বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 54 টি।
বিচ্ছিন্ন অক্ষর গুলো আসলে কি??
41:1 নং আয়াহ : হা মীম [31:1-2]
কুরআন কার পক্ষ থেকে নাযিলকৃত??
41:2 নং আয়াহ : (কুরআন) নাযিল করা হয়েছে সীমাহীন দয়ালু ও সীমাহীন করুণাময়ের পক্ষ থেকে।
কুরআন আরবি ভাষায় কেন নাযিল করা হলো??
41:3 নং আয়াহ : কিতাবের আয়াত সমূহ বহু/ ব্যাপক অর্থ বোধক। (এজন্য তা নাযিল করা হয়েছে) আরবি ভাষায় কুরআন রূপে। এমন সম্প্রদায়ের জন্য, যারা জ্ঞান [17:107, 34:6] রাখে।
মূমীনদের জন্য সুসংবাদ, কাফিরদের জন্য রয়েছে সতর্কতা।
41:4 নং আয়াহ : (এতে) সুসংবাদ ও সতর্কতাও রয়েছে। কিন্তু তাদের বেশিরভাগ (সত্য) বিমুখ [23:70, 43:78]। সুতরাং তারা শুনবে না।
কুরাইশরা সূরাহ কাফিরূনের জবাবে যা বলেছিলেন।
41:5 নং আয়াহ : আর তারা বলে- “তোমরা আমাদেরকে যে বিষয়ের (ইসলামের) দিকে ডাকছো, সে বিষয়ে আমাদের মস্তিষ্ক সমূহে পর্দা, আমাদের কান সমূহে রয়েছে বধিরতা এবং আমাদের ও তোমার মধ্যে রয়েছে হিজাব/ পর্দা। এতএব তুমি (মুহাম্মাদ) তোমার কাজ করো, নিশ্চয়ই আমরা আমাদের কাজ করে যাবো”।
# “নাবী (সা) কি ইসলাম পালন/ প্রচারের জন্য স্বাধীন ছিল”?? না, তার ও তার সঙ্গীদের উপর সীমাহীন অত্যাচার হয়েছিল। “কিন্তু আয়াহতের শেষ অংশ তো ভিন্ন কথা বলছে”! আসলে মাক্কাহর কুরাইশরা নাবী (সা) একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তা হল- “তুমি কিছুদিন আমাদের মূর্তি গুলোর ইবাদত করবে, আমরা কিছুদিন তোমার আল্লাহর ইবাদত করবো”।
এর উত্তরে আল্লাহ 109 নং সূরাহ নাযিল করেন। তার উত্তরে মাক্কাহর কুরাইশরা যা বলেছিলেন, সেটাই এই আয়াহতে ও শেষ অংশে বলা হয়েছে। তারা নাবী (সা) ইসলাম পালন/ প্রচার করার জন্য কোনও স্বাধীনতা দেন নি। কিন্তু নাবী (সা) তাদেরকে তাদের মতবাদ/ ধর্ম প্রচারের স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। তা রয়েছে 6:135, 11:193, 11:121 ও 39:39 তে। এছাড়াও দেখুন 28:55, 42:15 আয়াত।
নাবী (সা) আমাদের মতোই বৈশিষ্ট্যগত মানুষ ছিলেন।
41:6 নং আয়াহ : বলুন- “মূলত আমি তোমাদের মতোই একজন মানুষ। তবে আমার প্রতি ওহী করা হয় যে, তোমাদের ঈশ্বর/ উপাস্য মাত্র একজন [20:8]। সুতরাং তোমরা তার অভিমুখী হয়ে থাকো এবং তার কাছে ক্ষমা চাও। আর ধ্বংস হবে মুশরিক/ শরিককারীরা [12:106, 30:42]।
যারা ধ্বংস হবে।
41:7 নং আয়াহ : (তারাও ধ্বংস হবে) যারা যাকাত/ ইনকাম ট্যাক্স দেয় না এবং পরবর্তী জীবনকে অস্বীকার করে [46:34-35]।
যারা অফুরন্ত প্রতিদান পাবে।
41:8 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই যারা সত্য স্বীকার করে এবং সৎকর্ম করে, তাদের জন্য থাকবে অফুরন্ত [56:32-33] প্রতিদান।
দুটি পর্যায়ে পৃথিবীর সৃষ্টি।
41:9 নং আয়াহ : বলুন- তোমরা কি দৃঢ়তার সঙ্গে তাকেই অস্বীকার করবে, যিনি দুটি পর্যায়ে পৃথিবীকে সৃষ্টি করে ছেন?? আর তোমরা কিভাবে তার সমকক্ষ দাঁড করাতে পারো?? তিনি তো মহাবিশ্ব সমূহের প্রতিপালক [1:1]।
# Nebular hypothesis এ বলা হয়- “বিরাট বড় গ্যাস ও ধূলিকণা মেঘ আকারে ছিল। তার বেশিরভাগ অংশ একত্রিত হয়ে সূর্য হিসাবে গঠিত হয়। তারপর দূরে থাকা অংশ গুলো ধীরে ধীরে একত্রিত হয়ে গ্ৰহ হিসাবে গঠিত হয়”। তারই অন্যতম হল- আমাদের পৃথিবী। তারমানে দুটি পর্যায়ে পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে। A) গ্যাস ও ধূলিকণা একত্রিত হয়ে গ্ৰহের আকৃতি পাওয়া তথা সূর্যের চারিদিকে ঘোরা। B) তারপর ধীরে ধীরে অগ্নিগোলক থেকে শীতল হয়ে কঠিন রূপ পাওয়া।
চারটি জিওলজিক্যাল টাইম স্কেল (GTS)।
41:10 নং আয়াহ : এবং তিনি তার (পৃথিবীর) পৃষ্ঠে হাজির করেছেন পর্বতমালা গুলো [13:3-4, 78:6-7]। এবং তাতে (পৃথিবীতে) কল্যাণকর ব্যবস্থা নির্ধারণ করেছেন। এবং খাদ্য ও জীবিকার ব্যবস্থা করেছেন চারটি পর্যায়ে। যা বিশেষজ্ঞদের জন্য গণনায় পরিপূর্ণ।
# সেই 4 টি পর্যায় হল- Precambrian (প্রিক্যামব্রিয়ান), Paleozoic (পালেওজোয়িক), Mesozoic (মেসোজোয়িক) এবং Cenozoic (সেনোজোয়িক)। চাইলে গুগলে গিয়ে সার্চ করে দেখে নিন।
বায়ুমণ্ডলের সৃষ্টি ও বিকাশ।
41:11 নং আয়াহ : অতঃপর (পৃথিবী কঠিন হওয়ার পর) তিনি বায়ুমণ্ডলের দিকে মনোযোগ [2:29] দিলেন, তখন তা ছিল কালো ধূঁয়া অবস্থায় (১)। তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন- “তোমরা কি উভয়ে স্বেচ্ছায় নির্দেশ পালনকারী হবে, নাকি অনিচ্ছায়”?? তারা উভয়ে বললো- “আমরা স্বেচ্ছায় (২) পালনকারী হলাম”।
১ অর্থাৎ পৃথিবী শীতল হওয়ার পর প্লেট সঞ্চালন জনিত কারণে অগ্নুৎপাত হতে শুরু হয়। তার সঙ্গে বেরিয়ে আসে কালো ধূঁয়া বা কর্বন জাতীয় গ্যাস। ঐ ধূঁয়া পৃথিবীর পৃষ্ঠ বরাবর অবস্থান করছিল। এখানে তা-ই বলা হচ্ছে।
২ “আল্লাহ কেন তাদেরকে তাদের ইচ্ছা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন”?? কারণ, প্রাথমিক বায়ুমণ্ডল সৃষ্টির পরই পৃথিবীতে জীবন সৃষ্টি হবে এবং বায়ুমণ্ডলে স্তর সৃষ্টি হবে, তাই আল্লাহ তাদেরকে তাদের ইচ্ছা জিজ্ঞাসা করলেন। প্রশ্ন হবে- “জড় পদার্থের কি ইচ্ছা আছে”?? 41:21 ও তার টিকা দেখুন।
দুটি পর্যায়ে বায়ুমণ্ডল সৃষ্ট এবং বায়ুমণ্ডল অক্সিজেন সমৃদ্ধ হওয়া।
41:12 নং আয়াহ : অতঃপর তিনি তাদেরকে (দু-এক স্তরের প্রাথমিক) বায়ুমন্ডলকে সাতটি স্তরে [71:15] পরিণত করলেন দুটি পর্যায়ে (১)। এবং প্রত্যেক বায়ুমন্ডলীয় স্তরকে তাদের কাজ সম্পর্কে নির্দেশনা দেন। এবং আমরা পৃথিবীর নিকটবর্তী স্তরের মাধ্যমে প্রদীপ জ্বালিয়ে সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির ব্যবস্থা করেছি (২)। আর সুদৃঢ়ও করেছি [21:32, 78:12]। ওটা মহা শক্তিশালী ও মহা জ্ঞানীর নির্ধারিত ব্যবস্থা।
১ দুটি পর্যায় বলতে, কোন দুটি পর্যায়?? আসলে প্রাথমিক বায়ুমণ্ডলে 2-1 স্তরের বেশি কোনও স্তর ছিল না। ছিল কার্বন জাতীয় কিছু গ্যাস, যা কালো ধূঁয়া অবস্থায় বিরাজ করছিল। যা পৃথিবীর পৃষ্ঠ বরাবর অনুচ্চ ভাবে অবস্থান করছিল। যা অগ্নুৎপাতের ফলে পৃথিবী পৃষ্ঠে এসে অবস্থান করছিল। তারপর মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে ধূমকেতুর মাধ্যমে পানি আসে [29:63, 41:39), তাতে সৃষ্টি হয় জীবন (21:30, 24:45)। জন্মায় ব্যাকটেরিয়া। যারা সালোকসংশ্লেষক প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন তৈরি করে। তারপর ধীরে ধীরে বায়ুমণ্ডলে স্তর সৃষ্টি হতে থাকে। অর্থাৎ প্রাথমিক 2-1 স্তরের অনুচ্চ বায়ুমণ্ডল ও 7 স্তরীভূত উচ্চ বায়ুমণ্ডল, দুটি পর্যায়।
২ “আমরা পৃথিবীর নিকটবর্তী স্তরের মাধ্যমে প্রদীপ জ্বালিয়ে সৌন্দর্য্য বৃদ্ধির ব্যবস্থা করেছি”। এর অর্থ কি?? এর অর্থ বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেন যুক্ত হওয়া। কেননা, অক্সিজেন ছাড়া প্রদীপ জ্বলবে না। আর 90 % অক্সিজেন বায়ুমণ্ডলের নিকটবর্তী স্তর বা Troposphere (ট্রপোজস্ফিয়ার) এ রয়েছে।
রাসূলের দায়িত্ব সতর্ক করা।
41:13 নং আয়াহ : এতএব এখন যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় [16:82], তাহলে বলুন- “আমি তোমাদের সতর্ক করছি এমন শাস্তি সম্পর্কে [88:21], যেমন শাস্তি এসেছিল আদ ও সামূদের উপর [53:56]।
আদ ও সামূদ জাতির মানুষজনদের দাবি কি ছিল??
41:14 নং আয়াহ : যখন তাদের কাছে রাসূলগণ এসেছিল, তাদের সামনে থেকে (তাদের আগে) ও পিছন থেকে (তাদের পরে) এই বলেছিলেন যে- “তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদাত করো না” [21:25]। তারা বলেছিল- “যদি আমাদের প্রভু চাইতেন, তবে ফেরেস্তাদেরকে রাসূল করে পাঠাতেন [43:60, 17:95]। সুতরাং নিশ্চয়ই আমরা মানবো না সেই বিষয়কে অস্বীকার [14:9] করলাম, যা তোমাদেরকে দিয়ে প্রেরণ করা হয়েছে”।
আদ জাতির পরিণতি।
41:15 নং আয়াহ : আর আদ জাতির অবস্থা এই ছিল যে, তারা পৃথিবীতে অযথা অহংকার করতো এবং বলতো- “আমাদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী [15:82, 46:26] আর কে আছে”?? তারা কি ভেবে দেখে নি যে, যিনি তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, সেই আল্লাহই তাদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী?? কিন্তু তারা আমাদের আয়াত সমূহ অস্বীকার করলো।
41:16 নং আয়াহ : অতঃপর আমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করি ঝড়ো বাতাস। যেন তাদেরকে ইহজীবনে কয়েকদিন [46:24, 69:6-8] ধরে দুর্ভোগে ফেলে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি ভোগ করাতে পারি। আর অবশ্যই পরবর্তী জীবনের শাস্তি অধিক [68:33] লাঞ্ছনাদায়ক। এবং তাদেরকে কোনও ধরণের সাহায্য করা হবে না।
সামূদ জাতির পরিণতি।
41:17 নং আয়াহ : আর সামূদ জাতির অবস্থা এই ছিল যে, আমরা তাদেরকে পথনির্দেশনা দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা সৎপথের বদলে অন্ধতা অবলম্বন করা পছন্দ করলো। অতঃপর তাদেরকে ধরে ফেলল বেঁহুশকারী অপমানজনক শাস্তি। এজন্য যে, সেটাই ছিল তাদের অর্জনের প্রতিদান।
41:18 নং আয়াহ : কিন্তু আমরা তাদেরকে রক্ষা/ উদ্ধার করলাম, যারা সত্য স্বীকার করেছিল এবং তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন করেছিল।
মারাত্মক উত্তপ্ত একত্রিত পৃণ্ডের উপর পুনরুত্থান হবে।
