বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাদীনাহ, আয়াত : 18 টি।
মহাবিশ্ব আল্লাহর আইন দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে।
64:1 নং আয়াহ : মহাবিশ্বে যা কিছু রয়েছে, সেই সমস্ত কিছুই তার পবিত্রতা ঘোষণা করছে। মহাবিশ্বে তারই শাসনে/ আইনে পরিচালিত [7:54] হচ্ছে, (এ জন্য) সমস্ত প্রশংসা তারই জন্য [1:1]। আর তিনি সমস্ত কিছুর উপর কাদীর/ ক্ষমতাবান।
কাফির বা মূমীন হওয়ার স্বাধীনতা।
64:2 নং আয়াহ : তিনিই (আল্লাহ), যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তোমাদের মধ্যে কেউ হবে কাফির/ সত্য অস্বীকারকারী [18:29] ও কেউ হবে মূমীন/ সত্য স্বীকারকারী [76:3]। আর তোমরা যে সমস্ত কর্ম করছো, সেই সমস্ত কিছুই আল্লাহ দেখছেন।
মানুষের আকৃতি মহাবিশ্বের উপর নির্ভরশীল।
64:3 নং আয়াহ : তিনিই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন সুক্ষ্মাতি সুক্ষ্ম অনুপাত (১) বজায় রেখে। তিনি (মহাবিশ্বের নিয়ম (২) মুতাবিক) তোমাদেরকে আকার আকৃতি দিয়েছেন, অতঃপর তিনি তোমাদের আহসানা সূরত/ উত্তম বৈশিষ্ট্য [40:64] দিয়েছেন [82:8]। আর (মহাবিশ্বের নিয়ম মুতাবিক) তোমাদেরকে তারই নিকট ফিরে [69:16-17, 84:1-5] যেতে হবে।
১) সুক্ষ্ম অনুপাত বলতে কি?? হাইড্রোজেন ও হেলিয়ামের সুক্ষ্ম অনুপাতের কথা বলা হচ্ছে।
২) এর অর্থ কি?? উদাহরণ দিই?? ধরুন- আমার উচ্চতা 6 ফুট। যদিও সত্যিই হোসেন কুরানীর উচ্চতা 6 ফুট। যদি চাঁদে বায়ুমণ্ডল থাকত এবং আমার জন্ম চাঁদে হোত, তাহলে কি আমার উচ্চতা 6 ফুট হোত?? মোটেও নয়। সেখানে আমার উচ্চতা হোত 36 ফুট।
কিভাবে?? পৃথিবীর অভিকর্ষ বল চাঁদের তুলনায় 6 গুণ বেশি। তারমানে- পৃথিবী আমাকে চাঁদের তুলনায় 6 গুণ বেশি অভিকর্ষ বল দ্বারা নিজের দিকে টানছে?? ঠিক বলছি তো?? পৃথিবী আমাকে চাঁদের তুলনায় 6 গুণ বেশি অভিকর্ষ বল দ্বারা নিজের দিকে টানা সত্ত্বেও আমার উচ্চতা 6 ফুট।
তাহলে চাঁদ আমাকে পৃথিবীর তুলনায় 6 গুণ কম অভিকর্ষ বল দ্বারা নিজের দিকে টানবে। তাই তো?? তাহলে তখন আমার উচ্চতা কত হোত?? নিশ্চয়ই পৃথিবীর তুলনায় 6 গুণ?? হ্যাঁ, তখন আমার উচ্চতা হোত 36 ফুট। ব্যাখ্যাটা বুঝতে অসুবিধা হলে শুরু থেকে আরও একবার পড়ুন, তারপর শান্ত হয়ে বোঝার চেষ্টা করুন।
আল্লাহ মহাবিশ্বের সমস্ত কিছুই জানেন।
