বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 19 টি।
আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণার নির্দেশ।
87:1 নং আয়াহ : আপনি আপনার প্রভুর নামের পবিত্রতা ঘোষণা করুন, যিনি সুমহান।
# এই নির্দেশের জবাবে নাবী (সা) “সুবহানা রাব্বিয়াল আলা” বলতেন (আবুদাউদ, হাদীশ 883)। আর এ জন্যই তো আমরা নামাজে রুকু ও সিজদায় বলি- “সুবহানা রাব্বিয়াল আজ্বীম/ আলা”।
বিবর্তনের মাধ্যমে জীব জগতের উৎপত্তি হয়েছে।
87:2 নং আয়াহ : যিনি (জীবন) সৃষ্টি করেছিলেন [21:30, 24:45] করেছেন। অতঃপর বিবর্তন ঘটিয়েছেন।
বেশিরভাগ জীবজন্তুর পরিণতি।
87:3 নং আয়াহ : যিনি তাদেরকে নিদিষ্ট পরিণতিতে পৌঁছে দিয়েছেন। অতঃপর পথ নির্দেশনা [44:10-11, 55:35] দিয়েছেন।
# বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন- এখন পর্যন্ত 5 বার পৃথিবী থেকে জীব জগতের বিলুপ্তি ঘটেছিল। আজ পৃথিবীতে যত জীবজন্তু দেখতে পাচ্ছি, তা মোট বিলুপ্ত হওয়া জীবজন্তুদের মাত্র 1 শতাংশ। আর তাদের বিলুপ্তি আমাদের জন্য খনিজ তেল। তাই বলা হয়েছে- “যিনি তাদেরকে নিদিষ্ট পরিণতিতে পৌঁছে দিয়েছেন”।
বেশিরভাগ উদ্ভিদের পরিণতি।
87:4 নং আয়াহ : আর যিনি অসংখ্য/ অগণিত উদ্ভিদ প্রজাতি সৃষ্টি করেছিলেন।
কয়লা ও তেলের উৎপত্তি কিভাবে হয়েছে??
87:5 নং আয়াহ : অতঃপর তিনি তাদেরকে ১ পরিণত করেন কালো [95:1] বস্তুতে ২।
১ তাদেরকে বলতে?? এর আগের দুটি আয়াত দেখলেই বুঝতে পারবেন যে, বিভিন্ন প্রজাতির জীবজন্তু ও বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদের কথা বলা হচ্ছে।
২ কালো বস্তু বলতে কি?? উত্তর সহজ- অপরিশোধিত তেল ও কয়লার কথা বলা হচ্ছে। কোটি কোটি বছর মাটির গভীরে মাটির চাপ ও তাপে জীবজন্তু ও গাছপালা তেল ও কয়লায় পরিণত হয়।
নাবী (সা) কে কুরআন ভুলে না যাওয়ার গ্যারান্টি।
87:6 নং আয়াহ : আমরা আপনাকে পড়িয়ে দেব। সুতরাং ভুলে ১ যাওয়ার ভয় করবেন না [75:16-19, 20:114]।
*নবী (সা) সর্বদা কুরআন ভুলে যাওয়ার/ কুরআন হারিয়ে যাওয়ার ভয় পেতেন। কেননা, অন্যান্য কিতাব ভুলে ও হারিয়ে গিয়ে বিকৃত হয়েছিল। তাই এখানে নাবী (সা) কে কুরআন ভুলে না যাওয়ার গ্যারান্টি দেওয়া হচ্ছে। অন্যত্রে কুরআন হারিয়ে না যাওয়ার গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে (15:9)।
শুধু আল্লাহ চাইলেই কুরআন ভোলা সম্ভব, নয়ত নয়।
87:7 নং আয়াহ : তবে যদি আল্লাহ (আপনাকে ভুলিয়ে দিতে) চান, তাহলে বিষয়টি ভিন্ন ১। নিশ্চয়ই তিনি জানেন প্রকাশিত ও গোপনকৃত যা কিছু রয়েছে।
১ সাধারণ ভাবে আপনি কুরআন ভুলে যাবেন না। আল্লাহ ভুলিয়ে দিতে চাইলে ভিন্ন। কিন্তু আল্লাহ এমনটা করবেন না। সুতরাং চিন্তা করবেন না।
কুরআন মনে রাখা খুবই সহজ।
87:8 নং আয়াহ : আর আমরা আপনার জন্য (কুরআন মনে রাখা) সহজ করে ১ দেব।
১ এজন্যই পৃথিবীতে কয়েক কোটি কুরআনের হাফেজ রয়েছে। হোসেন কুরানীও তাদের মধ্যে একজন।
কুরআন প্রচারের নির্দেশনা।
87:9 নং আয়াহ : সুতরাং আপনি সংবিধান/ কুরআন প্রচার করতে থাকুন [88:21, 5:67], কেননা তা কল্যাণকর।
কুরআন মানা ও না মানার স্বাধীনতা।
87:10 নং আয়াহ : যে (পরবর্তী জীবনে খারাপ পরিণতির) ভয় করে [98:8, 6:51], সে এই নির্দেশনা গ্ৰহণ করবে [18:29, 76:3, 88:22, 50:45]
কুরআনকে উপেক্ষা করা বোকামি।
87:11 নং আয়াহ : যে উপেক্ষা করে/ করবে, সে নিতান্তই বোকা [17:9, 34:6]।
কুরআনকে উপেক্ষা করার পরিণতি।
87:12 নং আমাহ : (উপেক্ষা করার জন্য) সে ভয়ঙ্কর আগুনে প্রবেশ করবে।
জাহান্নামের ভয়াবহতা।
87:13 নং আয়াহ : অতঃপর সেখানে সে মরবেও না, আর বাঁচবেও না [20:74, 14:17]।
সফলতা কাকে বলে??
87:14 নং আয়াহ : অবশ্যই সে সফল, যে নিজেকে সংশোধন [91:9] করল [62:2]।
নামাজ আদায়কারীও সফল।
87:15 নং আয়াহ : আর যে তার প্রভুর নাম স্মরণ করে অতঃপর স্বালাত/ আদায় করলো [65:5]।
# তাহলে বেশিরভাগ নামাজী অসফল কেন?? কারণ বেশিরভাগ নামাজী আরবি জানেন না, কিন্তু নামাজে যখন পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করা হয়, তা আরবিতে। এজন্য তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে সফলতার নির্দেশনা গুলো বুঝতে পারেন না। বিস্তারিত তথ্য রয়েছে 14:4 এ।
বেশিরভাগ মানুষই ইহজীবনকে গুরুত্ব দেয়।
87:16 নং আয়াহ : না, বরং তোমরা ইহজীবনকে অত্যাধিক প্রাধান্য দাও।
আমাদের অকল্পনীয় বোকামি।
87:17 নং আয়াহ : অথচ পরবর্তী জীবন (ইহজীবনের চেয়ে সীমাহীন) উত্তম ও অনন্তকাল স্থায়ী ১।
১ কিন্তু তা সত্ত্বেও আমরা ইহজীবনকেই দিই। আর তা বোকামি ছাড়া ভিন্ন কিছু নয়।
কুরআনের পূর্ববর্তী কিতাব সমূহে কি কি ছিল??
87:18 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই এগুলোই ছিল পূর্ববর্তী সহীফা [2:97, 5:48] সমূহে।
ইবরাহীম (আ) ও মূসা (আ) এর উদাহরণ।
87: 19 নং আয়াহ : (যেমন) ইবরাহীম এবং মূসার সহীফা [53:36-37] সমূহে ১।
# এখানে ইবরাহীম (আ) ও মূসা (আ) এর উদাহরণ আনা হল কেন?? উত্তর সহজ- আসলে এখানে ইবরাহীম (আ) ও মূসা (আ) এর নাম আনা হয়েছে বিশেষ কারণে। আর তা হল- ইয়াহূদী ও খৃষ্টানগণ ইবরাহীম (আ) ও মূসা (আ) উভয়কেই সম্মান প্রদর্শন করেন, নাবী রাসুল হিসাবে গ্ৰহণ করেন। এখানে ঈশা (আ) এর নাম এজন্য আনা হয় নি যে, ঈশা (আ) কে ইয়াহূদীরা নাবী রাসূল হিসাবে গ্ৰহণ করেন না।
১ প্রশ্ন হবে- ইবরাহীম ও মূসা (আ) কত গুলো কিতাব পেয়েছিলেন যে, ‛সহীফা সমূহ’ বলা হচ্ছে?? উত্তর সহজ- ইবরাহীম (আ) ও মূসা (আ) এর গ্ৰন্থে যা ছিল, তার মূল বক্তব্য সমস্ত নাবী রাসূলদের গ্ৰন্থেই ছিল, যা 87:18 আয়াহতে বলা হয়েছে। তাই বলা হচ্ছে- “ইবরাহীম এবং মূসার সহীফা সমূহে”। অর্থাৎ ইবরাহীম ও মূসা (আ) নাম উল্লেখ করা হলেও তা সমস্ত নাবী রাসূলদের কিতাবের কথা বলা হচ্ছে। তাই সহীফা না বলে ‛সহীফা সমূহ’ বলা হয়েছে। এটা কোনও ব্যাকারণগত ভুল নয়, বরং পবিত্র কুরআনের সৌন্দর্য। যা পবিত্র কুরআনের বহু সূরাহতে দেখা যায়/ যাবে। যেমন 98:2 তে।