বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল মাক্কাহ, আয়াত : 45 টি।
কুরআন মর্যাদা পূর্ণ কিতাব।
50:1 নং আয়াহ : কাফ, শপথ মর্যাদা পূর্ণ [85:21-22] কুরআনের।
নাবী (সা) নাবী হওয়ায় মাক্কাহবাসীরা অবাক হয়েছিল।
50:2 নং আয়াহ : বরং তারা এজন্য অবাক হচ্ছে যে, তাদের মধ্যে থেকে তাদের কাছে একজন সতর্তকারী এসেছে [62:4]। এ কারণে সত্য অস্বীকারকারীরা বলে- “এটা খুবই আশ্চর্য জনক ব্যাপার” [10:2]।
পুনরুত্থান সত্য, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
50:3 নং আয়াহ : (তারা বলে) “যখন আমরা মৃত্যুবরণ করব, তখন কি আবার পৃথিবীর পদার্থ থেকে পুনরুত্থিত হবো [37:18, 84:1-5]?? (যদি হয়) তা হলে তো এই প্রত্যাবর্তন বহু দূরের [70:6, 21:104, 69:16-17] ব্যাপার”।
# কোন যুক্তিতে সত্য?? ধরুন, বর্তমানে যেভাবে মানুষ সৃষ্টি হয়, সেভাবে না হয়ে গাছ থেকে মানুষ হচ্ছে। এখন যদি বলা হয়- “মানুষের পেট থেকে মানুষ সৃষ্টি হবে”। তাহলে কি আপনি তা বিশ্বাস করতেন?? নিশ্চয়ই করতেন না, তাই নয় কি??
বিষয়টি তেমনই। পুনরুত্থান আপাত দৃষ্টিতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও তা সত্য। বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও রয়েছে। আপনি 84:1-5, 69:16-17 তে যান। এছাড়াও 17:51, 36:79 এবং 50:15 থেকেও ঘুরে আসুন।
পূর্ব লিখিত/ উম্মুল কিতাব/ লৌহে মাহফুজ্ব।
50:4 নং আয়াহ : অবশ্যই আমরা জানি- পৃথিবীতে তাদের শরীরের কতটা অংশ মিশে আছে [64:7, 23:17]। আমাদের কাছে আছে একটি এমন কিতাব, যাতে (সমস্ত কিছুই পূর্ব হতে) লিখিত/ সংরক্ষিত [43:4, 6:38, 57:22] রয়েছে।
# নাবী (সা) বলেছেন- “মহাবিশ্ব সমূহ সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বছর পূর্বেই সমস্ত কিছু একটি কিতাবে লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন”(মিশকাত, হাদীস 79)। এখানে সেই বিষয়টিই উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, ব্যাপারটি এমন নয় যে, লিখিত আছে বলে সেই রকম ঘটছে। আল্লাহ অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জানেন (2:255), তাই তিনি সমস্ত কিছু পূর্বেই লিখে রেখেছেন। আর একেই বলা হয় তাকদীর।
# প্রশ্ন হবে- “যখন কিছুই ছিল না, তখন উম্মুল কিতাব কোথায় ছিল”?? আসলে ঠিক যেমন সূর্যকে কেন্দ্রে রেখে গ্ৰহ গুলো ঘুরে চলেছে, তেমন ভাবে উম্মুল কিতাবকে কেন্দ্রে রেখে মহাবিশ্ব গুলো ঘুরে চলেছে।
প্রশ্ন হবে- “মহাশূন্যে উম্মুল কিতাব আছে কিভাবে?? পড়ে যাচ্ছে না কেন”?? আসলে আমরা যাকে মহাশূন্য বলছি, তা মূলত মহাবিশ্বের অভ্যান্তরের মহাশূন্য। তাই এই মহাশূন্যে কিছু রাখলে তা পড়ে যায়। কেননা, কোনও বস্তু তার মহাকর্ষ বল দ্বারা তাকে আকর্ষিত করে।
কিন্তু মহাবিশ্বের বাইরে যে মহাশূন্য রয়েছে, সেখানে যা রাখবেন, তাই থাকবে। কেননা তাকে আকর্ষিত করার মতো কিছু নেই। তাই তা মহাশূন্যে থেকে যায়। তবে উম্মুল কিতাব এত ভর সম্পূর্ণ যে, তাকে কেন্দ্র করে মহাবিশ্ব গুলো ঘুরে চলেছে।
সত্য অস্বীকার করা সংশয়বাদীদের চিরাচরিত স্বভাব।
50:5 নং আয়াহ : বরং যখনই তাদের কাছে সত্য এসেছে, তখনই তারা তা অস্বীকার করেছে। এতএব তারা (মাক্কাহ বাসীরা) রয়েছে সংশয়/ দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে।
■ মহাবিশ্ব সৃষ্টি প্রক্রিয়া। ■ মহাবিশ্ব নিখুঁতভাবে সৃষ্ট।
50:6 নং আয়াহ : তারা কি তাদের উপর মহাবিশ্বকে দেখে নি ১ যে, কিভাবে আমরা তা বানিয়েছি [51:47, 81:15] এবং তা (দর্শকদের জন্য) নিয়মনীতি মেনে ২ সাজানো গোছানো [15:16]। আর তাতে কোনও ভুল ত্রুটি [20:52] নেই।
১ পবিত্র কুরআন বলছে- মহাবিশ্বকে দেখলেই বোঝা যাবে যে, তা কিভাবে সৃষ্ট। ‛বিজ্ঞানী হাবল’ শুধু শক্তিশালী দূরবীন দিয়ে মহাবিশ্বকে দেখছিলেন। আর দেখেই বুঝলেন যে, এক গ্যালাক্সি অন্য গ্যালাক্সি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। অর্থাৎ কখনও গ্যালাক্সি গুলো একে অপরের কাছে ছিল, যুক্ত ছিল। আবিষ্কার হল- বিগব্যাঙ থিওরি। যা এখন ফ্যাক্ট। পবিত্র কুরআন 51:47, 81:15 তে আগেই ঘোষণা করে রেখেছিল।
২ সত্যিই মহাবিশ্ব যেন নিয়মনীতি মেনে সাজানো। মহাবিশ্ব গ্যালাক্সি দ্বারা গঠিত। গ্যালাক্সি নক্ষত্র দ্বারা, নক্ষত্র গ্ৰহ দ্বারা, গ্ৰহ গুলো উপগ্রহ দ্বারা। এ যেন বাঁধা ধরা নিয়ম নীতি। আর সাধারণত নিয়মনীতিতে ব্যতিক্রমও দেখা যায় না। তাই নয় কি??
■ পর্বতমালা সৃষ্টি। ■ বেশিরভাগ জীবের উৎপত্তি পৃথিবীতেই।
50:7 নং আয়াহ : আর আমরা পৃথিবীকে (প্লেট সঞ্চালনের মাধ্যমে) সম্প্রসারিত করেছি। এবং (এর মাধ্যমেই) আমরা পর্বতমালা গুলোকে অস্তিত্বে এনেছি [78:6-7, 13:3-4]। এবং তাতেই ‛বেশির ভাগ জীব’ তৈরি [91:7] করেছি, তার মধ্যে বহু জীবই নারী ও পুরুষ [89:3] আকারে সৃষ্ট। (যা জ্ঞান অর্জনের দৃষ্টিতে দেখলে) চোখ জুড়িয়ে যাবে।
মহাবিশ্ব থেকে শুরু করে জীবন সৃষ্টি সম্পর্কে গবেষণায় উৎসাহ।
50:8 নং আয়াহ : (এসব হল জ্ঞানের) দৃষ্টি উন্মুক্তকারী ও শিক্ষা অর্জনের বিষয়। এই সব কিছু এমন প্রত্যেক বান্দার জন্য, যে তার (আল্লাহর) দিকে প্রত্যাবর্তনে ইচ্ছুক।
বৃষ্টি জীব জগতের জন্য কল্যাণকর।
50:9 নং আয়াহ : আর আমরা বায়ুমন্ডল থেকে মুবারক/ কল্যাণকর বৃষ্টি নামাই [56:69]। অতঃপর তা দ্বারা উৎপন্ন করি বাগান সমূহ এবং কৃষিজাত শস্য সমূহ।
50:10 নং আয়াহ : এবং (আরও উৎপন্ন করি) উঁচু উঁচু খেঁজুর গাছ সমূহ। যাতে রয়েছে গুচ্ছ গুচ্ছ খেঁজুর ছড়া।
পুনরুত্থানের খুব সুন্দর একটি উদাহরণ।
50:11 নং আয়াহ : (এগুলো) বান্দাদের জন্য রিযিক/জীবিকা। আমরা তা (পানি) দিয়ে মৃত ভূমিকে জীবিত করি (তা থেকে গাছপালা ও শস্য বের হয়)। আর এভাবেই (পুনরুত্থানের দিন একত্রিত মহাবিশ্ব) থেকে তোমরা বের [84:1-5, 70:43] হবে।
মহেঞ্জোদোরোর বৈশিষ্ট্য ছিল কূয়া।
50:12 নং আয়াহ : তাদের (মাক্কাহ বাসীদের) পূর্বেও সত্য অস্বীকার করেছিল নূহের জাতি, কূয়া কেন্দ্রিক সভ্যতার অধিবাসীরা [25:38] ও সামূদ জাতি।
# ‛কূয়া কেন্দ্রিক সভ্যতার অধিবাসীরা’ কারা?? আসলে এখানে মহেঞ্জোদোরোর কথা বলা হচ্ছে। আর তা ছিল সভ্যাতা সিন্ধু সভ্যতার শাখা সভ্যাতা। এর বৈশিষ্ট্য ছিল- কূয়া। মহেঞ্জোদোরো খনন করে পাওয়া যায় প্রচুর পরিমাণে কূয়া। যা বর্তমানের পাকিস্তানে অবস্থিত। এই জন্য এই সভ্যাতাকে বলা হয়- Civilization of wells (কূয়ার/ কূয়া কেন্দ্রিক সভ্যাতা)।
কাফিরাও মুসলিমদের ‛ভাই’।
50:13 নং আয়াহ : আদ, ফিরআউন ও লূতের ভাইয়েরাও (সত্য অস্বীকার করেছিল)।
# অনেক মুসলিম স্কলার বলেন- “কাফির/ মুশরিকদের ‛ভাই’ বলে সম্বোধন করা যাবে না”। অথচ এখানে আল্লাহ কাফেরদেরকে লূত (আ) এর ‛ভাই’ বলে সম্বোধন করেছেন। এখন নিজেকে আল্লাহর চেয়ে বেশি বড় ভাবা অনুচিৎ!
50:14 নং আয়াহ : আইকার অধিবাসীরাও (শুয়াইব নাবীর জাতি), সঙ্গে তুব্বা জাতিও। তারা সমস্ত রাসুলদের অস্বীকার করেছিল। ফলে তাদের উপর শাস্তির প্রতিশ্রুতি কার্যকর হয়েছে।
# প্রশ্ন হবে- তারা তো সমস্ত রাসূলদের অস্বীকার করে নি, তারা শুধু তাদের রাসূলকে অস্বীকার করেছিল। তাহলে এখানে সমস্ত রাসূলদের কথা বলা হচ্ছে কেন?? এটা তথ্য গত এবং ব্যাকারণগত ভুল”। উত্তর রয়েছে 73:15 এর টিকা।
আল্লাহ প্রথম সৃষ্টিতে অক্ষম হয়ে পড়েন নি।
50:15 নং আয়াহ : আমরা কি প্রথমবার সৃষ্টি করে অক্ষম হয়ে গেছি [50:38, 46:33] যে, তারা পরের বার সৃষ্টিতে [36:78-79] সন্দেহ/ সংশয় [50:3, 19:66-67] করছে??
আল্লাহ নিউরন গুলোর নিকটবর্তী।
50:16 নং আয়াহ : অবশ্যই আমরা মানুষকে সৃষ্টি করেছি এবং আমরা জানি- তার মস্তিষ্ক তাকে তার (আল্লাহর) সম্পর্কে কুচিন্তা প্রদান করে। আমরা তার চেয়ে বেশি তার নিউরন গুলোর [2:186, 57:4, 6:3] নিকটবর্তী।
আমলনামা লিপিবদ্ধকারী দু জন ফেরেস্তা।
50:17 নং আয়াহ : এ ছাড়াও দুজন লিপিবদ্ধকারী 82:10-12] তার ডানে ও বামে বসে (সমস্ত কিছু) লিপিবদ্ধ করতে থাকে,
দুই ফেরেস্তা প্রতিটা কথাই লিপিবদ্ধ করছেন।
50:18 নং আয়াহ : সে এমন কোনও কথাই উচ্চারণ করে না, যা (গ্ৰহণ লিপিবদ্ধ করার জন্য) তার কাছে সদা সর্বদা উপস্থিত সংরক্ষণ কারী থাকে না!
মৃত্যুকে আঁটকানো সম্ভব নয়।
50:19 নং আয়াহ : আর মৃত্যুর প্রক্রিয়া [2:96, 56:60] অবশ্যই ঘটবে। (তখন বলা হবে- “এই সেই মৃত্যু) যা থেকে তুমি পালিয়ে যেতে চাইছিলে”।
তৃতীয় বার শিংগায় ফু।
50:20 নং আয়াহ : আর (যখন তৃতীয় বার) শিংগায় ফুঁ [36:51] দেওয়া হবে, (তখন বলা হবে- এটাই) সেই দিন, যে সম্পর্কে তোমাদেরকে সতর্ক করা হতো।
প্রত্যেকের সঙ্গে কর্ম ও কর্মের সাক্ষী থাকবে।
50:21 নং আয়াহ : এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তার কর্ম ও কর্মের সাক্ষী (আমলনামা) সঙ্গে [50:17-28] নিয়ে আসবে।
উন্নত বিজ্ঞানের যুগ ও দূরবীন আবিষ্কারের ভবিষ্যৎ বাণী।
50:22 নং আয়াহ : (হে মানুষ) অবশ্যই তুমি এই দিন পূর্ণ সম্পর্কে উদাসীন। তবে আজ হতে তোমার উপর থেকে অজ্ঞনতার অন্ধকার সরিয়ে দিচ্ছি। ফলতঃ তোমার দৃষ্টি ধীরে ধীরে অত্যন্ত প্রখর হবে।
# দূরবীন আবিষ্কার বিচার দিবস সম্পর্কে আজ আমাদের উদাসীনতা দূর করবে। কিভাবে?? উন্নত দূরবীনের ফলেই আমরা 1929 সালে জেনেছি যে, মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে। যদিও পবিত্র কুরআনের 51:47 তেও বলা রয়েছে। তারপর থেকে জ্ঞানের দৃষ্টি উন্মোচিত হয়, মহাবিশ্ব সম্পর্কে গবেষণায় জোয়ার আসে। আজ আমরা জানি যে, একদিন আমাদের মহাবিশ্ব সংকোচিত হবে। মহাবিশ্বের সমস্ত গ্যালাক্সি গুলো মহাবিশ্বের কেন্দ্রে একত্রিত হবে। একত্রিত পৃণ্ড গঠন করবে। তার উপরই বিচার দিবস প্রতিষ্ঠিত হবে। এই তথ্যও রয়েছে 69:16-17 ও 84:1-5 এ।
আমলনামা লিপিবদ্ধকারী ফেরেস্তারা কি বলবে??
50:23 নং আয়াহ : আর (সেদিন) তার সঙ্গী [50:17-18] বলবে- “এই যে আমার কাছে (তার আমলনামা) প্রস্তুত [17:14]”।
গায়ের জোর দেখিয়ে সত্য অস্বীকার করার পরিণতি।
50:24 নং আয়াহ : (বলা হবে) “তোমরা দুজন [13:11] প্রত্যেক ‛গায়ের জোরে সত্য অস্বীকারকারীকে’ জাহান্নামে নিক্ষেপ করো।
জাহান্নাম শুধুমাত্র কাফির/ মুশরিকদের জন্য নয়।
50:25 নং আয়াহ : যে ছিল মানব কল্যাণের কাজে বাধা সৃষ্টিকারী, সীমালঙ্ঘনকারী/ উগ্ৰ এবং (মানুষকে) সন্দেহ/ সংশয়ে [14:3, 31:6] নিক্ষেপকারী।
মুশরিকদের পরিণতি।
50:26 নং আয়াহ : আর যে আল্লাহ’র সঙ্গে অন্য উপাস্য স্থির করেছিল। তাই তাকে তোমরা দুজনে [13:11 ] নিক্ষেপ করো কঠিন শাস্তির মধ্যে।
শাইত্বান/ কারীন জিন মানুষকে খারাপ কাজ করতে বাধ্য করে না।
50:27 নং আয়াহ : (তখন সে/ মানুষ তার অপকর্মের জন্য শাইত্বানকে দায়ী করতে চাইবে, তখন) তার কারীন/ সঙ্গী বলবে- “হে আমাদের প্রভু, আমি তাকে অবাধ্য করে তুলি নি [14:22], সে নিজেই মারাত্মক ভ্রষ্টতার মধ্যে ডুবে ছিল।
# একটি হাদীশ- “জিন/ শাইত্বান প্রতিটা মানুষের কাছে রয়েছে। এমনকি নাবী (সা) এর কাছেও ছিল” (মুসলীম, হাদীস 2814/1)। এই জিন/ শাইত্বান মানুষকে খারাপ কাজে উৎসাহিত করে (15:39)। তাই বিচার দিবসে মানুষ তার খারাপ কাজের জন্য শাইত্বান কে দায়ি করতে চাইবে। তখন শাইত্বান যা বলবে, তা উক্ত আয়াহতে বর্ণিত হয়েছে।
# প্রশ্ন হবে- তাহলে খারাপ কাজের জন্য দায়ি কে?? আমরা নাকি শাইত্বান?? উত্তর সহজ- দায়ি আমরা। কারণ শাইত্বান উৎসাহিত করে, বাধ্য করে না। খারাপ কাজ করব, নাকি করব না- সেই সিদ্ধান্ত আমরা নিই। তাই দায়িও আমরাই হবো।
উদাহরণ দিই?? ধরুন, আপনার বন্ধু আপনাকে বলল- “চ, মদ খাই”। আর আপনিও বললেন- “চ, খাই”। এই “চ, খাই” টা আপনার সিদ্ধান্ত, আপনার বন্ধুর নয়। তারপর আপনি মদ খেয়ে কোনও মেয়েকে রেপ করলেন। তার দায় কি আপনি আপনার বন্ধুর উপর দায় চাপাবেন??
আপনি তো স্বাধীন চিন্তা শক্তির অধিকারী (41:40), আপনি আপনার বন্ধুকে “না” বললেন না কেন?? আল্লাহ মদ হারাম (5:90) করেছেন- সেটা কি আপনার জানা ছিল না?? সুতরাং পুরোপুরি দায় আপনার।
একটা ছোট্ট প্রশ্ন- আমার বন্ধুর যে মদ খাওয়ার প্রস্তাব দিল, এজন্য তার কোনও শাস্তি হবে না?? হবে (38:85)। কিন্তু তাতে আপনার লাভ টা কোথায়?? আপনি তো মদ খাওয়ার জন্য এবং রেপ করার জন্য দায়ি হয়ে গেলেন। আর তার জন্য পৃথিবীতে ও পরবর্তী জীবনে শাস্তি ভোগ করতে হবে।
মানুষ ও শাইত্বানের বিতর্কে আল্লাহ যা বলবেন।
50:28 নং আয়াহ : (তখন আল্লাহ) বলবেন- “তোমরা আমার কাছে তর্কবিতর্ক করো না, নিশ্চয়ই পূর্বেই আমি তোমাদেরকে সতর্ক (7:16-17] করেছিলাম।
■ আল্লাহর কথা অপরিবর্তনীয়। ■ তিনি বান্দাদের প্রতি অবিচার করেন না।
50:29 নং আয়াহ : কিন্তু আমার যে কথা পরিবর্তন হয় না, (আর তা হলো) “আমি আমার বান্দাদের প্রতি অবিচার [36:54] করি না”।
জাহান্নামকে আল্লাহর প্রশ্ন, জাহান্নামের উত্তর।
59:30 নং আয়াহ : সেদিন জাহান্নামকে বলবো- “তুমি কি পূর্ণ হয়েছো?? সে বলবে- আরও (কেউ) আছে কি??
# প্রশ্ন হবে- “বেশ কয়েকটি স্থানে বলা হয়েছে- জাহান্নাম ভরে যাবে (7:18, 11:119, 32:13, 38:85)। তাহলে এখানে কেন বলা হচ্ছে যে, জাহান্নাম খালি থাকবে”?? আসলে এখানে জাহান্নাম ভরে যাওয়ার পূর্বের অবস্থা সম্পর্কে কথা বলা হয়েছে। তাই তা পরস্পর বিরোধী তথ্য নয়।
জান্নাতকে নিকটে আনা হবে।
50:31 নং আয়াহ : এবং (বিচার শেষ) জান্নাতকে মুত্তাকী (অপকর্ম থেকে অবলম্বনকারী) দের জন্য নিকটে আনা হবে [26:90, 81:13], তাদের থেকে দূরে থাকবে না।
জান্নাত কার/ কাদের জন্য??
50:32 নং আয়াহ : (বলা হবে) এটা সেই (জান্নাত), যার ওয়াদা তোমাদেরকে দেওয়া হয়েছিল। এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য, যে আল্লাহ অভিমুখী এবং তার সৃষ্টির প্রতি যত্নশীল/ তার সৃষ্টিকে রক্ষাকারী/ তার সৃষ্টির ভারসাম্য রক্ষাকারী [9017, 35:39]।
বিনীত/ প্রেমময় মস্তিষ্কের গুরুত্ব।
50:33 নং আয়াহ : যে দয়াময়কে না দেখেই ভয় করতো এবং ‛বিনীত/ প্রেমময় মস্তিষ্ক’ নিয়ে হাজির হয়েছে [26:89, 89:27-28]।
50:34 নং আয়াহ : (বলা হবে) “তোমরা সালাম [39:73] সহ প্রবেশ করো তাতে (জান্নাতে), তাতেই হবে তোমাদের অনন্তকালের জীবন”।
# ‛সালাম সহ’ বলতে কি?? আর সালাম বলতে কি শুধু ‛সালাম’ শব্দটা বলা হবে?? উত্তর রয়েছে 56:26 এ।
জান্নাতে চাওয়ার চেয়েও বেশি কিছু পাওয়া যাবে।
50:35 নং আয়াহ : তারা যা চাইবে, সেখানে সব থাকবে/ পাবে। আমাদের কাছে (তাদের চাওয়ার চেয়েও) অনেক বেশি কিছু রয়েছে।
আল্লাহ ফিরআউনদের উদাহরণ পেশ করলেন।
50:36 নং আয়াহ : এবং তাদের (মাক্কাহবাসীদের) পূর্বে আমরা কত মানব সভ্যতা ধ্বংস করেছি, যারা ছিল এদের চেয়ে শক্তিশালী। যাদের আয়ত্তে ছিল বহু দেশ/ ভূখণ্ড [89:10-13]। (কিন্তু আল্লাহর শাস্তি থেকে) বাঁচার মতো কোনও সুরক্ষিত ঠিকানা ছিল কি??
কুরআনের বর্ণনা গুলো কার জন্য??
