বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 54 টি।
সর্বোচ্চ মহিমা কীর্তন আল্লাহর, প্রথমেও এবং শেষেও।
34:1 নং আয়াহ : সর্বোচ্চ হামদ/ মহিমা কীর্তন আল্লাহর জন্য [1:1]। (কেননা) যা কিছু মহাবিশ্বে, যা কিছু আছে পৃথিবীতে, সবই তাঁর। শেষেও সর্বোচ্চ হামদ/ মহিমা কীর্তন তাঁরই [45:36]। তিনি আল হাকীম/ মহা বিজ্ঞানী ও আল খাবীর/ আর সমস্ত বিষয়ের পূর্ণ জ্ঞান রাখেন।
এলিয়েন ও এলিয়েন বার্তা।
34:2 নং আয়াহ : তিনি জানেন- যা (এলিয়েন) আরদ্ব/ পৃথিবীতে আসে, যা তা (পৃথিবী) থেকে ফিরে যায়। আর যা (সিগন্যাল) সামায়া/ মহাকাশ থেকে আসে, যা তাতে (এলিয়েন বার্তা) ফিরে যায় [42:29, 65:12]। আর তিনি আর রাহীম / সীমাহীন করুণাময় ও আল গাফূর/ সীমাহীন ক্ষমাশীল [15:49, 39:53]।
# এই ধরণের হুবহু আরবি বক্তব্য রয়েছে 57:4 এ। তবে প্রসঙ্গ একেবারে ভিন্ন, তাই অর্থও ভিন্ন।
পরমাণু, প্রোটন/ নিউট্রন ও কোয়ার্ক।
34:3 নং আয়াহ : আর তারা বলে- “আমাদের উপর সায়াত (সেই ক্ষণ/ কিয়ামত) আসছে [26:293-209] না কেন”?? বলুন- “হ্যাঁ, অবশ্যই আসবে [84:1-5, 69:16-17]। আমার রর/ প্রভুর শপথ, তিনি গায়িব/ অদৃশ্যের জ্ঞানী [72:26-27]। তাঁর থেকে কোনও কিছুই লুকায়িত নেই। না সামাওয়াত/ গ্যালাক্সি সমূহের যাররাহ (প্রোটন, নিউট্রন) আকারের কোনও কণা, আর না আরদ্ব/ পৃথিবীর। আর না তার (প্রোটন/ নিউট্রনের) চেয়ে ক্ষুদ্র কণা (কোয়ার্ক), আর না তার (প্রোটন/ নিউট্রনের) চেয়ে বড় (পরমাণুর) সমান কণা [10:61]। তবে সমস্ত কিছুই [6:38] লিখিত রয়েছে সুস্পষ্ট কিতাবে [22:70, 22:75]।
বিচার দিবস/ পরবর্তী জীবন কেন থাকা উচিৎ??
34:4 নং আয়াহ : যেন তিনি জাযা (প্রতিদান/ পুরষ্কার) দিতে পারেন তাদেরকে, যারা আমানূ/ সত্য স্বীকার করেছে এবং আমলে স্বালিহা/ সৎকর্ম করেছে [10:4, 45:22]। তারাই ওরা, যাদের জন্য থাকবে মাগফিরাত/ ক্ষমা ও রিযিকে কারীম/ সম্মান জনক রিযিক [24:26, 22:50]।
কুরআনকে মিথ্যা প্রমাণ করতে চাওয়ার শাস্তি যেমন হবে।
34:5 নং আয়াহ : আর যারা আমাদের আয়াত সমূহকে মিথ্যা প্রমাণের চেষ্টা করে [22:51, 34:38]। তারাই ওরা, যাদের জন্য রয়েছে ‛ভয়ংকর’ কষ্টদায়ক শাস্তি [4:56, 104:7]।
কুরআনের পথ ‛মহা শক্তিশালী ও মহা প্রশংসিত’।
34:6 নং আয়াহ : যাদেরকে জ্ঞান প্রদান করা [35:28] হয়েছে, তারা জানে- আপনার রব/ প্রভুর পক্ষ থেকে আপনার কাছে যা নাযিল হয়েছে, তা সত্য [17:107]। আর (এও জানে) তা আল আযীয/ মহা শক্তিশালী ও আল হামীদ- মহা প্রশংসিত পথ দেখায় [17:9]।
পুনরুত্থান সম্পর্কে নাবী (সা) কে যেভাবে ব্যঙ্গ করা হোত।
34:7 নং আয়াহ : আর কাফির/ নাস্তিকরা বলে- “আমরা কি তোমাদেরকে সন্ধান দেব এমন এক ব্যক্তির/ পুরুষের, যে তোমাদেরকে জানিয়ে দেবে- “যখন তোমরা সম্পূর্ণ ভাবে ছিন্নভিন্ন [84:1-4] হয়ে যাবে, তখন নিশ্চয়ই তোমরা নতুন [36:78, 17:51] ভাবে সৃষ্টি [36:79, 50:15] হবে”??
আল্লাহর দুটি প্রশ্ন/ জিজ্ঞাসা!
