বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 92 টি।
বিচ্ছিন্ন অক্ষর গুলো আসলে কি??
19:1 নং আয়াহ : কাফ হা ইয়া আইন স্বাদ [15:1, 31:1-2]।
যাকারিয়া (আ) এর প্রার্থনা ও বর্ণনা।
9:2 নং আয়াহ : (এটা ঐ) রহমত/ অনুগ্রহের বিবরণ, যা আপনার প্রতিপালক তার বান্দা যাকারিয়ার প্রতি করেছিলেন।
19:3 নং আয়াহ : যখন তিনি তার প্রতিপালককে গোপনে ডেকে ছিলেন,
বয়স্ক মানুষদের শ্বেত রক্তকণিকা কমে যায়।
19:4 নং আয়াহ : বলেছিলেন- “হে আমার প্রভু, আমার অস্থি মজ্জার উৎপাদন (শ্বেত রক্তকণিকা) কমে গেছে (১)। আর বয়সের জন্য উজ্জ্বল হয়েছে মাথা (মাথার চুল)। হে আমার প্রতিপালক, আপনাকে ডেকে কখনও ব্যর্থ হই নি”[3:38, 19:48,14:39-40]।
১) শ্বেত রক্তকণিকা কমে যাওয়ার অর্থ হল- শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া। এই রক্তকণিকা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিশ্চিত করে। এ কারণে আমরা রোগকে হারিয়ে সুস্থ হয়ে উঠি, আর এই কণিকা তৈরি হয় অস্থিমজ্জাতে।
যাকারিয়া (আ) কেন ভয় পাচ্ছিলেন??
19:5 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমি আমার পর স্বগোত্রিয়দের সম্পর্কে ভয় পাচ্ছি। কেননা, আমার স্ত্রী বন্ধ্যা (তাদের পথ দেখাবে কে)??। এ জন্য আপনি আপনার থেকে আমাকে একজন উত্তরাধিকারী [21:89] প্রদান করুন।
19:6 নং আয়াহ : যে আমার ওয়ারিশ হবে এবং ইয়াকূব বংশের (১) ওয়ারিশ হবে [3:38]। হে আমার প্রতিপালক, তাকে আপনার সন্তুষ্টির পাত্র বানিয়ে দেবেন।
১) ইয়াকূব বংশের বলতে?? আসলে ইয়াকূব (আ) এর আরেক নাম হল- ইসরঈল (আ)। আর তার নামেই তার বংশধরদেরকে ‛বানী ইসরাঈল’ বলা হয়। বিস্তারিত তথ্য রয়েছে 37:77 এ।
যাকারিয়া (আ) পুত্রের সুসংবাদ পেলেন।
19:7 নং আয়াহ : (এই পেক্ষিতে তাকে ফেরেস্তারা বললেন) “নিশ্চয়ই আমরা আপনাকে এক পুত্রের সুসংবাদ দিচ্ছি [3:39, 21:90]। তার নাম হবে ইয়াহইয়া। তার পূর্বে তার সমতুল্য অন্য কেউ ছিল না”।
অতি বয়স্ক জনিত কারণে হাড় শুকিয়ে যায়।
19:8 নং আয়াহ : বললেন- “কিভাবে আমার পুত্র হবে, আমার স্ত্রী তো যৌবন কাল থেকেই বন্ধ্যা (১)?? আর অবশ্যই অতি বয়স্ক হওয়ার জন্য আমার কাঠ (অস্থি/ হাড়) শুকিয়ে গেছে/ যাচ্ছে”।
১) এখানে পুত্রের সুসংবাদ পেয়ে যাকারিয়া (আ) যে ধরণের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন, এই ধরণের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিলেন ইবরাহীম (আ) এর প্রথম স্ত্রী। এটা রয়েছে 51:29 এ।
# হাড় শুকিয়ে যায়?? হ্যাঁ, শুকিয়ে যায়। প্রতিনিয়ত আমাদের শরীরে নতুন হাড় তৈরি হয়, পুরাতন হাড়ের জায়গা নেয়। প্রতি 10 বছর ছাড়া পুরাতন হাড় পুরোপুরি নতুন হয়ে যায়। এটা খুবই ধীর গতির প্রক্রিয়া। বয়সের কারণে নতুন হাড় তৈরি বন্ধ হয়ে যায়, পুরাতন হাড় শুকিয়ে যায়। এখানে যাকারিয়া (আ) সেটাই বলছেন।
ফেরেস্তাদের জবাব।
19:9 নং আয়াহ : (ফেরেস্তারা) বললেন- “এভাবেই হবে [19:21, 3:40, 51:30]। আপনার প্রতিপালক বলেছেন- “তা আমার জন্য সহজ” [64:7]। নিশ্চয়ই ইতিপূর্বে আমি আপনাকে সৃষ্টি করেছি, যখন আপনি গুরুত্বপূর্ণ কিছুই ছিলেন না” [76:1]।
যাকারিয়া (আ) নিদর্শন চাইলেন, আল্লাহ নিদর্শন দিলেন।
19:10 নং আয়াহ : বললেন- “হে আমার প্রভু, আমাকে একটি নিদর্শন দিন”। বললেন- “আপনার নিদর্শন এই যে, আপনি সুস্থ থেকেও ‛তিন’ দিন মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না” [3:41]।
# ফেরেস্তারা যা বলছিলেন, তা হয়ত পরিস্থিতি দেখে যাকারিয়া (আ) বিশ্বাস করতে পারছিলেন না, তাই তিনি নিদর্শন চেয়েছিলেন। তার নিদর্শন এটা ছিল যে, আল্লাহ তার বাকশক্তি কেড়ে নিয়েছিলেন 3 দিনের জন্য।
যাকারিয়া (আ) ছিলেন মাসজিদের ইমাম।
19:11 নং আয়াহ : অতঃপর তিনি মিহরাব থেকে বের হয়ে তার জাতির সামনে এলেন। অতঃপর তিনি তাদের প্রতি ইঙ্গিত করলেন যে, তোমরা সকাল সন্ধ্যায় (নামাজে তার) পবিত্রতা বর্ণনা করতে থাকবে (১)।
১) কেননা আমি তো বোবা হয়ে গেছি, নামাজ পড়াতে পারব না, তিলাওয়াত করতে পারব না।
# আর এখানে যাকারিয়া (আ) এর প্রসঙ্গ শেষ, তার পুত্র ইয়াহইয়া (আ) বর্ণনা/ কাহিনী শুরু হচ্ছে।
শিশু থেকে বিজ্ঞানের জ্ঞান, ইয়াহইয়া (আ) এর মুজেজা।
19:12 নং আয়াহ : হে ইয়াহইয়া, দৃঢ় ভাবে কিতাব ধারণ করুন। আর তাকে আমরা শিশু/ বাল্য কালেই বিজ্ঞানের জ্ঞান প্রদান করেছিলাম।
ইয়াহইয়া (আ) ছিলেন ‛পবিত্র’।
19:13 নং আয়াহ : এবং আমাদের নিকটে তার প্রতি ছিল স্নেহ ভালোবাসা, তাকে করেছিলাম ‛পবিত্র’। আর তিনি ছিলেন তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বনকারী।
ইয়াহইয়া (আ) ছিলেন মাতাপিতার প্রতি দায়িত্ববান।
19:14 নং আয়াহ : তিনি ছিলেন মাতাপিতার প্রতি দায়িত্ববান। তিনি ‛কঠোর/ রূঢ় ও অবাধ্য’ ছিলেন না।
ইয়াহইয়া (আ) এর প্রতি ‛বিশেষ ধরণের সালাম’।
19:15 নং আয়াহ : তার প্রতি সালাম, যেদিন তিনি জন্মেছিলেন এবং যেদিন তিনি মরবেন ও যেদিন তাকে জীবিত করে উঠান হবে [19:33]।
মাসজিদে মারইয়াম (আ) এর ইতিকাফ।
19:16 নং আয়াহ : আর কিতাবে মারইয়ামের বিবরণ পেশ করা হচ্ছে। যখন তিনি পৃথক হয়ে গিয়েছিলেন তার পরিবার হতে। স্থান নিলেন (বাইতুল মুকাদ্দাসের) পূর্বদিকে (১)।
১) মারইয়াম (আ) ইতিকাফ করেছিলেন। বিস্তারিত তথ্য 2:187 তে রয়েছে। যাইহোক, তবে এই আয়াহ এটা প্রমাণ করে যে, নারীরা মাসজিদে ইতিকাফ করতে পারবে। যদিও তাদের এই অধিকার আমরা ‛হরণ’ করেছি। এর হিসাব একদিন দিতে হবে!
ফেরেস্তা/ ফেরেস্তারা মানুষের আকৃতি নিতে পারে।
19:17 নং আয়াহ : অতঃপর তিনি পর্দার আড়ালে স্থান গ্ৰহণ করেছিলেন তাদেরকে (পরিবার পরিজনকে) ছেড়ে। অতঃপর আমরা তার কাছে আমাদের রূহ (জিবরীল) কে প্রেরণ করলাম। অতঃপর তিনি তার কাছে পূর্ণ ‛মানুষ রুপে’ প্রকাশিত হল।
# অনেকে বলেন- এখানে পরস্পর বিরোধী তথ্য রয়েছে। কেননা, এখানে বলা হয়েছে যে, জিবরীল (আ) একা এসেছিলেন এবং 3:42 এ বলা হয়েছে যে, ফেরেস্তারা এসেছিলেন। সুতরাং কুরআন মানবরচিত (4:82)। ভাই আসলে- এখানে বলা হয় নি যে, জিবরীল (আ) একা এসেছিলেন। বলা হচ্ছে- আমাদের রূহকে প্রেরণ করলাম। বলা হয় নি যে, তার সঙ্গে অন্য ফেরেস্তারা ছিল না। 3:42 এ বলা হয়েছে যে, তিনি একা নন, তার সঙ্গে অন্য ফেরেস্তারাও ছিল।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল- নাম শুধু নেতারই নাম উল্লেখ করা হয়। যেমন ধরুন, রাহুল গান্ধী আজ লোকসভা নির্বাচনের জন্য নমিনেশন করতে গিয়েছিলেন। লক্ষ্যণীয় বিষয়- তিনি একা যান নি। তবে খবরের হেডলাইন হয়- “রাহুল গান্ধী আজ লোকসভা নির্বাচনের জন্য নমিনেশন করতে গিয়েছিলেন”
জিবরীল (আ) কে দেখে মারইয়াম (আ) যা বললেন।
19:18 নং আয়াহ : (মারইয়াম) বললেন- “নিশ্চয়ই আমি আপনার থেকে আশ্রয় চাইছি রহমান/ দয়াময়ের কাছে। যদি আপনি তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বনকারী হয়ে থাকেন”।
ঈশা (আ) ছিলেন ‛পবিত্র’।
19:19 নং আয়াহ : (জিবরীল) বললেন- “প্রকৃত পক্ষে আমি আপনার প্রতিপালকের প্রেরিত রাসূল/ দূত। যেন আপনাকে প্রদান করি এক ‛পবিত্র’ পুত্র”।
# অনেকে বলেন- এখানে ঈশা (আ) কে ‘পবিত্র’ বলা হয়েছে। আর কুরআনে আল্লাহকেও ‛পবিত্র’ (16:1) বলা হয়েছে। সুতরাং যিশুই আল্লাহ/ ঈশ্বর। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার হল 19:13 তে ইয়াহইয়া (আ) কেও ‛পবিত্র’ বলা হয়েছে। এখন কি হবে??
জিবরীল (আ) কে মারইয়াম (আ) এর প্রশ্ন।
19:20 নং আয়াহ : (মারইয়াম) বললেন- “কিভাবে আমার পুত্র হবে, যখন কোনও মানুষ আমাকে স্পর্শ করে নি?? আর আমি কোনও ব্যাভিচারীনিও নই”।
■ জিবরীল (আ) এর উত্তর ■ ঈশা (আ) হলেন ‛নিদর্শন’।
19:21 নং আয়াহ : (জিবরীল) বললেন- “এভাবেই হবে [3:40, 51:30]। আপনার প্রতিপালক বলেছেন- “তা আমার জন্য সহজ” [19:8, 64:7]। এবং যেন আমরা তাকে মানব জাতির জন্য নিদর্শন ও আমাদের পক্ষ থেকে রহমত হিসাবে পেশ করি। আর এটা (আল্লাহর) সিদ্ধান্তের অন্তর্ভুক্ত, এতে সন্তুষ্ট থাকুন”।
পিতা ও শুক্রাণু ছাড়া ঈশা (আ) কে গর্ভে ধারণ।
19:22 নং আয়াহ : অতঃপর তাকে (ঈশাকে) তিনি গর্ভে ধারণ করলেন [21:91, 66:12]। এবং তা (গর্ভ) সহ তিনি চলে গেলেন দূরবর্তী কোনও স্থানে।
# উপরিউক্ত আয়াত গুলোতে মারইয়াম (আ) প্রসঙ্গে যে ধরণের বক্তব্য রয়েছে, তা বাইবেলেও রয়েছে Luke এর প্রথম অধ্যায়ের 26 থেকে 38 নং Verse এ।
মারইয়াম (আ) এর দুঃচিন্তা ও আফসোস।
19:23 নং আয়াহ : অতঃপর প্রসব বেদনা তাকে নিয়ে এল খেঁজুর গাছের কাছে। বললেন- “হায়, যদি আমি এর পূর্বে মারা যেতাম এবং আমি (মানুষের) স্মৃতি হতে বিলুপ্ত (১) হতাম!!
১) মারইয়াম (আ) মৃত্যু কামনা করছেন না। এই ঘটনার জন্য মানুষজন যে বদনাম করবে, তা ভেবেই তিনি একথা বলছেন।
জিবরীল (আ) মারইয়াম (আ) কে সান্ত্বনা দিচ্ছেন।
19:24 নং আয়াহ : অতঃপর তিনি (জিবরীল) তাকে তার (গাছের) নিচ হতে ডেকে বললেন- “দুঃখ/ চিন্তা করবেন না। অবশ্যই আপনার প্রতিপালক আপনার পায়ের নিচে অস্তিত্বে এনেছেন একটি ছোট জলধারা।
19:25 নং আয়াহ : আর আপনি খেঁজুর গাছের কাণ্ডটা একটু নাঁড়া দিন, তাহলে আপনার উপর ঝরে পড়বে তাজা খেঁজুর।
মারইয়াম (আ) কে কারোর সঙ্গে ‛কথা না বলার’ নির্দেশ।
19:26 নং আয়াহ : অতঃপর খান, পান করুন ও চোখ শীতল করুন। অতঃপর যদি কোনও মানুষ দেখেন, (যে আপনার সঙ্গে এই শিশু/ ঈশা সম্পর্কে কথা বলতে চায়) তাকে ইঙ্গিতে বলুন- “আমি রহমান/ দয়াময়ের জন্য মানত করেছি যা, আজ আমি কোনও মানুষের সঙ্গে কথা বলব না, বরং সাওম/ বিরত থাকব”।
ইহুদীরা মারইয়াম (আ) এর প্রতি অপবাদ দিল।
19:27 নং আয়াহ : অতঃপর যখন তিনি তাকে (ঈশাকে কোলে) বহন করে তার জাতির কাছে আসলেন, তারা বলল- “হে মরইয়াম, তোমার মধ্য থেকে প্রকাশ পেয়েছে নোংরা ও জঘন্য বিষয়।
19:28 নং আয়াহ : হে হারূনের বোন, না তোমার পিতা অসৎ ব্যক্তি ছিল, আর না তোমার মা ব্যাভিচারীনি ছিল” (তাহলে তুমি এমন কাজ [4:56] কিভাবে করলে)??।
# অনেকেই বলেন যে, এখানে তথ্যগত ভুল রয়েছে। মারইয়াম (আ) ও হারূন (আ) এর মধ্যে অনেক লম্বা সময়ের গ্যাপ রয়েছে। তাই মারইয়াম (আ) কিভাবে হারুন (আ) এর বোন হতে পারে?? উত্তর কঠিন নয়। মনে রাখা উচিৎ যে, কুরআন বাংলায় নাযিল হয় নি। নাযিল হয়েছে আরবিতে (12:2)। তাই তার মধ্যে আরবি বচন রীতির ব্যবহার হয়েছে। কুরআনের 22:78 এ ইবরাহীম (আ) আমাদের পিতা বলা হয়েছে। এটা আপনার কাছে তথ্যগত ভুল মনে হচ্ছে না কেন?? তিনি তো আমাদের পিতা নন। এটা আরবি রীতি। যাদের বাড়িঘর নেই, যাদের ঠিকানা রাস্তা, তাদেরকে কুরআনে “রাস্তার পুত্র” বলা হয়েছে। এটা ভুল মনে হচ্ছে না কেন?? রাস্তার কি পুত্র হয়??
এগুলো আরবি বচন রীতি। আবদুর রহমান ইবনে সাখর আদ-দৌসি বেড়ালকে খুবই ভালোবাসতেন এবং সর্বদা বেড়াল নিয়ে ঘুরতেন, এ জন্য নাবী (সা) ‛আবু হুরায়রা’ বলে ডাকতেন। যার অর্থ বেড়ালের পিতা। শুধুমাত্র আরবিতে নয়, এই বচন রীতি আরবি থেকে গোটা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়েছে। তাই গান্ধীজিকে জাতির পিতা বলা হয়, সেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা বলা হয়, মুহাম্মাদ আলি জিন্নাহ কে জাতির পিতা বলা হয়। এগুলো তথ্য গত ভুল মনে হচ্ছে না কেন?? আমরা কি তাদের সন্তান??
ভাই, মস্তিষ্কের ব্যবহার করুন (8:22, 10:100)। প্রশ্ন হবে- মারইয়াম (আ) তো আরবের ছিলেন না! হ্যাঁ, তিনি তৎকালীন সিরিয়ার ছিলেন, বর্তমানের ফিলিস্তিনের ছিলেন। তিনি হিব্রু ভাষায় কথা বলতেন। আর হিব্রু ভাষা আরবির গোত্রীয় ভাষা। ঠিক বললাম কি?? এজন্যই তারা মারইয়াম (আ) এর ক্ষেত্রে তাদের রীতিনীতির জনক হিসাবে হারূন (আ) এর নাম ব্যবহার করেছেন যে, “হে হারূনের বোন”…। প্রশ্ন হবে- তারা হারূনের কন্যা বললেন না কেন?? উত্তরটা সহজ, এর পরক্ষণেই মারইয়াম (আ) এর আসল পিতা মাতা সম্পর্কে কথা বলা হচ্ছে। তাই এখানে তাকে হারূনের কন্যা না বলে, হারূনের বোন বলা হয়েছে। নাবী (সা) কে এই আয়াহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হল, তিনি বললেন- “তারা (বানী ইসরাঈল রা) নাবীদের ও পূণ্যবান মানুষদের সঙ্গে নাম জুড়ে পরিচয় দিতেন” (মুসলিম, হাদীশ 2135)।
মারইয়াম (আ) ঈশা (আ) এর সঙ্গে কথা বলতে বললেন।
19:29 নং আয়াহ : তখন তিনি তার (শিশু ঈশার) সঙ্গে (কথা বলার) ইঙ্গিত করল। তারা বলল- “আমরা কিভাবে তার সঙ্গে কথা বলব, যে এখন কোলের ছোট্ট শিশু”।
শিশু ঈশা (আ) কথা বলা শুরু করলেন।
19:30 নং আয়াহ : (শিশু ঈশা) বললেন- “নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর বান্দা। তিনি আমাকে কিতাব দেবেন ও নাবী বানাবেন।
19:31 নং আয়াহ : আর আমি যেখানেই থাকি না কেন, তিনি আমাকে কল্যাণকর বানিয়েছেন। যতদিন আমি জীবিত থাকি, ততদিন তিনি আমাকে স্বালাত/ আল্লাহর বিধান মেনে চলার ও যাকাত/ বিশুদ্ধতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
ঈশা (আ) মায়ের প্রতি দায়িত্ববান ছিলেন, কঠোর রূঢ় নন।
19:32 নং আয়াহ : এবং আমাকে মায়ের (১) প্রতি দায়িত্ববান বানিয়েছেন। আর আমাকে (মায়ের প্রতি) কঠোর ও লাগামহীন বানান নি (২)।
১) অনেকেই বলেন- ঈশা (আ) এরও পিতা ছিল। অথচ এই আয়াহ সুস্পষ্ট ভাবে বলছে- তিনি শুধুমাত্র তার মায়ের প্রতি দায়িত্ববান। যদি ঈশা (আ) এর পিতা থাকত, তাহলে তিনি 19:15 এর মতো ‛মাতাপিতা’ বলতে পারতেন।
২) “আমাকে কঠোর ও লাগামহীন বানান নি”- এই অংশটি কেন উল্লেখ করা হল?? কারণ, বাইবেলে ঈশা (আ) তার মাকে ‛মা’ বলেন নি। তিনি মাকে বলছেন- “হে নারী” (John, 2:4 ও 19:26)। এ জন্য আল্লাহ এই অংশটি তুলে ধরেছেন। আর এটা বোঝাতে চাইছেন- “বাইবেল বিকৃত”। কেননা, কোনও সুযোগ্য পুত্র কখনও মাকে ‛মা’ না বলে, ‛হে নারী’ বলবেন না।
ঈশা (আ) এর প্রতি বিশেষ ধরণের ‛সালাম’।
19:33 নং আয়াহ : আর (আল্লাহ বলেছেন) আমার প্রতি সালাম, যেদিন আমি জন্মেছি এবং যেদিন মরব এবং যে দিন আমাকে জীবিত করে উঠান হবে [19:15]।
19:34 নং আয়াহ : মারইয়াম পুত্র ঈশার ঐ সমস্ত কথা গুলো সত্য। যে বিষয়ে তারা (১) সন্দেহ করছে।
১) এখানে ‛তারা’ বলতে খৃষ্টানদের কথা বলা হচ্ছে না, বলা হচ্ছে ইয়াহূদীদের কথা। তারা ঈশা (আ) কে মারইয়াম (আ) এর অবৈধ সন্তান এবং তাকে ভন্ড নাবী বলে মনে করে।
হও বললে, হয়ে যায়, সেখানে সন্তান জন্ম দেওয়া বোকামি।
19:35 নং আয়াহ : আল্লাহর কাজ নয় যে, তিনি সন্তান গ্ৰহণ করবেন [19:92]। তিনি পবিত্র। যখন তিনি সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন শুধুমাত্র এই বলে নির্দেশ দেন যে- “হও, আর তা হতে শুরু হয়ে যায়” (2:117]।
‛আল্লাহ’ সম্পর্কে ঈশা (আ) এর সুস্পষ্ট বক্তব্য।
19:36 নং আয়াহ : আর (ঈশা আরও বলে ছিলেন) “নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার প্রভু, তোমাদেরও প্রভু। সুতরাং তারই ইবাদত কর [3:51, 3:79]। এটাই চূড়ান্ত সফলতার পথ” [1:5]।
ইহুদী ও খৃষ্টানরা বিভিন্ন দলে মতে বিভক্ত হয়ে গিয়েছিল।
19:37 নং আয়াহ : অতঃপর তাদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন দল ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মতভেদে [3:103-105] লিপ্ত হল। সুতরাং শাস্তি তাদের জন্য, যারা অস্বীকার করেছে মহাদিবসের সাক্ষাৎ (১)।
১) ইহুদীরা পরকাল/ পরবর্তী জীবন অস্বীকার করে, তাদের তাওরাতে পরবর্তী জীবন সম্পর্কে যা বলা (87:17-19) ছিল, সেই সমস্ত কিছু তারা তাওরাত থেকে বাদ দিয়ে দিয়েছে।
ইহুদী ও খৃষ্টানরা বিচার দিবসে ঈশা (আ) কথা শুনবে, মানবেও।
19:38 নং আয়াহ : (আজ না শুনলেও, না দেখলেও) সেদিন তারা স্পষ্ট ভাবে শুনবে, স্পষ্ট ভাবে দেখবে, যেদিন তারা আমাদের কাছে আসবে [5:116-117]। সীমালঙ্ঘনকারীরা আজ রয়েছে সুস্পষ্ট বিভ্রান্তিতে।
ইহুদী ও খৃষ্টানদেরকে ‛সতর্ক করতে’ বলা হচ্ছে।
19:39 নং আয়াহ : আর আপনি তাদেরকে সতর্ক করে দিন ‛পরিতাপ দিবস’ সম্পর্কে। যখন সমস্ত বিষয়ের মিমাংসা হবে। এজন্য যে, তারা উদাসীন এবং তারা সত্য স্বীকার করছে না।
# এই আয়াহ প্রমাণ করে, নাবী (সা) বিশেষ কোনও জাতি/ সম্প্রদায়ের নাবী নন, তিনি ইহুদী এবং খৃষ্টানদেরও নাবী। এছাড়াও 21:107 অনুযায়ি- নাবী (সা) মহাবিশ্ব গুলোর জন্যেও প্রেরিত নাবী।
বিচার দিবস ‛কবে’ প্রতিষ্ঠিত হবে??
19:40 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই (সবশেষে) আমরাই হব গ্ৰহ গুলোর ওয়ারিশ/ মালিক, আর যা কিছু (১) আছে/ থাকবে তাতে। আর আমাদের দিকেই তাদেরকে ফিরিয়ে [21:104, 69:16-17] আনা হবে [42:29]।
১) যা বলতে?? যেমন, আজ ‛শুক্র গ্ৰহ’ জীবন ধারণের অযোগ্য। আসলে একটা পর্যায়ে পৃথিবীও মানব জাতির চাহিদা মেটাতে মেটাতে জীবন ধারণের অযোগ্য হয়ে যাবে। অন্যান্য সমস্ত গ্ৰহ গুলোরও হবে একই অবস্থা। তখন সেখানে যত মৃত মানব ও জিনের শরীরের পদার্থ থাকবে, তাদের মালিক আল্লাহ তাদেরকে সংকোচনের মাধ্যমে তাদেরকে বিচারের জন্য নিয়ে যাবেন, পুনরুত্থিত করবেন (69:16-17)।
# প্রশ্ন হবে- মানুষ কি বিচার দিবস প্রতিষ্ঠার সময়কে আগে থেকে জানতে পারবে?? হ্যাঁ পারবে, 43:61 দেখে নিন।
19:41 নং আয়াহ : আর কিতাবে ইবরাহীমের বিবরণ পেশ করা হচ্ছে। নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন সত্যবাদী ও নাবী।
মূর্তি সম্পর্কে পিতাকে ইবরাহীম (আ) কঠিন প্রশ্ন করলেন।
19:42 নং আয়াহ : (সুতরাং শুনুন সেই সময়ের কথা) যখন তিনি তার পিতাকে বলেছিলেন- “হে পিতা, কেন ইবাদত/ উপাসনা করছেন তার, যে দেখতে পায় না, শুনতে পায় না এবং আপনার কোনও কাজে লাগে না/ কাজে আসে না [6:74, 37:85]??
ইবরাহীম (আ) তার পিতাকে তার অনুসরী হতে বললেন।
19:43 নং আয়াহ : হে পিতা, নিশ্চয়ই আমার কাছে এসেছে জ্ঞান, যা আপনার কাছে আসে নি। সুতরাং আমার অনুসরণ করুন, আপনি আপনাকে চূড়ান্ত পথ দেখাব।
19:44 নং আয়াহ : হে পিতা, শাইত্বানের উপাসনা করবেন না [22:3, 22:8। নিশ্চয়ই শাইত্বান সীমাহীন দয়ালু (আল্লাহর) হুকুম অস্বীকারকারী [2:34]।
‛পিতা’ সম্পর্কে ইবরাহীম (আ) এর ভয়।
19:45 নং আয়াহ : হে পিতা, নিশ্চয়ই আমি ভয় করছি যে, সীমাহীন দয়ালু (আল্লাহর) শাস্তি আপনাকে স্পর্শ করবে। সুতরাং আপনি শাইত্বানের ওলী (বন্ধু) হবেন না।
ইবরাহীম (আ) কে হত্যার হুমকি সহ ত্যাজ্যপুত্র করা হল।
19:46 নং আয়াহ : (ইবরাহীমের পিতা) বলল- “তুমি কি আমাদের ঈশ্বর/ দেবদেবী গুলো থেকে বিমুখ?? হে ইবরাহীম, যদি তুমি (ইসলাম প্রচার থেকে) বিরত না হও, তাহলে অবশ্যই তোমাকে পাথর মেরে হত্যা করে ফেলব। নয়ত আমাকে ছেড়ে চিরতরে চলে যাও”।
# যখন ইবরাহীম (আ) অগ্নিকুণ্ডে ফেলা হয়েছিল এবং আল্লাহ সুরক্ষিত অবস্থায় উদ্ধার করলেন, তারপর ইবরাহীম (আ) তার পিতার কাছে তথা বাড়িতে গিয়েছিলেন। ইবরাহীম (আ) তার পিতাকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন। মানে, 19:42 থেকে যে বক্তব্য শুরু হয়েছে, তা অগ্নিকুণ্ড থেকে বের হয়ে তার পিতার কাছে যাওয়ার পর।
ইবরাহীম তার ‛অমুসলিম’ পিতাকে সালাম দিলেন।
19:47 নং আয়াহ : (ইবরাহীম) বললেন- “সালামুন আলাইকা/ আপনার উপর শাস্তি বর্ষিত হোক [25:63]। আপনার জন্য ক্ষমা চাইব [9:113-114]। নিশ্চয়ই আমার প্রভু আমার প্রতি দয়াপ্রবন।
# অর্থাৎ অমুসলিমদেরকে সালাম দেওয়া যাবে। যদিও বহু কট্টর মুসলিম হাদীশের (মুসলিম, হাদীশ 2163-2167) দোহাই দিয়ে বলেন যে, “অমুসলিমদের সালাম দেওয়া যাবে না”। কিন্তু এখানে ইবরাহীম (আ) তার অমুসলিম পিতাকে সালাম দিচ্ছেন।
প্রশ্ন হবে- তাহলে ঐ হাদীশ গুলোর কি হবে?? কিছুই হবে না, উক্ত হাদীশের একটা পেক্ষাপট রয়েছে। সেই সময়ের ইহুদীরা মুসলিমদেরকে বলতেন- “আস সামু আলাইকুম” অর্থাৎ ‛তোমাদের মৃত্যু হোক’। তাই তার উত্তরে শুধু “ওয়া আলাইকুম” অর্থাৎ ‛বরং তোমাদের মৃত্যু হোক’ বলতে বলা হয়েছে।
যেহেতু তাদেরকে সালাম দিলে, তারা মুসলিমদেরকে সালামের উত্তর দেওয়ার বদলে বদদুয়া করবে- এই আশঙ্কা ছিল, সেহেতু তাদেরকে প্রথমে সালাম দিতে নিষেধ করা হয়েছে। চাইলে হাদীশ গুলো গিয়ে দেখে আসুন এবং আমার কথা মিলিয়ে নিন।
তবে যদি কোনও অমুসলিম বলে- “আস সালামু আলাইকুম” অর্থাৎ তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক। অবশ্যই তার উত্তর দেওয়া যাবে/ দিতে হবে যে, “ওয়া আলাইকুমুস সালাম” অর্থাৎ ‛তোমাদের উপরও শান্তি বর্ষিত হোক’।
পরিস্থিতি অনুকূল না হলে ‛হিজরতই’ বিকল্প।
19:48 নং আয়াহ : আর আমি আপনাদেরকে এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে [46:5] ডাকেন, তাদেরকে ত্যাগ (১) করছি। আমি আমার প্রতিপালককে ডাকব, আশা করছি যে, আমি আমার প্রতিপালককে ডেকে ব্যর্থ [19:4] হব না [14:39-40]।
১) এটা হিজরত। আজও যদি ইসলাম পালনের বিপরীত পরিবেশ পরিস্থিতি থাকে, তাদের ত্যাগ/ হিজরত করতে হবে। হোসেন কুরানীও নিজ গ্ৰাম, বন্ধুবান্ধব সহ আত্মীয় স্বজন ত্যাগ করে অন্যত্রে বসবাস করছেন। আসলে মুসলিম সমাজ গোঁড়ামি ও কুসংস্কারে ভরে গিয়েছে। যা হোসেন কুরানী সহ্য করতে পারছিলেন না। এখন মুসলিম সমাজে ‛আসল ইসলাম’ পালন করা খুবই কঠিন।
হিজরত সর্বদা সুফল/ কল্যাণ বয়ে আনে।
19:49 নং আয়াহ : অতঃপর যখন তিনি তাদেরকে এবং তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদের উপাসনা করত, তাদেরকে ত্যাগ করলেন, তখন আমরা তাকে দান করলাম ইসহাক ও ইয়াকূব। আর প্রত্যেককে বানালাম নাবী [11:71, 21:72, 29:27]।
# হিজরত কল্যাণ বয়ে আনে, এই মর্মে কথা বলা হয়েছে 4:100 তেও। হোসেন কুরানী পেয়েছেন প্রাচুর্য, হোসেন কুরানীকে আল্লাহ অঢেল ধনসম্পদ দিয়েছেন। এজন্য হোসেন কুরানী সর্বদা বলেন- “যে হিজরত করে নি, সে আল্লাহর দয়া দেখতে পায় নি”।
19:50 নং আয়াহ : আর আমরা তাদেরকে আমাদের পক্ষ থেকে আমাদের রহমত/ অনুগ্রহ দান করলাম। এবং আমরা তাদের সত্যবাদীতার জন্য ভাষা সমূহে সুখ্যাতি সহ সমুচ্চ মর্যাদা দান করলাম।
মূসা (আ) ছিলেন একনিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, ছিলেন রাসূল ও নাবী।
19:51 নং আয়াহ : আর কিতাবে মূসার বিবরণ পেশ করা হচ্ছে। নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন বিশুদ্ধ/ একনিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, ছিলেন রাসূল ও নাবী।
আল্লাহ মূসা (আ) কে ডাকলেন।
19:52 নং আয়াহ : আমরা তাকে তূরের ডানদিক থেকে ডেকে ছিলাম [20:11-24]। তাকে আমরা কাছে টেনে নিয়েছিলাম অন্তরঙ্গ আলাপের জন্য।
মূসা (আ) এর অনুরোধে হারূন (আ) নাবী হলেন।
19:53 নং আয়াহ : আমরা আমাদের পক্ষ থেকে রহমত/ দয়া স্বরূপ তার ভাই হারূনকে নাবী [20:29-36] বানিয়ে দিলাম।
ইসমাঈল (আ) ছিলেন সত্যবাদী, রাসূল ও নাবী।
19:54 নং আয়াহ : আর কিতাবে ইসমাঈলের বিবরণ পেশ করা হচ্ছে। নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন ওয়াদা পালনে সত্যবাদী, রাসূল ও নাবী [37:101-107]।
ইসমাঈল (আ) এর নির্দেশ দিতেন নামাজ ও যাকাতের।
19:55 নং আয়াহ : এবং তিনি তার পরিবারকে নির্দেশ দিতেন স্বালাত/ নামাজের ও যাকাত/ ট্যাক্স আদায়ের। তিনি ছিলেন তার রব/ প্রতিপালকের সন্তুষ্টিরর পাত্র।
# ইসলামী রাষ্ট্রের ভিত্তি হল- ওহী। আর তা নামাজে প্রতিদিন কমপক্ষে 5 বার শোনান হয়, যা দ্বারা রাষ্ট্রের ভিত মজবুত হয়। আর দ্বিতীয় হল- যাকাত বা ট্যাক্স, যা দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালিত হয়। এই দুই বিষয় ছাড়া ইসলামী রাষ্ট্রের কল্পনা অসম্ভব।
ইদরীস (আ) এর মর্যাদা।
19:56 নং আয়াহ : আর কিতাবে ইদরীসের বিবরণ পেশ করা হচ্ছে [21:85]। নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন সত্যবাদী ও নাবী।
19:57 নং আয়াহ : এবং আমরা তাকে অনেক উঁচুতে তুলে উচ্চতায় স্থান দিয়েছি।
নাবী ও রাসূলদের স্বভাব কেমন ছিল??
