বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
অর্থ- আল্লাহর নাম নিয়ে পড়া শুরু করছি, যিনি সীমাহীন দয়ালু এবং সীমাহীন করুণাময়।
নাযিল : মাদীনাহ, আয়াত : 13 টি।
মাদীনাহর মানুষদের সঙ্গে বন্ধুত্ব নিষিদ্ধ ছিল।
60:1 নং আয়াহ : হে সত্য স্বীকার করা সম্মানিত মানুষজন, তোমরা আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুদের বন্ধু হিসাবে গ্ৰহণ কর না। তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব স্থাপন কর না [60:8-9]। অথচ অবশ্যই তোমাদের কাছে যে সত্য এসেছে, তারা তা অস্বীকার করেছে [18:29, 64:2, 76:3]। (অস্বীকার করায় সমস্যা নেই) উপরন্তু রাসূলকে এবং তোমাদেরকে বহিষ্কার করেছে। এ কারণে যে, তোমরা স্বীকার করেছো আল্লাহকে। যিনি তোমাদের প্রভু। যদি তোমরা আমার নির্দেশিত পথে প্রচেষ্টা চালাতে থাক এবং আমার সন্তুষ্টি সন্ধান করতে চাও (তাহলে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব কর না)। আর যদি গোপনে বন্ধুত্ব কর, তাহলে জেনে রেখ যে, আমি জানি- যা তোমরা গোপন কর, আর যা প্রকাশ্যে কর। আর তারপরও যে তোমাদের মধ্যে তা করবে, অবশ্যই সে সোজা পথ হতে বিচ্যুত হবে।
# প্রশ্ন হবে- কেন?? মাক্কাহ ও মাদীনাহর মধ্যে শত্রুতার কারণ নিশ্চয়ই জানা আছে! মাক্কাহর মুশরিক নেতারা মুসলিমদের মাদীনাহ হতে বের করে দেয়। পরবর্তীতে তারা মুসলিমদের আক্রমণ করে, যদিও সেই যুদ্ধে তারা নিজেরাই হেরে যায়। কিন্তু তবুও শত্রুতা থেমে থাকে নি।
তারা ভিন্ন ভিন্ন ভাবে মুসলিমদের সঙ্গে বন্ধুত্ব সুলভ ব্যবহার করতে থাকে। তা এজন্য যে, যাতে মুসলিমদের থেকে নাবী (সা) সম্পর্কিত তথ্য ও মাদীনাহ সম্পর্কিত তথ্য গুলো জেনে নিতে পারে। তাই এখানে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করা হচ্ছে। পরবর্তী আয়াত সমূহেও তা দেখতে পাবেন।
মাক্কাহর মানুষরা মুসলিমদের ক্ষতি করতে চাইত।
60:2 নং আয়াহ : যদি তারা তোমাদেরকে কাবু করতে পারে, তাহলে তারা তোমাদের সঙ্গে শত্রুতা করবে। এবং তারা তাদের হাত ও মুখ দ্বারা তোমাদের ক্ষতি করতে চাইবে। তারা চায় তোমরাও কাফির/ সত্য ত্যাগী [4:89] হও।
বিচার দিবসে আত্মীয় ও সন্তানরা কাজে লাগবে না।
60:3 নং আয়াহ : তোমাদের আত্মীয় স্বজন ও তোমাদের সন্তানরা কিয়ামত দিবসে তোমাদের কোনও কাজে আসবে না ১। তিনি তোমাদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দেবেন [31:33]। আর আল্লাহ দেখেন- তোমরা যে সমস্ত কর্ম করছো।
১ মুসলিমরা যখন মাদীনাহতে চলে আসে, তখন তাদের আত্মীয় স্বজন মাক্কাহতে রয়ে যায়। বিশেষ করে যারা মুশরিক ছিল। তাই মাদীনাহর মুসলিমরা তাদের প্রতি ভালবাসা দেখাতো। তাই এখানে মুসলিমদের সাবধান করা হচ্ছে যে, তারা যদি তোমাদেরকে ভালবাসতো, তাহলে তোমাদেরকে বের করে দিল কেন (3:118-120)??
# তবে অপ্রাপ্ত বয়স্ক মৃত শিশুদের ব্যাপারটা ভিন্ন। হাদীশ রয়েছে- “কোনও মুসলিম পিতা-মাতার তিনটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক সন্তান মারা গেলে (ধৈর্য্য ধারণ করলে), আল্লাহ তার বিশেষ অনুগ্রহে তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন”(ইবনু মাজাহ, হাদীশ 1605)।
আরও একটি হাদীশ- “সেই সত্ত্বার শপথ, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! গর্ভপাত হওয়া সন্তানের মাতা তাতে সওয়াব আশা করলে ঐ সন্তান তার নাভিরজ্জু দ্বারা তাকে টেনে জান্নাতে নিয়ে যাবে” (ইবনু মাজাহ, হাদীশ 1609)। এর সমর্থনে আরও হাদীশ রয়েছে। কোনও হাদীশে বলা হয়েছে- “পিতা মাতার কাপড় ধরে টেনে জান্নাতে নিয়ে যাবে”।
ইবরাহীম (আ) ও তার সঙ্গীরা অনুসরণ যোগ্য।
60:4 নং আয়াহ : অবশ্যই ইবরাহীম এবং তার সঙ্গীদের ১ মধ্যে তোমাদের জন্য ছিল উত্তম আদর্শ। (শুনুন সেই সময়ের কথা) যখন তার কাওম/ জাতিকে বলেছিল- “তোমাদের সঙ্গে এবং তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যার ইবাদত কর, আমরা তা হতে সম্পর্ক মুক্ত। আমরা ২ অস্বীকার করছি তোমাদেরকে ৩। আমাদের ও তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হল অনন্তকালের জন্য [5:82], যতক্ষণ না তোমরা স্বীকার করো এক আল্লাহকে”। তবে ইবরাহীমের পিতার জন্য তার উক্তিটি ব্যাতিক্রম- “আমি অবশ্যই ক্ষমা চাইব আপনার জন্য। তবে আপনার জন্য এর চেয়ে বেশি কোনও কিছু করার ক্ষমতা আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে পাই নি”। (এও বলেছিলেন) “হে আমাদের প্রভু, আপনার উপর ভরসা করছি। আমরা আপনার অভিমুখী, আপনার কাছেই ফিরে যেতে [69:16-17, 84:1-5] হবে”।
১ ‛সঙ্গীদের’ বলতে?? কোন সঙ্গীদের কথা বলা হচ্ছে?? এই আয়াহতে যে ঘটনার বর্ণনা রয়েছে, তখন তো ইবরাহীম (আ) এর সঙ্গী কেউ ছিল না (37:83-99)। এখানে পরবর্তীতে যারা তার সঙ্গী হয়েছিল, তাদের কথা বলা হচ্ছে। যেমন ইসমাঈল (আ)। দেখুন 37:102-107 আয়াত।
২ এখানে ‛আমরা’ বলতে?? দুটি উত্তর হতে পারে। A) তিনি নিজেকেই ‛আমরা’ বলছেন। নিজেকে ‛আমরা’ বলার রীতি আরবি সহ ইংরেজি, উর্দু ও হিন্দিতে রয়েছে। পবিত্র কুরআনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আল্লাহও নিজেকে বোঝাতে ‛আমরা’ শব্দের ব্যবহার করেছেন। যেমন 56:60 এ আল্লাহ বলছেন- “আমরা তোমাদের শরীরের মধ্যে মৃত্যুকে স্থাপন করে দিয়েছি। এবং আমরা তা করতে সক্ষম”।
আসলে সম্মানিত ব্যক্তিত্বরা নিজেদের বোঝাতে ‛আমরা’ শব্দের ব্যবহার করেন। যেমন হিন্দি গানে বলা হয়েছে- “হামে তুমসে পিয়ার কিতনা, ইয়ে হাম নেহি জানতে। মাগার জি নেহি সাকতে তুমহারে বিনা”। অর্থ- “আমরা তোমাকে কতটা ভালবাসি জানি না। কিন্তু আমরা তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবো না”। অথচ একজন প্রেমিক তার প্রেমিকাকে একথা বলছেন। তাও নিজেকে ‛আমরা’ বলে উল্লেখ করছেন!
