বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাদীনাহ, আয়াত 11 টি।
মিথ্যাবাদী মুনাফিক, মিথ্যাবাদী মুসলিম হতে পারে না।
63:1 নং আয়াহ : যখন তারা আপনার কাছে আসে, তখন বলে- “আমরা সাক্ষী দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর রাসূল”। আল্লাহ জানেন নিশ্চয়ই আপনি তার রাসূল। আর আল্লাহ সাক্ষী [58:6] দিচ্ছেন যে, “মুনাফিকরা [4:145] মহা মিথ্যাবাদী” [59:11]।
# মুনাফিকরা মিথ্যাবাদী। সুতরাং কোনও মুসলিম মিথ্যা বলতে পারে না। কেননা, মিথ্যা বলা মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য। সুবিধার জন্য দেখতে পারেন 68:35 আয়াহ।
মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য।
63:2 নং আয়াহ : তারা তাদের শপথ গুলোকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার [58:16, 58:18] করে। অতঃপর তারা মানুষকে আল্লাহর পথে (আসতে/ চলতে) বাধা সৃষ্টি করে। নিশ্চয়ই তারা যা করছে, তা খুবই নিকৃষ্ট কর্ম [58:16]।
কখন মস্তিষ্ক সমূহে মোহর মারা হয়??
63:3 নং আয়াহ : ওটা এজন্য যে, তারা ইমান আনার পর সত্য অস্বীকার করেছে। অতঃপর তাদের মস্তিষ্ক সমূহের উপর মোহর মেরে দেওয়া হয়েছে [16:106-108]। এতএব এজন্য তারা (সত্য) বুঝতে পারে না।
মুনাফিকদের আরও কিছু বৈশিষ্ট্য।
63:4 নং আয়াহ : আর যখন আপনি তাদের দিকে তাকাবেন, তখন তাদের দেহের ভাবভঙ্গি আপনাকে মুগ্ধ করবে। যখন তারা কথা বলে, তখন আপনি তাদের কথা আগ্ৰহ নিয়ে শোনেন কিন্তু তারা আসলে দেওয়ালে ঠেক দেওয়া কাঠের টুকরা ১। তারা ভাবে প্রতিটি শব্দ তাদের বিরুদ্ধে ২। তারাই শত্রু। তাদের থেকে সতর্ক হোন। তাদের আল্লাহ ধ্বংস করবেন। তারা বিভ্রান্ত হয়ে কোথায় যাচ্ছে??
১ অর্থাৎ আপনি তাদেরকে গুরুত্ব দিলেও তারা বাস্তবে কোনও কাজে আসবে না, তারা দেওয়ালে হেলাল দেওয়া কাঠের টুকরার মতো।
# তাদেরকে এ জন্যও “দেওয়ালে হেলান দেওয়া কাঠের টুকরা” বলা হচ্ছে- কেননা, তারা তাদের নিজস্ব বিচার বুদ্ধির ব্যবহার (8:22) করে না। অন্যের উপর নির্ভরশীল।
২ যেমন, আমরা শত্রুর মুখে উচ্চারিত কথাবার্তাকে নিজেদের বিরুদ্ধে আলোচিত মনে করি।
63:5 নং আয়াহ : এবং যখন তাদেরকে বলা হয়- “এস, আল্লাহর রাসূল তোমাদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করবেন”। তখন তারা মাথা গুলো নাড়ায় ১। আপনি দেখবেন যে, তারা অহংকারে (আপনার কাছে আসা হতে) বিরত থাকে।
১ কারণ তারা ভীতু। মাথা নাড়িয়ে অস্বীকৃতি জানায়। কেননা, তারা সামনা সামনি সত্য বলার সাহস নেই যে, আমরা আল্লাহর রাসূলের কাছে যাবো না!
মুনাফিকদের জন্য কোনও ক্ষমা নেই।
63:6 নং আয়াহ : আপনি তাদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করুন বা ক্ষমাপ্রার্থনা না করুন, তাদের জন্য উভয়ই সমান। আল্লাহ কখনও তাদেরকে ক্ষমা করবেন না [9:80, 9:84]। নিশ্চয়ই আল্লাহ ফাসিক সম্প্রদায়কে পথ দেখান না [2:99, 2:26]।
মুনাফিকরা মাদীনাহ রাষ্ট্রকে দিতে চাইতেন না।
63:7 নং আয়াহ : তারা বলে- “আল্লাহর রাসূলের কাছে যা (রাষ্ট্র ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব) আছে, সে জন্য ট্যাক্স দিও না। যতক্ষণ না তারা (মুসলিমরা) ছিন্নভিন্ন/ ধ্বংস হয়ে যায়” [59:11-14]। অথচ মহাবিশ্ব ও পৃথিবীর ধনসম্পদ সমূহের উৎস আল্লাহই। কিন্তু মুনাফিকরা তা বোঝে না।
মাদীনাহ থেকে মুসলিমদের বের করার চক্রান্ত।
63:8 নং আয়াহ : তারা বলে- “যদি আমরা মাদীনাহ তে ফিরে যেতে পারি, তাহলে সম্মানিতরা (১) সম্মানহীনদের সেখান থেকে বের করে দেবে”। অথচ সম্মান আল্লাহর, তার রাসূলের ও মূমীনদের। কিন্তু মুনাফিকরা [59:12-14] তা জানে না।
১ এ কথা বলেছিল মুনাফিক নেতা আব্দুল্লাহ ইবনু উবাই। সে নিজেকে ও তার সঙ্গীদেরকে সম্মানিত এবং নাবী (সা) ও তার সঙ্গীদেরকে সম্মানহীন বলেছিলেন। এখানে সে নিজের ও তার সঙ্গীদের সহ নাবী (সা) ও তার সঙ্গীদের নাম উচ্চারণ এজন্য করে নি যে, যদি তা নাবী (সা) কে কেউ জানিয়ে দেয়! কিন্তু তবুও যায়েদ ইবনু আরকাম (রা) তার এ কথা শুনে নেন এবং নাবী (সা) কে জানিয়ে দেন।
নাবী (সা) আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইকে জিজ্ঞেস করলে সে সরাসরি অস্বীকার করেন। ফলতঃ যায়েদ ইবনু আরকাম (রা) মিথ্যাবাদী বলে গণ্য হয়ে যান। কিন্তু আল্লাহ যায়েদ ইবনু আরকাম (রা) এর সত্যবাদীতা প্রমাণ করার জন্য এই সূরাহটি নাযিল করেন।
ধনসম্পদ ও সন্তান হতে সাবধান।
63:9 নং আয়াহ : হে সত্য স্বীকার করা সম্মানিত মানুষজন, তোমাদের ধনসম্পদ সমূহ ও তোমাদের সন্তান সমূহ তোমাদেরকে আল্লাহর বিধান থেকে উদাসীন না করে দেয় [3:14]। (যদি উদাসীন হয়) ওরা তারাই, যারা ক্ষতিগ্রস্ত।
ট্যাক্স প্রদান মানুষকে স্বালিহীন বানিয়ে দেয়।
63:10 নং আয়াহ : আমরা তোমাদেরকে রিযিক হিসাবে যা দিয়েছি, তোমরা তা হতে দান কর। তোমাদের মৃত্যু এসে যাওয়ার পূর্বেই। নয়ত সে বলবে- “হে আমার প্রভু, যদি আপনি কিছু কাল অবকাশ দিতেন, তাহলে আমি সাদকা/ ট্যাক্স প্রদান করতাম এবং স্বালিহীন/ পূণ্যবানদের একজন [23:99-100] হয়ে হতাম” [6:27]।
নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অবকাশ দেওয়া হয়।
63:11 নং আয়াহ : অথচ আল্লাহ কাউকে তার নির্ধারিত সময় [15:4-5] পূর্ণ হওয়ার পর অবকাশ (১) দেন না [22:48]। আর আল্লাহ সেই সমস্ত বিষয়ে জ্ঞান রাখেন, যে সমস্ত কর্ম তোমরা করছো।
১) কেন অবকাশ দেন?? যেন কেউ বলতে না পারে যে, “আমাকে অবকাশ দেওয়া হয় নি কেন?? আমি তো নিজেকে সংশোধন করতাম”। তাই আল্লাহ নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অবকাশ দেন।