১ নং সূরাহ | সূরাহ ফাতিহাহ | Surah no 1 | Surah Fatihah |

بِسْمِ اللّٰهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।

অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।

নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 7 টি।

মাল্টিভার্সের অস্তিত্ব রয়েছে।

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَۙ

1:1 নং আয়াহ : (ঈশ্বর হিসাবে) সমস্ত প্রশংসার [34:2, 40:65] দাবিদার শুধুমাত্র আল্লাহ। কেননা, তিনি মহাবিশ্ব সমূহের [17:99] প্রতিপালক [45:36, 64:1]।

# প্রশ্ন হবে- “কোন কারণে পবিত্র কুরআনের প্রথম সূরাহ‌র প্রথম আয়াহতেই মাল্টিভার্স সম্পর্কে কথা বলা হল”?? আল্লাহ 21:37 ও 41:53 তে বলেছেন যে, “তিনি নিদর্শন দেখাবেন ততক্ষণ, যতক্ষণ পর্যন্ত না সুস্পষ্ট হয় পবিত্র কুরআন সত্য”। এখানে সেই নিদর্শন‌ই তিনি দিয়ে রেখেছেন।

   কিভাবে! পবিত্র কুরআন যখন নাযিল হচ্ছিল, তখন সুপরিচিত বিজ্ঞান হিসাবে প্রচলিত ছিল- “জিও সেন্ট্রিক থিওরী বা পৃথিবী কেন্দ্রিক বিশ্ব ব‍্যবস্থা”। অর্থাৎ পৃথিবী পুরোপুরি স্থির এবং মহাবিশ্বের কেন্দ্র। পৃথিবী‌কে কেন্দ্র করেই সূর্য সহ গ্ৰহ উপগ্রহ ঘুরে চলেছে। এই থিওরী প্রস্তাব করেন বিজ্ঞানী টলেমি।

   অপরদিকে পবিত্র কুরআন নাযিল হ‌ওয়ার প্রায় 1 হাজার বছর পর বা আজ থেকে 500 বছর আগে বিজ্ঞান জগতে “হেলিও সেন্ট্রিক থিওরী” প্রস্তাবিত হয় বিজ্ঞানী কোপারনিকাস দ্বারা। গত থিওরী‌র সঙ্গে এই থিওরীর একটু আধটু ছাড়া বিশেষ পার্থক্য ছিল না। এই থিওরী‌তে বলা হয়- সূর্য স্থির এবং মহাবিশ্বের কেন্দ্র। পৃথিবী সহ সমস্ত গ্ৰহ উপগ্রহ গুলো সূর্য‌কে কেন্দ্র করে ঘুরছে।

   (যদিও এই থিওরীর জনক কোপারনিকাস নন, তিনি বিজ্ঞান জগতের একজন উজ্বল নক্ষত্র মুসলিম বিজ্ঞানী আবু রাইহানের থেকে এই থিওরী চুরি করেছিলেন। যিনি ইতিহাসে ‛আল বেরুনী’ নামে পরিচিত। যিনি ‛কিতাবুল হিন্দ’ নামক ব‌ইয়ে‌র লেখক হিসেবে‌ও পরিচিত। আবু রাইহান কোপারনিকাসের থেকে প্রায় 500 বছর আগে এই থিওরী প্রস্তাব করেছিলেন)।

   যাইহোক, পবিত্র এই দুই থিওরীর মাঝখানে নাযিল হয়, কিন্তু এই দুই থিওরীর একটিও গ্ৰহণ করে নি। বরং দুই থিওরী‌কে নাকচ করে দিয়েছে 36:38 এর মাধ্যমে। তার বদলে পবিত্র কুরআন ঘোষণা করল- “মহাবিশ্বের সমস্ত কিছু‌ই ঘুরছে, কেউ স্থির নয়”(36:40, 39:5)। সূর্য ঘুরছে, গ‍্যালাক্সি ঘুরছে (25:61) এমনকি আমাদের মহাবিশ্ব‌ও ঘুরছে। যদিও খুব ধীর গতিতে 10 হাজার কোটি বছরে মাত্র ‛এক পাক’। এখানেই শেষ নয়, মহাবিশ্ব‌ একটা নয়, বরং একাধিক।

   এটা বিজ্ঞান জেনেছে মাত্র কয়েক দশক আগে। কিন্তু পবিত্র কুরআন প্রথম সূরাহ‌র প্রথম আয়াহতে এটা ঘোষণা করে রেখেছিল 1500 বছর আগে। যদি কুরআন মানুষের লেখা হোত, তাহলে এতে জিও সেন্ট্রিক থিওরীর ছোঁয়া অবশ্যই থাকত। যেমন বাইবেলে রয়েছে- “You who laid the foundations of the earth, So that it should not be moved forever”(Psalm, NKJV, 104:5)। সুবিধার জন্য আরও দেখুন Psalm এর 91:1 ও 96:10 পদ। এছাড়াও পৃথিবী কেন্দ্রিক সূর্যের ঘূর্ণন সম্পর্কে বাইবেল বলে- “The sun also rises, and the sun goes down, And hastens to the place where it arose (Ecclesiastes, NKJV 1:5)। যার অনুবাদ হবে এরকম- “সূর্য ওঠে, সূর্য ডোবে। তারপর আবার আগের স্থানে ফিরে যায়”।