50:37 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই সেই সমস্ত বর্ণনাতে রয়েছে শিক্ষা। তার জন্য, যার মস্তিষ্ক রয়েছে [8:22, 10:100]। অথবা যার কান রয়েছে [39:18, 7:204]।
ছয়টি পর্যায়ে মহাবিশ্ব সৃষ্টি করতে গিয়ে আল্লাহ ক্লান্ত হন নি।
50:38 নং আয়াহ : অবশ্যই আমরাই মহাবিশ্ব এবং তার মধ্যে থাকা সমস্ত সৃষ্টিই করেছি ছয়টি [11:7] পর্যায়ে। আর (এই সৃষ্টি কর্মে) আমাদেরকে ক্লান্তি [50:15, 2:255] স্পর্শ করে [46:33] নি।
# আল্লাহ এখানে ‛ক্লান্তির’ প্রসঙ্গ আনলেন কেন?? কারণ হল- বাইবেলের Genesis এর 2:2-3 এ বলা হয়েছে যে, “ঈশ্বর ছয় দিনে সমস্ত কিছু সৃষ্টি করে সপ্তম দিনে বিশ্রাম গ্ৰহণ করলেন”। অথচ “আল্লাহকে ঘুম ও ক্লান্তি স্পর্শ করতে পারে না”(2:255)। এখানে আল্লাহ খৃষ্টানদের দাবি নাকচ করলেন (50:15)।
ফজর ও আসরের স্বালাত।
50:39 নং আয়াহ : তারা যা বলছে বলুক, আপনি ধৈর্য্য ধারণ করুন। আপনি আপনার প্রভুর প্রশংসা সহ পবিত্রতা ঘোষণা করুন সূর্যোদয়ের পূর্বে ও সূর্যাস্তের পূর্বে [20:130]।
# ফজরের স্বলাতের উল্লেখ 11:114 ও 24:58 তে, আর আসরের স্বলাতের উল্লেখ রয়েছে 17:78 তে।
ঈশা ও তাহাজ্জুদ স্বালাত।
50:40 নং আয়াহ : আর রাত শুরুর কিছুটা পরেও তার পবিত্রতা বর্ণনা করুন [24:58]। আর অতিরিক্ত সিজদার (তাহাজ্জুদের) পরও [17:79]।
পুনরুত্থানের দিকে ইসরাফীল (আ) আহ্বান করবে।
50:41 নং আয়াহ : আর শোনো, যেদিন একজন আহ্বান কারী আহ্বান করবে [54:6], খুব নিকটবর্তী স্থান থেকে।
# এই আহ্বান সাধারণ আহ্বান নয়। 50:20 এর আলোকে বলা যায় যে, এই আহ্বান হল- শিংগায় তৃতীয় ফুঁ।
একত্রিত মহাবিশ্ব/ পৃণ্ড থেকে পুনরুত্থান হবে।
50:42 নং আয়াহ : সেদিন তারা যথাযথ শুনতে পাবে (সেই) ডাক। সেটাই (একত্রিত মহাবিশ্ব থেকে) বের হওয়ার দিন [70:43, 84:1-5]।
আল্লাহর দিকে ফিরতেই হবে।
50:43 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমরাই জীবন দিই, মৃত্যুও দিই। আর আমাদের দিকেই ফিরে [69:16-17] আসতে হবে।
কিভাবে পুনরুত্থান ঘটবে।
50:44 নং আয়াহ : সেদিন একত্রিত পৃণ্ড [84:1-5] বিদীর্ণ হবে এবং তা হতে সবাই (জিন ও মানুষ) বের হবে দৌড়াদৌড়ি [70:43] করে। এই ভাবে সবাইকে একত্রিত করা আমাদের কাছে অতিব সহজ [64:7]।
নাবী (সা) বলপ্রয়োগকারী ছিলেন না।
50:45 নং আয়াহ : আমরা জানি তা, যা তারা বলে থাকে। কিন্তু আপনি তাদের উপর বল প্রয়োগকারী [2:256, 88:22, 10:99] নন। সুতরাং আপনি তাকেই কুরআন [25:52] দ্বারা নির্দেশনা দিন, যে ভয় [87:10] করে আমার সতর্ককরণকে।