৬২ নং সূরাহ | সূরাহ জুমুয়াহ | Surah no 62 | Surah Jumuah |

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।

অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।

নাযিল : মাদীনাহ, আয়াত : 11 টি।

সমস্ত কিছুই আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে।

62:1 নং আয়াহ : মহাবিশ্বে যা কিছু রয়েছে, সেই সমস্ত কিছুই তার পবিত্রতা ঘোষণা করছে। যিনি সমস্ত কিছুর মালিক, মহা পবিত্র, মহা শক্তিশালী ও মহা বিজ্ঞানী।

নাবী (সা) এর কাজ কি ছিল??

62:2 নং আয়াহ : তিনি‌ই (আল্লাহ), যিনি নিরক্ষরদের মধ্য হতে একজন নিরক্ষরকে [7:157, 29:48, 42:52] রাসূল করে পাঠিয়েছে‌ন। যিনি তাদেরকে (কুরআনের) আয়াত সমূহ তিলাওয়াত করে শোনান। যিনি তাদের‌কে (সংকীর্ণ চিন্তা ও ভাবনা, উগ্ৰতা ও কট্টরতা, গোঁড়ামি ও কুসংস্কার থেকে) পরিশুদ্ধ করেন [64:16, 31:19, 19:72, 91:9]। এবং তাদের‌কে শেখান কিতাব ও হিকমা। যারা ইতিপূর্বে ছিল সুস্পষ্ট গোঁড়ামি‌-কুসংস্কারে নিমজ্জিত [74:5, 14:1, 57:9]।

নাবী (সা) শুধুমাত্র আরবের জন্য প্রেরিত নন।

62:3 নং আয়াহ : আর পরবর্তী‌দের জন‍্যেও (তিনিই রাসূল), যারা এখনও তাদের (সাহাবাদের) সঙ্গে মিলিত হয় নি [7:158, 21:107]। আর তিনি‌ (আল্লাহ) মহা শক্তি‌শালী ও মহা বিজ্ঞানী।

রিসালাত আল্লাহর অধিকার ভুক্ত।

62:4 নং আয়াহ : ওটা (রিসালাত) আল্লাহর অনুগ্রহ। তিনি যাকে চান [40:16, 42:52, তাকে (রিসালাত) দেন [28:86, 17:86]। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহ‌কারী।

যারা আল্লাহর কিতাব বোঝে না, তারা গাধা।

62:5 নং আয়াহ : যাদেরকে তাওরাতের দায়িত্ব দেওয়া হয়ে ছিল [49:53], তারা তাদের দায়িত্ব পালন করে নি (তাওরাত বোঝে নি, মান‍্য করে নি)। তাদের উদাহরণ হলো গাধার [দেখুন 7:179] মতো, যে ‛বড় বড় ও মোঠা মোটা’ কিতাব সমূহ পিঠে বহন করে (কিন্তু বোঝে না, মান‍্য করে না)। সেই কাওম/ জাতির উদাহরণ কত‌‌ই না নিকৃষ্ট, যারা আল্লাহর আয়াত সমূহ অস্বীকার করে। আর (জেনে রাখা উচিৎ) আল্লাহ জ্বালিম/ অত‍্যাচারী জাতি‌কে পথ দেখান না [3:57, 14:22, 26:227]।

ইয়াহূদীদের অযৌক্তিক দাবির জবাব।

62:6 নং আয়াহ : বলুন- “হে সম্মানিত হাদু/ ইয়াহূদীগণ, তোমরা যদি ভেবে থাকো- তোমরাই মানব জাতির মধ্যে আল্লাহর আওলিয়া/ নৈকট্য প্রাপ্ত [10:62-64]। তাহলে তোমরা মৃত্যুর তামান্না/ কামনা করো [2:93], যদি হয়ে থাকো সত‍্যবাদী!

# আসলে ইয়াহূদী‌রা দাবি করতেন যে, “আমরা আল্লাহর নৈকট্য প্রাপ্ত”। এখানে তার জবাব দেওয়া হয়েছে।

# অবাক করা ব‍্যাপার হল- আজ মুসলিম‌দের মধ্যে এক শ্রেনীর পীরপন্থীরাও দাবি করে যে, “আমরাও আল্লাহর নৈকট্য প্রাপ্ত”। পরোক্ষভাবে এখানে তাদেরকে‌ও উত্তর দেওয়া হয়েছে।

অত‍্যাচারীদেরকে ভাল জানেন/ চেনেন।

62:7 নং আয়াহ : আর তাদের হাত সমূহ আগে যা (নিকৃষ্ট কর্ম গুলো আল্লাহর কাছে) পাঠিয়েছে, সে কারণে তারা কখনও মৃত্যুর তামান্না/ কামনা করবে না [2:95-96]। আর আল্লাহ জ্বালিমদের/ অত‍্যাচারীদেরকে ভাল জানেন [14:42]।

# প্রসঙ্গ ভিন্ন হলেও দুটি হাদীশ উল্লেখ করছি। নাবী (সা) বলেছেন- “তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে। কারণ সে যদি সৎ হয়, তবে (বেঁচে থাকলে) হয়ত সে নেক কাজ বৃদ্ধি করবে। আর যদি পাপী হয়, তাহলে হয়ত সে তওবা করবে” (বুখারী, হাদীশ 7235)।

   আরও একটি- “তোমাদের কেউ দুঃখ কষ্টে পতিত হবার কারণে যেন মৃত্যু কামনা না করে। যদি কিছু করতেই চায়, তা হলে সে যেন বলে- হে আল্লাহ, আমাকে জীবিত রাখুন, যতদিন আমার জন্য বেঁচে থাকা কল্যাণকর হয় এবং আমাকে তখন মৃত্যু দিন, যখন আমার জন্য মৃত্যু কল্যাণকর হয়”(বুখারী, হাদীশ 5671)।

# ইসলামে মৃত্যু কামনা করা হারাম নয়, তবে সেই বিষয়ে দুয়া করার জন্য নিদিষ্ট পদ্ধতি রয়েছে (উপরিউক্ত হাদীশ, 5671)। কিন্তু আত্মহত্যা সম্পূর্ণ হারাম (4:29)। এমনকি ধীরে ধীরে‌ও নিজেকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া সম্পূর্ণ ভাবে হারাম (2:195)।

মৃত্যু থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব।

62:8 নং আয়াহ : বলুন- “যে মৃত্যু থেকে তোমরা পলায়ন করছো, তার সঙ্গে নিশ্চয়ই মুলাকাত/ সাক্ষাৎ হবে [4:78]। এরপর তোমাদের‌কে ফিরিয়ে নেওয়া হবে দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানীর দিকে [69:16-17, 84:1-5]। অতঃপর তোমাদের‌কে জানিয়ে দেবেন, যে সমস্ত আমাল/ কর্ম তোমরা করেছিলে”।

# অনেক বিজ্ঞানী‌ই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন যে, কিভাবে মৃত্যু থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। কিন্তু পবিত্র কুরআন সুস্পষ্ট ভাবে ঘোষণা করেছে, তা সম্ভব নয়। তবে হ‍্যাঁ,আয়ু বাড়ার ভবিষ্যৎ বাণী রয়েছে 2:96 এ। এমনকি আয়ু বেড়ে হাজার বছর‌ও হতে পারে।

জুমু’য়াহর নামাজের গুরুত্ব।

62:9 নং আয়াহ : হে সত‍্য স্বীকার করা সম্মানিত মানুষ‌জন, যখন জুমু’য়াহর দিনে তোমাদের‌কে স্বালাতের/ নামাজের জন্য ডাক দেওয়া হয়, তখন তোমরা ধাবিত হ‌ও আল্লাহর বিধান শোনার জন্য। আর তখন ক্রয় বিক্রয় (বাজার) বন্ধ রাখো। ওটাই তোমাদের জন্য উত্তম। যদি তোমরা জানতে!

বেশি বেশি আল্লাহ‌র বিধান অনুযায়ি চালিত হ‌ওয়ার নির্দেশ।

62:10 নং আয়াহ : অতঃপর যখন স্বালাত/ নামাজ শেষ হবে, তখন পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো এবং তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করো। আর তোমরা অধিক হারে আল্লাহ‌র বিধান অনুযায়ি চালিত হ‌ও। যেন তোমরা সফল হতে পারো।

লাভের বিষয় এবং হৈ হুল্লোড় হতে নামাজ উত্তম।

62:11 নং আয়াহ : আর যখন তারা দেখলো লাভের বিষয় বা হৈ হুল্লোড়, তখন আপনাকে স্বালাতে/ নামাজে দাঁড়ানো অবস্থায় রেখে তার দিকে ছুটে গেল ১। বলুন- “যা আছে আল্লাহর কাছে, তা লাভের বিষয় ও হৈ হুল্লোড় ২ থেকে উত্তম। আর আল্লাহ রিযিকদাতাদের মধ্যে উত্তম রিযিক‌দাতা”।

১ জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন- আমি নাবী (সা) এর সঙ্গে (জুমু‘য়াহর) স্বালাত আদায় করছিলাম। এমন সময় খাদ্য দ্রব্য বহণকারী একটি উটের কাফিলা হাযির হল এবং তারা (মুস্বাল্লীগণ) সে দিকে এত অধিক মনোযোগী হলেন যে, (স্বালাত ছেড়ে পালিয়ে গেলেন) এবং নাবী (সা) এর সঙ্গে মাত্র বারোজন মুস্বাল্লী অবশিষ্ট ছিলেন। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয় (বুখারী, হাদীশ 936)।

২ বলে রাখা দরকার যে, তারমানে মোটেও হৈ হুল্লোড় বা বিনোদন বা খেলাধুলা হারাম নয়। দেখুন 12:12, 31:6 ও 17:64 আয়াত।

5/5 - (1 vote)
শেয়ার করুন:

“৬২ নং সূরাহ | সূরাহ জুমুয়াহ | Surah no 62 | Surah Jumuah |”-এ 2-টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন