৫৫ নং সূরাহ | সূরাহ রাহমান | Surah no 55 | Surah Rahman |

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। 

অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।

নাযিল : মাদীনাহ, আয়াত : 78 টি।

আল্লাহ সীমাহীন দয়ালু।

55:1 নং আয়াহ : তিনি (আল্লাহ) সীমাহীন [1:2, 12:64] দয়ালু।

আল্লাহ সীমাহীন দয়ালু, তার প্রমাণ কি??

55:2 নং আয়াহ : তিনি তোমাদেরকে ‛পড়তে’ [96:1], পারার গুণে গুণাম্বিত করেছেন।

‛পড়তে’ পারার গুণ বৈশিষ্ট্য সহ মানুষের সৃষ্টি।

55:3 নং আয়াহ : আর তিনিই (পড়তে পারার গুণ বৈশিষ্ট্য সহ) মানুষ‌কে সৃষ্টি করেছেন।

মানুষ একাধিক ভাবে প্রকাশ করতে পারে।

55:4 নং আয়াহ : এবং তিনিই মানুষ‌কে শিখিয়েছেন বিভিন্ন পদ্ধতিতে ‛ভাব প্রকাশ’ করতে।

ভিন্ন অনুবাদ : তিনিই মানুষ‌কে শিখিয়েছেন বিভিন্ন বিষয়/ বিভিন্ন ভাবে ব‍্যাখ‍্যা করতে।

সূর্য ও চন্দ্রের ঘোরার হিসাব এবং কক্ষপথ আলাদা।

55:5 নং আয়াহ : সূর্য ও চন্দ্র ভিন্ন ভিন্ন হিসাব বজায় রেখে ভিন্ন ভিন্ন কক্ষপথে ঘুরছে।

গ‍্যালাক্সি ও গাছপালারা আল্লাহ প্রাপ্ত দায়িত্ব পালনে রত।

55:6 নং আয়াহ : আর নক্ষত্র জগৎ (গ‍্যালাক্সি) ও গাছ পালারা [22:18] সিজদা‌রত/ আল্লাহ প্রাপ্ত দায়িত্ব পালনে রত।

মহাবিশ্ব পরিমাপ করার পদ্ধতি রয়েছে।

55:7 নং আয়াহ : এবং তিনি মহাবিশ্ব‌কে বিরাট [79:28] বড় আকৃতি [51:47, 81:15] দিয়েছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি মহাবিশ্ব পরিমাপ করার পদ্ধতি স্থাপন করেছেন।

# মহাবিশ্ব পরিমাপ করা হয় আলোকবর্ষে। অর্থাৎ আলোর এক বছরের গতিই হল- আলোকবর্ষ। আলোর গতি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় 3 লক্ষ কিমি।

আলোকবর্ষ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবার ভবিষ্যৎ বাণী।

55:8 নং আয়াহ : যাতে তোমরা দূরত্ব পরিমাপে কমবেশি না করতে পারো।

55:9 নং আয়াহ : যাতে তোমরা প্রতিষ্ঠা করতে পারো পরিমাপের নীতিমালা। আর কমবেশি না হয়।

সৌরজগতের অন‍্যান‍্য গ্ৰহ জীবন নেই।

55:10 নং আয়াহ : এবং তিনিই পৃথিবীকে জীবন ধারণের উপযুক্ত [12:4] বানিয়েছে‌ন।

55:11 নং আয়াহ : যাতে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের ফলমূল সমূহ। আরও রয়েছে খেঁজুর গাছ, যার ফল আবরণ সমূহে ঢাকা।

আঁশযুক্ত খাদ্য শস‍্যের মতোই গুরুত্ব রাখে গোলাপ ফুল।

55:12 নং আয়াহ : এবং আরও রয়েছে আঁশযুক্ত খাদ্য শস্য সমূহ ও গোলাপ ফুল।

# গোলাপ ফুল একদিন তার গুরুত্ব তৈরি করবে, তা এই আয়াহ পরোক্ষভাবে বলে রেখে ছিল। এই জন‍্যেই হয়ত প্রেমিক প্রেমিকা‌রা একে অপরকে উপহার দেওয়ার জন্য শ্রেষ্ঠ বিকল্প হিসাবে গোলাপ ফুল বেছে নেয়/ নেন।

জিন ও মানুষ জাতিকে প্রশ্ন।

55:13 নং আয়াহ : সুতরাং তোমরা (জিন ও মানুষ জাতি) উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোন কোন দয়া ও করুণা [12:64] অস্বীকার করবে??

আদম (আ) শুকনো ঠনঠনে মাটি থেকে সৃষ্ট।

55:14 নং আয়াহ : তিনি (প্রথম) মানুষ‌কে সৃষ্টি করেছেন শুকনো ঠনঠনে মাটি থেকে, যা পোড়ামাটির মতো।

# প্রথমবার মানুষ সৃষ্টি বা আদাম (আ) কে সৃষ্টি করা হয়েছিল তুরাব/ গ্ৰহের পদার্থ থেকে (3:59)। কিন্তু সেই পদার্থটা কি/ কেমন ছিল- তা পবিত্র কুরআনের ভিন্ন ভিন্ন আয়াতে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে এসেছে। যা দেখে আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে- এগুলো পরস্পর বিরোধী তথ্য।

   কিন্তু একটু বিচার বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে- একটা তথ্য অন‍্যটার পরিপূরক। যেমন, কোনও আয়াহতে বলা হয়েছে- মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে ত্বীন/ পচা মাটি থেকে” (32:7)। আবার কোথাও বলা হয়েছে- ত্বীনিল্লাযিব/ আঠালো কাদা মাটি” (37:11)। আবার কোথাও বলা হয়েছে- হামায়িম মাসনূন/ বিশ্রী গন্ধ যুক্ত কাদামাটি থেকে”(15:26)।

   কিন্তু এগুলো পরস্পর বিরোধী তথ্য নয়। বিষয়‌টিকে খুব‌ ভালো ও সুন্দর একটা উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরা যেতে পারে। মনে করুন- একটি মানুষের মূর্তি তৈরি করতে চাইছেন। কি করতে হবে?? প্রথমে মাটি, পরে কাদামাটি প্রয়োজন। তারপর তাকে 2-4 দিন ফেলে রাখতে হবে। ফেলে রাখলে তাতে বিশ্রী গন্ধের সৃষ্টি হবে এবং তা আঠালো হয়ে যাবে। তারপর তাকে একটু শুকাতে হবে। তারপর তা দিয়ে মূর্তি বানানো সম্ভব হবে। তারপর তাকে আরও শুকিয়ে শুকনো ঠনঠনে অবস্থায় নিয়ে যেতে হবে। তবেই মূর্তি অস্তিত্বে আসবে।

   আর আদম (আ) এর পুত্র কন‍্যাদের বিষয়ে বলা হয়েছে- সুলসালাতিম মিন ত্বীন/ পচা মাটির নির্যাস থেকে (23:12)। পবিত্র কুরআন তথ্য গুলো একত্রিত ভাবে না এনে ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বর্ণনা করেছে। তাই তা দেখে পরস্পর বিরোধী তথ্য মনে হয়। কিন্তু আসলে তা নয়। মনে হয় বিষয়টি পরিষ্কার!

প্রথম জিন/ ইবলীস নক্ষত্রের আগুন থেকে সৃষ্ট।

55:15 নং আয়াহ : এবং (প্রথম) জিনকে সৃষ্টি করেছেন আগুন [15:27] থেকে।

# মুসলিমের এক হাদীশে বলা হয়েছে যে, ঐ আগুন ছিল- শুধু শিখা বিহীন ও ধূঁয়া বিহীন (মুসলিম, হাদীশ 2996)। এখন প্রশ্ন হবে- “কোন আগুনের শিখা/ ধূঁয়া হয় না”?? উত্তর সহজ- নক্ষত্রের আগুনে শিখা/ ধূঁয়া কিছু‌ই হয় না। কারণ নক্ষত্রে কার্বন জ্বলে না, নক্ষত্রের জ্বালানি হাইড্রোজেন। তারমানে, প্রথম জিনকে নক্ষত্রের আগুন থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।

জিন ও মানুষ জাতিকে প্রশ্ন।

55:16 নং আয়াহ : সুতরাং তোমরা (জিন ও মানুষ জাতি) উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোন কোন দয়া ও করুণা [12:64] অস্বীকার করবে??

মহাবিষুব ও জলবিষুব।

55:17 নং আয়াহ : তিনি দুই পূর্বস্থান ও দুই পশ্চিম স্থানের মালিক [43:38, 70:40]।

# পৃথিবীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে- সূর্য প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন স্থান  থেকে উদিত হয় এবং অস্ত যায়। কিন্তু বছরে দুই দিন ভূমধ‍্যরেখা 0° থেকে উদিত হয় (21 মার্চ) 0° তে অস্ত যায় (23 সেপ্টেম্বর)। যাকে মহাবিষুব ও জলবিষুব বলা হয়। উক্ত আয়াহ সেই কথাই বলছে।

জিন ও মানুষ জাতিকে প্রশ্ন।

55:18 নং আয়াহ : সুতরাং তোমরা (জিন ও মানুষ জাতি) উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোন কোন দয়া ও করুণা [12:64] অস্বীকার করবে??

সব সমুদ্র/ মহাসাগরের পানি এক‌ই ধরণের নয়।

55:19 নং আয়াহ : তিনি দুই ধরণের সমুদ্র‌/ মহাসাগরের পানি কে পরস্পরের সঙ্গে মিলিত করেন,

# এক‌ই ধরণের নয়?? না, এক‌ই ধরণের নয়। ভিন্ন ভিন্ন তাপ, ঘনত্ব ও লবণাক্তের কারণে তা ভিন্ন।

দুই সমুদ্র/ মহাসাগরের পানি কিছুক্ষণ মিলিত হয় না।

55:20 নং আয়াহ : কিন্তু তবুও তাদের মধ্যে (ভিন্ন ভিন্ন তাপ, ঘনত্ব ও লবণাক্তের কারণে) থাকে বারযাখ/ সুক্ষ্ম পর্দা, যদিও সর্বক্ষণ বজায় থাকে না।

জিন ও মানুষ জাতিকে প্রশ্ন।

55:21 নং আয়াহ : সুতরাং তোমরা (জিন ও মানুষ জাতি) উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোন কোন দয়া ও করুণা [12:64] অস্বীকার করবে??

সমুদ্র/ মহাসাগরের নিচে রয়েছে গ‍্যাস ও তেল।

55:22 নং আয়াহ : দুই ধরণের সমুদ্রের নিচে থেকেই বের হবে গ‍্যাস ও তেল।

জিন ও মানুষ জাতিকে প্রশ্ন।

55:23 নং আয়াহ : সুতরাং তোমরা (জিন ও মানুষ জাতি) উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোন কোন দয়া ও করুণা [12:64] অস্বীকার করবে??

পৃথিবী গোল, তার সবচেয়ে সহজ প্রমাণ।

55:24 নং আয়াহ : সমুদ্রে/ মহাসাগরে চালিত পাহাড় পর্বতের মতো [27:88] ধীরে ধীরে উঁচু হ‌ওয়া জাহাজ সমূহ তার‌ই নিয়ন্ত্রণে।

# আপনি যদি সমুদ্র উপকূলে দাড়িয়ে থাকেন এবং দূর থেকে কোনও জাহাজ আসার দৃশ্য দূরবীন দ্বারা দেখেন। তাহলে প্রথমে জাহাজের সবচেয়ে উঁচু অংশটা দেখা যাবে, তারপর আরও একটু কাছে এলে মধ‍্যবর্তী অংশটা দেখা যাবে, তারপর আরও কাছে এলে সমগ্র জাহাজটা দেখা যাবে।

   এটা আসলে পৃথিবী‌র গোলাকার আকৃতির জন্য হয়ে থাকে। পবিত্র কুরআন এখানে সেই তথ‍্য‌ই স্মার্ট ভাবে তুলে ধরছে। আর পৃথিবীর আকৃতি সম্পর্কে কথা বলা হয়েছে 39:5 এ। সরাসরি কথা বলা হয়েছে 79:30 তে। গিয়ে দেখে আসুন।

# আরও একটা বিষয় হল- এখানে পরোক্ষভাবে বলা হচ্ছে যে, পাহাড় পর্বত‌ও ধীরে ধীরে উঁচু হয়। আজ তা বিজ্ঞানে প্রমাণিত যে, পাহাড় পর্বতের উচ্চতা বাড়ছে। এজন্য এই জন্য এক সময় বলা হোত- হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা 8848 মিটার, কিন্তু এখন তা 8850 মিটার। কোথাও বলা হয়েছে- 8851 মিটার।

জিন ও মানুষ জাতিকে প্রশ্ন।

55:25 নং আয়াহ : সুতরাং তোমরা (জিন ও মানুষ জাতি) উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোন কোন দয়া ও করুণা [12:64] অস্বীকার করবে??

হাওকিং রেডিয়েশন দ্বারা মহাবিশ্ব গুলো নিঃশেষ হয়ে যাবে।

55:26 নং আয়াহ : সৃষ্টি‌র সমস্ত পদার্থ‌ই পুরোপুরি নিঃশেষ [28:88] হয়ে যাবে,

# কিন্তু আমরা জানি- “পদার্থ সৃষ্টি/ ধ্বংস হয় না, শুধুমাত্র ভিন্ন রুপে রূপান্তরিত হয়”। হ‍্যাঁ, তা সত্য (14:48)। কিন্তু শুধুমাত্র আপাতদৃষ্টিতে, সর্বক্ষেত্রে নয়। আমরা জানি- বিগব‍্যাঙ দ্বারা সমস্ত পদার্থ সৃষ্টি সহ মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছিল এবং হাওকিং রেডিয়েশন দ্বারা তাবত সৃষ্টি, মহাবিশ্ব এবং মহাবিশ্ব সমূহ পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে যাবে।

সব শেষে থাকবেন শুধু আল্লাহ।

55:27 নং আয়াহ : থেকে যাবে শুধু আপনার প্রভু‌র সত্ত্বা, যিনি তুলনাহীন মহান ও মহিয়ান [55:78]।

# “তখন আল্লাহ কোথায় থাকবেন”?? সৃষ্টির আগে যেখানে ছিলেন। কোথায় ছিলেন?? এখন যেখানে/ যেভাবে আছেন, সেখানে/ সেভাবে থাকবেন না। “এত না পেঁচিয়ে বিস্তারিত বলুন”। ঠিক আছে, 57:3 এ যান।

জিন ও মানুষ জাতিকে প্রশ্ন।

55:28 নং আয়াহ : সুতরাং তোমরা (জিন ও মানুষ জাতি) উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোন কোন দয়া ও করুণা [12:64] অস্বীকার করবে??

আল্লাহ এখন কি করছেন??

55:29 নং আয়াহ : মহাবিশ্বের বাসিন্দারা (জিন ও মানুষ) তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে?? তিনি সর্বক্ষণ সৃষ্টির নিয়ন্ত্রণে [2:255, 7:54, 57:3] সুপ্রতিষ্ঠিত।

জিন ও মানুষ জাতিকে প্রশ্ন।

55:30 নং আয়াহ : সুতরাং তোমরা (জিন ও মানুষ জাতি) উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোন কোন দয়া ও করুণা [12:64] অস্বীকার করবে??

জিন ও মানুষকে বিশেষ অনুমোদন।

55:31 নং আয়াহ : শীঘ্রই আমরা তোমাদেরকে বিশেষ এক অনুমোদন দেব [55:33] ওহে দুই ভিন্ন বস্তু [55:14-15] দ্বারা সৃষ্ট (জিন ও মানুষ)।

জিন ও মানুষ জাতিকে প্রশ্ন।

55:32 নং আয়াহ : সুতরাং তোমরা (জিন ও মানুষ জাতি) উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোন কোন দয়া ও করুণা [12:64] অস্বীকার করবে??

পৃথিবী ও মহাবিশ্ব সীমা অতিক্রমের ভবিষ্যৎ বাণী।

55:33 নং আয়াহ : হে জিন জাতি ও মানুষ জাতি, তোমরা যদি মহাবিশ্ব ও পৃথিবীর সীমা থেকে বের হয়ে যেতে চাও, তবে যাও। কিন্তু পারবে না ততক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ না তোমরা (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে) সুলতান/ প্রচণ্ড ক্ষমতাশালী হতে পারছো।

জিন ও মানুষ জাতিকে প্রশ্ন।

55:34 নং আয়াহ : সুতরাং তোমরা (জিন ও মানুষ জাতি) উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোন কোন দয়া ও করুণা [12:64] অস্বীকার করবে??

গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর ভবিষ্যৎ বাণী।

55:35 নং আয়াহ : তোমাদের উভয়ের প্রতি আসবে তাপ, জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ার মতো বিপদ [44:10-11]]। এত‌এব তোমরা এত সহজে তা প্রতিরোধ করতে পারবে না (এর জন্য লাগাতে [74:35-37] হবে প্রচুর পরিমানে গাছপালা)।

জিন ও মানুষ জাতিকে প্রশ্ন।

55:36 নং আয়াহ : সুতরাং তোমরা (জিন ও মানুষ জাতি) উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোন কোন দয়া ও করুণা [22:64] অস্বীকার করবে??

সংকোচিত মহাবিশ্বের রঙ হবে গোলাপের মতো লাল।

55:37 নং আয়াহ : অতঃপর যখন মহাবিশ্ব সংকোচিত হয়ে যাবে [69:16], তখন (সংকোচিত মহাবিশ্বের রঙ হবে) লাল গোলাপের মতো [69:17]।

জিন ও মানুষ জাতিকে প্রশ্ন।

55:38 নং আয়াহ : সুতরাং তোমরা (জিন ও মানুষ জাতি) উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোন কোন দয়া ও করুণা [12:64] অস্বীকার করবে??

জিন ও মানুষকে পাপ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে না।

55:39 নং আয়াহ : সেদিন না কোনও মানুষ‌কে তার পাপ সম্পর্কে বিশেষ ভাবে জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন হবে, আর না কোনও জিনকে।

# এর অর্থ এই নয় যে, আল্লাহ কৈফিয়ৎ নেবেন না। এর অর্থ হল- এক মানুষ অন্য মানুষ‌কে/ জিনকে এই প্রশ্ন করবে না যে, সে পাপ করেছে কিনা! কে পাপী, তার লক্ষণ দেখেই তাকে চেনা যাবে।

জিন ও মানুষ জাতিকে প্রশ্ন।

55:40 নং আয়াহ : সুতরাং তোমরা (জিন ও মানুষ জাতি) উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোন কোন দয়া ও করুণা [12:64] অস্বীকার করবে??

কিন্তু কেন জিজ্ঞাসা করা হবে না??

55:41 নং আয়াহ : অপরাধীদের চেনা যাবে তাদের লক্ষণ দেখে। তাদের মাথার সামনের চুল এবং তাদের পা গুলো ধরে রাখা হবে।

জিন ও মানুষ জাতিকে প্রশ্ন।

55:42 নং আয়াহ : সুতরাং তোমরা (জিন ও মানুষ জাতি) উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোন কোন দয়া ও করুণা [12:64] অস্বীকার করবে??

আমাদের এই মহাবিশ্ব‌ই জাহান্নামে পরিণত হবে।

55:43 নং আয়াহ : (বলা হবে) এটাই সেই জাহান্নাম, যাকে অপরাধীরা অস্বীকার [52:14] করতো।

# ‛এটাই সেই জাহান্নাম’ বলতে কোনটা?? 55:37 এ উত্তর রয়েছে। সংকোচিত মহাবিশ্ব‌কে দেখিয়ে বলা হবে- এটাই সেই জাহান্নাম! এই সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে 69:16-17 তে যান।

55:44 নং আয়াহ : তারা তার এবং তার প্লাজমার মধ্যে দৌড়াদৌড়ি [69:16-17] করবে।

জিন ও মানুষ জাতিকে প্রশ্ন।

55:45 নং আয়াহ : সুতরাং তোমরা (জিন ও মানুষ জাতি) উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোন কোন দয়া ও করুণা [12:64] অস্বীকার করবে??

কে দুটি বাগান ওয়ালা জান্নাত পাবে??

55:46 নং আয়াহ : তবে যে তার প্রভুর সামনে [69:20] দাঁড়াতে ভয় করে, তার জন্য (জান্নাতে) থাকবে দুটি বাগান [55:62]।

জিন ও মানুষ জাতিকে প্রশ্ন।

55:47 নং আয়াহ : সুতরাং তোমরা (জিন ও মানুষ জাতি) উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোন কোন দয়া ও করুণা [12:64] অস্বীকার করবে??

বাগান দুটির গাছপালার বৈশিষ্ট্য।

55:48 নং আয়াহ : (দুটি বাগান‌ই হবে) বহু ডালপালা ও ঘন পাতা বিশিষ্ট গাছ পালায় পরিপূর্ণ।

জিন ও মানুষ জাতিকে প্রশ্ন।

55:49 নং আয়াহ : সুতরাং তোমরা (জিন ও মানুষ জাতি) উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোন কোন দয়া ও করুণা [12:64] অস্বীকার করবে??

বাগান দুটিতে ঝর্ণাধারা থাকবে।

55:50 নং আয়াহ : দুটি (বাগানের) মধ্যে থাকবে প্রবাহিত ঝর্ণাধারা [55:66]।

জিন ও মানুষ জাতিকে প্রশ্ন।

55:51 নং আয়াহ : সুতরাং তোমরা (জিন ও মানুষ জাতি) উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোন কোন দয়া ও করুণা [12:64] অস্বীকার করবে??

দুটি বাগানের ফল এক‌ই হলেও স্বাদ হবে দুই ধরণের।

55:52 নং আয়াহ : দুটি (বাগানের) মধ্যেই প্রত‍্যেক ফল থাকবে দুই ধরণের স্বাদের।

জিন ও মানুষ জাতিকে প্রশ্ন।

55:53 নং আয়াহ : সুতরাং তোমরা (জিন ও মানুষ জাতি) উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোন কোন দয়া ও করুণা [12:64] অস্বীকার করবে??

জান্নাতী‌দের বিছানা কেমন হবে??

55:54 নং আয়াহ : তারা (জান্নাতীরা) বিছানায় হেলান দিয়ে বসবে, যার আস্তরণ মোটা রেশমের [55:76]। আর দুই বাগানের ফল [69:23] তাদের দিকে ঝুঁকে পড়বে।

জিন ও মানুষ জাতিকে প্রশ্ন।

55:55 নং আয়াহ : সুতরাং তোমরা (জিন ও মানুষ জাতি) উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোন কোন দয়া ও করুণা [12:64] অস্বীকার করবে??

হুরদের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য।

55:56 নং আয়াহ : সেখানে থাকবে সুন্দর মনমাতানো চোখের অধিকারী (পুরুষ হুর/ নারী হুর) রা [52:20, 56:22]। ইতিপূর্বে তাদের‌কে স্পর্শ করে নি কোনও মানুষ, আর না কোনও জিন [55:72-74]।

জিন ও মানুষ জাতিকে প্রশ্ন।

55:57 নং আয়াহ : সুতরাং তোমরা (জিন ও মানুষ জাতি) উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোন কোন দয়া ও করুণা [12:64] অস্বীকার করবে??

হুরদের দেখে ‛কিসের তৈরি’ মনে হবে??

55:58 নং আয়াহ : যেন তারা [56:23, 37:48-49] হীরা ও মুক্তার তৈরি।

জিন ও মানুষ জাতিকে প্রশ্ন।

55:59 নং আয়াহ : সুতরাং তোমরা (জিন ও মানুষ জাতি) উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোন কোন দয়া ও করুণা [12:64] অস্বীকার করবে??

উত্তম কর্মের প্রতিদান উত্তম‌ই হয়/ হবে।

55:60 নং আয়াহ : উত্তম কর্মের প্রতিদান [11:115] উত্তম ছাড়া [10:27, 42:40] কি ভিন্ন কিছু হতে পারে??

জিন ও মানুষ জাতিকে প্রশ্ন।

55:61 নং আয়াহ : সুতরাং তোমরা (জিন ও মানুষ জাতি) উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোন কোন দয়া ও করুণা [12:64] অস্বীকার করবে??

শুধু দুটি নয়, তারা আরও দুটি বাগান ওয়ালা জান্নাত পাবে।

55:62 নং আয়াহ : আর (তাদের জন্য) ঐ দুটি বাগান ছাড়াও আরও থাকবে আরও দুটি [55:46] বাগান।

জিন ও মানুষ জাতিকে প্রশ্ন।

55:63 নং আয়াহ : সুতরাং তোমরা (জিন ও মানুষ জাতি) উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোন কোন দয়া ও করুণা [12:64] অস্বীকার করবে??

এই দুটি বাগানের গাছপালা গুলো হবে সবুজ রঙের।

55:64 নং আয়াহ : (দুই বাগানের) গাছপালা হবে ঘন/ গাঢ় সবুজ [55:76] রঙের।

জিন ও মানুষ জাতিকে প্রশ্ন।

55:65 নং আয়াহ : সুতরাং তোমরা (জিন ও মানুষ জাতি) উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোন কোন দয়া ও করুণা [12:64] অস্বীকার করবে??

এই দুটি বাগানের ঝর্ণাধারা গুলো কেমন হবে??

55:66 নং আয়াহ : দুটি বাগানে থাকবে অবিরাম প্রবাহিত ও উচ্ছ্বসিত দুটি ঝর্ণাধারা।

জিন ও মানুষ জাতিকে প্রশ্ন।

55:67 নং আয়াহ : সুতরাং তোমরা (জিন ও মানুষ জাতি) উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোন কোন দয়া ও করুণা [22:64] অস্বীকার করবে??

জান্নাতের বাগানে থাকবে খেঁজুর ও ডালিম।

55:68 নং আয়াহ : দুটি বাগানে [55:52, 55:54] থাকবে বিভিন্ন ধরণের ফলমূল, খেঁজুর ও ডালিম [2:25] ইত্যাদি।

জিন ও মানুষ জাতিকে প্রশ্ন।

55:69 নং আয়াহ : সুতরাং তোমরা (জিন ও মানুষ জাতি) উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোন কোন দয়া ও করুণা [12:64] অস্বীকার করবে??

জান্নাতীদের দেখতে কেমন হবে??

55:70 নং আয়াহ : সেখানে (জান্নাতে) তাদেরকে বানিয়ে দেওয়া হবে [78:33, 43:70] সুদর্শন/ সুদর্শনা [37:49]।

# প্রশ্ন হবে- “জান্নাতীদের বয়স কত হবে”?? এ বিষয়ে হাদীশ রয়েছে মিশকাতে। বলা হয়েছে- “জান্নাতীদের বয়স হবে 30/ 33 বছর”(মিশকাত, হাদীশ 5639 এবং তিরমিযী, হাদীশ 2545)।

জিন ও মানুষ জাতিকে প্রশ্ন।

55:71 নং আয়াহ : সুতরাং তোমরা (জিন ও মানুষ জাতি) উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোন কোন দয়া ও করুণা [12:64] অস্বীকার করবে??

জান্নাতে যাদের জন্য হুর থাকবে।

55:72 নং আয়াহ : হুর সমূহ থাকবে [78:33] সুরক্ষিত ও সুসজ্জিত তাঁবুতে।

# মনে রাখা উচিৎ- হুর তাদের জন্য থাকবে, যারা বিবাহ ছাড়া মারা গিয়েছেন। যারা ইহজীবনে বিবাহিত, জান্নাতেও তারা স্বামী স্ত্রী থাকবে (43:70)। স্বামী/ স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও যদি কেউ হুর চায়, তখন কি হবে?? এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য রয়েছে 50:35 এ।

জিন ও মানুষ জাতিকে প্রশ্ন।

55:73 নং আয়াহ : সুতরাং তোমরা (জিন ও মানুষ জাতি) উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোন কোন দয়া ও করুণা [12:64] অস্বীকার করবে??

হুরদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

55:74 নং আয়াহ : ইতিপূর্বে তাদের‌কে স্পর্শ [55:56] করে নি কোনও মানুষ, আর না কোনও জিন।

জিন ও মানুষ জাতিকে প্রশ্ন।

55:75 নং আয়াহ : সুতরাং তোমরা (জিন ও মানুষ জাতি) উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোন কোন দয়া ও করুণা [12:64] অস্বীকার করবে??

জান্নাতের বালিশ ও বিছানা হবে সবুজ রঙের।

55:76 নং আয়াহ : তারা (জান্নাতীরা) মোটা রেশমের তৈরি সবুজ বালিশ ও উৎকৃষ্ট কারুকার্য খচিত বিছানায় হেলাল দিয়ে বসবে।

# শুধুমাত্র বালিশ ও গালিচা নয়, জান্নাতীদের পোষাক‌ও হবে সবুজ (76:21, 18:31)। এখানেই শেষ নয়, জান্নাত‌ও হবে সবুজ রঙের (55:64)। কিন্তু কেন?? উত্তর সহজ- সবুজ রঙ মানুষকে মানসিক ভাবে শান্তি দেয়। এ জন্যই বন জঙ্গলে‌র ছবি মানুষ‌কে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে। এবং মানুষ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বেছে সবুজায়নকে। 

   আরও লক্ষ্য করা যায় যে, আজ থেকে 200-300 বছর আগের মানুষ জন মানসিক শান্তি‌তে থাকতো। কারণ, তখন পৃথিবী ছিল সবুজে ভরা। কিন্তু বর্তমানে লাগাতার গাছপালা কাটার পর সবুজায়ন সমাজ থেকে দূরে সরে গেছে। ফলতঃ মানসিক শান্তি‌ও কমে গেছে, বৃদ্ধি পেয়েছে মানসিক চাপ।

জিন ও মানুষ জাতিকে প্রশ্ন।

55:77 নং আয়াহ : সুতরাং তোমরা (জিন ও মানুষ জাতি) উভয়ে তোমাদের প্রভুর কোন কোন দয়া ও করুণা [12:64] অস্বীকার করবে??

আল্লাহ নামটি কল‍্যাণময়।

55:78 নং আয়াহ : আপনার প্রভুর নাম [69:52] কল‍্যাণময়, যিনি তুলনাহীন মহান ও মহিয়ান [55:27]।

# কোন নামটি কল‍্যাণময়?? এ প্রশ্নের উত্তর রয়েছে, এই প্রশ্নে- আমাদের প্রভুর নাম কি?? উত্তর সহজ, আমাদের প্রভুর নাম- আল্লাহ (41:30)। এত‌এব আমাদের প্রভুর এই ‛আল্লাহ’ নামটি কল‍্যাণময়।

4.5/5 - (2 votes)
শেয়ার করুন:

মন্তব্য করুন