বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাদীনাহ, আয়াত : 29 টি।
মহাবিশ্বের সমস্ত কিছু আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে।
57:1 নং আয়াহ : যা কিছু রয়েছে মহাবিশ্বে ও পৃথিবীতে সমস্ত কিছুই তার পবিত্রতা ঘোষণা করে [17:44]। এবং তিনি মহা শক্তিশালী ও মহা বিজ্ঞানী।
মহাবিশ্বের মালিকানা আল্লাহর।
57:2 নং আয়াহ : মহাবিশ্ব ও পৃথিবীর মালিকানা তার। তিনিই জীবন দান করেন, তিনিই মৃত্যু ঘঠান [56:60]। আর তিনি সমস্ত কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
আল্লাহ সম্পর্কে বেশ কিছু কঠিন প্রশ্নের উত্তর।
57:3 নং আয়াহ : তিনি সৃষ্টির পূর্বে ছিলেন, তিনি পরেও থাকবেন।। তিনি নিজেকে প্রকাশ করেছেন, তিনি (পূর্বে) গুপ্ত অবস্থায় ছিলেন। আর তিনি প্রত্যেকটা বিষয়ে জ্ঞান রাখেন।
# প্রশ্ন হবে- “আল্লাহ কিভাবে নিজেকে প্রকাশ করেছেন?? আর যদি প্রকাশ করে থাকেন, তাহলে তাকে দেখতে পাই না কেন”?? বুখারীর একটি হাদীশে এ প্রশ্নের উত্তর রয়েছে। যা হাদীশে কুদশি, বলা হচ্ছে যে, “আল্লাহ বলেন- আদম সন্তান সময়কে গালাগালি করে, অথচ আমিই সময়” (বুখারী, হাদীশ 6181)। অর্থাৎ আল্লাহ নিজেকে সময় হিসাবে প্রকাশ করেছেন এবং প্রকাশ করার সঙ্গে সঙ্গেই বিগব্যাঙ গুলো ঘটতে থাকে। প্রশ্ন হবে- “কিন্তু বিজ্ঞান বলে যে, সৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে ‛সময়’ অস্তিত্বে এসেছে”। না, এটা আপাত দৃষ্টি। বিগব্যাঙ ঘটেছে, মানেই সময় ছিল। আগে সময়, পরে বিগব্যাঙ। পার্থক্য এটাই যে, বিজ্ঞান বলে- সময় অস্তিত্বে এসেছে, কুরআন বলে- সময়/ আল্লাহ প্রকাশিত হয়েছেন।
প্রশ্ন হবে- “সৃষ্টির পূর্বে আল্লাহ কি কোথায় ছিলেন এবং কি করছিলেন”?? A) আমাদের মহাবিশ্ব সৃষ্টির পূর্বে সময় ছিল না, তা আধুনিক বিজ্ঞান বলে। তাই সৃষ্টির পূর্বে আল্লাহ কোথায় ছিলেন, কি করছিলেন, এই প্রশ্ন গুলো অবৈজ্ঞানিক। B) আমাদের মহাবিশ্ব সৃষ্টির পূর্বে তিনি অন্যান্য মহাবিশ্ব গুলো সৃষ্টি করছিলেন (17:99, 36:81)। সমস্ত মহাবিশ্ব গুলো সৃষ্টির পূর্বে তিনি কোথায় ছিলেন, কি করছিলেন?? তিনি গুপ্ত অবস্থায় ছিলেন। তিনি নিজেকে প্রকাশ করেন সময় হিসাবে, তারপর একে একে বিগব্যাঙ গুলো ঘটতে থাকে।
প্রশ্ন হবে- “মহাবিশ্ব গুলো যখন হাওকিং রেডিয়েশনের মাধ্যমে নিঃশেষ হয়ে যাবে, তখন আল্লাহ কি করবেন”?? সমস্ত কিছু সৃষ্টির পূর্বে যেমন ছিলেন, তেমন ভাবে থাকবেন। তিনি চাইলে আবার নতুন ভাবে সৃষ্টি করতে পারেন, যদিও এটা তার নিজ ইচ্ছার বিষয়। “তিনি এখন কোথায় আছেন”?? 2:115 তে উত্তর রয়েছে।
মহাবিশ্ব গুলো নিঃশেষ হয়ে যাবে কোথায়! সেই তথ্যও পবিত্র কুরআনে রয়েছে 55:26-27 ও 28:88 তে। প্রশ্ন হবে- “মহাবিশ্ব গুলো সৃষ্টির জন্য/ বিগব্যাঙের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি এসেছিল কোথায় থেকে”। প্রশ্নের যথাযথ উত্তর বিজ্ঞান দিতে না পারলেও পবিত্র কুরআনে রয়েছে 51:47 এ।
মহাবিশ্ব সৃষ্টি, পৃথিবী সম্পর্কে আধুনিক কিছু তথ্য ও আল্লাহর অবস্থান।
57:4 নং আয়াহ : তিনিই (আল্লাহ), যিনি ছয়টি পর্যায়ে মহাবিশ্ব সৃষ্টি [50:38] করেছেন। তারপর তিনি আরশে সমাসীন হন [11:7, 55:29]। তিনি জানেন- যা কিছু পৃথিবীর ভিতরে প্রবেশ করে এবং যা বের হয় তা থেকে (অর্থাৎ ভূগর্ভস্থ পানি)। আর যা কিছু মহাকাশ হতে নামে এবং যা কিছু তাতে ফিরে যায় [18:8]। তিনি তোমাদের সঙ্গেই আছেন [2:115, 50:16], তোমরা যেখানেই থাকো না কেন। এবং আল্লাহ সেই বিষয় সমূহ দেখেন, যে সমস্ত কর্ম তোমরা করছো।
মহাবিশ্বের মালিকানা আল্লাহর।
57:5 নং আয়াহ : মহাবিশ্ব ও পৃথিবীর মালিকানা তার শাসন/ কতৃত্ব তার [57:2]। এবং আল্লাহর দিকেই ফিরে যাবে সমস্ত বিষয়।
মহাকাশ থেকে পৃথিবীর রাত ও দিনকে যেমন দেখায়।
57:6 নং আয়াহ : তিনি রাতকে দিনের সীমায় ঠেকিয়ে রেখেছেন এবং দিনকে ঠেকিয়ে রেখেছেন দিন রাতের সীমায় [39:5, 21:33]। আর মস্তিষ্কের অবস্থাও জানেন।
অঙ্গ দান করার জন্য আল্লাহ উৎসাহ দিচ্ছেন।
57:7 নং আয়াহ : তোমরা স্বীকার কর আল্লাহকে ও তার রাসূলকে। আর তা হতে দান কর, যা তোমরা প্রাকৃতিক ভাবে পেয়েছ (যেমন- রক্ত, কিডনি)। সুতরাং যারা সত্য স্বীকার করে এবং দান করে, তাদের জন্য থাকবে বিরাট বড় প্রতিদান।
# রক্তদান ও অঙ্গদান করার দুটি শর্ত রয়েছে- A) বিক্রি করা যাবে না, B) দানকারীর মৃত্যু হবে না। উদাহরণ স্বরূপ বলা যাবে যে, হৃৎপিণ্ড দান করা যাবে না। কেনন, তাতে দানকারী মারা যাবেন। প্রশ্ন হবে- “মৃত্যু পরবর্তী অঙ্গদান সম্পর্কে পবিত্র কুরআন কি বলে”?? মৃত্যুর আগে অঙ্গদান করতে হলে মৃত্যুর ঝুঁকি হতে পারে। কিন্তু মৃত্যুর পর ঝুঁকিই নেই। মৃত্যুর পরবর্তী অঙ্গদান অনেক বেশি সহজ। সুতরাং আমাদের সবার উচিৎ মৃত্যু পরবর্তী অঙ্গদান করার ওসিয়ত করে যাওয়া।
বাস্তবিক ভাবে আল্লাহ ও রাসূলকে স্বীকার করতে হবে।
57:8 নং আয়াহ : তোমাদের কি হল যে, তোমরা আল্লাহ ও তার রাসূলকে স্বীকার করছো না, অথচ তিনি (মুহাম্মাদ) তোমাদেরকে ডাকছেন তোমাদের প্রভুকে স্বীকার করার জন্য। আর অবশ্যই তিনি (মুহাম্মাদ) তোমাদের থেকে পূর্বেই প্রতিশ্রুতি নিয়েছেন [5:7], এখন যদি মূমীন/ সত্য স্বীকারকারী হও (তাহলে সত্য স্বীকার কর)।
# প্রশ্ন হবে- “আয়াহতে প্রতিশ্রুতি নেওয়ার পরও এখানে আল্লাহ ও তার রাসূলকে ‛স্বীকার’ করতে বলা হচ্ছে কেন”?? আসলে এখানে মুনাফিকদের সম্পর্কে কথা বলা হচ্ছে। মুনাফিকরা আল্লাহ ও তার রাসূলকে মৌখিকভাবে স্বীকার করলেও বাস্তবে স্বীকার করেন নি। আয়াহটি শুধু তাদের জন্য। আর এই সূরাহর মূল ‛বক্তব্য বা নির্দেশনা’ এটাই যে, মুনাফিকতা ত্যাগ করে আল্লাহ ও তার রাসূলকে স্বীকার করা।
প্রশ্ন হবে- “এখানে বাস্তবিক ভাবে স্বীকার বলতে কি বোঝান হচ্ছে”?? এর আগের আয়াহটি দেখুন, খানিকটা বুঝতে পারবেন। মানে, শুধু বললে হবে না যে, আল্লাহ ও তার রাসূলকে স্বীকার করি। বরং রক্ত দান, অঙ্গদান করার মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে যে, আল্লাহ ও রাসূলকে স্বীকার করি।
কুরআন নাযিলের উদেশ্য কি??
57:9 নং আয়াহ : আল্লাহ তিনি, যিনি তার বান্দার উপর নাযিল করেছেন নিদর্শন সম্বলিত আয়াত সমূহ। যেন তিনি তোমাদেরকে বের করে আনতে পারেন অন্ধকার থেকে আলোর দিকে [5:16, 14:1, 65:11]। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি অত্যাধিক স্নেহশীল ও করুণাময়।
মাক্কাহ বিজয়ের পূর্ব ও পরে যুদ্ধের অংশ নেওয়ার মর্যাদা।
57:10 নং আয়াহ : তোমাদের কি হয়েছে, তোমরা কেন আল্লাহর পথে দান করছো না?? অথচ মহাবিশ্ব ও পৃথিবীর বৈধ মালিকানা আল্লাহর [57:2, 57:5]। আর সমান নয় তোমাদের মধ্যে যারা (মাক্কাহ) বিজয়ের পূর্বে যুদ্ধ করেছে। তারা তাদের চেয়ে মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ, যারা দান করে এবং (বিজয়ের) পরে যুদ্ধ করে। তবে আল্লাহ প্রত্যেককে উত্তম ওয়াদা/ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর আল্লাহ সেই সমস্ত বিষয়ের জ্ঞান রাখেন, যে সমস্ত কর্ম তোমরা করছো।
আল্লাহকে ঋণ দেওয়া ও তার পরিণতি।
57:11 নং আয়াহ : কে আছে, যে আল্লাহকে উত্তম কারদ্ব/ কার্জ/ ঋণ দেবে এবং তা আল্লাহ বহুগুণ [57:18, 64:17] বৃদ্ধি করে ফেরত দেবেন?? আর তার জন্য থাকবে সম্মানজনক প্রতিদান।
মূমীন পুরুষ ও নারীদের পরিণতি।
57:12 নং আয়াহ : সেদিন আপনি দেখবেন- মূমীন পুরুষ ও মূমীন নারীদের সামনে এবং ডানে নূর ছুটোছুটি করছে। বলা হবে- “তোমাদের জন্য সুসংবাদ এমন এক জান্নাতের, যেখানে তার (জান্নাতীর) নিয়ন্ত্রণাধীন ভাবে প্রবাহিত হবে নদনদী”। সেখানে অনন্তকাল স্থায়ী হবে। ওটাই বিরাট বড় সাফল্য [9:72]।
মুনাফিক পুরুষ ও নারীদের পরিণতি।
57:13 নং আয়াহ : সেদিন মুনাফিক পুরুষ ও মুনাফিক নারীরা তাদেরকে বলবে, যারা সত্য স্বীকার করেছিল- “আমাদের দিকে একটু দেখো, যেন আমরা তোমাদের নূর থেকে উপকৃত হই” [7:50]। (বলা হবে) “তোমরা তোমাদের পিছনে ফিরে যাও এবং গিয়ে নূর খোঁজ কর”। অতঃপর তাদের মাঝখানে তৈরি করে দেওয়া হবে একটি প্রাচীর। যাতে থাকবে একটি দরজা [7:46]। যার একদিকে থাকবে রহমত, অন্য দিকে থাকবে শাস্তি [9:68, 4:145]।
মুনাফিকরা কেন জাহান্নামী??
57:14 নং আয়াহ : তারা (জাহান্নামীরা) তাদেরকে জান্নাতী দেরকে ডেকে বলবে- “আমরা কি তোমাদের সঙ্গে ছিলাম না”?? তারা বলবে- “হ্যাঁ, তোমরা নিজেদেরকে বিপদে ফেলেছ, (সত্য গ্ৰহণে) অযথা দেরি করেছ এবং সন্দেহ করেছ। তোমাদেরকে ধোকা দিয়েছিল মিথ্যা আশা আকাঙ্ক্ষা (তা এই যে, হয়ত পরবর্তী জীবন বলতে কিছুই নেই)। তোমাদেরকে আল্লাহ সম্পর্কে ধোকা দিয়েছিল (ইসলাম ও আল্লাহ) বিদ্বেষী [31:33]।
পরকালে ফাইন নিয়ে কাউকে ছেড়ে দেওয়া হবে না।
57:15 নং আয়াহ : (বলা হবে) “এতএব আজ তোমাদের থেকে কোনও ফিদিয়া/ ফাইন নেওয়া হবে না। আর না তাদের থেকে, যারা সত্য অস্বীকার করেছিল [3:91, 47:34]। তোমাদের আবাসস্থল আগুন। তা তোমাদের মাওলা/ সঙ্গী। আর তা ফিরে আসার জন্য খুবই নিকৃষ্টতম [98:6] স্থান।
আল্লাহ মূমীন ও মুসলিমদেরকে সতর্ক করছেন।
57:16 নং আয়াহ : যারা সত্য স্বীকার করেছে, আল্লাহর বিধানের প্রতি তাদের মস্তিষ্কে নমনীয়তা আসে নি, যা নাযিল বিজ্ঞান সম্মত পদ্ধতিতে নাযিল হয়েছে [2:97]?? তারা যেন তাদের মধ্যে না হয়ে যায়, যাদেরকে ইতিপূর্বে কিতাব দেওয়া হয়েছিল এবং বহুকাল যাবত অতিবাহিত হওয়ার জন্য মস্তিষ্ক কঠোর হয়ে গিয়েছিল [2:93, 4:46]। আর তাদের মধ্যে বেশিরভাগই সত্য অপছন্দকারী।
# আল্লাহর বিধানের প্রতি নমনীয়তা বলতে?? যা আল্লাহ বলেছেন, তা মেনে নেওয়া।
শুক্র ও মঙ্গল গ্ৰহে প্রাণ ছিল, ভবিষ্যতে আবার প্রাণ সম্পন্ন হবে।
57:17 নং আয়াহ : জেনে রেখ যে, আল্লাহ (শুক্র ও মঙ্গল) গ্ৰহে জীবনহীনতার পর তাকে জীবনময় করবেন। অবশ্যই আমরা তোমাদের জন্য বর্ণনা করছি আমাদের নিদর্শন গুলো [21:37, 41:53]। যেন তোমরা (সত্য) বুঝতে পার।
আল্লাহকে ঋণ দেওয়া ও তার পরিণতি।
57:18 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারীরা, যারা আল্লাহকে উত্তম কারদ্ব/ কার্জ/ ঋণ দিয়েছে, তা আল্লাহ বহুগুণ বৃদ্ধি করে [64:17, 2:261] তাদেরকে ফেরত দেবেন। এবং তাদের জন্য থাকবে সম্মানজনক প্রতিদান।
আবুবকর ও উমার (রা) দের মর্যাদা হবে যাদের।
57:19 নং আয়াহ : আর যারা আল্লাহ ও তার রাসূলকে স্বীকার করে নিয়েছে, তারা তাদের প্রভুর কাছে সিদ্দীক ও শহীদ বলে গণ্য হবে। তাহলে জন্য থাকবে প্রতিদান ও নূর [57:12]। আর যারা সত্য অস্বীকার করেছে এবং আমাদের আয়াত সমূকে মিথ্যা গণ্য করেছে, তারা হবে জাহান্নামের অধিবাসী।
বর্তমান পৃথিবীর অবস্থা সম্পর্কে ভবিষ্যৎ বাণী।
57:20 নং আয়াহ : তোমরা জেনে রেখ- ইহজীবনে মূলত মানুষকে ঠকানোর খেলা, অভিনয়/ মিথ্যা অভিনয় [6:32, 29:64, 47:36], সাজসজ্জা, তোমাদের নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক দাম্ভিকতা, ধনসম্পদ ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি করার প্রতিযোগিতা শুরু হবে। উদাহরণ স্বরূপ- জ্ঞান অবতরণ হবে [42:28], আবিষ্কার হবে, এতে সত্য অস্বীকারকারী অবাক/ খুশি হবে। তারপর আপনি দেখবেন তা পুরাতন ও গুরুত্বহীন হয়ে যাবে। তারপর তা আবর্জনা হয়ে যাবে। সুতরাং পরবর্তী জীবনে রয়েছে কঠোর শাস্তি, ক্ষমা ও আল্লাহর পক্ষ থেকে সন্তুষ্টি (যেটা ইচ্ছা বেছে নাও)। এবং ইহজীবনের বস্তু/ সামগ্রী গুলো মানুষকে শুধু ছাড়া কিছুই দেয় না।
# প্রশ্ন হবে- আবিষ্কার কিভাবে পুরাতন, গুরুত্বহীন ও আবর্জনা হয়ে যায়?? যেমন ধরুন- TV এর কথা বলতে পারি। একটা সময়ে TV ছিল মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আবিষ্কার। সেই সময়ের কোম্পানি গুলো কোটি কোটি ডলার আয় করেছে। কিন্তু TV মানুষের ঘরে অপ্রয়োজনীয় অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
হোসেন কুরানীর কথা বলতে পারি। হোসেন কুরানীর বাড়িতে একটি TV ছিল। আজ তা শুধু ঘরের খানিকটা অংশ দখল করে রেখেছে। হোসেন কুরানী তা বিক্রি করে দিতে চাইছেন। কেউ কিনতে চাইছেন না। এমনকি বিনামূল্যে দিতে চাইছেন, তাও কেউ নিতে চাইছেন না। হোসেন কুরানী তার ভাই হাসান কুরানী এবং বোন সাহেনারা কুরানীকে TV এর উদাহরণ দিয়ে এই আয়াহটি প্রায় শোনান। এখানে আল্লাহ সেটার ভবিষ্যৎ বাণীই করেছেন।
জান্নাতের আকার আকৃতি আমাদের মহাবিশ্বের মতোই।
57:21 নং আয়াহ : তোমরা এগিয়ে যাও তোমাদের প্রভুর ক্ষমা ও জান্নাতের দিকে, যার আখার আকৃতি মহাবিশ্বের মতোই [3:133]। তাদের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যারা আল্লাহ ও তার রাসূলকে স্বীকার করেছে। ওটা (জান্নাত) আল্লাহর অনুগ্রহ। তিনি যাকে চান, তাকে তা প্রদান করবেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহের অধিকারী/ মালিক [57:29]।
# আসলে জান্নাত আর অন্য কিছু নয়। জান্নাত হল Anti universe (আমাদের প্রতি/ বিপরীতে মহাবিশ্ব)। সেখানেও সৌরজগৎ (Solar system) আছে, গ্ৰহ রয়েছে (39:74), রাত দিন আছে (19:62)। শুধু নিয়ম কানুন গুলো আমাদের থেকে একটু ভিন্ন।
মহাবিশ্বের সমস্ত সংঘটিত ঘটনা পূর্ব থেকেই লিখিত রয়েছে।
57:22 নং আয়াহ : পৃথিবীতে এবং তোমাদের নিজেদের উপর কোনও মুসীবত আসে না, যা আমরা পূর্বেই একটি কিতাবে লিখে রাখি নি [6:38, 22:70, 27:75]। নিশ্চয়ই ওটা আল্লাহর জন্য খুবই সহজ।
# একটি হাদীশ। আল্লাহ মহাবিশ্ব সৃষ্টির 50 হাজার বছর পূর্বেই মহাবিশ্বে ঘটা প্রতিটা বিষয়ই একটি কিতাবে লিখে নিয়েছেন”(মুসলিম, হাদীশ 2653/1)। যাকে আমরা লৌহে মাহফুজ্ব/ কিতাবিম মাকনূন বলি (85:22, 56:78)। যাকে উম্মুল কিতাবও বলা হয়ে থাকে (13:39)।
# তাহলে কি ধরে নেব যে, আমরা যাই করি না কেন, তা আল্লাহর ইচ্ছায় করি?? দায় আমাদের নয়, তার দায় আল্লাহর?? উত্তর খুব সহজ- আপনি কি করবেন, আর কি করবেন না, সেই ব্যাপারে আপনি স্বাধীন (41:40)। আপনি যা করছেন, তা আল্লাহ আগে থেকেই জানতেন (2:255)। আর সেটাই তিনি লিখে রেখেছেন। এটাই তাকদীর। এমন নয় যে, তিনি লিখে রেখেছেন, তা আপনি করছেন/ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
জীবনে শান্তি বজায় রাখা এবং খুশিতে পাগলামি না করা।
57:23 নং আয়াহ : এজন্যই বলা হচ্ছে- “যা হারাও, তাতে দুঃখিত কর না এবং যা তিনি তোমাদেরকে দান করেছেন, সেই জন্য খুশিতে পাগলামি কর না” [11:9-10]। আর আল্লাহ কোনও অত্যাচারকারী দাম্ভিককে পছন্দ করেন না [31:18]।
কৃপণতা অযৌক্তিক।
57:24 নং আয়াহ : যারা কৃপণতা করে, মানুষকে কৃপণতা করার নির্দেশ দেয় [107:3] এবং সত্য হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়। তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ (টিকে থাকার জন্য) অভাবমুক্ত [112:2] ও প্রশংসিত [45:36]।
# কোন কারণে কৃপণতা অযৌক্তিক?? আপনি ধনসম্পদ সৃষ্টি করেছেন?? সোনা, রূপা কি আপনি সৃষ্টি করেছেন?? না, আপনি শুধু অর্জন করেছেন। যদি অর্জন করার জন্য তাতে আপনার অধিকার হয়ে যায়, তাহলে যিনি সৃষ্টি করেছেন, তার অধিকার কতটুকু?? নিশ্চয়ই আপনার চেয়ে অনেক বেশি! তাই না?? তাই তার নির্দেশ মুতাবিক খরচ করা বেশি জরুরি (57:10)।
লোহা এসেছে মহাকাশ থেকে এবং লোহা দ্বারা ব্যাটারি তৈরি।
57:25 নং আয়াহ : অবশ্যই আমরা আমাদের রাসূলদের কে প্রেরণ করেছি সুস্পষ্ট প্রমাণ দিয়ে। এবং তাদের সঙ্গে প্রদান করেছি কিতাব ও মীজান [42:17], যেন মানুষদের মধ্যে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা যায়। আর আমরা মহাকাশ থেকে লোহা নামিয়েছি, যাতে রয়েছে শক্তি (বিদ্যুৎ) ধারণ ক্ষমতা এবং মানবজাতির জন্য বহু ধরণের কল্যাণ। যেন আল্লাহ জেনে নেন যে, কে তাকে না দেখে [6:103] তাকে ও তার রাসূলকে সাহায্য করে [47:7, 22:40]। নিশ্চয়ই আল্লাহ শক্তিধর ও শক্তিশালী
# দুটি বিষয়- A) পৃথিবীতে লোহা ছিল না। কোনও এক অত্যাধিক ভর সম্পন্ন নক্ষত্রে সুপারনোভা বিস্ফোরণ ঘটে। মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে তার জঞ্জাল। সেই জঞ্জালের কিছু অংশ পৃথিবীতে লোহা হিসেবে পৌঁছায় (অ্যমিনো এসিডও এভাবেই পৃথিবীতে আসে)। এভাবেই পৃথিবীতে লোহা এসে পৌঁছায়। আমাদের সৌরজগতের সেই ভর নেই যে, সৌরজগৎ লোহা তৈরি করবে। লোহা তো দূরের কথা, লোহার অনু তৈরি করতেও আমাদের সৌরজগৎ ব্যর্থ।
B) লোহার রয়েছে শক্তি ধারণ ক্ষমতা। বিজ্ঞানীরা Iron Air ব্যাটারি তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। সব বড় কথা হল- এটা তৈরির খরচ অনেক কম। আর লোহার প্রাপ্তিও সহজলভ্য।
নূহ ও ইবরাহীম (আ) এর বংশধরদের অবস্থা।
57:26 নং আয়াহ : আর অবশ্যই আমরা নূহ ও ইবরাহীম কে পাঠিয়েছি, উভয়ের বংশধরদের মধ্যে নবুয়ওয়াত ও কিতাবের ধারা বজায় রেখেছি। অতঃপর তাদের (বংশধর দের) মধ্যে কিছু ছিল পথপ্রাপ্ত, কিন্তু বেশিরভাগই ফাসিক/ সত্যকে অগ্ৰায্যকারী।
‛আনন্দ ফূর্তির বৈধ বিষয় গুলো বর্জন করা’ হারাম।
57:27 নং আয়াহ : তারপর আমরা রাসূলদেরকে তাদের পদচিহ্নের অনুগামী করেছি। আমরা অনুগামী করেছি মারইয়াম পুত্র ঈশাকে, তাকে দিলাম ইনজীল। যারা তার অনুসরণকারী, তাদের মস্তিষ্কে প্রদান করেছিলাম মায়া মমতা ও দয়া। পরবর্তীতে ‛রাহবানিয়া’ (বিনোদন হীনতা/ বিবাহ হীনতা) তাদের উদ্ভাবন (১)। আমরা তাদের উপর এই বিধান চাপিয়ে দিই নি। তবে তারা আল্লাহর সন্তুষ্টির পেতে চেয়েছিল। যদিও তারা তা যথাযথ ভাবে পালন করে নি, যেমন অন্যান্য বিধান পালন করত। অতঃপর তাদের মধ্যে যারা সত্য স্বীকার করেছিল, তাদেরকে আমরা প্রতিদানও দিয়েছি। কিন্তু তাদের বেশিরভাগই ফাসিক/ সত্য অগ্ৰায্যকারী।
১) অবাক হওয়ার মতো বিষয় হল- বর্তমান মুসলিম সমাজও বিনোদন হীনতাকে ধর্ম ভেবে নিয়েছে। যেমন, খেলাধুলা ও গানবাজনা বর্জন। যদিও খেলাধুলা সবাই করে এবং লুকিয়ে লুকিয়ে সবাই গান শোনে। কিন্তু তবুও মুসলিম সমাজ এগুলোকে ভালো চোখে দেখে না। অথচ নাবী (সা) এর যুগে মাসজিদের ভিতরে খেলাধুলা (কুরআন, 12:12 ও বুখারী, হাদীশ 988) ও গানবাজনা হোত (বুখারী, হাদীশ 949 ও 952)।
খৃষ্টানদের জন্য/ নওমুসলিমদের জন্য দ্বিগুণ প্রতিদান পাবেন।
57:28 নং আয়াহ : হে সত্য স্বীকার করার মানসিকতা সম্পন্ন সম্মানিত মানুষজন, তোমরা আল্লাহর জন্য তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন কর, আল্লাহ ও তার রাসূলকে স্বীকার কর। তিনি তোমাদেরকে তার অনুগ্রহ দ্বারা দ্বিগুণ প্রতিদান দেবেন [28:54] এবং প্রদান করবেন নূর, যার দ্বারা (পুলসিরাতে) চলতে পারবে [57:12-13]। সঙ্গে তোমাদেরকে ক্ষমাও করবেন। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল ও করুণাময়।
দয়া/ অনুগ্রহ করার ব্যাপারে আল্লাহ স্বাধীন।
57:29 নং আয়াহ : যেন আহলে কিতাবরা জানতে পারে যে, আল্লাহর দয়া/ অনুগ্রহের উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ (১) নেই। সমস্ত দয়া/ অনুগ্রহ আল্লাহর হাতে, তিনি যাকে ইচ্ছা তা প্রদান করেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহের অধিকারী/ মালিক [57:21]।
১ এমন কথা কেন বলা হল?? কারণ বাইবেলের Titus এর 3:4-7 এ বলা হয়েছে- “ঈশ্বরের দয়া পাওয়ার অধিকার শুধু যিশুতে বিশ্বাসীদের। ধর্মকর্ম তথা নিয়মনীতি পালন করার জন্য নয়, শুধু যিশুতে বিশ্বাস করাই যথেষ্ট”। তাই এখানে বলা হচ্ছে- “আল্লাহর দয়া/ অনুগ্রহের উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ নেই। সমস্ত দয়া/ অনুগ্রহ আল্লাহর হাতে, তিনি যাকে ইচ্ছা তা প্রদান করেন”।