বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 31 টি।
মানুষের অতীত, যা তার ভাবা উচিৎ।
76:1 নং আয়াহ : মানুষের উপর কি এমন ‛সময় কাল’ ছিল না, যখন সে উল্লেখযোগ্য/ গুরুত্বপূর্ণ কিছুই [19:67] ছিল না??
জাইগোট থেকে মানুষের সৃষ্টি।
76:2 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমরা মানুষকে সৃষ্টি করেছি শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলিত অবস্থা/ জাইগোট থেকে। এবং পরীক্ষার [67:2, 18:7] জন্য তাকে মাতৃগর্ভে (4 মাস বয়সে) শ্রবণ শক্তি, তারপর (5 মাস বয়সে) তাকে দৃষ্টিশক্তি প্রদান করেছি।
কুরআন অস্বীকারের স্বাধীনতা।
76:3 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমরা তাকে পথ দেখিয়েছি [92:12]। এখন হয় সে (পথ গ্ৰহণের মাধ্যমে) কৃতজ্ঞতা দেখাবে/ মূমীন হবে [64:2], নয়তো সে সত্য অস্বীকার কারী [18:29, 41:40] হবে।
কাফিরদের জন্য যা যা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
76:4 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমরা সত্য অস্বীকারকারীদের জন্য প্রস্তুত করছি শেকল সমূহ, বেড়ি সমূহ [104:9, 69:32, 111:5] ও প্রজ্বলিত আগুন।
সৎকর্মশীলদের জান্নাতী পানিয়।
76:5 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই সৎকর্মশীলরা এমন পানপাত্র থেকে পান [83:25] করবে, যাতে কপূর মেশানো [83:26] থাকবে।
জান্নাতে ইচ্ছে মতো ঝর্ণা প্রবাহিত করা যাবে।
76:6 নং আয়াহ : এমন একটি ঝর্ণা [83:27-28] থেকে আল্লাহ’র বান্দারা পান করবে যাকে সেখানে ইচ্ছা, সেখানে প্রবাহিত করা সম্ভব হবে।
আল্লাহর উদেশ্যে করা মানত পূর্ণ করা।
76:7 নং আয়াহ : তারা মানত পূর্ণ করে [22:29]। এবং এমন এক দিবসকে ভয় করে, যে দিবসে ক্ষতি চারিদিকে ছড়িয়ে থাকবে।
# হাদীশ- “তোমরা মানত করো না। কেননা, মানত পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে অক্ষম। তবে, এর দ্বারা কৃপণ লোকের কিছু অর্থ খরচ হয় মাত্র”(তিরমিযী, হাদীশ 1538)।
তবে যদি মানত শিরক বিহীন হয়, তাহলে তা পূরণ করতে হবে, নয়ত গুনাহ হবে। প্রশ্ন হবে- আল্লাহ যে মানত পূরণ করতে বলেছেন! উত্তর সহজ- আল্লাহ মানত পূরণ করতে বলেছেন, মানত করতে বলেন নি।
নিজেরা না খেয়েও বন্দীদের খাওয়ানো।
76:8 নং আয়াহ : তারা নিজেরা খাবার না খেয়েও তাকে (আল্লাহকে) ভালোবাসার [2:165] কারণে খাবার খাওয়ায় নিরুপায় গরীবকে, ইয়াতীম/ অনাথ শিশুকে ও যুদ্ধ বন্দী ও বন্দীনি/ অপরাধের শাস্তি ভোগকারী বন্দীকে।
# ইসলাম বিদ্বেষীরা বলেন- “ইসলাম যুদ্ধ বন্দী/ বন্দীনিদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করতে শেখায়”। অথচ পবিত্র কুরআন ‛নিজেরা না খেয়ে’ তাদেরকে খাওয়াতে শেখাচ্ছে। যুদ্ধ বন্দী/ বন্দীনি, দাস/ দাসী সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে 90:13 দেখুন।
মূমীন/ মুসলিম প্রতিদান তো দূরের কথা, ধন্যবাদও চায় না