আর B) ইবরাহীম (আ) এখানে মুসলিম পক্ষের প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাই এখানে নিজেকে ‛আমরা’ বলে উল্লেখ করছেন। C) প্রতিটা রাসুলের মূল বক্তব্য ছিল একই। তা হল- শিরকের বিপক্ষে, তাওহীদের পক্ষে (16:36, 21:25]। তাই এখানে ‛আমরা’ শব্দের ব্যবহার করেছেন।
৩ ‛তোমাদেরকে অস্বীকার করছি’ বলতে কি?? এটা আরবি বাক রীতি। যার অর্থ- তোমাদের এই কর্মকে (মূর্তি পূজাকে) অস্বীকার করছি।
বর্তমানে আমাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুয়া।
60:5 নং আয়াহ : “হে আমাদের প্রভু, আমাদেরকে কাফিরদের অত্যাচারের পাত্র বানিয়ে দেবেন না। আমাদেরকে ক্ষমা করুন। হে আমাদের প্রভু, নিশ্চয়ই আপনি মহা শক্তিশালী ও মহা বিজ্ঞানী”।
আল্লাহ আমাদের ইবাদতের ভিখারি নন।
60:6 নং আয়াহ : অবশ্যই তাদের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ। তার জন্য, যে আল্লাহ ও পরবর্তী জীবন কামনা করে। যে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ অকল্পনীয় বে-পরোয়া ও মহা প্রশংসিত।
মাক্কাহ ও মাদীনাহর মধ্যে শত্রুতা শেষের ভবিষ্যৎ বাণী।
60:7 নং আয়াহ : অসম্ভব নয় যে, তোমাদের সঙ্গে যাদের শত্রুতা রয়েছে, তা শেষ করে আল্লাহ বন্ধুত্ব সৃষ্টি ১ করে দেবেন [23:96, 41:34]। আল্লাহ ক্ষমতাবান, আল্লাহ ক্ষমাশীল ও করুণাময়।
১ এই আয়াহ নাযিল হওয়ার পরই মক্কায় ইসলামের প্রভাব বিস্তার ঘটতে থাকে। মানুষজন গোপনে ইসলাম গ্ৰহণ করতে থাকে। এক পর্যায়ে মক্কার কিছু নেতা নেত্রী ছাড়া প্রায় সবাই ইসলামের ছায়াতলে আসতে থাকে। তারপর মক্কা বিজয়! তারপর আর শত্রুতাই থাকল না, সবাই বন্ধুতে পরিণত হল।
অমুসলিমদের মধ্যে যাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যাবে।
60:8 নং আয়াহ : আর আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না তাদের সঙ্গে ‛বন্ধুত্ব’ ও ‛সাম্য সদ্ভাব’ বজায় রাখতে, যারা দীনের ব্যাপারে তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে নি, যারা তোমাদেরকে তোমাদের ঘরবাড়ি থেকে বহিষ্কার করে নি [5:8, 6:115]। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের ভালোবাসেন, যারা ‛সাম্য সদ্ভাব’ বজায় রাখে।
অমুসলিমদের মধ্যে যাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা যাবে না।
60:9 নং আয়াহ : মূলত আল্লাহ তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেছেন, যারা তোমাদের সঙ্গে দীনের ব্যাপারে যুদ্ধ করেছে। আর যারা তোমাদেরকে তোমাদের ঘরবাড়ি থেকে বহিষ্কার করেছে। আর যারা বহিষ্কারে সাহায্য করেছে। আর যে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে, তারাই জ্বালিম/ অত্যাচারী (১)।
১) তারা ছিল অত্যাচারী, যে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে/ করবে, সেও অত্যাচারী। কেননা, তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে তাদের অত্যাচারকে সমর্থন করাই হল। অত্যাচারীদের পরিণতি 26:227 এ উল্লেখ রয়েছে।
কাফির নারী বা পুরুষকে স্বামী স্ত্রী হিসাবে জীবনে রাখা হারাম।
60:10 নং আয়াহ : হে সত্য স্বীকার করা সম্মানিত মানুষজন, যখন তোমাদের কাছে কোনও নারী হিজরত করে আসবে, তখন তোমরা পরীক্ষা করে নেবে। আল্লাহ তাদের ইমান সম্পর্কে জানেন। যদি জানতে পার যে, তাদের ইমান আছে, তাহলে তাদেরকে কাফিরদের হাতে তুলে দিও না। তারা (মূমীন নারীরা) তাদের (কাফিরদের) জন্য হালাল নয়। আর না তারা (কাফিররা) তাদের (মূমীন নারীদের) জন্য হালাল। তোমরা তাদেরকে দিয়ে দাও, যা তারা (মোহরানা) খরচ করেছে। তোমরা তাদেরকে বিবাহ করলে তোমাদের গুনাহ হবে না। তবে তাদের মোহরানা দিয়ে দাও [4:4]। আর তোমরা কাফির নারীদের স্ত্রী হিসাবে জীবনে রেখ না। তোমরা চেয়ে নাও, যা (গহনা, দীনার ও দিরহাম) তোমরা প্রদান করেছো। তারা চেয়ে নেবে, যা (গহনা, দীনার ও দিরহাম) তারা প্রদান করেছে। ওটাই আল্লাহর নির্দেশ। তিনি তোমাদের মধ্যে বিচার করে দিলেন। আর আল্লাহ জ্ঞানী ও বিজ্ঞানী।
# অনেকে বলেন- “নূহ (আ) ও লূত (আ) কাফির স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করেছেন (66:10)। সুতরাং কাফির স্ত্রী রাখা যাবে। আবার ফিরআউনের স্ত্রী ছিল মূমীনা/ মুসলিমা (66:11)। সুতরাং কাফির স্বামীর সঙ্গে সংসার করা যাবে”।
কিন্তু এই সুস্পষ্ট ভাবে বলছে- কাফির স্বামী/ স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করা যাবে না। নূহ (আ) ও লূত (আ) কাফির স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করার বিধান 60:10 দ্বারা রহিত হয়ে গেছে। একই ভাবে ফিরআউনের স্ত্রীর বিধানও রহিত (16:101)।
কাফিরদের প্রতিও সর্বোচ্চ ন্যায় বিচার প্রদানের নির্দেশ।
60:11 নং আয়াহ : যদি তোমাদের কারোর স্ত্রী (কাফির হওয়ার জন্য) কাফিরদের কাছে (গহনা, দীনার ও দিরহাম প্রদান না করেও) চলে যায়। অতঃপর যদি তোমরা সুযোগ পাও (তাদের স্ত্রী মূমীনা হওয়ার জন্য তোমাদের কাছে আসে), তাহলে যাদের স্ত্রী চলে এসেছে, তাদেরকে দিয়ে দাও, তারা (স্ত্রীদের জন্য) যা (গহনা, দীনার ও দিরহাম) প্রদান করেছিল। আল্লাহর জন্য তাকওয়া (অপকর্ম থেকে দূরত্ব) অবলম্বন কর, যাকে তোমরা স্বীকার করেছো।
মাক্কাহ থেকে আসা মূমীনা নারীদের বায়াত গ্ৰহণ।
