বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 36 টি।
ওজনে কমবেশি করা হারাম।
83:1 নং আয়াহ : ধ্বংস হবে তারা, যারা ওজনে কম বেশি করে।
নেওয়ার সময়েও মাপ ঠিক রাখতে হবে।
83:2 নং আয়াহ : (তারা ধ্বংস হবে) যারা যখন মানুষের থেকে মেপে নেয়, তখন পূর্ণ মাত্রায় নেয়।
দেওয়ার সময়েও মাপ ঠিক রাখতে হবে।
83:3 নং আয়াহ : কিন্তু যখন মেপে দেয় অথবা তাদেরকে ওজন করে দেয়, তখন কম দেয়।
অপরাধীরা অপরাধ করার সময় এ সব ভাবে না।
83:4 নং আয়াহ : তারা কি ভাবে না যে, নিশ্চয়ই তাদেরকে পুনরুত্থিত [69:16-17, 84:1-5] করা হবে [17:51]??
পুনরুত্থান অবশ্যই হবে, একটি মহা দিবসে।
83:5 নং আয়াহ : (নিশ্চয়ই তাদেরকে পুনরুত্থিত করা [64:7] হবে) একটি মহা দিবসে [1:3, 82:19]।
আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে।
83:6 নং আয়াহ : সেদিন মানব জাতি দাঁড়াবে মহাবিশ্ব সমূহের প্রভুর [78:37-39] সামনে।
পাপীদের আমলনামা কোথায় থাকে??
83:7 নং আয়াহ : কখনও (এর বিপরীত হবে) না, নিশ্চয়ই পাপীদের ‛আমলনামা’ [18:49, 50:17-18, 82:10-12] রাখা হয় সিজ্জিনে।
সিজ্জিন সম্পর্কে নাবী (সা) জানতেন না।
83:8 নং আয়াহ : আপনি কি জানেন- সিজ্জিন ১ আসলে কি??
১ কেন জানতেন না?? তিনি তো নাবী/ রাসূল ছিলেন! উত্তর রয়েছে 42:52 ও 29:48 এ।
সিজ্জিন আসলে কি??
83:9 নং আয়াহ : তা একটি ‛ডাটা রেকর্ড’ সেন্টার।
অস্বীকারকারীদের পরিণতি।
83:10 নং আয়াহ : সেদিন ধ্বংস হবে [4:42] অস্বীকার কারীরা।
83:11 নং আয়াহ : যারা বিচার দিবস সম্পর্কে (জেনে বুঝে) অস্বীকার করে [37:21]।
জেনে বুঝে কারা অস্বীকার বলে??
83:12 নং আয়াহ : তবে, এই সম্পর্কে সীমালঙ্ঘনকারী পাপী ছাড়া কেউ (জেনে বুঝে) অস্বীকার করে [69:16-17] না।
কুরআন সম্পর্কে সীমালঙ্ঘনকারী পাপী/ কাফিরদের মন্তব্য।
83:13 নং আয়াহ : যখন তার কাছে আমাদের আয়াত সমূহ পাঠ করা হয়, তখন সে বলে- “এসব পূর্ববর্তীদের মিথ্যা গল্প কাহিনী”।
কুকর্ম মস্তিষ্কের উপর প্রভাব ফেলে।
83:14 নং আয়াহ : (তাদের দাবি সত্য) নয়। বরং তারা যা অর্জন ( যে সব পাপ) করেছে, সেই সবই তাদের মস্তিষ্ক সমূহের উপর প্রভাব বিস্তার করেছে।
সীমালঙ্ঘনকারী পাপী/ কাফিররা আল্লাহর দর্শন পাবে না।
83:15 নং আয়াহ : কখনও না, নিশ্চয়ই তারা সেদিন তাদের প্রভুর দর্শন থেকে বঞ্চিত [84:6] থাকবে।
সীমালঙ্ঘনকারী পাপী/ কাফিরদের পরিণতি।
83:16 নং আয়াহ : তারপর অবশ্যই তারা প্রবেশ করবে জাহান্নামের আগুনে।
জাহান্নামীদের ব্যঙ্গ করে যা বলা হবে।
83:17 নং আয়াহ : তারপর তাদেরকে বলা হবে- “এটাই তা (জাহান্নাম), যাকে তোমরা অস্বীকার করতে/ মিথ্যা [52:14] ভাবতে”।
সৎ ব্যক্তি/ ন্যায়বিচার কারীদের ‛আমলনামা’ কোথায় থাকবে??
83:18 নং আয়াহ : কখনও নয়, নিশ্চয়ই সৎ ব্যক্তি/ ন্যায় বিচার কারীদের ‛আমলনামা’ [18:49, 50:17-18, 82:10-12] থাকবে ইল্লিয়ীনে।
ইল্লিয়ীন সম্পর্কে নাবী (সা) জানতেন না।
83:19 নং আয়াহ : আপনি কি জানেন- ইল্লিয়ীন ১ আসলে কি??
