৩৫ নং সূরাহ | সূরাহ ফাত্বির | Surah no 35 | Surah Fatir |

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। 

অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।

নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 45 টি।

সিঙ্গুলারিটি থেকে বিকশিত বর্তমানের মহাবিশ্বে।

35:1 নং আয়াহ : সর্বোচ্চ হামদ/ মহিমা কীর্তন আল্লাহর জন্য, যিনি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আকৃতি (সিঙ্গুলারিটি) হতে মহাবিশ্ব‌কে [2:117, 51:47] বিকশিত [81:15-16] করেছেন। তিনিই ফেরেস্তাদের‌কে মনোনীত করেছেন রাসূল/ বাণী বাহক হিসাবে [22:75], যারা ডানা বিশিষ্ট। দুটি, তিনটি ও চারটি ডানা বিশিষ্ট। তিনি তাঁর সৃষ্টি‌তে যা চান, তা বৃদ্ধি (১) করে থাকেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত কিছুর উপর ক্ষমতাবান।

১) হাদীশ অস্বীকার‌কারীরা শুধু এতটুকু উদ্ধৃতি করেন- “যারা ডানা বিশিষ্ট। দুটি, তিনটি ও চারটি ডানা বিশিষ্ট”। তারপর বলেন- “জিবরীলের 600 টি ডানা, এসব মিথ্যা গল্প কাহিনী”। অথচ পরের আয়াতাংশে পরিষ্কার করে বলা হয়েছে- “তিনি তাঁর সৃষ্টি‌তে যা চান, তা বৃদ্ধি করে থাকেন”। ডানার সংখ্যা 4 এর অধিক হবে, তার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে এখানে। যাইহোক, ডানা সম্পর্কে বুখারীর 3234 ও 4856-4857 দেখে আসতে পারেন।

# গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- ফেরেস্তাদের ডানা’র কাজ কি?? তারা কি উড়ার জন্য ডানা ব‍্যবহার করে?? যদি উত্তর হ‍্যাঁ হয়, তাহলে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরে ফেরেস্তা‌রা কিভাবে উড়ত?? ডানা থাকলেই উড়তে হবে, এটা মূর্খ মানুষদের কল্পনা। কমপক্ষে 10 ধরণের পাখির 109-150 প্রজাতি রয়েছে, যারা উড়তে পারে না। সবচেয়ে পরিচিত নাম নাম হল- পেঙ্গুইন ও উটপাখি। বাকিটা জানতে গুগল করে নিন। প্রশ্ন- তাহলে আল্লাহ ফেরেস্তাদের ডানা দিয়েছেন কেন?? হয়ত সৌন্দর্য্যের জন্য, আল্লাহ ভাল জানেন। বলা হয়েছে- “আল্লাহ সৌন্দর্য্য‌পূর্ণ, তিনি সুন্দর কর্মকাণ্ড ভালবাসেন” (মুসলিম, হাদীশ 91 এর 1)।

ওহী প্রেরণ বা বন্ধ করার কেউ নেই, ছিল না।

35:2 নং আয়াহ : আল্লাহ মানবজাতির জন্য তাঁর রহমত/ অনুগ্রহ (ওহী/ কুরআন) শুরু করেছেন, সুতরাং তার প্রতিরোধ‌কারী কেউ নেই। আর যদি তিনি বন্ধ করে দেন, তাহলে তাঁর পরে তা (ওহী) প্রেরণকারী (১) কেউ নেই। কেননা, তিনি মহা শক্তিশালী, মহা বিজ্ঞানী।

১) আসলে নাবী (সা) এর কাছে বেশ কিছুদিন যাবত ওহী আসা বন্ধ হয়ে যায়। এজন্য নাবী (সা) কে অনেকেই ব‍্যঙ্গ বিদ্রুপ শুরু করেন। আয়াহটি সেই পেক্ষিতে, বিস্তারিত জানতে 93:3 এ যান। যান, সুন্দর একটি বিষয় আপনার জন্য ওখানে অপেক্ষা করছে। আর শিখতে পারবেন বহু কিছু।

মহাবিশ্ব/ মহাশূন্য থেকে রোজগারের ভবিষ্যৎ বাণী।

35:3 নং আয়াহ : হে সম্মানিত মানবজাতি, স্মরণ কর আল্লাহর নিয়ামত/ অনুগ্রহ, যা তিনি তোমাদের উপর করে রেখেছেন। আল্লাহ ছাড়া আর কোনও সৃষ্টি‌কর্তা আছে কি, যে সামায়া (মহাবিশ্ব/ মহাশূন্য) হতে ও আরদ্ব (গ্ৰহ/ উপগ্রহ) হতে তোমাদের‌কে রিযিক [51:48] দেয়/ দেবে [51:22]?? তিনি ছাড়া কোনও ইলাহা (ঈশ্বর/ উপাস্য) নেই। তাহলে কিভাবে তাদেরকে (সাধারণ মূর্তি পূজক’কে) বিভ্রান্ত করে (সত্য হতে) দূরে নিয়ে [10:34, 40:62] যাওয়া হচ্ছে??

রাসূলগণ‌ মিথ‍্যাবাদী ও অস্বীকারের শিকার হয়েছিল।

35:4 নং আয়াহ : আর তারা যদি আপনাকে মিথ‍্যাবাদী বলে/ অস্বীকার করে, তাহলে (জেনে রাখুন) আপনার পূর্বে‌র রাসূলদের‌কে মিথ‍্যাবাদী বলেছিল/ অস্বীকার করেছিল [40:24, 38:4]। (জেনে রাখুন) সমস্ত বিষয় আল্লাহর দিকেই [84:1-5] ফিরে যাবে [69:16-17]।

ইসলাম বিদ্বেষী হতে সাবধান থাকার নির্দেশ।

35:5 নং আয়াহ : হে সম্মানিত মানবজাতি, নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা/ প্রতিশ্রুতি মহা সত্য [4:120, 21:104]। সুতরাং ইহজীবনে ধোকা/ মায়ায় পড়ে থেক না [6:32, 57:20]। আর না আল্লাহ সম্পর্কে [82:6] তোমাদেরকে ধোকায় ফেলতে পারে কোনও (ইসলাম) বিদ্বেষী [31:33, 57:14]।

শাইত্বান কেন ডাকে??

35:6 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই শাইত্বান তোমাদের জন্য শত্রু। সুতরাং তাকে শত্রু [4:120] হিসাবে‌ই দেখ [7:22, 20:117]। মূলত সে ডাকে [14:22, 17:64] তার দলকে (১), যেন জলন্ত আগুনের অধিবাসী হয় [15:39-43, 38:85]।

১) কে তার দল?? মানুষ ও জিনদের একটা অংশ। প্রশ্ন হবে- মানুষ‌ও কি শাইত্বান হতে পারে?? হ‍্যাঁ, মানুষ‌ও শাইত্বান হতে পারে। বিশ্বাস হচ্ছে না?? যান, 6:112 দেখে আসুন, বিশ্বাস হয়ে যাবে।

যাদের জন্য ক্ষমা ও মহা প্রতিদান।

35:7 নং আয়াহ : যারা সত্য অস্বীকার করে, তাদের জন্য থাকবে কঠিন আযাব/ শাস্তি। আর যারা আমানূ/ সত্য স্বীকার‌কারী ও আমলে স্বলিহা/ সৎকর্মাকারী, তাদের জন্য থাকবে মাগফিরাত/ ক্ষমা ও আজরুন কাবীর/ মহা প্রতিদান [11:11, 17:9]।

Rate this post
শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন