বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাদীনাহ, আয়াত : 12 টি।
ত্বালাক দেওয়ার পদ্ধতি।
65:1 নং আয়াহ : হে সম্মানিত নাবী, (জানিয়ে দিন) তোমরা যখন তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের ত্বালাক [4:34-35] দিবে তখন ইদ্দাত অনুযায়ী ত্বালাক দেবে ও ইদ্দাত গণনা করবে (১)। এবং আল্লাহকে ভয় কর, যিনি তোমাদের প্রতিপালক। তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) কে ঘরবাড়ি গুলো থেকে বের করে দেবে না, আর না তারা নিজেরা বেরিয়ে যাবে। তবে যদি অশ্লীলতায় লিপ্ত হয় এবং তা প্রমাণিত হয়, তবে ভিন্ন কথা। আর ঐ গুলো আল্লাহর সীমারেখা। তবে যে আল্লাহর সীমারেখা লঙ্ঘন করে, সে অবশ্যই তার নিজের উপর অত্যাচার (২) করলো। আপনি তো জানেন না, হয়তো তার পরেও (এক কিংবা দুই ত্বালাক হওয়ার পরও) আল্লাহ কোনও উপায় (৩) বের করে দেবেন।
#এই আয়াহটি পড়ার আগে বা আয়াহটিকে ভালো ভাবে বোঝার জন্য 4:34-35 আয়াত টি পড়ুন।
১) মনে করুন- আপনি জানুয়ারি মাসে স্ত্রীকে ত্বালাক দিলেন, তারপর আপনার স্ত্রীর ঋতুস্রাব হল, তারপর ঋতুস্রাব শেষ হল, তখন দ্বিতীয় ত্বালাক দিতে পারবেন। তারপর আবার ঋতুস্রাব হয়ে আবার শেষ হল, তারপর তৃতীয় ত্বালাক দিতে পারবেন। এভাবে মোটামুটি তিন মাসে তিনটি ত্বালাক হবে। তারপর স্ত্রী স্বামীর ঘর ত্যাগ করবে। তার আগে নয়। বলে রাখা ভালো যে, ঋতুস্রাব অবস্থায় ত্বালাক দেওয়া হারাম (বুখারী, হাদীস 4908)।
২) “নিজের উপর অত্যাচার”। এটা প্রচলিত কথা, প্রবাদ। যার অর্থ- নিজের উপর আল্লাহর শাস্তি অবধারিত করে নিল।
৩) আসলে আল্লাহ চান না ত্বালাক হোক। কারণ এতে হয়ত স্বামী/ স্ত্রী অথবা উভয়ই হয়তো শান্তি পান কিন্তু সন্তানরা পায় শাস্তি। আর মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাদের অধিকার খর্ব হয় (4:5)।
স্বামী স্ত্রী পৃথক হওয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়।
65:2 নং আয়াহ : অতঃপর যখন তারা (তাদের ইদ্দাত) শেষ সীমায় পৌঁছে যাবে (এবার ত্বালাক কার্যকর হয়ে যাবে)। তখন তোমরা তাদের মর্যাদাপূর্ণ ভাবে (স্ত্রী হিসাবে) রাখো, নয়তো তোমরা তাদেরকে পরিপূর্ণ সম্মান দিয়ে আলাদা হয়ে যাও [2:231, 2:237]। এবং তোমরা তোমাদের মধ্যে থেকে দুজন ন্যায়পরায়ণ মানুষকে সাক্ষী রাখবে। এবং তোমরা আল্লাহ’র জন্য সঠিক সাক্ষ্য দেবে। ঐ ভাবে তোমাদের কে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। (এগুলো) তার জন্য, যে আল্লাহ ও পরবর্তী জীবন স্বীকার করে। আর যে আল্লাহর জন্য তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন করবে, তার জন্য তিনি (সমস্যা থেকে) নিস্কৃতির পথ বের করে দেবেন।
# স্বামীর ঘর ত্যাগ করার পরের বিধান 2:228 এ বলা হয়েছে।
আল্লাহর বিধান মেনে চলার সুফল।
65:3 নং আয়াহ : আর তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দেবেন, যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর উপর নির্ভর করে, তার জন্য তিনি (আল্লাহ) যথেষ্ট [14:12] এবং আল্লাহ তার উদেশ্য পূর্ণ করবেনই করবেন। অবশ্যই আল্লাহ সমস্ত কিছুর জন্য নিদিষ্ট পন্থা রেখেছেন।
ত্বালাকে ঋতুস্রাব সম্পর্কিত সমস্যা ও সমাধান।
65:4 নং আয়াহ : তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যারা ঋতুচক্র হতে নিরাশ ১ হয়ে গেছে। এমন অবস্থায় ইদ্দত সম্পর্কে সন্দেহ হলে, তাদের ইদ্দত তিন মাস। এবং তাদের জন্যেও, (রোগের কারণে বয়স হওয়া সত্ত্বেও) যাদের ঋতুস্রাব শুরুই হয় নি ২। এবং গর্ভবতীদের ইদ্দাত হলো সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত। আর যে আল্লাহর জন্য তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন করে তার বিধান মেনে চলে, তার কাজ তিনি সহজ করে দেন।
১ কোনও রোগের কারণে বা বয়সের কারণে ঋতু বন্ধ হয়ে গেছে।
২ ইসলাম বিদ্বেষীরা বলেন- “ঋতুস্রাব শুরুই হয় নি” মানে বাল্য বিবাহের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু প্রসঙ্গ দেখলে বোঝা যাবে যে, আসলে তা নয়। প্রসঙ্গ হল- রোগ বা বয়সের কারণে যাদের ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাহলে পরবর্তী অংশে কিভাবে বাল্য বিবাহের কথা বলা হতে পারে?? পরবর্তী অংশে “বয়স হওয়া সত্ত্বেও রোগের কারণে ঋতুস্রাব শুরু হয় নি” হওয়াটাই যৌক্তিক। কারণ, প্রসঙ্গ রোগ বা বয়স। বিবাহের ‛বয়স’ সম্পর্কে 4:6 এ কথা বলা হয়েছে।
কিভাবে মহান ব্যক্তি হওয়া সম্ভব??
65:5 নং আয়াহ : ঐ গুলো আল্লাহর বিধান, যা তোমাদের জন্য নাযিল করেছেন। আর যে আল্লাহর বিধান মেনে চলে, তিনি তার পাপ সমূহ [25:74] মোচন করবেন [11:114]। আর তাকে মহান ব্যক্তিতে পরিণত করবেন এবং প্রতিদান (আল্লাহর সন্তুষ্টি ও জান্নাত) তো আছেই।
মাতৃদুগ্ধ সন্তানের অধিকার।
65:6 নং আয়াহ : (ত্বালাক চলাকালীন) তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ি তাদেরও (স্ত্রীদেরও) বসবাস করতে দাও সেখানে, যেখানে তোমরা বসবাস কর। এবং তাদেরকে কষ্ট দিও না, বিপদে ফেলার উদ্দেশ্যেও কিছু করবে না। আর যদি তারা গর্ভবতী হয়, তাহলে তাহলে তাদের সমস্ত খরচ বহন করবে, যতক্ষণ না সন্তান প্রসব হয়। আর যদি তারা (ত্বালাক হওয়ার পরও) তোমাদের সন্তানকে দুধ পান করায়, তাহলে তাদের পারিশ্রমিক সমূহ প্রদান করবে। আর (সন্তানের কল্যাণের জন্য) উত্তম পন্থায় (ত্বালাক হয়ে যাওয়া স্বামী স্ত্রী) নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করবে। আর যদি পরস্পরের প্রতি কঠোর হও, তবে তাকে (সন্তানকে) অন্য নারী দুধ [2:233] পান ১ করাবে।
১ ত্বালাকে স্বামী স্ত্রী উভয়ই জিতে যায়, কিন্তু তাদের সন্তান হেরে যায়। সঙ্গে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু পবিত্র কুরআন সন্তানের অধিকার রক্ষার ব্যবস্থা করেছে। যে কোনও উপায়ে সন্তানকে তার অধিকার দিতে হবে। যদি সন্তান মাতৃদুগ্ধ না পায়, তাহলে শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয়। তাই পবিত্র কুরআন সন্তানের দুধপান সম্পর্কিত অধিকার নিশ্চিত করেছে, যে কোনও মূল্যে।
দুঃখ কষ্টের পর আল্লাহ সুখ/ স্বস্তি দেবেন।
65:7 নং আয়াহ : সচ্ছল ব্যক্তি তার সচ্ছলতা অনুযায়ি (সন্তানের দুধ পানের জন্য) খরচ করবে। যার রিযিক সংকীর্ণ করা হয়েছে, সে তা থেকে খরচ করবে, যা তাকে আল্লাহ দিয়েছেন। আল্লাহ কোনও ব্যক্তির উপর তাকে যা দিয়েছেন, তার চেয়ে বেশি বোঝা চাপান না [2:286, 7:42]। দুঃখ-কষ্টের পর আল্লাহ অতি শীঘ্রই সুখ/ স্বস্তি [94:5-6]। দেবেন।
উন্নত সভ্যতা গুলো কেন ধ্বংস হয়েছিল??
65:8 নং আয়াহ : আর কতশত সভ্যতা অমান্য করেছিল তার প্রভুর নির্দেশ ও তার (প্রতি প্রেরিত) রাসুলদের। অতঃপর আমরা তার (সভ্যতার) থেকে কঠোর ভাবে হিসাব নিয়েছি ও কঠিন আযাব দিয়েছি।
কৃতকর্মের ফল ইহজীবনেও পেতে হবে।
65:9 নং আয়াহ : অতঃপর (সভ্যতা) তার কৃতকর্মের স্বাদ নিয়েছে কুফল দ্বারা। তার কাজের পরিণতি ছিল শুধুই ক্ষতি।
কৃতকর্মের ফল পরবর্তী জীবনেও পেতে হবে।
65:10 নং আয়াহ : আল্লাহ তাদের জন্য (পরবর্তী জীবনে) প্রস্তুত করে রাখছেন কঠিন আযাব। এতএব তোমরা আল্লাহ কে ভয় কর হে বোধবুদ্ধি সম্পন্নরা, তোমরা যারা সত্য স্বীকার করেছ। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি নাযিল করেছেন সংবিধান [81:27]।
নাবী (সা) কাজ কি ছিল??
65:11 নং আয়াহ : রাসূল, যিনি তোমাদের কাছে আল্লাহর আয়াত গুলো সুস্পষ্ট ভাবে তিলাওয়াত করেন। যেন যারা সত্য স্বীকার করেছে এবং ভালো কাজ সমূহ বেছে নেয়, তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোতে বের করে আনেন [62:2, 14:1, 57:9]। আর যে আল্লাহকে স্বীকার করবে ও ভালো কাজ বেছে নেবে, তাকে তিনি প্রবেশ করাবেন এমন জান্নাতে, যেখানে (তাদের) নিয়ান্ত্রাধীনে প্রবাহিত হতে থাকবে নদ নদী। তারা সেখানে অনন্তকাল থাকবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ (ইহজীবনে ও পরবর্তী জীবনে) তার জন্য উত্তম রিযিকের [65:3] ব্যবস্থা করবেন।
■ গ্যালাক্সি ও গ্ৰহ সাত প্রকারের ■ অন্যান্য গ্ৰহে জীবন রয়েছে।
65:12 নং আয়াহ : আল্লাহ (তিনিই), যিনি সাত প্রকারের গ্যালাক্সি ও সাত প্রকারের গ্ৰহ সৃষ্টি করেছেন। এগুলোর মধ্যেও নাযিল হয় তার বিধান [42:29]। যেন তোমরা জানতে পার যে, আল্লাহ সমস্ত কিছুর উপর ক্ষমতাবান [6:91, 22:74]। আর (জেনে রেখ) যে, অবশ্যই আল্লাহ সমস্ত কিছুকে তার জ্ঞান [20:98, 20:110] দ্বারা ঘিরে [4:126, 40:7] রেখেছেন।