41:19 নং আয়াহ : সেদিন আল্লাহর শত্রুদেরকে মারাত্মক উত্তপ্ত একত্রিত পৃণ্ডে [69:16-17] একত্রিত করা হবে। এবং তাদেরকে বিভিন্ন দলে [15:44] ভাগ করে দেওয়া হবে।
কান, চোখ ও চামড়া আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী দেবে।
41:20 নং আয়াহ : অবশেষে যখন তারা আসবে, তখন তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে তাদের শ্রবনাঙ্গ, চোখ গুলো ও ত্বক সমূহ। সেই কর্মের, যারা তারা করেছিল [24:24]।
জড় ও জীব উভয়ই কথা বলতে পারে।
41:21 নং আয়াহ : এবং তারা তাদের ত্বক সমূহকে বলবে- “তোমার আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছ কেন”?? তারা (তাদের ত্বক সমূহ) বলবে- “আল্লাহ (হলেন তিনি) যিনি সমস্ত কিছুকে ‛বাকশক্তি’ দিয়েছেন” [36:65]। (জেনে রাখ) তিনিই তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন, তার দিকেই ফিরে যেতে হবে (দ্বিতীয় অপশন নেই)।
# আগে মনে করা হোত- “শুধু মানুষই কথা বলতে পারে”। কিন্তু সঠিক নয়। পশু পাখিরাও নিজেদের মধ্যে কথা বলতে পারে। এমনকি গাছপালাও করতে বলতে পারে, যা এই মাত্র কিছুদিন আগে প্রমাণ হলো। প্রশ্ন হবে- “জড় পদার্থও কি কথা বলতে পারে”?? পারে, তবে তা বোঝার মতো বিজ্ঞান এখনও ততটা উন্নত হয় নি। কেননা, এখন আমরা সমস্ত কিছুকে আলো ও শব্দ তরঙ্গ বুঝি। তবে মহাকর্ষীয় তরঙ্গ আবিষ্কার হয়েছে। ভবিষ্যতে আমরা জড় পদার্থের কথা বর্তাও শুনতে পাবো, ইনশাআল্লাহ। তাই আল্লাহ 17:44 এ বলেছেন- “মহাবিশ্বের সমস্ত কিছুই তার পবিত্রতা বর্ণনা করে”।
41:22 নং আয়াহ : তোমরা যা কিছু এই ভেবে গোপন করতে যে, তোমাদের বিরুদ্ধে তোমাদের শ্রবনাঙ্গ সাক্ষ্য দেবে না, সাক্ষ্য দেবে না তোমাদের চোখ গুলো, আর না সাক্ষ্য দেবে তোমাদের ত্বক সমূহ। কিন্তু তোমরা ধারণা করতে- “আল্লাহ অনেক কিছুই জানেন না সেই সমস্ত বিষয়, যা তোমরা করতে”।
যে ধারণার জন্য সবাই ধ্বংস হবে।
41:23 নং আয়াহ : আর তোমাদের প্রভু সম্পর্কে ঐ ধারণাই তোমাদেরকে ধ্বংস করেছে। এবং তোমরা হলে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত।
# ‛ঐ ধারণা বলতে’ কোন ধারণা?? 41:22 উত্তর রয়েছে- “আল্লাহ অনেক কিছুই জানেন না”।
পরকালে তাদের পরিণতি কি হবে??
41:24 নং আয়াহ : সুতরাং যদি তারা (আজ) ধৈর্য্য ধারণ করে, তবুও তারা আগুনের (জাহান্নামের) বাসিন্দা হবেই। এবং যদি তারা ক্ষমাপ্রার্থনা করে, তবুও তাদেরকে ক্ষমাপ্রাপ্তদের মধ্যে গণ্য করা হবে না।
তাদের জন্যে আল্লাহ শয়ত্বাই নিয়োগ করে দেন।
41:25 নং আয়াহ : আমরা তাদের জন্য সঙ্গীদেরকে [19:83, 43:36] নির্ধারণ করে দিয়েছি। আর তারা সৌন্দর্য্যপূর্ণ করে দেখায় যা কিছু আছে তাদের ভবিষ্যতে এবং যা কিছু আছে তাদের অতীতের মধ্যে (অর্থাৎ বর্তমানকে সুন্দর করে দেখায়)। আর তাদের উপর (আল্লাহর) বাণী/ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হলো, যেমন অতীত জাতি সমূহের ক্ষেত্রে কার্যকর হয়েছিল। যারা ছিল জিন ও মানুষ [32:13, 11:119]। নিশ্চয়ই তারা ছিল ক্ষতিগ্রস্ত।
মাক্কাহবাসী কুরআন চর্চায় বাধা দিত।
41:26 নং আয়াহ : আর যারা সত্য অস্বীকারকারী, তারা বলে- “তোমরা এই কুরআন কখনও শুনবে না, (বরং যেখানে কুরআন চর্চা হবে) সেখানে গোলযোগ সৃষ্টি [7:204] করো। যাতে তোমরা বিজয়ী [17:9] হতে পার।
কুরআন চর্চায় বাধা প্রদানকারীর শাস্তি।
41:27 নং আয়াহ : সুতরাং আমরা তাদেরকে কঠিন শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাবো, যারা সত্য অস্বীকারকারী। এবং আমরা তাদেরকে পূর্ণ প্রতিফল দেবই সেই নিকৃষ্ট কর্ম সমূহের, যে কর্ম তারা করেছিল।
কুরআন চর্চায় বাধা প্রদানকারী আল্লাহর শত্রু।
41:28 নং আয়াহ : ওটাই। আল্লাহর শত্রুদের প্রতিদান হল আগুন। প্রতিদান স্বরূপ তাদের জন্য থাকবে তার (জাহান্নামের) মধ্যে অনন্তকাল স্থায়ী আবাস। কেননা, তারা ছিল আমাদের আয়াত সমূহ প্রত্যাখানকারী।
ভণ্ড ঈশ্বর গুলোর থেকে তাদের উপাসকরা বদলা নিতে চাইবে।
41:29 নং আয়াহ : আর (সেদিন) সত্য অস্বীকারকারীরা বলবে- “হে আমাদের প্রভু, মানুষ ও জিনদের মধ্যে যারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল, তাদেরকে দেখিয়ে দিন। উভয়কে আমার পা দিয়ে পিষে ফেলব। উভয়ে যেন অপমানিতদের অন্তর্ভুক্ত হয়।
# এই ধরণের বক্তব্য 33:67-68 ও 7:38 এও রয়েছে। তবে এখানকার বক্তব্য একটু ভিন্ন। কেননা, তারা আল্লাহর কাছে দাবি করছে- “আমাদেরকে দেখিয়ে দিন”। তারমানে তারা পথভ্রষ্টকারী/ পথভ্রষ্টকারীদের চিনত না। প্রশ্ন হবে- “তাহলে পথভ্রষ্টকারী/ কারীরা কিভাবে তাদেরকে পথভ্রষ্ট করলেন”?? ধরুন, কেউ একজন আজ থেকে 3000 বছর আগে নিজেকে ঈশ্বর দাবি করেছিলেন, তারপর তার মূর্তি তৈরি করে বংশপরম্পরায় উপাসনা চলছিল।
কিন্তু ঐ ভণ্ড ঈশ্বর কেমন ছিলেন, তা কেউ-ই জানতেন না। এখানে ঐ ঈশ্বর/ ঈশ্বরদের কথা বলা হচ্ছে। ঐ ভণ্ড ঈশ্বরের উপাসকরা আল্লাহকে বলবেন- “হে আমাদের প্রভু, মানুষ ও জিনদের মধ্যে যারা আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল, তাদেরকে দেখিয়ে দিন। উভয়কে আমার পা দিয়ে পিষে ফেলব। উভয়ে যেন অপমানিতদের অন্তর্ভুক্ত হয়”।
আমাদের প্রভু আল্লাহই।
41:30 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই যারা বলে- আমাদের প্রভু আল্লাহই [46:13]। তারপর তাদের কাছে নাযিলকৃত বিষয়ের উপর অবিচল থাকে, (মৃত্যুর সময় তাদের কাছে মৃত্যুর) ফেরেস্তারা এসে বলে- “ভয় কর না এবং চিন্তিত হয়ো না। জান্নাতের সংবাদ শুনে খুশি হও, যার ওয়াদা তোমাদের সঙ্গে করা হয়েছিল” [16:32]।
ইহজীবন ও পরবর্তী জীবনে আল্লাহ ছাড়া কোনও আউলিয়া নেই
41:31 নং আয়াহ : আমরাই তোমাদের আউলিয়া/ অভিভাবক। ইহজীবনেও, পরবর্তী জীবনেও। তোমাদের জন্য সেখানে (জান্নাতে) তা রয়েছে, যা তোমাদের সত্ত্বা/ প্রাণ চাইবে। তোমরা যা দাবি করবে, তোমাদের জন্য তা-ই থাকবে [50:35]।
41:32 নং আয়াহ : আল্লাহর পক্ষ থেকে এটাই হবে আপ্যায়ন। যিনি ক্ষমাশীল ও করুণাময়।
নিজেকে ‛মুসলিম বলা’ ব্যক্তিই উত্তম।
41:33 নং আয়াহ : আর তার চেয়ে কথায় উত্তম আর কে আছে, যে মানুষকে আল্লাহর [16:125] দিকে ডাকে?? (তার সঙ্গে) নিজে সৎকর্ম করে এবং বলে- “আমি একজন মুসলীম [2:132, 3:102, 22:78]”!
মহা বিজয়ী হতে চাইলে, যা করতে হবে।
41:34 নং আয়াহ : সমান নয় উৎকৃষ্ট ও নিকৃষ্ট। শত্রুর নিকৃষ্টকে আচরণকে উৎকৃষ্ট আচরণ [23:96] দ্বারা আঘাত করুন। ফলত দেখবেন- ‛আপনার সঙ্গে শত্রুতা কারী আপনার অন্তরঙ্গ বন্ধুতে পরিণত হয়েছে’ [15:85]।
# একটি হাদীশ- “নাবী (সা) কখনও খারাপের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন না। তিনি ক্ষমা করে দিতেন এবং কখনও সেই প্রসঙ্গ আর তুলতেনও না, এমন ভাবে ক্ষমা করতেন” (তিরমিযী, হাদীশ 2016)।
তাই নয়, মাক্কাবাসী নাবী (সা) এর উপর মারাত্মক ধরণের অত্যাচার করেছিল কিন্তু নাবী (সা) মাক্কা বিজয় করেও তাদের সবাইকে ‛গণ ক্ষমা’ করে দেন। তখন ক্ষমা করেন, যখন মাক্কাহ ছিল তাঁর হাতের মুঠোয় (আবুদাউদ, হাদীশ 3021-3024)
41:35 নং আয়াহ : যারা ধৈর্য্য ধারণ করে, তারা ছাড়া এই গুণ অন্য কেউ অর্জন করতে পারে/ পারবে না। আর মহা বিজয়ী হওয়ার মানসিকতা ছাড়া এই গুণ অন্য কেউ অর্জন করতে পারে/ পারবে না [42:43]।
# এই দুই আয়াতে বর্ণিত নির্দেশনা নাবী (সা) মাক্কাহ বিজয়ের দিন প্রয়োগ করেছিলেন। তিনি প্রত্যেক শত্রুকে ক্ষমা করে দেন, ফলে প্রত্যেক কট্টর শত্রু অন্তরঙ্গ বন্ধুতে পরিণত হয়েছিল।
শাইত্বানের পক্ষ থেকে খারাপ উস্কানি পেলে করণীয়।
41:36 নং আয়াহ : অপরদিকে যদি শাইত্বানের পক্ষ থেকে খারাপ উস্কানি পান, তবে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করুন [7:200, 23:97-98]। নিশ্চয়ই তিনি মহাশ্রোতা ও মহাজ্ঞানী।
আল্লাহর সৃষ্টিকে নয়, আল্লাহকে সিজদা করতে হবে।
41:37 নং আয়াহ : তার (আল্লাহর) অন্য নিদর্শন হল- রাত ও দিন। সূর্য ও চন্দ্র। তবে তোমরা সিজদা কর আল্লাহকে, যিনি এদেরকে/ এগুলোকে সৃষ্টি করেছেন। যদি হতে চাও শুধু তারই ইবাদত/ উপাসনাকারী [1:4]।
আল্লাহ আমাদের ইবাদতের ভিখারি নন।
41:38 নং আয়াহ : তবে যদি তারা অহংকার করে (তাহলে আল্লাহ এসব থেকে [64:6] বে-পরোয়া)। কেননা, যারা আছে তার (আল্লাহর) কাছে, তারা রাতদিন তার পবিত্রতা বর্ণনা করছে। আর তারা তাতে ক্লান্ত হন না [21:19, 2:30]।
গ্ৰহ গুলো প্রথমদিকে পানি ও জীবনহীন থাকে।
41:39 নং আয়াহ : আর নিশ্চয়ই আপনার জন্য তার (আল্লাহর) নিদর্শন গুলোর মধ্যে অন্যতম নিদর্শন হল, যা আপনি (গবেষণা করলে) দেখতে পাবেন- “আমরা জীবনহীন গ্ৰহে (মহাকাশ ধূমকেতুর মাধ্যমে) পানি নামাই [29:63]। পানি দ্বারা ভরে ওঠে এবং (গ্ৰহের) ভর/ ওজন বৃষ্টি পায়। তারপর নিশ্চয়ই তাতে জীবন সৃষ্টি করেন [21:39, 24:45]। এভাবেই তিনি মৃতদেরকে জীবিত করবেন। নিশ্চয়ই তিনি সমস্ত কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
আল্লাহ মানুষকে সৎ ও অসৎ কর্মের স্বাধীনতা দিয়েছেন।
41:40 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই যারা আমাদের আয়াত সমূহের বিকৃত অর্থ গ্ৰহণ [3:7] করে, তারা আমাদের অগোচরে নয়। যাকে আগুনে ফেলা হবে, সে উত্তম?? নাকি যে কিয়ামতের দিন নিরাপদে থাকবে, সে?? তোমরা যে আমল/ কর্ম করতে চাও, তা-ই করতে পারো [64:2, 76:3]। নিশ্চয়ই তিনি সেই সমস্ত বিষয় দেখছেন, যে সমস্ত আমল/ কর্ম তোমরা করছ।
কুরআন মহা শক্তিশালী গ্ৰন্থ।
41:41 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই যাদের জন্য এসেছে যিকির/ কুরআন, তারা তা মেনে নিতে অস্বীকার করেছে। নিশ্চয়ই তা (কুরআন) মহা শক্তিশালী কিতাব/ গ্ৰন্থ [34:6, 69:50]
কুরআন সংমিশ্রণ হতে মুক্ত।
41:42 নং আয়াহ : মিথ্যা তাতে (কুরআনে) প্রবেশ করতে পারে না সামনে থেকে, আর না প্রবেশ করতে পারে পিছন থেকে [15:9]। তা নাযিল হয়েছে বিজ্ঞানী ও প্রশংসিতর পক্ষ থেকে।
নাবী (সা) নতুন কোনও বিধান পান নি।
41:43 নং আয়াহ : অবশ্যই আপনার পূর্বের রাসূলদেরকে যা বলা হয়েছিল [2:213, 42:13], আপনাকে সেগুলো ছাড়া ভিন্ন কিছু বলা হচ্ছে না [21:25]। নিশ্চয়ই আপনার প্রভু ক্ষমা করার অধিকারী এবং কষ্টদায়ক শাস্তি প্রদান করারও অধিকার রাখেন।
# ইয়াহুদী, খৃষ্টান, হিন্দু সহ ইসলাম বিদ্বেষীগণ বলেন যে, “ইসলামের সঙ্গে ইয়াহুদী ও খৃষ্টান ধর্মের এত মিল কেন?? কারণ তথাকথিত ইয়াহুদী ও খৃষ্টান ধর্মের নাবী গুলোর কাছে যে আল্লাহ বিধান দিয়েছেন, মুহাম্মাদ (সা) এর কাছে সেই আল্লাহই বিধান দিয়েছেন। মিল তো হবে, থাকবেই। এই আয়াহটা সেটাই বলেছেন। প্রশ্ন হবে- তাহলে অমিল গুলো কেন?? 2:79 ও 5:13 তে রয়েছে উত্তর।
আবার বহু ক্ষেত্রে বলা হয়- “মুহাম্মাদ (সা) বাইবেল থেকে Copy paste করেছেন”। যদি আগে বাইবেল পড়ে থাকেন, তাহলে ভালো। আপনি আমাদের স্মার্ট তাফসীর পড়ে শেষ করুন। আপনার মন্তব্য বদলে যাবে। কেননা, ঘটনায় মিল রয়েছে, বর্ণনায় মিল নেই। বাইবেলের বৈজ্ঞানিক ভুল গুলো পবিত্র কুরআনে নেই। এটাই প্রমাণ যে, নাবী (সা) Copy paste করেন নি। এও দেখতে পাবেন যে, পবিত্র কুরআনের বৈজ্ঞানিক তথ্য ও তত্ত্ব গুলোর এক কোটি ভাগের এক ভাগও বাইবেলে নেই।
■ মাতৃভাষার গুরুত্ব। ■ কুরআন সমস্ত সমস্যার সমাধান।
41:44 নং আয়াহ : আর যদি আমরা কুরআনকে অনারবি বানাতাম, তাহলে তারা বলত- “কেন তার (কুরআনের) আয়াত সমূহ সুস্পষ্ট নয়। কি অবাক করা বিষয়, তা (কুরআন) অনারবি ভাষায়। অথচ রাসূল আরবি ভাষি”। বলুন- যারা সত্য স্বীকার করেছে, তাদের জন্য পথনির্দেশ ও সমস্ত সমস্যার সমাধান [10:57]। যারা সত্য স্বীকার করে না, তাদের কান গুলোতে রয়েছে বধিরতা এবং তা (কুরআন) তাদের উপর অন্ধত্ব সৃষ্টি করেছে। (বধিরতা) এমন যে, যেন দূরবর্তী কোনও স্থান থেকে তাদেরকে ডাকা হচ্ছে।
41:45 নং আয়াহ : অবশ্যই আমরা মূসাকে কিতাব দিয়েছিলাম। অতঃপর তাতে মতভেদ সৃষ্টি করেছিল। যদি আপনার প্রভুর পক্ষ থেকে একটি কথা (কিয়ামতের দিন ক্ষণ) পূর্ব নির্ধারিত না থাকত, তাহলে তাদের মাঝে মিমাংসা করে দেওয়া হোত। নিশ্চয়ই তারা তা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর সন্দেহের মধ্যে ছিল।
সৎকর্ম হোক কিংবা অসৎকর্ম, তা নিজের উপর বর্তাবে।
41:46 নং আয়াহ : যে সৎকর্ম করে, তার নিজের জন্যেই। আর যে অসৎ কর্ম করে, তা তার নিজের উপরেই বার্তাবে [74:38, 52:21]। এবং আপনার প্রভু তার বান্দাদের উপর অবিচারকারী নন [50:29, 2:243, 10:60]।
আল্লাহর জ্ঞানের বাইরে কিছুই নেই।
41:47 নং আয়াহ : তার কাছেই রয়েছে কিয়ামতের জ্ঞান [79:44]। ফল সমূহ তার বৃন্ত/ বোঁটা থেকে বের হয় না, কোনও নারী গর্ভধারণ করে না এবং সন্তান প্রসবও করে না, যা তিনি জানেন না/ যা তার জ্ঞানের বাইরে [4:126, 65:12]। আর সেদিনতিনি ডেকে বলবেন- “কোথায় আমার শরিক (মিথ্যা ঈশ্বর/ ভক্তদের তৈরি ঈশ্বর) গুলো”?? তারা বলবে- “আমাদের (ঈশ্বর দাবীর পক্ষে) কোনও সাক্ষী নেই” [28:63, 46:6]।
মিথ্যা ঈশ্বরদের পরিণতি/ দুরাবস্থা।
41:48 নং আয়াহ : আর তারা পূর্বে যে সমস্ত (মিথ্যা ঈশ্বর দেরকে) ডাকতো, তারা উধাও [16:29-21] হয়ে যাবে/ অনুপস্থিত থাকবে [46:28, 6:23, 18:52]। তখন তারা ভেবে নেবে- “তাদের নিস্কৃতির কোনও উপায় নেই”।
দুয়া, বিপদ ও কল্যাণ সম্পর্কে মানুষের দ্বিচারিতা।
41:49 নং আয়াহ : মানুষ নিজ কল্যাণ/ উন্নতির জন্য দুয়া করতেই থাকে, ক্লান্ত হয় না। কিন্তু যেই তাকে দুঃখ/ কষ্ট স্পর্শ করে, তখনই হতাশ/ নিরাশ [12:87, 15:56] হয়ে পড়ে [11:9]।
41:50 নং আয়াহ : এবং বিপদ স্পর্শ করার পর যদি তাকে আমাদের পক্ষ থেকে রহমত/ অনুগ্রহের স্বাদ আস্বাদন করাই, অবশ্যই তখন সে বলে- “এটা তো আমারই প্রাপ্য ছিল [39:50, 11:10]। আমার ধারণা যে, কিয়ামত হবে না। যদি আমি আমার প্রভুর দিকে ফিরে যাই, তাহলে আমার জন্য তার (আল্লাহর) কাছে রয়েছে কল্যাণের পর কল্যাণ”। অথচ যারা সত্য অস্বীকার করেছে, তাদেরকে আমরা জানিয়ে দেব, যে আমল/ কর্ম তারা করত [17:14, 99:7-8]। এবং শেষে তাদেরকে মহা শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাবো।
41:51 নং আয়াহ : আর যখন আমরা মানুষের উপর নিয়ামত/ অনুগ্রহ করি, তখন সে পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় (মুহাম্মাদ হতে) মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং এড়িয়ে চলে [11:10]। কিন্তু তাকে অকল্যাণ স্পর্শ করলেই লম্বা দুয়া [41:49] করতে শুরু করে!
বিষয়টি সংশয়বাদী ও নাস্তিকরা ভাবুক।
41:52 নং আয়াহ : আপনি বলুন- “তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি (কুর’আন) হয় আল্লাহর পক্ষ থেকে [46:10]। এরপর তোমরা অস্বীকার করে থাকো, তাহলে তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে যে, বিরোধিতায় সুদূরে এগিয়ে গিয়েছে”??
আমাদের আশেপাশ ও আমাদের মধ্যে রয়েছে নিদর্শন।
41:53 নং আয়াহ : শীঘ্রই আমরা তাদের আশপাশ [51:20] থেকে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে থেকে [51:21] তাদেরকে আমাদের নিদর্শন সমূহ [40:81] দেখাব। যতক্ষণ না তাদের কাছে সুস্পষ্ট হয়ে যে, তা (কুরআন) সত্য। এটা কি যথেষ্ট নয় যে, নিশ্চয়ই তিনি তাদের প্রত্যেক বিষয়ের সাক্ষী??
আল্লাহ সমস্ত কিছুকে ঘিরে রেখেছেন।
41:54 নং আয়াহ : জেনে রাখুন- নিশ্চয়ই তারা তাদের প্রভুর সঙ্গে সাক্ষাতের ব্যাপারে সন্দেহ/ সংশয়ে রয়েছে [44:9,;50:5]। জেনে রাখুন- নিশ্চয়ই তিনি সমস্ত কিছুকে ঘিরে রেখেছেন [4:126, 65:12]।