বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 29 টি।
সূর্য হোয়াইট ড্রাফটে পরিণত হবে।
81:1 নং আয়াহ : যখন সূর্য তার জ্বালানি [77:8] শেষ করে গুটিয়ে সাদা বস্তুতে (হোয়াইট ড্রাফটে) পরিণত হবে।
বড় নক্ষত্র গুলো ব্ল্যাকহোলে পরিণত হবে।
81:2 নং আয়াহ : এবং যখন (বড় বড়) নক্ষত্র সমূহ কালো বস্তুতে (ব্ল্যাকহোলে) পরিণত হবে [53:1, 79:1-5, 56:75]।
পাহাড়-পর্বত গুলো দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।
81:3 নং আয়াহ : আর যখন পাহাড়-পর্বত গুলো দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাবে [27:88]।
# পাহাড় পর্বত বৃদ্ধি পায়- এটা মানুষ আজ থেকে 70-80 বছর আগেও জানত না। অবাক করা তথ্য হল- পাহাড় পর্বত বৃদ্ধির হার আগের তুলনায় বেড়েছে। যা ভবিষ্যৎ বাণীর পক্ষে যাচ্ছে
বিপদে মানুষ লোভহীন হয়ে যায়।
81:4 নং আয়াহ : আর যখন পূর্ণ গর্ভবতী উট সমূহের প্রতি কারও লোভ থাকবে না।
# অথচ পূর্ণ গর্ভবতী উট খুবই মূল্যবান। সেই যুগে যার কাছে উট থাকত, তাকে ধনী করা হোত।
পশুদের পরিণতি।
81:5 নং আয়াহ : আর (ভয়ে ভীত হয়ে) বন্য পশুরা একত্রিত হয়ে যাবে।
পানি (হাইড্রোজেন) ভবিষ্যতের জ্বালানি।
81:6 নং আয়াহ : আর যখন মহাসাগরের পানি (হাইড্রোজেন) জ্বালানি হিসাবে ব্যবহৃত হবে।
# শুধুমাত্র পানি থেকে হাইড্রোজেন আলাদা করেই তাকে জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না, বরং পানির সঙ্গে কার্বন ডাই অক্সাইড মিশিয়ে সফলতার সঙ্গে ডিজেল তৈরি করে গাড়িও চালানো শুরু হয়েছে। ‛অডি’ নামের একটা জার্মান গাড়ি তৈরির কোম্পানি, কিছুদিন আগেই বিষয়টি সামনে এনেছে। অবাক করা ব্যাপার হলো- তা আবার পরিবেশ বান্ধবও।
ক্লোন/ ক্লোনিং এর ভবিষ্যৎ বাণী।
81:7 নং আয়াহ : এবং যখন হুবহু শরীর/ ব্যক্তিত্ব তৈরি (ক্লোনিং) করা হবে।
# এখানে আরবি যু-ইজাত, যার মূল ‛যাওজা’। এই যাওজা শব্দের একাধিক অর্থ হতে পারে, যেমন- জোড়া, জমজ, বিপরীত, হুবহু দেখতেও বোঝায়। যেহেতু ভবিষ্যৎ বাচক, তাই অর্থ হবে- ক্লোন করা/ ক্লোনিং। কেননা, ক্লোনিং এ শরীর/ ব্যক্তিত্ব হুবহু একই হয়ে থাকে।
# ইতিমধ্যে বিভিন্ন ধরণের পশুপাখির ক্লোন তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। এখন পর্যন্ত মানুষের ক্লোনিং করা বেআইনি, তাই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয় নি। তবে কুরআন বলছে- “এমন সময় আসবে, যখন মানুষেরও ক্লোনিং করা হবে”।
কন্যা শিশু হত্যা নিষিদ্ধ, তার জন্য জবাবদিহিতা।
81:8 নং আয়াহ : আর যখন জীবন্ত কবর দেওয়া (শিশু) কন্যাকে জিজ্ঞাসা করা হবে-
# আরবের সমস্ত গোত্র নয়, কয়েকটি গোত্র কন্যা শিশু জন্মগ্রহণ করলেই, তাকে জীবন্ত কবর দিত। এবং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গর্ব ও উল্লাস করতো। যেমন হিন্দুরা মৃত স্বামীর জীবন্ত স্ত্রীকে স্বামীর সঙ্গে চিতায় পুড়িয়ে দিয়ে গর্ব ও উল্লাস করতো। আজও ভারতের বহু জায়গায় কন্যা সন্তানকে দেবতার জন্য উৎসর্গ তথা হত্যার রীতিনীতি রয়েছে। মিডিয়ায় এমন ঘটনা অহরহ শোনা যায়।
81:9 নং আয়াহ : “কোন অপরাধে তাকে হত্যা করা হয়েছিল” [16:58-59, 43:17]??
81:10 নং আয়াহ : আর যখন আমলনামা গুলো (বিচারের জন্য) খোলা হবে [82:10-11, 50:17-18, 17:14]।
মহাবিশ্ব সংকোচিত হবে, যদিও আজ সম্প্রসারণ চলছে।
81:11 নং আয়াহ : আর যখন মহাবিশ্বকে [51:47, 81:15] গুটিয়ে ফেলা [21:104, 69:16-17] হবে।
আমাদের জন্য জাহান্নাম এখন অপ্রস্তুত।
81:12 নং আয়াহ : আর যখন জাহান্নাম ভয়ঙ্কর ভাবে জ্বলতে শুরু করবে [32:13]।
জান্নাতকে কাছে নিয়ে আসা হবে।
81:13 নং আয়াহ : আর যখন জান্নাতকে কাছে নিয়ে আসা হবে। [26:90, 50:31]
# তবেই বিচারের পর মানুষ পুলসিরাত পার করে জান্নাতে পৌঁছাতে পারবে।
81:14 নং আয়াহ : তখন প্রত্যেক ব্যক্তি জানতে পারবে [17:14], যা নিয়ে সে উপস্থিত [18:49] হয়েছে।
মহাবিশ্ব সম্প্রসারণশীল।
81:15 নং আয়াহ : কখনও নয় (উপরিউক্ত বর্ণনা মিথ্যা নয়), আমি শপথ করছি একে অপরের থেকে দূরে সরে [51:47] যাওয়া গ্যালাক্সিদের [81:11]।
গতির কারণে গ্যালাক্সি অদৃশ্য হয়ে যায়।
81:16 নং আয়াহ : (এবং শপথ) সেই গ্যালাক্সি সমূহেরও, যে গুলো গতির কারণে অদৃশ্য হয়ে যায় [51:47, 81:15, 91:5]।
রাতের শেষ অংশ সবচেয়ে শীতল সময়।
81:17 নং আয়াহ : (আর শপথ) রাতের, যখন তা শেষ হয় ও সবচেয়ে শীতল হয়।
সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়া শুরু হয় ভোর থেকে।
81:18 নং আয়াহ : (এবং শপথ) ভোরের, যখন (গাছ) শ্বাস নেওয়া [74:33-34] শুরু করে [29:60]।
কুরআন জিবরীল (আ) এর মুখ নিঃসৃত বাণী।
81:19 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই তা (কুরআন) সম্মানিত রাসূলের (জিবরীলের) মুখ নিঃসৃত বাণী।
# অর্থাৎ মুহাম্মাদের বানানো বাণী নয় (69:40)। এই সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে দেখুন 2:97 আয়াহ।
জিবরীল (আ) এর মর্যাদা।
81:20 নং আয়াহ : তিনি (জিবরীল) খুবই শক্তিশালী [53:5], আরশের অধিপতির (আল্লাহর) কাছে মর্যাদা সম্পন্ন।
81:21 নং আয়াহ : মান্যবর (অন্যান্য মালাইকারা তার হুকুম মান্য করে), সেখানে তিনি বিশ্বস্ত।
নবী (সা) পাগল নন।
81:22 নং আয়াহ : আর (হে মাক্কাবাসিরা) তোমাদের সাথী (মুহাম্মদ) পাগল [51:52] নয়।
মুহাম্মাদ (সা) জিবরীল (আ) কে প্রথমবার দেখলেন।
81:23 নং আয়াহ : আর অবশ্যই তিনি (মুহাম্মাদ) তাকে ঊর্ধ্ব দিগন্তে সুস্পষ্ট ভাবে [53:6-12] দেখেছেন।
# অনেকে বলেন- “তাকে” বলতে আল্লাহর কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ নাবী (সা) আল্লাহকে দেখেছেন। কিন্তু নাবী (সা) নিজে বলেছেন- “আল্লাহকে নয়, তিনি দুই বার জিবরীল (আ) কে আসল আকৃতিতে দেখেছেন” (সহীহ মুসলীম, হাদীস 177)। সেই সম্পর্কেই এখানে এবং 53:6-12 তে কথা বলা হয়েছে, আর দ্বিতীয়বার জিবরীল (আ) কে দেখে ছিলেন 53:13 তে।
মুহাম্মাদ (সা) ওহী গোপন করতেন না।
81:24 নং আয়াহ : এবং তিনি (মুহাম্মাদ) গায়েব সম্পর্কিত জ্ঞান গোপনকারী নন।
কুরআন শাইত্বানের মুখ নিংসৃত বানী নয়।
81:25 নং আয়াহ : আর তা (কুরআন) বিতাড়িত শাইত্বানের মুখ নিংসৃত বানী নয় [56:79, 26:210-212]।
আল্লাহর প্রশ্ন।
81:26 নং আয়াহ : এতএব তোমরা (বিভ্রান্ত হয়ে) কোথায় যাচ্ছো??
কুরআন মহাবিশ্ব সমূহের জন্য সংবিধান।
81:27 নং আয়াহ : তা (কুরআন) মহাবিশ্ব সমূহের জন্য সংবিধান ছাড়া কিছুই নয়।
কুরআন মানা ও না মানার স্বাধীনতা।
81:28 নং আয়াহ : তার জন্য, তোমাদের মধ্যে যে চূড়ান্ত পথে চলতে চায় [1:5]।
আল্লাহ জোরজবরদস্তি পথ দেখান না।
81:29 নং আয়াহ : তবে (যে চূড়ান্ত পথে চলতে চায় না, সে) মহাবিশ্ব সমূহের প্রভুর ইচ্ছা [26:4, 6:149] ছাড়া পথ [ 16:9, 16:93, 32:12] পাবে না।
# অর্থাৎ আল্লাহ যদি জোরজবরদস্তি পথ দেখান, তাহলে ভিন্ন কথা। নয়ত সে পথ পাবে না। কেননা যে চূড়ান্ত পথে চলতে চায় না, সে চূড়ান্ত পথ পাবে কিভাবে?? হ্যাঁ, আল্লাহ জোরজবরদস্তি পথ দেখাতে চাইলে ভিন্ন কথা, তবে আল্লাহ এমনটা করেন না (2:256, 6:107)। কেননা আল্লাহ মানুষকে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি দিয়েছেন (41:40)। কুরআন অস্বীকার করার স্বাধীনতাও দিয়েছেন (18:29, 76:3)।