   যাইহোক, যেন পবিত্র কুরআনের প্রথম সূরাহ‌র প্রথম আয়াহ পড়লেই আপনি এটা বুঝতে পারেন যে, “পবিত্র কুরআন ঐশী ছাড়া মানবরচিত হতেই পারে না” সেই জন‍্যেই পবিত্র কুরআনের প্রথম সূরাহ‌র প্রথম আয়াহতেই ‛মাল্টিভার্স বা বহুবিশ্ব’ কথা বলা হয়েছে। কেননা, এই সম্পর্কে বিজ্ঞান জেনেছে মাত্র কয়েক দশক আগে!

আল্লাহ কতটা দয়ালু, কতটা করুণাময়??

الرَّحْمٰنِ الرَّحِیْمِۙ

1:2 নং আয়াহ : তিনি সীমাহীন দয়ালু ও সীমাহীন করুণাময় [2:143, 22:65]।

# দুটি আয়াত- “তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেবেন”(39:53)। “নাবী, আপনি আমার বান্দাদের‌কে বলে দিন যে, নিশ্চয়ই আমি সীমাহীন ক্ষমাশীল ও সীমাহীন করুণাময়”(15:49)।

বিচার দিবসের কর্তৃত্ব কার??

مٰلِكِ یَوْمِ الدِّیْنِؕ

1:3 নং আয়াহ : তিনি বিচার [6:73, 25:26] দিবসের একচ্ছত্র [40:20] মালিক [82:19, 85:16]।

ভিন্ন অনুবাদ : তিনি সর্বকালে দীনের বিধান জারি করার [18:26] একচ্ছত্র অধিপতি।

ভিন্ন অনুবাদ : তিনি সর্বকালে সমস্ত ব‍্যবস্থা‌পনার [18:51] একচ্ছত্র মালিক।

আমরা আল্লাহর কাছে ওয়াদা করছি।

اِیَّاكَ نَعْبُدُ وَ اِیَّاكَ نَسْتَعِیْنُؕ

1:4 নং আয়াহ : আমরা [25:74] শুধু আপনার‌‌ই ইবাদত [51:56] করব এবং (ইবাদতের ক্ষেত্রে) শুধু আপনার‌ থেকেই সাহায্য [40:60, 2:186] প্রার্থনা করব।

ভিন্ন অনুবাদ : আমরা শুধু আপনার‌ই ইবাদত [51:56] করতে চাই, সেই জন্য আপনার কাছে সাহায্য প্রার্থনা [40:60, 2:186] করছি যে,

# ‘সাহায্য প্রার্থনা করছি যে’ বলতে কি?? উত্তর সহজ- “সাহায্য প্রার্থনা করছি যে, আমাদেরকে চূড়ান্ত সফলতার পথ দেখান” (1:5)। অর্থাৎ আয়াহ‌টি পরের আয়াহর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

চূড়ান্ত সফলতার পথ প্রার্থনা।

اِهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِیْمَۙ

1:5 নং আয়াহ : আমাদের‌কে চূড়ান্ত [17:9, 34:6] সফলতার পথ [92:12] দেখান [15:41, 6:161]।

যাদের পথ চাই।

صِرَاطَ الَّذِیْنَ اَنْعَمْتَ عَلَیْهِمْ ۙ

1:6 নং আয়াহ : তাদের পথ [36:20-21], যাদেরকে আপনি নিয়ামত [6:90, 19:58] প্রদান/ দয়া করেছেন।

যাদের পথ চাই না।

غَیْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَیْهِمْ وَ لَا الضَّآلِّیْنَ۠

1:7 নং আয়াহ : অভিশপ্তদের পথ নয়, যাদের উপর (শাস্তি নেমে ছিল)। তাদের‌ও (পথ) নয়, যারা হয়েছিল পথভ্রষ্ট [3:90, 6:77, 15:56]।

4.3/5 - (7 votes)
শেয়ার করুন:

“১ নং সূরাহ | সূরাহ ফাতিহাহ | Surah no 1 | Surah Fatihah |”-এ 9-টি মন্তব্য

    • 1:6 নং আয়াহ : তাদের পথ [36:20], যাদেরকে আপনি নিয়ামত [19:58] প্রদান/ দয়া করেছেন।

      ***মনে হয় 36:20 হবে না বরং হবে:—

      1:6 নং আয়াহ : তাদের পথ [36:21], যাদেরকে আপনি নিয়ামত [19:58] প্রদান/ দয়া করেছেন

      জবাব
  1. অসাধারণ অনুবাদ, ও অসাধারণ মেধার অধিকারী
    মনের মতো অনুবাদ করেছেন (হুসেন কুরানি) …যত দিন বেচে থাকব ততদিন পরযন্ত দোয়া ও শুভকামনা রইল ও দীর্ঘ হায়াত কামনা করছি ভাই । হে আল্লাহ সবাইকে সঠিক পথ দেখান…

    জবাব

মন্তব্য করুন