
হোসেন কুরানী’র ছোট বোন সাহেনারা কুরানী।
সাহেনারা কুরানী হোসেন কুরানী’র ছোট বোন। হোসেন কুরানী তাকে আদর করে ‛ছোট’ বলে ডাকেন। হোসেন কুরানী’র ধনী হওয়ার পিছনে যতটা হাত রয়েছে হোসেন কুরানী’ বড় বোনের, ততটাই হাত রয়েছে ‛ছোট’র। মানে সাহেনারা কুরানী’র।
হোসেন কুরানী’র সঙ্গে সঙ্গে বড় বোন সহ ছোট বোনও জীবনে বহু ত্যাগ স্বীকার করেছেন। 2012’র আগে এবং পরেও ভারতের প্রায় সমস্ত গ্ৰাম্য এলাকা সহ হোসেন কুরানী’র এলাকাতেও রান্নার গ্যাস/ LPG সার্ভিস ভালো ছিল না। যখন গ্যাস শেষ হয়ে যেত, তখন কেরোসিনের উপর নির্ভর হতে হোত। সরকারি কেরোসিন দোকান থেকে হোসেন কুরানী’র পরিবার 5 জনের হিসাবে 1.250 লিটার কেরোসিন পেতেন।
কিন্তু এত কম কেরোসিনে 2-1 দিন রান্না হোত। তাই সাহেনারা কুরানী বিভিন্ন বাড়ি বাড়ি গিয়ে কেরোসিন সংগ্রহ করে নিয়ে আসতেন। এমনকি আশপাশের গ্ৰামেও যেতে হোত। এখানে প্রশ্ন হবে- “তারা কেরোসিন বিক্রি করে দিতেন কেন?? তারা কিভাবে রান্না করতেন”?? যারা ধনী, তারা Black এ LPG কিনতেন, গরিবরা কেরোসিন বিক্রি করে দিতেন টাকার জন্য। তারা মাটির চুলায় কাঠ কয়লা দিয়ে রান্না করতেন।
এটা শুধুমাত্র একটা উদাহরণ যে, সাহেনারা কুরানী কি পরিমাণ কষ্ট করেছেন। হোসেন কুরানী এবং তার ভাই বোনরা সমস্ত শখ আহ্লাদ করতেন না। এমনকি দুই ঈদেও জামাকাপড় কিনতেন না। আত্মীয় স্বজনরা বিয়ে শাদী সহ বিভিন্ন কারণে দাওয়াত করলেও যেতেন না। এ কারণে আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু হোসেন কুরানী’র পরিবারের লক্ষ্য ছিল একটাই, আর তা হল- “ধনী হতে হবে। টাকার জন্য যেহেতু আব্বা ছেড়ে চলে গেছে, সেহেতু টাকা রোজগার করে দেখিয়ে দেব”।
তবে 2015 থেকে আল্লাহ পরিস্থিতি বদলে দিয়েছেন। তারপর থেকে হোসেন কুরানী সংসার সহ তার ভাইবোনদের পিছনে খরচ করা শুরু করেন। আর 2020 থেকে তারা ধনীদের মতো জীবন যাপন করছেন। আজ (2024) সাহেনারা কুরানী প্রতি মাসে ₹ 2000 টাকার আত্তর ব্যবহার করেন, প্রতি মাসে ₹ 8-10, 000 টাকার জামাকাপড় এবং প্রতিমাসে 2-1 টা করে সোনার গহনা কেনেন।
তবে আজ আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে শুধুমাত্র যান না, প্রতি সপ্তাহে কোনও না কোনও আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে যান। যাওয়ার সময় কমপক্ষে ₹ 1000 টাকা মিষ্টি সহ বিভিন্ন দামি দামি উপহার নিয়ে যান। আবার আসার সময় ₹ 2-4000 টাকা হাতে দিয়ে আসেন।

এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল- হোসেন কুরানী আজও ভিখারির মতোই জীবন যাপন করেন। হোসেন কুরানী যখন ‛ড্রেন পরিষ্কার’ করার কাজ করতেন, তখন যেমন ছিলেন, আজও তেমন আছেন। কোনও বদল নেই। হোসেন কুরানী শেষ বার নিজের জন্য জুতা কিনেছেন 2015 তে, এখন 2025 পড়তে চলেছে, সেই জুতাটা আজও চলছে।