তিনি তোমাদের সাদর/ মস্তিষ্ক সমূহের অবস্থান ভাল ভাবে জানেন [3:54, 5:7]।

মানবজাতি আল্লাহর খলিফাহ।

35:39 নং আয়াহ : (আল্লাহ) তিনিই, যিনি তোমাদের‌কে আরদ্ব/ গ্ৰহ উপগ্রহের খলিফা/ প্রতিনিধি হিসাবে হাজির করেছেন [2:30, 6:165]। সুতরাং যে কুফরী/ সত‍্য অস্বীকার করল, তার কুফরী/ সত্য অস্বীকারের জন্য দায়ী সে নিজে [10:108, 17:15]। কাফির/ সত্য অস্বীকার‌কারীদের কুফরী/ সত্য অস্বীকার শুধু আল্লাহর ক্রোধ‌ই [15:49, 39:53] বৃদ্ধি করে।

মিথ্যা ঈশ্বর‌দের সম্পর্কে ভাবার তাগিদ।

35:40 নং আয়াহ : বলুন- “তোমরা ভেবে দেখেছ কি তোমাদের শরিক (ঈশ্বর‌দের) বিষয়ে, যাদেরকে তোমরা ডেকে থাক আল্লাহ‌কে বাদ দিয়ে। আমাকে দেখাও তারা পৃথিবীর মধ্যে কোন বস্তুটি সৃষ্টি করেছে?? অথবা মহাবিশ্ব গুলো সৃষ্টির মধ্যে তাদের কোনও অংশ [18:51, 34:22] আছে কি [16:17, 25:2]?? অথবা তাদেরকে কি আমরা কোনও কিতাব  [6:81, 43:81] দিয়েছি, অতঃপর তারা তার মধ্যে কোনও সুস্পষ্ট প্রমাণ পেয়েছে কি [3:79-80, 46:4]?? না, বরং জালিম/ মিথ্যা‌বাদীরা একে অপরকে শুধু ‛মিথ্যা ওয়াদা’ করছে, ধোকা দিচ্ছে [2:9]।

বর্তমানে আল্লাহ নিজ দায়িত্বে মহাবিশ্ব সামলাচ্ছেন।

35:41 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আল্লাহ মহাবিশ্ব‌ ও পৃথিবীকে সামলাচ্ছেন। যেন (সম্প্রসারণ) থেমে না যায় [51:47, 81:15]। তবে যদি থেমে যায়, সেক্ষেত্রে তাঁর পরে অন্য আর কে আছে, যে উভয়‌কে [21:22, 23:91] সামলাবে?? নিশ্চয়ই তিনি হালিম/ সহনশীল ও গাফূর/ ক্ষমাশীল।

# আল্লাহ ছাড়া তো দ্বিতীয়/ ততোধিক কোনও ঈশ্বর নেই, যে মহাবিশ্ব‌ ও পৃথিবীকে সামলাতে পারবে! সেটাই আল্লাহ এখানে মনে করিয়ে দিচ্ছেন। প্রশ্ন হবে- থেমে গেলে বলতে কি?? সম্প্রসারণ থেমে না যায়। থেমে গেলে কি হবে?? সংকোচন শুরু হবে ও মহাবিশ্ব ধ্বংস হয়ে যাবে। তবে মানুষ‌জাতি ধীরে ধীরে উন্নতি করবে এবং একটা পর্যায়ে আল্লাহ মহাবিশ্বকে মানুষের নিয়ন্ত্রণাধীন করে দেবেন। মানে, তখন মানুষজাতি মহাবিশ্ব নিয়ন্ত্রণ করবে, প্রতিশ্রুতি রয়েছে 31:20 ও 45:13 তে।

