বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 17 টি।
পালসার নক্ষত্র দরজা ঠোকার মতো শব্দ করে।
86:1 নং আয়াহ : শপথ গ্যালাক্সির এবং তাতে অবস্থান করা ‛দরজা ঠোঁকার শব্দ সৃষ্টিকারী বস্তুর’ শপথ।
# চাইলে গুগলে সার্চ করে দেখে/ শুনে নিতে পারেন পালসার নক্ষত্রের শব্দ। আর তা হুবহু দরজা ঠোঁকার মতোই শব্দ।
পালসার নক্ষত্র সম্পর্কে নাবী (সা) জানতেন না।
86:2 নং আয়াহ : আপনি কি জানেন- ‘দরজা ঠোঁকার শব্দ সৃষ্টিকারী বস্তুটি’ আসলে কি??
পালসার নক্ষত্র মারাত্মক উজ্বল।
86:3 নং আয়াহ : তা হল- জ্বালানি [77:8] শেষ করে ফেলা মারাত্মক উজ্বল নক্ষত্র।
# পালসার নক্ষত্র আসলে নিউট্রন নক্ষত্রেরই ভিন্ন রূপ। তবে, সাধারণ নক্ষত্রের আলো চারিদিক দিয়ে বের হয়। কিন্তু পালসার নক্ষত্রের (আপাত দৃষ্টিতে) আলো বের হয় শুধুমাত্র উত্তর ও দক্ষিণ মেরু দিয়ে। এবং তা ঘূর্ণন করে। দেখে মনে হয় যেন সামুদ্রিক লাইট হাউস, তাই একে মহাবিশ্বের লাইট হাউসও বলা হয়।
জীব জগৎ সংরক্ষণের নির্দেশ।
86:4 নং আয়াহ : এমন কোনও প্রাণী/ জীব নেই, যার সংরক্ষণের [50:32] প্রয়োজন নেই।
ভিন্ন অনুবাদ : এমন কোনও প্রাণী/ জীব নেই, যা সংরক্ষিত নয় [21:95]।
# এর অর্থ হল- কোনও প্রাণী/ জীবই চিরতরে পৃথিবী হতে বিলুপ্ত হয়ে যাবে না। প্রশ্ন হবে- “কিন্তু এমন জীব সম্পর্কে আমরা জানি, যা বিলুপ্ত হয়ে গেছে”। উত্তর সহজ- বিলুপ্ত হলেও তা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। অর্থাৎ সমস্ত প্রাণী/ জীবই সংরক্ষিত। এই কিছুদিন আগেই আমেরিকার টেক্সাসের একদল বিজ্ঞানী “ডায়ার উলফ বা শিকারী নেকড়ে” ফিরিয়ে এনেছেন, যা 10 লক্ষ বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। পবিত্র কুরআন এখানে সেটাই বলছেন।
যৌন বিদ্যা ও ভ্রূণ বিদ্যায় আল্লাহ উৎসাহ দিচ্ছেন।
86:5 নং আয়াহ : সুতরাং মানুষের লক্ষ করা/ ভেবে দেখা উচিৎ যে, তাকে কোন বস্তু [76:2] থেকে সৃষ্টি করা [80:18] হয়েছে।
শুক্রাণু ও ডিম্বাণু তরল সহ বের হয়।
86:6 নং আয়াহ : তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে নির্গত তরল [32:8, 77:20] পদার্থ থেকে।
মানব ভ্রুণে প্রজনন তন্ত্রের অবস্থান কোথায় ছিল??
86:7 নং আয়াহ : এমন অঙ্গ থেকে বের [80:19] হয়, যা মেরুদন্ড এবং পাঁজরের কাছে অবস্থিত ছিল।
# ভ্রুণ অবস্থায় মানুষ যখন মাতৃগর্ভে 6-8 সপ্তাহ অতিবাহিত করে, তখন তার প্রজনন তন্ত্রের গঠন শুরু হয়ে যায়। তখন পুরুষের অণ্ডকোষ থাকে তার মেরুদন্ডের হাড়ের কাছে। অর্থাৎ কিডনির পাশে। জন্মের কিছু সময় আগে তা অণ্ড থলিতে নেমে আসে। আর নারীদের ডিম্বাশয় ভ্রুণ অবস্থায় পাঁজরের 11-12 নং হাড়ের কাছে থাকে। পরবর্তীতে পরিণত হতে থাকলে ধীরে ধীরে তা বর্তমান স্থানে স্থানান্তরিত হয়।
পুনরুত্থানের পক্ষে যৌক্তিকতা।
86:8 নং আয়াহ : (যিনি মানুষকে এভাবে সৃষ্টি করতে পারেন) তিনি তাকে (নিজের কাছে) ফিরিয়ে [69:16, 84:1-4] আনতেও সক্ষম।
নিয়েত/ সংকল্পের গুরুত্ব।
86:9 নং আয়াহ : সেদিন গোপন বিষয় (নিয়েত/ সংকল্প) সমূহ পরীক্ষা করা হবে।
বিচার দিবসে সবাই হবে ক্ষমতা হীন/ অসহায়।
86:10 নং আয়াহ : (সেদিন) না তার নিজের ক্ষমতা থাকবে, আর না থাকবে [3:150] তার জন্য কোনও সাহায্যকারী [3:22, 3:56, 3:91, 16:37, 29:25, 30:29, 45:34]।
মহাকাশ স্যাটেলাইট ধারণ করে।
86:11 নং আয়াহ : শপথ মহাকাশের, যা (স্যাটেলাইট) ধারণ করবে।
পৃথিবীর কেন্দ্র অতিক্রম সম্ভব হবে।
86:12 নং আয়াহ : শপথ পৃথিবীর, যার কেন্দ্র অতিক্রম করা সম্ভব হবে।
# পৃথিবীর বহু দেশ এবং সেই দেশের বিজ্ঞানীরা মিলে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রোজেক্টে কাজ করছেন, তা হল- ইন্টারন্যাশনাল কন্টিনেন্টাল সাইন্টিফিক ড্রিলিং প্রোগ্রাম। এই সংস্থা চায়- পৃথিবীর একদিক দিয়ে ড্রিলিং করে পৃথিবীর কেন্দ্র অতিক্রম করে অন্যদিক দিয়ে বের হতে। আর এভাবেই পবিত্র কুরআনের ভবিষ্যৎ বাণী পূর্ণ হবে- ইন শায়া আল্লাহ।
কুরআন দ্বারা মতবিরোধ মিমাংসার নির্দেশ।
86:13 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই তা (কুরআন) মতবিরোধ মিমাংসাকারী বাণী।
ভিন্ন অনুবাদ : নিশ্চয়ই তা (কুরআন) সংশয়/ সন্দেহ নিরসনকারী [10:57] বাণী।
কুরআনের কাজ কি??
86:14 নং আয়াহ : তা (কুরআন) অকেজো [56:81] বাণী নয় [17:9, 34:6]।
কুরআনে বিরুদ্ধে যুগে যুগে ষড়যন্ত্র হয়েছে।
86:15 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই তারা (কুরআনের বিরুদ্ধে) ষড়যন্ত্রে [27:50] লিপ্ত।
# কেমন ষড়যন্ত্র?? এই কিছুদিন আগে ভারতের একজন শিয়া নেতা হিন্দুত্ববাদীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে পবিত্র কুরআনের কিছু অংশ বাদ দেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছিলেন। কিন্তু তা খারিজ হয়ে যায়। বলে রাখা দরকার যে, আজ ঐ শিয়া নেতা হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেছেন। আগে মুসলিম সেজে ইসলাম বিরোধী কাজ করতেন, এখন হিন্দু হয়ে করছেন!
আল্লাহর কৌশল অসাধারণ।
86:16 নং আয়াহ : আমিও কৌশল [3:54, 8:30] অবলম্বন করছি [43:79], মারাত্মক কৌশল [52:42, 7:99] করছি।
আল্লাহ সত্য অস্বীকারকারীদেরও সুযোগ দেন।
86:17 নং আয়াহ : সুতরাং তাদেরকে সুযোগ দিন, সত্য অস্বীকারকারীদের কিছু সময়ের জন্য সুযোগ দিন।
# যাতে কাফিররা বলতে না পারে যে, আমরা সুযোগ পেলে নিজেদের সংশোধন করতাম (63:10)। তাই তিনি সুযোগ দিচ্ছেন। এছাড়াও অন্য আরেক কারণেও সুযোগ দেন, যা রয়েছে 3:178 এ।