19:58 নং আয়াহ : ওরাই তারা, যাদের উপর আল্লাহ আদম বংশধরদের মধ্যে নাবী হিসাবে নিয়ামত/ অনুগ্রহ দান করেছিলেন। যাদেরকে আমরা নূহের সঙ্গে আরোহণ করিয়ে ছিলাম। ইবরাহীমের ও ইসরাঈল বংশের মধ্যে যাদেরকে পথ দেখিয়েছিলাম এবং মনোনীত করেছিলাম। যখন তাদের কাছে দয়াময়ের আয়াত সমূহ পাঠ করা হোত, তখন তারা সিজদায় লুটিয়ে পড়ত এবং কেঁলে ফেলত [32:15, 17:107-109]।
❤️ সিজদাহর আয়াহ ❤️
নামাজ ত্যাগ কারীর পরিণতি ধ্বংস, জাহান্নাম।
19:59 নং আয়াহ : অতঃপর তাদের পর তাদের পরবর্তীরা তাদের স্থলে এল এবং স্বালাত/ নামাজ ত্যাগ করল (১)। আর অনুসরণ শুরু করল নিজেদের মাথায় যা আসে, তা। সুতরাং শীঘ্রই তারা তাদের ধ্বংস দেখবে।
১) নামাজ ত্যাগ বা বর্জন, এটা সাধারণ অবস্থা। তবে যদি কেউ নামাজ অস্বীকার করে এবং অস্বীকার করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করল, তাহলে নিঃসন্দেহে সে কাফির (আবুদাউদ, হাদীশ 4678)।
তওবা ছাড়া নামাজ ত্যাগ কারীর ইমান ও আমল নষ্ট।
19:60 নং আয়াহ : তবে তারা নয়, যারা (নামাজ ত্যাগ থেকে) তাওবা করে, ইমান আনে ও সৎকর্ম করে। তবেই তারা প্রবেশ করবে জান্নাতে। তাদের প্রতি কোনও ধরণের অন্যায় অবিচার করা হবে না।
19:61 নং আয়াহ : সুদীর্ঘ কালের জান্নাত। সীমাহীন দয়ালু (আল্লাহ) তার বান্দাদেরকে যার ওয়াদা করেছেন অদৃশ্য (জিবরীলের) মাধ্যমে। নিশ্চয়ই তিনি যে ওয়াদা করেন, তা পূর্ণ হবেই [3:9]।
জান্নাতেও দিন ও রাত, সকাল ও সন্ধ্যা ঘটবে।
19:62 নং আয়াহ : সেখানে তারা সালাম (শান্তি পূর্ণ কথাবার্তা) ছাড়া শুনতে পাবে না কোনও ফালতু কথাবার্তা। আর তাদের জন্য ‛সকাল ও সন্ধ্যায়’ থাকবে রিজিক।
# জান্নাতেও কি সকাল ও সন্ধ্যা, রাত ও দিন হবে?? হ্যাঁ, হবে। কারণ, জান্নাত আমাদের মহাবিশ্বের মতোই ভিন্ন মহাবিশ্ব বা আমাদের বিপরীত মহাবিশ্ব। সেখানেও সৌরজগতের মতো নক্ষত্র ও তার গ্ৰহ জগৎ থাকবে। দেখুন 39:74 আয়াহ।
জাহান্নামীকে ‛জান্নাত’ দেখিয়ে যা বলা হবে।
19:63 নং আয়াহ : (জাহান্নামীদেরকে দেখিয়ে বলা হবে) ওটাই সেই জান্নাত [81:13], যার ওয়ারিশ হবে আমাদের তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বনকারী বান্দারা।
নাবী (সা) জিবরীল (আ) এর জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
19:64 নং আয়াহ : (হে জিবরীল বলে দিন) “আমরা আপনার প্রতিপালকের নির্দেশ [6:61, 66:6] ছাড়া আসতে পারি না (১)। সবই তার (আল্লাহর), আমাদের হাতের সামনে যা আছে, আমাদের পিছনে যা আছে, তার মাঝে যা আছে। আর আপনার প্রতিপালক কোনও কিছুই ভুলে [20:52] যান না।
১) একবার নাবী (সা) খুব পেরেশানির মধ্যে ছিলেন, সেই নাবী (সা) জিবরীল (আ) এর থেকে সান্ত্বনা পেতে চাইছিলেন। তারপর জিবরীল (আ) আসতে, তাকে জিজ্ঞাসা করলেন- “আপনি আমার কাছে অধিক হারে আসতে পারেন না?? কোন বিষয়টি আপনাকে আসতে বাধা দেয়”?? তখন জিবরীল যা বলেছিলেন, তা আল্লাহ আয়াহ হিসাবে নাযিল করেন (বুখারী, হাদীশ 4731)।
আল্লাহর মতো গুন ও বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন কেউ নেই।
19:65 নং আয়াহ : তিনি মহাবিশ্বের রব/ মালিক এবং যা কিছু আছে মহাবিশ্বে, তারও। সুতরাং তারই ইবাদত করুন। আর ইবাদতে ধৈর্য্য ধারণ করুন। আপনি কি তার মতো [16:74] গুণ ও বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন [42:11] কাউকে জানেন [112:4]”??
পুনরুত্থান সম্পর্কে মানুষের প্রশ্ন।
19:66 নং আয়াহ : আর মানুষ কি বলে- “যখন আমি মরে যাব, তখন কি আবার আমাকে [84:1-4] বের করে জীবিত [36:77-79] করা [37:16-18, 17:50-51] হবে??
আল্লাহর বাস্তব সম্মত জবাব।
19:67 নং আয়াহ : মানুষ কি ভাবে না যে, ইতিপূর্বে আমরা তাকে সৃষ্টি করেছি, যখন সে গুরুত্বপূর্ণ [76:1-2] কিছুই ছিল না??
মানুষ ও জিনদের ‛একত্রিত পৃণ্ডে’ একত্রিত করা হবে।
19:68 নং আয়াহ : সুতরাং আপনার রব/ প্রতিপালকের শপথ, অবশ্যই আমরা তাদেরকে একত্রিত করব এবং শাইত্বানদেরও [69:16-17]। তারপর আমরা তাদেরকে (একত্রিত পৃণ্ডের) কেন্দ্রের (১) চারিদিকে নতজানু অবস্থায় হাজির করব।
১) এখানে আরবি শব্দ জাহান্নাম। জাহান্নাম অর্থ গর্ত বা কেন্দ্রও হয়। প্রশ্ন হবে- কোন কেন্দ্রের চারিদিকে?? মহাবিশ্ব সংকোচিত হবে, মহাবিশ্বের গ্যালাক্সি গুলো মহাবিশ্বের কেন্দ্রে একত্রিত হবে। সমস্ত গ্যালাক্সি গুলো মহাবিশ্বের কেন্দ্রে একত্রিত হয়ে ‛একত্রিত পৃণ্ড’ গঠন করবে, 19:71 দেখুন। পরবর্তীতে 69:16-17 দেখুন।
নাবীদের উম্মাত থেকে ‛সবচেয়ে অবাধ্য’কে আলাদা করা হবে।
19:69 নং আয়াহ : তারপর অবশ্যই আমরা প্রত্যেক দল (১) হতে ছেঁটে বের করব- তাদের মধ্যে সীমাহীন দয়ালু (আল্লাহর) সবচেয়ে বেশি অবাধ্য কে ছিল।
১) দল বলতে?? এখানে আরবি শব্দ ‛শীয়া’। প্রত্যেক নাবী রাসূলের সঙ্গে তাদের উম্মাতরা থাকবে। প্রত্যেক নাবী রাসূলের উম্মাতকে এখানে শীয়া/ দল বলা হয়েছে। আর শীয়া শব্দের অর্থই- ‛দল’। এই প্রসঙ্গে একটি হাদীশ রয়েছে- “কোনও কোনও নাবী রাসূলের উম্মাত হবে 2-4 জন, কোনও কোনও নাবী রাসূল উম্মাতহীন” (মুসলিম, হাদীশ 220/1)।
19:70 নং আয়াহ : তারপর আমরা ভাল জানি- তাদের মধ্যে যারা তাতে (জাহান্নামে) প্রবেশের যথাযোগ্য।
সবাইকে ‛একত্রিত পৃণ্ড’ অতিক্রম করতেই হবে।
19:71 নং আয়াহ : আর তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই, যে তা (একত্রিত পৃণ্ড) অতিক্রম করবে না [69:16-17]। তা আপনার রব/ প্রতিপালকের অনিবার্য সিদ্ধান্ত।
একত্রিত পৃণ্ড থেকে তাকওয়াধারীদের উদ্ধার করা হবে।
19:72 নং আয়াহ : তারপর আমরা তাদেরকে [50:31] উদ্ধার করব, যারা ছিল তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বনকারী [26:90, 81:13]। আর উগ্ৰদের তাতেই (একত্রিত পৃণ্ডতেই) নতজানু অবস্থায় রেখে [69:16-17] দেব।
কাফিরদের প্রশ্ন, খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
19:73 নং আয়াহ : আর যখন তাদের আমাদের সুস্পষ্ট/ প্রমাণিত আয়াত সমূহ পাঠ করা হয়, তখন কাফির/ সত্য অস্বীকারকারীরা মূমীন/ সত্য স্বীকারকারীদেরকে বলে- “দুই দলের (১) মধ্যে কোনটি উত্তম, সামাজিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত” [28:85]??
১) দুই দল! দুই দল বলতে?? মূমীন ও কাফির (64:2)। অর্থাৎ তারা বলতে চায়- “আমাদের ও তোমাদের মধ্যে কারা উত্তম এবং কারা সামাজিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত?? মানে, তারা বলতে চাইছেন- “আমরা উত্তম ও সামাজিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত”। ইসলাম মেনে তোমাদের কি লাভ হল??
# আজও বহু অমুসলিম, নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষীরা বলে থাকেন- “ইসলাম মেনে তোমাদের কি লাভ হল?? অথচ আমরা ইসলাম না মেনেও উত্তম ও সামাজি ভাবে প্রতিষ্ঠিত।
■ আল্লাহর জবাব ■ ইতিপূর্বে উন্নত সভ্যতা ছিল।
19:74 নং আয়াহ : অথচ আমরা তাদের পূর্বে কতশত উন্নত [30:9] মানব সভ্যতা [32:26] ধ্বংস করেছি, যারা ছিল তাদের (মাক্কাবাসীদের) চেয়ে সাজ সরঞ্জাম ও বাহ্যিক দৃষ্টিতে শ্রেষ্ঠ।
আল্লাহ বিভ্রান্তকেও নিদিষ্ট সময় পর্যন্ত অবকাশ দেন।
19:75 নং আয়াহ : বলুন- যে বিভ্রান্তিতে রয়েছে, সীমাহীন দয়ালু (আল্লাহ) তাকে অবকাশ দেবেন [3:178, 15:4, 63:10], যতক্ষণ না পর্যন্ত তারা তা দেখবে, যা তাদের ওয়াদা করা হয়েছে। হয় শাস্তি, নয়ত সেই মূহুর্ত (কিয়ামত)। শীঘ্রই তারা জানতে [28:85] পারবে- কে মর্যাদায় নিকৃষ্ট, কে জনবলে [94:4, 28:85] দুর্বল!
স্থায়ী সৎকর্ম করার জন্য উৎসাহ।
19:76 নং আয়াহ : যারা সঠিক পথে চলে, আল্লাহ তাদের সঠিক পথে চলার ক্ষমতা বৃদ্ধি করেন [47:17]। স্থায়ী সৎকর্ম সমূহ আপনার প্রতিপালকের কাছে শাওয়াব/ প্রতিদান প্রাপ্তির জন্য উত্তম [18:46] এবং প্রত্যাবর্তনের জন্যেও উত্তম।
# আমরা অনেক ক্ষেত্রেই আবেগের বশে সৎকর্ম করি, করতে চাই। কিন্তু আল্লাহ এমন সৎকর্ম করতে উৎসাহ দিচ্ছেন, যা ছোট্ট হলেও নিয়মিত হতে পারে। এতে ছোট্ট ছোট্ট সৎকর্ম অনেক বড় হয়ে যাবে। আর বড় সৎকর্ম একবার আবেগে করে ফেললেও, তা হয়ত জীবনে মাত্র একবারই সম্ভব হবে।
মাক্কাহর একজন মুশরিক ইসলামকে ব্যঙ্গ করল।
19:77 নং আয়াহ : আপনি কি তাকে দেখেছেন, যে আমাদের আয়াত সমূহকে অস্বীকার করেছে?? সে বলে- “অবশ্যই আমাকে (মৃত্যুর পর) ধনসম্পদ ও সন্তান সন্ততি দেওয়া হবে (১)”।
১) উক্ত আয়াহ আস ইবনে ওয়াইল সম্পর্কে নাযিল হয়। “অবশ্যই আমাকে (মৃত্যুর পর) ধনসম্পদ ও সন্তান সন্ততি* দেওয়া হবে”- এ কথা সে ব্যঙ্গ করে বলেছিল। প্রসঙ্গটি রয়েছে বুখারীতে। বলা হচ্ছে- “খাব্বাব (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন : জাহিলীয়াতের যুগে আমি কর্মকারের পেশায় ছিলাম। ‛আস ইবনু ওয়াইলে’র কাছে কিছু পাওনা ছিল। আমি তার কাছে তাগাদা করতে গেলে সে বলল : যতক্ষণ তুমি মুহাম্মাদ কে অস্বীকার না করবে ততক্ষণ আমি তোমাকে তোমার পাওনা দিব না। আমি বললাম : আল্লাহ তোমাকে মৃত্যু দিয়ে তারপর তোমাকে পুনরুত্থিত করা পর্যন্ত আমি তাঁকে অস্বীকার করব না”। সে বলল : আমি মরে পুনরুত্থিত হওয়া পর্যন্ত আমাকে অব্যাহতি দাও। শীঘ্রই আমাকে সম্পদ ও সন্তান দেয়া হবে, তখন আমি তোমার পাওনা পরিশোধ করব”(বুখারী, হাদীশ 2091)। বলে রাখি- আস ইবনে ওয়াইল মাক্কাহর মুশরিক নেতাদের অন্যতম।
আল্লাহ প্রশ্ন করার মাধ্যমে তাকে জবাব দিলেন।
19:78 নং আয়াহ : সে কি গায়েবের [72:26-27] জ্ঞান রাখে?? নাকি সে সীমাহীন দয়ালু (আল্লাহর) থেকে ওয়াদা নিয়েছে (যে তাকে মৃত্যুর পর ধনসম্পদ ও সন্তান সন্ততি দেওয়া হবে)??
19:79 নং আয়াহ : কখনও নয়। সে যা বলেছে, আমরা তা [50:16-18] লিখে রাখছি [82:10-12]। আর আমরা তার শাস্তি বৃদ্ধি করতেই [16:88] থাকব [4:56]।
19:80 নং আয়াহ : সে যা (১) বলছে, তার অধিকারী আমরা। সে আমাদের কাছে আসবে একা [19:95, 26:88]।
১) অর্থাৎ গায়েবের জ্ঞান ‛তার’ নেই। ঐ জ্ঞান আছে আল্লাহর কাছে। যা তিনি, তার মনোনীত রাসূলদের জানিয়ে থাকেন।
মানুষ কেন ‛মিথ্যা ঈশ্বর’ গ্ৰহণ করে??”
19:81 নং আয়াহ : আর তারা আল্লাহ কে বাদ দিয়ে গ্ৰহণ করেছে (মানব রুপি) ঈশ্বর [34:22] সমূহ। যেন তারা তাদের সাহায্যকারী হয়।
বিচার দিবসে মানুষের তৈরি ঈশ্বর গুলো যা করবে।
19:82 নং আয়াহ : কখনও নয়। শীঘ্রই তারা তাদের ইবাদত অস্বীকার করবে [25:17-18]। আর তারা হবে তাদের দাবির [16:86] বিরোধী [46:6]।
# মিথ্যা ঈশ্বর বলতে?? ঈশা (আ) এর মতো। যারা নিজেকে/ নিজেদেরকে কখনও ‛ঈশ্বর’ বলে দাবি করেন নি। তার অনুসারীরা তাকে ঈশ্বর বানিয়ে ফেলেছে। দেখুন 3:79-80, 5:116-117 আয়াত।
কাদের প্রতি শাইত্বানদের ‛প্রেরণ’ করা হয়??
19:83 নং আয়াহ : আপনি কি লক্ষ্য/ বিবেচনা করেন নি যে, আমরা শাইত্বানদেরকে সত্য অস্বীকারকারীদের প্রতি প্রেরণ [43:36, 7:27] করি, যেন তারা তাদেরকে উদ্ধুদ্ধ করে [14:22, 50:27]।
ইসলাম বিরোধীদের জন্য তাড়াহুড়ো না করা।
19:84 নং আয়াহ : সুতরাং আপনি তাদের ব্যাপারে তাড়াহুড়ো [15:4, 19:75] করবেন না। মূলত আমরা তাদের জন্য (অবকাশ) কাল গণনা [15:5, 63:11] করে রেখেছি।
মুত্তাকীদের পরিণতি, তারা হবেন আল্লাহর অতিথি।
19:85 নং আয়াহ : সেদিন আমরা মুত্তাকী (অপকর্ম থেকে দূরত্ব অবলম্বনকারী) দেরকে সীমাহীন দয়ালু (আল্লাহর) কাছে অতিথি হিসাবে একত্রিত [69:16] করব।
অপরাধীদের পরিণতি।
19:86 নং আয়াহ : আর অপরাধীদের জাহান্নামের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাব তৃষ্ণার্ত [50:24-26] অবস্থায়।
বিচার দিবসে শাফায়াত গ্ৰহণ করা হবে।
19:87 নং আয়াহ : তারা (কেউই) শাফায়াত [34:22] করতে সক্ষম হবে না। তবে যে/ যিনি সীমাহীন দয়ালু (আল্লাহর) থেকে ওয়াদা পেয়েছেন (১), তার ব্যাপারটা ভিন্ন [20:109, 21:28, 34:23]।
১) আর নাবী (সা) আল্লাহর থেকে এই ওয়াদা পেয়েছেন। যদিও হাদীশ অস্বীকারকারীগণ নাবী (সা) এর শাফায়াত অস্বীকার করেন। এই আয়াহতে আল্লাহ তাদেরকে জবাব দিয়ে রেখেছেন। বিচার শুরুর জন্য নাবী (সা) শাফায়াত করবেন (বুখারী, হাদীশ 4712)। পরে সাধারণ মূমীন এবং মুসলীমও শাফায়াত করবেন (মুসলীম, হাদীশ 183)।
এখন তারা বলতে পারেন- “হাদীশের দলিল গ্ৰহণযোগ্য নয়”। কুরআন মানবেন তো! ছোট একটা কাজ করুন, 43:86 তে যান। বলা হচ্ছে- সাধারণ মূমীন মুসলিমও শাফায়াত করতে পারবেন। সাধারণ মূমীন মুসলিমও শাফায়াত করতে পারলে, নাবী রাসূলগণ পারবেন না?? বোকা!
আল্লাহর প্রতি ‛সন্তান’ আরোপ কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে??
19:88 নং আয়াহ : আর তারা বলে- “দয়াময় সন্তান/ পুত্র গ্ৰহণ করেছেন” [37:152-154]।
19:89 নং আয়াহ : অবশ্যই তোমরা জোগাড় করেছ নোংরা/ জঘন্য কথা।
19:90 নং আয়াহ : এ কারণে গ্যালাক্সি গুলো কক্ষচ্যুত হয়ে যাওয়ার, পৃথিবী দু ভাগে বিভক্ত এবং ঘূর্ণন থেমে যাওয়ার এবং পাহাড় পর্বত সমূহ চূর্ণবিচূর্ণ হওয়ার উপক্রম হয়।
‛সন্তান’ গ্ৰহণ আল্লাহর জন্য শোভনীয় নয়।
19:91 নং আয়াহ : তারা দয়াময়ের জন্য সন্তান/ পুত্র [6:101, 72:3] দাবি করছে [39:4]।
19:92 নং আয়াহ : আর তা সীমাহীন দয়ালু (আল্লাহর) জন্য শোভনীয় নয় যে, তিনি সন্তান/ পুত্র গ্ৰহণ [19:35] করবেন [2:116-117]।
মহাবিশ্বের সমস্ত কিছুই আল্লাহর ‛বান্দা’।
19:93 নং আয়াহ : যত কিছু রয়েছে মহাবিশ্বে কোনও কিছুই তার ‛বান্দা’ ছাড়া ভিন্ন পরিচয়ে উপস্থিত হবে না।
19:94 নং আয়াহ: অবশ্যই তিনি (আল্লাহ) তাদেরকে ঘিরে [85:20, 6:80] রেখেছেন [20:110, 40:7], তাদের সংখ্যাও গণনা করে রেখেছেন।
বিচার দিবসে সবাই ‛একাকী’ উপস্থিত হবে।
19:95 নং আয়াহ : আর তারা সবাই তার কাছে (১) কিয়ামতের দিনে উপস্থিত হবে একাকী [19:80, 26:88]।
১) আজ হয়ত তারা ‛দলবল’ নিয়ে যাতায়াত করে, কিন্তু বিচারে একা উপস্থিত হতে পারে। অর্থাৎ দলবলের দম ইহজীবনে থাকলেও, তা মূল্যহীন।
সাহাবা (রা) দের জন্য ‛বিশেষ’ ভবিষ্যৎ বাণী।
19:96 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই যারা সত্য স্বীকার করেছে এবং সৎকর্ম করছে, শীঘ্রই আল্লাহ (মানুষের মনে) তাদের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি (১) করে দেবেন।
১) অর্থাৎ আজ যাদেরকে (সাহাবাগণকে) মক্কার ওলিতে গলিতে যাদেরকে অপমান করা হচ্ছে, গালাগালি করা হচ্ছে, শীঘ্রই অবস্থার পরিবর্তন হবে। আর হয়েছিল ঠিক তাই। আজ মানুষ তাদেরকে গালাগালি করা তো দূরের কথা, তাদের নাম উচ্চারণ হলে দুয়া করে।
কুরআনের অন্যতম কাজ সুসংবাদ দেওয়া, সতর্ক করা।
19:97 নং আয়াহ : মূলত আমরা তা (কুরআন) সহজ করে দিয়েছি [54:17) আপনার ভাষায় [12:2]। যেন আপনি তা দিয়ে মুত্তাকী (অপকর্ম থেকে দূরত্ব অবলম্বনকারী) দের সুসংবাদ দিতে পারেন। আর আপনি তা দিয়ে এমন সম্প্রদায়কে সতর্ক [88:21] করতে পারেন, যারা তর্কাতর্কি করে।
মাক্কাবাসীদের ‛সুন্দর কায়দায়’ সতর্ক করা হল।
19:98 নং আয়াহ : এবং আমরা তাদের পূর্বে কত শত মানব সভ্যতা ধ্বংস করে দিয়েছি [19:74, 32:26]। আপনি কি তাদের মধ্যেকার কাউকে ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভব করতে পারেন?? অথবা শুনতে পান তাদের কোনও ক্ষীণ (১) শব্দও!
১) একথা বলার অর্থ হল- মক্কার মানুষজন যে আজ এত চেল্লাচিল্লি করে, ধ্বংস হওয়ার পর তাদের ক্ষীণ শব্দও শুনতে পাওয়া যাবে না।
khvzgoipzwmkwsfsymnsffojioexvv