আরবের মুশরিক‌গণ ‛মিথ্যা কসম’ করতেন।

35:42 নং আয়াহ : আর তারা দৃঢ়ভাবে আল্লাহর কসম/ শপথ করে বলত যে, “অবশ্যই যদি আমাদের কাছে কোনও নাযির/ সতর্ককারী আসে, তাহলে অবশ্যই আমরা যে কোনও উম্মাত/ জাতির থেকে অধিক সৎপথ অবলম্বন করব” [20:134]। অতঃপর যখন তাদের কাছে নাযির/ সতর্ককারী আসলেন [2:101, 74:49-51] তখন তাদের যাদা/ বৃদ্ধি পেল শুধু‌ই সত্য হতে পলায়ন।

প্রতিটা ষড়যন্ত্র, ষড়যন্ত্র‌কারীদের বিরুদ্ধে যায়/ যাবে।

35:43 নং আয়াহ : ঔদ্ধত্য ও নিকৃষ্ট ষড়যন্ত্রের কারণে। তবে নিকৃষ্ট ষড়যন্ত্রের উদ্যোগ‌কারী ছাড়া অন্য কাউকে তা ঘিরে ধরে না [7:99, 52:42]। তবে কি তারা অপেক্ষা করছে তাদের পূর্ববর্তী‌দের ক্ষেত্রে ‛গ্ৰহণ করা’ সুন্নাত/ রীতির?? এত‌এব (এক্ষেত্রে তেমন হলেও) আপনি আল্লাহর সুন্নাত/ রীতিতে কোনও বদল/ পরিবর্তন পাবেন না [33:62, 48:23]। আর আপনি আল্লাহর সুন্নাত/ রীতিতে ব‍্যতিক্রম পাবেন না [10:64, 17:77]।

মাটি খুঁড়ে সভ‍্যতা আবিষ্কারের তাগিদ।

35:44 নং আয়াহ : তারা কি পৃথিবী‌র ভিতরে (১) প্রবেশ করে নি?? অতঃপর (করলে) দেখতে পেত- তাদের পূর্বে যারা ছিল, তাদের কি পরিণতি [30:9, 40:21] হয়েছিল! অথচ তারা (পূর্ববর্তী‌রা) ছিল তাদের (মাক্কাবাসীদের) থেকে অধিক শক্তিশালী/ শক্তি সম্পন্ন [19:74, 30:42]। আর আল্লাহ‌কে কেউ হারিয়ে দিতে সক্ষম নয়, না সামাওয়াত/ মহাবিশ্ব গুলোতে, আর না পৃথিবীতে [29:22, 72:12] এমন কেউ আছে। নিশ্চয়ই তিনি আলিম/ জ্ঞানী, কাদির/ ক্ষমতাবান [30:54, 42:50]।

১) ‛পৃথিবীর ভিতরে প্রবেশ’ বলতে, আসলেই ভিতরে প্রবেশ নয়। এটা আরবি বাক রীতি, অনেকটা প্রবাদ গোছের। যার অর্থ- তারা কি মাটি খুঁড়ে দেখে নি। যেমন আমরা মাটি খুঁড়ে প্রাচীন সভ‍্যতা আবিষ্কার করি, ঐ রকম।

আল্লাহ অপরাধীকে ‛সঙ্গে সঙ্গে’ শাস্তি দেন না কেন??

35:45 নং আয়াহ : আর আল্লাহ যদি মানুষ‌কে ধরতেন (১), তারা যা অর্জন সেই কারণে, তাহলে ভূপৃষ্ঠের কোনও প্রাণীকেই রেহাই দিতেন না। কিন্তু তিনি নিদিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ/ সুযোগ [26:202-203] দিয়ে থাকেন [16:61, 86:17]। অতঃপর তাদের যখন আজল/ সময় [22:48] আসবে, তখন নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর ইবাদ/ বান্দাদের প্রতি দৃষ্টি [3:15, 84:15] রাখেন।

১) ‛ধরতেন’ বলতে, হাত দিয়ে ধরা নয়। এটা আরবি বাক রীতি, মানে প্রবাদ গোছের। এখানে ‛ধরতেন’ বলতে, শাস্তি দিতেন।

5/5 - (3 votes)
শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন