বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাদীনাহ, আয়াত : 8 টি।
মাদিনার মানুষরা সুস্পষ্ট প্রমাণের অপেক্ষায় ছিল।
98:1 নং আয়াহ : আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা সত্য অস্বীকারকারী ও মুশরিক, তারা ততক্ষণ পর্যন্ত (তাদের বিকৃত ধর্ম ও ধর্মগ্রন্থ মেনে চলা থেকে) বিরত থাকতে প্রস্তুত ছিল না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তাদের কাছে আসবে সুস্পষ্ট প্রমাণ।
নাবী (সা) হলেন সুস্পষ্ট প্রমাণ।
98:2 নং আয়াহ : আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন রাসূল (সুস্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে) এসেছেন [5:19], যিনি তিলাওয়াত করে শোনান পবিত্র সহীফা সমূহ ১।
১ সহীফা সমূহ! কিভাবে সম্ভব?? নাবী (সা) শুধু কুরআন তিলাওয়াত করে শোনাতেন। সহীফা/ কিতাব সমূহ বলা হচ্ছে কেন?? তাহলে কি কুরআন ছাড়াও আরও সহীফা/ কিতাব নাযিল হয়েছিল??
দুটি উত্তর- A) না, আসলে পবিত্র কুরআন যা বলে, সমস্ত নাবী-রাসুলদের কাছে নাযিল হওয়া কিতাব গুলোর বক্তব্য ছিল একই তাই বলতো (16:36, 21:25, 87:18-19)। এ জন্য কুরআনকে ‛সাহীফা বা কিতাব সমূহ’ বলা হয়েছে। আর তাই তো পবিত্র কুর’আনে পবিত্র কুরআনকে পূর্ববর্তী কিতাব সমূহের ‛সমর্থক ও সত্যায়ন কারী’ বলা হয়েছে (2:41, 2:89, 2:91, 2:97, 3:3, 4:47, 5:48, 35:31, 46:12, 46:30, 57:18, 61:6)।
B) তবে পবিত্র কুরআনের বাইরেও ওহী নাযিল হোত, সেই সমস্ত ওহীও নাবী মানুষদেরকে শোনাতেন।এখানে সেই সমস্ত ওহীকেও সহীফা বলে গণ্য করা হয়েছে।
কুরআনের বিধান অস্বীকার করা অসম্ভব।
98:3 নং আয়াহ : যাতে রয়েছে প্রতিষ্ঠিত ১ বিধান সমূহ।
১ কুরআনের বিধান গুলো এমন যে, যাকে যুক্তি-বুদ্ধি ও জ্ঞান-বিজ্ঞান দ্বারা অস্বীকার করা সম্ভব নয়। যেমন ধরুন- পুরুষের একাধিক (চারটি পর্যন্ত) বিয়ের বিধান। আপনি এর বিরোধিতা করতে পারবেন। কিন্তু এটা জেনে রাখা উচিৎ যে, পৃথিবীতে পুরুষের তুলনায় নারী সংখ্যা বেশি। এমনকি ভারত ও বাংলাদেশেও। উন্নত দেশগুলোর তো কথাই বাদ দিলাম। এখন প্রতিটা পুরুষ একটা করে বিয়ে করলে বহু নারী স্বামী পাবে না। তখন তাদের কি হবে?? এখন নারীদের কাছে 3 টি অপশন রয়েছে, A) বিবাহিত পুরুষকে বিয়ে করা, B) পুরুষকে কিনে নেওয়া বা পণ দিয়ে বিয়ে করা, C) কুমারী থেকে যাওয়া।
আজীবন কুমারী থাকা বৈজ্ঞানিক ভাবে অসম্ভব। পণ দেওয়া বা পুরুষকে কেনা মানবতা বিরোধী। মনে হয় সবচেয়ে ভাল প্রথম অপশনটা। এভাবেই পবিত্র কুরআনের বিধান গুলো অস্বীকার করা অসম্ভব। যদিও বাহ্যিক ভাবে বিরোধিতা করতে পারেন!
পূর্ববর্তী ধর্মের অনুসারীরা দলে উপদলে বিভক্ত হয়েছিল।
98:4 নং আয়াহ : আর যাদেরকে পূর্বে কিতাব দেওয়া হয়েছিল, তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পরও তারা বিভিন্ন দলে-উপদলে [30:32]। বিভক্ত [3:105] হয়েছিল।
পূর্ববর্তীদের যে নির্দেশ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
98:5 নং আয়াহ : অথচ তাদেরকে শুধু এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা আল্লাহর ইবাদত করবে ও তারই জন্য দীনের বিধি নিষেধ মেনে চলবে [21:25, 16:36]। আর স্বালাত/ আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠা করবে ও সরকারকে যাকাত (ইনকাম ট্যাক্স) প্ৰদান করবে। আর ওটাই প্রতিষ্ঠিত দীন/ জীবন ব্যবস্থা।
সৃষ্টির মধ্যে নিকৃষ্ট কারা??
98:6 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা সত্য অস্বীকার করেছে, তারা জাহান্নামের আগুনে অনন্তকাল থাকবে। তারাই (জাহান্নামীরাই) সৃষ্টির মধ্যে নিকৃষ্ট।
সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ কারা??
98:7 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই যারা সত্য স্বীকার করে এবং সৎকর্ম করে, তারাই সৃষ্টির মধ্যে শ্রেষ্ঠ।
সত্য স্বীকার ও সৎকর্মে প্রতিদান।
98:8 নং আয়াহ : তাদের জন্য তাদের প্রভুর কাছে রয়েছে প্রতিদান, আর তা অনন্তকাল স্থায়ী জান্নাত। যেখানে তার (জান্নাতীর) নিয়ন্ত্রাধীনে প্রবাহিত থাকবে নদ-নদী সমূহ। যেখানে তারা থাকবে অনন্তকাল। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবেন, তারাও তার (আল্লাহর) প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে [9:72]। ওটা তাদের জন্য, যারা তাদের প্রভুকে ভয় করে।