১ কেন জানতেন না?? তিনি তো নাবী/ রাসূল ছিলেন! উত্তর রয়েছে 42:52 ও 29:48 এ।
ইল্লিয়ীন আসলে কি??
83:20 নং আয়াহ : তা একটি ‛ডাকা রেকর্ড’ সেন্টার।
ইল্লিয়ীন কাদের দায়িত্বে আছে??
83:21 নং আয়াহ : নৈকট্যপ্রাপ্তরা (ফেরেস্তারা) তার তত্বাবধানে আছে।।
সৎ ব্যক্তি/ ন্যায় বিচার কারীদের পরিণতি।
83:22 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই সৎ ব্যক্তি/ ন্যায় বিচার কারীরা থাকবে নিয়ামতের মধ্যে।
জান্নাতীরা আল্লাহর ব্যবস্থা সমূহ দেখতে থাকবে।
83:23 নং আয়াহ : সুসজ্জিত আসন সমূহে বসে তারা (আল্লাহর ব্যবস্থা সমূহ) দেখতে থাকবে।
জান্নাতীদের মুখমণ্ডলে নিয়ামতের লাবণ্য থাকবে।
83:24 নং আয়াহ : আপনি তাদের মুখমণ্ডলে নিয়ামতের লাবণ্য দেখে তাদেরকে চিনতে পাবেন।
জান্নাতে সিল করা বিশুদ্ধ পানিয় পান করানো হবে।
83:25 নং আয়াহ : তাদেরকে পান করানো হবে রাহিকুর মাখতূম/ সিল করা বিশুদ্ধ পানিয় [76:5]।
রাহিকুর মাখতূম পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করার নির্দেশনা।
83:26 নং আয়াহ : তার মোহর হবে মিসক/ কস্তুরীর [76:5-6] যদি তারা (রাহিকুর মাখতূম পাওয়ার) প্রতিযোগিতা করতে চায়, তাহলে তা করতে [37:61] পারে।
রাহিকুর মাখতূমে তাসনীমের পানি মিশ্রিত করা হবে।
83:27 নং আয়াহ : তাতে মিশ্রিত করা [76:6] হবে তাসনীমের পানি।
তাসনীমের পানি কোথায় থেকে আসবে??
83:28 নং আয়াহ : তা একটি ঝর্ণা [76:6], তা থেকে নৈকট্যপ্রাপ্তগণ পান করতে থাকবে।
মূমীনদেরকে কটাক্ষ/ ব্যঙ্গ বিদ্রুপ/ উপহাস করা হোত।
83:29 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই যারা অপরাধী তারা মূমীনদের কে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ/ উপহাস করত।
মূমীনদেরকে চোখের ইশারা দ্বারা উপহাস করা হোত।
83:30 নং আয়াহ : আর তারা যখন তাদের (মূমীনদের) পাশ দিয়ে যেত, তখন তারা নিজেদের মধ্যে চোখ টিপে (একে অপরকে) ইশারা করত।
কাফিররা বাড়িতে গিয়েও মূমীনদের নিয়ে হাসাহাসি করতো।
83:31 নং আয়াহ : এবং যখন তারা (মূমীনদের ব্যঙ্গ বিদ্রুপ কারীরা) তাদের পরিবারের কাছে ফিরে যেত, তখনও হাসাহাসি করতো [84:13]।
মূমীনদের সম্পর্কে কাফিরদের মন্তব্য।
83:32 নং আয়াহ : এবং যখন তারা তাদের (মূমীনদের) কে দেখতো, তখন বলতো- “নিশ্চয়ই এরা (মূমীনরা) পথভ্রষ্ট”।
কাফিররা মূমীনদের রক্ষাকারী হতে পারে না।
83:33 নং আয়াহ : অথচ তাদের (কাফিরদের) কে তাদের (মূমীনদের) রক্ষাকারী হিসাবে পাঠানো হয় ১ নি।
১ এর অর্থ- কাফিররা কখনও মূমিনদের রক্ষাকারী হতে পারে না। তারা সর্বদাই মূমীনদের ক্ষতি করার চেষ্টায় লেগে থাকে। কমপক্ষে বর্তমান পৃথিবীর বাস্তব চিত্র সেটাই বলছে। দেখতে পারেন 3:118-120 আয়াত।
বিচার দিবসে মূমীনরা কাফিরদেরকে কটাক্ষ করবে।
83:34 নং আয়াহ : এতএব আজ (বিচার দিবস ও পরবর্তী সময়ে) মূমীনরা কাফিরদেরকে দেখে উপহাস [7:44 ও 50] করবে।
মূমীনরা কাফিরদের কষ্টকর অবস্থা দেখবে।
83:35 নং আয়াহ : সুসজ্জিত আসন সমূহের উপর বসে (কাফিরদের শাস্তি পেতে) দেখতে [37:50-57] থাকবে যে,
কাফিররা তাদের কর্মফল পাবে।
83:36 নং আয়াহ : কাফিররা কি তাদের সাওয়াব/ প্রতিদান পেল, যে কর্ম [66:7] তারা করেছিল!