৬৬ নং সূরাহ | সূরাহ তাহরীম | Surah no 66 | Surah Tahrim |

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।

অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি মহা দয়ালু এবং মহা করুণাময়।

নাযিল : মাদীনাহ, আয়াত : 12 টি।

হালাল‌কে ‛হারাম করার’ ক্ষমতা নাবী (সা) এর ছিল না।

66:1 নং আয়াহ : হে সম্মানিত নাবী, আপনি কেন তা  নিজের জন্য হারাম করে নিলেন, যা আল্লাহ আপনার জন্য হালাল করেছেন?? আপনি কি শুধুমাত্র আপনার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি চান?? যদিও আল্লাহ ক্ষমাশীল ও করুণাময়।

# নাবী (সা) কোনও বিষয় বা বস্তুকে হারাম বা হালাল করতে পারতেন না?? পারতেন, দেখুন 7:157 ও 9:29 দেখুন। কিন্তু আল্লাহ যা হালাল করেছেন, তাকে হারাম করতে পারতেন না। কিন্তু এখানে তিনি হালালকে বস্তুকে নিজের জন্য হারাম করে নিয়েছিলেন। আল্লাহ আল্লাহ এখানে এমন বক্তব্য রেখেছেন।

# প্রশ্ন হল- নাবী (সা) নিজের জন্য কি হারাম করে নিয়েছিলেন?? বুখারীর হাদীশ নং 4912 তে সহ হাদীশ‌টি কয়েকবার এসেছে এবং সহীহ সুত্রে। উক্ত বর্ণিত হাদীশে বলা হয়েছে- তা ছিল মধু। বিস্তারিত ঘটনা 66:5 ও তার টিকায় রয়েছে।

   ভিন্ন হাদীশে বলা হয়েছে যে, নাবী (সা) নিজের জন্য দাসী হারাম করে নিয়েছিলেন, যার সঙ্গে নাবী (সা) যৌনমিলন করতেন (নাষাই, হাদীশ 3959)। কিন্তু বহু মুহাদ্দিস হাদীশটিকে দ্বায়িফ/ জয়ীফ বলেছেন। কিন্তু আমাদের নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী ভাইয়েরা এই দ্বায়িফ/ জয়ীফ বা অপ্রমাণ‍্য হাদীশটিকে নিয়ে মাতামাতি করেন।

   প্রশ্ন হবে- হাদীশ‌টিকে আলবানী সহীহ বলেছেন, আপনি দ্বায়িফ/ জয়ীফ বা অপ্রমাণ‍্য বলছেন কেন?? A) হাদীশ‌টি শায হ‌ওয়ার দোষে দুষ্ট। কোনও সহীহ হাদীশ অন্য প্রমাণিত সহীহ হাদীশের বিরুদ্ধে যাবে না/ যেতে পারে না। অথচ এই হাদীশটি সুস্পষ্ট ভাবে বুখারীর প্রমাণিত সহীহ হাদীশের বিরুদ্ধে যাচ্ছে। B) ঘটনার সঙ্গে জড়িত নাবী (সা) দুই স্ত্রী (আয়িশাহ ও হাফসা)। কিন্তু হাদীশ বর্ণনা করছেন আনাস (রা)। তা কিভাবে হয়?? বর্ণনা করার কথা ছিল দুই স্ত্রীর, কিংবা তাদের মধ্যে একজনের। তাই নয় কি??

   অন‍্যদিকে বুখারীর হাদীশে মধুর বিষয়টি বর্ণনা করেছেন নাবী দুই স্ত্রীর মধ্যে একজন, যিনি উক্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত। অর্থাৎ আয়িশাহ (রা)। এখন বিষয়টি নিয়ে ভেবে সিদ্ধান্ত নিন। শুধুমাত্র ইসলাম বিদ্বেষের জন্য কোনও মিথ্যা কে সত্য হিসাবে ধরে কাউকে বদনাম করা আসলেই কতটা যুক্তিযুক্ত! আপনার ধর্মে বা নাস্তিকতা কি তা অনুমোদন করে??

   প্রশ্ন হবে- নাবী (সা) তো দুটি দাসী পেয়েছিলেন! হ‍্যাঁ, একটি দাসী (মারিয়া কিবতীয়া)। মিশরের সম্রাট নাবী (সা) কে উপহার দিয়েছিলেন। কিন্তু মারিয়া (রা) সত্যিই কি নাবী (সা) কাছে দাসী হিসাবে ছিলেন?? না, একটি হাদীশ দেখুন- “নাবী (সা) দীনার দিরহাম, দাস দাসী কিছুই রেখে যান নি”(বুখারী, হাদীশ 4461 ও 2739)।

   কেউ বলতে পারেন- হয়ত মৃত্যুর পূর্বে তাকে মুক্ত করে দিয়েছিলেন! হ‍্যাঁ, হতে পারে। আরেকটি হাদীশ দেখে সিদ্ধান্ত নিন- “আবূ যার (রা) বলেন যে, রাসূল (সা) বলেছেন- তোমরা অদূর ভবিষ্যতে এমন এক এলাকা জয় করবে, যেখানে ক্বীরাত্ব (এক দীনারের ২০ ভাগের একভাগ স্বর্ণমুদ্রা) উল্লেখ করা হয়।

   অন্য এক বর্ণনায় আছে- “তোমরা অচিরে মিসর জয় করবে এবং এটা এমন ভূখণ্ড যেখানে ক্বীরাত্ব (শব্দ) সচরাচর বলা হয়। তোমরা তার অধিবাসীদের সাথে ভাল ব্যবহার করবে। কেননা, তাদের প্রতি (আমাদের) দায়িত্ব ও আত্মীয়তা রয়েছে”।

   অন্য এক বর্ণনায় আছে- “সুতরাং যখন তোমরা তা (মিশর) জয় করবে, তখন তার অধিবাসীর প্রতি সদ্ব্যবহার করো। কেননা, তাদের প্রতি (আমাদের) দায়িত্ব ও আত্মীয়তা রয়েছে”। অথবা বললেন- “দায়িত্ব এবং বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে” (হাদীশ সম্ভার, হাদীশ 1753 এবং মুসলিম, হাদীশ 2543/1-2)।

   নাবী (সা) বলেছেন- “মিশর বাসীদের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে”। কার সঙ্গে?? মারিয়া (রা) এর সঙ্গে। তার বাড়ি ছিল মিশর, ইতিমধ্যেই তা হয়ত জেনে নিয়েছেন! তাই না?? জানেন তো?? না জানলে জেনে নিন যে, নাবী (সা) অন‍্য কোনও স্ত্রীর বাপের বাড়ি মিশরে নয়। এও জেনে রাখুন- মুয়াবিয়া (রা) মিশর বাসীদের জিজিয়া মাফ করে দিয়েছিলেন নাবী (সা) এর শ্বশুরবাড়ি হ‌ওয়ার জন্য, নাবী (সা) এর স্ত্রী মারিয়া কিবতীয়া (রা) এর বাপের বাড়ি হ‌ওয়ার জন্য।

   এই দুটি হাদীশ এটা প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট যে, মারিয়া (রা) নাবী (সা) এর স্ত্রী ছিলেন, দাসী নয়। এখন কি বলবেন?? যাইহোক এখন বাকি থাকলো রাইহানা (রা) এর প্রসঙ্গ, যাকে নাবী (সা) এর দাসী বানানোর খুব চেষ্টা করা হয়ে থাকে। যদিও নাবী (সা) তাকে দাসী হিসাবে‌ই পেয়েছিলেন। তারপর নাবী (সা) তাকে দাসীত্ব হতে মুক্তি দেন এবং 500 দীরহাম মোহরানা দিয়ে বিবাহ করেন। বিস্তারিত তথ্য রয়েছে 88:22 এর টিকায়।

আমাদের মাওলা আল্লাহ।

66:2 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের শপথ গুলোর বাধ‍্যবাধকতা থেকে মুক্তি‌র ব‍্যবস্থা করেছেন [5:89]। এবং আল্লাহ হলেন তোমাদের মাওলা (অভিভাবক)। আর তিনিই মহাজ্ঞানী ও মহাবিজ্ঞানী।

নাবী (সা) হাদীশ বর্ণনা করতেন।

66:3 নং আয়াহ : আর যখন নাবী তার কোনও এক স্ত্রীকে গোপনে একটি হাদীশ/ কথা বলেছিলেন। অতঃপর যখন সেই (স্ত্রী) অন্য‌ (স্ত্রী) কে তা বলে দেয়, তখন আল্লাহ তা নাবীকে জানিয়ে দিলেন। তখন নাবী (তার সে‌ই স্ত্রীকে) কিছুটা অবকাশ দিলেন ও কিছুটা এড়িয়ে গেলেন। অতঃপর যখন (নাবী) তাকে (সেই স্ত্রীকে) বিষয়টি জানালেন, তখন সেই স্ত্রী বললেন- “আপনাকে এই তথ্য জানালেন কে”?? (নাবী) বললেন- “আমাকে সেই তথ্য জানিয়েছেন তিনি, যিনি মহাজ্ঞানী ও সমস্ত বিষয়ের পূর্ণ জ্ঞান রাখেন।

আয়িশাহ (রা) ও হাফসাহ (রা) কে তাওবার নির্দেশ।

66:4 নং আয়াহ : আপনারা দুজনে (দুজন স্ত্রী) তাওবা করুন আল্লাহর কাছে। অবশ্যই আপনাদের মস্তিষ্ক অন‍্যায়ের দিকে ঝুঁকে‌ছে। আপনারা দুজনে যদি তার (নাবীর) বিরুদ্ধে একে অপরকে সাহায্য করেন, তাহলে (জেনে রাখুন) আল্লাহ তার মাওলা/ সাহায্য‌কারী। সঙ্গে জিবরীল, পূণ‍্যবান মূমীনরা‌ ও অন‍্যান‍্য ফেরেস্তারাও।

66:5 নং আয়াহ : যদি (নাবী) আপনাদের‌কে ত্বালাক দিয়ে দেন, তবে তার প্রভু আপনাদের বদলে এমন সব স্ত্রী দেবেন, যারা আপনাদের চেয়ে উত্তম হবেন। যারা মুসলিমা, মূমিনা, অনুগত্য‌কারীনি, তাওবাকারীনি, ইবাদাত‌কারীনি, সিয়াম পালন‌কারীনি, ত্বালাক প্রাপ্তা/ বিধবা ও কুমারী।

# প্রশ্ন হবে- এই 66:1-5 পর্যন্ত আয়াত নাযিল হল কেন?? হাদীশ দেখুন- “আয়িশাহ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- নাবী (সা) যাইনাব বিনত জাহাশের নিকট কিছু বেশী সময় অবস্থান করতেন এবং সেখানে তিনি মধু পান করতেন। তাই আমি ও হাফসাহ পরামর্শ করে ঠিক করলাম যে, আমাদের মধ্যে যার নিকটই নাবী (সা) প্রবেশ করবেন, সেই যেন বলি- আমি আপনার কাছ থেকে ‘মাগাফীর’ এর দুর্গন্ধ পাচ্ছি। আপনি কি ‛মাগাফীর’ খেয়েছেন। এরপর তিনি তাদের একজনের নিকট প্রবেশ করলে তিনি‌ও তাকে সেরূপ বললেন। তিনি (নাবী) বললেন- আমি তো যাইনাব বিনতে জাহাশের নিকট মধু পান করেছি। আমি পুনরায় এ কাজ (মধু পান) আর কখনও করব না (এবং মধুকে নিজের জন্য হারাম করে নিলেন)।

এ প্রসঙ্গেই অবতীর্ণ হয়- “হে সম্মানিত নাবী, কেন আপনি তা নিজের জন্য হারাম করে নিলেন, যা আল্লাহ আপনার জন্য হালাল করেছেন”?? “…আপনারা দুজনে (দুজন স্ত্রী) তাওবা করুন আল্লাহর কাছে”- এখানে আয়িশাহ ও হাফসাহকে উদেশ্য করে বলা হয়েছে। …“আর যখন নাবী তার কোনও এক স্ত্রীকে গোপনে একটি হাদীশ/ কথা বলেছিলেন”(বুখারী, হাদীশ 4912, 5267)।

আসলে নাবী (সা) গোপনে বলেছিলেন- “এ কথা কাউকে বলো না”। এর অর্থ- যাইনাব বিনত জাহাশ’কে বলো না যে, তার থেকে মধু পানের কারণে আমার মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল, তাহলে সে কষ্ট পাবে”।