64:4 নং আয়াহ : আল্লাহ জানেন- যা কিছু মহাবিশ্বে ও পৃথিবীতে [10:18, 49:18]। তাও জানেন- তোমরা গোপনে যা/ যা কিছু করো, আর যা/ যা কিছু প্রকাশ্যে। আর তোমাদের মস্তিষ্ক সমূহের অবস্থাও ভাল জানেন।
সত্য অস্বীকার করার পরিণতি আমরা জানি।
64:5 নং আয়াহ : ইতিপূর্বে যারা সত্য অস্বীকার করেছে, তাদের সংবাদ কি তোমাদের নিকট আসে নি?? অতঃপর তারা তাদের কর্মের কুফলের স্বাদ গ্ৰহণ করেছে। আর তাদের জন্য (পরবর্তী জীবনে) থাকবে কঠিন শাস্তি।
আল্লাহ আমাদের ইবাদাতের উপর নির্ভরশীল নন।
64:6 নং আয়াহ : ওটা (শাস্তি) এজন্য যে, যখনই তাদের কাছে রাসুলরা আসতো সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে, তখন তারা বলতো- “মানুষই কি আমাদেরকে পথ দেখাবে” [17:95]?? এভাবে তারা সত্য অস্বীকার করলো ও মুখ ফিরিয়ে নিল। (তবে কে ইমান আনলো, কে আনলো না) সে বিষয়ে আল্লাহ বে-পরোয়া [14:8]। তিনি বে-পরোয়া ও প্রশংসিত।
পুনরুত্থান করা খুবই করা খুবই সহজ।
64:7 নং আয়াহ : যারা সত্য অস্বীকার করে, তারা দাবি করে যে, “তারা কখনও পুনরুত্থিত হবে না”। বলুন- “হ্যাঁ, আমার প্রভুর শপথ, তোমরা অবশ্যই পুনরুত্থিত হবে”। তারপর তোমাদেরকে জানানো হবে- যে সমস্ত কর্ম তোমরা করেছো। ওটা (পুনরুত্থিত করা) আল্লাহর কাছে অতি সহজ [69:16-17, 84:1-5] ব্যাপার [30:25]।
কুরআনও নূর।
64:8 নং আয়াহ : সুতরাং স্বীকার করো আল্লাহকে, তার রাসূলকে এবং যে নূর (কুরআন) আমরা নাযিল করেছি, তার উপর। আর তোমরা যে সমস্ত কর্ম করছো, আল্লাহ সেই সমস্ত বিষয়ের জ্ঞান রাখেন।
বিচার দিবস মূলতঃ সফলতা ও বিফলতার।
64:9 নং আয়াহ : সেদিন তোমাদেরকে একত্রিত করবেন, যে দিন হবে একত্রিত [11:103, 56:49-50, 69:16-17] করার। সে দিনটি হবে সফলতা ও বিফলতার। যে সত্য স্বীকার করে এবং সৎকর্ম করে, তার গুনাহ গুলো মিটিয়ে [11:114, 25:70] দেবেন। তাকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে, যাতে নিয়ন্ত্রিত ভাবে প্রবাহিত হতে থাকবে নদনদী সমূহ। সেখানে তারা অনন্তকাল থাকবে। ওটাই মহা সাফল্য।
ইসলাম অস্বীকার ও কুরআন নিয়ে মিথ্যাচারের পরিণতি।
64:10 নং আয়াহ : আর সত্য (ইসলাম) অস্বীকার করে ও আমাদের আয়াত সমূহ নিয়ে মিথ্যাচার করে, তারাই আগুনের অধিবাসী। তারা তার মধ্যে থাকবে অনন্তকাল। আর তা ফিরে আসার জন্য খুবই নিকৃষ্টতম [98:6] স্থান।
আল্লাহ কাকে সরাসরি নির্দেশনা দেন??
64:11 নং আয়াহ : কোনও বিপদই আসে না আল্লাহর অজান্তে [57:22, 6:38]। আর যে আল্লাহকে স্বীকার করে তিনি তার মস্তিষ্কে পথ নির্দেশনা দেন। এবং আল্লাহ সেই সমস্ত বিষয়ের জ্ঞান রাখেন।
রাসূলের দায়িত্ব শুধু সুস্পষ্ট ভাবে প্রচার করে দেওয়া।
64:12 নং আয়াহ : আর তোমরা অনুসরণ কর আল্লাহর (আল্লাহর দেওয়া বিধানের) এবং অনুসরণ কর রাসূলের (রাসূলের দেওয়া বিধানের)। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে মূলতঃ আমাদের রাসূলের দায়িত্ব শুধুমাত্র সুস্পষ্ট [5:67, 88:21-22] ভাবে প্রচার করা।
শুধুমাত্র আল্লাহর উপর নির্ভর করার নির্দেশ।
64:13 নং আয়াহ : আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনও ইলাহা/ ঈশ্বর নেই। সুতরাং মূমীনদের উচিৎ শুধুমাত্র আল্লাহর উপর নির্ভর [65:3, 4:81] করা।
স্ত্রী ও সন্তানদের থেকে সাবধান থাকতে হবে।
64:14 নং আয়াহ : হে মূমীনগণ, নিশ্চয়ই তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে এবং তোমাদের সন্তানদের মধ্যে তোমাদের শত্রু (আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টিকারী) রয়েছে [60:3]। সুতরাং তাদের থেকে সতর্ক [66:6] হও। যদি তাদের প্রতি সহনশীল হও, তাদের ভুলত্রুটি উপেক্ষা করো এবং তাদের ক্ষমা করতে পারো, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও করুণাময়।
# এই আয়াহ যখন নাযিল হয়, তখন কাফির বা মুশরিক স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে সংসার করা যেত (60:10)। পরবর্তীতে ঐ বিধান রহিত হয়ে যায় (16:101)।
# তবে এই আয়াহ আজও উপযোগী। আজও আমাদের স্ত্রী ও সন্তানরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে।
# অনেক ক্ষেত্রে হয়ত প্রত্যক্ষ ভাবে বাধা সৃষ্টি করে না। কিন্তু পরোক্ষভাবে দয়া/ মায়া দ্বারাও বাধা সৃষ্টি করে থাকে, এ থেকেও সাবধান থাকতে হবে।
আল্লাহর পরীক্ষার জন্য মহা প্রতিদান থাকবে।
64:15 নং আয়াহ : নিশ্চিত ভাবে জেনে রেখ- তোমাদের ধনসম্পদ ও সন্তান সমূহ তোমাদের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ [3:14]। তবে (এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই) আল্লাহর কাছে আছে তোমাদের জন্য মহা প্রতিদান।
সংকীর্ণ চিন্তা ভাবনা থেকে দূরে থাকলেই সফলতা আসবে।
64:16 নং আয়াহ : সুতরাং আল্লাহর জন্য যতটা সম্ভব তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন কর। (আল্লাহ ও তার রাসূলের কথা) শোন ও পালন করতে থাক। এবং নিজেদের কল্যাণের জন্য দান করতে থাক। আর যে নিজের ‘সংকীর্ণ/ ছোট চিন্তা ভাবনা’ থেকে নিজেকে দূরে রাখবে, তবে তারাই সফল হবে।
ভিন্ন অনুবাদ 64:16 : সুতরাং আল্লাহর জন্য যতটা সম্ভব তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন কর। শোন ও পালন কর যে, নিজেদেরকে ইম্প্রুভ করার জন্য খরচ/ বিনিয়োগ কর। আর নিজের ‘সংকীর্ণ/ ছোট চিন্তা ভাবনা’ থেকে নিজেকে দূরে রাখবে, তবে তারাই সফল হবে।
ভিন্ন অনুবাদ 64:16 : সুতরাং আল্লাহর জন্য যতটা সম্ভব তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন কর। শোন ও পালন কর যে, নিজেদেরকে ইম্প্রুভ করার জন্য খরচ/ বিনিয়োগ কর। আর নিজের গোঁড়া/ কুসংস্কার পূর্ণ চিন্তা ভাবনা থেকে নিজেকে দূরে রাখবে, তবে তারাই সফল হবে [39:22]।
আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেওয়ার উপকারিতা।
64:17 নং আয়াহ : যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও, তবে তোমাদেরকে বহুগুণে ফেরত দেবেন [57:11, 57:18, 2:261] এবং তোমাদের (ভুলত্রুটি) ক্ষমা করবেন। কেননা, আল্লাহ প্রতিদান স্বীকারকারী ও সহনশীল।
আল্লাহর কিছু গুণ ও বৈশিষ্ট্য।
64:18 নং আয়াহ : তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের জ্ঞানী। তিনি মহা শক্তিশালী ও মহা বিজ্ঞানী।
এই কুরআন পাঠ করতে ভালো লাগে।