34:8 নং আয়াহ : তিনি (মুহাম্মাদ) কি আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা রচনা [69:41-43] করে, নাকি তার সঙ্গে রয়েছে পাগলামির প্রভাব [34:46]?? না, বরং যারা মূমীন/ সত্য স্বীকারকারী নয়, তারাই আযাব/ শাস্তি ও দ্বালালা/ বিভ্রান্তির দিকে এগিয়ে রয়েছে।
শুক্র ও মঙ্গল গ্ৰহ মানবজাতি ছিল, তাই পর্যবেক্ষণের তাগিদ।
34:9 নং আয়াহ : তবে কী তারা লক্ষ্য করে না, তাদের আগে থাকা সামায়া/ মহাশূন্য সহ আরদ্ব (শুক্র) গ্ৰহের প্রতি [26:184] ও তাদের পরে থাকা সামায়া/ মহাশূন্য সহ আরদ্ব (মঙ্গল) গ্ৰহের [17:69] প্রতি?? আমরা চাইলে (শুক্র ও মঙ্গল গ্ৰহের মতো) তাদেরকে সহ আরদ্ধ/ পৃথিবীকে জীবন শূণ্য করে দিতে পারি। অথবা তাদের উপর সামায়া/ সৌরজগৎ থেকে নিক্ষেপ করতে পারি গ্ৰহাণু খণ্ড [100-4-5]। নিশ্চয়ই উক্ত বর্ণনার মধ্যে রয়েছে আয়াত/ বহু নিদর্শন, এমন প্রত্যেক আব্দ/ বান্দার জন্য, যে প্রত্যাবর্তনে ইচ্ছুক [50:8]।
সুলাইমান (আ) এর মৃত্যু, জিনরা গায়েব সম্পর্কে বেখবর।
34:14 নং আয়াহ : অতঃপর যখন আমরা সুলাইমানের মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নিলাম। তাদের (জিনদের) কে কেউ জানাল না তার মৃত্যু সম্পর্কে। তবে জানিয়ে দিল মাটিতে থাকা জীব (১), যা তার লাঠিতে কামড় (২) দিয়েছিল। অতঃপর তিনি পড়ে গেলেন, তখন জিনরা পরিষ্কার ভাবে জানতে পারল যে, যদি তারা জানত গায়েব/ অদৃশ্যের [72:26-27] খবর, তাহলে তারা অপমান জনক শাস্তি ভোগ করত না।
১) এখানে আরবি শব্দ “দাব্বাতুল আরদ্ব”। যার সহজ অর্থ- মাটিতে থাকা জীব। যেহেতু আল্লাহ নাম বলেন নি যে, ঐ জীবের নাম কী ছিল। তাই শুধু অনুমান করে লাভ নেই। কেউ কেউ বলেন- “ তা উইপোকা ছিল”। এও বলেন যে, সুলাইমান (আ) এভাবে লাঠির উপর ভর দিয়ে 1 বছর দাঁড়িয়ে ছিলেন। এসব শুধু হাস্যকর ও অযৌক্তিক দাবি। কেননা, তিনি ছিলেন শাসক। শাসক এভাবে 1 বছর থাকবে, আর কেউ তার কাছে এল না! তা কি হতে পারে! ভাবাও হাস্যকর।
২) সুলাইমান (আ) এর মৃত্যু হয়েছিল লাঠিতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তার। আসলে জিনরা বিল্ডিং নির্মাণ করছিল, সুলাইমান (আ) লাঠিতে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে তা দেখছিল। এই অবস্থায় তার মৃত্যু হয়ে যায়। কিন্তু জিনরা তা জানতে পারে নি। কেননা, তাদের গায়েবের জ্ঞান ছিল না। থাকলে তারা তা জেনে যেত। এটা বোঝাতেই উক্ত ঘটনা আল্লাহ বর্ণনা করেছেন।
সাবা’র রানীর সম্রাজ্য যেভাবে ধ্বংস হয়েছিল।
34:15 নং আয়াহ : অবশ্যই ছিল সাবা (১) জাতির জন্য তাদের মধ্যেই ছিল একটি নিদর্শন, দুই পাশের বাগান- (সম্ভবত Gulf of Suez এর) ডানে ও বাঁমে। (বলা হয়েছিল) “তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের দেওয়া রিযিক হিসাবে তা হতে খাও এবং তার কৃতজ্ঞ হও। এই শহর তাইয়িবা (পবিত্র/ উত্তম)। আর (তোমাদের) রব (প্রভু/ প্রতিপালক) গাফূর/ ক্ষমাশীল”।
১) সাবা কি?? এই সম্পর্কে হাদীশ রয়েছে, চাইলে গিয়ে দেখে আসতে পারেন তিরমিযীর 3222 নং হাদীশ। তবে সাবার রানী ও সাবা জাতি সম্পর্কে জানতে 27:16-44 আয়াত সমূহ দেখুন। সাবা’র রানী সম্পর্কে বাইবলেও উল্লেখ রয়েছে 1 Kings এর 10:1-13 ও 2 Chronicles 9:2-12 তে।
34:16 নং আয়াহ : কিন্তু তারা (আল্লাহর নির্দেশনা হতে) মুখ ফিরিয়ে নিল। তাই তাদের উপর পাঠালাম বাঁধ গুলো ভেঙে যাওয়া বন্যা (১)। আমরা তাদের বাগান দুটিকে বদল করে দিলাম এমন বাগানে, যাতে জন্মাল কাঁটাযুক্ত, ঝাউগাছ ও কিছু কুলগাছ।
১) সম্ভবত তারা লোহিত সাগরের Gulf of Suez এ বহু বাঁধ তৈরি করে প্রয়োজন মুতাবিক এর পানিকে ব্যবহার যোগ্য করে চাষাবাদ করত। কিন্তু বিরাট বন্যায় বাঁধা গুলো ভেঙে যায়। ফলস্বরূপ পানি না পাওয়ার জন্য তা ধীরে ধীরে মরুভূমি স্বরূপ হয়ে যায়। এবং মরুভূমিতে যে ধরণের গাছপালা হয়, সেই ধরণের গাছপালা সৃষ্টি হতে লাগল।
34:17 নং আয়াহ : ওটাই ছিল তাদের জাযা/ প্রতিদান। একারণে যে, তারা সত্যকে অস্বীকার করেছিল। আর আমরা এমন জাযা/ প্রতিফল দিই তাদেরকে, যারা কাফির/ অকৃতজ্ঞ।
বাইতুল মুকাদ্দাস/ মাসজিদে আকস্বা’য় হজ হোত।
34:18 নং আয়াহ : আর তাদের এবং আমরা বরকত/ কল্যাণ দিয়েছিলাম যে সম্রাজ্যে (সিরিয়া, যার রাজধানী ছিল ফিলিস্তিন), তার মধ্যে বহু দৃশ্যমান সভ্যতা/ জনপদ স্থাপন করেছিলাম এবং তাতে নির্ধারিত ভ্রমণ দূরত্ব বজায় রেখেছিলাম। (বলেছিলাম) নিরাপদে যাত্রা কর (১) রাত গুলোতে বা দিন গুলোয়।
১) যাত্রা বলতে! কোথায় যাত্রা, কোন যাত্রা! ফিলিস্তিনের বাইতুল মুকাদ্দাসের কথা বলা হচ্ছে। যা ছিল বহু জনপদের কিবলা ও তীর্থস্থান। যেমন, এখন মাসজিদে হারাম কিবলা ও তীর্থস্থান। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে 2:143-144 আয়াতে।
মাক্কাহতে ‛হজ’ করতে যাওয়ার অনুরোধ।
34:19 নং আয়াহ : পরবর্তীতে তারা বলল- “হে আমাদের রব/ প্রভু, আমাদের তীর্থযাত্রার দূরত্ব বাড়িয়ে দিন” (১)। এভাবে তারা নিজেদের উপর জুলুম/ অত্যাচার (২) করল, অতঃপর আমরা তাদের বিষয়কে স্থান দিলাম হাদীশ সমূহে। আর আমরা তাদেরকে ছিন্নভিন্ন করলাম, সবাইকে মারাত্মক ছিন্নভিন্ন করলাম। নিশ্চয়ই ঐ বর্ণনার মধ্যে রয়েছে নিদর্শন সমূহ, প্রত্যেক সাব্বির/ অতি ধৈয্যশীল ও সাকূর/ কৃতজ্ঞের জন্য।
১) মানে, তাদেরকে মাক্কাহতে আসতে না হয়, আল্লাহ সেই ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু তারা চাইছিল- “মাক্কাহতে হজ করতে যাব”। এভাবে আল্লাহর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়েছিল।
২) এটা আরবি বাক রীতি, প্রবাদ। যার অর্থ- তারা এমন কাজ করল, যাতে তাদের উপর শাস্তি অনিবার্য হয়ে যায়।
মাঝে মধ্যে ইবলীশ ‛নিজ ধারণাকে’ সত্য মনে করে।
34:20 নং আয়াহ : আর অবশ্যই তাদের উপর ইবলীশ তার ধারণাকে সত্য হিসাবে পেল [17:62, 38:82-83]। অতঃপর মূমীনদের একটা ফিরকা/ দল ছাড়া তারা তার অনুসরণ করল।
মূমীনদের উপর ইবলীশের কোনও প্রভাব থাকে না।
34:21 নং আয়াহ : কেননা, তাদের (মূমীনদের) উপর তার কোনও সুলত্বান (প্রভাব/ ক্ষমতা) ছিল না [15:42, 17:65]। যেন আমরা জানি- তাদের মধ্যে কে আখিরাত/ পরবর্তী জীবন স্বীকার করে, আর সেই সম্পর্কে শাক্ক/ সন্দেহের মধ্যে রয়েছে। আর আপনার রব/ প্রভু সমস্ত কিছুর হাফিজ্ব/ ধারণকারী
মিথ্যা ঈশ্বর সম্পর্কে অনুসারীদের দাবি ও দাবি খণ্ডন।
34:22 নং আয়াহ : বলুন- “তোমরা তাদেরকে [35:14] ডাক, আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে তোমরা ‛ঈশ্বর হিসাবে কল্পনা’ করে নিয়েছ [7:194, 46:5]। তারা মহাবিশ্ব ও পৃথিবীর একটি যাররাহ (প্রোটন/ নিউট্রন সাইজের) কণারও মালিক [7:191-192] নয়। আর না উভয়ে (মহাবিশ্ব ও পৃথিবীতে) যা কিছু আছে, তাতে তাদের কোনও অংশ আছে [35:40, 46:4]। আর না তারা তাঁর সাহায্যকারী [18:51]।
অবশ্যই বিচার দিবসে শাফায়াত গ্ৰহণ করা হবে।
34:23 নং আয়াহ : তাঁর কাছে কোনও শাফায়াত কাজে আসবে না [10:18, 30:13]। তবে, যার জন্য তিনি অনুমতি দেবেন, তার ব্যাপারটা ভিন্ন” [20:109, 21:28]। এমনকি যখন তাদের মস্তিষ্ক থেকে ভয় দূর হয়ে যাবে, তখন তারা (শাফায়াতকারীদের) বলবে- “কি বললেন তোমাদের প্রতিপালক”। তারা বলবে- “যা সত্য। আর তিনি হলেন সর্বোচ্চ ও অতুলনীয় শ্রেষ্ঠ”।
# অনেকে বলেন- নাবী (সা) শাফায়াত করতে পারবেন না (2:48, 2:123)। মনে রাখা দরকার যে, 2:48 ও 2:123 এর বক্তব্য অসম্পূর্ণ। 34:23 আয়াহ টা তার সঙ্গে জুড়লে তবে বক্তব্যটা সম্পূর্ণ হয়। জেনে রাখুন- শুধু নাবী (সা) নয়, সাধারণ মূমীনও সুপারিশ করবে (43:86)। এছাড়াও দেখুন 19:87 আয়াহ।
এরোপ্লেনে চাকরির ভবিষ্যৎ বাণী।
34:24 নং আয়াহ : বলুন- “কে তোমাদেরকে রিযিক দেয় সামাওয়াত/ বায়ুমণ্ডলের স্তর (১) গুলো ও আরদ্ব/ পৃথিবী থেকে”?? বলুন- “আল্লাহ”। (এরপর বলুন) “এখন নিশ্চিতই আমরা সঠিক পথে আছি বা তোমরা। কিংবা হতে পারে উভয়ই সুস্পষ্ট বিভ্রান্ততে”।
১) এর কাছাকাছি কিছু বক্তব্য রয়েছে, যেখানে ‛সামায়া’ শব্দের ব্যবহার হয়েছে। যেমন 10:31 ও 27:64 আয়াত সমূহে। তার অর্থ পুরোপুরি ভিন্ন।
# কিন্তু প্রশ্ন হবে- বায়ুমণ্ডলের স্তর গুলো থেকে রিযিক আসে, কিন্তু কিভাবে?? এরোপ্লেনে মানুষ চাকরি করে না?? করে তো। আর এরোপ্লেন বায়ুমণ্ডলের স্তর গুলোতেই ওড়ে, এর বাইরে নয়। এছাড়াও একবার 51:22 দেখে আসুন।
কাউকে অন্যের কর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে না।
34:25 নং আয়াহ : বলুন- “ না তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে সেই অপরাধ সম্পর্কে, যা আমরা করেছি। আর আমাদেরকে জিজ্ঞাসা [2:119] করা হবে সেই সম্পর্কে, যে আমল/ কর্ম [74:38, 52:21] তোমরা করেছ/ করছ” [10:41, 53:38]।
যুক্তি ও বিজ্ঞান ছাড়া কেউ তর্ক করলে, তাকে যা বলতে হবে।
34:26 নং আয়াহ : বলুন- “আমাদের রব/ প্রভু (কোনও একদিন) আমাদেরকে একত্রিত [69:16-17] করবেন, তারপর আমাদের মধ্যে মিমাংসা [42:15, 22:68-69] করে দেবেন ন্যায়পূর্ণ ভাবে। কেননা, তিনি আল ফাত্তাহু/ মহা বিচারক ও আল আলীম/ মহাজ্ঞানী।
যুক্তি ও বিজ্ঞান না মানলে, ধর্মীয় দলিল চাইতে হবে।
34:27 নং আয়াহ : বলুন- “তোমরা যাদেরকে তাঁর সঙ্গে শরিক হিসাবে যুক্ত কর, (তারা যে ঈশ্বর, সেই দলিল) আমাকে দেখাও [6:81, 22:71]। কখনও পারবে না। বরং তিনি আল আযীয/ মহা শক্তিশালী ও আল হাকীম/ মহা বিজ্ঞানী [2:129, 2:209]।
নাবী (সা) কে ‛কদের কাদের’ জন্য পাঠান হয়েছে??
34:28 নং আয়াহ : আর আমরা আপনাকে পাঠিয়েছি মানব প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত ‛সমস্ত ধরণ/ প্রকারের মানুষ’ এর জন্য’ [7:158, 21:107] সুসংবাদ দাতা ও সতর্ককারী হিসাবে [2:119, 7:184]। তবে অনেক মানুষই তা জানে না (১)।
১) নাবী (সা) কি প্রত্যেকটা মানুষের কাছে ইসলাম পৌঁছে দিয়েছেন?? উত্তর সহজ- প্রত্যেকটা মানুষের কাছে ইসলাম পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নাবী (সা) এর উপর ছিল না, মানুষের কাছে ইসলাম পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল। প্রমাণ! 62:3 এ যান। এ ছাড়াও তিনি বিদায় হজের ভাষণে বলেছেন- “এখানে উপস্থিত ব্যক্তি যেন (ইসলাম) অনুপস্থিতের নিকট পৌঁছিয়ে দেয়। কারণ, অনেক (ইসলাম) প্রচারক এমন লোকের নিকট (ইসলাম) পৌঁছাবে, যারা তার চেয়ে বেশি ইসলামের সংরক্ষণকারী হবে” (বুখারী, হাদীশ 7078)।
আরও একটি সুন্দর হাদীশ-“কোনও কাঁচা ও পাকা বাড়ি এমন ছাড়বেন না, যেখানে আল্লাহ এই দীনকে প্রবেশ না করিয়ে দেবেন” (আহমাদ, হাদীশ 16957)। একটি কঠিন প্রশ্ন- “সব ঠিক আছে, কিন্তু ইসলাম সম্পর্কে না জেনে যারা মারা যাচ্ছে, তাদের কী হবে”?? তারা জান্নাতী, চিন্তা করবেন না। দলিল! 17:15, 28:59, 26:8 আয়াত গুলো দেখে নিন, নাকি আরও দলিল দেব?? এক কাজ করুন, তাহলে 20:134 দেখে নিন।
কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা ও জবাব।
34:29 নং আয়াহ : তারা বলে- “ (বল) এই ওয়াদা কখন পূর্ণ [43:61, 69:16-17] হবে, যদি [10:48, 21:38] হয়ে থাক [26:202-203] সত্যবাদী”??
34:30 নং আয়াহ : বলুন- “তোমাদের জন্য মিয়াদ/ নির্ধারিত সময় রয়েছে [10:19, 42:15]। যাকে তোমরা না সায়াত/ সামান্য ক্ষণ পিছিয়ে [16:61] দিতে পারবে, আর না এগিয়ে আনতে পারবে।
বিচার দিবসে নেতা ও কর্মী/ অনুসারীদের ঝগড়া।
34:31 নং আয়াহ : আর যারা কাফির/ নাস্তিক, তারা বলে- “আমরা কখনও বিশ্বাস করব না এই কুরআন কে, আর না (বিশ্বাস করব) যা আছে, তার হাতের মধ্যে (অন্য ধর্মগ্রন্থ গুলো)। তবে যদি আপনি জালিম/ সীমালঙ্ঘন কারীদের দেখতেন, যখন তাদেরকে দাঁড় করান হবে তাদের রব/ প্রভুর কাছে। একে অপরের প্রতি দোষারোপ করবে। যাদেরকে ইহজীবনে দুর্বল করে রাখা হয়েছিল, তারা ক্ষমতাধারীদের বলবে- “যদি তোমরা না থাকতে, তাহলে আমরা (ইহজীবনে) মূমীন/ সত্য স্বীকার কারী হতাম” [7:38, 33:67]।
34:32 নং আয়াহ : তখন যারা ক্ষমতাধারী, যাদেরকে দুর্বল করে রাখা হয়েছিল, তাদেরকে বলবে- “আমরা কী তোমাদেরকে সঠিক পথ গ্ৰহণে বাধ্য দিয়েছিলাম, যখন সত্য তোমাদের কাছে এসেছিল। দিই নি, বরং তোমরাই ছিলে মুজরিম/ অপরাধী” [7:39, 37:29-30]।
34:33 নং আয়াহ : আর তখন যাদেরকে দুর্বল করে রাখা হয়েছিল, তারা ক্ষমতাধারীদের বলবে- “মোটেও নয়, বরং তোমরা রাতে ও দিনে চক্রান্ত/ ষড়যন্ত্র করতে এবং আমাদেরকে নির্দেশ দিতে যে, যেন আমরা আল্লাহকে অস্বীকার করি [33:68] এবং তার সমকক্ষ স্থাপন (মূর্তি পূজা) করি” [37:28, 40:47]। তবে যখন তারা আযাব/ শাস্তি দেখবে, তখন অনুতাপ/ দুঃখ গুলো লুকিয়ে রাখা ছাড়া উপায় থাকবে না [67:11, 89:23]। আর তখন আমরা কাফির/ সত্য অস্বীকারকারীদের গলা সমূহে শিকল গুলো পরিয়ে দেব [69:30-32, 104:9]। তারা যেমন আমল/ কর্ম করত, এই ছাড়া তাদের আর কী প্রতিদান দেওয়া যেতে পারে [10:52, 27:90]??
নাবী রাসূলগণ এলে ধনীরা যা বলত!
34:34 নং আয়াহ : আর যখনই আমরা কোনও গোষ্ঠী/ সভ্যতায় সতর্ককারী প্রেরণ করেছি, তখন সেখানকার ধনীরা [43:23] এটা ভিন্ন কিছু বলে নি যে, “নিশ্চয়ই তোমরা যে বিষয় (দীন/ কিতাব) নিয়ে প্রেরিত হয়েছ, আমরা তা [7:76, 41:14] অস্বীকার/ প্রত্যাখ্যান [14:9] করলাম” [43:24 23:64]।
34:35 নং আয়াহ : আর এও বলত- “আমরা অনেক ধনসম্পদ ও সন্তানের অধিকারী, তাই আমরা কখনও আযাব/ শাস্তি পাব না” [26:138, 46:24]।
ঐ সমস্ত ধনীদের আল্লাহ যে জবাব দিলেন।
34:36 নং আয়াহ : বলুন- “আমার রব/ প্রভু যার চান, তার রিযিক বাড়িয়ে দিতে পারেন এবং কমিয়ে দিতেও পারেন [13:26, 17:30]। কিন্তু অনেক মানুষই তা জানে না”।
34:37 নং আয়াহ : আর না তোমাদের সম্পদ সমূহ, আর না তোমাদের সন্তান সমূহ সেই বিষয়, যা তোমাদেরকে আমাদের নিকটবর্তী করবে না (১)। তবে যে সত্য ইমান/ সত্য স্বীকার করবে এবং আমলে স্বলেহা/ সৎকর্ম করবে, তাদের জন্য থাকবে বহুগুণ জাযা/ প্রতিদান, সেই কর্মের বিনিময়ে, যা করেছিল। আর তারা (জান্নাতের) প্রাসাদ সমূহে নিরাপদে থাকবে [29:58, 39:20]।
১) নিশ্চয়ই আল্লাহ দেখেন না তোমাদের শরীরের গঠন ও রঙ, আর না দেখেন ধনসম্পদ। তবে তিনি দেখেন তোমাদের মস্তিষ্ক/ নিয়েত ও আমল/ কর্ম” (মুসলিম, হাদীশ 2564/3)।
34:38 নং আয়াহ : আর যারা আমাদের আয়াত সমূহকে মিথ্যা প্রমাণের চেষ্টা করে [22:51, 34:5]। তাদেরকেই আযাব/ শাস্তির মধ্যে উপস্থিত করা হবে।
ধনসম্পদ বাড়াতে বিনিয়োগ করতে হবে।
34:39 নং আয়াহ : বলুন- “আমার রব/ প্রভু তাঁর ইবাদ/ বান্দাদের মধ্যে যার চান, তার রিযিক বাড়িয়ে দিতে পারেন এবং কমিয়ে দিতেও পারেন [13:26, 17:30। আর তোমরা যেখানে যতটা ‛বিনিয়োগ’ [2:195] করবে, সেই মুতাবিক ‛মুনাফা’ দেবেন [2:261]। কেননা, তিনি উত্তম রিযিক দাতা।
ভিন্ন অনুবাদ, 34:39 আয়াহ : বলুন- “আমার রব/ প্রভু তাঁর ইবাদ/ বান্দাদের মধ্যে যার চান, তার রিযিক বাড়িয়ে দিতে পারেন এবং কমিয়ে দিতেও পারেন। আর তোমরা যেখানে যতটা দান [57:11, 64:17] করবে, সেই মুতাবিক প্রতিদান দেবেন [2:261]। কেননা, তিনি উত্তম রিযিক দাতা।
ফেরেস্তা পূজা, ফেরেস্তাদেরকে আল্লাহর প্রশ্ন।
34:40 নং আয়াহ : আর সেদিন তাদের সবাইকে হাশর/ একত্রিত করবেন, তারপর ফেরেস্তাদের বলবেন- “এরাই (মানুষরা) কী তোমাদের ইবাদত/ উপাসনা [37:149-157] করত [10:18, 39:3]”??
# ফেরেস্তাদের পূজা! কারা কারা করে?? খৃষ্টানরা আগে ও এখনও জিবরীল (আ) এর পূজা করে। আর কারা?? বাইবলে আছে, পৌলের যুগে একদল মানুষ ফেরেস্তাদের পূজা করত। যা দেখে পৌল নিষেধ করেছেন, Colossians এর 2:18 দেখুন। এছাড়া আজও বহু মানুষ ফেরেস্তাদের পূজা করে থাকেন।
আল্লাহকে ফেরেস্তাদের জবাব।
34:41 নং আয়াহ : তারা (ফেরেস্তারা) বলবে- “আপনি সুবহান/ পবিত্র, আপনিই আমাদের ওলী, তারা [16:86, 29:82] নয় [25:17-18]। বরং তারা জিনদের [72:6] ইবাদত/ উপাসনা [4:117, 6:128] করত, তাদের অনেকেই তাদের (জিনদের) উপর (ইমান এনে) মূমীন হয়েছে [6:100, 37:158]।
বিচার দিবসে ফেরেস্তাদের কোনও ক্ষমতা থাকবে না।
34:42 নং আয়াহ : “সুতরাং (বলা হবে) আজ তোমাদের (ফেরেস্তাদের) মধ্যে কারোর কোনও ক্ষমতা থাকবে না [34:23]। না উপকার করার, আর না ক্ষতি করার” [53:26]। আর আমরা জালিমদের উদ্দেশ্যে বলব- “সেই নার/ আগুনের স্বাদ আস্বাদন [39:24, 55:43] কর, যাকে তোমরা অস্বীকার করতে” [3:181, 52:14]।
নাবী (সা) ও কুরআন সম্পর্কে মাক্কাহবাসী যা বলত।
34:43 নং আয়াহ : আর যখন তাদের কাছে আমাদের সুস্পষ্ট আয়াত গুলো তিলাওয়াত/ পাঠ করা হয়, তখন তারা বলে- “এ (মুহাম্মাদ) তো মানুষ [16:43, 21:7] ছাড়া কিছু নয় [18:110, 41:6]। সে চায় যে, তোমাদেরকে বাধা দিতে সেই গুলো হতে, যার ইবাদত/ উপাসনা করত [7:70, 11:62]। তারা এও বলে- “এই (কুরআন) মনগড়া রচনা [74:25, 25:5] ছাড়া ভিন্ন কিছু নয়” [2:23, 4:82]। তবে কাফির/ সত্য অস্বীকারকারীদের কাছে যখনই হক/ সত্য আসে, তখন তারা বলে- “এটা তো সুস্পষ্ট জাদু [10:73, 74:24] ছাড়া ভিন্ন কিছু নয়” [43:30, 46:7]।
মাক্কাহবাসীরা ‛কিতাব ও নাবী রাসূল’ পায় নি।
34:44 নং আয়াহ : অথচ আমরা তাদেরকে (এই সমস্ত কথা বলার দলিল হিসাবে) কোনও কিতাব [43:28-29] দিই নি, যা তারা অধ্যায়ণ করে। আর না আমরা আপনার পূর্বে তাদের কাছে কোনও সতর্ককারী [13:30, 36:6] প্রেরণ করেছি।
আমাদের পূর্বে উন্নত সভ্যতা ছিল।
34:45 নং আয়াহ : তবে তাদের পূর্ববর্তীরাও (এভাবেই) অস্বীকার করেছে [3:184, 6:34]। যদিও তাদের কাছে পৌঁছায় নি, তাদের (পূর্ববর্তীদের) দশ ভাগের এক ভাগও, যা আমরা [47:13, 50:36] তাদেরকে (পূর্ববর্তীদের) দিয়েছিলাম [30:9, 43:8]। অতঃপর তারা আমার রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছিল [2:87, 5:70]। এতএব দেখুন, কেমন ছিল আমার প্রতিক্রিয়া [22:44, 67:18]।
মাক্কাহবাসীকে ‛চিন্তা ভাবনার’ আবেদন।
34:46 নং আয়াহ : বলুন- “আমি তোমাদেরকে ওয়াজ/ উপদেশ দিচ্ছি একটি বিষয় সম্পর্কে যে, তোমরা আল্লাহর জন্য দুজন বা একজন দাঁড়াও [10:16]। এবং চিন্তা ভাবনা করে দেখ : তোমাদের সাহাবা/ সঙ্গীর (মুহাম্মাদের) মধ্যে কোনও ধরণের পাগলামির লেশমাত্র নেই [7:184, 34:8]। তবে তোমাদের হাতের মাঝে অবস্থিত কঠিন আযাব/ শাস্তি সম্পর্কে তিনি (মুহাম্মাদ) নাযির/ সতর্ককারী [51:50-51] ছাড়া কিছু নন [15:89, 46:9]।
ইসলাম প্রচারের বিনিময়ে পারিশ্রমিক নেওয়া ভণ্ডামি।
34:47 নং আয়াহ : বলুন- “আমি তো তোমাদের থেকে কোনও ধরণের পারিশ্রমিক (১) চাই না, বরং তা (পারিশ্রমিক) তোমাদের জন্য [25:57, 52:40]। আমার পারিশ্রমিক আল্লাহর কাছে [51:57-58], তা ছাড়া কোথাও নেই, তিনি সমস্ত কিছুর উপর শাহীদ/ সাক্ষী।
১) সবচেয়ে মারাত্মক কথা- “আমি (মুহাম্মাদ) ভণ্ড নই যে, তোমাদের থেকে পারিশ্রমিক চাইব” (38:86)। এর মানে কী?? এর মানে- যারা পারিশ্রমিক নেন, তারা ভণ্ড। আর তাদেরকে অনুসরণ করতে নিষেধ করা হয়েছে, যারা পারিশ্রমিক নেন (36:21)।
আল্লাহ মিথ্যাকে ‛সত্য’ দিয়ে আঘাত করেন।
34:48 নং আয়াহ : বলুন- “আমার রব/ প্রভু মিথ্যাকে সত্য দিয়ে আঘাত করেন [21:18, 17:81] তিনি আল্লামুল গায়েব/ গায়েবের বিষয় গুলো সম্পর্কে মাহাজ্ঞানী।
মিথ্যা ঈশ্বর গুলো নতুন ও পুনঃসৃষ্টি করতে পারে না।
34:49 নং আয়াহ : বলুন- “সত্য এসে গেছে। বাত্বিল/ মিথ্যা ঈশ্বর [31:30] না নতুন (মহাবিশ্ব) সৃষ্টি [2:117] করতে পারে, আর পুনঃসৃষ্টিও (১) করতে পারে [21:104, 30:11]।
১) একটা আয়াহ- “বলুন : তোমাদের শরিকদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে নতুন (মহাবিশ্ব) সৃষ্টি ও পুনঃসৃষ্টি করতে পারে?? বলুন : আল্লাহ নতুন সৃষ্টি ও পুনঃসৃষ্টি করেন/ করবেন” (10:34)।
যদি ইসলাম মিথ্যা হয়, তাহলে দায় কার??
34:50 নং আয়াহ : বলুন- “যদি আমি পথভ্রষ্ট [16:25, 29:13] হই, তবে তা মূলত আমার নিজের কারণে। আর যদি আমি সঠিক পথ পেয়ে থাকি, তবে এ কারণে যে, আমার রব/ প্রভু আমার কাছে ওহী করেছেন (১)। নিশ্চয়ই তিনি শোনেন ও নিকটেই রয়েছে।
১) কী বলছে আয়াহ টি?? যদি ইসলাম মিথ্যা হয়ে থাকে, যদি সব আমার (মুহাম্মাদের) বানান হয়ে থাকে, তাহলে আমি পথভ্রষ্ট, তার দায় আমার। আর যদি আমি সঠিক পথে থাকি, তাহলে তা আমার নিজের তৈরি পথ নয়, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহীর কারণে পাওয়া পথ।
নাস্তিকরা জাহান্নাম থেকে পালাতে চাইবে।
34:51 নং আয়াহ : আর যদি আপনি দেখতেন- যখন তারা ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে যাবে, অতঃপর পালাতে গিয়েও পালাতে পারবে না [5:37, 32:20] নিকটবর্তী স্থানেই ধরা পড়বে [22:21-22]।
নাস্তিকরা জাহান্নামে গিয়ে ‛ইমান’ আনবে।
34:52 নং আয়াহ : আর (তখন) তারা বলবে- “আমরা তাঁর (আল্লাহর) ইমান/ বিশ্বাস স্থাপন করলাম”। তবে (ইমান) এখন তাদের নাগালের বাইরে [32:12, 32:29], অনেক দূরবর্তী স্থানে অবস্থিত (১)।
১) মানে, ইমান আনার জায়গা এটা নয়, ইমান আনতে হোত ইহজীবনে। তাই বলা হচ্ছে- “তবে (ইমান) এখন তাদের নাগালের বাইরে এবং অনেক দূরবর্তী স্থানে অবস্থিত”।
নাস্তিকরা ‛হাইপোথিসিস’ ছোঁড়ার জন্যেও জাহান্নামী।
34:53 নং আয়াহ : আর অবশ্যই এর পূর্বে তারা তাকে (আল্লাহকে) অস্বীকার করেছিল এবং তারা দূরবর্তী স্থান থেকে ‛হাইপোথিসিস’ (প্রমাণ নয়, অনুমান ভিত্তিক কথা) ছুঁড়ে মারত (১)।
১) যেমন, এখন অনেক নাস্তিক ‛আল্লাহ বিরোধী’ এরকম হাতামাথাহীন ‛অজানা হাইপোথিসিস’ ছোঁড়ে আমাদের দিকে। শুধু এটা দেখাতে যে, আল্লাহ নেই! অথচ আল্লাহ আছেন, কুরআন ও বিজ্ঞান দ্বারা খুব সহজে প্রমাণ করা যায়। যান, 16:29-21 দেখে আসুন।
তবে নাস্তিকদের জাহান্নামী হওয়ার মূল কারণ এটা।
34:54 নং আয়াহ : তাই আড়াল করা হবে তাদের মাঝে ও তারা যা (জান্নাত) চাইবে [7:44-46], তার মাঝে। তাদের পূর্ববর্তী দল/ উম্মত গুলোর [10:47, 13:7] ক্ষেত্রেও এটাই হবে নীতি/ পন্থা। নিশ্চয়ই তারা ছিল ‛ঘোর পাগলামি পর্যায়ের’ সন্দেহের (১) মধ্যে।
১) এটা এমন সন্দেহ যে, প্রমাণ দিলেও মেনে নিতে পারে না। অথবা এমন যে, প্রমাণ অস্বীকার করে নিজের দাবির উপর অটল থাকে।