৬৬ নং সূরাহ | সূরাহ তাহরীম | আয়াহ ১ | কুরআন ৬৬:১ | Surah no 66 | Surah Tahrim | Ayah 1 | Quran 66:1 |

হালাল‌কে ‛হারাম করার’ ক্ষমতা নাবী (সা) এর ছিল না।

66:1 নং আয়াহ : হে সম্মানিত নাবী, আপনি কেন তা ১ নিজের জন্য হারাম করে নিলেন, যা আল্লাহ আপনার জন্য হালাল করেছেন?? আপনি কি শুধুমাত্র আপনার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি চান?? যদিও আল্লাহ ক্ষমাশীল ও করুণাময়।

১ প্রশ্ন হল- নাবী (সা) নিজের জন্য কি হারাম করে নিয়ে ছিলেন?? বুখারীর হাদীশ নং 4912 তে সহ হাদীশ‌টি কয়েকবার এসেছে এবং সহীহ সুত্রে। উক্ত বর্ণিত হাদীশে বলা হয়েছে- তা ছিল মধু। বিস্তারিত ঘটনা 66:5 ও তার টিকায় রয়েছে।

   ভিন্ন হাদীশে বলা হয়েছে যে, নাবী (সা) নিজের জন্য দাসী হারাম করে নিয়েছিলেন, যার সঙ্গে নাবী (সা) যৌনমিলন করতেন (নাষাই, হাদীশ 3959)। কিন্তু বহু মুহাদ্দিস হাদীশটিকে দ্বায়িফ/ জয়ীফ বলেছেন। কিন্তু আমাদের নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী ভাইয়েরা এই দ্বায়িফ/ জয়ীফ বা অপ্রমাণ‍্য হাদীশটিকে নিয়ে মাতামাতি করেন।

   প্রশ্ন হল- হাদীশ‌টিকে আলবানী সহীহ বলেছেন, আপনি দ্বায়িফ/ জয়ীফ বা অপ্রমাণ‍্য বলছেন কেন?? A) হাদীশ‌টি শায হ‌ওয়ার দোষে দুষ্ট। কোনও সহীহ হাদীশ অন্য প্রমাণিত সহীহ হাদীশের বিরুদ্ধে যাবে না/ যেতে পারে না। অথচ এই হাদীশটি সুস্পষ্ট ভাবে বুখারীর প্রমাণিত সহীহ হাদীশের বিরুদ্ধে যাচ্ছে। B) ঘটনার সঙ্গে জড়িত নাবী (সা) দুই স্ত্রী (আয়িশাহ ও হাফসা)। কিন্তু হাদীশ বর্ণনা করছেন আনাস (রা)। তা কিভাবে হয়?? বর্ণনা করার কথা ছিল দুই স্ত্রীর। কিংবা তাদের মধ্যে একজনের। তাই নয় কি??

   অন‍্যদিকে বুখারীর হাদীশে মধুর বিষয়টি বর্ণনা করেছেন নাবী দুই স্ত্রীর মধ্যে একজন, যিনি উক্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত। অর্থাৎ আয়িশাহ (রা)। এখন বিষয়টি নিয়ে ভেবে সিদ্ধান্ত নিন। শুধুমাত্র ইসলাম বিদ্বেষের জন্য কোনও মিথ্যা কে সত্য হিসাবে ধরে কাউকে বদনাম করা আসলেই কতটা যুক্তিযুক্ত! আপনার ধর্মে বা নাস্তিকতা কি তা অনুমোদন করে??

   প্রশ্ন হবে- নাবী (সা) দুটি দাসী পেয়েছিলেন! হ‍্যাঁ, একটি দাসী (মারিয়া কিবতীয়া)। মিশরের সম্রাট নাবী (সা) কে উপহার দিয়েছিলেন। কিন্তু মারিয়া (রা) সত্যিই কি নাবী (সা) কাছে দাসী হিসাবে ছিলেন?? না, একটি হাদীশ দেখুন- “নাবী (সা) দীনার দিরহাম, দাস দাসী কিছুই রেখে যান নি”(বুখারী, হাদীশ 4461 ও 2739)।

   কেউ বলতে পারেন- হয়ত মৃত্যুর পূর্বে তাকে মুক্ত করে দিয়েছিলেন! হ‍্যাঁ, হতে পারে। আরেকটি হাদীশ দেখে সিদ্ধান্ত নিন- “আবূ যার (রা) বলেন যে, রাসূল (সা) বলেছেন- তোমরা অদূর ভবিষ্যতে এমন এক এলাকা জয় করবে, যেখানে ক্বীরাত্ব (এক দীনারের ২০ ভাগের একভাগ স্বর্ণমুদ্রা) উল্লেখ করা হয়।

   অন্য এক বর্ণনায় আছে- “তোমরা অচিরে মিসর জয় করবে এবং এটা এমন ভূখণ্ড যেখানে ক্বীরাত্ব (শব্দ) সচরাচর বলা হয়। তোমরা তার অধিবাসীদের সাথে ভাল ব্যবহার করো। কেননা, তাদের প্রতি (আমাদের) দায়িত্ব  এবং আত্মীয়তা রয়েছে”।

   অন্য এক বর্ণনায় আছে- “সুতরাং যখন তোমরা তা জয় করবে, তখন তার অধিবাসীর প্রতি সদ্ব্যবহার করো। কেননা, তাদের প্রতি (আমাদের) দায়িত্ব এবং আত্মীয়তা রয়েছে”। অথবা বললেন- “দায়িত্ব এবং বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে” (হাদীশ সম্ভার, হাদীশ 1753)।

   নাবী (সা) বলেছেন- “মিশর বাসীদের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে”। কার সঙ্গে?? মারিয়া (রা) এর সঙ্গে। তার বাড়ি ছিল মিশর, ইতিমধ্যেই তা হয়ত জেনে নিয়েছেন! তাই না?? জানেন তো?? না জানলে জেনে নিন যে, নাবী (সা) অন‍্য কোনও স্ত্রীর বাপের বাড়ি মিশরে নয়। এও জেনে রাখুন- মুয়াবিয়া (রা) মিশর বাসীদের জিজিয়া মাফ করে দিয়েছিলেন নাবী (সা) এর শ্বশুরবাড়ি হ‌ওয়ার জন্য, নাবী (সা) এর স্ত্রী মারিয়া কিবতীয়া (রা) এর বাপের বাড়ি হ‌ওয়ার জন্য।

   এই দুটি হাদীশ এটা প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট যে, মারিয়া (রা) নাবী (সা) এর স্ত্রী ছিলেন, দাসী নয়। এখন কি বলবেন?? যাইহোক এখন বাকি থাকলো রাইহানা (রা) এর প্রসঙ্গ, যাকে নাবী (সা) এর বানানোর খুব চেষ্টা করা হয়ে থাকে। আমরা 33:50 এ এই সম্পর্কে কথা বলব।

5/5 - (1 vote)
শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন