বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাক্কাহ, আয়াত : 26 টি।
বিচার দিবসে অপরাধীরা লজ্জিত হয়ে পড়বে।
88:1 নং আয়াহ : আপনার কাছে কি (লজ্জা) আচ্ছন্নকারী বিপদের হাদীশ/ তথ্য পৌঁছেছে??
অপরাধীদের মাথা হেঁট থাকবে।
88:2 নং আয়াহ : সেদিন (লজ্জায়) অনেকের মুখমন্ডল হবে অবনত (মাথা হেঁট) থাকবে [68:43, 70:44, 79:9]।
অপরাধীরা শক্তিহীন ও ক্লান্ত হবে।
88:3 নং আয়াহ : (তারা) শক্তিহীন এবং ক্লান্ত (অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকবে)।
অপরাধীরা বিচারের পর জাহান্নামে যাবে।
88:4 নং আয়াহ : (তারা বিচারের পর) উত্তপ্ত আগুনে প্রবেশ করবে।
জাহান্নামীদের প্লাজমা পান করানো হবে।
88:5 নং আয়াহ : (তাদেরকে) পান করানো হবে প্লাজমার স্রোত থেকে প্লাজমা [56:54-55]।
# আমাদের মহাবিশ্ব সংকোচিত হওয়ার পর মহাবিশ্বের সমস্ত গ্যালাক্সি একত্রিত হয়ে ‘একত্রিত পৃণ্ড’ গঠিত করবে (69:16-17)। সেই একত্রিত পৃণ্ডের উপর বিচার দিবস অনুষ্ঠিত হবে। তারপর জান্নাতীরা জান্নাতে চলে যাবে (26:90, 50:31)। তারপর সেই একত্রিত পৃণ্ডটি আরও সংকোচিত হবে। তারপর দ্বিতীয় বিগব্যাঙ ঘটবে (21:104)। জাহান্নামীরা একত্রিত থেকে যাওয়া অবস্থায় বিগব্যাঙ ঘটবে। মহাবিশ্ব নতুন করে সৃষ্টি হবে (19:72)। নতুন মহাবিশ্বের এক একটি নক্ষত্রই এক একটি জাহান্নাম। জাহান্নামীরা পানি হিসাবে নক্ষত্রের প্লাজমাই পান করে।
তাদেরকে খাওয়ানো হবে কাঁটা সহ কুলগাছ।
88:6 নং আয়াহ : তাদের (খাওয়ার) জন্য শুকনো কাঁটাযুক্ত [56:52] গাছ ছাড়া কিছুই থাকবে না।
দুই কারণে খাবার খেতে হয়।
88:7 নং আয়াহ : না তাদের পুষ্টি জোগান দেবে, আর না তাদের ক্ষুধা মিটবে।
# দুই কারণে খাবার খেতে হয়- A) পুষ্টির জন্য। B) ক্ষুধা মেটানোর জন্য।
খুশি মেজাজ মুখের উজ্বলতা বৃদ্ধি করে।
88:8 নং আয়াহ : সেদিন (অনেকের) মুখমন্ডল (খুশিতে) উজ্বল থাকবে।
জান্নাতীরা আল্লাহর পথে চলার জন্য উচ্ছ্বাসিত হবে।
88:9 নং আয়াহ : তারা (ইহজীবনে আল্লাহর পথে চলার) প্রচেষ্টার জন্য সন্তুষ্ট/ আনন্দিত/ উচ্ছ্বাসিত হবে।
জান্নাতের বিভিন্ন স্তর থাকবে।
88:10 নং আয়াহ : তারা উচ্চস্তরের জান্নাতে [26:90, 50:31] থাকবে।
জান্নাতে কোনও অপবাক্য উচ্চারিত হবে না।
88:11 নং আয়াহ : তারা সেখানে কোনও অপবাক্য [7:43, 15:47] শুনবে না।
জান্নাতে থাকবে ঝর্ণাধারা।
88:12 নং আয়াহ : সেখানে (তাদের জন্য) থাকবে প্রবাহিত ঝর্ণাধারা [47:15]।
জান্নাতে থাকবে সুউচ্চ আসন সমূহ।
88:13 নং আয়াহ : সেখানে (তাদের জন্য) থাকবে সুউচ্চ [56:34] আসন সমূহ।
জান্নাতে পানপাত্র থাকবে সুসজ্জিত ও প্রস্তুত।
88:14 নং আয়াহ : আর (তাদের জন্য) পানপাত্র গুলো সুসজ্জিত ও প্রস্তুত [76:15] থাকবে।
জান্নাতে থাকবে সাজানো বালিশ।
88:15 নং আয়াহ : আর (তাদের জন্য) সারি-সারি সাজানো থাকবে বালিশ [18:31, 55:76, 56:15-16] সমূহ।
জান্নাতে থাকবে গদিযুক্ত বিছানা।
88:16 নং আয়াহ : আর (তাদের জন্য) গদিযুক্ত বিছানা [55:76] পাতা থাকবে।
মেঘের সৃষ্টি সম্পর্কে গবেষণার নির্দেশ।
88:17 নং আয়াহ : তবে কি তারা মেঘ খণ্ড সমূহের প্রতি লক্ষ্য করে না যে, কিভাবে তাদের সৃষ্টি [67:30] করা হয়েছে??
বায়ুমণ্ডলের উচ্চতা পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে 10 হাজার কিমি।
88:18 নং আয়াহ : আর বায়ুমণ্ডলের প্রতিও (কি লক্ষ্য করে না) যে, কিভাবে তাকে ঊর্ধ্বে (10 হাজার কিমি) পর্যন্ত উঠানো হয়েছে??
আদিম পৃথিবীতে পাহাড় পর্বত ছিল না।
88:19 নং আয়াহ : আর পাহাড় পর্বতের প্রতিও (কি লক্ষ্য করে না) যে, কিভাবে তা অস্তিত্বে [13:3-4] আনা হলো??
# আমরা জানি যে, আদিম (20-25 কোটি বছর আগের) পৃথিবীতে (পেনজিয়াতে) কোনও পাহাড় পর্বত ছিল না। কেননা, পাহাড় পর্বত যে কারণে সৃষ্টি হয়, সেই “কারণ” উপস্থিত ছিল না। অর্থাৎ তখন একটি মাত্র Plate এর আদিম পৃথিবী বিরাজমান ছিল। পরবর্তীতে তাতে ভাঙন ধরে এবং আদিম পৃথিবী (পেনজিয়া) দুভাগে বিভক্ত হয়ে যায় (আঙ্গারাল্যাণ্ড ও গোণ্ডোয়ানাল্যাণ্ড এ)। পরবর্তীতে আরও বহুভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। তারপর শুরু হয় প্লেট সঞ্চালন। শুরু হয় পাহাড় পর্বত তৈরির খেলা। সেটা এক প্লেট অন্য প্লেটের নিচে গিয়ে হোক, কিংবা আগ্নেয়গিরির মাধ্যমে হোক।
পৃথিবীর প্লেট খুবই পাতলা।
88:20 নং আয়াহ : আর পৃথিবীর প্রতিও (কি লক্ষ্য করে না) যে, কিভাবে তার সাত্বাহ/ প্লেটকে পাতলা বানানো [51:48] হয়েছে??
# পৃথিবীতে অনেক গুলো স্তর রয়েছে। সমস্ত স্তর মিলিয়ে পৃথিবীর পৃষ্ঠ হতে কেন্দ্র পর্যন্ত 6374 কিমি মোটা। এর মধ্যে ক্রাষ্ট সহ প্লেট গুলো মাত্র 100-200 কিমি পর্যন্ত মোটা। এটা পৃথিবীর অন্যান্য স্তরের তুলনায় খুবই পাতলা।
ভিন্ন অনুবাদ : তারা পৃথিবীর প্রতিও (কি লক্ষ্য করে না) যে, কিভাবে তাকে সম্প্রসারিত [78:6-7, 13:3-4] করা হয়েছে??
# আমরা প্লেট টেকটোনিক থিওরি (যদিও এখন তা ফ্যাক্ট) হতে জানি যে, পৃথিবীর প্লেট গুলো এক সময়ে একত্রিত ছিল। তারপর একটা প্লেট অন্যাটা থেকে দূরে সরে যায়। অর্থাৎ পৃথিবী সম্প্রসারিত হয়। এখানে সেটাই বলা হচ্ছে।
নাবী (সা) এর মূল কাজ কি ছিল??
88:21 নং আয়াহ : সুতরাং আপনি যিকির (বিধান/ সংবিধান, কুরআন) প্রচার করতে থাকুন। কেননা, আপনি মূলত একজন প্রচারকারী [5:67, 7:6] মাত্র।
ইসলাম গ্ৰহণে বলপ্রয়োগ হারাম।
88:22 নং আয়াহ : আপনি (ইসলাম গ্ৰহণের জন্য) তাদের উপর বলপ্রয়োগ [2:256, 10:99] করতে পারেন না [26:3-4]।
# ইতিহাস সাক্ষী- নাবী (সা) ইসলাম গ্ৰহণের জন্য কখনও বলপ্রয়োগ করেন নি। আর না মুসলিম রাজা বাদসা/ শাসকরা কখনও ইসলাম গ্ৰহণের জন্য কখনও বলপ্রয়োগ করেছেন। ভারত সহ বিশ্বব্যপি মানুষদের ইসলাম গ্ৰহণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন- “দেখা যাবে : ইসলাম যেথায় গিয়েছে, সেথায়ই আদিমনিবাসীদের রক্ষা করেছে। সেসব জাত সেথায় বর্তমান। তাদের ভাষা, জাতীয়ত্ব আজও বর্তমান”।
স্বামীজি খৃষ্টানদের প্রশ্ন করে বলেছেন- “খৃষ্টান ধর্ম কোথাও এমন কাজ দেখাতে পারে?? স্পেনের আরাব, অষ্ট্রেলিয়ার এবং আমেরিকার আদিমনিবাসীরা কোথায়?? খৃষ্টানরা ইউরোপীয় ইহুদীদের কি দশা এখন করেছে” (স্বামীজির বাণী ও রচনা, খণ্ড 6, উদ্ভোধন কার্যালয়, পৃষ্ঠা 166)??
তিনি আরও বলেছেন- “মুসলমানের ভারতাধিকার দরিদ্র ও পদদলিতদের উদ্ধারের কারণ হইয়াছিল। দরিদ্র ও অবহেলার জন্যেই আমাদের এক-পঞ্চমাংশ লোক মুসলমান হইয়া গিয়েছে। তরবারির বলে ইহা সাধিত হয় নাই। তরবারি ও অগ্নির বলে ইহা সাধিত হইয়াছিল- এ কথা বলা নিতান্তই পাগলামি” (স্বামীজির বাণী ও রচনা, খণ্ড 5, উদ্ভোধন কার্যালয়, পৃষ্ঠা 147)??
কিন্তু নাবী (সা) ইসলাম গ্ৰহণের জন্য কাউকে জোর জবরদস্তি করেন নি, এর কোনও প্রমাণ আছে?? অবশ্যই আছে। বানূ কুরাইজ্বা থেকে নাবী (সা) একটি দাসী পান, নাম- রাইহানা। নাবী (সা) তাকে বলেন- “তুমি চাইলে ইসলাম গ্ৰহণ করতে পার, কিংবা তুমি তোমার নিজের ধর্মে থাকতে পার। যদি তুমি ইসলাম গ্ৰহণ কর, তাহলে আমি তোমাকে বিবাহ করব”। তখন বলেন- “আমি দাসী হয়ে থাকতে ও ইহুদী ধর্ম পালন করার ইচ্ছা করি”। তিনি ইহুদী ধর্ম পালন ও দাসী হিসাবে থাকেন প্রায় 2-3 বছর। তারপর নাবী (সা) এর আচার আচরণ ও ইসলামের সৌন্দর্য্যে মুগ্ধ হয়ে 2-3 বছর পর ইসলাম গ্ৰহণ করেন, তারপর নাবী (সা) তাকে 500 দিরহাম (বর্তমান পরিমাণে 1.5 কেজি রূপা) মোহরানা দিয়ে বিবাহ করেন। তিনি রাইহানা থেকে হয়ে ওঠেন উম্মুল মূমীনীন রাইহানা (রা) বা মূমীনদের মা (ইবনে হিশাম, 664-665, মিনা বুক হাউস, বাংলাদেশ এবং ইবনে সাদ, খণ্ড 8, পৃষ্ঠা 103, বেরুত, লেবানন)।
ইসলাম অস্বীকারের জন্য ইহজীবনে কোনও শাস্তি নেই।
88:23 নং আয়াহ : তবে যদি কেউ মুখ ফিরিয়ে নেয় [16:82] এবং অস্বীকার [18:29] করে,
ইসলাম অস্বীকারের শাস্তি হবে পরকালে।
88:24 নং আয়াহ : সুতরাং আল্লাহ তাকে মহাশাস্তি ১ প্রদান করবেন।
১ তাকে শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব আল্লাহর, আপনার নয়। আপনার দায়িত্ব শুধু প্রচার করার, শুধু প্রচার করতে থাকুন।
মহাবিশ্ব সংকোচনে মাধ্যমে সবাই আল্লাহর কাছে ফিরবে।
88:25 নং আয়াহ : নিশ্চয়ই আমাদের কাছে তাকে ফিরতে [84-15, 69:16-17, 21:104] হবে।
সবাইকে একত্রিত করার পর হিসাব হবে।
88:26 নং আয়াহ : তারপর তাদের থেকে হিসাব [18:49, 4:86, 14:51, 40:17] গ্ৰহণ করা আমাদের দায়িত্ব।