76:9 নং আয়াহ : “মূলতঃ (তারা বলে) আমরা তোমাদের খাবার খাওয়াই আল্লাহর মুখমণ্ডল/ সন্তুষ্টির [92:21] জন্য। আমরা তোমাদের থেকে কোনও প্রতিদান চাই না, আর ধন্যবাদও চাই”।
মূমীন/ মুসলিম বিচার দিবসকে ভয় করে।
76:10 নং আয়াহ : (তারা আরও বলে) “নিশ্চয়ই আমরা ভয় করি সেই দিবসটিকে, যা আমাদের প্রভুর নিয়ে আসবেন। যে দিবসটি হবে ভয়ংকর ক্লেশকর [31:33]”।
আল্লাহ বিচার দিবসে যাদের রক্ষা করবেন।
76:11 নং আয়াহ : এতএব আল্লাহ তাদেরকে সেই দিবসের ক্ষতি রক্ষা করবেন [21:103, 27:89], আর তাদেরকে উপহার দেবেন উৎফুল্লতা ও আনন্দ।
ধৈর্য্যের প্রতিদান শুধুই জান্নাত।
76:12 নং আয়াহ : এবং তাদের ধৈর্য্যের প্রতিদান হিসাবে তাদেরকে দেওয়া জান্নাত [8:46] ও রেশমের পোষাক।
জান্নাতের আবহাওয়া/ জলবায়ু।
76:13 নং আয়াহ : তারা সেখানে উচ্চ আসন সমূহের উপর হেলান দিয়ে বসবে। তারা সেখানে না দেখবে রোদের প্রকোপ ও শীতের তীব্রতা।
জান্নাতীদের আয়ত্তে থাকবে ফলমূল।
76:14 নং আয়াহ : তাদের উপর থাকবে গাছপালার ছায়া এবং তার ফলমূল পূর্ণভাবে তাদের আয়ত্তে [69:23, 55:54] করে দেওয়া হবে।
জান্নাতীদের পাত্র গুলো হবে রুপা ও কাঁচের।
76:15 নং আয়াহ : তাদের পরিবেশন করা হবে রুপার পাত্রে এবং স্বচ্ছ কাঁচের পাত্রে।
রুপা দ্বারা জান্নাতী কাঁচ তৈরি হবে।
76:16 নং আয়াহ : এবং কাঁচ নির্মিত হবে রুপা দ্বারা। যা যথাযথ ভাবে পূর্ণ করে পরিবেশন [76:19] করা হবে।
# সিলভার নাইট্রেন বা AgNO3 দ্বারা উন্নত মানের কাঁচ নির্মিত হয়।
জান্নাতে আদার মিশ্রিত ঝর্না প্রবাহিত হতে থাকবে।
76:17 নং আয়াহ : সেখানে তাদেরকে পান করানো হবে এমন পানিয়, যাতে মিশ্রিত থাকবে যানজাবীল/ শুকনো আদা।
আদা মিশ্রিত ঝর্ণার নাম হবে সালসাবীল।
76:18 নং আয়াহ : এটি এমন একটি ঝর্ণা, যার নাম হবে সালসাবীল।
জান্নাতীদের পরিবেশন করবেন কারা??
76:19 নং আয়াহ : তাদের আশেপাশে পরিবেশনের দায়িত্বে থাকবে ‛সুদীর্ঘকাল স্থায়ী’ সন্তানরা [52,24 56:17]। যখন আপনি তাদের দেখবেন, তখন মনে হবে- তারা যেন ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মুক্তা।
76:20 নং আয়াহ : আর যখন যেদিকে তাকাবেন, শুধুই (আল্লাহর) নিয়ামত এবং নিয়ামতে ভরা বিরাট সম্রাজ্ঞ দেখতে পাবেন।
জান্নাতীদের পোশাকের রঙ সবুজ, রুপার চুড়ি ও বিশুদ্ধ মদ।
76:21 নং আয়াহ : তাদের পরিধান করানো হবে সবুজ রঙের পাতলা ও মোটা রেশমের পোশাক [18:31, 55:76]। এবং তাদের পরানো হবে রুপার ১ চুড়ি। এবং তাদের রাব তাদের পান করাবেন ‛বিশুদ্ধ মদ’ [47:15, 37:46-47, 56:18-19]।
১ অন্য কিছু আয়াতে (18:31, 22:23, 35:33) সোনার চূড়ির উল্লেখ রয়েছে। এটা পরস্পর বিরোধীতা নয়। মর্যাদার ভিত্তিতে কেউ সোনার চুড়ি পাবে, কেউ রুপার।