কেননা, নাবী (সা) এর মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হবে- এটা তিনি মোটেও পছন্দ করতেন না। তাই নাবী (সা) সঙ্গে সঙ্গে মধু হারাম করে নেন (মুসলিম, হাদীশ 1474/b)।

আরও একটা হাদীশ দেখলে ব‍্যাপারটা পরিষ্কার হবে- “জিবরীল আমার কাছে যখনই আসতেন, তখন‌ই আমাকে বেশি বেশি মিস‌ওয়াক করার নির্দেশ দিতেন। এত বেশি যে, আমার মনে হোত- আমার সমস্ত দাঁত ক্ষয়ে যাবে”(মুসনাদে আহমাদ, 22269)। এবার মনে হয় ব‍্যাপারটা পরিষ্কার যে, নাবী (সা) কেন ‛মধুর ও মাগাফীর’ এর বিষয়টি এত গুরুত্ব দিয়েছিলেন!

পরিবার‌কে জাহান্নাম থেকে রক্ষার নির্দেশ।

66:6 নং আয়াহ : হে সত্য স্বীকার করা সম্মানিত মানুষজন, তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার‌কে (জাহান্নামের) আগুন থেকে রক্ষা করো [20:132]। যার জ্বালানি হবে মানুষ ও পাথর [2:24, 21:98-99, 37:22। সেখানে আছে নির্দয় ও কঠোর ফেরেস্তারা (যারা দয়া করবে না)। আল্লাহ যা নির্দেশ দেন, তারা তা অমান্য করে না। বরং যা নির্দেশ দেওয়া হয়, তারা তাই করে [6:61]।

সত্য অস্বীকার‌কারীদের জন্য ঘোষণা।

66:7 নং আয়াহ : (সে দিন বলা হবে) হে সম্মানিত সত্য অস্বীকার‌কারীগণ, আজ তোমরা কোনও বাহানা উপস্থিত করো না। মূলতঃ তোমাদের‌কে সেই কর্মের প্রতিদান দেওয়া হবে, যে কর্ম তোমরা করে এসেছো।

■ খাঁটি তাওবা করার নির্দেশ। ■ আলো গতিশীল।

66:8 নং আয়াহ : হে ইমান আনা সম্মানিত মানুষজন, তোমরা তাওবা (গুরুত্ব সহ ক্ষমা প্রার্থনা) করো, খাটি তাওবা। সম্ভবত তোমাদের রাব তোমাদের পাপ সমূহ মিটিয়ে দেবেন [দেখুন 25:74]। এবং এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যাতে নিয়ন্ত্রাধীন ভাবে প্রবাহিত হতে থাকবে নদনদী সমূহ। সেদিন নাবী এবং যারা তার সঙ্গে সত্য স্বীকার করেছে, তাদের‌কে লজ্জিত করবেন না। সেদিন তাদের (ভাল কাজ গুলো) নূর/ আলো ছুটোছুটি করবে তাদের সামনে ও ডানে। তারা বলবে- “হে আমাদের প্রভু, আমাদের নূর (কর্মের কমতি খামতি) কে পূর্ণ করে দিন [57:12]। আমাদের‌কে ক্ষমা করে দিন। নিশ্চয়ই আপনি সমস্ত কিছুর উপর ক্ষমতা বান”।

আল্লাহ কাউ‌কে জাহান্নামে দিতে চান না।

66:9 নং আয়াহ : হে সম্মানিত নাবী, আপনি সত‍্যঅস্বীকার কারী ও মুনাফিকদেরকে সংশোধনের জন্য জিহাদ/ প্রচেষ্টা করুন এবং অবিরত লেগে থাকুন। (নয়তো) তাদের আশ্রয়স্থল হবে জাহান্নাম [4:147]। আর তা (জাহান্নাম) প্রত‍্যাবর্তনের জন্য নিকৃষ্ট স্থান।

দুই নাবীর স্ত্রী জাহান্নামী।

66:10 নং আয়াহ : যারা সত্য অস্বীকার‌কারী তাদের জন্য আল্লাহ নূহের স্ত্রী ও লূতের স্ত্রীর উদাহরণ পেশ করেন। তার দুজন (স্ত্রী) আমাদের দুই পূণ‍্যবান বান্দার সঙ্গে ছিল। তারা দুজন (স্ত্রী) দুজন (নাবীর) সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা [4:107] করেছিল। ফলে তারা দুজন (নাবী) দুজন (স্ত্রী‌র) জন্য আল্লাহর বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারেন নি। এবং (পরবর্তী জীবনে দুই স্ত্রীকে) বলা হবে- “দুজনে আগুনে (জহান্নামে) প্রবেশকারীদের সঙ্গে প্রবেশ করো”।

# অনেকেই এই আয়াহ দেখিয়ে বলেন- “কাফির নারী বা পুরুষ‌কে বিবাহ করা যাবে”। অথচ আয়াহ‌র বিধান 60:10 দ্বারা রহিত হয়ে গেছে। 69:10 এ পরিষ্কার ভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে যে, কাফির নারী/ পুরুষ মূমীন/ মূমীনাদেল যোগ্য নয়। এছাড়াও 2:221 আয়াহ‌ও তাই বলে।

ফির‌আউনের স্ত্রী জান্নাতী, এবং তার প্রার্থনা।

66:11 নং আয়াহ : যারা সত্য স্বীকার করেছে, আল্লাহ তাদের জন্য ফির‌আউনের স্ত্রীর উদাহরণ পেশ করেন। তিনি (ফির‌আউনের স্ত্রী) বলেছিলেন- “হে আমার প্রভু, আমার জন্য আপনার নিকট জান্নাতে একটি ঘর বানান। এবং আমাকে উদ্ধার করুন ফির‌আউন হতে এবং আমাকে উদ্ধার করুন তার নিকৃষ্ট কর্ম হতে [89:। আর আমাকে উদ্ধার করুন অত‍্যাচারী কাওম/ জাতি হতে”।

মার‌ইয়াম (আ) উভলিঙ্গ ছিলেন।

66:12 নং আয়াহ : আর (আল্লাহ) ইমরানের কন্যা মার‌ইয়ামের‌ও উদাহরণ পেশ করছেন। যিনি তার জনন অঙ্গ সংরক্ষণ ১ করেছিলেন (তিনি ব‍্যভিচারী ছিলেন না)। অতঃপর আমরা তার ২ ভিতরে আমাদের রূহ (নির্দেশ) প্রবেশ করালাম। আর তিনি তার প্রতিপালকের বাণী সমূহ ও (তার পূর্ববর্তী) কিতাব সমূহের সত‍্যতা স্বীকার করেছিল। তিনি ছিলেন অনুগতাদের অন্তর্ভুক্ত [3:43]।

১ তিনি ব‍্যভিচারী ছিলেন না। এটা বলার কারণ হল- ইয়াহূদী‌রা মার‌ইয়াম (আ) কে ব‍্যভিচারী বলত (4:156)। তারা বলত- “ঈশা মার‌ইয়ামের অবৈধ সন্তান”। অবাক করা ব‍্যাপার হল- আজ‌ও তারা একথা বলে। তবুও ইয়াহূদী‌রা খৃষ্টানদের পরম বন্ধু, আর মুসলীমরা শত্রু!

২ তার বলতে মার‌ইয়ামের কথা বলা হচ্ছে। লক্ষ‍্যণীয় বিষয় হল- এখানে ‛তার জন্য’ আরবি ‛ফিহি’ শব্দের ব‍্যবহার করা হয়েছে। যা পুরুষ বাচক শব্দ। কিন্তু 21:91 এ এক‌ই বক্তব্যে ‘তার জন্য’ আরবি ‛ফিহা’ শব্দের ব‍্যবহার করা হয়েছে। যা নারী বাচক শব্দ। তার মানে, তিনি ছিলেন উভলিঙ্গ। অর্থাৎ তিনি শুধু নারী হিসাবে ডিম্বাণু বহন করতেন, তা নয়। তিনি শুক্রাণু‌ও বহন করতেন। এজন্যই তিনি স্বামী ছাড়া সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। আর আজকের বিজ্ঞান‌ও তাই বলে। বিজ্ঞানের ভাষায় এই ঘটনাকে ‛হারমাফ্রোডিট’ বলে।

5/5 - (1 vote)
শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন