বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 50 টি।
সৌরঝড় পৃথিবীর জন্য ক্ষতিকারক।
77:1 নং আয়াহ : শপথ তার, যা ক্ষতিকারক হিসাবে একের পর এক প্রেরিত হয়।
সৌর ঝড়ের প্রলয়কারী গতি।
77:2 নং আয়াহ : অতঃপর (শপথ) সৌরঝড়ের, যা প্রলয়কারী গতিতে প্রবাহিত হয়।
# সৌরঝড়ের গতি ঘন্টায় 30 লক্ষ কিমিরও বেশি। আর অবশ্যই তা প্রলয়কারী। এ কারণেই স্যাটেলাইট থেকে শুরু করে পৃথিবীর ইলেকট্রনিক্স উপকরণ গুলোর ক্ষতি হয়/ হতে পারে।
বায়ুমণ্ডল সৌরঝড় প্রতিরোধ করে।
77:3 নং আয়াহ : এবং শপথ তার [21:32], যা (সৌরঝড়) প্রতিরোধ করে।
■ পৃথিবীর ম্যাগনেটিক ফিল্ড ■ মেরু জ্যোতির উৎস।
77:4 নং আয়াহ : অতঃপর (শপথ) তারও, যা পৃথক ১ করে দেয়।
# ‛শপথ তারও’ বলতে কি?? তার বলতে- পৃথিবীর ম্যাগনেনিক ফিল্ডের কথা বলা হচ্ছে।
১ বায়ুমণ্ডলের মতোই পৃথিবীর ম্যাগনেটিক ফিল্ডও সৌরঝড়কে প্রতিরোধ করে। শুধু প্রতিরোধই করে না, বরং সোরঝড়কে পৃথকও করে দেয় দু মেরুতে। আর সেজন্যই সৃষ্টি হয় মেরু জ্যোতি।
কুরআন প্রচারকদের গুরুত্ব।
77:5 নং আয়াহ : অতঃপর (শপথ) তাদের, যারা মানুষের নাগালে করে দেবে [16:125] যিকির/ সংবিধান (কুরআন)।
কুরআন নাযিলের কারণ।
77:6 নং আয়াহ : যা অজুহাত দূরকারী [ 6:157] ও সতর্ককারী [44:3]।
কিয়ামত/ মহাবিশ্বের সংকোচন ঘটবেই।
77:7 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই যে বিষয়ের ওয়াদা [21:104] করা হয়েছে, তা অবশ্যই [69:16-17] ঘটবে।
নক্ষত্র সমূহের জ্বালানি শেষ হবে।
77:8 নং আয়াহ : অতঃপর যখন নক্ষত্র সমূহের জ্বালানি (হাইড্রোজেন) শেষ হবে [81:1-2]।
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল পাতলা হয়ে যাবে।
77:9 নং আয়াহ : আর যখন বায়ুমণ্ডল খুবই পাতলা হয়ে যাবে।
# বিজ্ঞানীরা মনে করেন- মঙ্গল গ্ৰহেও একসময় পৃথিবীর মতো শক্তিশালী বায়ুমণ্ডল ছিল (17:69)। কিন্তু এখন মাত্র 3 % রয়ে গেছে। পৃথিবীরও ঐ পরিণতিই হবে।
পৃথিবী পাহাড় পর্বতহীন হয়ে যাবে।
77:10 নং আয়াহ : এবং যখন (পৃথিবীতে) কোনও পাহাড় পর্বত [20:105-107] থাকবে না।
সংকোচিত ভূমি/ একত্রিত ভূমির উপর পুনরুত্থান হবে।
77:11 নং আয়াহ : আর যখন নির্ধারিত সময়ে রাসূলগণকে হাজির করা [70:43, 84:1-5, 81:7] হবে।
কিয়ামতের প্রস্তুতি চলছে।
77:12 নং আয়াহ : কোন দিনের জন্য এই সমস্ত বিষয়ের প্রস্তুতি চলছে??
বিচার দিবস সত্যকে মিথ্যা থেকে পৃথক করবে।
77:13 নং আয়াহ : (সত্যকে থেকে মিথ্যাকে) পৃথককারী দিবসের জন্য।
বিচার দিবস সম্পর্কে নাবী (সা) জানতেন না।
77:14 নং আয়াহ : আপনি কি জানেন- (সত্যকে মিথ্যা থেকে) পৃথককারী দিবসটি ১ আসলে কি??
১ কেন জানতেন না?? তিনি তো নাবী/ রাসূল ছিলেন! উত্তর রয়েছে 42:52 ও 29:48 এ।
বিচার দিবসে কারা ধ্বংস হবে??
77:15 নং আয়াহ : সেদিন ধ্বংস হবে [4:42, 78:40] অস্বীকার কারীরা।
সীমালঙ্ঘনের জন্য পূর্ববর্তীরা ধ্বংস হয়েছিল।
77:16 নং আয়াহ : আমরা কি (তাদের) পূর্ববর্তীদের (সীমা লঙ্ঘনের কারণে) ধ্বংস করি নি??
পরবর্তীরাও সীমালঙ্ঘনের জন্য ধ্বংস হবে।
77:17 নং আয়াহ : তারপর পরবর্তীদেরকে আমরা তাদের অনুগামী করবো।
# সীমালঙ্ঘনের কারণেই পরবর্তীদেরকেও পূর্ববর্তীদের মতো ধ্বংস করবো।
# ‛পরবর্তী’ বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?? নিদিষ্ট কাউকে উদেশ্য করে কিছু বলা হয় নি। তবে সীমালঙ্ঘন যারা করবে, তারা ধ্বংস হবেই। যেমন- মুসলিমরা সীমালঙ্ঘন করেছিল, আজ আমরা পরিণতি ভোগ করছি!
অপরাধীদের ধ্বংস করাই আল্লাহর নীতি।
77:18 নং আয়াহ : অপরাধীদের সঙ্গে আমরা [17:77, 48:23] এমনই করে থাকি [37:34]।
বিচার দিবসে কারা ধ্বংস হবে??
77:19 নং আয়াহ : সেদিন ধ্বংস হবে [4:42, 78:40] অস্বীকার কারীরা।
মানুষের সৃষ্টি বিশুদ্ধ তরল থেকে।
77:20 নং আয়াহ : আমরা কি তোমাদেরকে বিশুদ্ধ তরল থেকে সৃষ্টি করি নি??
# আজ এটা বিজ্ঞানে প্রমাণিত। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর সঙ্গে যে তরল বের হয়, তা 100 % বিশুদ্ধ। তাতে ক্ষতিকারক কিছুই থাকে না। এমনকি তা খেয়ে ফেললেও ক্ষতি হয় না। যদিও একসময় মানুষ তাকে নোংরা/ অপবিত্র মনে করতো।
# একটা প্রশ্ন- “আমরা তো শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলন (জাইগোট) থেকে সৃষ্টি হয়েছি”। হ্যাঁ, এই সম্পর্কে কথা বলা হয়েছে 76:2 এ। শুক্রাণু ডিম্বাণু মূলতঃ বিশুদ্ধ তরলেরই অংশ।
চার সপ্তাহের ভ্রুণ ঝুলন্ত অবস্থায় থাকে।
77:21 নং আয়াহ : অতঃপর আমরা কি ঝুলন্ত [96:2] অবস্থায় সুরক্ষিত স্থানে রাখি নি,
# যদি আপনি 4 সপ্তাহের ভ্রুণের ছবি দেখেন, দেখে মনে হবে যেন- ভ্রুণটি ঝুলে আছে। চাইলে গুগলে গিয়ে সার্চ করে দেখে নিন।
77:22 নং আয়াহ : এক ‛নিদিষ্ট ও নির্ধারিত’ সময় কালের জন্য??
মানুষের আকার আকৃতি হয় Gene (জিন) অনুযায়ি।
77:23 নং আয়াহ : আমরা স্থির করেছি Gene (জিন) অনুযায়ি আকৃতি ব্যবস্থা [80:19]। অতঃপর আমরা উত্তম আকৃতি দাতা।
বিচার দিবসে কারা ধ্বংস হবে??
77:24 নং আয়াহ : সেদিন ধ্বংস হবে [4:42, 78:40] অস্বীকার কারীরা।
পৃথিবী তার অভিকর্ষ বল দ্বারা সমস্ত কিছুকে ধরে রাখে।
77:25 নং আয়াহ : আমরা কি পৃথিবীকে আকর্ষণ বল/ অভিকর্ষ বল সৃষ্টিকারী হিসাবে সৃষ্টি করি নি,
77:26 নং আয়াহ : যা জীব সমূহ ও জড় পদার্থ সমূহের জন্য (ধারণকারী)??
পৃথিবীতে পর্বত মালা সমূহ ছিল না।
77:27 নং আয়াহ : আর আমরা তাতে (পৃথিবীতে) সুউচ্চ পর্বত মালা সমূহ হাজির ১ করেছি [13:3-4, 78:6-7] এবং (তা দ্বারা) তোমাদেরকে পান ১ করাই মিঠা পানি।
১ আমরা জানি যে, মহাদেশ গুলো যখন একত্রিত অবস্থায় ছিল, তখন পৃথিবীতে কোনও পাহাড় পর্বত/ পর্বতমালা ছিল না। পরবর্তীতে প্লেট সম্প্রসারণের কারণ পাহাড় পর্বত/ পর্বতমালার সৃষ্টি হয়েছে।
২ পর্বত মালা সমূহ না থাকলে তাতে বরফ জমতো না, বরফ না জমলে বরফ গলা পানি থাকতো না। আর তা না হলে নদনদী দ্বারা পানি হিসাবে কিছুই বয়ে আসতো না। অর্থাৎ নদনদীর উৎপত্তি হতো না। নদনদীর উৎপত্তি না হলে পর্বত মালা সমূহ থেকে মিঠা পানি বয়ে নিয়ে আসতে পারতো না। আর না নিয়ে আসতো উর্বর মাটি।
যাইহোক, নদনদীর মিঠা পানির সংস্পর্শে আসে পৃথিবীর বড় একটা অংশ। সে কারণেই ভূ-জলের অস্তিত্ব (যদিও বর্ষার পানিও অন্যতম উৎস)। যা আমরা পানি হিসাবে পান করি। এছাড়াও এই পানি ও উর্বর মাটি দ্বারাই চাষ-বাস হয়ে থাকে। যদি পর্বত মালা সমূহ না থাকতো, তাহলে পৃথিবী আজকের মতো কখনই হোত না।
বিচার দিবসে কারা ধ্বংস হবে??
77:28 নং আয়াহ : সেদিন ধ্বংস হবে [4:42, 78:40] অস্বীকার কারীরা।
অস্বীকারকারীদের যা বলা হবে।
77:29 নং আয়াহ : (তাদেরকে বলা হবে) চলো সেই দিকে, যে বিষয়টি তোমরা অস্বীকার [52:14] করতে।
77:30 নং আয়াহ : চলো সেই ছায়ায় দিকে, যা তিন শাখা বিশিষ্ট।
জাহান্নামের আগুন হবে লাল কটকটে।
77:31 নং আয়াহ : (যে ছায়া) না শীতল, আর না রক্ষা করবে কটকটে লাল ১ আগুনের শিখা থেকে।
১ আসলে নক্ষত্রের উজ্জ্বলতা দ্বারাই নক্ষত্রের বয়স ও ভর নির্ধারণ করা হয়। এখানে পবিত্র কুরআন সেই দিকেই ইঙ্গিত করছে। জাহান্নামের রঙ হবে- কটকটে লাল। কটকটে লাল মানে- তার বয়স ও ভর হবে মারাত্মক। আর তাই বলা হয়েছে- “সেখানে তারা মরবেও না, বাঁচবেও না”(87:13)।
জাহান্নাম বিরাট বিরাট স্ফুলিঙ্গ ছাড়ে।
77:32 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই তা (জাহান্নাম) বিরাট বিরাট আগুনের স্ফুলিঙ্গ [77:1-2] ছাড়বে।
# ‛স্ফুলিঙ্গ’ কি?? বিজ্ঞানের ভাষায় সূর্যের ক্ষেত্রে যাকে আমরা ‛সোলার ফ্লেয়ার’ বলি। বাংলায় তাকেই ‛সৌর শিখা’ বলা হয়।
সোলার ফ্লেয়ার হলুদ রঙের হয়ে থাকে।
77:33 নং আয়াহ : (দেখে মনে হবে) তা যেন হলুদ রঙের উট সমূহ লাফ দিচ্ছে।
# জাহান্নামও আগুনের স্ফুলিঙ্গ ছাড়বে, যা হবে তুলনামূলক হলুদ রঙের। আমরা জানি যে, সূর্য বা অন্যান্য নক্ষত্র যখন স্ফুলিঙ্গ ছাড়ে, তা হলুদ রঙেরই হয়।
# প্রশ্ন হবে- “নক্ষত্রের সঙ্গে জাহান্নামের এত মিল কেন”?? কারণ আমাদের মহাবিশ্বের নক্ষত্র গুলোই হবে এক একটি জাহান্নাম। বিস্তারিত 19:72 ও 69:16-17 তে রয়েছে।
বিচার দিবসে কারা ধ্বংস হবে??
77:34 নং আয়াহ : সেদিন ধ্বংস হবে [4:42, 78:40] অস্বীকার কারীরা।
বিচার দিবসে কেউ কথা বলতে পারবে না।
77:35 নং আয়াহ : এটা এমন দিন, যে দিন কেউ কোনও কথা [78:38] বলতে পারবে [82:19] না।
অস্বীকার কারীরা ওযর পেশও করতে পারবে না।
77:36 নং আয়াহ : এবং তাদেরকে ওযর আপত্তি পেশ করার সুযোগও দেওয়া হবে না।
বিচার দিবসে কারা ধ্বংস হবে??
77:37 নং আয়াহ : সেদিন ধ্বংস হবে [4:42, 78:40] অস্বীকার কারীরা।
বিচার দিবসে সবাইকে একত্রিত করা হবে।
77:38 নং আয়াহ : এটাই বিচার দিবস, আমরা তোমাদের কে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদের [37:16-18] একত্রিত [42:29] করবো [69:16-17, 84:1-5]।
বিচার দিবস আঁটকানোর চ্যালেঞ্জ।
77:39 নং আয়াহ : সুতরাং যদি তোমাদের কোনও কৌশল থাকে, তাহলে প্রয়োগ [21:104] করতে পারো।
# অর্থাৎ যদি মহাবিশ্বের সংকোচন/ কিয়ামত ও বিচার দিবসকে তোমরা তোমাদের কৌশল প্রয়োগ করে আঁটকাতে পারো, তাহলেও আঁটকে দেখাও।
বিচার দিবসে কারা ধ্বংস হবে??
77:40 নং আয়াহ : সেদিন ধ্বংস হবে [4:42, 78:40] অস্বীকার কারীরা।
মুত্তাকীরা কোথায় থাকবে??
77:41 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই মুত্তাকী (অপকর্ম থেকে দূরত্ব অবলম্বনকারী) রা থাকবে ছায়ায় ও ঝর্ণা বহুল স্থানে।
জান্নাতে ইচ্ছা অনুযায়ি ফলমূল পাওয়া যাবে।
77:42 নং আয়াহ : আর সেখানে তারা যে ফলমূলই খেতে চাইবে [50:35, 43:73], তারা তা’ই পাবে [56:32-33]।
সৎ কর্মের বিনিময় হল জান্নাত।
77:43 নং আয়াহ : (তাদের বলা হবে) তোমরা তৃপ্তির সঙ্গে খাও এবং পান করো। সেই সমস্ত কর্ম বিনিময়ে, যা তোমরা করতে।
77:44 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমরা সৎ কর্মশীলদের এভাবেই প্রতিদান প্রদান করি ।
বিচার দিবসে কারা ধ্বংস হবে??
77:45 নং আয়াহ : সেদিন ধ্বংস হবে [4:42, 78:40] অস্বীকার কারীরা।
কাফিরদেরও অবকাশ দেওয়া হচ্ছে।
77:46 নং আয়াহ : তোমরা (অস্বীকারকারীরা) কিছু সময় খাও এবং আনন্দ উপভোগ করে নাও [29:66, 63:10-11]। নিশ্চয়ই তোমরা (সত্য অস্বীকার করার জন্য) অপরাধী [39:8]।
বিচার দিবসে কারা ধ্বংস হবে??
77:47 নং আয়াহ : সেদিন ধ্বংস হবে [4:42, 78:40] অস্বীকার কারীরা।
বিচার দিবসে তারা ধ্বংস হবে কেন??
77:48 নং আয়াহ : আর যখন তাদেরকে বলা হয়- “রুকু/ আল্লাহর বিধান মুতাবিক জীবন যাপন করো”, তখন তারা তা করতো না।
বিচার দিবসে কারা ধ্বংস হবে??
77:49 নং আয়াহ : সেদিন ধ্বংস হবে [4:42, 78:40] অস্বীকার কারীরা।
হাদীশই শেষ, তার পরে কোনও কিছু নয়।
77:50 নং আয়াহ : সুতরাং তারা হাদীশের পরে আর কি মেনে নেবে??
# হাদীশের পরে আর কোনও কিছুতে ইমান রাখা যাবে না/ আর কোনও কিছু মানখ যাবে না। কুরআনের পর হাদীশ, হাদীশের পর কিছু নেই। এখানেই শেষ। একটু বিস্তারিত বলি- A কুরআন, B হাদীশ, C ইজমা, E কিয়াস। এই 4 টি কে দলিল বলে গণ্য করা হয়। অথচ এই আয়াহ বলছে- হাদীশের পর আর কোনও কিছুই নয়।
# প্রশ্ন হবে- “নাবী (সা) কি হাদীশ বর্ণনা করতেন?? তা কি আল্লাহর আদেশ ছিল”?? বিস্তারিত জানতে দেখুন 93:11 ও 66:3 আয়াত।