60:12 নং আয়াহ : হে সম্মানিত নাবী, যখন মূমীনা নারীরা আপনার কাছে এই মর্মে বায়াত [48:10] করবে যে, তারা আল্লাহর সঙ্গে কোনও কিছুকে শরিক করবে না, তারা চুরি করবে না, যিনা করবে না, তাদের সন্তানদের হত্যা করবে না, কারোর প্রতি অপবাদ রচনা করবে না তাদের হাত গুলো এবং তাদের পা গুলো ১, তারা আপনার উত্তম নির্দেশ গুলোর অবাধ্য হবে না, তাহলে তাদের বায়াত নিন। আর তাদের (অতীতে অনিচ্ছাকৃত পাপের) জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন ২। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও করুণাময়।
১ হাত গুলো বলতে- অপবাদ রচনা, পা গুলো বলতে- অপবাদ ছড়ানো। অর্থাৎ তাদের হাত অপবাদ রচনা করবে না, পা দ্বারা তার প্রচার করবে না (24:13 ও 15, 49:6)।
# কিন্তু বায়াত গ্ৰহণ কেন?? কারণ মাক্কাহ থেকে মূমীনা নারীরা ইসলাম সম্পর্কে বেশি কিছু জানত না। তাই প্রথমেই তাদেরকে বায়াতের মাধ্যমে কিছু বিষয়ের শপথ করানো হচ্ছে। তারপর তারা ধীরে ধীরে ইসলাম সম্পর্কে জানবে/ জানার সুযোগ পাবে।
২ যদিও অনিচ্ছাকৃত পাপের জন্য আল্লাহর জিজ্ঞাসাবাদ করবেন না। দেখুন 16:106 আয়াহ।
পাপী মুসলিমদেরদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা হারাম।
60:13 নং আয়াহ : হে সত্য স্বীকার করা সম্মানিত মানুষজন, তোমরা (মুসলিমদের) সেই গোষ্ঠীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করো ১ না, যাদের (পাপের কারণে তাদের) উপর আল্লাহ অসন্তুষ্ট। তারা পরবর্তী জীবন সম্পর্কে নিরাশ হয়ে পড়েছে, যেমন কাফিররা কবর/ গুপ্ত জীবন সমূহের বাসিন্দা হয়ে নিরাশ হয়ে পড়েছে ২।
১ এখানে নামধারী মুসলীমদের কথা বলা হচ্ছে। যারা মুসলীম হওয়া সত্ত্বেও পাপ করে। এদের সম্পর্কে বলা হয়েছে- “এরা পরবর্তী জীবন সম্পর্কে নিরাশ হয়ে পড়েছে”। এটা এজন্য যে, তারা নিরাশ না হলে পাপ করত না। নিরাশ বলেই পাপ করে/ করছে, পরবর্তী জীবন নষ্ট করছে।
২ কাফিররা এই আশা করে না যে, কবর জীবন বলে কিছু আছে। বরং তারা মনে করে- “মৃত্যুই শেষ এবং মৃত্যু সাধারণ একটি প্রক্রিয়া” (45:24)। তাই মৃত্যুর পর যখন পরবর্তী জীবন সত্য বলে বুঝতে পারবে, তখন আর ভিন্ন কোনও উপায় না থাকায় নিরাশ হয়ে যাবে। এখানে সেটাই বলা হয়েছে।
জনগন মনে হয় জীবনে এই প্রথম দেখবে যে , কোরআনের ভাষান্তর ও ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লেখক কোনো গান – হিন্দি গানের কলি উপমা হিসাবে ব্যবহার করলেন। অনবদ্য।
আমি তো অনবদ্য বললাম। নিন্দুক বা সাধারণ জনগণও এটাকে পজিটিভ সেন্সে নেবেন না। তাদের কাছে গানই অচ্ছুৎ।