বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 35 টি।
বিচ্ছিন্ন অক্ষর গুলো আসলে কি??
46:1 নং আয়াহ : হা মীম [31:1-2]।
কুরআন কে নাযিল করেছেন??
46:2 নং আয়াহ : কিতাবটি (কুরআন) নাযিল করা হয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে [38:29]। যিনি মহা শক্তিশালী ও মহা বিজ্ঞানী।
পুনরুত্থান সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক।
46:3 নং আয়াহ : আমরা মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছি ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছি। আর যা কিছু আছে উভয়ে, সমস্ত কিছুই সৃষ্টি করেছি বিজ্ঞান সম্মত পদ্ধতিতে নির্ধারিত ও নিদিষ্ট সময়ের জন্য [84:1-5]। অপরদিকে যারা সত্য অস্বীকারকারী, তারা সেই বিষয় হতে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে, যে (পুনরুত্থান) সম্পর্কে তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে [21:1]।
■ হাদীশও দলিল। ■ মিথ্যা ঈশ্বর সম্পর্কে ভাবার নির্দেশ।
46:4 নং আয়াহ : বলুন- “তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে ডাকো, তাদের সম্পর্কে ভেবে দেখেছ কি [7:194]?? তারা পৃথিবীতে কি সৃষ্টি করেছে?? অথবা মহাবিশ্বের সৃষ্টিতে তাদের কি ভূমিকা [18:51] আছে?? আমার কাছে নিয়ে এস পূর্বের কোনও (আল্লাহর নাযিল করা) কিতাব অথবা বিশ্বস্ত সুত্রে বর্ণিত (রাসূলদের) জ্ঞানগর্ভ বাণী [40:70]। যদি হয়ে থাকো সত্যবাদী!
মিথ্যা ঈশ্বর গুলো এবং তাদের উপাসকদের অবস্থা।
46:5 নং আয়াহ : আর তারচেয়ে অধিক বিভ্রান্ত আর কে হতে পারে, যে এমন সত্ত্বাকে ডাকে, যে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত তার ডাকে সাড়া দিতে পারবে না। এবং তারা তাদের ডাক/ প্রার্থনা সম্পর্কে জানেও [10:29] না!
46:6 নং আয়াহ : আর যখন মানবজাতিকে একত্রিত করা হবে, তখন তারা (মিথ্যা ঈশ্বর গুলো) তাদের (উপাসকদের) শত্রু হবে। আর তারা (মিথ্যা ঈশ্বর গুলো) তাদের ইবাদত/ উপাসনা অস্বীকার করবে [19:82, 29:25]।
# মিথ্যা ঈশ্বর গুলো বিচার দিবসে বলবেন- “আমরা মানুষকে বলি নি যে, তোমরা আমাদের ইবাদত/ উপাসনা করো” (28:63)।
তারা কুরআনকে ‛সুস্পষ্ট জাদু’ বলত কেন??
46:7 নং আয়াহ : আর যখন তাদেরকে আমাদের সুস্পষ্ট আয়াত সমূহ পাঠ করে শোনানো হয়, তখন যারা সত্য অস্বীকার করেছে, তারা বলে- “এটা (কুরআন) তাদের কাছে আসা সুস্পষ্ট জাদু” [6:7]।
# প্রশ্ন হবে- “তারা পবিত্র কুরআনকে সুস্পষ্ট জাদু বলতেন কেন”?? আসলে পুনরুত্থান যে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক বিষয়, সেটা সেই যুগের নাস্তিকরা মেনে নিতে পারতেন না [46:3]। আর তাদের কথা বাদ দিলাম, এই যুগের নাস্তিকরা মেনে নিতে পারবেন না। দেখুন 69:16-17 আয়াত।
নাবী (সা) কুরআন রচনা করেন নি।
46:8 নং আয়াহ : নাকি তারা বলে- “সে (মুহাম্মাদ) রচনা করেছে”?? বলুন- “তাহলে তোমরা আমাকে আল্লাহ হতে কেউ রক্ষা [10:15, 39:13] করতে পারবে না [72:22, 69:44-47]। আর তিনি সেই সম্পর্কে জানেন, তোমরা যে সম্পর্কে আলোচনা করে চলেছ। আমার ও তোমাদের মাঝে সাক্ষী হিসাবে তিনিই যথেষ্ট। এবং তিনি ক্ষমাশীল ও করুণাময়”।
# এর প্রমাণ কি যে, “নাবী (সা) পবিত্র কুরআন রচনা করেন নি”?? A) তিনি নিরক্ষর (7:157) ছিলেন, পড়াশোনা জানতেন না (29:48)। অন্যদিকে পবিত্র কুরআনের সাহিত্য মান নিয়ে তৎকালীন আরবের কেউ প্রশ্ন তোলেন নি। তাই তা নাবী (সা) এর রচনা হতেই পারে না। B) হোসেন কুরানীর অনুবাদ করা পবিত্র কুরআন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন, এমন এমন বৈজ্ঞানিক বিষয় দেখতে পাবেন, যা দেখে মনে হবে- “বর্তমানে কোনও বিজ্ঞানীর পক্ষে এই কুরআন রচনা করা অসম্ভব”।
নাবী (সা) ভবিষ্যৎ জানতেন না।
46:9 নং আয়াহ : বলুন- “আমি রাসূলদের মধ্যে কোনও নতুন (রাসূল) নই [3:144, 53:56]। আমি জানি না আমার সঙ্গে (মাক্কাবাসী) কি ধরণের ব্যবহার করবে এবং আর না জানি তোমাদের সঙ্গে কি করা হবে। আমার প্রতি যা ওহী করা হয়, তা ছাড়া ভিন্ন কিছুর অনুসরণ করি না। [6:50, 7:203, 10:15]। এবং আমি একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী ছাড়া অন্য কিছু নই [88:21-22, 50:45]।
# হাদীশ অস্বীকারকারীরা বলেন- “নাবী (সা) জানতেন না যে, বিচার দিবসে তার নিজের সঙ্গে এবং সাহাবাদের সঙ্গে কি করা হবে। সুতরাং তাহলে তিনি কিভাবে সাহাবাদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ দিলেন?? আর বিচার দিবস সম্পর্কে এত হাদীশ, জান্নাত জাহান্নাম সম্পর্কে এত হাদীশ কোথায় থেকে এলো”?? উত্তর সহজ- A) এখানে বিচার দিবসের কথা বলা হয় নি। B) আল্লাহ তাকে মাক্কা জীবনের প্রথম দিকে জানান নি, তাই তিনি জানেন নি। পরে আল্লাহ জানিয়েছেন (4:113, 72:26-27)।
যারা কুরআনকে নাবী (সা) এর রচিত ভাবে, তারা বিষয়টি ভাবুক।
46:10 নং আয়াহ : বলুন- “তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি তা (কুরআন) হয় আল্লাহর পক্ষ [41:52] থেকেই, আর তোমরা যদি তা অস্বীকার কর (তাহলে তার পরিণতি কি হবে)?? বানী ইসরাঈলের মধ্যে থেকে একজন (১) সাক্ষ্য দিয়েছে, যিনি ইতিপূর্বে অনুরূপ বাণীর পক্ষে (তাওরাত ও ইঞ্জিল সম্পর্কে) সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি সত্য স্বীকার করলেন, আর তোমরা অহংকার করলে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পথ দেখান না সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়কে।
১ তিনি কে?? তিনি হলেন- আবদুল্লাহ ইবনে সালাম (রা)। তিনি ইয়াহুদী ও খৃষ্টান ধর্ম সম্পর্কে পান্ডিত্য অর্জন করেছিলেন। আরও বিস্তারিত জানতে দেখুন 26:195-197 আয়াত।
যারা কুরআন দ্বারা পথ পায় না, তাদের দাবিটা কি??
46:11 নং আয়াহ : আর যারা সত্য অস্বীকার করেছে, তারা যারা সত্য স্বীকার করেছে, তাদের সম্পর্কে বলে- “যদি এটা (কুরআন গ্ৰহণ করা) ভালো হোত, তাহলে তারা (কুরআন গ্ৰহণের ব্যাপারে) আমাদের চেয়ে অগ্ৰগামী হতে পারত না”। আর যেহেতু তারা এর দ্বারা পথ পায় নি, সেহেতু তারা অবশ্যই বলবে- “এটা (কুরআন) পুরাতন যুগের মনগড়া মিথ্যা কাহীনি মাত্র”।
কুরআনের অন্যতম কাজ কি??
46:12 নং আয়াহ : আর পূর্বে মূসার কিতাব পথপ্রদর্শক ও রহমত হয়ে এসেছিল। এবং এই কিতাব (কুরআন) তার সমর্থক, যা আরবি ভাষায়। যেন সীমালঙ্ঘনকারীদেরকে সতর্ক করতে পারে। আর যেন পূণ্যবানদেরকে সুসংবাদ দিতে পারে।
আমাদের প্রভুই আল্লাহ।
46:13 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই যারা বলে- “আমাদের প্রভুই আল্লাহ” (১)। তারপর তার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে। তাদের কোনও ভয় থাকবে না, আর না থাকবে দুঃখ।
১ এর আগের আয়াহতে মূসা (আ) এর কিতাব/ তাওরাত সম্পর্কে কথা বলা হয়েছে। তারপরই বলা হচ্ছে- “নিশ্চয়ই যারা বলে- ‛আমাদের প্রভুই আল্লাহ’। সুতরাং তাদের কোনও ভয় থাকবে না, আর না থাকবে চিন্তা”। এখন প্রশ্ন হল- এমন কথা বলা হল কেন??
এ প্রশ্নের উত্তরটা রয়েছে বাইবেলে। কেননা, এখানে পবিত্র কুরআন বাইবেলের একটি Verse কে উদ্ধৃতি করেছে। সেটা হল- “Hear, O Israel: The Lord our God, the Lord is one” (Book of Deuteronomy, 6:4)। যার অর্থ- “শোন হে বানী ইসরাঈল, আমাদের প্রভুই ঈশ্বর। আর আমাদের প্রভু মাত্র একজন”। বাইবেলের এই বক্তব্যটাই New testament এ রয়েছে Mark এর 12:29 এ। যাইহোক, এখানে মূলত আল্লাহ ইয়াহুদীদেরকে তাদের গ্ৰন্থের দাবির উপর অনড় থাকতে বলছেন।
আল্লাহকে প্রভু মেনে তার নির্দেশ পালন করার প্রতিদান।
46:14 নং আয়াহ : (যারা শুধু আল্লাহকেই প্রভু মনে করে) তারাই হবে জান্নাতের বাসিন্দা [39:74], তারা সেখানে অনন্তকাল থাকবে। এটা তাদের সেই কর্মের প্রতিদান, যা তারা করেছিল।
উত্তম সন্তান ও তার পরিণতি।
46:15 নং আয়াহ : আমরা মানুষকে নির্দেশ দিয়েছি তার মাতা পিতার সঙ্গে উত্তম ব্যবহারের [31:14]। কেননা, তার মা তাকে কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে এবং অতি কষ্টে প্রসব করেছে [4:34]। তাকে গর্ভধারণ ও দুধ ছাড়ানোর সময় হলো ত্রিশ (১) মাস (আড়াই বছর)। এমনকি যখন সে পূর্ণ শক্তি/ যৌবন লাভ করে এবং চল্লিশ বছর বয়সে পৌঁছায়, তখন বলে- “হে আমার প্রভু, আমাকে সার্মথ্য দিন যে, আমি যেন আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারি। সেই নিয়ামতের, যা আপনি আমাকে দিয়েছেন এবং আমার মাতা পিতাকেও (২)। আর যেন আমি সৎকর্ম করতে পারি, যাতে আপনি সন্তুষ্ট হন। এবং যোগ্য করে দিন আমার বংশধরদেরকে। নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করছি, আর নিশ্চয়ই মুসলীম/ অনুগতদের অন্তর্ভুক্ত” [41:33, 12:101]।
১ দুটি ব্যাখ্যা রয়েছে। A) 31:14 তে বলা হয়েছে দুধ দুধ খাওয়াতে হবে কমপক্ষে 2 বছর। তারমানে গর্ভধারণের কাল 6 মাস। যা বিজ্ঞানও বলে যে, গর্ভধারণের সবচেয়ে কম সময় হল- 6 মাস। B) গর্ভধারণ কষ্টকর হয় 3 মাস পর থেকে। তাই এখানে 6 মাসের গর্ভধারণ ও 2 বছর দুধ পান করানোর কথা বলা হচ্ছে।
২ পবিত্র কুরআনের এই সৌন্দর্য্য মুসলীম সমাজ থেকে হারিয়ে গেছে। পবিত্র কুরআন অনুযায়ি- সন্তানের 40 বছর বয়স পর্যন্ত সন্তান মাতা পিতার দায়িত্বে থাকবে। আর সন্তানের 40 বছর হলেই মাতা পিতা সন্তানের সন্তানে পরিণত হবে। তখন থেকে মাতা পিতা তার সন্তানের কাছে সন্তানের মতো লালিত পালিত হবে। যেমন তারা গর্ভধারণ থেকে শুরু করে 40 বছর পর্যন্ত সন্তানের লালন পালন করেছে। সুবহানআল্লাহ, ইসলাম এতটাই সুন্দর।
46:16 নং আয়াহ : ওরাই তারা, যাদের উত্তম আমল/ সৎকর্ম গুলো আমরা কবুল/ গ্ৰহণ করি এবং তাদের অসৎকর্ম গুলো নষ্ট/ ধ্বংস করে দিয়ে [11:114] তাদেরকে জান্নাতের বাসিন্দাদের অন্তর্ভুক্ত করে নিই। আর এদেরকে দেওয়া ওয়াদা/ প্রতিশ্রুতি সত্যে পরিণত হবে [39:74]।
অধম সন্তান ও তার পরিণতি।
46:17 নং আয়াহ : আর যারা মাতাপিতাকে বলে- “ধ্বংস/ ধিক্কার তোমাদের দুজনের জন্য। এজন্য যে, তোমরা আমাকে পুনরুত্থানের ভয় দেখাচ্ছো। অথচ আমার পূর্বে কতশত প্রজন্ম অতীত হয়ে গেল (কিন্তু পুনরুত্থান তো হলো না)”। তখন তারা (মাতাপিতা) দুজন (সন্তানকে উদেশ্য করে) আল্লাহকে বলে- “ধ্বংস হয়ে যাবে তুমি, সুতরাং সত্য স্বীকার করো। নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদা সত্য”। (তখন সন্তান) বলে- “এসব পূর্ববর্তীদের মিথ্যা গল্প কাহিনী ছাড়া কিছুই নয়”।
46:18 নং আয়াহ : ওরাই তারা, যাদের জন্য আল্লাহর বাণী সত্যে পরিণত হবে [38:85, 32:13, 11:119]। (যেমন আল্লাহর বাণী সত্যে পরিণত হয়েছিল) এদের পূর্বে গত হওয়া মানুষ ও জিন জাতির ক্ষেত্রে, এরা তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আর তারা ছিল ক্ষতিগ্রস্ত।
সম্মান/ মর্যাদা পেতে চাইলে কি করতে হবে??
46:19 নং আয়াহ : এবং প্রত্যেকের সম্মান/ মর্যাদা হবে আমল/ কর্ম অনুযায়ি [3:188, 6:132]। তাদেরকে তাদের আমল/ কর্মের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে এবং কারোর উপর অবিচার করা হবে না [36:54]।
প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় হারাম।
46:20 নং আয়াহ : আর যেদিন সত্য অস্বীকারকারীদের কে উত্তপ্ত পৃণ্ডের [69:16-17] উপর, তখন বলা হবে- “তোমরা ইহজীবনের উপকরণ গুলো ধ্বংস [102:1] করেছ এবং ইচ্ছা মতো উপভোগ করেছ। সুতরাং আজ তোমাদের প্রতিদান হবে অপমানজনক শাস্তি। ঐ কারণে যে, তোমরা গ্ৰহ/ পৃথিবীর জীবনে সত্য বহির্ভূত অহংকার করতে এবং ঐ কারণেও যে, তোমরা ছিলে সত্যকে অগ্ৰায্যকারী।
সমস্ত নাবী রাসূলরা তাওহীদের কথা বলেছেন।
46:21 নং আয়াহ : আর স্মরণ করুন, আদের ভাই (হুদের কাহিনী)। যখন তিনি তার জাতিকে আহকাফ/ উপত্যকায় [26:128-129] সতর্ক (7:65] করছিলেন। আর অবশ্যই তানর পূর্বে ও পরের সতর্ককারীরা গত হয়েছে। এই মর্মে যে, “তোমরা আল্লাহ ছাড়া ভিন্ন কারোর ইবাদত করো না” [21:25]। (হুদ বলেছিলেন) “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য মহা দিবসে শাস্তির ভয় করছি” [26:135]।
তার জবাবে মূর্তিপূজারীরা কি বলেছিল??
46:22 নং আয়াহ : তারা বলেছিল- “তুমি কি আমাদের ঈশ্বর গুলো (দেব দেবীদের মূর্তি) থেকে আমাদেরকে দূরে/ বিরত রাখতে চাইছো [7:70]?? তাহলে নিয়ে এসো সেই বিষয় (কিয়ামত), তুমি যার ভয় [11:32, 7:77] দেখাচ্ছো। যদি হয়ে থাকো সত্যবাদীদের [7:66] অন্তর্ভুক্ত”।
কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে আল্লাহর কাছে।
46:23 নং আয়াহ : তিনি বললেন- “মূলত এর জ্ঞান তো আল্লাহর কাছেই [7:187, 43:61]। আমি শুধু পৌঁছে দিচ্ছি সেই বিষয়, যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছি [7:68]। কিন্তু আমি দেখছি- তোমরা মূর্খ জাতি” [45:18]।
আদ জাতির পরিণতি।
46:24 নং আয়াহ : অতঃপর যখন তারা তাদের উপত্যকার দিকে মেঘমালা যেতে দেখল তখন তারা বলল- “এই মেঘমালা আমাদেরকে বৃষ্টি দেবে”। (হুদ বলল) “বৃষ্টি নয়, বরং এটি সেই বিষয়, যা তোমরা তাড়াতাড়ি পেতে চেয়েছিলে। তা ঝড়, যাতে রয়েছে কষ্টদায়ক শাস্তি [26:138]।
46:25 নং আয়াহ : (ঝড়) তার রব/ মালিকের নির্দেশ মুতাবিক সমস্ত কিছুকে ধ্বংস করে দেবে”। ফলতঃ তাদের অবস্থা এমন হয়ে গেল যে, তাদের বসতি গুলো ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছিল না [69:6-8]। এভাবেই আমরা অপরাধী সম্প্রদায়কে কর্মফল দিয়ে থাকি।
আদ জাতিকে উন্নত মানের জ্ঞান দেওয়া হয়েছিল।
46:26 নং আয়াহ : আর অবশ্যই তাদেরকে আমরা এমন বিষয়ে ক্ষমতা [41:15, 15:82] প্রদান করেছিলাম, তেমন ক্ষমতা তোমাদেরকে (মাক্কাবাসীদেরকে) দেওয়া হয় নি। তাদেরকে দেওয়া হয়েছিল কান, চোখ ও উন্নত মানের জ্ঞান [26:132-133]। কিন্তু তাদের কান, চোখ ও উন্নত মানের জ্ঞান তাদের কোনও কাজে আসে নি, যখন তারা আল্লাহর আয়াত সমূহকে অস্বীকার করেছিল এবং তাদেরকে ঘিরে ধরল সেই বিষয় (শাস্তি), যা নিয়ে তারা ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করতো।
মাক্কাহর আশেপাশের সভ্যতা গুলোকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল।
46:27 নং আয়াহ : আর অবশ্যই আমরা ধ্বংস করেছি তোমাদের (মাক্কাহর) আশেপাশের সভ্যতা গুলোকে। তবে (তার আগে) আমরা বিভিন্ন ভাবে আমাদের আয়াত সমূহ বর্ণনা করেছি [20:134], যাতে তারা (আল্লাহর দিকে) ফিরে আসে।
মিথ্যা ঈশ্বর গুলো সম্পর্কে আল্লাহ প্রশ্ন করছেন।
46:28 নং আয়াহ : অতঃপর কেন তারা তাদেরকে সাহায্য করলো না, আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে নৈকট্য লাভের জন্য ঈশ্বর হিসাবে গ্ৰহণ করেছিল?? (সাহায্য তো করেই নি) উপরন্তু তারা (মিথ্যা ঈশ্বর গুলো) তাদের থেকে [41:48, 18:52] অনুপস্থিত [16:20-21, 40:74] ছিল। কারণ ওগুলো ছিল মিথ্যা এবং তাদের নিজেদের রচিত [6:24, 43:21, 30:35]।
একদল জিন নাবী (সা) এর মুখে কুরআন শুনলেন।
46:29 নং আয়াহ : আর (শুনুন, সেই সময়ের কথা) যখন জিনদের মধ্যেকার একদলকে আপনার প্রতি আকৃষ্ট করে দিই, তারা কুরআন তিলাওয়াত শুনতে [72:1] পেয়েছিল। অতঃপর যখন তারা সেখানে উপস্থিত হল, তখন বলল- “চুপ করে শুনতে থাকো” [7:204]। অতঃপর যখন (তিলাওয়াত) শেষ হল, তখন তারা তাদের জাতির কাছে ফিরে গিয়ে তাদেরকে সতর্ক করল [72:2]।
# কিন্তু জিন গুলো কোথায় নাবী (সা) এর মুখে কুরআন তিলাওয়াত শুনেছিলেন?? ঐ হাদীশটা দেওয়া রয়েছে 72:10 এর টিকায়। যান, গিয়ে দেখে আসুন।
কুরআন শুনে অন্যান্য জিন গোষ্ঠীকে সতর্ক করছিলেন।
46:30 নং আয়াহ : তারা বলেছিল- “হে আমার জাতি, আমরা শুনেছি এমন কিতাব (তিলাওয়াত/ পাঠ), যা নাযিল হয়েছে মূসার বহুকাল পর [72:13]। যা, তার পূর্বে আসা কিতাব সমূহের সমর্থক/ সত্যায়নকারী [5:48]। যা মহাসত্যের পথ দেখায় এবং চূড়ান্তে পৌঁছানোর তরীকা বলে দেয় [72:11]।
46:31 নং আয়াহ : হে আমার জাতি, আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর [16:125] ডাকে [41:33] সাড়া দাও, তাকে স্বীকার কর। (আল্লাহ) তোমাদের পাপ সমূহ ক্ষমা [39:53] করবেন, তোমাদেরকে রক্ষা করবেন কষ্টদায়ক শাস্তি হতে।
46:32 নং আয়াহ : আর যে আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর ডাকে সাড়া দেয় না, তবে সে আল্লাহকে পৃথিবীতে হারিয়ে দিতে সক্ষম নয় [72:12] এবং তার জন্য তিনি (আল্লাহ) ছাড়া কোনও আউলিয়া নেই/ থাকবে না [29:22]। তারা বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে রয়েছে।
কেন পুনরুত্থান অসম্ভব নয়??
46:33 নং আয়াহ : তারা কি দেখে/ ভাবে না যে, আল্লাহ হলেন (তিনি), যিনি মহাবিশ্ব ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং তিনি তাদের (মহাবিশ্ব ও পৃথিবী) সৃষ্টি করতে ক্লান্তি [50:38] বোধ করেন [50:15] নি?? তাহলে কি তিনি মৃতদেরকে পুঃজীবিত (পুনরুত্থিত) করতে সক্ষম নন [36:78-79, 17:51]?? কেন নয়! নিশ্চয়ই তিনি সমস্ত কিছুর উপর ক্ষমতাবান [17:99, 36:81]।
কাফিরদেরকে বিচার দিবসে, যা জিজ্ঞাসা করা হবে।
46:34 নং আয়াহ : আর সেদিন যারা সত্য অস্বীকার করেছিল, তাদেরকে হাজির করা হবে মারাত্মক উত্তপ্ত পৃণ্ডের উপর [46:20]। (তখন বলা হবে) “এটা সত্য নয় কি” [52:14]?? তারা বলবে- “অবশ্যই সত্য, আমাদের প্রভুর শপথ”। বলা হবে- “এখন স্বাদ নাও শাস্তির [50:28]। ঐ কারণে যে, তোমরা সত্য অস্বীকার করেছিলে [8:35]।
সময়ের আপেক্ষিকতা সত্য।
46:35 নং আয়াহ : এতএব আপনি ধৈর্য্য ধারণ করুন সৎ সাহসী রাসূলদের মতো [70:5]। আর তাদের জন্য তাড়াহুড়ো করবেন না [86:17]। যেদিন তারা দেখবে তা, যার ওয়াদা করা হচ্ছে আজ, তখন তারা ভাববে- “তারা দিনের এক সেকেন্ড/ মিনিট/ ঘন্টা ছাড়া (বারযাখে) অবস্থান করে [10:45] নি। এখন (আপনার দায়িত্ব শুধু) প্রচার করা [88:21]। এত (বলার/ বোঝানোর) পর সত্য ত্যাগী/ সত্য অগ্ৰায্যকারী ছাড়া অন্য কেউ ধ্বংস হবে কি??
# সময়ের আপেক্ষিকতা সম্পর্কে সমস্ত আয়াত গুলো একত্রিত করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে 30:55 এর টিকায়। যান, চট করে গিয়ে একবার দেখে আসুন।