বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 11 টি।
গ্ৰহাণুরা তীব্র গতি ও উচ্চ শব্দ সৃষ্টি করে।
100:1 নং আয়াহ : শপথ তাদের (গ্ৰহাণুদের), যা উচ্চ শব্দ সৃষ্টিকারী তীব্র গতি সম্পন্ন।
গ্ৰহাণুতে আগুন ধরে যায়।
100:2 নং আয়াহ : অতঃপর (শপথ তাদের), যখন সেগুলোতে আগুন [37:10] ধরে যায়।
# আসলে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে গ্ৰহাণুতে আগুন ধরে যায়। ফলত ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। যাকে আমরা রাতের আকাশে ‛তারা খাসা’ বলি।
বড় গ্ৰহাণু আঘাতের বৈশিষ্ট্য।
100:3 নং আয়াহ : অতঃপর (শপথ তাদের), যখন (গ্ৰহাণুরা) দিনের প্রথম অংশে আঘাত হানে।
# কেন জানি না। কিন্তু মানুষের রেকর্ডে রয়েছে যে, বড় গ্ৰহাণুরা দিনের প্রথম অংশে আঘাত হানে। যেমন 1908 সালের 30 শে জুন সাইবেরিয়ায় গ্ৰহাণু আঘাত করেছিল দিনের প্রথম অংশে। প্রায় 12-15 মেগাটন TNT এর বিস্ফোরণ ঘটেছিল।
পৃথিবীতে বড় গ্ৰহাণু আঘাতের পরিণতি।
100:4 নং আয়াহ : অতঃপর (শপথ তাদের), যখন (গ্ৰহাণুদের আঘাতে পৃথিবী) ধূলোয় ভরে যায় ১।
১ আজ থেকে প্রায় 5-6 কোটি বছর পূর্বে যখন গ্ৰহাণুর আঘাতে ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়েছিল, তখনও পৃথিবী ধূলোয় ভরে গিয়েছিল।
গ্ৰহাণুদের আঘাতে প্রাণী জগতের বিলুপ্তি ঘটে।
100:5 নং আয়াহ : অতঃপর (শপথ তাদের), যখন তারা প্রাণী ১ জগতের বিলুপ্তি [34:9, 22:65] ঘটায়।
১ যখন আজ থেকে 5-6 কোটি বছর পূর্বে 10/10 কিমি আকারের একটি গ্ৰহাণু মেক্সিকো উপসাগরের তীরবর্তী ইউকাটান উপদ্বীপ এলাকায় আঘাত করে, যার প্রভাবে ডাইনোসর প্রজাতি ধ্বংস হয়ে যায়। তখন শুধুমাত্র ডাইনোসর প্রজাতি নয়, বরং 95-98% প্রাণীই ধ্বংস হয়ে যায়।
বেশিরভাগ মানুষ অকৃতজ্ঞ।
100:6 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই মানুষ তার প্রভুর প্রতি খুবই অকৃতজ্ঞ [40:61, 17:67]
# প্রশ্ন হবে- হঠাৎ আল্লাহ কেন বললেন যে, “মানুষ তার প্রভুর প্রতি খুবই অকৃতজ্ঞ”?? উত্তর সহজ- যে গ্ৰহাণুর আঘাতে ধূলো সৃষ্টি হওয়ার কারণে খাদ্য সংকটের জন্য Dinosaur প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটেছিল, সেই একই কারণে মানবজাতিরও বিলুপ্তি হতে পারে। কিন্তু মানবজাতির প্রভু মানবজাতিকে রক্ষা করে প্রতিপালন করে চলেছেন। এ ক্ষেত্রে মানবজাতির উচিৎ ছিল- সামগ্রিক ভাবে তার প্রভুর প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া (22:65)। কিন্তু কৃতজ্ঞতা স্বীকার তো করেই না, উপরন্তু প্রভুর বিধানের বিরোধীতা করে চলেছে (76:3)।
তার প্রমাণ সে নিজেই।
100:7 নং আয়াহ : আর নিশ্চয়ই সে (নিজেই নিজের অকৃতজ্ঞতার) সাক্ষ্য বহন ১ করছে।
১ কিভাবে?? উত্তর সহজ- আমরা আমাদের প্রভুর প্রেরিত বিধান বাদ দিয়ে নিজেদের তৈরি করা বিধান মেনে জীবন যাপন করছি। এটাই প্রমাণ যে, আমরা তার প্রতি অকৃতজ্ঞ (76:3)।
মানুষ মারাত্মক স্বার্থপর।
100:8 নং আয়াহ : আর নিশ্চয়ই সে নিজ স্বার্থকে মারাত্মক ভাবে [102:1-2] ভালবাসে।
আরব বিশ্বে তেল উৎপাদনের ভবিষ্যৎ বাণী।
100:9 নং আয়াহ : তবে কি সে জানে না যে, কবর/ মাটির নিচের খনি গুলোর মধ্যে যা আছে, তা ১ তোলা হবে??
১ “তা তোলা হবে” বলতে?? জ্বালানি তেলের কথা বলা হচ্ছে। দেখুন 87:4-5 আয়াত।
পশ্চিমাদের দুমুখো নীতি প্রকাশ পাবে।
100:10 নং আয়াহ : আর প্রকাশ করা হবে, যা কিছু আছে (তাদের) মস্তিষ্ক সমুহে ।
অর্থাৎ মস্তিষ্ক সমূহে মানুষ যে নোংরা চরিত্র বয়ে বেড়ায়, তা প্রকাশ পাবে। উদাহরণ দেব?? পশ্চিমা বিশ্ব দাবি করে, তারা সভ্য, তারা মানবতাবাদী। কিন্তু তারাই আরব বিশ্বে অশান্তি লাগিয়ে রেখেছে। যে অশান্তির কারণে তাদের দেওয়া বন্দুকের গুলিতে প্রতিদিন হাজার হাজার মুসলীম অন্য মুসলীমের হাতে মরছে। এই পশ্চিমা বিশ্ব তথা আমেরিকার নীতি সম্পর্কে 2:11-12 তে কথা বলা হয়েছে। শুধুমাত্র নিজেদের প্রভুত্ব বজায় রাখতে, নিজেদের জ্বালানি তেলের চাহিদা পূরণ করতে প্রতিদিন হাজার হাজার মুসলীমের রক্তে নিজেদের হাত লাল করে চলেছে। কোথায় মানবতাবাদীরা?? তাদের এই নোংরা সত্য প্রকাশ করার কথাই আল্লাহ বলেছেন।
মুসলীমদের করুণ পরিণতির ভবিষ্যৎ বাণী।
100:11 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই তাদের সঙ্গে ১ সে দিন যা ঘটবে, তাদের প্রভু সেই সমস্ত বিষয়ের জ্ঞান রাখেন।
১ “তাদের সঙ্গে” বলতে?? মুসলীমদের সঙ্গে, আমাদের সঙ্গে। অবশ্য আমাদেরকে 8:46 আল্লাহ আগেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা কুরআনের এই সতর্ক বাণীকে অগ্ৰায্য করেছি। ফলতঃ আজ পরিণতি আমাদের সামনে। আজ আমরাই নির্যাতনের শিকার, উপরন্তু আমরাই সন্ত্রাসী তাকমা বয়ে বেড়াচ্ছি।