আমাদের প্রচেষ্টা প্রশংসিত হবে।
76:22 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই এটা তোমাদের প্রতিদান। এবং তোমাদের করা ‛প্রচেষ্টার’ বিনিময় [53:39]। আর তা (প্রচেষ্টা) প্রশংসিত হবে।
কুরআন নাযিল হয়েছে অল্প অল্প করে।
76:23 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমরা আপনার উপর কুরআন নাযিল [17:106] করেছি অল্প অল্প [25:32] করে।
পাপী কিংবা সত্য অস্বীকারকারীর অনুসরণ না করা।
76:24 নং আয়াহ : সুতরাং (তাদের কথায় একত্রে কুরআন নাযিলের জন্য জিদ করবেন না) আপনার প্রভুর নির্দেশের জন্য অপেক্ষা করুন [25:32]। আর আপনি তাদের মধ্যে কোনও পাপী কিংবা সত্য অস্বীকারকারীর কথা অনুযায়ি চলবেন না।
ফজর ও মাগরিবের নামাজ।
76:25 নং আয়াহ : আর আপনার প্রভুর নামের যিকির ১ করবেন সকালে ও সন্ধ্যায় [11:114]।
১ এখানে যিকির বলতে নামাজকে বোঝানো হয়েছে। যিকির শব্দের একাধিক অর্থ হয়/ হতে পারে।
ইশা ও তাহাজ্জুদের নামাজ।
76:26 নং আয়াহ : রাতের গাঢ় অন্ধকারে তাকে সিজদা করতে থাকুন [24:58], আর রাতের দীর্ঘ অংশে তার পবিত্রতা বর্ণনা [17:79] করুন।
ধনসম্পদ অর্জনের জন্য তাড়াহুড়ো করা হারাম।
76:27 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই তারা দ্রুত (ধনসম্পদ) অর্জন পছন্দ করে এবং (এ জন্যই) উপেক্ষা করে তাদের পিছনের অতিভারী দিবসটিকে।
# তাড়াহুড়োর জন্যই মানুষ খারাপ ভালো, হারাম হালাল বিচার করে না। আর এই জন্যই পৃথিবীতে এত অপরাধ, এত কারাপ্সান।
অন্য গ্ৰহেও আমাদের মতো মানুষ রয়েছে।
76:28 নং আয়াহ : আমরা তাদেরকে সৃষ্টি করেছি, তাদের অস্থিসন্ধি (বোনস জয়েন্টস) সুদৃঢ় করেছি। এবং আমরা যখন চাইবো, তখন তাদের স্থলে তাদেরই মতো (ভিন গ্ৰহের মানুষদের) নিয়ে এসে [42:29, 65:12] অবস্থা পরিবর্তন করে দিতে পারি।
# অস্থিসন্ধি সম্পর্কে একটি হাদীশ রয়েছে। হাদীশটি দেখুন, অবাক হতে বাধ্য হবেন। দেখুন- “আল্লাহ প্রত্যেক আদম সন্তানকেই 360 টি অস্থিসন্ধি বিশিষ্ট করে সৃষ্টি করেছেন”(মুসলিম, হাদীশ 1007/1)।
ইসলাম গ্ৰহণ করা/ না করার স্বাধীনতা।
76:29 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই এটা (কুরআন) তো সংবিধান। এখন যে চায় [76:3], সে তার প্রভুর দিকে [88:22] যাওয়ার পথ (ইসলাম) গ্ৰহণ [2:256] করুক [10:99]।
আল্লাহ ইসলাম গ্ৰহণের জন্য জোরজবরদস্তি করেন না।
76:30 নং আয়াহ : (যারা ইসলাম গ্ৰহণ করতে চায় না) তারা চাইবেও না, অবশ্য আল্লাহ (জোরজবরদস্তি করতে) চাইলে ভিন্ন কথা [26:4]। নিশ্চয়ই আল্লাহ জ্ঞানী ও বিজ্ঞানী।
অত্যাচারীদের জন্য কষ্টদায়ক শাস্তি প্রস্তুত থাকবে।
76:31 নং আয়াহ : তিনি যাকে [13:27, 42:13] চান, তাকে তার রহমতের মধ্যে প্রবেশ করান। এবং অত্যাচারীদের জন্য তৈরি করে রাখবেন কষ্টদায়ক শাস্তি।